মেদ ও ভুঁড়ি কমানোর (৪০) টি বিশেষ স্বাস্থ্য টিপস

550
মেদ ও ভুঁড়ি কমানোর (৪০) টি বৈজ্ঞানিক উপায়

মেদ ভুড়ি কমানো নিয়ে আমরা কতই না চিন্তা করি! কিন্তু মেদ কমানো কোন কঠিন বিষয় না। আজকে আমাদের বিশেষ স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে আয়োজন। সারাদিন বসে অফিসে কাজ করা, খাওয়াদাওয়ায় অনিয়ম, ভুলভাল ডায়েট, শরীরচর্চা না করা, হাঁটার অভ্যাস না থাকাসহ এমন আরও অনেক কারণে বেড়ে যেতে পারে পেটের মেদ। হ্যান্ডসাম দেখতে অথচ পেটের কাছে গোলগাল একটা ভূঁড়ি , আপনার স্মার্টনেস নষ্ট করতে যথেষ্ট। শুধু দেখতে ভালোলাগবে বলেই নয়, নিজের সুস্থতার জন্যও পেটের মেদ দূর করা জরুরি। মেদ ও ভুঁড়ি কমানোর (৪০) টি বিশেষ স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে আমাদের আজকে বিশেষ প্রতিবেদন আলোচনা করা হলো।

পেটের মেদ কমানোর ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম মানতে হবে। তবে যদি অত সময় নাও পান, অথচ কিছু কৌশল মানেন, তাহলেও মেদ দূর করা যায়। সেজন্য খুব বেশি নয়, দুই-এক মিনিট সময় দিলেই তা মেদ ঝরানোর পক্ষে যথেষ্ট।

ভুঁড়ি হবার অন্যতম কারণ খাবার ঠিকভাবে হজম না হওয়া। দুপুরে খাবার পর ঘুমাবেন না। রাতে ঘুমানোর অন্তত দুই ঘন্টা আগে খাবার খান এবং খেয়ে কিছুক্ষণ হাঁটুন। শহুরে যান্ত্রিক জীবনে ইদানিং আমাদের দৈহিক শ্রম কমে এসেছে, বেড়েছে মানসিক শ্রমের প্রয়োজন। আর তাই দীর্ঘ সময় বসে বসে কাজ করা, কায়িক পরিশ্রম কম করার কারণে অনেকেরই পেটে চর্বি জমার প্রবণতা দেখা দেয়। এতে শুধু দেখতেও খারাপ লাগে না বরং পেটের এই অতিরিক্ত চর্বির কারণে বেড়ে যায় ওজন এবং এর চাপ পড়ে পায়ের ওপর। এর ফলে অসময়েই ক্ষয়ে যেতে পারে পায়ের হাড়!

এতে খাবার ভালোভাবে হজম হবে, পেটে চর্বি জমবে না। কুঁজো হয়ে হাঁটবেন বা বসবেন না। দীর্ঘ সময় কুজো হয়ে এক স্থানে বসে থাকা, কম্পিউটারে কাজ করা এসবের কারণে ভুঁড়ি বেড়ে যায়। খাবার গ্রহণে অনিয়মও বাড়ায় পেটের চর্বি। এছাড়াও হতে পারে আরো নানান শারিরীক সমস্যা।

পেটে মেদ কমাতে প্রতিদিন এক মিনিট সময় দিন

পেট ও কোমরের কোর মাসলকে শক্তিশালী করে তুলতে প্লাঙ্কের জবাব নেই। কিন্তু তার মানেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা নানারকম শরীরচর্চায় ডুবে থাকতে হবে এমন নয়। বরং অফিস থেকে ফিরে প্লাঙ্কের জন্য রাখুন মিনিটখানেক সময়। কিন্তু কেমন করে করবেন এমন প্লাঙ্ক? প্রথম দিকে অনভ্যস্ত শরীরে হাতের কনুই পর্যন্ত মাটির সঙ্গে ঠেকিয়ে প্লাঙ্ক করুন। অভ্যস্ত হয়ে গেলে হাতের পাতা ও পায়ের পাতা মাটিতে রেখে বাকি শরীরটা শূন্যে তুলে প্লাঙ্ক করুন।

