সব সময় হাসি খুশি ও মন ভালো রাখার বৈজ্ঞানিক ২০টি মূলমন্ত্র!

323
ভালো থাকার উপায়

নিজ নিজ জীবনে সবাই সুখে থাকতে চায়। কেউ পারে আবার জীবনের বিভিন্ন ধরণের জটিলতার জন্য কেউ পারেনা। কিন্তু জীবনে যতোই জটিলতা থাকুক না কেন আমাদের সুখী হতেই হবে কারণ আমাদের জীবনটা অনেক ছোট। প্রতিটি মানুষ তার বেক্তিগত জীবনে সুখী থাকতে চায়, চলুন তবে জেনে নেই খুব সহজ কিছু উপায় যা পালন করলে আপনি সুখী থাকবেন।

নেতিবাচক চিন্তা আর নয়

আগামীকাল পরীক্ষা আর আজ রাতে আপনার মনে ভিড় করল হাজারো দুশ্চিন্তা, যার অধিকাংশই নেতিবাচক। খুব সহজ ভাষায় এ ধরনের চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। কে কি বলছে সেদিকে কান না দিয়ে নিজে যেটা ভালো মনে করেন তাতেই মন দেন। শুধু এমন চিন্তাই নয়, নেতিবাচক মানুষ এবং আলোচনা থেকেও সরে আসুন। কেননা, আপনার পরিধি নিজেই বুঝবেন, অন্যের কথায় সহজেই প্রভাবিত হওয়ার কিছু নেই।

নিজেকে সুখী মানুষ মনে করা

ভাবুন এবং নিজের মনমানসিকতা এমন ভাবে তৈরি করুন যে আপনি নিজেই নিজেকে ভাববেন যে আপনি পৃথিবীর সবচাইতে সুখী মানুষ। সুখী থাকতে সবচাইতে প্রয়োজনীয় জিনিস হল নিজেকে বিশ্বাস করুন কখনো নিজের সাথে কোণ ধরণের অন্যায় করবেননা।

আরো পড়ুন: ঢেঁড়স খেলে ৩৮টি রোগের উপকারিতা!

কখনো দোষ দেবেন না এবং অন্যকেও না

নিজের উপর কখনো দোষ দেবেন না। কখনো যদি কোনো ভুল করেও থাকেন নিজেকে বুঝানোর চেষ্টা করুন যে ভুল হতেই পারে সামনে আর ভুল করবেননা। আর কখনো অযথা অন্নের উপর দোষ দেবেন না।

হতাশ না হয়ে নিজের ভাগ্যকে বিশ্বাস করুন

আমাদের জীবনে অনেক ধরনের শখ আল্লাদ থাকে, কিন্তু সব শখ কি কখনো পূরণ হয়? জীবনের সব শখ কখনোই পূরণ হয়না। তা নিয়ে হতাশ হওয়ার কোণ কারণ নেই। নিজের ভাগ্যের উপর সব ছেড়ে দিন। ভাবুন যে আপনি জীবনে যা যা পাবেন তা আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার।

আজে বাজে চিন্তা ভাবনা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন

কথায় আছে অলস মস্তিস্ক শয়তানের ভাণ্ডার! তাই নিজেকে আজে বাজে চিন্তা ভাবনা থেকে দূরে রাখুন। জীবনে কষ্ট থাকবেই এর জন্য যে সারাক্ষণ কষ্ট আর বাজে চিন্তা নিয়ে পড়ে থাকবেন তা ঠিক নয়। তাই সব ধরণের বাজে চিন্তা থেকে দূরে থাকুন সুখী থাকবেন।

আরো পড়ুন: ভুট্টার অসাধারণ ৩০টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

