শিশুর খাবার তালিকা ও বাচ্ছাদের জন্য ৩০টি স্মাট টিপস!

0
491
সম্ভব ডটকম

প্রত্যেক দম্পতির মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু তাদের সন্তান। তাদের অফুরান আশা-আকাঙ্ক্ষা-স্বপ্ন তাকে ঘিরে। আজকাল মা-বাবারা বিশেষত মায়েরা প্রায়ই জানাচ্ছেন, তার সন্তান ঠিকমতো খাচ্ছে না বা খেতে চাচ্ছে না জন্মের শুরু থেকে ছয় মাস পর্যন্ত বাচ্চা কেবলমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাবে। মায়ের দুধই যাবতীয় ভিটামিনস (কেবল ভিটামিন ডি আলাদা দিতে হবে), মিনারেলস ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাবে। মায়ের দুধের বিকল্প ছ’মাস বয়স পর্যন্ত, সারা পৃথিবীতেই আর কিছু নেই। কিন্তু ছ’মাসের পরে শুধু বুকের দুধে বাচ্চার সামগ্রিক পুষ্টি মোটেই সম্ভব নয়।

শিশুকে খাওয়ানোর নিয়ম

প্রতিটা শিশুই আলাদা আর তাদের খাবারের চাহিদাও ভিন্ন। এমনকি এ কথাও বলা হয়ে থাকে, দিনভেদে একই শিশুর খাবারের প্রতি চাহিদা বা আগ্রহের রকমফের ঘটে। শিশু একটু বড় হওয়ার পর নিজে নিজেই খেতে চায়, আবার অনেক শিশুর খাবারের প্রতি থাকে অনীহা। সব মিলিয়ে শিশুর খাওয়া নিয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হয় মাকেই।

আপনার ছোট সোনামণি যখন আগ্রহ করে পেটপুরে খায় তখন কতই ভালো লাগে আপনার! কিন্তু যখন খেতে চায় না, তখন? ভীষণ বিচলিত হন আপনি। ধমকে ধমকে, ভয়ভীতি দেখিয়ে, রাক্ষসের গল্প শুনিয়ে হলেও খাবার খাওয়াতে থাকেন। আবার অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। আসলে শিশুদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে আমরা অধিকাংশই কিছু ভুল পদ্ধতি গ্রহণ করে থাকি। যেমন- অনেককেই দেখা যায় পাঁচ মাসের কম বয়সী শিশুদের চামচে করে বা ফিডারে করে পানি খাওয়াতে চেষ্টা করে। এটি একটি অপ্রয়োজনীয় কসরত। পাঁচ মাস বয়সে শিশুর মায়ের বুকের দুধই যথেষ্ট। এর বাইরে এক ফোঁটা পানিরও প্রয়োজন নেই। বরং এ সময় শিশুদের পানি খাওয়ানোর চেষ্টা করলে শ্বাসনালিতে পানি ঢুকে ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে।

অধিকাংশ মা-ই শিশুর খাওয়ার পরিমাণ নিয়ে সন্তুষ্ট নন। মনে রাখবেন আপনার শিশুর ক্ষুধা পেলে সে অবশ্যই আপনাকে জানান দেবে। ক্ষুধার্ত শিশুকে খাওয়ার প্রতি অনীহা, বিতৃষ্ণা এবং ভীতির সৃষ্টি করাবেন না। অনেকেই কান্নারত শিশুর মুখে খাবার তুলে দেন। এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক। শ্বাসনালিতে খাবার আটকে মারাত্মক জটিল অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। ২৪ ঘণ্টায় শিশুর ছয় ও তার অধিকবার প্রস্রাব হলে বুঝবেন আপনার শিশু পর্যাপ্ত পরিমাণে বুকের দুধ পাচ্ছে।

নিয়মিত ওজন করে গ্রোথ চার্টের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলেই বুঝবেন আপনার শিশুর বৃদ্ধি ঠিক আছে কিনা। ছয় মাস বয়স থেকে শিশুকে বুকের দুধের পাশাপাশি যে খাবার খাওয়াবেন সে ব্যাপারে আপনাকে সচেতন থাকতে হবে। নরম সবজি খিচুড়ি এ সময়ের জন্য আদর্শ। ধীরে ধীরে অন্যান্য খাবারেও অভ্যস্ত করে তুলুন। তবে কতটুকু খাবে তা সম্পূর্ণ ছেড়ে দিন শিশুর সিদ্ধান্তের ওপরই।

ছয় মাসের পরে মায়ের বুকে দুধ যথেষ্ট নয়, কেন?

