মানসিক চাপ এর কারণ, লক্ষণ ও ২০টি কার্যকর সমাধান

299
manosik-chap

দৈনন্দিন কাজের ব্যস্ততার কারণে অনেকেই মানসিক চাপে ভোগেন। এতে থেকে মুক্তি অনেকে নানা ধরনের কৌশলও অবলম্বন করেন।

মানসিক চাপ এর কারণ, লক্ষণ ও ২০টি কার্যকর সমাধান

আসুন জেনে নিই কিভাবে বৈজ্ঞানিক উপায়ে মানসিক চাপ কমিয়ে আনা যায়:-ব্যায়াম বা খেলাধুলা হালকা ব্যায়াম বা খেলাধুলা মানসিক চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জগিং বা সাইকেল চালালে স্ট্রেস হরমোন কমে গিয়ে হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখে ও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। সমীক্ষায় দেখা গেছে ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত মানুষকেও হালকা খেলাধুলা বা ব্যায়াম প্রফুল্ল রাখে। তবে অবশ্যই মানসিক চাপ আরও বেড়ে যাওয়ার মতো কোনো প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলা নয় কিন্তু!

মানসিক চাপ কেন হয় ?

মানসিক চাপ বা স্টেস কথাটি আজকাল প্রায় সব ক্ষেত্রেই বহুল-ব্যবহৃত (আর কিছুক্ষেত্রে অতিরিক্ত ও ভুলভাবে ব্যবহৃত) হলেও স্ট্রেস-কে শব্দের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা একটু হলেও কঠিন কাজ। আমাদের অবশ্যই মনে রাখা দরকার, রোজকার কাজের চাপ আর স্ট্রেস আলাদা — বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোজকার টুকিটাকি চাপকে কিন্তু স্ট্রেস বলে না। কোনো চাপকে মানসিক চাপ হিসেবে গণ্য করতে হলে সেটা একটা মাত্রা ছাড়াতে হয়।

মানসিক চাপ কেন হয় ?

স্ট্রেস-এর বিভিন্ন মাত্রাকে বিজ্ঞানী গিলিয়ার্ড সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন। যেমন:

  1. যে যে কারণে স্ট্রেস হতে পারে (Input function): কর্মক্ষেত্রের চাপ, যেমন, কম সময়ে বেশি কাজ করা, কাজে নির্ভুল থাকার চাপ, প্রতিকূল পরিবেশে কাজ বা তীব্র মানসিক আঘাত/অশান্তির মধ্যে কাজ।
  2. স্ট্রেস-এর কারণে যা যা হতে পারে (Output function): ব্যক্তির নিজস্ব অনুভব (যা ব্যক্তিবিশেষে বিভিন্ন রকম হতে পারে) ও তার আচরণে বদল।
  3. তাতে মনের উপর প্রভাব: এটি স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্নরকম হতে পারে।
  4. স্ট্রেস-এর ফলে কোনো মানুষের কার্যক্ষমতার উপর প্রভাব: যা গুণগত এবং পরিমাণগত, উভয়ভাবেই কমতে থাকে।

মানসিক চাপের লক্ষণ

মানসিক চাপের লক্ষণ

পৃথিবী বেশ কিছু আনন্দ ও সম্ভাবনার সাথে সাথে বোধহয় অনেক বেশি সমস্যা ও বাধা নিয়ে আসবে আমাদের জন্য যার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি স্ট্রেস বা চাপ। স্ট্রেস কথাটি সাধারণভাবে মানসিক চাপ বোঝাতে ব্যবহৃত হলেও স্ট্রেস-জনিত চাপ মন ছাড়িয়ে শরীর বা সামাজিক জীবনেও পড়তে পারে।

মানসিক চাপ-এর প্রভাব আমাদের জীবনে যেভাবে পড়ে, তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় মূলত তিনভাগে ভাগ করা যায়:

মানসিক চাপ
শারীরিক চাপ

শারীরিক লক্ষণ সমূহ মানসিক চাপের লক্ষণ
বুকে ব্যাথা বিষণ্ণতা
দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস মনমরা ভাব
ব্যাথা এবং কষ্ট বিরক্ত
ঘন ঘন কাশি হওয়া অদৃষ্টবাদী চিন্তা
ত্বকের সমস্যা ভীতি
বদহজম অবিশ্বাস
উচ্চ রক্তচাপ উদ্বেলিত বোধ
দুর্বল বিবেচনা হতাশা

