শিশুর খাবার তালিকা ও বাচ্ছাদের জন্য ৩০টি স্মাট টিপস!

927
সম্ভব ডটকম

স্বাগতম আপনাকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট সম্ভব ডটকমকে।
আমরা এই প্রতিবেদনে আপনার শিশুর ০ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত বেড়ে উঠা নিয়ে প্রয়োজনীয় শিশুর খাদ্য তালিকা, শিশুর ওজন অনুযায়ী খাবার তালিকা

শিশু খাবার না খেলে করনীয়, শিশুকে খাওয়ানোর বিশেষ কৌশল ও শিশুকে স্মার্ট ভাবে পরিচর্যা কিভাবে করবেন তা নিয়ে পুর্নাঙ্গ বর্ণনা ও ছবিসহ আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি প্রতিবেদনটি পড়ে আপনার উপকারে আসবে।

প্রত্যেক দম্পতির মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু তাদের সন্তান। তাদের অফুরান আশা-আকাঙ্ক্ষা-স্বপ্ন তাকে ঘিরে তাদের শিশু নিয়ে।

আজকাল মা-বাবারা বিশেষত মায়েরা প্রায়ই জানাচ্ছেন, তার সন্তান ঠিকমতো খাচ্ছে না বা খেতে চাচ্ছে না জন্মের শুরু থেকে ছয় মাস পর্যন্ত বাচ্চা কেবলমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাবে।

মায়ের দুধই যাবতীয় ভিটামিনস (কেবল ভিটামিন ডি আলাদা দিতে হবে), মিনারেলস ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাবে।

মায়ের দুধের বিকল্প ছ’মাস বয়স পর্যন্ত, সারা পৃথিবীতেই আর কিছু নেই। কিন্তু ছ’মাসের পরে শুধু বুকের দুধে বাচ্চার সামগ্রিক পুষ্টি মোটেই সম্ভব নয়।

আসুন জেনে নিই শিশুর খাবার তালিকা ও বাচ্ছাদের নিয়ে বিশেষ টিপস।

« এক নজরে দেখুন এই প্রতিবেদনে কি কি রয়েছে »

শিশুর খাদ্য তালিকা কেমন হওয়া উচিত

শিশুর খাদ্য তালিকা কেমন হওয়া উচিত

শিশুর খাদ্য অপর্যাপ্ত কিংবা ত্রুটিপূর্ণ হলেই শিশু হবে অপুষ্টির শিকার। তাই সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে শিশুকে বেড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্যসম্মত পুষ্টিকর খাদ্যের ব্যবস্থা করা।

শিশুর খাদ্য নির্বাচনের সময় তার বয়সসীমা, তার কার্যকলাপ, সুস্থতা ইত্যাদি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিক লক্ষণীয়। শিশু বয়সকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।

যেমন: ১ থেকে ৩ বছর, ৩-৬ বছর (প্রি-স্কুলগামী), ৬-১২ বছর (স্কুলগামী)।

আবার শিশুর বৃদ্ধির জন্য বিশেষভাবে নজর রাখতে হয় তার খাবারের কিলোক্যালোরি, প্রোটিন, খনিজ লবণ (ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, লৌহ, জিংক ও আয়োডিন), ভিটামিন (এ, ডি, সি, বি-কমপ্লেক্স), পানি ও দুধের প্রতি।

তাহলে জানা দরকার বয়সভেদে খাবারের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

যেমন: ১-৩ বছরের শিশুর দৈনিক কিলোক্যালোরির প্রয়োজন ১২১০-১২৫০। কিন্তু ৩-৬ বছরের শিশুর প্রয়োজন ১৭০০ কিলোক্যালোরি দিনে।

সে ক্ষেত্রে ৬-১২ বছরের শিশুর প্রয়োজন আছে ১৯৫০-২১০০ কিলোক্যালোরি।

এ ক্ষেত্রে ছেলেমেয়েতে কিছুটা পার্থক্য দেখা দেয়। প্রোটিনের বেলায়, শিশু বয়সেই প্রতি কেজি ওজনের জন্য বেশি প্রোটিন প্রয়োজন।

কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি কেজি ওজনে কমলেও মোট প্রোটিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

যেমন: ১-৩ বছরে ১.৫-২ গ্রাম/কেজি; ৩-৬ বছরে ২ গ্রাম/কেজি; ৬-১২ বছরে মোট প্রোটিন প্রয়োজন ৪০-৬০ গ্রাম দিনে।

এ ছাড়াও অন্যান্য উৎপাদানের চাহিদা মেটানোর জন্য অল্প করে দৈনিক খাবারের পরিমাণ (মাছ, মাংস, ভাত, রুটি, সবজি, ফল ইত্যাদি) বাড়ালেই যথেষ্ট। তবে দুধের পরিমাণ খাবারে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুধের পরিমাণ কমে অন্য খাবারের প্রতি আসক্তি বাড়ে, তবে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় দুধ থাকা প্রয়োজন।

কোন ধরনের খাবার শিশুর জন্য উপযোগী

ভাত, রুটি, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, পাতাসবজি, সবজি, মৌসুমি ফল, শুকনা ফল, পানি ও পানীয় সব ধরনের খাবারের সঙ্গেই শিশুকে অভ্যস্ত করতে হবে এবং দৈনিক খাদ্য তালিকায় তা নিশ্চিত করতে হবে।

তবে শিশুভেদে খাবার তৈরিতে কিছুটা পার্থক্য রাখা যায়। যেমন_ কোনো শিশু সরাসরি ডিম খেতে না চাইলে তাকে ডিমের হালুয়া, পুডিং, কাস্টার্ড ইত্যাদি তৈরি করে দেওয়া যায়।

খাদ্যকে সুষম করতে হলে তাতে আমিষ, শর্করা, স্নেহসহ খনিজ, ভিটামিন প্রভৃতি থাকতে হবে।

মাছ-মাংসের পরিবর্তে খিচুড়ি দেওয়া যায় কিংবা ফিশফিঙ্গার, কাবাব তৈরি করা যায়। আবার সবজি বড়া তৈরি করে সবজির চাহিদা মেটানোর ব্যবস্থা করা সম্ভব।

এ ছাড়াও মনে রাখা দরকার, নতুন নতুন খাবারে শিশুকে অভ্যস্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে মৌসুমি ফল, সবজি অবশ্যই শিশুর খাদ্যে সংযোজন করা প্রয়োজন।

Read More: বাচ্ছাদের মনোযোগ বৃদ্ধির বৈজ্ঞানিক ১৫টি কৌশল!

তবে জাঙ্ক ফুড শিশুর সুস্বাস্থ্যের অন্তরায়। ফলে এসব খাবার শিশুর খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দেওয়া বাঞ্ছনীয় এবং যে খাবারই দিই না কেন সেটা যেন টাটকা হয়।

লেখক : জাতীয় অধ্যাপক এবং প্রখ্যাত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ

বাচ্চাদের খাবারের তালিকা

জন্মের পর থেকেই শিশুদের যে বিষয়টির ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়, তা হলো শিশুর পুষ্টি।

শিশু জন্মের পর কিভাবে শিশুর পুষ্টির মান বৃদ্ধি করা যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে আমাদের।

কিন্তু আমরা পুষ্টির ব্যাপারে সঠিক তথ্য না জানায় শিশুকে পর্যাপ্ত পুষ্টি পৌঁছাতে পারি না।

এখন কথা হল কোন সময় কোন খাবার বা কি খাবার দিতে হবে তা অনেক নতুন মায়েরা জানেন না।

তাই আজ মা দের জন্য রয়েছে বিভিন্ন বয়সের বাচ্চাদের খাবারের তালিকা। তাহলে দেখে নিন তালিকাটি আর যত্ন নিন আপনার সন্তানের।

মায়ের দুধ

খুব সংক্ষেপে যদি শিশুর পুষ্টি সম্পর্কে বলতে হয় তাহলে শুরুতেই বলতে হবে মায়ের দুধের কথা। শিশুর জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে মায়ের বুকের দুধ খেতে দিতে হবে এবং পূর্ণ ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।

কারণ মায়ের দুধে বিদ্যমান পুষ্টি উপকরণ এ সময়ে শিশুর পুষ্টির চাহিদা সম্পূর্ণরূপে পূরণ করে।

পূর্ণ ৬ মাস থেকে ১২ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টির অর্ধেক চাহিদা এবং ১২ মাস থেকে ২ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টির এক-তৃতীয়াংশ চাহিদা পূরণ হয় মায়ের দুধ থেকে।

কাজেই পূর্ণ ছয় মাস বয়সের পর পরিবারের অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খেতে দিতে হবে এবং পূর্ণ ২ বছর বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে হবে।

Read More: শিশুকে মায়ের দুধ পানের বিশেষ কিছু কৌশল ও পরামর্শ

খাদ্য তালিকা

খাদ্য তালিকা
সুত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

শিশুকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৪ ধরনের খাবার খাওয়াতে হবে যথা- ১) ভাত ২) ডাল ৩) শাকসবজি ৪) মাছ/মাংস/ডিম।