কারণ, হু-র বিভিন্ন পরীক্ষা ও রাসায়নিক বিশ্লেষণে ৫৫০ মিলি বুকের দুধে ক্যালরি (ঘাটতি ৬০%), আয়রন (ঘাটতি ৯৫%), প্রোটিন (ঘাটতি ৪৫%), জিঙ্ক ও ভিটামিন এ-র (ঘাটতি ৯০%) লক্ষণীয় ঘাটতি প্রমাণিত। বিশেষ করে ছয় থেকে আট মাস বয়সে আয়রন আর জিঙ্কের ঘাটতিই সবচেয়ে প্রকট। এই বয়সের একটি শিশুর আয়রন প্রয়োজন একজন প্রাপ্তবয়স্কের তুলনায় নয় গুণ বেশি আর জিঙ্ক চার গুণ বেশি।

২৭০০ ক্যালরির হিসাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রয়োজন ০.৫ মিলিগ্রাম আয়রন ও ০.২৬ মিলিগ্রাম জিঙ্ক। সেখানে নয় গুণ ও চার গুণ বেশি আয়রন ও জিঙ্কের সমাহাহরে খাবার তৈরি করে শিশুর প্রয়োজন মেটানো মুখের কথা নয়। বিভিন্ন গবেষণা জানাচ্ছে আয়রনের অভাবজনিত অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা শিশুদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের থেকেও অনেক বেশি ব্যাপক।

মায়ের দুধে ৬ মাস পরে কী খাওয়াতে হবে?

ছয় মাস একদিন থেকেই মায়ের দুধের সঙ্গে কঠিন/স্বল্প কঠিন/নরম বা কমপ্লিমেন্টারি ফুড খাওয়ানো শুরু করতে হবে। যাতে নিক্তি মেপে নির্দিষ্ট পরিমাণে সরকারি নিদান অনুযায়ী আয়রন, জিঙ্ক, প্রোটিন ও ক্যালোরিও থাকবে। ফলে মায়ের দুধের বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদানের বিশাল ঘাটতি শিশুর বৃদ্ধিতে থাবা বসাতে পারবে না।

কমপ্লিমেন্টারি ফুড অপরিহার্য কেন?

কমপ্লিমেন্টারি ফুড অর্থাৎ মায়ের দুধ ব্যতিরেকে অন্যান্য কঠিন খাদ্য শিশুর সঠিক বৃদ্ধির দিশা দেখায়। মাইলস্টোন ডেভেলপমেন্ট ঠিক থাকলে শিশু স্বাভাবিকভাবেই কঠিন খাবার গ্রহণ করবে, যেমন কোনও কিছুর সাহায্যে অথবা একা একা শিশু বসতে পারবে, মাথা শক্ত ও সোজা রাখতে পারবে, খাবার মুখের কাছে আনলে মুখ হাঁ করবে, জিভটাকে নিচু ও অনুভূমিক রাখবে যাতে সহজে চামচ মুখে প্রবিষ্ট হয়, ঠোঁট দিয়ে চামচটাকে চেপে ধরবে, যাতে খুব সামান্য খাবারই মুখ থেকে গড়িয়ে পড়ে আর খাবারটাকে গিলবে, ঠেলে উগরে দেবে না যাতে চিবুক দিয়ে গড়িয়ে নামে। বাচ্চা সুস্থ স্বাভাবিক হলে তবেই তার পক্ষে কঠিন/ নরম খাবার গেলা সম্ভব। মাথা সোজা না থাকলে শিশুকে খাওয়ানো সম্ভব নয়, তেমনই খাবার দেখে শিশু যদি মুখ না খুলতে পারে, তাহলে তাকে জোর করে খাওয়ানো অসম্ভব।

বয়স অনুযায়ী শিশুর আয়রন ও জিঙ্ক

০-৬ মাসে শিশুর (ছেলে বা মেয়ে) জিঙ্কের আরডিএ (রেকমেন্ডেড ডায়াটারি অ্যালাউন্সেস) ২ মিলিগ্রাম, ৭-১২ মাসে ৩ মিলিগ্রাম, ১-৩ বছরে ৩ মিলিগ্রাম ও ৪-৮ বছরে ৫ মিলিগ্রাম। আয়রন প্রয়োজন ৭-১২ মাসে ১১ মিগ্রা, ১-৩ বছরে ৭ মিগ্রা আর ৪-৮ বছরে ১০ মিগ্রা।

আরো পড়ুন: ব্রেস্ট ক্যান্সারে কারন, লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

জিঙ্ক, আয়রন বা অন্যান্য খাবারের সঠিক জোগান বজায় রাখা কি সম্ভব?