মানসিক চাপের কারণে ভুলে যাওয়া, সহজেই রেগে যাওয়া, নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো, দুশ্চিন্তা, বিচার-বুদ্ধি লোপ পাওয়া, মনোযোগ কমে যাওয়া, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়া, মন খারাপ, উৎসাহ-উদ্দীপনা কমে যাওয়া ইত্যাদি মনোসামাজিক লক্ষণ দেখা দেয়। পাশাপাশি যেসব শারীরিক অসুস্থতা বা যেসব লক্ষণ সাধারণত দেখা দিতে পারে, সেগুলো হলো—

মানসিক চাপের লক্ষণ

⚠️  মাথা ব্যথা করা, মাথা ভারী অনুভব করা বা মাথা ঘোরানো

⚠️  মাংসপেশিতে ব্যথা বা খিঁচ ধরা

⚠️  বুকে ব্যথা বা অস্বস্তিবোধ হওয়া, বুক ধড়ফড় হওয়া

⚠️  শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা দ্রুত বারবার শ্বাস নেওয়া

⚠️  দুর্বল লাগা, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসা

⚠️  যৌনাকাঙ্ক্ষা ও যৌনশক্তি কমে যাওয়া

⚠️  পেট ফাঁপা, পেট সব সময় ভরা বোধ করা, বুক-পেট জ্বলা

⚠️  হজমের সমস্যা হওয়া, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য বা বমি বমি ভাব

⚠️  বারবার বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হওয়া

⚠️  খিদে কমে যাওয়া বা কখনো খিদে বেড়ে যাওয়া

আরো পড়ুন: ব্রণ, ত্বক, চুল ও আরো বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারী অ্যালোভেরায়!

⚠️  ঘুম কমে যাওয়া, ঘুম না আসা

⚠️  হাত-পা ঘামা ও মৃদু কাঁপুনি

⚠️  মুখ শুকিয়ে যাওয়া

⚠️  রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া

⚠️  প্রায়ই ছোটখাটো সংক্রমণ ও ঠান্ডাজনিত রোগে ভোগা

⚠️  চোয়াল শক্ত হয়ে আসা ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাঁতে দাঁতে বাড়ি লাগা

⚠️  ডায়াবেটিসের রোগীদের রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া

⚠️  হাঁপানি, হৃদ্রোগ বা দীর্ঘমেয়াদি চর্মরোগ যাঁদের রয়েছে, তাঁদের মধ্যে এগুলোর উপসর্গ হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া

⚠️  নারীদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত ঋতুস্রাব হওয়া।

সবার ক্ষেত্রে সব সময় একই রকম লক্ষণ প্রকাশ পায় না। মানসিক চাপের কারণ এবং পরিস্থিতি আয়ত্ত করার ব্যক্তিগত দক্ষতা বা ‘কোপিং মেকানিজম’-এর ওপর লক্ষণ নির্ভর করে। একই ঘটনায় বিভিন্ন ব্যক্তির শারীরিক-মানসিক লক্ষণ বিভিন্ন হতে পারে। শারীরিক এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে শারীরিক চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি মানসিক চাপের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। ঘরে-বাইরে কোনো পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যে কেউ মানসিক চাপে পড়তে পারেন।

মানসিক চাপ থেকে মুক্তির দোয়া

মানসিক রোগ থেকে মুক্তির দোয়া

হাসি-কান্না, আনন্দ-ব্যথা, সুখ-দুঃখ, কষ্ট, চিন্তা ও অস্থিরতায় গড়া মানুষের এ জীবন। মানুষের দুঃখ, কষ্ট, পেরেশানি, চিন্তা ও অস্থিরতা কারোরই কাম্য নয়। যার ফলে মানুষ পচণ্ড রকম হতাশায় পড়ে। ঘটে যায় মারাত্মক ব্যধি ও দুর্ঘটনা। এ থেকে বাঁচার উপায় বের করে দিয়েছেন স্বয়ং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোনো দুঃখ-কষ্ট বা চিন্তা ও অস্থিরতা পড়তেন তখন বলতেন-

يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْثُ

উচ্চারণ : ইয়া- হাইয়ু ইয়া- ক্বাইয়ূ-মু বিরাহমাতিকা আস্তাগিছ। 
অর্থ : ‘হে চিরঞ্জীব! হে চিরস্থায়ী! আপনার রহমতের মাধ্যমে আপনার নিকটে সাহায্য চাই।’

(তিরমিজি, মুসতাদরেকে হাকেম, মিশকাত)

