শসা কেন খাবেন? শসার উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ কি?

0
270
শসার উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ

শসার উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ অনেক। আমাদের দেহে যেসব ভিটামিনের দরকার হয়, তার বেশির ভাগই শশার মধ্যে বিদ্যমান। সারা বিশ্বে আবাদ হওয়ার দিক থেকে ৪ নম্বরে রয়েছে যে সবজিটি সেটি হলো শসা। রূপচর্চা, পুষ্টিগুণমেদ নিয়ন্ত্রণ সহ নানান উপকারিতা আছে এই সহজলভ্য সবজির। মরিচের গুঁড়া দিয়ে খাওয়া বা সালাদে শসার তুলনা হয় না। অতিথি আপ্যায়নে বা নিজেদের আয়েসি খাবার আয়োজনে শসার সালাদ থাকা চাই-ই। খাবারের রুচি বাড়ানো আর খাবারের অতিরিক্ত তেলচর্বির ধাক্কা সামলাতে শসার উপকারিতা তুলনা হয় না। শসার এতোটুকু উপকারিতা কথা আমরা সবাই মোটামুটি জানি। শসার উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ সম্পকের্ আজকের প্রতিবেদন আসুন জেনে নিই কেন শসা খাবেন?

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রতিদিনের ডায়েটে যদি শসাকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন, তাহলে রোগমুক্ত জীবন পাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হতে সময় লাগে না। কারণ শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে শসার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই তো স্যালাড হোক কী ঝাল মশলা দেওয়া রাজকীয় পাখোয়ান, সবার সঙ্গেই শসাকে সঙ্গী হিসেবে পাঠানো হয়ে থাকে। আর কেন পাঠানো হবে নাই বা বলুন! শসার উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ কি?

আরো পড়ুন: কচুর শাক খেলে কি হয়? দেখুন ২০টি স্বাস্থ্য উপকারিতা!

শসার পুষ্টিগুণ কি?

কিন্তু প্রতি ১০০ গ্রাম শসাতে পাবেন

১৫ কিলো ক্যালরি, কার্বোহাইড্রেটস ৩.৬৩ গ্রাম, প্রোটিন ০.৬৫ গ্রাম, খাদআঁশ ০.৫ গ্রাম, ফোলেট ৭ মাইক্রোগ্রাম, নিয়াসিন ০.০৯৮ মিলিগ্রাম, থায়ামিন ০.০২৭ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ১০৫ আইইউ, ভিটামিন সি ২.৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ই ০.০৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন কে ১৬.৪ মাইক্রোগ্রাম, সোডিয়াম ২ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১৪৭ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৬ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.২৮ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৩ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২৪ মিলিগ্রাম, জিংক ০.২০ মিলিগ্রাম ছাড়াও আরও অনেক উপকারী পুষ্টি উপাদান।এসব উপাদান আপনার শরীরকে নানা রোগ থেকে যেমন সামলে রাখছে তেমনি রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করছে। 

শসা কেন খাবেন?

শসায় মধ্যে থাকে ইরেপসিন। এই এনজাইমটি প্রোটিনের মধ্যে ভাঙন ধরিয়ে আত্তীকরণে সাহায্য করে। শসার মধ্যে থাকা অ্যান্টিপ্যারাসাইটিক ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্রের সুস্বাস্থ্য রক্ষা করে। বাড়িতে হঠাৎ অতিথি সমাগম, ধোকলা বানান দু’মিনিটে।

আরো পড়ুন: লম্বা স্বামী আর খাটো স্ত্রীর সংসারই সবচেয়ে মধুর!