ক্রাঞ্চ ও সিটআপে যতটা না উপকার হয়, তার চেয়ে আরও কয়েক গুণ বেশি উপকার হয় নির্দিষ্ট কয়েকটি প্ল্যাঙ্ক অভ্যাস করলে। ভুঁড়ি কমানোর জন্য তাই প্ল্যাঙ্ক অব্যর্থ। এর মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর সাইড প্লাঙ্ক।

এটি নিয়মিত অভ্যাসের ফলে পেট ও কোমরের কোর মাসলের শক্তি বাড়়ে। পেশী টানটান হয়, সঙ্গে মেদ জমে থাকার অবকাশও পায় না। শরীরকে টোনড করে রাখতে হলে এই ধরনের প্লাঙ্ক খুবই কার্যকরী। এই জাতীয় প্লাঙ্ক এক্সারসাইজ আসলে মেরুদণ্ডের ভিতরের পেশীগুলোর জোর বাড়ায় ও শক্তপোক্ত করে মেদ ঝরাতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুন: সুখী হতে কি টাকা লাগে? এই ৪০টি সিম্পল উপায় দেখুন!

প্রথমেই এক-দুই মিনিট ধরে রাখতে পারবেন না প্লাঙ্ক। অনভ্যস্ত শরীর হলে ১০ সেকেন্ড, ২০ সেকেন্ড করে ঘড়ি ধরে ছোট ছোট টার্গেটে ভাগ করে নিন সময়সীমা।

প্রথম কয়েক দিন ১০ সেকেন্ড ধরে থাকুন। শরীরে সয়ে এলে তা বাড়িয়ে ২০ সেকেন্ড করুন। ধীরে ধীরে এভাবে সময় বাড়ান। এক মিনিট টানা এমন প্লাঙ্ক ধরে রাখতে পারলে বুঝবেন, শরীর প্লাঙ্কের জন্য যেমন তৈরি হয়েছে, তেমনই মেদও কমছে ধীরে ধীরে। ওজনপাল্লায় দাঁড়ালেই এই দিনকয়েকের তফাত বুঝবেন।

সাইড প্ল্যাঙ্ক করার সময় এক হাত আর এক পা মাটিতে রাখবেন। অন্য হাত তুলে দিন উপরে, একটি পায়ের উপর অন্যটি থাকবে। যতক্ষণ পারেন তা ধরে রেখে হাত ও পা বদল করুন।

প্লাঙ্কের সময় পেট ভিতর দিকে টেনে রাখতে পারলে আরও উপকার পাবেন। তবে এটি করার আগে ট্রেনারের পরামর্শ ও সাহায্য নিয়ে করবেন। শরীরের ক্যালোরি এতে বেশি বার্ন হবে।

তবে প্লাঙ্ক করলেই হবে না। তার জন্য কিছু সতর্কতাও মেনে চলতে হয় বইকি। নইলে হিতে বিপরীত হতে পারে। সাইড প্লাঙ্ক করার সময় শরীরের গড়ন ও পজিশনের উপর খেয়াল রাখুন। প্লাঙ্কের সময় শরীর যেন ভূমিতলের সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে থাকে। ভুলবশত কোমর উঁচু হয়ে থাকলে সেখানে বাড়তি চাপ পড়বে। সেক্ষেত্রে কোমরের সমস্যায় ভুগতে হতে পারে ।

আরো পড়ুন: তুলসী পাতার গুনাগুন উপকারিতা ও ৬১ টি স্বাস্থ্য টিপস

চর্বি ভুড়ি কমাবার জন্যে রইলো কিছু কার্যকর টিপস

হাঁটুন

প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটুন। যে দূরত্বে হেঁটেই যেতে পারবেন সেখানে রিকশা করে যাবেন না। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটুন। প্রথম কিছুদিন ক্লান্ত লাগলেও কয়েক দিন পর এটা আপনার অভ্যাসে পরিণত হবে।

