রানু মন্ডল এর জীবনী: ফুটপাত থেকে সেলিব্রেটি! (ভিডিও)

113
রানু মন্ডল এর জীবন কাহিনী
রানু মন্ডল

রানু মারিয়া মন্ডল (জন্ম ৫ নভেম্বর ১৯৬২) একজন ভারতীয় গায়িকা যিনি বর্তমানে বলিউডে কাজ করছেন। রানাঘাট জংশন রেলওয়ে স্টেশনে তার এখন ব্যবস্থাপক অতীন্দ্র চক্রবর্তী আবিষ্কার করেছিলেন এবং ভাইরাল হওয়া তার গাওয়া ভিডিও আপলোড করেছেন।

এরপরে, তাকে সুপারস্টার সিঙ্গার গাওয়া রিয়েলিটি শোতে আমন্ত্রিত করা হয়েছিল যেখানে হিমেশ রেশমিয়া তাকে তার ছবি হ্যাপি হার্ডি এবং হিরের জন্য গান করার সুযোগ দিয়েছিল।

রানু মন্ডলের জীবন কাহিনী

 রানু মন্ডলের জীবন কাহিনী

মন্ডল ১৯৬০ সালের ৫ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরের নিকটবর্তী কৃষ্ণনগরের গ্রামে একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তার বাবা আদিত্য কুমার ছিলেন এক দরিদ্র হকার। শৈশবে মন্ডল তার বাবা-মা হারান এবং মাত্র ১৯ বছর বয়সে প্রয়াত বাবুল মন্ডলের সাথে তার বিয়ে হয়।

শুরু হয় দাদীকে নিয়ে তার একাকী জীবনযুদ্ধ। এই একাকিত্বই জাগিয়ে তোলে তার হৃদয়ে গানের জন্য অকৃত্রিম ভালোবাসা। চলে গানকে সঙ্গী করে টিকে থাকা।

এরপর একদিন তার বিয়ে হয় বলিউডের উজ্জ্বল তারা ফিরোজ খানের ব্যক্তিগত পাচকের সাথে। কলকাতা থেকে চলে আসেন মুম্বাইয়ে। সিনেমার পরিবেশে সিনেমার গান নিয়ে বয়ে চলে তার লাল-নীল সংসার।

প্রেমে পড়ে যান নামকরা বলিউড গায়িকা লতা মঙ্গেশকারের সুরের। মজে যান তার গানে। এরপরই আবার তার জীবনে ভাগ্যের নির্মম থাবা। হারিয়ে ফেলেন প্রিয় স্বামীকে। জীবনে আবার একাকিত্ব, আবার ঝড়।

কোথায় থেকে রানু মন্ডলকে মানুষ চেনে?

রানু মন্ডল
রানু মন্ডল শুন্য থেকে শিখরে

চলতি বছরের (২০ জুলাই ২০১৯) রানাঘাট স্টেশনে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়ে অতীন্দ্র চক্রবর্তী নামের এক তরুণ নিজের মোবাইলে রেকর্ড করেন লতা কণ্ঠী রানু মণ্ডল নামের এক ভবঘুরে মহিলার গান।

এরপরে সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলে নিমিষেই ভাইরাল হয়ে যায়। রানু রাতারাতি তারকা বনে চলে যায়। প্ল্যাটফর্ম থেকে উঠে এসে হিমেশ রেশমিয়ার চকচকে স্টুডিওতে পৌঁছে গিয়েছেন রানু মণ্ডল।

রানু মন্ডলের সাথে অতীন্দ্র চক্রবর্তী

তবে সবাই তাকে রানু মণ্ডল নামে চিনলেও তার পুরো নাম রানু মারিয়া মণ্ডল, থাকেন রানাঘাট স্টেশনের পাশে এক বাড়িতে।

লতা মঙ্গেশকরের ‘প্যায়ার কা নগমা’ গানটি গেয়ে রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়ার সুরসম্রাজ্ঞী হয়ে উঠেছেন তিনি। এর আগে স্টেশনে গান গেয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করাই ছিল তার পেশা।

ভাইরাল হওয়ার আগের রানু মন্ডল

ভাইরাল হওয়ার আগে

যে গান গেয়ে রানু মন্ডল আজ ভাইরাল

যে গান গেয়ে রানু মন্ডল ভাইরাল

ভাইরাল হওয়ার পর রানু মন্ডল তার অহংকার নিয়ে সমালোচনায় পড়েন

যে কথাগুলো বলে সমালোচনার মুখে

রানু মন্ডল পরিবার

রানু মন্ডল পরিবার
রানু মন্ডল ও তার মেয়ে

রানুর বেড়ে উঠা রানাঘাটের স্টেশন চত্বরে। সেখানে ভিক্ষাবৃত্তি করেই দিন পার করতেন তিনি। তার এক মেয়ে। নাম স্বাতী রায়। মা ভিক্ষাবৃত্তি করার কারণে গত ৪ বছর ধরে মেয়ের চেহারা দেখার সৌভাগ্য হয়নি রানুর।

