চাকরির পরীক্ষায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিয়ে যেসব প্রশ্ন হবে

268
bangabandhu satellite

সম্ভব ডটকম »

বাংলাদেশ বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হলো। মহাকাশ জয় হলো ছোট্ট এই দেশটির। যা বাংলাদেশের ইতিহাসের খাতায় লেখা হয়ে থাকবে যুগ যুগ ধরে।
বলছিলাম বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের কথা।

বাংলাদেশে প্রথম স্যাটেলাইট নিয়ে কাজ শুরু হয় ২০০৭ সালে। সে সময় মহাকাশের ১০২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে কক্ষপথ বরাদ্দ চেয়ে জাতিসংঘের অধীন সংস্থা আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নে (আইটিইউ) আবেদন করে বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের ওই আবেদনের ওপর ২০টি দেশ আপত্তি জানায়।

এটি বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের জানার আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। শুধু তাই নয় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি চাকরির পরীক্ষা, বিসিএস, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির পরীক্ষায়ও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি নিয়ে প্রশ্ন আসতে পারে। তাই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটির খুঁটিনাটি বিষয় জানা থাকা দরকার। এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো।

আরো পড়ুন: সুখী হতে কি টাকা লাগে? এই ৪০টি সিম্পল উপায় দেখুন!

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট পরিচিতি

নাম : বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। এটি একটি কৃত্রিম উপগ্রহ। জিও-স্টেশনারি স্যাটেলাইট বা ভ‚স্থির উপগ্রহ। ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। তবে জেনে রাখা ভালো যে, বাংলাদেশে প্রথম স্যাটেলাইট নিয়ে কাজ শুরু হয় ২০০৭ সালে। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর ২০০৯ সালে জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালায় রাষ্ট্রীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের বিষয়টি যুক্ত করা হয়।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণ চুক্তি

২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ।

আরো পড়ুন: সন্তান জন্মে আর পুরুষের দরকার নেই!

বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট কোম্পানি

মহাকাশে উৎক্ষেপণের পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পরিচালনার জন্য ‘বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড’ নামে একটি কোম্পানি গঠন করা হয়।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বিবরণ

বঙ্গবন্ধু-১ কৃত্রিম উপগ্রহটি ১১৯.১° ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমার ভূস্থির স্লটে স্থাপিত হবে। এটিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে নামকরণ করা হয়েছে। ফ্রান্সেরথ্যালিস অ্যালেনিয়া স্পেস কর্তৃক নকশা ও তৈরি করা হয়েছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিমালিকানাধীন মহাকাশযান সংস্থা স্পেস এক্স থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ১৬০০ মেগাহার্টজ ক্ষমতাসম্পন্ন মোট ৪০টি কে-ইউ এবং সি-ব্যান্ড ট্রান্সপন্ডার বহন করবে এবং এটির আয়ু ১৫ বছর হওয়ার কথা ধরা হয়েছে।স্যাটেলাইটের বাইরের অংশে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার রঙের নকশার ওপর ইংরেজিতে লেখা রয়েছে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু ১। বাংলাদেশ সরকারের একটি মনোগ্রামও সেখানে রয়েছে।

নির্মাণ

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মূল অবকাঠামো তৈরি করেছে ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস। এটির নির্মাণ শেষ হয় ২০১৮ সালের ৩০ মার্চ। নির্মাণ, পরীক্ষা, পর্যালোচনা ও হস্তান্তর শেষে বিশেষ কার্গো বিমানে করে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেইপ কেনাভেরালের লঞ্চ সাইটে পাঠায় থ্যালেস অ্যালেনিয়া। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর ওজন তিন হাজার কেজি।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নির্মাণ ব্যায়

শুরুতে বাজেট ধরা হয় ২৯৬৭.৯৫ কোটি টাকা। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ২৭৬৫ কোটি টাকায় এ পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। এর মধ্যে ১৩১৫ কোটি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। আর ১ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিয়েছে হংক সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন (এইচএসবিসি)ব্যাংক। এটি একটি বহুজাতিক ব্যাংক।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট যা আছে

এই স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার আছে। যার ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। আর বাকি ২০টি ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কারিগরি বৈশিষ্ট্য

বিএস-১ উপগ্রহটি ২৬টি কে-ইউ ব্যান্ড এবং ১৪টি সি ব্যান্ড ট্রান্সপন্ডার সজ্জিত হয়েছে ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমার কক্ষপথের অবস্থান থেকে। কে-ইউ ব্যান্ডের আওতায় রয়েছে বাংলাদেশ, বঙ্গোপসাগরে তার জলসীমাসহ ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া অঞ্চল। সি ব্যান্ডেরও আওতায় রয়েছে এই সমুদয় অঞ্চল।

আরো পড়ুন: শারীরিক শক্তির জন্য যে সকল খাদ্য বেশি জরুরী

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কক্ষপথ কেনা

স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ এবং তা কক্ষপথে রাখার জন্য রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে কক্ষপথ (অরবিটাল স্লট) কেনা হয়। মহাকাশে এই কক্ষপথের অবস্থান ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতে প্রায় ২১৯ কোটি টাকায় ১৫ বছরের জন্য এই কক্ষপথ কেনা হয়।