ভাজা পোড়া কম খান

ভাজা পোড়া জাতীয় খাবার কম খান। চেষ্টা করুন কম তেলে রান্না করা বা সেদ্ধ করা খাবার খেতে।

ফাস্টফুডকে না বলুন

কোনভাবেই ফাস্টফুড খাবেন না। মেয়োনেজ, পনির, সস, তেল, মাখন এসব আপনার পেটে চর্বি জমতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

ঘুমাবার আগে হাঁটুন

ভুঁড়ি হবার অন্যতম কারণ খাবার ঠিকভাবে হজম না হওয়া। ঘুমাবার অন্তত দুই ঘন্টা আগে রাতের খাবার খান এবং খেয়ে কিছুক্ষণ হাঁটুন। এতে খাবার ভালোভাবে হজম হবে। পেট বাড়বে না।

লিফট নয় সিঁড়ি

অফিস বা বাসায় যতটা সম্ভব লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। এটা পেটের জমে থাকা চর্বি অপসারণের খুব ভাল উপায়। এতে পেটের উপর চাপ পড়ে ও আস্তে আস্তে চর্বি কমতে থাকে।

অভ্যাসে সচেতন হোন

চেষ্টা করুন সব সময় সোজা হয়ে দাঁড়াতে, বসতে ও হাঁটতে। কুঁজো হয়ে হাঁটবেন বা বসবেন না। দীর্ঘ সময় কুজো হয়ে এক স্থানে বসে থাকা, কম্পিউটারে কাজ করা এসবের কারণে ভুঁড়ি বেড়ে যায়। প্রতি এক ঘন্টা অন্তর একবার উঠে দাঁড়ান ও সোজা হয়ে বসুন।

খাবার গ্রহণে নিয়ম মেনে চলুন

দিনে তিন বেলা ভারী খাবার খাওয়ার চেয়ে ৫ বেলা কম করে খান। একেবারে না খেয়ে থাকা ঠিক নয়। ভাত খাবার চেয়ে ফল বা সবজি বেশি করে খান। পেট ভরবে কিন্তু ভুঁড়ি বাড়বে না।

আরো পড়ুন: সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ স্বাস্থ্য টিপস (ছবিসহ) ‍⚕️

পানীয়

কোক বা সফট ড্রিঙ্কস আপনাকে কিছুক্ষণের জন্যে প্রশান্তি দিতে পারে কিন্তু এটা আপনার পেটে চর্বি জমানোর পেছনে দায়ী। একই ভাবে বাজারের ফ্রুট জুসে থাকা প্রচুর চিনি ও অন্যান্য উপাদান আপনার ভুঁড়ি তৈরীতে সহায়ক। তাই এর বদলে প্রচুর পানি, বাসায় বানানো ফলের জুস, ফ্রুট সালাদ হতে পারে খুব ভালো বিকল্প।

একটি বিশেষ ব্যায়াম

একটি বড় বল নিন। সেই বলের ওপর দু পা তুলে দিয়ে চিত হয়ে শুয়ে পরুন। এবার নিজের পায়ের পাতা স্পর্শ করতে চেষ্টা করুন বা উঠে বসতে চেষ্টা করুন। এভাবে দৈনিক ২০ বার করুন। আস্তে আস্তে বাড়িয়ে ৫০ বার করে ফেলুন। ভুঁড়ি কমাতে এর চাইতে কার্যকরী ব্যায়াম কম আছে। খুব কম সময়ে পেটের মেদ ঝরিয়ে সুন্দর আকারে চলে আসবে আপনার শরীর। ব্যস, এবারে কিছু কৌশল অনুসরণ করেই ঝরিয়ে ফেলুন দেহের বাড়তি মেদ ভুঁড়ি। সুন্দর থাকুন, সুস্থ থাকুন।

প্রতিদিন সকালে উঠেই খালি পেটে ২/৩ কোয়া রসুন চিবিয়ে খেয়ে নিন, এর ঠিক পর পরই পান করুন লেবুর রস। এটি আপনার পেটের চর্বি কমাতে দ্বিগুণ দ্রুতগতিতে কাজ করবে। তাছাড়া দেহের রক্ত চলাচলকে আরো বেশি সহজ করবে এটি।

