আপনার শারীরিক দুর্বলতার মূল কারণগুলো জানেন কি?

0
302
আপনার শারীরিক দুর্বলতার মূল কারণগুলো জানেন কি?

দুর্বলতা অনুভব করলে বেশীরভাগ মানুষকেই বলতে শোনা যায় বেশি খাওয়া দাওয়া না করার কারণেই এই সমস্যা হচ্ছে। অনেকেই ভাবেন খাওয়া দাওয়ার সমস্যা থেকে এবং হ্যাংলা-পাতলা দেহের অধিকারী হওয়ার কারণে শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করছেন।

কিন্তু শারীরিক দুর্বলতা অনুভবের আরও অনেক কারণ রয়েছে। কিছু কিছু মারাত্মক শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হিসেবেও প্রকাশ পায় এই শারীরিক দুর্বলতা। তাই জেনে রাখা উচিৎ মূলত কোন কোন কারণে শারীরিক দুর্বলতা অনুভব হতে পারে। এতে করে অস্বাভাবিক কিছু নজরে এলে দ্রুত চিকিৎসা করে নিরাময় সম্ভব হয়।

ব্লাড সুগারের ওঠানামা

 ব্লাড সুগার বা রক্তে শর্করার পরিমাণ ওঠানামার কারণেও এমন শারীরিক ক্লান্তি তৈরি হতে পারে। ডায়াবেটিসের অনেক উপসর্গের মধ্যে প্রায়ই শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া, ক্লান্তিতে নেতিয়ে পড়া অবস্থাও একটি। আর বার বার প্রস্রাব পাওয়া আর তৃষ্ণার্ত হয়ে যাওয়া তো ডায়াবেটিসের একটি সাধারণ লক্ষণ।

এমন হয়ে থাকলে সাধারণ রক্ত পরীক্ষা থেকেই আপনি ডায়াবেটিস শনাক্ত করতে পারবেন। ডায়াবেটিস ধরা পড়লে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে শুরু করুন। নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে সহজেই এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

আরো পড়ুন: ছেলেদের যে ৭টি কারণে মেয়েরা কাঁদে!

হৃদরোগ

দেহের ইঞ্জিন হলো হৃদয়। এ ইঞ্জিনের শক্তিই প্রত্যক্ষভাবে ব্যক্তির শক্তি, সামর্থ্য বজায় রাখে। শরীরে রক্ত প্রবাহের মাধ্যমে অক্সিজেন ও অন্যান্য রসদ সরবরাহ করে। ব্যক্তি যখন বেশি পরিশ্রমের কোনো কাজ করেতে শুরু করে, হার্ট বা হৃদয় তখন শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী বেশি রক্ত সরবরাহের মাধ্যমে বেশি বেশি অক্সিজেন ও রসদ সরবরাহ করতে থাকে।

শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অধিক অক্সিজেন ও রসদ সরবরাহ গ্রহণ করে অধিক পরিমাণে কার্যসম্পাদন করতে সক্ষম হয়। ব্যক্তি অনায়াসে বেশি বেশি কর্ম-সম্পাদনে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। বলা যেতে পারে, হার্টের যোগ্যতার সঙ্গে ব্যক্তির যোগ্যতার একটা আনুপাতিক সম্পর্ক সব সময় বিদ্যমান থাকে। অর্থাৎ হার্ট শক্তিশালী মানে নিজে শক্তিশালী। হার্ট দুর্বল তো নিজেও দুর্বল।

আপনার ঘুম হচ্ছে না

শারীরিক দুর্বলতা অনুভবের অন্যতম প্রধান কারণ সঠিক বিশ্রাম এবং পরিমিত ঘুমের অভাব। আপনি হয়তো মনে করছেন আপনি যতোটা ঘুমান তা আপনার জন্য সঠিক আসলে তা নয়। অনিদ্রা সমস্যা হলে শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করবেন আপনি।দেহ পানিশূন্য হলে শারীরিক দুর্বলতা অনুভূত হয়। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ হিসেবে আপনি যদি ৮-১০ গ্লাস প্রতিদিন পান না করেন তাহলে শারীরিক দুর্বলতায় ভুগবেন আপনি।

আয়রনের অভাব হচ্ছে

দেহে আয়রনের অভাব হলে শারীরিক দুর্বলতা অনুভূত হতে থাকে এবং সেই সাথে মাথা ঘোরানোর সমস্যাও দেখা দেয়। এই শারীরিক দুর্বলতা রক্তস্বল্পতার লক্ষণ প্রকাশ করে।

আপনি সবকিছু পারফেক্ট চান

এই সমস্যাটি মানসিক হলেও এর প্রভাব পড়ে শরীরের উপরেও। আপনি যখন মন থেকে সব জিনিস পারফেক্ট করতে যান তখন আপনাকে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয় যা একেবারেই অযথা ধরণের হয়ে থাকে। অতিরিক্ত কাজ মানসিক চাপ বাড়ায় এবং এই মানসিক চাপের কারণেই শারীরিক দুর্বলতা অনুভব হতে থাকে।

আরো পড়ুন: মা এখনো অংক বুঝেনা!