এছাড়া চাল, ডাল, সবজি (যেমন- মিষ্টিকুমড়া, গাজর, পেঁপে, আলু ইত্যাদি) পরিমাণ মতো তেল ও মসলাসহ খিচুড়ি তৈরি করে শিশুকে খাওয়াতে হবে।

খিচুড়ি তৈরির সময় যে পরিমাণ চাল দেয়া হবে তার অর্ধেক পরিমাণ ডাল দিতে হবে। শিশুকে মুরগির কলিজা খেতে দিতে হবে।

দুধ ছাড়া নাস্তা

পিঠা, তেল মাখা মুড়ি, তেল মাখা চিড়া, ফলমূল (পাকা আম, পাকা পেঁপে, কলা ইত্যাদি) বাদাম।

দুধসহ নাস্তা

সেমাই, পায়েস, ফিরনি, ক্ষীর, পুডিং, হালুয়া, ছানা।

অসুস্থতার সময়

এ সময়ে শিশুকে ঘন ঘন বুকের দুধ ও বেশি পরিমাণে তরল খাবার খাওয়াতে হবে। শিশুর পছন্দের সুষম খাবার দিতে হবে এবং অল্প অল্প করে শিশুকে বার বার খেতে দিতে হবে।

অসুখ থেকে সেরে উঠলে আগের ওজন না হওয়া পর্যন্ত অন্তত ২ সপ্তাহ বেশি পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খেতে দিতে হবে।

baby foods

৬ মাস বয়সের শিশুর খাদ্য

৬ মাস বয়স হলেই বুকের দুধের পাশাপাশি শিশুকে পরিপূরক খাবার খাওয়ানো শুরু করা উচিত। এ সময দুধের সঙ্গে কলা চটকিয়ে অথবা দুধ দিয়ে সুজি রান্না করে শিশুকে খাওয়ানো আরম্ভ করা যায়।

চালের গুঁড়া, আটা, ইত্যাদি সিদ্ধ করে দুধ দিয়ে পাতলা করে রান্না করে শিশুকে দেয়া যেতে পারে। মৌসুমি ফল যেমন পাকা কলা, পাকা পেঁপে ইত্যাদি ফল শিশুকে দেওয়া যায়।

৭-ঌ মাস বয়সের শিশুর খাদ্য

এই বয়সে শিশু কিছুটা পরিপক্ব হয় এবং ফল ও অন্যান্য শস্যজাতীয় খাবার খেতে পারে। তাই সিদ্ধ আলু, মৌসুমি সবজি সিদ্ধ করে চটকিয়ে শিশুকে খাওয়ানো যায়।

যেমন- ফুলকপি, গাজর, মটরশুটি, বরবটি, শিম, পটল, পেঁপে ইত্যাদি। শিশুর খাবার সামান্য তেল দিয়ে রান্না করে শিশুকে খাওয়াতে হবে।

Read More: শিশুকে চতুর ও বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধির বিশেষ ১০টি কৌশল

১০-১২ মাস বয়সের শিশুর খাদ্য

এই বয়সে প্রায় বড়দের মতো খাবার শিশুকে খাওয়ানো যায়। তাই শিশুর খাবার আরো ঘন করতে হবে এবং পরিমাণে বাড়াতে হবে।

নরম খিচুড়ি, সিদ্ধ ডিম, সিদ্ধ সবজি ও আলু, ডাল-ভাত, দুধ, রুটি, দই, ক্ষীর ইত্যাদি শিশুর জন্য খুবই উপকারী এবং পুষ্টিকর। এ সময় শিশুকে ৪-৫ বার খাওয়ানো দরকার।

১২ থেকে ২৩ মাস বয়স

১২-২৩ মাসে ব্রেকফাস্টে— নিরামিষ খিচুড়ি, ইডলি, উপমা। পুষ্টিগুণান্বিত বিভিন্ন দানাশস্য। চটকানো ফল ও ডিমের কুসুম।

দ্বিপ্রাহরিক ও রাতের মূল খাবার— ভাত, ডালের জল, নানারকম সেদ্ধ সবজি, মাছ ও মুরগি সেদ্ধ ও মসৃণভাবে চটকানো

সন্ধ্যার হালকা খাবার— পাকা আম, পেঁপে, নাসপাতি ও কলার টুকরো। পরিমাপ—৩/৪-১ কাপ প্রতিবারে।

১ বছর থেকে ৩ বছরের শিশুর

শিশুর জন্য মায়ের দুধের কোন বিকল্প নেই। মায়ের দুধের কার্যকারিতা শিশুর ক্ষেত্রে ১০০%।

তবে শিশুর দেহে রক্ত বাড়ানোর জন্য ও সঠিক বিকাশের জন্য দুধের পাশাপাশি অন্যান্য খাবার দেয়া হয়। একে পরিপূরক খাদ্য বলে।

পরিপূরক খাদ্য খেলে শিশু ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী হয়। নিম্নে ১ বছর থেকে ৩ বছরের শিশুর জন্য পরিপূরক খাবারের তালিকা দেয়া হল : 

  • উপাদান পরিমাণ ভাত, পিঠা, মুড়ি, চিড়া।
  • ২ ছটাক রুটি, বিস্কুট (আটার) ।
  • ১ ছটাক ডাল, চাল মিশানো খিচুড়ি।
  • ১ থেকে ১১/১২ ছটাক শাক, আলু, পটল, মিষ্টি কুমড়া।
  • আন্দাজমত/পরিমাণমত গাজর থেকে নিরামিষ, মাছ অথবা মাংসের তরকারি।
  • ১/২ ছটাক পায়েস, দুধ, রুটি, সুজি রান্না পরিমাণমত ফল ১টা টমেটোর রস, পেয়ারা, কুল অথবা বাতাবি লেবুর রস।

Read More: বাচ্ছাদের মনোযোগ বৃদ্ধির বৈজ্ঞানিক ১৫টি কৌশল!

বয়স অনুযায়ী আপনার বাচ্চার ওজন চার্ট

বয়স অনুযায়ী আপনার বাচ্চার ওজন চার্ট
বয়স অনুযায়ী আপনার বাচ্চার ওজন চার্ট
বয়স অনুযায়ী আপনার বাচ্চার ওজন চার্ট

আরো পড়ুন: শিশু ও বাচ্চাদের স্বাস্থ্যকর ওজন বৃদ্ধির জন্য ১২টি খাবারের তালিকা

শিশুদের ওজন বাড়ানোর জন্য খাদ্যতালিকা
Source: firstcry.com
শিশুদের টিকাদান

আমার বাচ্চা কিছুই খেতে চায় না

আমার বাচ্চা কিছুই খেতে চায় না

এমন কথা মায়েদের মুখে প্রায়শই শোনা যায়। সাধারণত যেসব কারণে শিশু খেতে চায় না তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জোরপূর্বক খাওয়ানো, শক্ত খাবার, অপছন্দের খাবার এবং একই খাবারের পুনরাবৃত্তি।

শিশুকে জোরপূর্বক খাওয়ানো শিশু নির্যাতনের শামিল। এতে একদিকে যেমন শিশুর ওজন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে অন্যদিকে শিশু অতিরিক্ত ওজন লাভ করতে পারে, যা তার জন্য ক্ষতিকর।

জোর করে খাওয়ালে খাবারের প্রতি শিশুর অনীহা তৈরি হয় এবং সে খাবার দেখলে ভয় পায় বা বমি করে।

Read More: তুলসী পাতার গুনাগুন উপকারিতা ও ৬১ টি স্বাস্থ্য টিপস

শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে হলে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর দিকে দৃষ্টি দিতে হবে-

  • যত্নের সাথে শিশুর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শিশুর যখন ক্ষুধা লাগবে, তখন খাওয়াতে হবে
  • জোর করে খাওয়ানো যাবে না- খাবারের প্রতি শিশুর আগ্রহ তৈরি করতে হবে। বাড়ির তৈরি করা খাবারে শিশুকে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে
  • খাবারের পূর্বে শিশুকে পানি, জুস, চকলেট ইত্যাদি দেয়া যাবে নাটেলিভিশন দেখিয়ে বা কার্টুন দেখিয়ে শিশুকে খাওয়ানো যাবে না। খাবারের প্রতি শিশুকে মনযোগী করে তুলতে হবে।
  • শিশুকে বিভিন্ন ধরনের খাবার দিতে হবে, একই খাবার বার বার না খাইয়ে খাবারে বৈচিত্র্য আনতে হবে।
  • শিশুকে তার প্রতিবার শেষ করা খাবারের জন্য অভিনন্দন জানাতে হবে। মায়ের হাসিভরা মুখ আর উৎসাহ শিশুর পুষ্টি পূরণে সহায়ক।
  • খাবার সময়কে আকর্ষণীয় ও আনন্দদায়ক করে তুলতে, রঙিন প্লেট, বাসনপত্র, সঙ্গীত, বাচ্চাদের পার্টি ইত্যাদি ব্যবহার করুন ।

