জীবনে সুখী হওয়ার উপায় কি? এই ৪০টি সিম্পল উপায় দেখুন!

468
সুখী মানুষ
সুখী হতে কি টাকা লাগে?

কিভাবে সুখী হওয়া যায়? সুখী হওয়াটা এমন একটা ব্যাপার নয় যে আপনাকে অনেক টাকা পয়সার মালিক হতে হবে! সুখী হওয়ার উপায় খুজার জন্য বা এই ক্ষুদ্র ক্ষণিকের জীবনের জন্য এই কয়টি উপায় আপনার জীবন সুখী হওয়ার মূলমন্ত্র হতে পারে। সুখী হওয়ার জন্য আপনাকে এজন্য অভ্যাস করে করে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে” বলছেন, লুরি স্যান্তোস, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিদ্যার একজন অধ্যাপক। স্যান্তোস বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন যে, কীভাবে খারাপ লাগা বা দুঃখের বিষয়গুলোকে ভুলে যেতে হবে।

ইয়েলের ৩১৭ বছরের ইতিহাসে তার ক্লাস ‘মনোবিদ্যা এবং সুখী জীবন’ হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয় কোর্স, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাভুক্তির রেকর্ড ভেঙ্গে ১২০০ শিক্ষার্থী নিজেদের নাম লিখিয়েছেন।

”বিজ্ঞান প্রমাণ করে দিয়েছে যে, সুখী হতে হলে অব্যাহতভাবে চেষ্টা করে যেতে হবে। এটা সহজ কাজ নয়, সেজন্য সময় দরকার। তবে এটা করা সম্ভব,” বলছেন স্যান্তোস।

সুখী হওয়ার বিষয়টি কোনো অলিক বা অবাস্তব বিষয় নয়। এর পেছনে কাজ করে নির্দিষ্ট কিছু যুক্তি। ২০১৩ সালে ১৮০ মিলিয়ন মানুষের মাঝে এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৩ শতাংশ মানুষ  তাদের সুখী বলে মনে করে। এ লেখায় রয়েছে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সুখী হওয়ার উপায়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফোর্বস

« এক নজরে দেখুন এই প্রতিবেদনে কি কি রয়েছে »

জীবনে সুখী হওয়ার উপায় কি?

জীবনে সুখী হওয়ার উপায়

জীবনে সুখী হওয়ার উপায় কি? প্রত্যেকে নিজেই নিজের সুখের বিষয়টি নির্ধারণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। এক্ষেত্রে কোনো বিষয় যদি সুখ নষ্ট করে তাহলে তা ত্যাগ করাই শ্রেয়। যেমন কাজের চাপ যদি বেশি হয় তাহলে সে কাজের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়াই উচিত ।

নিঃসঙ্গ থাকবেন না, সঙ্গী খুঁজুন

একাকীত্ব আপনার জীবন থেকে সুখ নামক আনন্দ কেড়ে নেবে। একাকীত্বের বীজ প্রথমে তার শিকড় না ছড়ালেও ধীরে ধীরে তার শক্তি বিস্তার করে। তার চাদরে মুড়িয়ে নেয়। এর পরেই দেখা দেয় নানান সমস্যা। তাই নিঃসঙ্গ থাকবেন না, একাকীত্বের বীজ জীবনে রোপণ করার মত ভুল কররেন না। সম্পর্কগুলোকে আঁকড়ে ধরে জীবনযাপন করুন।

কেননা সম্পর্ক মানুষকে সুখী থাকতে সাহায্য করে৷ যাঁরা সমাজে নানা রকম মানুষের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রেখে চলেন, তাঁরা অন্যদের তুলনায় আরও সুখী ও সুস্থ থাকেন এবং আরও বেশিদিন বাঁচেন৷ বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক জীবনে ভালোবাসা ও বেঁচে থাকার অর্থ নিয়ে আসে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়৷ নিজের সম্পর্কগুলি আরও মজবুত করে তুলুন, নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলুন৷ সুখী হওয়ার জন্য এটা অত্যন্ত জরুরি৷

অন্যদের জন্য কিছু করুন

অন্যদের সাহায্য করা নিজেদের সুখের চাবিকাঠি – এটা আমাদের আরও আনন্দ দেয়, আরও স্বাস্থ্যবান করে তোলে৷ কেননা অন্যদেরকে সাহায্য করলে আমাদের মন অচিরেই খুশী হয়ে যায়। নিজের জন্য করলে যতটা না খুশি লাগে অন্যের জন্য করতে পারলে ভিতরে নিজের জন্য গর্ব জন্মায় আর এটাই নিজেকে বাহবা দিয়ে আমাদের আনন্দ প্রদান করে। বিশ্বাস করছেন? আচ্ছা নিজের টাকা দিয়ে নিজের মায়ের জন্য একটি শাড়ী বা বাবার জন্য একটি পাঞ্জাবি বা যেকোনো একটা উপহার তাদের দিন দেখবেন আপনার মন আনন্দে ভরে গেছে। এবং এই আনন্দ আপনার চোখের কোনায় দু-ফোটা সুখের জলও বয়ে আনতে পারে।

আরো পড়ুন: সব সময় হাসি খুশি ও মন ভালো রাখার বৈজ্ঞানিক ২০টি মূলমন্ত্র!

