সহবাসের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথার ২০টি কারন ও প্রতিকার

146
সহবাসের সময় জ্বালাপোড়া
সহবাসের সময় জ্বালাপোড়া

প্রথমবার মিলন বা সহবাসের সময় জ্বালাপোড়া বা নারীদের ব্যথা লাগার পিছনে স্বাভাবিক শারীরিক কারণ রয়েছে।

কিন্তু অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, বিবাহ পরবর্তী জীবনে বেশ কয়েকবার সহবাসের পরেও যৌন মিলনের সময় নারীদের ব্যথা লাগে।

নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমডি রাকুয়েল ডার্ডিক জানাচ্ছেন, সহবাসের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথার এমনটা হলে কিন্তু বেশ চিন্তার বিষয়। কিন্তু কেন একাধিকবার মিলনের পরও অন্তরঙ্গ মুহূর্তে জ্বালাপোড়া ব্যথা পান নারীরা।

কমবয়সে বিয়ে হলে অনেকে বুঝতেই পারেন না যে শারীরিক সম্পর্কের কালে বা পরে যৌনাঙ্গে ব্যথা হওয়াটা স্বাভাবিক বিষয় নয় এবং এটির প্রতিকার করা জরুরি।

নারী যৌনাঙ্গ দেহের সবচাইতে স্পর্শকাতর অঙ্গ, যৌন সম্পর্কের কালে এই অঙ্গে ব্যথা পাওয়া বা কষ্ট অনুভুত হলে অতি অবশ্যই বিষয়টির প্রতিকার করতে হবে। অন্যথায় স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যাওয়াটা বিচিত্র কিছু নয়।

সহবাসের সময় জ্বালাপোড়া কারণ

সহবাসের সময় জ্বালাপোড়া কারণ

যৌন মিলনে নারী শুধু যে তৃপ্তি পায় এমন কিন্তু না। বিভিন্ন কারণে নারী যৌন মিলনকালে ব্যাথা পেতে পারে। যৌন মিলনে নারী যে ব্যাতা পাবে এটা আবার সব ক্ষেত্রে ও না। এমন কিছু কিছু বিশেষ ঘটনা ও পরিস্থিতিতে নারী যৌন মিলনে ব্যথা পেয়ে থাকেন।

যার কারণে যৌন মিলন তাঁদের কাছে কষ্ট দায়ক হয়ে থাকে। নারীর যৌন মিলন ব্যথাদায়ক হওয়ার কিছু কারণ ইল্রেখ করা হলো।

উত্তেজিত হবার আগেই সহবা‌স

সহবাসের সময়ে যদি যৌনাঙ্গ যথেষ্ট পিচ্ছিল না হয়, তাহলে ভেতরে আঘাত পাওয়া খুবই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে ছিলে যাওয়া, জ্বালাপোড়া ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা হয়ে থাকে।

প্রথমত, নারীদের শারীরিকভাবে উত্তেজিত হতে পুরুষের তুলনার অধিক সময়ের প্রয়োজন। ফলে ফোর প্লে যদি দীর্ঘায়িত না হয়, তাহলে অনেক নারীই যথেষ্ট পরিমাণ উত্তেজিত বোধ করেন না। অন্যদিকে শারীরিক কোন সমস্যার কারণেও যৌনাঙ্গ যথেষ্ট পিচ্ছিল হতে না পারে।

প্রতিকার: সহবাসের সময় যথেষ্ট পরিমাণে লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করুন। ওয়াটার বেজড লুব্রিকেন্ট হলে ভালো হয়।

একই সাথে স’হবাসের পর পরই নিজেকে পরিষ্কার করে ভেতরে লুব্রিকেন্ট বা ভালো ময়েশ্চারাইজার মেখে নিন। একই দিনে পুনরায় যৌ’ন সম্পর্ক হতে বিরত থাকুন।

সঙ্গীর লিঙ্গের আকার

সঙ্গীর লিঙ্গের আকার যদি নারীর যৌ’নাঙ্গের তুলনায় অধিক বড় হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে ব্যথা পাওয়া খুবই স্বাভাবিক এবং এই ব্যথা বেশ তীব্র।