স্যাটেলাইটের ফুটপ্রিন্ট

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ফুটপ্রিন্ট বা কভারেজ হবে ইন্দোনেশিয়া থেকে তাজিকিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত। শক্তিশালী কেইউ ও সি ব্যান্ডের মাধ্যমে এটি সবচেয়ে ভালো কাভার করবে পুরো বাংলাদেশ, সার্কভুক্ত দেশসমূহ, ফিলিপাইন এবং ইন্দোনেশিয়া।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড স্টেশন

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায়। এর মধ্যে গাজীপুরের তেলীপাড়ায় টেলিযোগাযোগ স্টাফ কলেজ সংলগ্ন এলাকায় স্থাপিত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রাইমারি গ্রাউন্ড স্টেশনটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। এটিই মূল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের। আর রাঙ্গামাটির গ্রাউন্ড স্টেশনটি গাজীপুরে স্থাপন করা গ্রাউন্ড স্টেশনের বিকল্প।

উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান ও উৎক্ষেপণকারী রকেট

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠানোর কাজ করে মার্কিন রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিয়ে উড়াল দেয় ‘ফ্যালকন-৯’ রকেট।

মহাকাশে বাংলাদেশ

স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ স্থগিত : বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রথমে ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর উৎক্ষেপণের কথা ছিল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় ইরমার কারণে এর উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হয়। এরপর ২০১৮ সালের ১০ মে (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা ৪৭ মিনিটে উৎক্ষেপণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।

কিন্তু উৎক্ষেপণের ৪২ সেকেন্ড আগে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হয়। স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রকেট ও পে লোড ভালোই আছে। কিন্তু কিছু কারিগরি ত্রুটির কারণে তা উৎক্ষেপণ করা যায়নি। পরে ব্যাকআপ ডেতে (পরের দিন) উৎক্ষেপণের দিন নির্ধারণ করা হয়।

আরো পড়ুন: চাকরি ‍খুঁজছেন? তাহলে এই ১১৫টি সাধারন জ্ঞান জেনে নিন!

  • সফল উৎক্ষেপণ : উৎক্ষেপণের তারিখ হচ্ছে-১২ মে ২০১৮। বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৪ মিনিট।
  • উৎক্ষেপণ স্থান : যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সুবিধাসমূহ

বর্তমানে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে স্যাটেলাইট ভাড়া নিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এজন্য বছরে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট চালুর ফলে অনেকাংশেই কমে আসবে এ ব্যয়। একই সঙ্গে দেশের টাকা থেকে যাবে দেশেই। আয় হবে বৈদেশিক মুদ্রা।

✅ টেলিভিশন চ্যানেল ছাড়াও ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট ও বেতারসহ ৪০ ধরনের সেবা পাওয়া যাবে এ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে।

✅ যেকোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে টেরিস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট দেশে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পরিবেশ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ই-সেবা নিশ্চিত করবে।

✅ এছাড়া আবহাওয়ার পূর্বাভাস, টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-রিসার্চ, ভিডিও কনফারেন্স প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ভালো তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে এ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে।

✅ এ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ফলে নেপাল, মিয়ানমার, ভুটান ও অন্যান্য দেশের কাছে সেবা ভাড়া দিতে পারবে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করা যাবে।

স্যাটেলাইট থেকে দেয়া হবে ডিটিএইচ সেবা

পরিকল্পনা মোতাবেক দেশের প্রত্যন্ত ৪০টি দ্বীপে ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম) সুবিধা পুরোপুরি চালু করার আশ্বাসও দিয়েছেন বিসিএসসিএল এর চেয়ারম্যান।

প্রাথমিকভাবে তারা পরীক্ষামূলকভাবে ডিটিএইচ অর্থাৎ বর্তমানে কেবল টিভির যে সংযোগ আছে সেটির মান উন্নয়ন করার সুবিধা দেবেন যেন তারা কোন ঝঞ্ঝাট ছাড়াই সেবা নিশ্চিত করতে পারেন।

ট্রিপল প্লে- অর্থাৎ ডিশ, ইন্টারনেট ও কলিং- এ তিনটি সেবা একসাথে ডিটিএইচ এর মাধ্যমে পাওয়া যাবে।

মিস্টার মাহমুদ বলেন, “যেসব এলাকায় ফাইবার অপটিকাল কেবল নেয়া যায়না বলে টেলিফোন সার্ভিস বা ব্যান্ডউইথ দেয়া সম্ভব হয়না। এমন ৪০টি দ্বীপে সেবা দিতে আমরা একটি কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। যার আওতায় আগামী দুই তিন মাসের মধ্যে ওইসব দ্বীপগুলোকে আমরা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত করবো।”

“যেন ওইসব এলাকায় এই স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথের মাধ্যমে টেলিফোন সার্ভিস, থ্রিজি সার্ভিস, ই-এডুকেশন, ই-লার্নিং, টেলি-মেডিসিন এমনকি ব্যাংকিং সার্ভিস দেয়া সম্ভব হয়।

Source: BBC, NASA, Wipedia, SpaceX…

প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল বিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, বিস্ময়কর পৃথিবী, সচেতনমূলক লেখা, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে  SOMVOB.COM লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।