তাছাড়া অন্যের জন্য কিছু করলে মানুষের মধ্যে সম্পর্কের ভীত আরও মজবুত হয়৷ ফলে সার্বিকভাবে সমাজের উপকার হয়, সবাই সুখী হয়৷ সব ক্ষেত্রে প্রশ্নটা টাকা-পয়সার নয়৷ সময়, আইডিয়া, শ্রম দিয়েও সাহায্য করা যায়৷ অতএব মন ভালো করতে ভালো কিছু করুন৷ তাহলে দেখবেন ভেতরে মনের অজান্তেই সুখ অনুভব করছেন।

পরনিন্দা বাদ দিন

অন্য মানুষের নিন্দা করা হলে তাতে প্রাথমিকভাবে মনের ওপর তেমন প্রভাব নাও পড়তে পারে। কিন্তু পরবর্তীতে তা মানুষের মনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

নিজের শরীরের যত্ন নিন

আমরা বেলা শেষে নিজেদের শরীরেই বসবাস করি। নিজের শরীর ভালো না থাকলে কোন কাজেই মন বসে না। শরীর ও মন একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত৷ শরীর সক্রিয় থাকলে মনও খুশি থাকে, স্বাস্থ্য ভালো থাকে৷ ‘মুড’ ভালো থাকলে মানসিক অবসাদ থেকেও বেরিয়ে আসা যায়৷ তাছাড়া যে নিজের প্রতি যত্নবান নয় সে কখনো এগোতে পারে না কেননা যে নিজের যত্নই নিতে পারে না যে অন্যের বা কাজের ক্ষেত্রে কিভাবে যত্ন নেবে? আর সবচেয়ে বড় কথা হলো নিজের সুখের জন্য নিজেকে নিজের যত্ন নিতে হবে। দেহ,মন ভালো থাকলে আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। তাই নিজের যত্ন অবশ্যই নিতে হবে আর এর জন্য প্রতিদিনই কিছু সহজ কাজ করা যায়৷ যেমন ঘরের বাইরে গিয়ে তাজা বাতাস নেওয়া ও যথেষ্ট ঘুমানো৷

পছন্দের লক্ষ্য স্থির করুন

পছন্দের লক্ষ্য স্থির করুন

ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব মনের সুখের জন্য জরুরি৷ ‘মোটিভেশন’-এর জন্য সবারই কিছু লক্ষ্যের প্রয়োজন হয়৷ তবে সেগুলি অবাস্তব হলে চলবে না৷ তা না হলে অকারণ ‘স্ট্রেস’ বা মানসিক চাপ সৃষ্টি হবে৷ উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং বাস্তবের কাঠামোর মধ্যে লক্ষ্য স্থির করলে জীবন সঠিক দিশায় চালিত হবে৷ সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারলে মনে পরিতৃপ্তি ও সন্তুষ্টি আসবে৷ অপরদিকে লক্ষ্য ছাড়া কাজে সাফল্য সম্ভব নয়। লক্ষ্য হলো সাফল্যের সিঁড়ি সরূপ। এবং লক্ষ্য মানুষকে সাফল্যের দ্বার প্রান্তে নিয়ে যায়। আর সাফল্য লাভে কেইবা সুখ লাভ না করে বলুন? তাই পছন্দের লক্ষ্য স্থির করা জরুরী।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা

কাজের ক্ষেত্রে আপনি যতই চাপে থাকুন না কেন, টেবিলটি অপরিষ্কার করে রাখার কোনো মানে হয় না। অনুরূপভাবে মানসিক শান্তির জন্য সব ক্ষেত্রেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার মূল্য অপরিসীম।

অন্যকে সহায়তা করুন

নিঃস্বার্থে অন্যকে সহায়তা করা আপনার মানসিক শান্তি বাড়িয়ে দেবে। এটি আদতে দীর্ঘমেয়াদে আপনাকে সুখী করে তুলবে।