অনেকটা পিরি’য়ডের ব্যথার মতন অনুভুত হতে পারে। এছাড়াও ভেতরে ছিলে যাওয়া, কেটে যাওয়া, জ্বলুনি হওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার।

প্রতিকার: প্রথমত সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলুন, ব্যাপারটি নিয়ে দুজনের আলোচনা খুবই জরুরি। ফোর প্লে দীর্ঘায়িত করুন। নারীদেহের উত্তেজনা যত বাড়বে, ততই যৌ’নাঙ্গ ও যৌ’নাঙ্গের মুখ প্রসারিত হবে। ফলে সহবাস যথেষ্ট সহজ হয়ে আসবে।

অন্যদিকে পজিশন বদল করলেও এই ক্ষেত্রে উপকার পাওয়া যায়। এমন পজিশন বেছে নিন, যেখানে যৌ’ন ক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ নারীর হাতে থাকবে। ফলে আঘাত পাবার সম্ভাবনা থাকবে না।

আর ব্যথা পেয়ে গেলে গরম সেঁক নিন বা গরম পানি দিয়ে শাওয়ার সেরে নিন। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করতে পারেন।

যৌনতায় উন্মাদনা

সহবাসে জ্বালাপোড়া বা ব্যথা

খুব দ্রুত বা কামনায় অধীর হয়ে স’হবাস করলে অনেক সময়েই ভ্যা’জাইনায় আঘাত লাগতে পারে। অনেক বেশি সময় যৌ’নতার ক্ষেত্রেও এমনটা হতে পারে।

এসব ক্ষেত্রে ভঙ্গা’ঙ্কুর আঘাত পেয়ে থাকে বেশি। প’র্ন দেখে স’হবাস করতে গেলেও এমনটা হয়ে থাকে।

প্রতিকার: প্রচুর পরিমাণে লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করুন, এতে আঘাত পাবার সম্ভাবনা থাকবে না। আঘাত পেয়ে গেলে একটি পাতলা কাপড়ে বরফ নিয়ে ভগা’ঙ্কুরে চেপে ধরে রাখুন কিছুক্ষণ পর পর। ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়েও নিতে পারেন। যৌ’নাঙ্গের ভেতরে বরফ প্রবেশ করাবেন না।

কনডমের ঘর্ষণ

কন’ডমের ঘর্ষণে যৌ’নাঙ্গের ভেতরে আঘাত পাওয়া, ছিলে যাওয়া, কেটে যাওয়া খুবই সাধারণ একটি ব্যাপার। নারীরা এসব ক্ষেত্রে যৌ’নতা উপভোগও করতে পারেন না।

প্রতিকার: কনডমের ব্যান্ড পরিবর্তন করুন বা অন্য কোন জন্ম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বেছে নিন। প্রচুর লুব্রিকেন্টে ব্যবহারেও ফল পাবেন।

ইনফেকশন

সহবাসের সময় নারীর করণীয় কি
সহবাস

যৌনাঙ্গে কোন ধরণের ইনফেকশন থাকলে সহবাসের সময়ে ব্যথা পাওয়া খুবই স্বাভাবিক। সাধারণ ইষ্ট ইনফেকশন বা ব্যাকটেরিয়া ঘটিত কোন ইনফেকশনের কারণে এমনটা হয়ে থাকে।

প্রতিকার: চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং সঠিক চিকিৎসায় নিযে সুস্থ রাখুন। যৌ’নাঙ্গ সর্বদা পরিষ্কার রাখুন। নিজের যত্ন নিন।

সহবাসে জ্বালাপোড়ার আরো কিছু কারণ

সহবাসে জ্বালাপোড়ার আরো কিছু কারণ
  • ১) কোন নারী সর্বপ্রথম যে সহবাস বা যৌন মিলন করে থাকে সেটা স্বভাবিকভাবেই একটু ব্যাথা দায়ক হবেই।