    আপনি মাঝে মাঝে বাচ্চাকে পার্কে নিয়ে গিয়ে পিকনিকের মতো খাওয়াতে পারেন ।
  • খাওয়ানোর সময় তাড়াহুড়ো করবেন না । ধৈর্য রাখুন এবং, যদি দরকার পরে, পরিবারের অন্য সদস্যকে বাচ্চাকে খাওয়ানোর জন্য সময় কাটাতে দিন ।

    এটা তাদের মধ্যে সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করবে এবং আপনার থেকে কিছুটা চাপ কমবে, যাতে আপনি অন্য কাজ করতে পারেন ।
  • অনেক সময়, বাচ্চারা খেতে চায় না; রেগে যাবেন না বা জোর করে খাওয়াবেন না ।

    ধৈর্যই হল চাবিকাঠি; আপনি অন্য কোন দিন বা অন্য কোন উপায়ে খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করুন ।
  • বাচ্চাদের তৈরি হতে পারা অ্যালার্জির উপর নজর রাখুন । বাদাম, গ্লুটেন, মাছ বা ল্যাক্টোজে অসহিষ্ণু হতে পারে ।
  • খাবারের সময় নির্দিষ্ট করুন, যাতে শিশুর শারীরিক চক্র সেই অনুসারেই নির্দিষ্ট হবে । খাবার সময়গুলির মাঝে খাওয়াবেন না ।
  • অত্যাধিক খওয়া এমনকি কম খাওয়া এড়িয়ে যাওয়া উচিত ।
  • বাচ্চাদের জন্য বাড়িতে তৈরি খাবার প্রদান করুন; ভ্রমণকালে, জাঙ্কফুড বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবর্তে ফলের মতো স্বাস্থ্যকর বিকল্পগুলিই বাছুন ।
  • শিশুরা বড় হওয়ার সাথে সাথে, খাবারের বিকল্পগুলি বেছে নেওয়ার জন্য এবং রান্নায় আপনাকে সাহায্য করার জন্য তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অন্তর্ভুক্ত করুন ।

    যদি খাবার বাছাই করতে এবং তৈরি করতে সাহায্য করলে, তারা খাওয়ার ব্যাপারটিকে আরও ভালোভাবে গ্রহণ করবে ।
  • তাদের প্রিয় খাবারগুলির সঙ্গে সাপ্তাহিক অন্তরে নতুন নতুন খাবার যোগ করুন । নতুন কিছু চেষ্টা করার সময় তাদের প্রশংসা করুন ।

তবে বাণিজ্যিকভাবে প্যাকেটজাত খাবার বা দোকানের দই থেকে ঘরে তৈরি খাবার দিতে চেষ্টা করুন। এগুলো খেলে শিশুর স্বাভাবিক ক্ষুধাবোধ নষ্ট হয়। সে আর ঘরে তৈরি খাবার খেতে চায় না।

অনেক মা মনে করেন, প্যাকেটজাত শিশু খাবারে পুষ্টি বেশি থাকে। বাস্তবে ঘরে তৈরি খাবারে পুষ্টি তো সঠিক থাকেই; সঙ্গে শিশুর সারা জীবনের সঠিক খাদ্যাভ্যাসও তৈরি হয়। 

লেখক‍: ডা. ইউ কে এম নাজমুন আরা, শিশু বিশেষজ্ঞ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সুত্র: এনটিভি

বাড়ন্ত শিশুর খাদ্য তালিকা

বাড়ন্ত শিশুর খাদ্য তালিকা

একজন বাড়ন্ত শিশুর খাদ্য তালিকা বড়দের থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে। তাদেরকে এমন কিছু খাবার দিতে হয় যা শিশুর মেধা বিকাশে সাহায্য করে। এমন কিছু খাবারের নাম জেনে নিন।

জিনগত ব্যাপারগুলি বাদ দিলে, সঠিক পুষ্টিই হচ্ছে আপনার বাচ্চার লম্বা এবং স্বাস্থ্যবান হবার নিশ্চিত চাবিকাঠি।

 সায়েন্টিস্ট আমেরিকান পত্রিকার মতে, মানুষের উচ্চতার তারতম্যের অন্তত ৪০% তার পুষ্টি ও পরিবেশের ওপর নির্ভর করে।

Read More: সন্তান জন্মে আর পুরুষের দরকার নেই!

জন্মগত কৃপায় লম্বা মানুষেরা অবশ্যই জীবনে অনেক সুবিধা পেয়ে থাকেন – গবেষণায় দেখা গেছে যে দীর্ঘকায় ব্যক্তিরা সচরাচর বেশী সুখী ও সফল হন।

 আপনি যদি চান যে আপনার বাচ্চারা  তাদের সম্ভাব্য উচ্চতার শিখরে পৌঁছাক, তাহলে তারা পছন্দ করবেই এমন কিছু মুখরোচক ও স্বাস্থ্যকর খাবারের বিষয়ে এখানে দেওয়া হল।

১) দুধ

শিশুর বৃদ্ধির জন্য দুধ অপরিহার্য একটি উপাদান। ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস দুধের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল যা দাঁত, হাড় এবং নখ মজবুত করতে সাহায্য করে।

এছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন ডি, প্রোটিন, জিঙ্ক, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি১২, নিয়াসিন এবং ভিটামিন বি৬।

দুই বছর পর্যন্ত শিশুকে ফুল ক্রিম দুধ দিন। দুধ খেতে পছন্দ না করলে পুডিং, কাস্টার্ড ইত্যাদির মাধ্যমে শিশুকে দুধ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করুন।

২) সেদ্ধ ডিম

ইকুয়েডরে ৬-৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে এক সমীক্ষা করে গবেষকেরা দেখেছেন, যে সব শিশুরা প্রতিদিন একটি করে ডিম খায় তাদের মধ্যে, যারা খায় না তাদের চাইতে বৃদ্ধি থেমে যাবার হার ৪৭% কম হয়।

 এ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় যে দিনে একটি করে ডিম শিশুদের বৃদ্ধি প্রতিবন্ধকতার রাক্ষসকে দূরে রাখতে সক্ষম!

পূর্ণ-সেদ্ধ ডিমের বদলে আরও অনেক উপায়ে আপনার বাচ্চাদের ডিম খাওয়াতে পারেন।  কুসুম ওপরে। ভাজা, অর্ধ-সেদ্ধ, স্ক্র্যাম্বেল্ড, – আপনার খাদুল বাচ্চা প্রতিদিন ডিম খেতে কখনোই বিরক্ত হবে না।

বাড়ন্ত শিশুর জন্য আরেকটি প্রয়োজনীয় উপাদান হলো ডিম। ডিমে থাকা ভিটামিন বি শিশুর মস্তিষ্ক উন্নত করতে সাহায্য করে।

ডিমে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ডি, ফোলেট, জিঙ্ক, আয়রন এবং সেলিয়াম শিশুর গ্রো বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

৩) ব্রকলি

সবজির মধ্যে ব্রকলি অন্যতম একটি সবজি যাতে ক্যালসিয়ামসহ আরো নানান উপাদান রয়েছে। এতে রয়েছে ফাইবার, ফসফরাস, জিঙ্ক, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক এবং ফলিক অ্যাসিড। প্রতিদিনকার সবজির সাথে ব্রকলি রাখুন।

৪) টকদই

বাড়ন্ত শিশুর জন্য টকদই বেশ প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেড, ভিটামিন বি, জিঙ্ক এবং ফসফরাস।

হাড়, দাঁত, মজবুত করার পাশাপাশি টকদই শিশুর শক্তি যোগাতে সাহায্য করে।

৫) মিষ্টি আলু

মিষ্টি আলুতে  থাকা বিটা ক্যারটিন এবং অন্যান্য ক্যারোটিনসাইড শিশুর দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে।  মিষ্টি আলু সিদ্ধ, রান্না বা চিপস যেকোনো ভাবে শিশুকে খাওয়াতে পারেন।

৬) ওটস

অনেকেই মনে করেন ওটস খাবারটি বড়দের খাবার, শিশুরা খেতে পারে না। অথচ সকালের নাস্তায় শিশুকে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যে সকল শিশুরা সকালের নাস্তায় ওটস খেয়ে থাকেন সেসব শিশুরা স্কুলে  অধিক মনোযোগ ধরে রাখতে পারে।  

৭) চিজ

স্বাস্থ্যকর খাবারের মধ্যে চিজ অন্যতম। বাড়ন্ত শিশুকে নিয়মিতভাবে চিজ খেতে দিতে পারেন।

এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন বি১২, ফসফরাস ইত্যাদি। তবে খুব বেশি চিজ বা চিজ জাতীয় খাবার খাওয়ানো থেকে বিরত রাখা উচিত।

) মাছ

শিশুরা মাছ খেতে পছন্দ করে না। কিন্তু শিশুদেরকে সপ্তাহে কমপক্ষে দুইদিন খাদ্য তালিকায় মাছ রাখুন। পুষ্টির সকল  উপাদান মাছের মধ্যে পাবেন।

বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ খাদ্য তালিকায় আরখুন। এর ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে সহায়তা করবে।

৯) বিনস

শিশুর জন্য বিনস পুষ্টিকর একটি খাবার। এর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ফাইবার, আয়রন এবং ভিটামিন বি শিশুর ওজন ধরে রাখতে সাহায্য করে।

অন্যান্য খাবারের সাথে বাড়ন্ত শিশুর খাদ্য তালিকায় এই খাবারগুলো রাখুন। এগুলো খাবারগুলো শিশুর চাহিদা পূরণ করে শিশুকে সুস্থ রাখবে।

১০) সয়া বীনকার্ড

প্রোটিন-সমৃদ্ধ সয়াবীন একটি দারুণ উচ্চতা বৃদ্ধিকারী খাবার।  সায়েন্টিফিক আমেরিকান পত্রিকার মতে শিশুদের উচ্চতা বাড়াবার জন্য প্রোটিন হচ্ছে সবচেয়ে জরুরী পুষ্টি।  

এক বাটি ঠান্ডা সয়া বীনকার্ড গরম কালের বিকেলে আপনার শিশুকে তরতাজা করে দেবে।

১১) টুনা স্যান্ডউইচ

প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস হালকা টুনা, যা ধাতু পাত্রে রক্ষিত অবস্থায় পাওয়া যায়।  এটি টোস্টে ছড়িয়ে দিলেই হয়ে যাবে একটি উচ্চাঙ্গের অথচ উপাদেয় খাবার।

১২) মিশ্র বাদাম

বাদাম, কুমড়ো বীচি, পেস্তা, চিনেবাদাম, কাজু, …… এই সব প্রোটিনে ভরপুর দানাগুলি দুটি ভোজনের মাঝে দেবার মতো বাহুল্য বর্জিত ও মুচমুচে হালকা খাদ্যবস্তু।  এগুলি নুন না দেওয়া লেবেলের নিলে তা আরও স্বাস্থ্যকর।

১৩) চিনাবাদাম মাখনের ক্র্যাকার

চিনেবাদানের মাখন প্রোটিনে ভরপুর, অবশ্য কেমনটা আপনি পাচ্ছেন, তার উপরেও নির্ভর করে।  প্যাকিং এর লেবেলে দেখে উচ্চ প্রোটিন পুষ্টিগুণ সম্পন্নটি কিনবেন, আর ক্র্যাকার, টোস্ট, এমনকি প্যানকেকের ওপরেও মাখিয়ে খেতে দিন।

১৪) কমলালেবুর রস

১০ টি পুষ্টিকর খাবার যা আপনার বাচ্চার উচ্চতা বাড়াতে সাহায্য করে

দুধ থেকেই যে যাবতীয় ক্যালসিয়াম পেতে হবে, তার মানে নেই — কমলালেবু থেকেও পেতে পারেন।  

উপরি পাওনা হিসেবে এতে অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিও আছে, যেমন ভিটামিন ডি আর এ।  খোসা ছাড়িয়ে রস বার করুন কিংবা ক্যালসিয়াম যুক্ত এর প্যাকেট কিনুন।

১৫) আমে দুধে

১০ টি পুষ্টিকর খাবার যা আপনার বাচ্চার উচ্চতা বাড়াতে সাহায্য করে

সর্বত্র এই সুমিষ্ট ফলটি বাচ্চাদের প্রিয় – এটিতে প্রচুর ভিটামিন এ আছে!  ছাড়ানো ঠান্ডা আম আর সম পরিমাণ দুধ ব্লেন্ডারে চালিয়ে স্বাদিষ্ট এবং স্বাস্থ্যকর পানীয় প্রস্তুত করুন।

সূত্র: টপ টেন হেলেথ রিমিডিস

যে খাবারগুলো শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য বিপদজনক

যে খাবারগুলো শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য বিপদজনক

একটি শিশুর সুস্থভাবে বড় হওয়ার জন্য দরকার সঠিক ও পুষ্টিকর খাবার। তাই শিশুর বৃদ্ধি ও সঠিক বুদ্ধির বিকাশের জন্য যে খাবার দেয়া হচ্ছে অবশ্যই তার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

অনেক সময় আত্মীয়স্বজনেরা শিশুকে বিভিন্ন ধরনের খাবার দিতে চান বা খাওয়াতে চান, সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে খাবারটি শিশুর জন্য বিপদজনক কি না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু মজাদার খাবার বাচ্চারা সহজে হজম করতে পারে না। এসব খাবার তার বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। 

শিশুর এক বছর হওয়ার আগে যেসব খাবার শিশুকে দেয়া বিপদজনক তার একটি তালিকা এখানে দেখানো হল।

১. গরুর দুধ

শিশুর প্রথম বছরের আগে গরুর দুধ না দেয়াই ভালো। কারণ গরুর দুধে থাকে বেশি প্রোটিন এবং সোডিয়াম যা শিশুর ছোট পেটে তা পরিপাক করতে ব্যাঘাত ঘটায়।

এছাড়া গরুর দুধে মায়ের দুধ ও ফর্মুলা দুধের থেকে কম আয়রন এবং অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি অ্যাসিড কম থাকে। কিন্তু আয়রন এবং ফ্যাটি অ্যাসিড শিশুর বৃদ্ধির জন্য অত্যাবশ্যক।

অনেক শিশুর ক্ষেত্রে যদি কম বয়সে গরুর দুধ দেয়া হয় তাহলে অ্যাসিডিটির ও অ্যালার্জির সৃষ্টি করতে পারে।

২. সামুদ্রিক মাছ

টুনা, স্যামন, কোরাল ইত্যাদি সামুদ্রিক মাছে উচ্চ পরিমাণে পারদ থাকে তাই এগুলো শিশুদের দেয়া ঠিক নয়।

পাস্তুরাইজেশন ছাড়া দুধে অনেক ধরনের বিপদজনক ব্যাকটেরিয়া থাকে। পাস্তুরাইজেশন ছাড়া দুধ তাই ছোট শিশুদের দেয়া উচিত না।

৩. মধু

শিশু জন্মের পর পরই অভিভাবকরা তাকে মধু চাটতে দেন। কিন্তু বাচ্চারা এক বছর না হওয়া পর্যন্ত এটা কোনভাবে দেয়া উচিত নয়।

শিশুর ৬ মাস বয়স পর্যন্ত মধু তো দূরের কথা কোনও খাবার শিশুর মুখে দেয়া যাবে না। কারণ এক বছর পর্যন্ত শিশুর বটুলিজম হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়, আর মধু এই ছত্রাক বহন করে।

৪. কিশমিশ

এই বয়সে তাদের কিশমিশ খাওয়ানো ভালো নয়। কিছুটা বড় হওয়ার পর দিতে হবে। কারণ কিসমিসে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন বিদ্যমান থাকে। যা এক বছরের কম শিশু গ্রহণ করতে সক্ষম হয় না।

৫. চকলেট

শিশুদের সবচেয়ে প্রিয় খাবার চকলেট। তবে এতে ব্যবহার করা কোকো বাচ্চাদের হজম শক্তি নষ্ট করে এবং দাঁতের ক্ষতি করে।

এ থেকে অনেক শিশুর অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। তাই যথাসম্ভাব চকলেট না দেওয়ায় ভাল আর ১বছরের আগে তো একদমই দেওয়া যাবে না।

৬. ডিম

এই বয়সে ডিম কিছুটা অ্যালার্জি উৎপাদক খাবার। তবে সবার সমস্যা হবেই তা নয়। তাই পরিবারে যদি কারো ডিমে অ্যালার্জি থাকে সেক্ষেত্রে কিছুদিন অপেক্ষা করে দেয়াই উত্তম।

যদি অ্যালার্জির কোন সমস্যা না থাকে তাহলে ডিম খেতে কোন সমস্যা হওয়ার কথা না। তবে দিতে হবে ধীরে ধীরে।

৭. বড় ফল ও সবজির বড় টুকরো

এই বয়সে সবজির বড় টুকরো যেমন গাজর, শশা ইত্যাদির এবং ফলের বড় টুকরো যেমন আপেল, নাশপাতি ইত্যাদি দেয়া উচিত নয়। ভালভাবে রান্না করে ছোট টুকরো করে বা পিষে দিতে হবে।

৮. শক্ত চকলেট বা জেলি

এই বয়সে এই খাবারগুলো শিশুদের দেয়া যাবে না, বর্জন করতে হবে। তা না হলে এতে শিশুর হজম শক্তি কমে যাবে।

৯. বাদাম

চিনাবাদাম বা এই ধরনের কিছু বাদাম অ্যালার্জির সৃষ্টি করে থাকে তাই সবচেয়ে ভালো হয় এসব খাবার শিশুর এক বছর বয়স হওয়ার আগে না দেয়া।

আর যদি পরিবার কোন সদস্যের বাদামে অ্যালার্জি থাকে তাহলে বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করে দিতে হবে বা ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে দিতে হবে।

১০. লবণ

শিশুদের কিডনি লবণ ও সোডিয়াম সহ্য করতে পারে না। কারণ লবণেই রয়েছে প্রচুর সোডিয়াম যা শিশুর পাকস্থলীতে খাবার পরিপাকে সমস্যার সৃষ্টি করে।

তাই শিশুর খাবারে লবণ না মেশানই ভালো। তবে এক বছর পরে শিশুর খাবারে অল্প অল্প করে লবণ মেশাতে পারেন।

কিন্তু এক বছরের আগে মোটেও শিশুর খাবার তৈরিতে লবণ ব্যবহার করা যাবে না।

ছয় মাসের পরে মায়ের বুকে দুধ যথেষ্ট নয়, কেন?