নেতিবাচক মানুষ থেকে দূরে থাকুন

অন্যের বিষয়ে যারা সারাক্ষণ অভিযোগ করে তাদের এড়িয়ে চলুন। এছাড়া যে কোনো নেতিবাচক মানসিকতার ব্যক্তিই আপনার সুখের জন্য ক্ষতিকর।

আরো পড়ুন: অন্যমনস্ক? মনোযোগ বৃদ্ধির দোয়া ও বিশেষ কৌশল

নিজেই হাসুন

অন্য কেউ আপনার হাসির কারণ হলে তারপর যে হাসতে হবে এমন কোনো কথা নেই। নিজের কারণেও হাসি দেওয়া যায়। এটি যে কোনো গুরুগম্ভীর পরিস্থিতি সামলাতে কার্যকর। আর এ হাসি আপনার সুখও বাড়িয়ে দেবে।

কৃতজ্ঞ হোন

সবকিছুর জন্যই কৃতজ্ঞ হোন। কোনো কাজের জন্য অন্যদের কৃতজ্ঞতা জানান। এটি আপনার মনের সুখ অনেক বাড়াবে।

আশাবাদী হোন

আশেপাশের জগত সম্পর্কে অবগত হন

আশা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি যেমন মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন তেমন এটি সুখের জন্যও প্রয়োজনীয়। তাই আশা ত্যাগ করা যাবে না কোনোক্রমেই। আর এ আশাই আপনাকে সুখী রাখবে।

আশেপাশের জগত সম্পর্কে অবগত হন

কখনো কি আপনার মনে হয়েছে যে, জীবন থেকে আরও কিছু পাওয়ার আছে? সুখবর হলো, সত্যি জীবনে আরও অনেক কিছু আছে৷ থমকে দাঁড়িয়ে আমাদের সেটা অনুধাবন করতে হবে৷ মনোযোগ বাড়ালে জীবনের সব ক্ষেত্রে ভালো লাগার অনুভূতি বাড়ে৷ বর্তমান কালে সজাগ থাকলে অতীত সম্পর্কে অনুতাপ হবে না, ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও সব সময়ে দুশ্চিন্তা থাকবে না৷

আর বর্তমান নিয়ে থাকলে আপনার জীবনকে উপভোগ করতে পারবেন কেননা মানুষের হতাশ হবার মূল কারনই অতীত নিয়ে পড়ে থাকা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনা। এই দুইয়ে মিলে মানুষের সুখটুকু কেড়ে নেয়। তাই বর্তমানকালে সজাগ থাকা জরুরী যাতে অতীতের ফেলা আসা কষ্ট এবং ভবিষ্যৎ এর দুশ্চিন্তা আপনাকে স্পর্শ না করতে পারে।

‘পজিটিভ’ চিন্তাধারা

‘পজিটিভ’ চিন্তাধারা

আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও সন্তুষ্টির মতো ইতিবাচক আবেগ শুধু কিছু সময়ের জন্য ভালো নয়৷ বার বার এই সব অনুভূতি ফিরে আসলে জীবন সার্বিকভাবে আরও সুখকর হয়ে ওঠে৷ ইতিবাচক চিন্তাশক্তির ক্ষমতা অনেক। এটি মানুষের আত্মবিশ্বাসকে প্রখর করে তোলে। ফলে অনুপ্রেরণা পাওয়া যায় শতভাগ। আর জীবনে এই দুটি ভিত্তি ঠিক থাকলে বেলা শেষে সুখের হাসিটা আপনার মুখেই ফুটবে। জীবনে সুখ-দুঃখ আছে বটে, কিন্তু কোনো পরিস্থিতির ভালো দিকটির প্রতি মনোযোগ দিলে সত্যি উপকার হয়৷ পাত্রের অর্ধেকটা ভরা দেখলেই ভালো, অর্ধেকটা খালি নয়৷

শিক্ষা বন্ধ করবেন না

শিক্ষা মানুষের মেরুদণ্ড। মেরুদণ্ড ভেঙ্গে গেলে যেমন মানুষ আর দাঁড়াতে পারে না ঠিক তেমনি জীবন থেকে শিক্ষা চলে গেলে মানুষ আর জীবনে উন্নতি সাধন করতে পারে না। তার জীবনে সুখের হাওয়া আর বয়ে চলে না জীবন ভরে ওঠে দুঃখ নামক বিভীষিকায়। ভালো থাকার ক্ষেত্রে শিক্ষার ইতিবাচক প্রভাব থাকে৷ মনে নতুন আইডিয়া আসে, আমাদের কৌতূহলী ও সক্রিয় থাকতে সাহায্য করে৷ শিক্ষা মনকে তৃপ্তি দেয়, আত্মবিশ্বাস ও ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে৷ নতুন কিছু শেখার অনেক সুযোগ রয়েছে – যেমন নতুন কোনো দক্ষতা, ভাষা, খেলা, গান ইত্যাদি৷

