লুব্রিকেন্ট জেল কি? লুব্রিকেন্ট জেল দাম ও ২০টি ব্যবহারবিধি!

781
লুব্রিকেন্ট ব্যবহারের নিয়ম
লুব্রিকেন্ট ব্যবহারের নিয়ম

যৌন উত্তেজনার ফলে মেয়েদের যোনিতে একটি বিশেষ ধরনের রস বা পিচ্ছিলধরণের ধাতু নিঃসরণ হয় যা যোনির ভিতরে পুরুষাঙ্গের চলনে সাহায্য করে। এই স্বাভাবিক যোনিরসের ক্ষরণ অনেকেরই হয় না। তাই যৌনাঙ্গ পিচ্ছিল করার জন্য লুব্রিকেন্ট জেল ব্যবহার করা হয়।

যোনি যথেষ্ট লুব্রিকেটেড না থাকা অবস্থায় সঙ্গমে গেলে পুরুষ ও মহিলা উভয়ের যৌনাঙ্গই আহত হতে পারে। তাই এই সমস্ত ক্ষেত্রে লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করা জরুরি। লুব্রিকেন্ট জেল কি? লুব্রিকেন্ট জেল কোথায় পাব? লুব্রিকেন্ট জেল দাম কত? লুব্রিকেন্ট জেল ব্যবহার ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

লুব্রিকেন্ট জেল কি

লুব্রিকেন্ট জেল কি এক কথায় উত্তর হলো: সহবাসের সময় যৌনাঙ্গ পিচ্ছিল করার জন্য লুব্রিকেন্ট জেল ব্যবহার করা হয়।

লুব্রিকেন্ট জেল যোনি শুষ্কতা কিন্তু অনেক মেয়ে / মহিলারই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াই হয়ে থাকে। এটি বিভিন্ন কারনে হয়ে থাকতে পারে যেমন: মানসিক চাপ, ক্লান্তি অথবা ঋতুস্রাব অনেক তৈলাক্তকর পণ্য যেমন ভ্যাসলিন, পেট্টোলিয়াম, বডি লোশন এই ধরনের প্রোডাক্ট আপনার কনডমের লেটেক্সকে নষ্ট করে আপনার কনডমকে মুহূর্ত এর মধ্যে ছিদ্র করে দিতে পারে।

আরো পড়ুন: এক প্যাকেট কনডমের দাম ৬৪,০০০ টাকা!

তাই লুব্রিকেন্ট জেল আপনার শরীরের প্রাকৃতিক লুব্রিকেশনের মতই কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। এটি খুব সহজই ধুয়ে ফেলা যাই, অন্যান পেট্টোলিয়াম মত শরীরের সাথে লেগে থাকে না। সুতরাং আপনি লুব্রিকেন্ট জেল মানে কে-ওয়াই (KY Jelly) জেলি নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারেন।

লুব্রিকেন্ট জেল
লুব্রিকেন্ট

তাছাড়া, অনেকে সহবাসে যৌনাঙ্গ পিচ্ছিল করার জন্য লুব্রিকেন্ট জেল হিসেবে ভ্যাসলিন, পেট্টোলিয়াম, বডি লোশন, নারিকেল তেল, গ্লিসারিন, পার্সোনাল লুব, সরিষার তেল, অলিভ ওয়েল ইত্যাদি ব্যবহার করেন।

প্রত্যেকটি জিনিসের আলাদা আলাদা গুণ থাকে, তাই যেটি যে কাজে পারফেক্ট সেটি সে কাজে ব্যবহার করাই উত্তম। বিশেষকরে, যৌন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা এসব ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করেন।

এসব ব্যবহারে আপনার কনডম ফেটে যেতে পারে। গ্লিসারিন কখনও অবস্থায় ইউজ করবেন না। পানি মিশিয়ে ব্যবহার করুন। তবে গ্লিসারিনের ব্যবহার সাধারনত নিরুৎসাহিত করা হয়।

লুব্রিকেন্ট জেল এর কাজ কি

লুব্রিকেন্ট জেল এর কাজ কি

আগে বলা হয়েছে, লুব্রিকেটিং জেল এর কাজ হলো সহবাসের সময় যৌনাঙ্গ পিচ্ছিল করার জন্য লুব্রিকেন্ট জেল ব্যবহার করা হয়।

পিচ্ছিল কারক হিসেবে পানি জাতীয় ব্যবহার করলে ভালো, কারণ কনডম এর জন্যে নিরাপদ। কিন্তু কেউ যদি তৈলাক্ত পিচ্ছিল কারক ব্যবহার করে তখন এটি কনডমের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট করে দিতে পারে।

রঙ দেয়া, সেন্ট দেয়া ও ফ্লেভার জাতীয় লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করা যাবে না। কারণ তা ইস্ট ইনফেকশন করে শুকনা ভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এক্ষেত্রে তেল এর পরিবর্তে পানি মিশিয়ে গ্লিসারিন ব্যবহার করতে পারেন বা লুব্রিকান্ট হিসাবে KY jelly ব্যবহার করতে পারেন ,যা আপনি পাশ্ববতী যে কোন বড় ফার্মেসিতে পাবেন ।