ছয় মাসের পরে মায়ের বুকে দুধ যথেষ্ট নয়, কেন?

কারণ, হু-র বিভিন্ন পরীক্ষা ও রাসায়নিক বিশ্লেষণে ৫৫০ মিলি বুকের দুধে ক্যালরি (ঘাটতি ৬০%), আয়রন (ঘাটতি ৯৫%), প্রোটিন (ঘাটতি ৪৫%), জিঙ্ক ও ভিটামিন এ-র (ঘাটতি ৯০%) লক্ষণীয় ঘাটতি প্রমাণিত।

বিশেষ করে ছয় থেকে আট মাস বয়সে আয়রন আর জিঙ্কের ঘাটতিই সবচেয়ে প্রকট। এই বয়সের একটি শিশুর আয়রন প্রয়োজন একজন প্রাপ্তবয়স্কের তুলনায় নয় গুণ বেশি আর জিঙ্ক চার গুণ বেশি।

শিশুকে চতুর ও বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধির বিশেষ ১০টি কৌশল

২৭০০ ক্যালরির হিসাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রয়োজন ০.৫ মিলিগ্রাম আয়রন ও ০.২৬ মিলিগ্রাম জিঙ্ক।

সেখানে নয় গুণ ও চার গুণ বেশি আয়রন ও জিঙ্কের সমাহাহরে খাবার তৈরি করে শিশুর প্রয়োজন মেটানো মুখের কথা নয়।

বিভিন্ন গবেষণা জানাচ্ছে আয়রনের অভাবজনিত অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা শিশুদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের থেকেও অনেক বেশি ব্যাপক।

মায়ের দুধে ৬ মাস পরে কী খাওয়াতে হবে?

মায়ের  দুধে ৬ মাস পরে কী খাওয়াতে হবে?

ছয় মাস একদিন থেকেই মায়ের দুধের সঙ্গে কঠিন/স্বল্প কঠিন/নরম বা কমপ্লিমেন্টারি ফুড খাওয়ানো শুরু করতে হবে।

যাতে নিক্তি মেপে নির্দিষ্ট পরিমাণে সরকারি নিদান অনুযায়ী আয়রন, জিঙ্ক, প্রোটিন ও ক্যালোরিও থাকবে। ফলে মায়ের দুধের বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদানের বিশাল ঘাটতি শিশুর বৃদ্ধিতে থাবা বসাতে পারবে না।

কমপ্লিমেন্টারি ফুড অপরিহার্য কেন?

কমপ্লিমেন্টারি ফুড অপরিহার্য কেন?

কমপ্লিমেন্টারি ফুড অর্থাৎ মায়ের দুধ ব্যতিরেকে অন্যান্য কঠিন খাদ্য শিশুর সঠিক বৃদ্ধির দিশা দেখায়। মাইলস্টোন ডেভেলপমেন্ট ঠিক থাকলে শিশু স্বাভাবিকভাবেই কঠিন খাবার গ্রহণ করবে, যেমন কোনও কিছুর সাহায্যে অথবা একা

মাছের স্বাস্থ্য উপকারিতা; জেনে নিন কোন মাছের কি গুণাগুণ রয়েছে

একা শিশু বসতে পারবে, মাথা শক্ত ও সোজা রাখতে পারবে, খাবার মুখের কাছে আনলে মুখ হাঁ করবে, জিভটাকে নিচু ও অনুভূমিক রাখবে যাতে সহজে চামচ মুখে প্রবিষ্ট হয়, ঠোঁট দিয়ে চামচটাকে চেপে ধরবে, যাতে খুব সামান্য খাবারই মুখ থেকে গড়িয়ে পড়ে আর খাবারটাকে গিলবে, ঠেলে উগরে দেবে না যাতে চিবুক দিয়ে গড়িয়ে নামে।

হার্ট অ্যাটাক (Heart Attack) এর লক্ষণ ও মুক্তির ৩০টি সমাধান

বাচ্চা সুস্থ স্বাভাবিক হলে তবেই তার পক্ষে কঠিন/ নরম খাবার গেলা সম্ভব। মাথা সোজা না থাকলে শিশুকে খাওয়ানো সম্ভব নয়, তেমনই খাবার দেখে শিশু যদি মুখ না খুলতে পারে, তাহলে তাকে জোর করে খাওয়ানো অসম্ভব।

বয়স অনুযায়ী শিশুর আয়রন ও জিঙ্ক

বয়স অনুযায়ী শিশুর আয়রন ও জিঙ্ক

০-৬ মাসে শিশুর (ছেলে বা মেয়ে) জিঙ্কের আরডিএ (রেকমেন্ডেড ডায়াটারি অ্যালাউন্সেস) ২ মিলিগ্রাম, ৭-১২ মাসে ৩ মিলিগ্রাম, ১-৩ বছরে ৩ মিলিগ্রাম ও ৪-৮ বছরে ৫ মিলিগ্রাম। আয়রন প্রয়োজন ৭-১২ মাসে ১১ মিগ্রা, ১-৩ বছরে ৭ মিগ্রা আর ৪-৮ বছরে ১০ মিগ্রা।

আরো পড়ুন: ব্রেস্ট ক্যান্সারে কারন, লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

জিঙ্ক, আয়রন বা অন্যান্য খাবারের সঠিক জোগান বজায় রাখা কি সম্ভব?

জিঙ্ক, আয়রন বা অন্যান্য খাবারের সঠিক জোগান বজায় রাখা কি সম্ভব?

বাড়িতে তৈরি খাবারে শিশুর বয়স অনুযায়ী নিক্তি মেপে উপরিউক্ত হিসেব অনুযায়ী আয়রন, জিঙ্ক, আয়োডিন, ভিটামিনস বা অন্যান্য মিনারেলস যুক্ত খাবার তৈরি একটু অসুবিধাজনক কিন্তু অসম্ভব নয়।

দানাশস্য এবং ডালে আয়রন, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম, রাইবোফ্ল্যাভিন, নিয়াসিন, থায়ামিন, ফোলেট, ভিটামিন এ-সি-ই, ভিটামিন বি সিক্স, টুয়েলভ ও

সেলেনিয়ামের ‘বায়ো অ্যাভেলেবিলিটি’ বা জৈব লভ্যতা থাকে যৎসামান্য, ফলে বাড়ির তৈরি খাবারে সর্বদাই পুষ্টির ঘাটতি থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা।

ঝামেলার সূত্রপাত কৃষি-বিপ্লবের হাত ধরে। প্রাক কৃষি যুগে আদিম মানুষ শিকার করে মাছ-মাংস ঝলসে খেতে অভ্যস্ত ছিল। মায়ের দুধের সঙ্গে প্রাণিজ প্রোটিন বা মেটে (লিভার) আয়রন ও জিঙ্কের অভাবকে পুষিয়ে দিত।

বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া ও ভিয়েতনামের ওপর করা একটি সমীক্ষা দেখাচ্ছে, বাড়ি বা স্থানীয় খাবার পুষ্টির বিচারে তখনই স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছে যখন সেই খাবারে জোড়া হচ্ছে (ফর্টিফায়েড) আয়রন সমৃদ্ধ প্রাণীর মেটে বা লিভার।

অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা কি কেবল আয়রনের অভাবজনিত কারণেই?

বাচ্চাদের মধ্যে গোলকৃমির প্রকোপও আয়রনের অভাবজনিত অ্যানিমিয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন বলছে, ৬-৫৯ মাস বয়সি ১০টি শিশুর মধ্যে সাতটি শিশুই অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতায় আক্রান্ত।

৬-৫৯ মাস বয়সি শিশুর অর্ধেক কেবলমাত্র প্রয়োজনীয় মাত্রায় (১৫ ppm) আয়োডিন পায় খাবার নুন থেকে।

শিশুকে মায়ের দুধ পানের বিশেষ কিছু কৌশল ও পরামর্শ | স্বাস্থ্য টিপস

অর্থাৎ ৬-৫৯ মাস বয়সি শিশুর অর্ধেকের পাতে আয়োডিনযুক্ত নুনটুকুও জোটে না। ২৫ শতাংশ মাত্র ১২-৩৫ মাস বয়সি শিশু ভিটামিন-এ’র পরিপূরক কোনও খাবার খায় বা পায়।

ভারত সরকারের নিদান, নয় মাস বয়স থেকে তিন বছর পর্যন্ত প্রতিটা শিশুকে ছয় মাস অন্তর নির্দিষ্ট মাত্রার ভিটামিন-এ খাওয়াতে হবে ভিটামিন-এ ডেফিসিয়েন্সিকে রুখতে।

শিশুর খাওয়াদাওয়া সংক্রান্ত আসল ব্যাধিটা তাহলে কোথায়?