নতুন করে জেগে উঠতে শিখুন

প্রত্যেকের জীবনেই ‘স্ট্রেস’, কিছু বা কাউকে হারানো অথবা অন্য কোনো খারাপ অভিজ্ঞতা রয়েছে৷ আমরা কীভাবে তার মোকাবিলা করি, তার উপর আমাদের ভালো থাকা না-থাকা নির্ভর করে৷ আমাদের জীবনে কী ঘটবে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা নিজেরা তা স্থির করতে পারি না৷

কিন্তু যা ঘটে গেছে, সে বিষয়ে আমরা আমাদের মনোভাব স্থির করতে পারি৷ একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী অনেক কিছুর মতো প্রতিরোধ ক্ষমতাও শেখা যায়৷

নিজেকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন

কেউই নিখুঁত নয়৷ কিন্তু আমরা বার বার বাকিদের সঙ্গে নিজের তুলনা করি৷ নিজের যা নেই, তা নিয়েই যদি বেশি মাথা ঘামাই। আর এসব ভাবনাই আমাদের সুখিকে কেড়ে নেয় আমাদের কাছ থেকে। হতাশ হয়ে পরি এসব ভাবনায় বুদ হয়ে। আমরা যদি আমাদের নিজেদের অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট না থাকি তাহলে সুখী হওয়া কঠিন৷

তাই আমাদের যা আছে, তা নিয়েই বেশি ভাবা উচিত৷ বিশেষ করে কঠিন সময়ে আমরা যেমন, সেটা মেনে নিতে শিখলে এবং নিজের প্রতি আরো সদয় হলে জীবনে আনন্দ বাড়বে৷ অন্যদেরও তাদের মতো করে মেনে নিতে সুবিধা হবে৷

নিজেকে বৃহত্তর জগতের অংশ হিসেবে দেখুন

যে মানুষ জীবনের অর্থ দেখতে পান, তিনি অনেক বেশি সুখী হন৷ তাঁর মানসিক চাপ, ভয় ও অবসাদের মাত্রাও কম হয়৷ ধর্মীয় বিশ্বাস, সন্তানের পিতা বা মাতা হওয়া – এমনকি নতুন চাকরিও জীবনে অর্থ বয়ে আনতে পারে৷ প্রত্যেকের জন্যই এই বোধ ভিন্ন হয়৷ কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই বোধ আসে, যে আমরা বৃহত্তর জগতের একটা অংশ মাত্র৷

প্রাপ্তির একটি তালিকা করুন

শিক্ষার্থীদের এমন একটি তালিকা তৈরি করার জন্য বলে থাকেন স্যান্তোস, যেগুলোকে তারা নিজেদের জীবনে প্রাপ্তি বলে মনে করেন। এই তালিকা তৈরির কাজটি প্রতিদিন রাতে একবার হতে পারে বা অন্তত সপ্তাহে একবার করতে হবে।

”এটা হয়তো শুনতে বেশ সাধারণ লাগছে, কিন্তু আমরা দেখেছি, যে শিক্ষার্থী এই চর্চাটি নিয়মিতভাবে করেন, তারা অন্যদের চেয়ে বেশি সুখী হয়ে থাকেন।” বলছেন স্যান্তোস।

ধ্যান করুন

প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট ধ্যান করুন, সপ্তাহের প্রতিটি দিন।

স্যান্তোস বলছেন, যখন তিনি শিক্ষার্থী ছিলেন, নিয়মিত ধ্যান তার ভেতর ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করতো।

এখন তিনি একজন অধ্যাপক। তিনি শিক্ষার্থীদের বেশ কিছু গবেষণার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন যে, কিভাবে ধ্যান এবং পুরো মনোযোগ টেনে নেয়ার মতো কর্মকাণ্ড একজন ব্যক্তিতে আরো সুখী হতে সহায়তা করে।

পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান

পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান

স্যান্তোসের তথ্য মতে, সাম্প্রতিক বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে চমৎকার সময় কাটানো গেলে সেটা মানুষকে প্রফুল্ল বা সুখী করে তোলে।

আদার ৩০টি উপকারিতা ও ক্ষতিকর দিক সমূহ

যাদের আমরা পছন্দ করি, তেমন মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো- অথবা ‘ব্যক্তিগত ভালো সম্পর্ক ও সামাজিক যোগাযোগের’ ফলে মানুষের মধ্যে একটা আনন্দ এবং স্বস্তি তৈরি করে, যা আসলে তাদের ভালো থাকাকে আরো বাড়িয়ে তোলে।