বাড়িতে তৈরি খাবারে শিশুর বয়স অনুযায়ী নিক্তি মেপে উপরিউক্ত হিসেব অনুযায়ী আয়রন, জিঙ্ক, আয়োডিন, ভিটামিনস বা অন্যান্য মিনারেলস যুক্ত খাবার তৈরি একটু অসুবিধাজনক কিন্তু অসম্ভব নয়। দানাশস্য এবং ডালে আয়রন, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম, রাইবোফ্ল্যাভিন, নিয়াসিন, থায়ামিন, ফোলেট, ভিটামিন এ-সি-ই, ভিটামিন বি সিক্স, টুয়েলভ ও সেলেনিয়ামের ‘বায়ো অ্যাভেলেবিলিটি’ বা জৈব লভ্যতা থাকে যৎসামান্য, ফলে বাড়ির তৈরি খাবারে সর্বদাই পুষ্টির ঘাটতি থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা।
ঝামেলার সূত্রপাত কৃষি-বিপ্লবের হাত ধরে। প্রাক কৃষি যুগে আদিম মানুষ শিকার করে মাছ-মাংস ঝলসে খেতে অভ্যস্ত ছিল। মায়ের দুধের সঙ্গে প্রাণিজ প্রোটিন বা মেটে (লিভার) আয়রন ও জিঙ্কের অভাবকে পুষিয়ে দিত। বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া ও ভিয়েতনামের ওপর করা একটি সমীক্ষা দেখাচ্ছে, বাড়ি বা স্থানীয় খাবার পুষ্টির বিচারে তখনই স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছে যখন সেই খাবারে জোড়া হচ্ছে (ফর্টিফায়েড) আয়রন সমৃদ্ধ প্রাণীর মেটে বা লিভার।

অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা কি কেবল আয়রনের অভাবজনিত কারণেই?

বাচ্চাদের মধ্যে গোলকৃমির প্রকোপও আয়রনের অভাবজনিত অ্যানিমিয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন বলছে, ৬-৫৯ মাস বয়সি ১০টি শিশুর মধ্যে সাতটি শিশুই অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতায় আক্রান্ত। ৬-৫৯ মাস বয়সি শিশুর অর্ধেক কেবলমাত্র প্রয়োজনীয় মাত্রায় (১৫ ppm) আয়োডিন পায় খাবার নুন থেকে। অর্থাৎ ৬-৫৯ মাস বয়সি শিশুর অর্ধেকের পাতে আয়োডিনযুক্ত নুনটুকুও জোটে না। ২৫ শতাংশ মাত্র ১২-৩৫ মাস বয়সি শিশু ভিটামিন-এ’র পরিপূরক কোনও খাবার খায় বা পায়। ভারত সরকারের নিদান, নয় মাস বয়স থেকে তিন বছর পর্যন্ত প্রতিটা শিশুকে ছয় মাস অন্তর নির্দিষ্ট মাত্রার ভিটামিন-এ খাওয়াতে হবে ভিটামিন-এ ডেফিসিয়েন্সিকে রুখতে।

শিশুর খাওয়াদাওয়া সংক্রান্ত আসল ব্যাধিটা তাহলে কোথায়?

আমাদের বর্তমান সময়ের কৃষ্টি-সংস্কৃতিতে প্রাণিজ প্রোটিন ৬-৮ মাসের বাচ্চার কাছে অচ্ছুৎ। আট মাসের একটি শিশুকে সঠিক পুষ্টিমূল্য বজায় রাখতে দিনে ছয় থেকে আটবার শক্ত/নরম ফর্টিফায়েড খাবার খাওয়ানো প্রয়োজন। একটি প্রামাণ্য গবেষণা জানাচ্ছে, ভারতে মাত্র ৪২% ভাগ্যবান শিশুকে দৈনিক ৬-৮ বার খাওয়ানো হয়। ২ বছর বয়স পর্যন্ত পুষ্টিপ্রাচুর্যে ভরপুর খাবার শিশুর একান্ত প্রয়োজন; শিশুর বৃদ্ধি বিকাশ যেমন এই সময়টাতে সর্বাধিক ত্বরান্বিত হয় তেমনি শিশুর ভবিষ্যত খাদ্যগ্রহণের সুচারু অভ্যেসটিও তৈরি হয় এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দু’বছর সময়কালে। শুধু পুষ্টি নয়, মায়ের দুধের বিকল্প হিসাবে ধীরে ধীরে শক্ত বা নরম কমপ্লিমেন্টারি ফিডিং শিশুকে খাদ্যের স্বাদ ও গন্ধের ব্যাপারেও সচেতন করে তোলে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে যার ভূমিকা অপরিসীম।

আরো পড়ুন: দুই হাতের উপর দাঁড়িয়ে আছে ভিয়েতনামের এই গোল্ডেন ব্রিজ

কখন কীভাবে শিশু খাবারের স্বাদ/গন্ধ বুঝতে শেখে?

গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যপানের সময় খাদ্যের গন্ধের সঙ্গে শিশুর সম্যক পরিচয় ঘটে। কমপ্লিমেন্টারি ফুডের সঙ্গে মা যদি শিশুকে পুষ্টিকর ফল ও সবজি খাওয়ানোর অভ্যাস করতে পারেন, পরবর্তীকালে দেখা গেছে সেই শিশু কোনও খাবার থেকেই মুখ সরিয়ে নিচ্ছে না।

লুকনো খিদে বা ‘হিডেন হাঙ্গার’টা কী?