শিশুর খাওয়াদাওয়া সংক্রান্ত আসল ব্যাধিটা তাহলে কোথায়?

আমাদের বর্তমান সময়ের কৃষ্টি-সংস্কৃতিতে প্রাণিজ প্রোটিন ৬-৮ মাসের বাচ্চার কাছে অচ্ছুৎ।

আট মাসের একটি শিশুকে সঠিক পুষ্টিমূল্য বজায় রাখতে দিনে ছয় থেকে আটবার শক্ত/নরম ফর্টিফায়েড খাবার খাওয়ানো প্রয়োজন।

একটি প্রামাণ্য গবেষণা জানাচ্ছে, ভারতে মাত্র ৪২% ভাগ্যবান শিশুকে দৈনিক ৬-৮ বার খাওয়ানো হয়।

বিয়ের আগেই গর্ভবতী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া! (ভিডিও সহ)

২ বছর বয়স পর্যন্ত পুষ্টিপ্রাচুর্যে ভরপুর খাবার শিশুর একান্ত প্রয়োজন; শিশুর বৃদ্ধি বিকাশ যেমন এই সময়টাতে সর্বাধিক ত্বরান্বিত হয় তেমনি শিশুর ভবিষ্যত খাদ্যগ্রহণের সুচারু অভ্যেসটিও তৈরি হয় এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দু’বছর সময়কালে।

শুধু পুষ্টি নয়, মায়ের দুধের বিকল্প হিসাবে ধীরে ধীরে শক্ত বা নরম কমপ্লিমেন্টারি ফিডিং শিশুকে খাদ্যের স্বাদ ও গন্ধের ব্যাপারেও সচেতন করে তোলে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে যার ভূমিকা অপরিসীম।

আরো পড়ুন: দুই হাতের উপর দাঁড়িয়ে আছে ভিয়েতনামের এই গোল্ডেন ব্রিজ

কখন কীভাবে শিশু খাবারের স্বাদ/গন্ধ বুঝতে শেখে?

কখন কীভাবে শিশু খাবারের স্বাদ/গন্ধ বুঝতে শেখে?

গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যপানের সময় খাদ্যের গন্ধের সঙ্গে শিশুর সম্যক পরিচয় ঘটে। কমপ্লিমেন্টারি ফুডের সঙ্গে মা যদি শিশুকে পুষ্টিকর ফল ও সবজি খাওয়ানোর অভ্যাস করতে পারেন, পরবর্তীকালে দেখা গেছে সেই শিশু কোনও খাবার থেকেই মুখ সরিয়ে নিচ্ছে না।

লুকনো খিদে বা ‘হিডেন হাঙ্গার’টা কী?

শিশু খাচ্ছে কিন্তু তার কানাকড়ি পুষ্টিও হচ্ছে না অর্থাৎ খিদেটা আক্ষরিক অর্থে লুকনোই থাকছে। পুষ্টি—খিদের সমার্থক ও সম্পূরক।

বিজ্ঞানসম্মত পন্থায় খাবার না খাওয়াতে পারলে শিশুর লুকনো খিদেকে (Hidden Hunger) বাগ মানানো কখনওই সম্ভব নয়।

ফলে শিশু অল্পেতেই হয়ে পড়বে ক্লান্ত; দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যাঘাত ঘটবে পড়াশোনায়, উৎপাদনশীলতায়। তার ফলে সামগ্রিক ক্ষতি দেশ ও দশের।

আরো পড়ুন: গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল খাওয়া কেন নিরাপদ নয়!

লুকনো খিদের ক্ষতির বহর কতটা?

এই লুকনো খিদে বা প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি ডেকে আনতে পারে মস্তিষ্কের অপরিমেয় ক্ষতি, অন্ধ্যত্ব। বহুগুণ বাড়াতে পারে শৈশবে ডায়েরিয়া, হাম ও ম্যালেরিয়ার আশঙ্কা।

একথা বলছে ছ’বছর আগেকার ইউনিসেফের প্রতিবেদন (The Micronutrient Initiative and UNICEF. Vitamin & Mineral Deficiency a Global Progress Report, 2010)

বয়সভিত্তিক উচ্চতা ও ওজনের স্কোর পরিষ্কার দেখিয়ে দেয়, দু’বছর পর্যন্ত পুষ্টির ঘাটতিকে, প্রকারান্তরে লুকনো খিদের স্বরূপকে।

বাচ্ছাদের মনোযোগ বৃদ্ধির বৈজ্ঞানিক ১৫টি কৌশল

শিশুর খাবার কত ধরনের হওয়া উচিত?

খাবারে বৈচিত্র্য আনতে সাতটি আলাদা আলাদা শ্রেণির খাবারের সুপারিশ করা হয়েছে। সাতটি দূর অস্ত, ৬-২৩ মাস বয়সি শিশুর মাত্র নয় শতাংশ চার ধরনের আলাদা আলাদা খাবার খেতে পায়।

ফলে ২০ শতাংশ পাঁচ বছরের নিচের বাচ্চার সুষম বৃদ্ধিই হচ্ছে নাো। আর ৪৮% বাচ্চা হয়ে পড়ছে খর্বকায় (Stunted)।

মায়ের দুধের পরিবর্তে ধীরে ধীরে শিশুকে শক্ত, আধাশক্ত বা নরম খাবারে অভ্যস্ত করুন

ভারতের পুব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিণের ১৫১ জন শিশু বিশেষজ্ঞদের নিয়ে করা এক সাম্প্রতিক সমীক্ষা জানাচ্ছে— সাধারণ অসুস্থতা আর টিকাকরণ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন অধিকাংশ শিশু বিশেষজ্ঞ।

তাঁরা মোটেই উৎসাহী নন শিশুদের খাবার সম্পর্কে। ফলত অদ্ভুত আঁধার এক এ ভারতে এসেছে আজ।

আরো পড়ুন: বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দৈত্য আকৃতি ৫টি বিমান

আর কী করণীয়?

খাবারকে সুস্বাদু করতে হবে, আমাদের মা-দিদিমারা জানেন বাচ্চার খাবারকে কীভাবে স্বাদু করতে হয়।

খাবারকে যতটা সম্ভব থকথকে করতে হবে, যাতে কম গড়ায় বা চিবুক বেয়ে নামে। সর্বোত্তম পরিচ্ছন্নতা সবসময় বজায় রাখতে হবে।

একবার দু’বার শিশু খাবার না খেলেই তা বাতিল করা যাবে না। পরপর আটবার যদি শিশু একই খাবার না খায়, তবেই বাতিল করবেন।

শিশুকে খাইয়ে বমি করানো অত্যন্ত বদভ্যাস। যে কথাগুলো বলা হল তার সবই গত এক যুগের হু, ইউনিসেফ ও আইএপি’র বহু প্রামাণ্য গবেষণার সারাংশ।

সানি লিওন এর ইতিহাস: সানি লিয়নের ৪০ অজানা তথ্য! ✔️

সব খাবারই ভালো আবার সব খাবারই মাত্রাতিরিক্ত বা অতিরিক্ত মশলাদার হলে খারাপ। তাই সব রকম খাবারই মিলিয়ে মিশিয়ে শিশুকে খাওয়াতে হবে, সেটাই হবে শিশুর সুষম খাদ্য। যা সহায়ক হবে শিশুর সর্বোত্তম বৃদ্ধি বিকাশে।

যখন-তখন খাবার নয়

অনেক শিশু স্কুল থেকে ফিরেই বিস্কুট, ফল বা ফলের রস ইত্যাদি খায়। তার এক ঘণ্টা পর হয়তো দুপুরের খাবারের সময়।

তখন সে ঠিকমতো খেতে চাইবে না, কারণ ইতিমধ্যেই তার খিদে নষ্ট হয়ে গেছে। আবার অনেক শিশু সারা দিন ইচ্ছামতো যখন-তখন বিস্কুট, ফল, লজেন্স, আইসক্রিম ইত্যাদি খেয়ে পেট ভর্তি করে রাখে। কিন্তু মূল খাবারের সময় তেমন কিছুই খায় না।

আমরা অনেকেই ভাবি, একটু জুস খেলে আর এমন কী পেট ভরল? এক-দুটি বিস্কুট বা সামান্য চিপস বা এক টুকরো চকোলেটই বা ওর ক্ষুধা কিভাবে নষ্ট করল!