”এজন্য অনেক কিছু করতে হয় না”, বলছেন স্যান্তোস। ”শুধুমাত্র এটা নিশ্চিত করতে হয় যে, এই মুহূর্তটাকে আপনি ভালোভাবে উপভোগ করছেন। এটা মনে রাখা জরুরি যে অন্যদের সঙ্গে যে আপনি একত্রে সময় কাটাচ্ছেন এবং সতর্ক থাকা যে, আপনি আসলে সেই সময়টা কীভাবে কাটাচ্ছেন।”

সময় সম্পর্কে মানুষের ধারণার বিষয়টি তার সুখী হওয়া না হওয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে বলছেন স্যান্তোস।

”অনেক সময় আমরা সম্পদ বলতে বুঝি যে, কতটা অর্থ আমরা উপার্জন করতে পারছি। কিন্তু গবেষণা বলছে, সম্পদ আসলে সময়ের সঙ্গে অনেক বেশি জড়িত যে, আমরা আসলে নিজেদের জন্য কতটা সময় পাচ্ছি।”

বাস্তব যোগাযোগ বৃদ্ধি করুন

সামাজিক মাধ্যম অনেক সময় আমাদের মিথ্যা সুখের আবহ দিতে পারে, বলছেন স্যান্তোস, কিন্তু তাতে ভেসে না যাওয়ার মতো সতর্ক থাকতে হবে।

”সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে যে, যেসব মানুষ ইন্সটাগ্রামের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলো বেশি ব্যবহার করে, তারা ওইসব মানুষের চেয়ে কম সুখী হয়ে থাকে, যারা ওগুলো বেশি একটা ব্যবহার করে না।

সংসার জীবনে সুখী হওয়ার উপায়

কথায় বলে—পুরুষ মানুষ দুই প্রকার। জীবিত আর বিবাহিত। সত্যিই কি বিয়ের পর পুরুষের সুখ চলে যায়? তাঁদের মন বিষিয়ে ওঠে? কিন্তু উপায় কী। হ্যাঁ, বিশেষজ্ঞরা বের করেছেন, বিবাহিত কিংবা দাম্পত্য জীবনে কীভাবে সুখে থাকা যায়।

ঘুরে ফিরে একই কথা দাড়ায়, আপনি যদি নিজেকে না পরিবর্তন করেন তাহলে দুনিয়ার কেউই আপনাকে জীবনে সুখী করতে পারবে না। আপনি আপনার জীবনে সুখী হওয়া উপায় গুলো ভালো ভাবে পড়ে যদি বাস্তব জীবনে মেনে চলেন তাহলে অবশ্যই আপনার জীবনে সুখী হবেন।

এখন কথা হচ্ছে, সংসার জীবনে সুখী হওয়ার উপায় কি? দেখুন, সবকিছু হলো আপনার ইচ্ছা শক্তির উপর। তাই আমি বলব দাম্পত্য জীবনে সুখী হওয়ার উপায় বা বিবাহিত জীবনে সুখী হওয়ার উপায় না খুজে আপনি নিজেকে পরিবর্তন করুন। দেখবেন জীবনটা খুব সহজ হয়ে গেছে। তারপরও সংসার জীবনে সুখী হওয়ার উপায় ‍নিয়ে নিছে কিছু টিপস দেওয়া হলো। আশা করি আটির্কেলটি পড়ে আপনাদের সংসার বা দাম্পত্য জীবন সুখী হতে সাহয্যে করবে।

একে অপরের বন্ধু হবার চেষ্টা করুন

দাম্পত্য জীবনের শুরুতেই দুজন মানুষের মধ্যে বন্ধুভাবাপন্ন মানসিকতা তৈরি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন বন্ধু আপনাকে যতটা ভাল বুঝতে পারবে সেটা অন্যকেউ বুঝতে পারবেনা। আর একজন বন্ধুর কাছেই মানুষ তার ভালোলাগা, মন্দলাগা, ভয়, অভিমান, প্রত্যাশার কথা, সমস্যার কথা নির্দ্বিধায় শেয়ার করতে পারে।

