শিশুকে চতুর ও বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধির বিশেষ ১০টি কৌশল

0
332
শিশুকে চতুর ও বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধির বিশেষ ১০টি কৌশল

একটি শিশু বড় হয়ে কতটুকু বুদ্ধিমান হবে তার অনেকটুকুই কিন্তু নির্ভর করে শৈশবে তার ইন্টিলিজেন্স গ্রোথ বা বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ কতটুকু হয়েছে, সে কি ধরণের পরিবেশে বড় হয়েছে, আশেপাশের মানুষের কাছ থেকে কেমন আচরণ পেয়েছে, তার খাদ্যাভ্যাসসহ নানা বিষয়ের উপর।


তাই আপনি যদি হয়ে থাকেন একজন সচেতন অভিভাবক যিনি কিনা নিজের শিশুর ইন্টিলিজেন্স গ্রোথ এর সঠিক বিকাশ চান, এ লেখাটি আপনাকে সহযোগিতা করতেই লেখা। 

আরো পড়ুন: এমন ২০টি খাবার, যা আপনার যৌনশক্তিকে দ্বিগুণ করবে!


শিশুর বুদ্ধিমত্তা বা ইন্টিলিজেন্স এবং এর বিকাশ বেশ জটিল বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সমৃদ্ধ। কিন্তু আমরা চেষ্টা করেছি জটিলতায় না গিয়ে যথাসম্ভব সহজভাবে বিষয়টি পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করতে।

১। ছড়া, কবিতা বা ছোটদের কবিতা শোনান

শিশুদের জন্য বাংলা ও ইংরেজিতে প্রচুর ছড়া, কবিতা, গান , রূপকথা লেখা হয়েছে। তবে আমাদের মাতৃভাষা যেহেতু বাংলা, সেক্ষেত্রে বাংলা ছড়া, কবিতাগুলো ছন্দে ছন্দে শিশুর সামনে আবৃত্তি করতে পারেন। এছাড়া রাতে ঘুম পাড়ানোর সময় মজার রূপকথার গল্প পড়ে শোনাতে পারেন। এটা করলে শিশুর স্মৃতিশক্তি বাড়বে এবং কথা বলার জন্য তার শব্দ ভান্ডারে নতুন নতুন শব্দ যুক্ত হবে। শিশুরা খুব দ্রুত যেকোন শব্দ মনে রাখতে পারে ও পরে তা বলতে পারে। তাই আপনি যত বেশি তাকে ছড়া, গল্প বা কবিতা পড়ে শোনাবেন, তত দ্রুত তার মাঝে কথা বলার প্রবণতা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

২। বিভিন্ন প্রাণী বা বস্তুর আওয়াজ শোনান

এটা খুব গুরত্বপূর্ণ। শিশুকে নিয়ে যখন বাইরে ঘুরতে যাবেন, তখন তাকে বিভিন্ন প্রাণী বা বস্তুর আওয়াজ যে আলাদা আলাদা হয়, তা বুঝতে সহযোগিতা করবেন। যেমন- কাক ডাকে “কা কা” করে এটা তাকে শোনাবেন। পরবর্তীতে সে যখন আবার “কা কা” ডাক শুনবে এবং আপনি তাকে জিজ্ঞেস করবেন সেটা কিসের ডাক, তখন দেখবেন সে আস্তে আস্তে সঠিক উত্তর দিতে শিখে যাবে যে, ডাকটি ছিল কাকের ডাক। এভাবে সে বুঝতে শিখবে যে তার আশেপাশের বিভিন্ন জিনিসের সাথে বিভিন্ন ধরণের শব্দ কিভাবে একটা আরেকটার সাথে জড়িত।

আরো পড়ুন: বাচ্ছাদের মনোযোগ বৃদ্ধির বৈজ্ঞানিক ১৫টি কৌশল!

৩। বর্ণমালার সাথে পরিচয় ঘটান

ধীরে ধীরে যখন আপনার শিশু কথা বলতে শিখবে অথবা বিভিন্ন জিনিস চিনতে ও বুঝতে শিখবে, তখন আপনি তাকে বর্ণমালার অক্ষরগুলো চিনতে শেখাবেন। তবে মনে রাখবেন, তাকে শেখার ক্ষেত্রে জোর করবেন না মোটেও। এর ফলে শিশুর শেখার আগ্রহ কমে যাবে, যা তার ভবিষ্যতে পড়াশোনা বা যেকোন বিষয় শেখার আগ্রহের ক্ষেত্রে অনীহা তৈরি করবে। তার বর্ণমালার অক্ষর চেনানোর পুরো প্রক্রিয়াটি যেন আনন্দময় হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। বাংলা বর্ণমালার ক্ষেত্রে “আদর্শ লিপি” বইটি একটি সেরা বই বলে আমি মনে করি। আর ইংরেজির ক্ষেত্রে “Active English” বইটি। এ দুটি বইয়ের বিশেষত্ব হচ্ছে, বই দুটি শিশুদের বর্ণমালা শেখার ব্যপারটি যেন সহজ হয় তা চিন্তা করে বিভিন্ন ছন্দবদ্ধ বাক্য ও ছবিসহ লিখিত, যা শিশুদের শেখার আগ্রহ ও বর্ণমালার অক্ষর মনে রাখতে খুবই সহায়ক।