    এই ব্যাথাটা সাময়িক পরবর্তীতে যৌন মিলনকালে এমন আর না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ প্রথম যৌন মিলনে নারীর হাইমেন ছিঁড়ে যাওয়ার জন্য এমনটি হয়।
  • ২) নারীর যৌন মিলনকালে যনীতে কামরস বের হয়, যেটা পুরুষাঙ্গের চলন সহজ করে। কোন কারণে যদি নারীর যনীতে পিচ্ছিলকারক পানি না আসে, এমন অবস্থায় যৌন মিলনে নারী ব্যাথা পায়।
  • ৩) মাসিক বা পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যৌন মিলনে নারী ব্যাথ পেতে পারে।
  • ৪) নারীর যোনীর আকার থেকে যদি পুরুষাঙ্গ বড় হয়, তবে যৌন মিলনে নারী ব্যাথা অনুভব করে।
  • ৫) মাসিক বা পিরিয়ড চলাকালে নারী এমনিই অনেকটা অসুস্থ্য থাকে। তলপেটে অনেকের প্রচুর ব্যাথা হয়। এই সময় যদি যৌন মিলন হয় তবে অনেক নারী আছে যারা ব্যাথা পায়।

সহবাসে জ্বালাপোড়ার গুরুত্বপুর্ণ কারন

সহবাসে জ্বালাপোড়ার গুরুত্বপুর্ণ কারন

অনেক সময় সেক্স পজিশনের জন্য সহবাসের সময় নারীদের ব্যথা বা জ্বালাপোড়া লাগে, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষরা আনাড়িদের মতো নারীর নরম, স্পর্শকাতর অংশে আঘাত করে বসেন, তখন যৌনঙ্গ ব্যথা লাগাটাই স্বাভাবিক!

তবে কোনও একটি নির্দিষ্ট সেক্স পজিশনে ব্যথা লাগলে, অন্য পজিশন ট্রাই করুন। নারীদের গোপনাঙ্গ স্পর্শ করার সময় পুরুষদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরমার্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

‘সেক্সুয়াল পেন’-এর অন্যতম প্রধান কারণ লুব্রিকেশনের অভাব। এমনিতে যৌন মিলনের ইচ্ছে জাগলে নারীদের গোপনাঙ্গ লুব্রিকেট বা পিচ্ছিল হয়ে ওঠে।

কিন্তু ধরা যাক কোনও নারী সহবাসের সময় অন্য কিছু ভাবছেন, সেক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ অঙ্গে পিচ্ছিলতার অভাব দেখা দিতেই পারে।

ডাক্তাররা বলছেন, ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে সকালে উঠে কত বাসন মাজতে হবে বা কাজের মাসি কাল আসবে কি না, এই সব হাবিজাবি কথা ভাববেন না একদম! আর যদি এমনটাই করেন, তাহলে সহবাসের সময় ওয়াটার বেসড লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করুন।

তবে ‘ভ্যাজাইনাল ড্রাইনেস’ বা যোনিতে শুষ্কভাব কিন্তু একটি জটিল অসুখ। নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এমডি লরি স্ট্রেচার বলছেন, খুব কম সংখ্যক হলেও কিছু নারী এমন অস্বাভাবিকত্ব নিয়ে জন্মান।

ইস্ট ইনফেকশন

ইস্ট ইনফেকশন থেকেও সহবাসের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনুভব করতে পারেন নারীরা। সুগন্ধীযুক্ত সাবান, অ্যালকোহল যুক্ত ডিও থেকে এই জাতীয় সংক্রমণ হতে পারে।

প্রথমে যোনির বাইরের অংশে চুলকানি, পরে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া করে। এমনটা টের পেলে অবিলম্বে ডাক্তারের কাছে যেতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। নিজে থেকে কখনই কোনও ওষুধ খাবেন না যেন।

অনেক নারী সহবাসের সময় যোনিতে শুধু যে জ্বালাপোড়া ও ব্যথা অনুভব করেন তাই নয়, অনেকের নাকি জ্বর এসে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়। সহাবাসের সময় তাঁরা তলপেটে ব্যথা অনুভব করেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের নারীরা সেক্সুয়ালি খুব একটা অ্যাক্টিভ নন। তাঁদের মনে যৌনাকাঙ্খা কম। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

অনেক সময় নারীদের যোনিতে শারীরিক কিছু সমস্যা দেখা যায়। Vaginismus-এর মতো রোগে যে পেশীগুলি সঙ্গমের সময় নমনীয় হওয়ার দরকার, সেগুলি স্বাভাবিক আচরণ করে না।