পরস্পরকেক কে সম্মান ও শ্রদ্ধা করুন

দাম্পত্য জীবনে বর্তমানে যে সমস্যা টি বেশি দেখা যায় তা হলো সম্মানের অভাব। যার কারনে সৃষ্টি হয় মতভেদ। আর তা বাড়তে বাড়তে বিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়াতে দেখা যায়। স্বামী স্ত্রী দুজনেরই উচিৎ একে অপরকে মানুষ বা বন্ধু হিসেবে শ্রদ্ধা করা। শ্রদ্ধাবোধ যে কোন সম্পর্ককে আরও নতুন মাত্রা দেয়। কখনো এমন কোন কথা বলবেন না বা কাজ করবেন না যা অন্য ব্যক্তি মানুষটার আত্মসম্মানে আঘাত করে। প্রত্যেক মানুষেরই নিজের কাছে তার আত্মসম্মান বোধ রয়েছে।

সঙ্গীর মতামত কে প্রাধান্য দিন

সবসময় নিজের মতামত কে জাহির করা এবং তা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকুন। প্রত্যেক মানুষেরই কিছু ইচ্ছে বা মতামত থাকতে পারে। এ সত্য কে ভুলে গেলে চলবে না। মাঝেমাঝে পরিস্থিতি ভেদে অন্যের মতামত শুনুন এবং মূল্যায়ন করার চেষ্টা করুন। ফলে অপর পাশের মানুষটি যখন বুঝতে পারনে যে তার মতামত ও গুরুত্ব পাচ্ছে তখন সেও আপনার কথার মূল্যায়ন করার চেষ্টা করবে। আবার অনেকসময় এমনও দেখা যায় যে, কোনকোন ক্ষেত্রে আপনার মতামত থেকে অপর মানুষটির মতামত বেশি উত্তম এবং যৌক্তিক।

কিছু না লুকিয়ে শেয়ারিং বাড়ান

দাম্পত্য জীবনে সবচেয়ে কাছের মানুষ টি হলো স্বামী বা স্ত্রী। তাই দুজন দুজনার ভালোলাগা, মন্দ লাগা, জীবনের ভাল সময় খারাপ সময়,ভাল মুহূর্ত খারাপ মুহূর্ত তার সাথে শেয়ার করুন এতে করে পরিস্থিতি অনুযায়ী একে অপরকে বুঝতে খুব বেশি বেগ পেতে হবে না।

সন্দেহ নামক ক্যান্সার কে ছড়াতে দেবেন না

সন্দেহ ক্যান্সার থেকেও ভয়ানক রোগ। যা একবার মন কে গ্রাস করলে যে কোন সুন্দর কোনকিছু কে মুহূর্তেই ধুধু মরুভূমি করে দিতে পারে।
সন্দেহ নামক শব্দ টিকে সিলগালা করে রাখার চেষ্টা করুন। আর যদি সন্দেহ জীবনে প্রবেশ করেই ফেলে তবে চেষ্টা করুন সন্দেহের বিষয় নিয়ে কথা বলার মধ্যে সেটি যত দ্রুত সম্ভব দূর করার চেষ্টা করুন। সন্দেহ কে জিয়িয়ে রাখবেন না।

SACRIFICE করতে শিখুন

Sacrifice শব্দটি ছাড়া শুধু দাম্পত্য সম্পর্ক নয়, যে কোন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা, সুন্দর রাখা অসম্ভব । দাম্পত্য জীবনে সবকিছু আপনার মন মত হবে বা আপনার সাপোর্টে থাকবে এমনটি সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতিতে জেদ ধরে বসে না থেকে নিজেকে পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিন। নিজের ইচ্ছে বা মতামত কে মাঝেমাঝে sacrifice করুন। ফলাফল স্বরূপ যে কোন সমস্যার সমাধান হবে, সেইসাথে আপনার জন্য অন্যকারোর মধ্যে sacrifice করার মানসিকতা তৈরি হবে।

বিবাহিত জীবনে সুখী হওয়ার আসল উপায় হলো: বিশ্বাস

দাম্পত্য জীবনে সুখী হওয়াটা নির্ভর করে বিশ্বাস কতটা শক্ত তার অপর। বিশ্বাস ছাড়া কোন সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। বিশ্বাস ছাড়া বছরের পর বছর একই ছাদের নিচে বসবাস করার পরও দেখা যায় দুজনার মধ্যে প্রচুর বিশ্বস্ততার অভাব রয়েছে। কিন্তু তারা সংসার করছে কেবল সম্মানহানি হবে বলে এবং বিশৃঙ্খলার ভয়ে অথবা ছেলেমেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে। এভাবে কি আর সুখে সংসার করা সম্ভব! এজন্য নিজেদের বোঝাপড়ার মাধ্যমে বিশ্বাসের ভিত্তি মজবুত করে নিন।

