জ্বর জ্বর মনে হচ্ছে? সর্দি জ্বর দূর করার প্রাকৃতিক ১০টি উপায়

60

সর্দি দূর করার প্রাকৃতিক উপায় কি? গ্রীষ্ম, বর্ষা কিংবা শীত যে কোনো মৌসুমেই সর্দি জ্বর কাশির সমস্যা দেখা দেয়। এ সময় মাথাব্যথা, বুকে ব্যথা, বুকে কফ জমে যাওয়া, কাশি, শ্বাসকষ্ট নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। যাদের ঠাণ্ডা অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে এ সময় তারা সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েন। 

সর্দিতে বন্ধ হয়ে গিয়েছে নাক, গলায় প্রচন্ড ঘরঘর শব্দ, সঙ্গে মাঝে মাঝেই আসছে ধুম জ্বর। কোনওকাজেই ঠিকমত মন বসছে না। ফ্লু হলে সারাদিনের রুটিনের যেন বারোটা বেজে যায়।

অফিস থেকে বাড়ি, এমনকি রাস্তাঘাটেও পড়তে হয় নানারকম সমস্যায়। সর্দি দূর করার প্রাকৃতিক উপায় বা জ্বর দুর করার ঘরোয়া উপায় কি?

সর্দি বা জ্বর হলে বাড়ি থেকে যেন বেরোতেই ইচ্ছে করে না । আবার কথায় কথায় ডাক্তারের কাছে ছুটতেও আপনি তেমন পছন্দ করেন না। তা হলে বাড়িতে বসেই কীভাবে সর্দি জ্বর সারানো যায়, তার উপায় জেনে নেওয়া যাক।

সর্দি দূর করার প্রাকৃতিক উপায়

সর্দি দূর করার প্রাকৃতিক উপায়

মধু তুলসী পাতা খান

সর্দি কাশি ও জ্বরের মত সমস্যায় মধুর মত উপকারী জিনিস আর হয় না। সর্দি দূর করার প্রাকৃতিক উপায় হলো মধু ও তুলসীপাতা এ কথা কিন্তু আজকের নয়, বরং বহু আগে থেকেই এই কথা প্রচলিত। কথাটা একেবা রেই ঠিক।

মধু আর তুলসীপাতা গলার কফ পরিস্কার করে দেয়। সর্দিকাশি হলে প্রতি সকালে মধু আর তুলসীপাতা একসঙ্গে খেয়ে নিন। দেখবেন, কিছুক্ষণেই আপনার গলাটা পরিস্কার হয়ে গিয়েছে, আপনি আরাম পাচ্ছেন।

সর্দি বা জ্বর দূর করার প্রাকৃতিক উপায়: আদা চা

 সর্দি বা জ্বর দূর করার প্রাকৃতিক উপায়: আদা চা
আদা ও চা

ঠান্ডা লাগায় সর্দিতে নাক বন্ধ। গলার অবস্থাও মোটেই ভালো নয়। গলাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কী করবেন তাই ভাবছেন। আদা চা কিন্তু আপনাকে সহজে রেহাই দিতে পারে এই অস্বস্তি থেকে।

শুধু গলার কফ সরাতেই নয়, বুকের কফ পরিস্কর করতেও আদা চায়ের তুলনা হয় না। তবে আদা চা বানাবেন কী করে? খুব সহজ পদ্ধতি। ফুটন্ত জলে চিনি দিয়ে ফোটান। চিনি মিশে গেলে চা দিয়ে ফোটাতে হবে।

আরো পড়ুন: পুরুষের শুক্রাণু বৃদ্ধির ৪০টি উপায়; এবং শুক্রাণু বৃদ্ধির ২০টি উপায়

এরপর এতে দিন আদার কুচি। অল্পক্ষণ পর ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিন চা। চাইলে এতে মেশাতে পারেন পাতিলেবুর অল্প রস। এটা চায়ের ভিটামিন সি যোগ করে। এই আদা চা খেলে সর্দির সময় মাথা ধরা কমে যায়। একইসঙ্গে দুর্বলতা কেটে গিয়ে শরীর চাঙ্গা হয়ে ওঠে।

সর্দি বা জ্বর দূর করতে ভিটামিন খান

  সর্দি বা জ্বর দূর করতে ভিটামিন খান
ভিটামিন জাতীয় খাবার

শরীরে ভিটামিনস-এর অভাব হলে শরীর দুর্বল সয়ে পড়ে। তখন বাইরের রোগজীবাণু সহজেই শরীরকে আক্রমণ করতে পারে। ফ্লুও একই কারণে হয়ে থাকে। তাই ফ্লু’কে কমাতে হলে বা প্রতিরোধ করতে হলে ভিটামিনস খাওয়া জরুরি।

অনেকেই শরীরে ভিটামিনস পেতে বেছে নেন ভিটামিনস সাপ্লিমেন্টস। কিন্তু সবসময় ভিটামিন সাপ্লিমেন্টস না বাছলেও চলে। কিছু কিছু খাবার থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ বি সি ইত্যাদি।

আরো পড়ুন: এমন ২০টি খাবার, যা আপনার যৌনশক্তিকে দ্বিগুণ করবে!