লেবুর রস

এক গ্লাস গরম পানিতে অর্ধেকটা লেবু চিপে নিন, এতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে নিন। চিনি দেবেন না। এবার পান করুন প্রতিদিন সকালে। এটি আপনার দেহের বাড়তি মেদ ও চর্বি কমাতে সব চেয়ে ভালো উপায়।

চিনিযুক্ত খাবার খাবেন না

মিষ্টি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার, কোল্ড ড্রিংকস এবং তেলে ভাজা স্ন্যাক্স থেকে দূরে থাকুন। কেননা এ জাতীয় খাবারগুলো আপনার শরীরের বিভিন্ন অংশে, বিশেষত পেট ও উরুতে খুব দ্রুত চর্বি জমিয়ে ফেলে। তাই এগুলো খাওয়ার পরিবর্তে ফল খান।

মশলা খান

রান্নায় অতিরিক্ত মশলা ব্যবহার করা ঠিক নয়। তবে কিছু মশলা ওজন কমাতে সাহায্য করে ম্যাজিকের মতো। রান্নার ব্যবহার করুন দারুচিনি, আদা ও গোলমরিচ। এগুলো আপনার রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাবে ও পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করবে।

আরো পড়ুন: কিডনি রোগ প্রতিরোধের ২০টি উপায়; কিডনি সুস্থ রাখার খাবার

মাংস থেকে দূরে থাকুন

অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। এর বদলে বেছে নিতে পারেন কম তেলে রান্না করা চিকেন।

পর্যাপ্ত ঘুমান

ঘুম ভালো হলে শরীরে মেদ কম জমে এবং জমা মেদও ঝরতে সাহায্য করে।

মানসিক চাপের বোঝা বইবেন না

মানসিক চাপ যতটা পারবেন কম নেওয়ার চেষ্টা করুন। কারণ মানসিক চাপের ফলে আপনার শরীরে নানারকম সমস্যা তৈরি হতে পারে। ফলে শরীরের পাচন ক্ষমতা কমে যায় এবং শরীরে মেদ জমতে শুরু করে।

প্রচুর পানি পান করুন

প্রতিদিন প্রচুর পানি পান করার ফলে এটা আপনার দেহের মেটাবলিজম বাড়ায় ও রক্তের ক্ষতিকর উপাদান প্রস্রাবের সঙ্গে বের করে দেয়। মেটাবলিজম বাড়ার ফলে দেহে চর্বি জমতে পারে না ও বাড়তি চর্বি ঝরে যায়।

কাজে সক্রিয় হন

অফিসের কাজ আজকাল বসে বসে হয়, সেখানে শরীরের সচল হওয়ার খুব একটা সুযোগ নেই। তাই চেষ্টা করুন একটি আগের বাসস্টপে নেমে হেঁটে বাকি রাস্তা যান, সিঁড়ি দিয়ে উঠুন। এর ফলে শরীর অনেকটা সক্রিয় হয়। মেদ জমার সুযোগই পাবে না।

আরো পড়ুন: বিটরুট কি? বিটরুটের উপকারিতা

প্রতিদিন ফল ও সবজি খান

প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় এক বাটি ভর্তি ফল ও সবজি খাবার চেষ্টা করুন। এতে আপনার শরীর পাবে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, মিনারেল ও ভিটামিন। আর এগুলো আপনার রক্তের মেটাবলিজম বাড়িয়ে পেটের চর্বি কমিয়ে আনবে সহজেই।

দিন শুরু হোক পাতিলেবু ও জল দিয়ে

প্রতিদিন সকালবেলা নিয়ম করে ১ গ্লাস লেবু গরম জল খান। লেবুর রসের পরিমান বেশি রাখার চেষ্টা করুন। সকালের ব্রেকফাস্টের আগে কোনও একটা ফল বা অনেকটা জল খান৷ দিনে প্রচুর পরিমাণ জল খান।