অস্বাস্থ্যকর খাবার খান বেশি

যদি আপনার খাবারের তালিকায় সুষম খাবার না থাকে এবং আপনার একবেলা খাবার সময় থেকে আরেকবেলা খাবারের সময়ে অনেক বেশি পার্থক্য থাকে তবে আপনার দেহ দুর্বল হয়ে পড়ে আপনাআপনিই। তাই সুষম খাবার খান এবং প্রতি ৩/৪ ঘণ্টা অন্তর অন্তর সামান্য কিছু হলেও খাবার খান।

অগোছালো

গবেষণায় দেখা যায় অগোছালো জিনিস আমাদের মানসিক ভাবে দুর্বল করে ফেলে যার কারণে মস্তিষ্ক বেশীরভাগ সময় অবসাদগ্রস্থ থাকে। তার প্রভাব পড়ে শরীরের উপরেও।

আপনি অতিরিক্ত কাজ করেন

 নিজের একটি লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আপনি অমানুষিক পরিশ্রম করেন যার কারণে আপনার দেহের প্রতিটি অঙ্গ বিশেষ করে আপনার মস্তিষ্কের উপর চাপ পড়ে মারাত্মকভাবে। এটিও আপনার শারীরিক দুর্বলতার অন্যতম কারণ।

অ্যানিমিয়া ও আয়রনের ঘাটতি

সব সময় ক্লান্তি লাগার কথা বললে চিকিৎসকেরা হয়তো প্রথমেই বুঝতে চাইবেন আপনার শরীরে আয়রন বা লৌহের ঘটাতি আছে কি না। রক্তশূন্যতা সহ নানা কারণেই এই ঘাটতি হতে পারে। খাবারদাবারে যথাযথ পরিমাণে লৌহ না থাকলে এমন দুর্বলতা বেড়ে যেতে পারে।

আমাদের দেশে মেয়েদের মধ্যেই রক্তশূন্যতা বেশি দেখা গেলেও ছেলেরাও এতে ভুগতে পারে। ঋতুমতী নারীদের অনেকে, বিশেষত কম বয়সী মেয়েরা এমন রক্তশূন্যতায় বেশি ভোগে। প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাক-সবজি খাওয়া এবং লৌহের ঘাটতি মেটানো এই সাধারণ ক্লান্তি থেকে মুক্তির ভালো উপায়।

হতাশা ও বিষণ্নতায় ভোগা

কোনো কিছু নিয়ে গভীর হতাশায় ডুবে আছেন? অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে লাগাতার বিষণ্নতায় ভুগছেন? তাহলেও কিন্তু এমন দুর্বলতা আর ক্লান্তি ভর করতে পারে। এমন হলে আপনি একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যান। নিজের সমস্যার কথা খুলে বলে তাঁর পরামর্শ নিন। অল্প দিনেই আপনি হয়তো আবার নিজেকে ফিরে পেতে শুরু করবেন।

অতিরিক্ত মানসিক চাপ

মানসিক চাপের কারণে দেহে আসে দুর্বলতা। অনেক বেশি মানসিক চাপে থাকলে আমাদের মস্তিস্কের অনেক বেশি পরিমাণে কাজ হয়। আমরা খুব বেশি চিন্তা করতে থাকি। এতে করে মস্তিষ্কের ওপর অনেক চাপ পড়ে। ফলে মস্তিষ্ক অবসাদগ্রস্থ হয় এবং আমাদের দেহও দুর্বলতা অনুভব করে। তাই বেশি মানসিক চাপ নেয়া বন্ধ করুন।

আরো পড়ুন: মাছের স্বাস্থ্য উপকারিতা; জেনে নিন কোন মাছের কি গুণাগুণ রয়েছে

আপনি অতিরিক্ত মাত্রায় অলস

বেশি কাজের চাপ ও মানসিক চাপে যেমন দুর্বলতা আসে, তেমনই আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে অলসতাতেও দুর্বলতা ভর করে দেহে। আপনি যতো বেশি নিজেকে অলস করবেন ততো আপনার দেহ দুর্বল হতে থাকবে। কিছুটা কাজ করা এবং সামান্য মানসিক চাপ নেয়া আপনার দেহের ইমিউন সিস্টেম উন্নত করবে। এতে আপনি থাকবেন সবল।

শারীরিক দুর্বলতা দূর করার অসাধারন কিছু কৌশল

মাথা ব্যথা হলে, শরীর ঝিম ঝিম করলে, কিংবা কোনো কারণে শরীর খারাপ লাগলেই যে ডাক্তার এর কাছে দৌড়ে যেতে হবে এমন কোনো কথা নেই। অনেক সময় কাজের মাঝে কিংবা অযথাই শরীরে ভর করে রাজ্যের ক্লান্তি এবং দুর্বলতা।