সুতরাং আল্লাহ তাআলা এ দোয়ার বরকতে ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতের অনুসরণে দুনিয়াবি সব ধরনের চিন্তা, অস্থিরতা, দুঃখ ও কষ্ট থেকে সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে হিফাজত করুন। আমিন।

মানসিক চাপ কমানোর উপায়

✅ ফাস্ট ফুড অস্বাস্থ্যকর হলেও মানসিক চাপ দূর করার ক্ষেত্রে বেশ কার্যকারী। মানসিক চাপ কমাতে হলে পছন্দের ফাস্ট ফুড খেয়ে নিন।

✅ গান ছেড়ে নাচুন। নাচ মন ভালো করে দেয় নিমিষেই। নাচতে হলে নাচ পারতে হবে এমন কোন কথা নেই। নিজের ইচ্ছে মত হাত পা ছোড়াছুড়ি করুন। মানসিক চাপ কমে যাবে নিমিষেই।

✅ রান্না করলে মানসিক চাপ দূর হয়ে যায়। অতিরিক্ত মানসিক চাপ অনুভব করলে সোজা রান্না ঘরে চলে যান। এবার একটা ডিম পোচ করে ফেলুন অথবা স্যুপ রান্না করে ফেলুন। মানসিক চাপ দূর হয়ে যাবে সহজেই।

✅ অতিরিক্ত মানসিক চাপ অনুভব করলে বাইরে গিয়ে টং দোকানে কিংবা কফি শপে এক কাপ চা/কফি খান। মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যাবে।

আরো পড়ুন: বিটরুট কি? বিটরুটের উপকারিতা

✅ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হাসুন। নিজের হাসিমুখটা দেখলে মানসিক চাপ কমে যায়।পছন্দের গান শুনলেও মানসিক চাপ কমে যায় অনেকটাই।

✅ ঢিলে ঢালা পোশাক পরুন। মানসিক চাপ দূর করতে ঢিলেঢালা আরামদায়ক পোশাক পরা জরুরী।

✅ মানসিক চাপ দূর করতে চাইলে ঘরেই সাজ-গোজ করতে পারেন। নিজেকে সুন্দর দেখালে মন ভালো হয়ে যায় এবং মানসিক চাপ কমে যায়।

মানসিক চাপ দূর করতে ঘর গোছানো একটি কার্যকরী পদ্ধতি। ঘর গোছাতে গোছাতে মানসিক চাপ ও অস্থিরতা কমে যায় এবং মন হালকা লাগে

খুব বেশি মানসিক চাপ অনুভূত হলে মার্কেটে গিয়ে কেনাকাটা করুন। টুকটাক কেনাকাটা করলে মানসিক চাপ দূর হয়ে যায়।

মানসিক রোগের সমাধান

মন বলতে আমরা ব্রেইনকেই বুঝি। মন মানে হৃদপিণ্ড নয়। আবার মন বলতে আত্মা বা Soul কেও বুঝায় না। মন থাকে মস্তিষ্কে। মনের সাধারণত ৩টি অংশ।

মানসিক রোগের সমাধান

ক) সচেতন মন
খ) অচেতন মন
গ) অবচেতন মন

সচেতন মন, মনের মাত্র ১০ ভাগ। মনের ৯০ ভাগ জুড়ে রয়েছে অচেতন বা অবচেতন মন।

মানসিক রোগের প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। কারণগুলোর মধ্যে জেনেটিক বা বংশগত প্রভাব, পরিবেশগত প্রভাব, শারীরিক মানসিক যৌন নির্যাতন, অস্বাভাবিকভাবে শিশুর লালন-পালন, ইন্টারনেট সহ অন্যান্য নেশা দ্রব্যের ব্যবহার, মস্তিষ্কের গঠন জনিত সমস্যা, নিউরো ট্রান্সমিটারের ভারসাম্যহীনতা, দীর্ঘমেয়াদী ঘুমের অভাব, দীর্ঘমেয়াদী অস্বাভাবিক চাপ, এছাড়া মৃগীরোগ, স্টোক, ডায়াবেটিকস্, মাথায় আঘাত , ব্রেইন টিউমার, কিডনি, যকৃত, হৃদপিণ্ডের ফেইলিয়রও মানসিক রোগের কারণ হতে পারে।