আসলে এ ধরনের খাবারের মধ্যে প্রচুর সুক্রোজ বা চিনি থাকে, যা দ্রুত রক্তে মিশে যায়। এতে পেটে যথেষ্ট পরিমাণ খাবার না গেলেও রক্তে যথেষ্ট পরিমাণ চিনি চলে আসে।

রক্তে চিনি বাড়লে মস্তিষ্ক মনে করে, যথেষ্ট খাবার পেটে আছে। তখন ক্ষুধার অনুভূতি চলে যায়। বিপত্তি ঘটে এ কারণেই।

“সরি আমার কিছু করার নেই”

তাই আপনার শিশুকে সব সময় নিয়ম বা সময়সূচি অনুযায়ী খেতে অভ্যস্ত করে তুলুন। কী খাওয়াচ্ছেন, তার চেয়ে বড় কথা হলো, কখন খাওয়াচ্ছেন।

শিশু খেতে চাইছে না বা খাচ্ছে না—এ অজুহাতে তাকে ঘণ্টায় ঘণ্টায় খাবার দেবেন না। শিশু একেবারেই খেতে না চাইলে প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

যখন-তখন খাবার দিয়ে তার খিদে নষ্ট করবেন না।

বয়সভেদে শিশুর ক্ষুধা লাগার সময়ে কিছুটা পার্থক্য আছে। আপনার সন্তানের বয়স অনুযায়ী সেটি জেনে নিন।

যেমন—দুই মাস বয়স পর্যন্ত শিশু যখন খেতে চাইবে, তখন খাবার দিতে হবে। সাধারণত ২৪ ঘণ্টায় এ বয়সে তাকে আট বা তার বেশিবার বুকের দুধ দিতে হয়।

দুই থেকে ছয় মাস পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ছয়বার বা তার চেয়ে এক-দুবার বেশি বুকের দুধ দিতে হয়। ছয় থেকে ৯ মাস পর্যন্ত তিন থেকে পাঁচবার বুকের দুধের সঙ্গে অন্যান্য তরল বা নরম খাবার,

৯ মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত তিন থেকে চারবার বুকের দুধের সঙ্গে অন্যান্য খাবার, পরবর্তী দুই বছর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দুই থেকে চারবার বুকের দুধের সঙ্গে অন্যান্য খাবার দিতে হয়।

ফেসবুকের পরে এবার দেশে তৈরি হলো ‘হার্টসবুক’

সাধারণত দুই থেকে তিন বছর বয়সী বাচ্চাদের প্রতিবেলা খাবারের মাঝে দুই থেতে তিন ঘণ্টা বিরতি থাকা উচিত। বিরতির এই সময়ে যদি অন্য কোনো খাবার সে না খায়, তবে যথাসময়ে তার ক্ষুধা লাগার কথা।

তিন থেকে চার বছর বয়সীদের জন্য তিন থেকে চার ঘণ্টা বিরতিতে খাবার দেওয়া উচিত। এভাবে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কিশোর বয়স পর্যন্ত প্রতিবেলা খাবারের মাঝের বিরতি একটু করে বাড়বে। এরপর বড়দের সঙ্গে তিন বেলা খাবারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

শিশুর যত্নে করণীয়

আমরা অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে যাই, কিন্তু কেমন হয় যদি আমরা অসুস্থই না হই! একদম অসুস্থ না হওয়া হয়তো সম্ভব না।

কিন্তু হ্যাঁ, স্বাস্থ্য টিপস মেনে চললে অনায়াসেই আমরা অনেক অসুস্থ্যতা থেকে রক্ষা পেতে পারি। চলুন জেনে নিই কিছু স্বাস্থ্য টিপস যা আমাদের ও আমাদের সন্তানদের জানানো জরুরী।

আপনার শারীরিক দুর্বলতার মূল কারণগুলো জানেন কি?

খাদ্যের স্বাস্থ্যবিধি

শিশুদের প্রায়ই বমি, পেট ব্যথা লেগেই থাকে। অনেকে ক্ষেত্রে ডায়রিয়াও হয়ে যায়। এসবের জন্য অনেকাংশে দায়ী অস্বাস্থ্যকর খাবার ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবেশ।

সেজন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি খাবার তৈরি করা, পরিবেশন ও খাওয়ার সময় কিছু স্বাস্থ্য টিপস মানতে হবে।

  • খাওয়ার আগে সাবান অথবা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। হাত মোছার কাপড় বা তোয়ালেও পরিষ্কার হওয়া চাই।
  • খাবার খোলা জায়গায় রাখা যাবে না। কোন খাবার ঢাকনা ছাড়া না রাখাই উত্তম।
  • খাবার তৈরি করা বা রান্না করার সময় মায়েদের চুলের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। চুল যেন খাবারে না পড়ে। চুল পেটে গেলে পেট ফেঁপে থাকার সম্ভাবনা থাকে।
  • খাবার তৈরির সময় খাবারের সামনে কাশি বা হাঁচি দেয়া যাবে না। কাশি বা হাঁচি দেয়ার পর আবার ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করতে হবে।

হাত ধোয়ার স্বাস্থ্যবিধি

হাত ধোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে মীনা কার্টুনে কেমন গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তাতো আমরা দেখেছি। শুধু মীনা কার্টুন না প্রায় সব স্বাস্থ্যবিধিতে হাত ধোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ সারাক্ষণই আমাদের হাত কোন না কোন কাজে ব্যস্ত থাকে।

আর সারাক্ষণই হাতে লাগতে পারে জীবাণু। সেজন্য হাত ধোয়ার আলাদা গুরুত্ব দিতে হবে। হাত ধোয়া নিয়ে আমাদের একটা পূর্ণাঙ্গ ব্লগ আছে এইখানে।

সব উপদেশ শুধুমাত্র স্ত্রীর প্রতি কেনো?

ঘুমানোর স্বাস্থ্যবিধি

মানুষের সুস্বাস্থ্যের অন্যতম উৎস হচ্ছে ঘুম। রাতে ঠিকঠাক ঘুম না হলে পরের দিনটা কতটা বাজে যায় তা আমরা সবাই বুঝতে পারি।

সেজন্য শিশুদের সুস্বাস্থ্যের জন্য তাদের নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করতে হবে ও কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

  • শিশুদের ১০ ঘন্টা ঘুম নিশ্চিত করতে হবে।
  • বিছানা শুধু ঘুমানোর জন্য করুন। টিভি দেখা কিংবা হোমওয়ার্কের জন্য বিছানা ব্যবহার না করাই উত্তম।
  • ঘুমানোর নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে নিন। সবসময় ঐ একই সময় মানার চেষ্টা করুন।
  • লোমযুক্ত খেলনা বা টেডি বিয়ার নিয়ে ঘুমাতে না দেয়াই ভালো। লোমযুক্ত খেলনা নিয়ে ঘুমালে রাতে নিশ্বাসের সাথে খেলনার লোম নাকে গিয়ে ইনফেকশন হতে পারে।
  • শিশুদের নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের জন্য রুম থেকে এলার্ম ও অন্যান্য গেজেট দূরে রাখুন।
  • শিশুদেরকে ঘুমানোর উপকারিতা সম্পর্কে জানাতে হবে। ও ঘুমানোর স্বাস্থ্যবিধি অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।

মুখের ও দাঁতের স্বাস্থ্যবিধি

শিশুকে মুখ ও দাঁতের যত্ন না নিলে শিশুর মুখে ক্যাভেটি, নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ, মুখে ইনফেকশন ও দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। সেজন্য শিশুর মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্যবিধির দিকে নজর দেয়া জরুরী।

  • শিশুর দুই বার দাঁত ব্রাশ নিশ্চিত করুন। সকালের নাস্তার পর একবার ও রাতে ঘুমানোর আগে একবার।
  • শিশুর জন্য ছোট ও নরম টুথব্রাশ পছন্দ করুন।
  • দুই বছর বয়স থেকেই টুথপেস্ট ব্যবহার করে নিজে নিজে ব্রাশ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। অভ্যাস গড়ার জন্য শিশুর সাথে একসাথে ব্রাশ করতে পারেন।
  • ২ বছরের কম বয়সীদের জীবাণু নাশক টিস্যু (উইবস) দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে দিতে পারেন।
  • দাঁতের বাইরে, ভেতরে ও চর্বণকৃত অংশ ভালোভাবে ব্রাশ করতে হবে।

চুলের স্বাস্থ্যবিধি

চুলের যত্নে গুরুত্ব না দিলে শিশুর চুলে উঁকুন ও মাথার তুলিতে অনেক ইনফেকশন হতে পারে। এমন সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য শিশুর চুলের যত্নে কিছু বিষয়ের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিন।

  • শিশুর চুল ধোয়ার মতো বড় হলে সপ্তাহে দুই বার শ্যম্পু দিয়ে ভালোভাবে আপনার সন্তানের চুল ধোয়া নিশ্চিত করুন।
  • শিশুর চুল লম্বা হলে চুল ভালোভাবে বেঁধে রাখতে বলুন যেন নোংরা না হয়।
  • শিশুর বালিশ, ক্যাপ, চিরুনী ও অন্যন্য প্রসাধনী অন্য কারো সাথে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।