যার কারণে শেষের বছরগুলো বুকে কষ্ট নিয়েই দিন পার করেছেন তিনি। আর রানাঘাট স্টেশনই ছিলো নিজের মেয়ের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনার জায়গা। কখন ফিরে আসবে তার মেয়ে?

যেভাবে রানু মন্ডলকে চেনে পুরো বিশ্ব

অবশেষে সেই অপেক্ষার প্রহর যেন ফুরালো, মা যখন রাতারাতি সেলিব্রেটি হয়ে গেলেন তখন ফিরে এসেছে রানুর মেয়ে স্বাতী, আবারো মেয়ের কাছ থেকে শুনেছেন ‘মা’ ডাক। 

মাত্র ১৯ বছর বয়সে বাবলু মণ্ডল নামে এক প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয় রানু মণ্ডলের। বিয়ের পর জন্ম হয় রানুর একমাত্র মেয়ে স্বাতীর।

আরো পড়ুন: মানুষ চাইলে সবই পারে; মনজিলা শাহরিয়ার এলোরা

বিয়ের পর স্বামী বাবলু মণ্ডলের সঙ্গে মুম্বইতে হাজির হন রানু। সেখানেই তিনি রানু মণ্ডল হিসেবে পরিচিত হয়ে বাণিজ্য নগরীর বিভিন্ন বারে গান গাইতে শুরু করেন।

যদিও বারে গান গাওয়া, তার স্বামীর অপছন্দ ছিল। ফলে রোজগার হলেও খুব কম সময়ের মধ্যেই সেখানে গান গাওয়া বন্ধ করে দেন রানু মণ্ডল।

স্বামী বাবলু মণ্ডলের মৃত্যুর পর মুম্বাই থেকে রানাঘাটে ফিরে আসেন রানু। রানাঘাট স্টেশনে বসেই এরপর গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। রোজগারের জন্য স্টেশনে বসে গান গাওয়াকেই বেছে নেন ৫৬ বছর বয়সী এই মহিলা।

যেভাবে রানু মন্ডলকে চেনে পুরো বিশ্ব

যেভাবে রানু মন্ডলকে চেনে পুরো বিশ্ব

রানু সবসময়ই রেল স্টেশনে মেয়ের আশায় বসে থাকতেন, গাইতেন আর ভিক্ষা করতেন। একদিন একইভাবে গেয়ে যাচ্ছিলেন রানু।

ওই সময় লতা মঙ্গেশকরের গান ‘প্যার কা নাগমা’ গাইলে অতীন্দ্র চক্রবর্তী নামের এক যুবক তার গান শুনে মুগ্ধ হয়ে রেকর্ড শুরু করেন।

শুধু রেকর্ডই করেননি বরং তিনি গানটি আপলোড করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। এরপর থেকে রাতারাতি তারকা বনে যান রানু।

রানু মন্ডলের গান ভাইরাল হওয়ার পর

এদিকে স্টেশন শিল্পীর ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর রানুর গান শুনে ফোন আসতে শুরু করে সুদূর দিল্লি-মুম্বাই থেকেও।

ইতোমধ্যে মুম্বাইয়ের এক টেলিভিশন চ্যানেল ফোন করে আমন্ত্রণ জানিয়েছে রানুকে। দিল্লির একটি সমাজসেবী সংস্থা থেকেও যোগাযোগ করা হয়েছে তার সঙ্গে।

তবে রানুর ফোন নেই। তাই একটু বেগ পেতে হচ্ছে তাদের। আর এই কাজে এগিয়ে এসেছেন তার গান রেকর্ড করা সেই যুবক অতীন্দ্র। বাইরের রাজ্যগুলো থেকে তার মোবাইলেই ফোন আসছে রানুর কাছে।

রানুর গানটি ভাইরাল হওয়ার পর রীতিমত বলিউডের প্লে-ব্যাক গায়িকা বনে যান তিনি। সেই সুবাধে রানু এবার খ্যাতনামা সংগীতকার হিমেশ রেশামিয়ার তত্বাবধানে রেকর্ড করে ফেললেন এক নতুন ছবির গান।