শসার উপকারিতা

জেনে নিন শসার এমন কিছু উপকারিতা

  • ফাইবার ও ফ্লুইডসমৃদ্ধ শসা শরীরে ফাইবার এবং পানির পরিমাণ বাড়ায়। পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফাইবার থাকার কারণে শসা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে থাকে।
  • শসায় রয়েছে স্টেরল নামের এক ধরনের উপাদান, যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এ ক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন, শসার খোসায়ও স্টেরল থাকে।
  • ওবেসিটি নিয়ন্ত্রণে শসা খুব উপকারী।
  • কিডনি, ইউরিনারি, ব্লাডার, লিভার ও প্যানক্রিয়াসের সমস্যায় শসা বেশ সাহায্য করে থাকে।
  • এরেপসিন নামক অ্যানজাইম থাকার কারণে শসা হজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা সমাধান করে থাকে।
  • শসা বা শসার রস ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও বেশ উপকারী।
  • শসার রস আলসার, গ্যাস্ট্রাইটিস, অ্যাসিডিটির ক্ষেত্রেও উপকারী।
  • মিনারেলসমৃদ্ধ শসা নখ ভালো রাখতে, দাঁত ও মাড়ির সমস্যায় সাহায্য করে।
  • ডাক্তারের পরামর্শনুযায়ী শসার রস খেলে আর্থ্রাইটিস, অ্যাগজিমা, হার্ট ও ফুসফুসের সমস্যায় উপকার হতে পারে। 
  • গাজরের রসের সাথে শসার রস মিশিয়ে খেতে পারেন, ইউরিক অ্যাসিড থেকে ব্যথার সমস্যা হলে অনেক কাজে দেবে।

আরো পড়ুন:
নিজে খাইতে পারো না! বিয়ে করে বউকে কী খাওয়াবা?
মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার কিছু উপায়
হাদিস অনুযায়ী সহবাসের নিয়ম; স্বামী স্ত্রীর মিলনের গুরুত্বপুর্ণ হাদিস

শসার আরো কিছু উপকারিতা

এবার বর্ণনা সহ জেনে নেওয়া যাক, শসার স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং বেশ কিছু স্বাস্থ্য টিপস। আমাদের ছোট একটি অভ্যাসে অনেক রোগ-বালাই থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

  1. হজম শক্তির জন্য শসা
    শসার মধ্যে ৯৬ শতাংশই পানি এটা কি জানতেন? শসার মধ্যে পানি ও উপকারী উপাদান থাকে। এতটা পানির পরিমাণ থাকার জন্য কোলনের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ভালো। কোষ্ঠবদ্ধতার সমস্যাতেও শসা খুবই ভালো কাজ করে। নিয়মিত পেট পরিষ্কার রাখতে এর জুড়ি নেই।
  2. দেহের পানিশূন্যতা দূর করতে শসা
    ধরুন আপনি এমন কোথাও আছেন, যেখানে হাতের কাছে পানি নেই, কিন্তু শসা আছে। বড়সড় একটা শসা চিবিয়ে খেয়ে নিন। পিপাসা মিটে যাবে। আপনি হয়ে উঠবেন চনমনে।কারণ, শসার ৯০ শতাংশই পানি।
  3. দেহের ভেতর-বাইরের তাপ শোষক
    কখনো কখনো আপনি শরীরের ভেতর-বাইরে প্রচণ্ড উত্তাপ অনুভব করেন। দেহে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। এ অবস্থায় একটি শসা খেয়ে নিন।এ ছাড়া সূর্যের তাপে ত্বকে জ্বালা অনুভব করলে শসা কেটে ত্বকে ঘষে নিন। নিশ্চিত ফল পাবেন।
  4. বিষাক্ততা দূর করে
    শসার মধ্যে যে পানি থাকে তা আমাদের দেহের বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ অপসারণে অনেকটা অদৃশ্য ঝাটার মতো কাজ করে। নিয়মিত শসা খাওয়ায় কিডনিতে সৃষ্ট পাথরও গলে যায়।
  5. প্রাত্যহিক ভিটামিনের শূন্যতা পূরণ করে
    প্রতিদিন আমাদের দেহে যেসব ভিটামিনের দরকার হয়, তার বেশির ভাগই শসার মধ্যে বিদ্যমান। ভিটামিন এ, বি ও সি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শক্তি বাড়ায়। সবুজ শাক ও গাজরের সঙ্গে শসা পিষে রস করে খেলে এই তিন ধরনের ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হবে।
  6. ত্বকবান্ধব খনিজের সরবরাহকারী
    শসায় উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও সিলিকন আছে, যা ত্বকের পরিচর্যায় বিশেষ ভূমিকা রাখে। এ জন্য ত্বকের পরিচর্যায় গোসলের সময় শসা ব্যবহার করা হয়।
  7. হজম ও ওজনহ্রাসে সহায়ক
    শসায় উচ্চমাত্রায় পানি ও নিম্নমাত্রার ক্যালরিযুক্ত উপাদান রয়েছে। ফলে যাঁরা দেহের ওজন কমাতে চান, তাঁদের জন্য শসা আদর্শ টনিক হিসেবে কাজ করবে। যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁরা স্যুপ ও সালাদে বেশি বেশি শসা ব্যবহার করবেন। কাঁচা শসা চিবিয়ে খেলে তা হজমে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। নিয়মিত শসা খেলে দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠ-কাঠিন্য দূর হয়।
  8. চোখের জ্যোতি বাড়ায়
    সৌন্দর্যচর্চার অংশ হিসেবে অনেকে শসা গোল করে কেটে চোখের পাতায় বসিয়ে রাখেন।এতে চোখের পাতায় জমে থাকা ময়লা যেমন অপসারিত হয়, তেমনি চোখের জ্যোতি বাড়াতেও কাজ করে।চোখের প্রদাহপ্রতিরোধক উপাদান প্রচুর পরিমাণে থাকায় ছানি পড়া ঠেকাতেও এটি কাজ করে।
  9. ক্যানসার প্রতিরোধে কাজ করে
    শসায় সিকোইসোলারিসিরেসিনোল, ল্যারিসিরেসিনোল ও পিনোরেসিনোল—এ তিনটি আয়ুর্বেদিক উপাদান আছে। জরায়ু, স্তন ও মূত্রগ্রন্থিসহ বিভিন্ন স্থানে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে এই তিন উপাদানের জোরালো সম্পর্ক রয়েছে।