শিশু খাচ্ছে কিন্তু তার কানাকড়ি পুষ্টিও হচ্ছে না অর্থাৎ খিদেটা আক্ষরিক অর্থে লুকনোই থাকছে। পুষ্টি—খিদের সমার্থক ও সম্পূরক। বিজ্ঞানসম্মত পন্থায় খাবার না খাওয়াতে পারলে শিশুর লুকনো খিদেকে (Hidden Hunger) বাগ মানানো কখনওই সম্ভব নয়। ফলে শিশু অল্পেতেই হয়ে পড়বে ক্লান্ত; দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যাঘাত ঘটবে পড়াশোনায়, উৎপাদনশীলতায়। তার ফলে সামগ্রিক ক্ষতি দেশ ও দশের।

আরো পড়ুন: গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল খাওয়া কেন নিরাপদ নয়!

লুকনো খিদের ক্ষতির বহর কতটা?

এই লুকনো খিদে বা প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি ডেকে আনতে পারে মস্তিষ্কের অপরিমেয় ক্ষতি, অন্ধ্যত্ব। বহুগুণ বাড়াতে পারে শৈশবে ডায়েরিয়া, হাম ও ম্যালেরিয়ার আশঙ্কা। একথা বলছে ছ’বছর আগেকার ইউনিসেফের প্রতিবেদন (The Micronutrient Initiative and UNICEF. Vitamin & Mineral Deficiency a Global Progress Report, 2010)। বয়সভিত্তিক উচ্চতা ও ওজনের স্কোর পরিষ্কার দেখিয়ে দেয়, দু’বছর পর্যন্ত পুষ্টির ঘাটতিকে, প্রকারান্তরে লুকনো খিদের স্বরূপকে।

শিশুর খাবার কত ধরনের হওয়া উচিত?

খাবারে বৈচিত্র্য আনতে সাতটি আলাদা আলাদা শ্রেণির খাবারের সুপারিশ করা হয়েছে। সাতটি দূর অস্ত, ৬-২৩ মাস বয়সি শিশুর মাত্র নয় শতাংশ চার ধরনের আলাদা আলাদা খাবার খেতে পায়। ফলে ২০ শতাংশ পাঁচ বছরের নিচের বাচ্চার সুষম বৃদ্ধিই হচ্ছে নাো। আর ৪৮% বাচ্চা হয়ে পড়ছে খর্বকায় (Stunted)।

মায়ের দুধের পরিবর্তে ধীরে ধীরে শিশুকে শক্ত, আধাশক্ত বা নরম খাবারে অভ্যস্ত করুন

ভারতের পুব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিণের ১৫১ জন শিশু বিশেষজ্ঞদের নিয়ে করা এক সাম্প্রতিক সমীক্ষা জানাচ্ছে— সাধারণ অসুস্থতা আর টিকাকরণ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন অধিকাংশ শিশু বিশেষজ্ঞ। তাঁরা মোটেই উৎসাহী নন শিশুদের খাবার সম্পর্কে। ফলত অদ্ভুত আঁধার এক এ ভারতে এসেছে আজ।

বাচ্চাকে কখন কোন খাবার, কতটা কখন শিশুকে খাওয়ানো দরকার?

৬ থেকে ৮ মাস বয়স

৬-৮ মাস বয়সি শিশুর ব্রেকফাস্টে গম, ডালিয়া, সুজি, বাজরা সেদ্ধ করে তার সঙ্গে তেল, ঘি, মাখন যোগ করা। কলাচটকে মাখা দেওয়া যেতে পারে। দুপুরে বা রাতের খাবারে এর সঙ্গে মিশবে সিদ্ধ সবজি বা চটকানো/ সিদ্ধ ফল, গরম দুধে মেশানো খই। সন্ধের স্বল্পাহারে থাকবে সিদ্ধ কুমড়ো, পেঁপে/আলু ও সিদ্ধ চটকানো আপেল/ নাসপাতি। পরিমাপ— ২ থেকে ৩ টেবিল চামচ প্রতিবারে।

৯ থেকে ১১ মাস বয়স

৯-১১ মাসে ব্রেকফাস্টে বিভিন্ন পুষ্টিগুণযুক্ত দানাশস্য বা সিরিয়াল, গলা ভাত, গাজর সিদ্ধ ও সিদ্ধ ডিমের কুসুম। দুপুর ও রাতের খাবার—নানারকম সবজি, কড়াইশুটি সিদ্ধ, দুধে নরম করা চাপাটি, দই ভাত, চিকেন ভেজিটেবল স্টু। সন্ধ্যার খাবার— চটকানো থকথকে মরশুমি ফল, ফল দিয়ে তৈরি মিল্কশেক, গাজর বা আলু সেদ্ধ। পরিমাণ—আধকাপ প্রতিবারে।

আরো পড়ুন: বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দৈত্য আকৃতি ৫টি বিমান

১২ থেকে ২৩ মাস বয়স

১২-২৩ মাসে ব্রেকফাস্টে— নিরামিষ খিচুড়ি, ইডলি, উপমা। পুষ্টিগুণান্বিত বিভিন্ন দানাশস্য। চটকানো ফল ও ডিমের কুসুম। দ্বিপ্রাহরিক ও রাতের মূল খাবার— ভাত, ডালের জল, নানারকম সেদ্ধ সবজি, মাছ ও মুরগি সেদ্ধ ও মসৃণভাবে চটকানো। সন্ধ্যার হালকা খাবার— পাকা আম, পেঁপে, নাসপাতি ও কলার টুকরো। পরিমাপ—৩/৪-১ কাপ প্রতিবারে।

আর কী করণীয়?