লুব্রিকেন্ট জেল এর দাম

লুব্রিকেন্ট জেল এর দাম
ছবি: দারাজ

লুব্রিকেন্ট জেল এর দাম বিভিন্ন কোম্পানি পণ্য বিভিন্ন ধরনের। তাই আপনি কোন পন্য ব্যবহার করবেন সেটার উপর নিভর করতেছে। বিশেষত, লুব্রিকেন্ট জেল এর মধ্যে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় কে ওয়াই ‍লুব্রিকেন্ট জেলটি ব্যবহার করে।

লুব্রিকেন্ট জেল এর দাম সবনিন্ম ১৫০ টাকা থেকে হাজার টাকা পযন্ত। তাই আপনার উপর নিভর করতেছে আপনি কোনটি কিনবেন।

তবে KY Jelly ব্যবহার করতে পারেন। এটাই পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশী ব্যবহূত নিরাপদ লুব্রিকেন্ট জেল।

কোথায় থেকে কিনবেন লুব্রিকেন্ট জেল?

আপনার নিকটবতী বড় কোন ফামেসী থেকে নিতে পারেন। অথবা অনলাইনে অডার করে কিনতে পারেন। দারাজ থেকে কিনতে পারেন।

লুব্রিকেন্ট ব্যবহারের নিয়ম

লুব্রিকেন্ট ব্যবহারের নিয়ম

যৌন উত্তেজনার ফলে মেয়েদের যোনিতে একটি বিশেষ ধরনের রস নিঃসরণ হয় যা যোনির ভিতরে পুরুষাঙ্গের চলনে সাহায্য করে। এই স্বাভাবিক যোনিরসের ক্ষরণ বিভিন্ন কারণে ব্যাহত হতে পারে—

  • ১) ৪০-এর কাছাকাছি বয়সি মেয়েদের যোনিরস ক্ষরণ কমে যায় মূলত মেনোপজের কারণে।
  • ২) প্রি-মেনোপজ পর্যায়েও কমে যায় সেক্স ড্রাইভ ও তার ফলেও যোনিরসের ক্ষরণ ব্যাহত হয়।
  • ৩) মেনোপজ না-হলেও স্ট্রেসজনিত কারণেও কমে যায় যোনিরস ক্ষরণ।
  • ৪) সন্তানের জন্মের পরে বেশ কিছুদিন পর্যন্ত মেয়েদের সেক্স ড্রাইভ কমে যায়।
  • ৫) হিস্টেরেক্টমি হলে, অর্থাৎ গর্ভাশয় বাদ গেলেও মেয়েদের যোনিরস ক্ষরণ অত্যন্ত কমে যায়।
  • ৬) অ্যান্টি-ইস্ট্রোজেন ওষুধ এবং কেমোথেরাপির জন্যেও ভ্যাজাইনাল ড্রাইনেস দেখা যায়।

যোনি যথেষ্ট লুব্রিকেটেড না থাকা অবস্থায় সঙ্গমে গেলে পুরুষ ও মহিলা উভয়ের যৌনাঙ্গই আহত হতে পারে। তাই এই সমস্ত ক্ষেত্রে লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করা জরুরি।

তা ছাড়া যে সব মেয়েদের পুরুষ সঙ্গীরা চেহারায় অনেকটা বেশি লম্বা-চওড়া, তাঁদের সব সময়েই লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করা উচিত।

ঠিকঠাক মেডিকেটেড লুব্রিক্যান্টই ব্যবহারই সঠিক পদ্ধতি। অনেকে না জেনেই পেট্রোলিয়াম জেলি বা ক্রিম ব্যবহার করেন যা একেবারেই উচিত নয়।

এগুলি থেকে র‌্যাশ এবং ইনফেকশন হতে পারে। কিছু প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে বাড়িতেই লুব্রিক্যান্ট তৈরি করা যায় বটে তবে সে চেষ্টা না করাই শ্রেয়।

বিভিন্ন কনডম কোম্পানিগুলিরই নানা ধরনের লুব্রিক্যান্ট পাওয়া যায় বাজারে। ওয়াটার বেসড অরগ্যানিক লুব্রিক্যান্টই অন্যান্য লুব্রিকেন্টের তুলনায় ভাল।

তবে যোনিতে লাগানোর জন্য উপযুক্ত যে লুব্রিক্যান্ট তা কখনওই অ্যানাল সেক্স-এর জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। অ্যানাল সেক্স বা পায়ুমৈথুনের জন্য আলাদা লুব্রিক্যান্ট রয়েছে।  

বি:দ্র: এই ওয়েবসাইট আপনাদের সাথে শুধুমাত্র তথ্য শেয়ার করা হয়। তাই আপনার সমস্যা অনুযায়ী পাশ্ববর্তী ডাক্তার বা ফামেসীতে যোগাযোগ করাই বেটার।

প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল বিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, প্রযুক্তি, খাবার, বিস্ময়কর পৃথিবী, সচেতনমূলক লেখা, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে  SOMVOB.COM লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।