ছোটবেলায় যাঁরা কোনও বড় শারীরিক বা মানসিক আঘাত পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে এই রোগের আধিক্য দেখা যায়। এমনটা হলে অবশ্যই এক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখাতে হবে।

জ্বালাপোড়া ও ব্যথা

পিরিয়ডসের সময় যাঁদের অস্বাভাবিক ব্যথা হয়, সেই সব নারী Endometriosis নামে এক ধরনের অস্বাভাবিকত্বে ভুগতে পারেন। সঙ্গমের সময় তাঁদের যোনির পেশিতে ‘ক্রনিক পেন’ হয়।

একটানা ব্যথা হতে থাকলে Pelvic inflammatory-ও হতে পারে। এক্ষেত্রে নারীদের গোপনাঙ্গে অস্বাভাবিক জ্বালা করে।

ওভারিতে সিস্ট হলেও যৌন মিলনে সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া লাগতে পারে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সিস্ট থাকলেও নারীরা অনেক সময় বুঝতে পারেন না। আগেভাগেই সতর্ক হতে আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করাতে হবে।

অন্তরঙ্গ মুহূর্তে UTI-তে আঘাত লাগলেও নারীরা অত্যাধিক ব্যথা অনুভব করতে পারেন। যাঁদের ব্লাডারে কোনও ইনফেকশন রয়েছে, তাঁরা যেন মিলনের সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকেন।

তবে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা একটা কথা বারবারই বলছেন, যে খুব সহজ কয়েকটি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সতর্কতা মেনে চললে অনেক রোগ-ব্যাধিই দূরে সরিয়ে রাখা যায়। মিলনের পর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন শৌচাগারে মূত্রত্যাগ করতে হবে। সাফসুতরো রাখতে হবে যোনিকে।

পরিষ্কার অন্তর্বাস পরতে হবে। আর কোনও সমস্যা হলে সঙ্গীর কাছে সেটা লুকিয়ে রাখা চলবে না। মুখ ফুটে সমস্যার কথা বলতে হবে। প্রয়োজনে নিতে হবে মেডিকেল পরমার্শ।

Read More about this topic in English: 5 Common Causes of Painful Sex

যে সকল কারনে জ্বালাপোড়া হতে পারে

 যে সকল কারনে জ্বালাপোড়া হতে পারে

নারী প্রয়োজনীয় মাত্রায় যৌন উত্তেজিত না হওয়ায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সহবাসের সময় জ্বালাপোড়ায় ব্যথা সৃষ্টি করে। নারীর মনে যৌন চিন্তা/উত্তেজনা আসার ফলে তার গোপনাঙ্গে এক

প্রকার পিচ্ছিল আঠালো তরল নিঃস্বরিত হয়ে যোনীকে ভিজিয়ে তোলে, যা সর্বপ্রকার ঘর্ষণ মসৃন করে এবং ব্যথাহীন ভাবে পুরুষাঙ্গের যাতায়ত নিশ্চিত করে।

যদি আপনি সম্পুর্ন উত্তেজিত হওয়া সত্বেও যৌনমিলনে ব্যথা অনুভব করছেন তাহলে একজন ডাক্তারের সরাণাপন্ন হওয়াটাই উত্তম।

আপনি নিন্মলিখিত কোন সমস্যায় ভুগছেন কিনা?

 আপনি নিন্মলিখিত কোন সমস্যায় ভুগছেন  কিনা?

ডাক্তার আপনাকে নিচের প্রশ্নগুলো সহ আরো কিছু আনুষাঙ্গিক বিষয় জিজ্ঞেস করবেন –

  • ব্যথা কি যোনীমুখ ও তার আশপাশে নাকি অনেক ভিতরে/গভীরে?
  • ব্যথা কি ডান কিংবা বাম পাশে নাকি উভয় পাশে?
  • আপনার কি মেরুদন্ড কিংবা পিঠে কোন ব্যথা আছে?
  • ব্যথাটি কি রকম অনুভত হয়: গভীর বেদনা / ক্ষতের মত যন্ত্রনা / জ্বালাপোড়া / তীক্ষ এবং ছুরি দিয়ে খোঁচানোর মত?
  • আপনি কি শুধু শাররীক মিলনকালে ব্যথা অনুভব করেন নাকি মিলনের আগে পরেও ব্যথা থাকে?
  • ব্যথা কি একেক সময় একেক প্রকার এবং যৌন আসন পরিবর্তনের ফলে পরিবর্তিত হয়?