৪। সংখ্যা বুঝতে শেখাবেন কিভাবে

অক্ষরের সাথে সংখ্যার ধারণাও শিশুদের মাঝে দিতে হবে। যেমন- একটি বল, দুটি পাখি-এরকম। সংখ্যা গণনার জন্য শিশুকে তার হাতের আঙ্গুলের মাধ্যমে গুণতে শেখাতে পারেন। এছাড়া সংখ্যা মনে রাখার জন্য নামতা পদ্ধতি বেশ ভালো পদ্ধতি।

৫। বিভিন্ন জিনিসের আকৃতি ও রঙ এর বিষয়ে ধারণা দিন

আমরা জানি, আমাদের চারপাশের প্রতিটি বস্তুর ভিন্ন ভিন্ন আকার ও রঙ রয়েছে। আবার অনেক বস্তুর আকার একই, রঙ ভিন্ন অথবা আকার ভিন্ন কিন্তু রঙ একই। শিশুকে এ বিষয়গুলো বুঝতে শিখতে সহযোগিতা করুন। ধরুন, আপনার শিশুর সাথে আপনি একটি বল নিয়ে খেলছেন। তাকে বলতে পারেন, “দেখ বাবু, এটা একটা বল ও এটার রঙ লাল। আর বলটি গোল।“ এখানে আপনি খেলাচ্ছলে কিন্তু অনেক গুলো তথ্য দিচ্ছেন। খেলনাটির নাম বল, সেটার রঙ লাল ও আকারে সেটা গোল। আবার অন্য রঙের বল নিয়ে এসে দুটি বলের রঙের পার্থক্য তাকে বুঝাতে পারেন। এতে সে বুঝবে বল সব সময়ই আকারে গোল হবে, তবে রঙ হতে পারে আলাদা ও বিভিন্ন রঙ দেখতে বিভিন্ন রকম।

আরো পড়ুন: বাচ্ছাদের মনোযোগ বৃদ্ধির বৈজ্ঞানিক ১৫টি কৌশল!

৬। তাকে কিছু জিনিস নিজ থেকেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে দিন

শিশুর সব কাজেই আপনি সিদ্ধান্ত দেবেন না; যদিও বাবা বা মা হিসেবে সেক্ষেত্রে আপনার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তবুও প্রতিদিনের কিছু ছোটোখাটো কাজে তাকে নিজ থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে দিন। যেমন- সে কোন পোশাকটি পরতে চায় বা কি খেতে চায়, এরকম সিদ্ধান্ত নিতে শিশুকে উৎসাহিত করুন। 


৭। তাকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করুন

বিভিন্ন বিষয়ে আপনার শিশুকে প্রশ্ন করুন ও তাকে নিজ থেকেই উত্তর দিতে সাহায্য করুন। যেমন- কেন সিঁড়ি দিতে দ্রুত নামা ঠিক নয়। তাকে এটা বুঝতে বলতে সহযোগিতা করবেন যেন, এতে সে পড়ে গিয়ে ব্যথা পেতে পারে। 
এরকম নানা বিষয় নিয়ে তাকে সহজ ও ছোট ছোট প্রশ্ন করতে পারেন।


৮। শিশুকে নিয়ে ঘুরতে বের হোন


মাঝে মাঝেই শিশু সন্তানকে নিয়ে ঘুরে আসুন জাদুঘর, লাইব্রেরি বা স্থানীয় বাজার থেকে। তাকে বিভিন্ন বিষয় জানান, প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করুন এবং সব কিছু তাকে দেখতে দিন। তার উত্তর ও প্রতিক্রিয়া মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করুন। এর দ্বারা শিশুর মাঝে বিভিন্ন জিনিস শেখার আগ্রহ বেড়ে যাবে।

আরো পড়ুন: ছেলেদের যে ৭টি কারণে মেয়েরা কাঁদে!

৯। শিশুকে ঘরের বিভিন্ন কাজে যুক্ত করুন



শিশু কিছুটা বড় হলে তাকে বাসার বিভিন্ন সহজ ও ছোট ছোট কাজ করতে উৎসাহিত করুন। তবে লক্ষ্য রাখবেন সেটা যেন তার সামর্থ্যের মাঝে হয়। কাজটি সে যেভাবেই করুক তাকে উৎসাহিত করুন। এর ফলে তার মাঝে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে।


১০। শিশুকে খেলতে দিন

শুকে বিভিন্ন ধরণের খেলাধুলাতে উৎসাহ দিন। এটা হতে পারে ছোট ছোট কুইজ, সুডোকু, লুকোচুরি, কানামাছি, সাত চাড়া, লুডো বা একটু বড় হলে দাবা, ক্রিকেট, ফুটবল বা তার যেসব খেলায় আগ্রহ রয়েছে। এতে তার অন্য শিশুদের সাথে যোগাযোগের দক্ষতা বাড়বে এবং তার বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সাহায্য করবে।

এ বিষয়গুলো খেয়াল রাখলে শিশুর ইন্টিলিজেন্স গ্রোথ বা বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ যেমন হবে, একইভাবে সে গড়ে উঠবে একজন প্রাণবন্ত মানুষ হিসেবে। তবে এটা অবশ্যই মনে রাখবেন, যেকোন পরিস্থিতিতে শিশুর উপর কোন বিষয় চাপিয়ে দেবেন না। এতে তার বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ তো বাধাগ্রস্ত হবেই, তার সব সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্ত হবে। অভিভাবক হিসেবে তা নিশ্চয়ই আপনি চাইবেন না।


[ প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে প্রতিদিনের স্বাস্থ্য টিপস। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। ]


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here