সাহায্য করা

স্ত্রীকে ঘরের ছোট ছোট কাজে সাহায্য করতে পারেন। হতে পারে বাচ্চাকে গোসল করানো, কাপড় গোছানো, কলিং বেলে শব্দ হলে গেট খুলে দেয়া কিংবা রান্নার সময় সবজি কেটে দেয়া। শুধুমাত্র স্বামী স্ত্রীর কাজে সাহায্য করলে সংসার সুখী হবে তা কিন্তু নয়। স্ত্রীকেও স্বামীর কাজে সাহায্য করতে হবে। স্বামী অফিসে বের হওয়ার সময় টাই, ব্যাগ এগিয়ে দেয়াসহ অন্যান্য কাজে সাহায্য করতে পারেন। একইভাবে স্ত্রী যদি কর্মজীবি হয় তাকেও সাহায্য করতে পারেন। একে-অপরের কাজে সাহায্য করলে দুজনের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক তৈরি হবে।

ক্ষমাশীল হন

ক্ষমাশীল হওয়া জীবনের সবচাইতে বড় গুণ। যখন নিজের অপরাধ ও অন্নের অপরাধ ক্ষমা করে দিতে পারবেন তখন আপনি নিজেই অনুভব করতে পারবেন যে আপনি পৃথিবীর সবচাইতে সুখী মানুষ।

সবাইকে সাথে নিয়ে সুখী থাকার চিন্তা করুন

শুধু নিজেকে সুখী রাখলে হবেনা। সবাইকে সাথে নিয়ে সুখী হতে হবে। নিজের পরিবারেতো সুখী হতেই হবে এবং পাশাপাশি আপনি বিবাহিত হলে আপনার স্বামী/ স্ত্রী , সন্তান সবাইকে নিয়েই ভালো থাকতে হবে। অনেক সময় যখন আপনার সাথের মানুষ গুলো ভালো থাকবে তখন আপনি নিজেও ভালো থাকবেন।

শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকুন

শারীরিকভাবে সুস্থ থাকাটা সবচেয়ে জরুরী। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন, ব্যায়াম করুন, যোগ ব্যায়াম করুন, বাইরের খাবার ত্যাগ করুন, মাঝে মাঝে জোরে নিঃশ্বাস নিন। আপনি নিজেই ভালো বুঝেন কি করলে আপনার শরীর ভালো থাকবে সুতরাং আপনি তাই করুন।

মানুষকে সাহায্য করুন এবং উৎসাহ দিন

আপনি কাউকে কখনো সাহায্য করলে নিজেই খুব ভালো অনুভব করবেন। সাহায্য যত বরই হোক অথবা ছোট তা আপনাকে মানসিক ভাবে শান্তি দিবে। এবং আপনার কাছের মানুষ গুলোকে যে কোণ কাজের জন্য উৎসাহী করুন। সবাই খুশি হবে আর আপনিও ভালো থাকবেন।

প্রসংশা করুন

সঙ্গীর সাজগোছ ও পোশাকের প্রসংশা করুন। সাজসজ্জা ছাড়াও রান্না ও অন্যান্য কাজের প্রসংশা করুন। একে অন্যকে মূল্যায়ন করলে সংসার জীবনটা ফুলে ফুলে ভরে উঠবে।

নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা না করা

‘ওর ওটা আছে, আমার নেই কেন’—এ ধরনের চিন্তা আপনার নিজ মানসিক শক্তিকেই কমিয়ে দেয়। এমনকি দীর্ঘ মেয়াদে আপনার মধ্যে হতাশা কাজ করবে। তাই মনে রাখুন, সবার প্রতিভা এক নয়। কারও হয়তো পড়াশোনায় মেধা আছে, আবার কারও খেলাধুলায়। তাই চেষ্টা করুন নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করার।

ইতিবাচক থাকুন

আপনি কাজটা যেভাবে করবেন, তার ফলটাও সে রকমই হবে। এটা মাথায় রেখেই কাজে লেগে পড়ুন। শেষ বিকেলে কী হবে তার জন্য চিন্তা না করে নিজেকে আশ্বাস দিন। প্রতিটি ঘটনারই দুটি দিক থাকে—ইতিবাচক ও নেতিবাচক। চেষ্টা করুন সব সময় ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজে বের করার। এর ভালো দিকটা আপনি নিজেই দেখতে পাবেন।