খাবারকে সুস্বাদু করতে হবে, আমাদের মা-দিদিমারা জানেন বাচ্চার খাবারকে কীভাবে স্বাদু করতে হয়। খাবারকে যতটা সম্ভব থকথকে করতে হবে, যাতে কম গড়ায় বা চিবুক বেয়ে নামে। সর্বোত্তম পরিচ্ছন্নতা সবসময় বজায় রাখতে হবে। একবার দু’বার শিশু খাবার না খেলেই তা বাতিল করা যাবে না। পরপর আটবার যদি শিশু একই খাবার না খায়, তবেই বাতিল করবেন। শিশুকে খাইয়ে বমি করানো অত্যন্ত বদভ্যাস। যে কথাগুলো বলা হল তার সবই গত এক যুগের হু, ইউনিসেফ ও আইএপি’র বহু প্রামাণ্য গবেষণার সারাংশ।

সব খাবারই ভালো আবার সব খাবারই মাত্রাতিরিক্ত বা অতিরিক্ত মশলাদার হলে খারাপ। তাই সব রকম খাবারই মিলিয়ে মিশিয়ে শিশুকে খাওয়াতে হবে, সেটাই হবে শিশুর সুষম খাদ্য। যা সহায়ক হবে শিশুর সর্বোত্তম বৃদ্ধি বিকাশে।

যখন-তখন খাবার নয়

অনেক শিশু স্কুল থেকে ফিরেই বিস্কুট, ফল বা ফলের রস ইত্যাদি খায়। তার এক ঘণ্টা পর হয়তো দুপুরের খাবারের সময়। তখন সে ঠিকমতো খেতে চাইবে না, কারণ ইতিমধ্যেই তার খিদে নষ্ট হয়ে গেছে। আবার অনেক শিশু সারা দিন ইচ্ছামতো যখন-তখন বিস্কুট, ফল, লজেন্স, আইসক্রিম ইত্যাদি খেয়ে পেট ভর্তি করে রাখে। কিন্তু মূল খাবারের সময় তেমন কিছুই খায় না।

আমরা অনেকেই ভাবি, একটু জুস খেলে আর এমন কী পেট ভরল? এক-দুটি বিস্কুট বা সামান্য চিপস বা এক টুকরো চকোলেটই বা ওর ক্ষুধা কিভাবে নষ্ট করল! আসলে এ ধরনের খাবারের মধ্যে প্রচুর সুক্রোজ বা চিনি থাকে, যা দ্রুত রক্তে মিশে যায়। এতে পেটে যথেষ্ট পরিমাণ খাবার না গেলেও রক্তে যথেষ্ট পরিমাণ চিনি চলে আসে। রক্তে চিনি বাড়লে মস্তিষ্ক মনে করে, যথেষ্ট খাবার পেটে আছে। তখন ক্ষুধার অনুভূতি চলে যায়। বিপত্তি ঘটে এ কারণেই।

তাই আপনার শিশুকে সব সময় নিয়ম বা সময়সূচি অনুযায়ী খেতে অভ্যস্ত করে তুলুন। কী খাওয়াচ্ছেন, তার চেয়ে বড় কথা হলো, কখন খাওয়াচ্ছেন। শিশু খেতে চাইছে না বা খাচ্ছে না—এ অজুহাতে তাকে ঘণ্টায় ঘণ্টায় খাবার দেবেন না। শিশু একেবারেই খেতে না চাইলে প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। যখন-তখন খাবার দিয়ে তার খিদে নষ্ট করবেন না।

বয়সভেদে শিশুর ক্ষুধা লাগার সময়ে কিছুটা পার্থক্য আছে। আপনার সন্তানের বয়স অনুযায়ী সেটি জেনে নিন।

যেমন—দুই মাস বয়স পর্যন্ত শিশু যখন খেতে চাইবে, তখন খাবার দিতে হবে। সাধারণত ২৪ ঘণ্টায় এ বয়সে তাকে আট বা তার বেশিবার বুকের দুধ দিতে হয়।