সাদা ভাত কম খান

সাদা চালের ভাতের বদলে বিভিন্ন গম জাতীয় শস্য যুক্ত করে নিন আপনার প্রতিদিনের ডায়েটে। তাছাড়া গমের রুটি, ওটস, অন্যান্য শস্য যুক্ত করে নিতে পারেন। প্রচুর পরিমানে শাকসবজি এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খান।

কাচাঁ রসুন খান

কাঁচা রসুনের কয়েক কোয়া সকাল বেলা চুষে খান। তারপরে লেবুর সরবত খান। এই চিকিৎসাটি আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে এবং রক্তচাপও স্বাভাবিক রাকবে।

আদা’র রস খান

তাড়াতাড়ি ওজন কমানোর জন্য আদা থেতো করে পানিতে ভালো করে ফোটান। তার মধ্যে অল্প করে জিরা গুঁড়া দিন। দুপুরে বা রাতে খান। তারপর পার্থক্যটা দেখুন।

আরো পড়ুন: স্টবেরি উপকারিতা | কেন স্টেবেরি খাবেন? খেলে কি হয় দেখুন!

এবার আসুন কিছু শারিরিক ব্যায়াম করা যাক

০১. পেছনে বাঁকানো

দু পায়ে সোজা হয়ে দাঁড়ান। দুই হাত আঙ্গুলে-আঙ্গুলে এক করে পেছনের দিকে নিয়ে যান। এবার শ্বাস নিন, উপরের দিকে ঘাড়সহ পিঠটাকে বাঁকানোর চেষ্টা করুন, বুকের সামনের অংশ উপরে তুলুন এবং এই অবস্থায় কিছুক্ষণ স্থির থাকুন

০২. সামনে বাঁকানো

হাঁটু নরম রেখে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ুন, নাকটাকে হাঁটু বরাবর আনার চেষ্টা করুন। হাতের আঙ্গুল গুলো আগের মত একসাথে করে, দুই হাত সোজা রেখে হাত দুটিকে উপরে উঠান এবং মাথার উপর দিয়ে নেয়ার চেষ্টা করুন।

০৩. চেয়ার

শ্বাস নিন এবং হাঁটু বাঁকা করুন (পিঁড়িতে বসার মত করে)। হাতের আঙ্গুল গুলো খোলা অবস্থায় রেখে সামনের দিকে মেলে ধরুন। আপনার উঁড়ু যখন মেঝের সমান্তরালে তখন হাত দুটিকে কান পর্যন্ত উঠান। সমস্ত ওজন যেন গোড়ালিতে পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। নিঃশ্বাস নিতে নিতে উঠে দাঁড়ান এবং দুই হাত দেহের পাশে নিয়ে আসুন। নিঃশ্বাস ছাড়ুন

০৪. নিম্নগামী মুখ-ভঙ্গী

একসাথে ৪ টাই করুন, হিপ উপরে উঠান এবং হাত ও পা সোজা রাখুন। যেমনটি ছবিতে আছে তেমনি ভাবে চেষ্টা করুন।

০৫. প্ল্যাঙ্ক

হাত সোজা রেখে পুশ-আপ এর মত ভঙ্গিতে নিঃশ্বাস নিন। এবার শ্বাস ছাড়ুন, কনুই বাঁকিয়ে এমন ভাবে আনুন যেন তা আপনার দেহের দিকে থাকে। এবার আস্তে আস্তে সমস্ত শরীর নিচে নামাতে থাকুন যতক্ষণ না বুক মেঝে বরাবর থাকে।

০৬. কোবরা

পায়ের আঙ্গুল গুলো এমন ভাবে উল্টো করে রাখুন যেন কব্জিটি মেঝে স্পর্শ করে। নিঃশ্বাস নিতে নিতে মেঝেতে কনুই চেপে ধরুন, হাত সোজা রাখুন (সামান্য বাঁকানো থাকতে পারে)। এবার আস্তে আস্তে শরীরের উপরের অংশ মেঝে থেকে উপরে উঠাতে থাকুন। এমন ভাবে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে আরামের সাথে শরীরকে মেঝে বরাবর আনুন। আবার শ্বাস গ্রহণ করুন, পায়ের আঙ্গুল বাঁকিয়ে নিচের দিকে নিয়ে হিপের উপর চাপ দিয়ে ৪ নং অনুশীলনটি করুন। শ্বাস ছাড়ুন