তাই খাবারের একটি ঠিকঠাক তালিকা তৈরি করার চেষ্টা করুন যাতে শরীলে সবধরনের ভিটামিন ঠিকমত প্রবেশ করতে পারে। ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধে অংশ নেয়। ফলে সর্দিকাশির মত ছোটখাটো রোগগুলো সহজে কাবু করতে পারে না।

দুধ ও হলুদ

দুধ ও হলুদ
দুধ ও হলুদ

দুধ যে কোনো বয়সের জন্যই সমান উপকারী। এক গ্লাস গরম দুধের মধ্যে ১ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে পান করুন। হলুদে অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে, যা সহজেই সংক্রমণ রোধ করে। ফলে সর্দি-কাশির কষ্ট থেকেও রেহাই পাওয়া সম্ভব হয়।

সর্দি বা জ্বর দূর করতে তরল জাতীয় খাবার খান

 সর্দি বা জ্বর দূর করতে তরল জাতীয় খাবার খান
প্রতিকী ছবি

কফ একবার বুকে জমে গেলে তা বের করা কঠিন‌। এমনকি ঠিকমত চিকিৎসা না করাতে পারলে হতে পারে ইনফেকশনও। তাই সর্দিকাশির সময় কোনওভাবেই যেন বুকে কফ বসে না যায়‌। এর জন্য খেতে হবে প্রচুর পরিমাণে তরল।

শুধু জলই খেতে হবে তার কোনও মানে নেই। বরং চলতে পারে ফ্রুট জুস বা স্যুপ জাতীয় খাবারও। এই তরল কফকে সহজে বুকে বসতে দেয় না। বরং বুকে থাকা কফকে তরল করে দিয়ে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে।

সর্দি, কাশি জ্বর দূর করার প্রাকৃতিক উপায়: রসুন

সর্দি, কাশি জ্বর দূর করার প্রাকৃতিক উপায়: রসুন
রসুন

এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রয়েছে, যা সর্দি-কাশির মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া এতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়া, অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিফাংগাল উপাদান রয়েছে, যা সংক্রমণ রুখতে পারে।

আরো পড়ুন: এমন ২০টি খাবার, যা আপনার যৌনশক্তিকে দ্বিগুণ করবে!

চাইলে চার-পাঁচ কোয়া রসুন ঘিয়ে নেড়ে নিয়ে গরম থাকতে থাকতে খেয়ে নিন। ঘিয়ে ভাজা রসুন সুপের সঙ্গে মিশিয়ে খেলেও আরাম পাবেন।

সর্দি জ্বর দূর করার প্রাকৃতিক উপায়: বিশ্রাম নিন

ফ্লু অনেকসময় ছোঁয়াচে হয়ে থাকে। ফলে আপনার ফ্লু হলে হতে পারে আপনার আত্মীয়স্বজনের। হয়তো আপনার ফ্লুও হয়েছে এমনভাবেই। তাই এইসময় জ্বর গায়ে বাড়ি থেকে কোথাও না বেরিয়ে বাড়িতেই বিশ্রাম নেওয়া ভালো।

আরো পড়ুন: সব উপদেশ শুধুমাত্র স্ত্রীর প্রতি কেনো?

এতে সংক্রমণের আশঙ্কা কমে। এই সময় শরীর যথেষ্ট দুর্বল থাকে। তাই ঠিকঠাক বিশ্রাম নিতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুমের। বাড়িতে যখন আছেন, চেষ্টা করুন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমিয়ে নেওয়ার। ঘুম ভাঙলে দেখবেন, শরীর অনেক চাঙ্গা লাগছে।

ডা. আলমগীর মতি
হারবাল গবেষক ও চিকিৎসক
মডার্ন হারবাল গ্রুপ

প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল বিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, প্রযুক্তি, খাবার, বিস্ময়কর পৃথিবী, সচেতনমূলক লেখা, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে  SOMVOB.COM লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।