‘হ্যাপি হার্ডি অ্যান্ড হির’ নামে হিমেশ প্রযোজিত এক ছবির জন্য গান গেয়েছেন রানু মারিয়া মণ্ডল। যেই ছবি আপাতত মুক্তির অপেক্ষায়।

তবে চমকপ্রদ খবর হল, তাতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন সালমান খান। অভিনয় করছেন প্রযোজক হিমেশ নিজেও। ছবির সংগীতের দায়িত্বও হিমেশ রেশামিয়ার কাঁধেই।

সোশ্যাল মিডিয়ায় রানুর গান শুনেই বেশ মনে ধরেছিল হিমেশের। তাকে দিয়েই নিজের ছবির ‘তেরি মেরি কাহানি’ গান গাওয়ালেন হিমেশ। 

আরো পড়ুন: সানি লিওন এর ইতিহাস: সানি লিয়নের ৪০ অজানা তথ্য! ✔️

এই প্রসঙ্গে সংগীত পরিচালক ও গায়ক হিমেশ বলেন, সালমান ভাইয়ের বাবা সেলিম আংকেল আমাকে একবার বলেছিলেন জীবনে প্রতিভাবান মানুষের সঙ্গে আলাপ হলে তার পাশে দাঁড়াতে। যথাসম্ভব সাধ্যমতো তাকে সাহায্য করতে। আমিও সেই চেষ্টাই করেছি।

এরপর রানাঘাটের স্টেশন চত্বর থেকে সোজা হিমেশের রেকর্ডিং স্টুডিওতে রানু। অবাক হলেও এই ঘটনাই সত্যি।

এর পর থেকে এও শোনা যাচ্ছে, আর স্টেশনে থাকতে হবে না রানুকে, কারণ সালমান নাকি নিজেই এবার তাকে ৫৫ লাখ টাকার বাড়ি উপহার দিয়েছেন।

এদিকে, সেপ্টেম্বর মাস থেকেই শুরু হবে রানু মণ্ডলে নিয়ে নির্মিত বায়োপিক এর শুটিং। পরিচালক নবাগত হৃষীকেশ মণ্ডল।

তবে এই পরিকল্পনা যিনি করেছেন তিনি ক্যাকটাস ব্যান্ডের গায়ক সিদ্ধার্থ রায় ওরফে সিধু। ছবির সঙ্গীত পরিচালকও তিনি। আর ছবিতে একাধিক গান গাইবেন রানু নিজেই।

আরো পড়ুন: ডাক্তার জাকির নায়েকের পূর্ণাঙ্গ জীবনী (সর্বশেষ ২০১৯ সংস্কার)

একজন ভবঘুরে থেকে রীতিমতো লাইমলাইটে রানু মণ্ডল। বিধাতা প্রতিটি মানুষের মধ্যে বিশেষ কিছু দিয়ে থাকেন, শুধু সেটা প্রকাশের জন্য সুযোগ আর সময়ের প্রয়োজন। যেটা রানু মণ্ডলের জীবনে এসেছে বলে মনে করেন সোশ্যাল অডিয়েন্সরা।

বাংলাদেশে আসছেন রানু মন্ডল

রানু মন্ডল
রানু মন্ডল

বুধবার কলকাতার সংবাদমাধ্যমগুলো থেকে এ তথ্য জানা যায়।

শোনা যাচ্ছে, বলিউডে প্লে ব্যাক করার পর বাংলাদেশ থেকে রেকর্ডিংয়ের প্রস্তাব পেয়েছেন রানু মণ্ডল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি হয়ে গেলে খুব শীঘ্রই রানু বাংলাদেশে পাড়ি দিতে পারেন।

এদিকে, বিদেশে যাওয়ার জন্য পাসপোর্টের আবেদন করতে রানু মণ্ডল ইতিমধ্যেই রুবি মোড়ের কাছে পাসপোর্ট অফিসে হাজির হয়েছিলেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

তাঁকে রুবি মোড়ের পাসপোর্ট অফিসের সামনে দেখা যেতেই ছড়িয়ে পড়ে রানুর বিদেশ যাত্রার খবর।

শোনা যাচ্ছে, বাংলাদেশ ছাড়াও কেরালা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রানুর কাছে গানের রেকর্ডিংয়ের প্রস্তাব এসেছে।

এছাড়াও দেশ বিদেশের বিভিন্ন রিয়েলিটি শোতে অংশ নেয়ার জন্যও রানুর কাছে প্রস্তাব আসছে বলে জানা গেছে।

প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে  SOMVOB.COM লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।