    আরো পড়ুন: এক প্যাকেট কনডমের দাম ৬৪,০০০ টাকা!
  10. মুখ পরিষ্কার রাখে
    দুর্গন্ধযুক্ত সংক্রমণে আক্রান্ত মাড়ির চিকিৎসায় শসা দারুণ কাজ করে। গোল করে কাটা এক স্লাইস শসা জিহ্বার ওপরে রেখে সেটি টাকরার সঙ্গে চাপ দিয়ে আধা মিনিট রাখুন। শসার সাইটোকেমিক্যাল এর মধ্যে বিশেষ বিক্রিয়া ঘটিয়ে আপনার মুখের জীবাণু ধ্বংস করবে। সজীব হয়ে উঠবে আপনার নিঃশ্বাস।
  11. চুল ও নখ সতেজ করে
    শসার মধ্যে যে খনিজ সিলিকা থাকে তা আমাদের চুল ও নখকে সতেজ ও শক্তিশালী করে তোলে। এ ছাড়া শসার সালফার ও সিলিকা চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
  12. গেঁটেবাত থেকে মুক্তি
    শসায় প্রচুর পরিমাণে সিলিকা আছে। গাজরের রসের সঙ্গে শসার রস মিশিয়ে খেলে দেহের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নেমে আসে। এতে গেঁটেবাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

    আরো পড়ুন: আপনার শারীরিক দুর্বলতার মূল কারণগুলো জানেন কি?
  13. মাথাধরা থেকে নিষ্কৃতি
    ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকের মাথা ধরে। শরীর ম্যাজম্যাজ করে। শসায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি ও সুগার আছে। তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে কয়েক স্লাইস শসা খেয়ে নিলে ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পর এ সমস্যা থাকবে না।
  14. কিডনি সুস্থ রাখে
    শরীরের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা ঠিক রাখে শসা। এতে কিডনি থাকে সুস্থ ও সতেজ।
  15. ওজন কমাতে শসা
    যারা ওজন কমাতে চান তাদের নিত্য-নৈমিত্তিক খাবারের মধ্যে থাকে শসা। এক বার শসা খেলে দীর্ঘক্ষণ খিদে পায় না। ফলে ওজন কমাতেও সুবিধা হয়। ১০০ গ্রাম শসার মধ্যে মাত্র ১৫.৫৪ শতাংশ ক্যালোরি থাকে।

প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল বিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে প্রতিদিনের স্বাস্থ্য টিপস লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

Posted by: Tanjin alifa Rima

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here