উপায় গুলো সহজ হলেও খুবই কার্যকর। এই অনুশীলন গুলো রপ্ত করার মাধ্যমে আপনি অতি সহজেই হতে পারেন আকর্ষণীয় ফিগারের অধিকারী ।


মুখের মেদ কমানোর উপায়

একটা ব্যাপার খেয়াল করেছেন, অনেকরই শরীরে মেদ বাড়লেই সবার আগে মুখেই তার প্রভাব পড়তে শুরু করে। ফলে মুখ ভারী দেখায়, গাল ফুলে যায়, বিশেষত থুতনির কাছে মেদ জমে যায়। এই সমস্যা মেকআপ দিয়েও সমাধান করা যায় না। মুখের মেদ কমানোর সহজ এবং নিরাপদ ও সম্ভবত একমাত্র উপায় হচ্ছে ব্যায়াম বা এক্সরসাইজ।

মুখের মেদ হওয়ার কারণ

পুষ্টিকর খাবারের অভাব।
লবণ বেশি খাওয়া।
পানি শূন্যতা।
মদ্যপানে অভ্যাস।
হাইপোথাইরয়েডিজম বা থাইরয়ড হরমোনের অভাব।
ভিটামিন সি এবং বিটা-ক্যারোটিনের অভাব।

ডায়েট দিয়ে দেহের ওজন কমানো সম্ভব হলেও, মুখের ওজন কমাতে ডায়েট তেমন কার্যকরী নয়। মুখের ওজন কমানোর জন্য প্রয়োজন পড়ে ব্যায়ামের। মুখের চর্বি কমাতে সাহায্য করে এমন একটি ব্যায়াম হল চিন এন্ড জ টোনার। নিয়মিত এই ব্যায়ামটি করার ফলে দুই সপ্তাহের মধ্যে মুখের চর্বি অনেকখানি কমে যাবে।  

পদ্ধতি

১। প্রথমে সোজা হয়ে দাঁড়ান। তারপর মাথাটি পিছনে নিয়ে যান।
২। তারপর মাথা পিছনে থাকা অবস্থায় নিচের চোয়ালটি সামনের দিকে নিয়ে আসুন।
৩। এভাবে ১০ পর্যন্ত গণনা করুন।
৪। তারপর মাথা নামিয়ে ফেলুন।
৫। এরপর আস্তে আস্তে মাথা পিছনের দিকে নিয়ে যান। আবার আস্তে আস্তে সামনের দিকে নিয়ে আসুন। এভাবে ২০ বার করুন। মাথা এবং ঘাড় যেন সমান থাকে। খেয়াল রাখবেন ঘাড় যেন বাঁকা না হয়ে যায়।
৬। ২০ বার করা হয়ে গেলে আস্তে করে মাথাটি নামিয়ে সোজা করে রাখুন।
৭। তারপর আপনি আবার মাথা পিছনে দিকে নিয়ে যান এবং আপনার নিচের চোয়ালে দিয়ে ওপরে ঠোঁটটি ঢেকে দিন।
৮। এভাবে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গণনা করুন।
৯। মাথা আস্তে আস্তে করে নামিয়ে রাখুন।
১০। তারপর আবার ঘাড় এবং মাথা সোজা রেখে মাথা আস্তে আস্তে করে পিছনে এবং আস্তে আস্তে সামনের দিকে নিয়ে আসুন।
১১। এভাবে ২০ বার করুন।
১২। এটি আপনার গালের মেদ কমানোর সাথে সাথে ডাবল চিন ও কমিয়ে থাকে।

মুখের মেদ কমাতে কোন ধরনের এক্সারসাইজ করবেন?