দুই থেকে ছয় মাস পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ছয়বার বা তার চেয়ে এক-দুবার বেশি বুকের দুধ দিতে হয়। ছয় থেকে ৯ মাস পর্যন্ত তিন থেকে পাঁচবার বুকের দুধের সঙ্গে অন্যান্য তরল বা নরম খাবার, ৯ মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত তিন থেকে চারবার বুকের দুধের সঙ্গে অন্যান্য খাবার, পরবর্তী দুই বছর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দুই থেকে চারবার বুকের দুধের সঙ্গে অন্যান্য খাবার দিতে হয়।

সাধারণত দুই থেকে তিন বছর বয়সী বাচ্চাদের প্রতিবেলা খাবারের মাঝে দুই থেতে তিন ঘণ্টা বিরতি থাকা উচিত। বিরতির এই সময়ে যদি অন্য কোনো খাবার সে না খায়, তবে যথাসময়ে তার ক্ষুধা লাগার কথা।

তিন থেকে চার বছর বয়সীদের জন্য তিন থেকে চার ঘণ্টা বিরতিতে খাবার দেওয়া উচিত। এভাবে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কিশোর বয়স পর্যন্ত প্রতিবেলা খাবারের মাঝের বিরতি একটু করে বাড়বে। এরপর বড়দের সঙ্গে তিন বেলা খাবারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

শিশুর যত্নে করণীয়

আমরা অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে যাই, কিন্তু কেমন হয় যদি আমরা অসুস্থই না হই! একদম অসুস্থ না হওয়া হয়তো সম্ভব না। কিন্তু হ্যাঁ, স্বাস্থ্য টিপস মেনে চললে অনায়াসেই আমরা অনেক অসুস্থ্যতা থেকে রক্ষা পেতে পারি। চলুন জেনে নিই কিছু স্বাস্থ্য টিপস যা আমাদের ও আমাদের সন্তানদের জানানো জরুরী।

খাদ্যের স্বাস্থ্যবিধি

শিশুদের প্রায়ই বমি, পেট ব্যথা লেগেই থাকে। অনেকে ক্ষেত্রে ডায়রিয়াও হয়ে যায়। এসবের জন্য অনেকাংশে দায়ী অস্বাস্থ্যকর খাবার ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবেশ। সেজন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি খাবার তৈরি করা, পরিবেশন ও খাওয়ার সময় কিছু স্বাস্থ্য টিপস মানতে হবে।

  • খাওয়ার আগে সাবান অথবা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। হাত মোছার কাপড় বা তোয়ালেও পরিষ্কার হওয়া চাই।
  • খাবার খোলা জায়গায় রাখা যাবে না। কোন খাবার ঢাকনা ছাড়া না রাখাই উত্তম।
  • খাবার তৈরি করা বা রান্না করার সময় মায়েদের চুলের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। চুল যেন খাবারে না পড়ে। চুল পেটে গেলে পেট ফেঁপে থাকার সম্ভাবনা থাকে।
  • খাবার তৈরির সময় খাবারের সামনে কাশি বা হাঁচি দেয়া যাবে না। কাশি বা হাঁচি দেয়ার পর আবার ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করতে হবে।

হাত ধোয়ার স্বাস্থ্যবিধি

হাত ধোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে মীনা কার্টুনে কেমন গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তাতো আমরা দেখেছি। শুধু মীনা কার্টুন না প্রায় সব স্বাস্থ্যবিধিতে হাত ধোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ সারাক্ষণই আমাদের হাত কোন না কোন কাজে ব্যস্ত থাকে।

আর সারাক্ষণই হাতে লাগতে পারে জীবাণু। সেজন্য হাত ধোয়ার আলাদা গুরুত্ব দিতে হবে। হাত ধোয়া নিয়ে আমাদের একটা পূর্ণাঙ্গ ব্লগ আছে এইখানে।

ঘুমানোর স্বাস্থ্যবিধি

মানুষের সুস্বাস্থ্যের অন্যতম উৎস হচ্ছে ঘুম। রাতে ঠিকঠাক ঘুম না হলে পরের দিনটা কতটা বাজে যায় তা আমরা সবাই বুঝতে পারি। সেজন্য শিশুদের সুস্বাস্থ্যের জন্য তাদের নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করতে হবে ও কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

  • শিশুদের ১০ ঘন্টা ঘুম নিশ্চিত করতে হবে।
  • বিছানা শুধু ঘুমানোর জন্য করুন। টিভি দেখা কিংবা হোমওয়ার্কের জন্য বিছানা ব্যবহার না করাই উত্তম।
  • ঘুমানোর নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে নিন। সবসময় ঐ একই সময় মানার চেষ্টা করুন।
  • লোমযুক্ত খেলনা বা টেডি বিয়ার নিয়ে ঘুমাতে না দেয়াই ভালো। লোমযুক্ত খেলনা নিয়ে ঘুমালে রাতে নিশ্বাসের সাথে খেলনার লোম নাকে গিয়ে ইনফেকশন হতে পারে।
  • শিশুদের নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের জন্য রুম থেকে এলার্ম ও অন্যান্য গেজেট দূরে রাখুন।
  • শিশুদেরকে ঘুমানোর উপকারিতা সম্পর্কে জানাতে হবে। ও ঘুমানোর স্বাস্থ্যবিধি অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।