সারাক্ষণ শুধু ঘুম ঘুম ভাব লেগে থাকে। কাজের প্রতি বেড়ে যাওয়া অনীহা আপনার কর্মক্ষেত্রে প্রশংসা নষ্ট করে দিচ্ছে। এদিকে আপনার দৈহিক ওজন আছে আগের মতোই, কখনো আবার বেড়ে চলেছে। আবার কখনো ওজন কমে যেতে দেখা যায়। এই ধরণের শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে প্রয়োজন আমাদের একটু সতর্কতা।

সামান্য শারীরিক দুর্বলতা আমরা চাইলেই ঘরে বসে ঠিক করতে পারি। এ জন্য প্রয়োজন কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলা। যা আপনাকে কিছুটা হলেও সুস্থ করে তুলবে। চলুন জেনে নিই শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে ঘরোয়া উপায়।

খুব তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা

সকাল ৫ টা থেকে ৬ টার মধ্যে বিছানা ছাড়ার অভ্যাস করতে হবে। এতে দিনটা যেমনি বড় মনে হবে তেমনি শরীর ও মন ভালো থাকে। বেশি সময় বিছানায় থাকাটাও শারীরিক দুর্বলতার কারণ। দীর্ঘসময় বিছানায় থাকলে পেটের খাবার হজম হয়ে যায় অনেক আগেই। খাবারের অভাবে দেহ দুর্বল হতে থাকে।

পর্যাপ্ত পানি পান

মনে রাখতে হবে পানির ওপর নাম জীবন।আমাদের দেহ পানিশূন্য হলে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ি। তাই সুস্থ থাকতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা উচিৎ। দেহ হাইড্রাইট থাকলে শারীরিক দুর্বলতার সমস্যা কেটে যায় একেবীবন। এছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়া

কাজের ফাঁকে কিছুটা সময় বিশ্রাম নেয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। অন্তত প্রতি দুই ঘণ্টা পর পাঁচ মিনিট করে হাঁটতে পারেন। এতে দেহের কোষগুলোকে তরতাজা করে তোলে। কাজের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া শক্তি আবারো ফিরে আসে। আমাদের শারীরিক দুর্বলতাও কেটে যায়।

আরো পড়ুন: গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল খাওয়া কেন নিরাপদ নয়!

পর্যাপ্ত ব্যায়াম করা

সুস্থ থাকতে প্রতিদিন সকালে হালকা ব্যায়াম করতে পারেন। হালকা ব্যায়ামে দেহের সব জায়গায় রক্ত চলাচল ঠিকভাবে বজায় থাকবে। আপনিও ফিরে পাবেন দেহের হারানো শক্তি। সেজন্য প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে পনের মিনিট হাঁটতে পারেন।

শক্তিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা

যখনই শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক ভাবে শক্তিসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিৎ। যেমন ডিম সেদ্ধ, কলা, গরম দুধ ইত্যাদি। বাদাম, কমলার রস এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলেও উপকার পাবেন। তবে শারীরিকভাবে সুস্থ সবল থাকতে খাবার তালিকায় নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার রাখতে হবে।

ঈষৎ গরম পানীয় পান করা

চা বা কফির ক্যাফেইন আমাদের শারীরিকভাবে দুর্বল করে তোলে। এধরনের গরম পানীয় তাৎক্ষণিকভাবে দেহে চাঙা ভাব এলেও দেহ পানিশূন্য করে ফেলে। আমাদের দেহে পানির চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং দুর্বলতা বেড়ে যায়। তাই শারীরিক দুর্বলতা দূর করতে চা বা কফি পানের মাত্রা কমিয়ে দিন।

আরো পড়ুন: বিশ্বের অবাক করা ২০টি স্থাপত্য ও দর্শনীয় স্থানসমূহ!

বিনোদন করুন

মনমরা হয়ে থাকলে বা বেশি চিন্তা করলে শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়। মনের মধ্যে ফুর্তি না থাকলে শরীরের ক্লান্তি বেড়ে চলে। অপরদিকে বিনোদনের সঙ্গে থাকলে আপনি মনে যেমন আনন্দ পাবেন তেমনি ফিরে পাবেন শরীরের শক্তি। তাই অতিরিক্ত চিন্তা না করে পরিবার পরিজনের সঙ্গে থাকুন। গান শুনুন, বা প্রিয় কোনো মুভি দেখে আনন্দের সঙ্গে সময় পার করুন।

পরিমাণ মত ঘুম

ঘুমের পরিমাণ কম হলে শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। কারণ ঘুমের মাধ্যমে আমাদের দেহের ও মস্তিষ্কের কোষ নতুন করে শক্তি অর্জন করে। যখন ঘুম কম হয় তখন মাথা ঘোরানো এবং দুর্বলতা অনুভব করার পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই পর্যাপ্ত ঘুম দূর করতে পারবে শারীরিক দুর্বলতা।

প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল বিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে প্রতিদিনের স্বাস্থ্য টিপস লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

Posted by: Tanjin alifa Rima

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here