অ্যারোবিক বা যোগাভ্যাসের অভ্যাস থাকলে তাতে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন নাই। মুখের মেদ কমানোর জন্য শরীরে মেদ বা ফ্যাট কমানোর পাশাপাশি নিয়মিত এক্সারসাইজের সাথে মুখের জন্য আলাদা করে কিছু এক্সারসাইজ করলে ফলাফলটা একটু জলদি পেতে পারেন।

টিপস-এক

চোখ দুটি বন্ধ করে, চোখের পাতার উপর আঙ্গুল রাখুন। এবার চোখের পাতা নিচের দিকে নামানোর চেষ্টা করুন এবং একই সঙ্গে ভুরু উপরে তোলার চেষ্টা করুন। প্রতিদিন ৫ মিনিট এই এক্সারসাইজটি করলে আপনার কপালটি টোনড হবে।

মুখের মেদ কমাতে চোখ বন্ধ করে চোখের পাতার উপর আঙ্গুল রাখুন - shajgoj.com

অনেকের মুখে মেদ জমলে চোখের তলাতেও মেদ জমে। আর তাই চোখের মেদ কমাতে চোখ দুটি বন্ধ করে রিলেক্স করুন। এবার চোখ দুটি বন্ধ অবস্থায় চোখের মনি উপরে তুলুন এবং নীচে নামান। প্রতিদিন ১০ মিনিট এই এক্সারসাইজটি করুন। এরপর চোখ বন্ধ অবস্থায় যতটা সম্ভব ভুরু উপরের দিকে তোলার চেষ্টা করুন। এক্সারসাইজটি করার সময় চোখ খোলা যাবে না। তারপর ১০ মিনিট রিলেক্স করুন। প্রতিদিন ১০ মিনিট এই এক্সারসাইজটি করুন।

টিপস-দুই

মুখের মধ্যে আঙ্গুল ঢুকিয়ে যতটা সম্ভব জোরে চুষুন এবং ১০ পর্যন্ত গুনতে থাকুন, অতঃপর আঙ্গুল বের করে নিন। প্রতিদিন ১০ বার নিয়মিত এই এক্সারসাইজ করলে গালের ফোলাভাব অনেকটাই কমে যাবে এবং মুখের ভারী ভাবটাও কমে যাবে।

মুখের মেদ কমাতে মুখ এর মধ্যে আঙ্গুল ঢুকিয়ে চুষুন - shajgoj.com

টিপস-তিন

আস্তে আস্তে আপনার মাথাটি পেছনের দিকে হেলাতে থাকুন, যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনি আপনার ঘাড়ে চাপ অনুভব না করছেন। এবার আপনি আপনার চোয়ালটি একবার ডান হতে বাম দিকে, আরেকবার বাম হতে ডান দিকে নড়ানোর চেষ্টা করুন এবং এটি ৫ বার করা হলে আস্তে আস্তে রিলেক্স করুন। এই এক্সারসাইজটি আপনি দিনে ৫ বার করলে আপনার ঘাড় এবং গলার মাসল টোন হবে।

টিপস-চার

হা করুন। যতটা সম্ভব আপনার মুখ খোলার চেষ্টা করুন যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি গালে, ঠোঁটে এবং থুতনিতে চাপ অনুভব না করছেন।

মুখের মেদ কমাতে হা করে মুখ খোলা রাখুন যাতে গালে, ঠোঁটে, থুতনিতে চাপ অনুভব করেন - shajgoj.com

এরপর ১০ পর্যন্ত গুনতে থাকুন এবং রিলেক্স করুন। প্রতিদিন ৫ মিনিট এই এক্সারসাইজটি করুন।  এতে করে মুখের মাসল টোন হবে, রক্ত সঞ্চালন বাড়াবে  এবং অতিরিক্ত মেদ কমাবে।

সবশেষে মনে রাখতে হবে যে ব্যায়ামের পাশাপাশি খাবারের দিকে অবশ্যই নজর দিতে হবে। অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে এই ব্যায়াম করলে  ফলাফল পাওয়া সম্ভব নয়। চিনি ও চিনিজাতীয় খাবার এবং পানীয় দূরে রাখুন। অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার খাওয়া কমিয়ে দিন একেবারে। এ ছাড়া প্রচুর পরিমাণে পানি পানের অভ্যাস করুন।


প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে প্রতিদিনের স্বাস্থ্য টিপস লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।