নখের স্বাস্থ্যবিধি

শিশুরা বাইরে খেলাধুলা করার মাধ্যমে, টয়লেট ব্যবহার করার সময় ও কোন কিছু ধরার মাধ্যমে শিশুর নখ ময়লা ও জীবাণু বহন করে।

পরে সেই জীবাণু বিভিন্নভাবে পেটে গিয়ে শিশু অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। শিশুর নখের স্বাস্থ্যবিধি মানার মাধ্যমে এইসব থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

  • শিশুর নখের দিকে নজর দিতে হবে। নখ বড় হলেই নিয়মিত শিশুর নখ কাটতে হবে।
  • অনেক শিশুর দাঁত দিয়ে নখ কাটে। শিশুকে এর ক্ষতি সম্পর্কে বুঝিয়ে এই অভ্যাস দূর করতে হবে।
  • খাওয়ার আগে ও পরে, কোন পোষা প্রাণী ধরার পরে, বাইরে থেকে আসার পরে, হাঁচি ও কাশি দেয়ার পরে, টয়লেট ব্যবহারের পরে ভালো করে নখের নিচের অংশ সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

শিশুদের যত্নে কিছু পরামর্শ

  • শিশুর নিয়মিত ওজন নেবেন। যদি কোন কারণে তার ওজন ক্রমেই বাড়তে থাকে, তবে শিশু কম খেলেও তাতে ভয়ের কোন কারন নেই।
  • শিশুর দাঁত ওঠার পর থেকে তাকে শক্ত খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস করুন।
  • কোনো রোগ রয়েছে কিনা তা দেখুন। হয়তো তার পেটে ব্যথা; কিন্তু তার সমস্যার কথা সে বলতে পারে না বলে কান্নাকাটি করে। খাবার খেতে চায় না।
  • প্রতিদিন একটি নিদিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস করুন। খাওয়ার ক্ষেত্রে সময়ের বেশি পার্থক্য তৈরি করবেন না।
  • খাওয়ার সময় শিশুকে মজার মজার গল্প শোনাতে পারেন।
  • যদি শিশুর ওজন ঠিক থাকে তবে অন্য শিশু বেশি খায়-আপনার শিশু কম খায়; এমনটি ভাবা একেবারেই উচিত নয়।
  • শিশুর যখন ক্ষুধা লাগবে, তখন খাওয়াতে হবে।
  • জোর করে খাওয়ানো যাবে না। খাবারের প্রতি শিশুর আগ্রহ তৈরি করতে হবে।
  • পরিবারের অন্যদের সাথে শিশুকে আলাদা থালায় খেতে দিতে হবে এবং তাকে নিজে নিজে খেতে উৎসাহ দিতে হবে। 
  • বাড়ির তৈরি করা খাবারে শিশুকে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। 
  • খাবারের আগে শিশুকে পানি, জুস, চকলেট ইত্যাদি দেওয়া যাবে না।
  • টেলিভিশন দেখিয়ে বা কার্টুন দেখিয়ে শিশুকে খাওয়ানো যাবে না। খাবারের প্রতি শিশুকে মনযোগী করে তুলতে হবে।   
  • শিশুকে বিভিন্ন ধরনের খাবার দিতে হবে। একই খাবার বার বার না খাইয়ে খাবারে বৈচিত্র্য আনতে হবে। 
  • শিশুকে তার প্রতিবার শেষ করা খাবারের জন্য অভিনন্দন জানাতে হবে।

সুনির্দিষ্ট সময়ে শিশুকে না খাওয়ালে কিছু অসুবিধা

সুনির্দিষ্ট সময়ে শিশুকে না খাওয়ালে কিছু অসুবিধা

♦   যে খাবার পেটে আছে, তা ঠিকমতো হজম হবে না।

♦   তার পরিপূর্ণভাবে খিদে লাগেনি বলে প্লেটের খাবার সে শেষ করতে পারবে না।

♦   যখন-তখন খাবার দেওয়ার কারণে যথাসময়ে তার খিদে লাগবে না।

♦   শিশু খাবারের যথাযথ স্বাদ অনুভব করতে পারবে না।

♦   খেতে পারছে না বলে ওই খাবারের প্রতি তার এক ধরনের বিরক্তি তৈরি হবে।

♦   জোর করে খাবার দিলে বমি ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেবে।

অযথা জোর করবেন না

একটা কথা আছে, বাচ্চা যখন খাবে এমনিতেই খাবে। বাচ্চাকে কখনো জোর করে খাওয়াবেন না।

তাকে একবার জোর করে খাওয়ালে পরে যখনই তাকে খাওয়াতে চাইবেন, তখনই সে ভয় পাবে। খাবারের প্রতি তার আগ্রহ কমে যাবে।

একসময় খাবারের প্রতি তার বিতৃষ্ণা জন্মাতে পারে। তাই হাতে সময় নিয়ে এমনভাবে খাওয়াতে হবে, যাতে খাওয়ার সময়টা শিশুর জন্য আনন্দদায়ক হয়।

তাকে লোভ দেখানো যাবে, প্রশংসা করা যাবে; কিন্তু জোর করা যাবে না।

আপনি ঘুমের মধ্যে বকবক করেন? জেনে নিন; আসল কারণ ও সেরা সমাধান

খাবারের জন্য ওর পিছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয়ও করবেন না। দশ থেকে পনেরো মিনিট সময়ে ওকে খাওয়ান। এরপর খেতে না চাইলে খাওয়ানো বন্ধ করে দিন।

একটা বিরতি দিন ওর আবার ক্ষুধা লাগার জন্য। ভালোভাবে ক্ষুধা না লাগলে পরের বেলার খাবার জোর করে খেতে দেবেন না।

টিভি বা কার্টুন দেখা অবস্থায় খাবার নয়

শিশুদের টিভি বা কার্টুন দেখিয়ে খাবার খাওয়ালে এগুলোতে সে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। এমনিতেই বেশি সময় টিভি দেখা শিশুর জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। টিভি দেখার সময় খাওয়ালে শিশুর বদহজম হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

পিরিয়ড বা মাসিক নিয়ে আপনার প্রশ্নের ১০১টি সমাধান ✅

কারণ এ সময় টিভিতে মনোযোগ থাকার কারণে পাকস্থলী থেকে প্রয়োজনীয় পাচক রস নিঃসৃত হয় না।

তাই দেখা যায়, টিভি দেখতে দেখতে খায় এমন শিশুরা সাধারণত পেটের পীড়ায় ভোগে বা মুটিয়ে যায়। শিশুর মনোযোগের ঘাটতিও ঘটে।

খাবারে ভিন্নতা আনুন

প্রতিদিন এক ধরনের খাবার না দিয়ে খাবারে ভিন্নতা আনুন। যদি তার মনের ভাব সে প্রকাশ করতে পারে, তবে সে যা খেতে চায় তা জেনে নিন।

তার পছন্দমতো খাবার স্বাস্থ্যসম্মতভাবে তৈরি করে খেতে দিন। বাইরের খাবরের অপকারিতা সম্পর্কে তাকে বলুন।

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার কিছু উপায়

দেখবেন, সে ঘরে তৈরি খাবার বেশি পছন্দ করতে শুরু করেছে। খাবারের সময় বড়দের সঙ্গে তাকেও টেবিলে বসান।

বড়দের মতো করে খেতে উৎসাহিত করুন। বাড়িতে অন্য শিশু থাকলে তাদেরও একসঙ্গে বসে খাওয়ান।

আবার বাইরের খাবার যে একেবারেই দেবেন না তা নয়। যখন বড়দের সঙ্গে কোথাও পার্টিতে যাবে বা পরিবারের সবার সঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাবে, নিশ্চয়ই বাইরের খাবার সে খেতে পারবে।

তবে তার জন্য আলাদা করে প্রতিদিন বাইরের খাবার ঘরে আনবেন না বা তাকে বাইরে খেতে নিয়ে যাবেন না।

আরো পড়ুন: স্ত্রী ব্রা খুললেই স্বামী হওয়া যায় না!

উপরের প্রতিবেদনটি কেমন হইছে তা আমাদের ফেসবুক পেজে জানান। যদি আপনার ওয়েবসাইট নিয়ে বা প্রতিবেদন নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকে বা কোন সাজেশন থাকে মন খুলে ফেসবুকে আমাদের জানান।

আর আপনি যদি এই ওয়েবসাইটে আপনার নিজের যে কোন ক্যাটাগরির লিখা লিখতে চান তাহলে আপনাকে অভিনন্দন! লিখা আপনার নামে ব্যাক্ললিংক সহ পাব্লিষ্ট হবে।

এবং আমরা আপনার মতামত ১০০% আন্তরিক ও গুরুত্বভাবে নিই এবং আপনাদের মতামত অনুযায়ী আমরা কাজ করে থাকি।

আশাকরি আপনিও বিনা দ্বিধায় জানাবেন। নিচে ফেজবুক পেজে লাইক দিয়ে সম্ভব ডটকমকের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