মুখের ও দাঁতের স্বাস্থ্যবিধি

শিশুকে মুখ ও দাঁতের যত্ন না নিলে শিশুর মুখে ক্যাভেটি, নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ, মুখে ইনফেকশন ও দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। সেজন্য শিশুর মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্যবিধির দিকে নজর দেয়া জরুরী।

  • শিশুর দুই বার দাঁত ব্রাশ নিশ্চিত করুন। সকালের নাস্তার পর একবার ও রাতে ঘুমানোর আগে একবার।
  • শিশুর জন্য ছোট ও নরম টুথব্রাশ পছন্দ করুন।
  • দুই বছর বয়স থেকেই টুথপেস্ট ব্যবহার করে নিজে নিজে ব্রাশ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। অভ্যাস গড়ার জন্য শিশুর সাথে একসাথে ব্রাশ করতে পারেন।
  • ২ বছরের কম বয়সীদের জীবাণু নাশক টিস্যু (উইবস) দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে দিতে পারেন।
  • দাঁতের বাইরে, ভেতরে ও চর্বণকৃত অংশ ভালোভাবে ব্রাশ করতে হবে।

চুলের স্বাস্থ্যবিধি

চুলের যত্নে গুরুত্ব না দিলে শিশুর চুলে উঁকুন ও মাথার তুলিতে অনেক ইনফেকশন হতে পারে। এমন সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য শিশুর চুলের যত্নে কিছু বিষয়ের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিন।

  • শিশুর চুল ধোয়ার মতো বড় হলে সপ্তাহে দুই বার শ্যম্পু দিয়ে ভালোভাবে আপনার সন্তানের চুল ধোয়া নিশ্চিত করুন।
  • শিশুর চুল লম্বা হলে চুল ভালোভাবে বেঁধে রাখতে বলুন যেন নোংরা না হয়।
  • শিশুর বালিশ, ক্যাপ, চিরুনী ও অন্যন্য প্রসাধনী অন্য কারো সাথে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।

নখের স্বাস্থ্যবিধি

শিশুরা বাইরে খেলাধুলা করার মাধ্যমে, টয়লেট ব্যবহার করার সময় ও কোন কিছু ধরার মাধ্যমে শিশুর নখ ময়লা ও জীবাণু বহন করে। পরে সেই জীবাণু বিভিন্নভাবে পেটে গিয়ে শিশু অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। শিশুর নখের স্বাস্থ্যবিধি মানার মাধ্যমে এইসব থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

  • শিশুর নখের দিকে নজর দিতে হবে। নখ বড় হলেই নিয়মিত শিশুর নখ কাটতে হবে
  • অনেক শিশুর দাঁত দিয়ে নখ কাটে। শিশুকে এর ক্ষতি সম্পর্কে বুঝিয়ে এই অভ্যাস দূর করতে হবে।
  • খাওয়ার আগে ও পরে, কোন পোষা প্রাণী ধরার পরে, বাইরে থেকে আসার পরে, হাঁচি ও কাশি দেয়ার পরে, টয়লেট ব্যবহারের পরে ভালো করে নখের নিচের অংশ সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

শিশুদের যত্নে কিছু পরামর্শ

• শিশুর নিয়মিত ওজন নেবেন। যদি কোন কারণে তার ওজন ক্রমেই বাড়তে থাকে, তবে শিশু কম খেলেও তাতে ভয়ের কোন কারন নেই।

• শিশুর দাঁত ওঠার পর থেকে তাকে শক্ত খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস করুন।

• কোনো রোগ রয়েছে কিনা তা দেখুন। হয়তো তার পেটে ব্যথা; কিন্তু তার সমস্যার কথা সে বলতে পারে না বলে কান্নাকাটি করে। খাবার খেতে চায় না।

• প্রতিদিন একটি নিদিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস করুন। খাওয়ার ক্ষেত্রে সময়ের বেশি পার্থক্য তৈরি করবেন না।

• খাওয়ার সময় শিশুকে মজার মজার গল্প শোনাতে পারেন।

• যদি শিশুর ওজন ঠিক থাকে তবে অন্য শিশু বেশি খায়-আপনার শিশু কম খায়; এমনটি ভাবা একেবারেই উচিত নয়।

• শিশুর যখন ক্ষুধা লাগবে, তখন খাওয়াতে হবে।

• জোর করে খাওয়ানো যাবে না। খাবারের প্রতি শিশুর আগ্রহ তৈরি করতে হবে।

• পরিবারের অন্যদের সাথে শিশুকে আলাদা থালায় খেতে দিতে হবে এবং তাকে নিজে নিজে খেতে উৎসাহ দিতে হবে। 

• বাড়ির তৈরি করা খাবারে শিশুকে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। 