যদি আপনার যৌন উত্তেজনা/উত্তাপের ঘাটতি অন্য কোন শাররীক কিংবা স্বাস্থ্যগত কারনে না হয় তাহলে নিন্মলিখিত টিপস্ গুলো ব্যবহার করে শাররীক মিলনকালে যন্ত্রনা থেকে মুক্ত থাকতে পারেন –

প্রশান্ত থাকুন

যৌনকর্ম শুরু করার পুর্বে, গভীর ভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিন এবং মানসিক প্রশান্তি অর্জনে স্থির থাকুন। শাররীক মিলনের প্রাক্কালে গরমকালে ঠান্ডা এবং শীতকালে ঈষত্‍ উষ্ণ পানিতে গোসল করে নিন। হালকা রিলাক্সেশান মিউজিক চালিয়ে রাখতে পারেন।

সম্পর্কের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করুন

আপনার সঙ্গীর কোন বিশেষ বিষয়ে আপনার যদি কোন অপছন্দ থাকে তাহলে হয়তো শাররীক মিলন তত একটা মজাদার বিষয় হয়না। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে আন্তরিক সম্পর্ক না থাকলে যৌনমিলনে মানসিক প্রশান্তি আসবে না।

কোন খাবার এর প্রতি অরুচি থাকলে যেমন তা স্বাদহীন মনে হয় তেমনি সম্পর্কের বৈরিতা শাররীক মিলনকে যন্ত্রনাদায়ক করে তোলে। তাই ব্যথাহীন মিলনের জন্য সম্পর্কের উন্নতী জরুরী।

পিলভিক ফ্লোর পেশী শক্তিশালী করুন

কিগ্যাল এক্সেরসাইজের মাধ্যমে (কিগ্যাল এক্সেরসাইজের পদ্ধতি পুর্বে বর্ননা করা হয়েছে) আপনার পিলভিক ফ্লোর পেশি শক্তিশালী করুন।

পিলভিক এক্সেরসাইজের ফলে যৌনাঙ্গে রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়া জোরলো হয়, ফলে যৌনউত্তেজনায় যৌনাঙ্গ পুর্নমাত্রায় মিলনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে যা মিলনকালে ব্যথামুক্তিতে সহায়তা করে।

ব্যথার বিষয়টি আপনার স্বামীকে বলুন

আমাদের দেশের অনেক নারী লজ্জার কারনে অনেক সময় ব্যথা সহ্য করে যান। কিন্তু শাররীক মিলনে ব্যথা অনুভুত হলে তা অবশ্যই আপনার স্বামীকে বলতে হবে। কারন দুই জনের মানসিক এবং শাররীক প্রশান্তির নিশ্চয়তাই সুখি দাম্পত্য জীবনের প্রধান হাতিয়ার।

ভিন্ন আসন চেষ্টা করুন

শরীরের নির্দিষ্ট কোন অংশে চাপ পড়ার কারনেও যৌনমিলনে ব্যথার কারন হতে পারে। আসন ভঙ্গীর কারনে হয়তো কোন হাড়-জোড়ে ব্যথার সৃষ্টি করছে অথবা কোন নির্দিষ্ট কৌনিক অবস্থানে লিঙ্গ প্রতিস্থাপনের ফলে মিলনে ব্যথা অনুভুত হচ্ছে।

আসন পরিবর্তন করে দেখুন – হয়তো ভাল ফল পাওয়া যেতে পারে।

আশা করি পোষ্টটি পড়ে আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন। যদি আপনার আরো কোন প্রশ্ন থাকে আমাদের ফেসবুকে জানাতে পারেন। আমরা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরামশর্ে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রতিবেদন তৈরী করে থাকি। ধন্যবাদ।

Source: healthline, Womenhealth, WHO, wikipedia, Google

প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল বিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, প্রযুক্তি, খাবার, বিস্ময়কর পৃথিবী, সচেতনমূলক লেখা, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে  SOMVOB.COM লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।