সংসার জীবনে সুখী হতে নিজেদের সমস্যা নিজেরা সমাধান করুন

সমস্যাহীন কোন মানুষ পৃথিবীতে নেই। সুতরাং দুজন মানুষ যখন দিনের পর দিন একই ছাদের নিচে থাকবে তখন তাদের মধ্যে নানা রকম ব্যাপার নিয়ে সমস্যা তৈরি হবে এটাই বাস্তব। দুজনে সরাসরি খোলামেলা আলোচনা করে সমাধান করুন।

ভুল স্বীকার করার মানসিকতা রাখুন

মানুষ মাত্রই ভুল হবে। সেটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। এমন কখনো মাথায় গেঁথে রাখবেন না যে, আমি কখনো ভুল করতে পারি না। ভুল বোঝাবুঝির দেয়াল বাড়তে দেবেন না। নিজের ভুল বুঝতে পারার সাথে সাথেই তা স্বীকার করে ফেলুন এবং দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফেলুন।

দাম্পত্য জীবনে আরেকটি পার্ট হলো: সারপ্রাইজ!

দাম্পত্যজীবন মধুর করার ক্ষেত্রে সারপ্রাইজ ম্যাজিকের মত কাজে দেবে।

যেমনঃ চিরকুটে কোন রোম্যান্টিক বাক্য, বা চিঠি, অথবা গোলাপ, চক্লেট অথবা সঙ্গীর পছন্দের খাবার রান্না, সঙ্গীর জন্মদিন, দুজনের দেখা হবার প্রথম দিন, যে কোন প্রথম দিন, বিবাহবার্ষিকী, ভালবাসা দিবস সহ যে কোন দিবসে সঙ্গীর পছন্দের জিনিস উপহার দিয়ে চমকে দিতে পারেন।
দিনক্ষণ মনে রাখতে প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ডায়েরী ব্যবহার করুন।

মূহর্তগুলো উপভোগ করুন

ছোট ছোট মুহূর্ত উৎযাপন করুন। যেমনঃ বর্ষার কোন দিনে সঙ্গীকে হাতে একগুচ্ছ কদমফুল দিয়ে তার হাত ধরে হাটতে পারেন, অথবা কোন জোছনা ভরা রাত কাটাতে পারেন ছাদে বসে চাঁদ দেখে, নিজের অথবা সঙ্গীর যে কোন ছোট বড় সাফল্য কে উৎযাপন করতে পারেন। এতে সম্পর্কে নতুন প্রানের সঞ্চার হবে।

এসব উপায় গুলোর যথাযথ প্রয়োগ যদি কেউ দাম্পত্যজীবনে করতে পারে তবে তার থেকে সুখী দম্পতি আর কেউ হবে না নিশ্চিত থাকুন। আশা করছি, উপায় গুলো আপনাদের দাম্পত্যজীবনে উপকারে আসবে। আপনার উপকার ই আমার কাম্য।