• খাবারের আগে শিশুকে পানি, জুস, চকলেট ইত্যাদি দেওয়া যাবে না।

• টেলিভিশন দেখিয়ে বা কার্টুন দেখিয়ে শিশুকে খাওয়ানো যাবে না। খাবারের প্রতি শিশুকে মনযোগী করে তুলতে হবে।   

• শিশুকে বিভিন্ন ধরনের খাবার দিতে হবে। একই খাবার বার বার না খাইয়ে খাবারে বৈচিত্র্য আনতে হবে। 

• শিশুকে তার প্রতিবার শেষ করা খাবারের জন্য অভিনন্দন জানাতে হবে।

সুনির্দিষ্ট সময়ে শিশুকে না খাওয়ালে কিছু অসুবিধা

♦   যে খাবার পেটে আছে, তা ঠিকমতো হজম হবে না।

♦   তার পরিপূর্ণভাবে খিদে লাগেনি বলে প্লেটের খাবার সে শেষ করতে পারবে না।

♦   যখন-তখন খাবার দেওয়ার কারণে যথাসময়ে তার খিদে লাগবে না।

♦   শিশু খাবারের যথাযথ স্বাদ অনুভব করতে পারবে না।

♦   খেতে পারছে না বলে ওই খাবারের প্রতি তার এক ধরনের বিরক্তি তৈরি হবে।

♦   জোর করে খাবার দিলে বমি ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেবে।

অযথা জোর করবেন না

একটা কথা আছে, বাচ্চা যখন খাবে এমনিতেই খাবে। বাচ্চাকে কখনো জোর করে খাওয়াবেন না। তাকে একবার জোর করে খাওয়ালে পরে যখনই তাকে খাওয়াতে চাইবেন, তখনই সে ভয় পাবে। খাবারের প্রতি তার আগ্রহ কমে যাবে। একসময় খাবারের প্রতি তার বিতৃষ্ণা জন্মাতে পারে। তাই হাতে সময় নিয়ে এমনভাবে খাওয়াতে হবে, যাতে খাওয়ার সময়টা শিশুর জন্য আনন্দদায়ক হয়। তাকে লোভ দেখানো যাবে, প্রশংসা করা যাবে; কিন্তু জোর করা যাবে না। খাবারের জন্য ওর পিছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয়ও করবেন না। দশ থেকে পনেরো মিনিট সময়ে ওকে খাওয়ান। এরপর খেতে না চাইলে খাওয়ানো বন্ধ করে দিন। একটা বিরতি দিন ওর আবার ক্ষুধা লাগার জন্য। ভালোভাবে ক্ষুধা না লাগলে পরের বেলার খাবার জোর করে খেতে দেবেন না।

টিভি বা কার্টুন দেখা অবস্থায় খাবার নয়

শিশুদের টিভি বা কার্টুন দেখিয়ে খাবার খাওয়ালে এগুলোতে সে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। এমনিতেই বেশি সময় টিভি দেখা শিশুর জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। টিভি দেখার সময় খাওয়ালে শিশুর বদহজম হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। কারণ এ সময় টিভিতে মনোযোগ থাকার কারণে পাকস্থলী থেকে প্রয়োজনীয় পাচক রস নিঃসৃত হয় না। তাই দেখা যায়, টিভি দেখতে দেখতে খায় এমন শিশুরা সাধারণত পেটের পীড়ায় ভোগে বা মুটিয়ে যায়। শিশুর মনোযোগের ঘাটতিও ঘটে।

খাবারে ভিন্নতা আনুন

প্রতিদিন এক ধরনের খাবার না দিয়ে খাবারে ভিন্নতা আনুন। যদি তার মনের ভাব সে প্রকাশ করতে পারে, তবে সে যা খেতে চায় তা জেনে নিন। তার পছন্দমতো খাবার স্বাস্থ্যসম্মতভাবে তৈরি করে খেতে দিন। বাইরের খাবরের অপকারিতা সম্পর্কে তাকে বলুন। দেখবেন, সে ঘরে তৈরি খাবার বেশি পছন্দ করতে শুরু করেছে। খাবারের সময় বড়দের সঙ্গে তাকেও টেবিলে বসান। বড়দের মতো করে খেতে উৎসাহিত করুন। বাড়িতে অন্য শিশু থাকলে তাদেরও একসঙ্গে বসে খাওয়ান।

আবার বাইরের খাবার যে একেবারেই দেবেন না তা নয়। যখন বড়দের সঙ্গে কোথাও পার্টিতে যাবে বা পরিবারের সবার সঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাবে, নিশ্চয়ই বাইরের খাবার সে খেতে পারবে। তবে তার জন্য আলাদা করে প্রতিদিন বাইরের খাবার ঘরে আনবেন না বা তাকে বাইরে খেতে নিয়ে যাবেন না।

আরো পড়ুন: স্ত্রী ব্রা খুললেই স্বামী হওয়া যায় না!


[ প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকেপ্রতিদিনের স্বাস্থ্য টিপসলেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। ]


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here