ঠিকমতো খাবার ও ঘুম

শরীর ও মন একটি আরেকটির ওপর নির্ভরশীল। তাই একটি নির্দিষ্ট রুটিন অনুযায়ী চলার চেষ্টা করুন। যেমন পরিমিত পরিমাণে খাবার ও ঘুম। এ ছাড়া প্রতিদিন সকালে কিংবা সন্ধ্যায় শারীরিক ব্যায়াম বা ইয়োগা করতে পারেন। এতে দুশ্চিন্তা অনেকটাই লাঘব হয়।

নিজেকে ভালোবাসুন

সবার আগে নিজেকে ভালোবাসতে শিখুন। সময় বরাদ্দ রাখুন কিছুটা নিজেরও জন্য। আপনার প্রিয় মানুষটি কাছে নেই? আপনি নিজেই ব্যস্ত হয়ে পড়ুন না! ঘুরে আসুন কোথাও কিংবা শখের বিষয়গুলো চর্চা করুন। কিংবা পরিবারের সবার জন্য কিছু একটা রান্না করে ফেলুন ঝটপট।

পরিবার ও বন্ধুর সঙ্গে সময় উপভোগ

বন্ধুমহল কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। তাদের সঙ্গে আলোচনা করুন। এতে দুই পক্ষই খুশি হবে। এমন অনেক ব্যাপার থাকে, যা আমরা প্রিয় মানুষটির চেয়ে বন্ধুটির কাছে প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। তাই কিছুটা সময় বন্ধু মানুষটির সঙ্গে বেড়িয়ে আসুন।

অন্যের প্রতি সহযোগিতা

অনেকেই পাশের মানুষের ব্যবহারে কষ্ট পেয়ে থাকেন। কিন্তু ভেবে দেখার চেষ্টা করুন, সেই মানুষটি কেন এমন করেছেন। সমানুভূতি থেকেই এমনটি করা সম্ভব। তাই সব সময় নিজের ব্যাপারগুলো না দেখে অন্যদের সমস্যাগুলোও বোঝার চেষ্টা করুন।

আস্থা রাখুন নিজের ওপর

যত যাই হোক, নিজেকে বোঝার ক্ষমতা আপনারই আছে। সব নেতিবাচকতা এড়িয়ে নিজেকে অভয় দিন, ‘দিন শেষে আমিই জয়ী!’

স্বচ্ছতা

সুখী সংসার জীবনের মূল মন্ত্র হচ্ছে স্বচ্ছতা। স্বচ্ছতা ছাড়া সংসার জীবনে সুখী হওয়া যায় না। স্বামী-স্ত্রীর নিজেদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা রাখুন। স্বচ্ছতার পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া বজায় রাখুন। কোনো ভুল কাজ করে ফেললে তা সঙ্গীর কাছে শেয়ার করুন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করুন ।

আরো পড়ুন: আমলকী খাওয়ার ৩৮টির উপকারিতা

রুটিন

যত ব্যস্ত থাকুন না কেন নিয়মিত ফোনে, ফেসবুকে কিংবা টুইটারে প্রিয়জনের খোঁজ খবর রাখুন। বিয়ের বয়স কয়েক বছর হয়ে গেছে বলে, সম্পর্ক একঘেয়ে হতে দেবেন না। যত ব্যস্ত থাকুন না কেন, নিজেদের বিবাহ বার্ষিকী পালন করুন, এবং সঙ্গীর জন্মদিনে শুভেচ্ছা বার্তা ও উপহার দিন। সংসারের অন্যান্য কাজ রুটিনমাফিক করুন।

খোলামেলা আলোচনা

নিজেদের মধ্যে কোনো কারণে ভুল বোঝাবুঝি হলে খোলামেলা আলোচনা করুন। খোলামেলা আলোচনা নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর করে, সম্পর্ক মজবুত করে। এছাড়া ভালোলাগা-মন্দলাগা বিষয়গুলো নিজেদের আলোচনা করল।

প্রতিদিনের আপডেট সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গেই থাকুন: প্রতিদিনের স্বাস্থ্য টিপস