সংখিপ্ত আকারে বলতে গেলে: জীবনে সুখী হওয়ার উপায় গুলো

সংখিপ্ত আকারে বলতে গেলে: জীবনে সুখী হওয়ার উপায় গুলো
  • নিজেকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন। 
  • শরীর সুস্থ থাকলে মনও ভালো থাকে । তাই সর্বদা নিজের শরীরের যত্ন নিন।
  • নিজের ও পরিবারের সকলের কথা ভাবতে শিখুন।
  • হারানো জিনিসের চিন্তা বাদ দিয়ে নতুন কিছু করার চেষ্টা করুন।
  • রাতে ঘুমানোর আগে আত্বসমালোচনা করুন।
  • নিজের ভূল ধরতে শিখুন। কখনো নিজেকে ১০০% সঠিক ভাববেন না।
  • অযথা কারো সাথে তর্কে জড়াবেন না।
  • কখনও কোন ব্যাপারকে জটিল করে দেখবেন না।
  • অবসর সময়ে ঘুরতে যান।
  • সর্বদা নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।
  • দিনে অন্তত ১ টি ভালো কাজ করুন।
  • নিঃসঙ্গতা খুবই খারাপ তাই কিছুটা সময় বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে কাটান।
  • ঘুমানোর আগে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করুন।
  • কখনো অন্যের ভুল খুজতে যাবেন না। অন্যরা ভালো কিছু করলে তাকে প্রশংসা করুন।
  • সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করুন।
  • নির্জন কোন স্থানে একাকী অন্তত ১০ মিনিট সময় কাটান ও নিজেকে নিয়ে ভাবুন৷
  • ঘুম থেকে উঠেই প্রকৃতির নির্মল পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন। সারাদিনের করণীয় কাজ নিয়ে মন স্থির করুন।
  • নির্ভরযোগ্য প্রাকৃতিক উপাদানে ঘরে তৈরি খাবার খাওয়া এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়ার অভ্যাস করুন।
  • সবুজ চা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
  • প্রতিদিন অন্তত তিনজনের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করুন।
  • গালগপ্প, অতীতের স্মৃতি, বাজে চিন্তা করে আপনার মূল্যবান সময় এবং শক্তি অপচয় করবেন না। ভাল কাজে সময় ও শক্তি ব্যয় করুন।
  • সকালের নাস্তা রাজার মত, দুপুরের খাবার প্রজার মত এবং রাতের খাবার খাবেন ভিক্ষুকের মত।
  • জীবন সবসময় সমান যায় না, তবুও ভাল কিছুর অপেক্ষা করতে শিখুন।
  • অন্যকে ঘৃণা করে সময় নষ্ট করার জন্য জীবন খুব ছোট, সকলকে ক্ষমা করে দিন সব কিছুর জন্য।
  • কঠিন করে কোন বিষয় ভাববেন না। সকল বিষয়ের সহজ সমাধান চিন্তা করুন।
  • সব তর্কে জিততে হবে এমন নয়, তবে মতামত হিসাবে মেনে নিতে পারেন আবার নাও মেনে নিতে পারেন।
  • আপনার অতীতকে শান্তভাবে চিন্তা করুন, ভূলগুলো শুধরে নিন। অতীতের জন্য বর্তমানকে নষ্ট করবেন না।
  • অন্যের জীবনের সাথে নিজের জীবন তুলনা করবেন না।
  • কেউ আপনার সুখের দায়িত্ব নিয়ে বসে নেই। আপনার কাজই আপনাকে সুখ এনে দেবে।
  • প্রতি ৫ বছরমেয়াদি পরিকল্পনা করুন এবং ওই সময়ের মধ্যেই তা বাস্তবায়ন করুন।
  • গরীবকে সাহায্য করুন। দাতা হোন, গ্রহীতা নয়।
  • অন্য লোক আপনাকে কি ভাবছে তা নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই বরং আপনি আপনাকে নিয়ে কি ভাবছেন সেটা মূল্যায়ন করুন ও সঠিক কাজটি করুন।
  • কষ্ট পুষে রাখবেন না। কারণ সময়ের স্রোতে সব কষ্ট ভেসে যায়। তাই কষ্টের ব্যাপারে খোলামেলা আলাপ করুন ও ঘনিষ্ঠদের সাথে শেয়ার করুন।
  • মনে রাখবেন সময় যতই ভাল বা খারাপ হোক তা বদলাবেই।
  • অসুস্থ হলে আপনার ব্যবসা বা চাকরি অন্য কেউ দেখভাল করবে না। করবে বন্ধু কিংবা নিকটাত্মীয়রা, তাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখুন।
  • প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে আপনার জীবনের জন্য বাবা মাকে মনে মনে ধন্যবাদ দিন।
  • মনে রাখুন জীবনের কোন ভুলের জন্য আপনি ক্ষমা পেয়েছেন। সেসব ভুল আর যেন না হয় তার জন্য সতর্ক থাকুন।
  • সবসময় ন্যয়ের পক্ষে কথা বলুন। আদর্শে জীবন চলে না, কিন্তু আপনি আদর্শ অনুসরণ না করলে জীবনে শান্তি পাবেন না।

সুতরাং উপসংহারে পৌঁছানো যাক

আপনি যদি জীবনে সত্যিই সুখী হতে চান, তাহলে জীবনে সুখী হবার উপায় প্রাপ্তির হিসাব দিয়ে শুরু করুন, রাতে চমৎকার একটি ঘুম দিন, মনকে বিক্ষিপ্ত অবস্থা থেকে সরিয়ে মনোযোগী করুন, যেসব মানুষকে পছন্দ করেন, তাদের সঙ্গে বেশি সময় কাটান আর সামাজিক মাধ্যম থেকে কিছুদিন বিরতি নিন।

এসব পদ্ধতি যদি যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপকারে আসে, তাহলে আপনার জন্যও সেটি কাজে লাগতে পারে।

পরিশেষে বলব, সুখ-দুঃখ মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। দুঃখ পেলেই ভেঙ্গে পরবেন না, হতাশ হয়ে পথ চলা থামিয়ে দেবেন না। এসব তুচ্ছ কারনে জীবনে থামিয়ে রাখার কোন মানেই হয় না। হয়ত রাত পোহালেই আপনার মুদ্রার পিঠটি ঘুরে যেতে পারে।

প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে  SOMVOB.COM  লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

Posted by: Taniya Tabassum