মানসিক রোগকে দুইভাগে ভাগ করা হয়। নিউরোটিক এবং সাইকোটিক। নিউরোটিক বলতে আমরা টেনশন, উদ্বেগ, প্যানিক অ্যাটাক, সূচিবাই, হিস্টিরিয়া, অস্বাভাবিক ব্যাক্তিত্ব, স্ট্রেস ডিসঅর্ডার, অস্বাভাবিক রাগ বা রাগ নিয়ন্ত্রণজনিত মানসিক রোগ, ইন্টারনেট বা ফেসবুক আসক্তি, যৌন সমস্যা, ঘুমের সমস্যাকেই বুঝি। এদের সংখ্যা অনেক বেশি। সাইকোসিস বা গুরুতর মানসিক রোগ, সিজোফ্রোনিয়া, বাইপলার মুড ডিসঅর্ডার এ মাত্র ১% মানুষ ভোগে।

মানসিক রোগ চিকিৎসার প্রধান বাধা হলো রোগীর পরিবারের অজ্ঞতা, সচেতনার অভাব, কুসংস্কার, মানসিক রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা, রেফারেল না হওয়া ইত্যাদি। আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষ মানসিক রোগকে জ্বিন ভূতের আছর মনে করে এবং ভণ্ড পীর-ফকিরদের কাছে যায়। এতে তো রোগ ভালো হয়ই না উল্টা জটিল হয়। ভণ্ড পীর-ফকির, কবিরাজরা প্রতারণার মাধ্যমে প্রচুর টাকা হাতিয়ে নেয়। তথাকথিত জিনের বাদশারা সত্যিই বাদশার মতো রাজত্ব করছে জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে।

মানসিক রোগের সমাধান

রিল্যাক্স করার কৌশল

পেশি রিল্যাক্স করার নতুন কৌশলগুলোর মধ্যে যোগব্যায়াম বা ইয়োগা এবং মেডিটেশনের কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। যার মাধ্যমে শারীরিক এবং মানসিক চাপ কমে শরীর ও মনকে করে হালকা ও ফুরফুরে। বিশেষজ্ঞের মতে, প্রচণ্ড চাপ থাকা সত্ত্বেও অনেকের ক্ষেত্রেই ইয়োগা বা মেডিটেশনের মতো রিল্যাক্স করার এই নতুন কৌশল বেশ সাহায্য করে।

সবুজ প্রকৃতি সুস্থ রাখে

নেদারল্যান্ডের গবেষকরা খুঁজে বের করেছেন যে, সবুজ রং মানুষের নার্ভকে একদিকে যেমন শান্ত রাখে তেমনি আনন্দিতও করে। কারণ সমীক্ষায় জানা যায়, যারা শহরের কেন্দ্রস্থলে বসবাস করেন তাদের চেয়ে যাদের বাড়িতে বাগান আছে বা সবুজে ঘেরা বাগানের কাছাকাছি বসবাস করেন, তারা মানসিকভাবে সুস্থ থাকেন।

কাজের ফাঁকে বিশ্রাম

শরীর এবং মন দু’টোরই মাঝে মাঝে ভালোভাবে বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে যারা সারাদিন কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করেন, তাদের মানসিক চাপে রক্তে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়৷ এক্ষেত্রে কাজের ফাঁকে খানিকক্ষণ মুক্ত বাতাসে হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করলে আবার বেশ তরতাজা বা ফ্রেশ হয়ে কর্মস্থলে ফেরা যায়।

মনকে শান্ত করার বিশেষ জায়গা

মনকে শান্ত করার বিশেষ জায়গা

কিছুক্ষণের নীরবতা মাঝে মাঝে শরীর ও মনকে এতটাই শান্ত করতে পারে যে মানসিক চাপ বা স্ট্রেসের বিরুদ্ধে তা ঠিক যেন ওষুধের মতো কাজ করে। তাই বাড়ির কোথাও একটি খালি ঘরে দিনে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় কাটাতে পারেন। যারা বড় শহরে থাকেন, তারা চলে যান কোনো মিউজিয়ামে বা লাইব্রেরিতে। আর শরীর ও মনকে শান্ত করতে পারে মসজিদ, মন্দির বা গির্জার মতো ধর্মীয় স্থানগুলোও।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন

ব্যায়াম মানসিক চাপ তৈরিকারী হরমোনের নিঃসরণ কমায়।সুখি হরমোন হিসেবে পরিচিত এনডোরফিনের মাত্রা বাড়ায়।তাই যত ব্যস্তই থাকুন না কেন একটু সময় বের করে ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন।যদি জিমে গিয়ে ব্যায়াম করার সময় না হয় তবে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন। সেটিও চাপ কমাতে কাজে দেবে।

আরো পড়ুন: হাদিস অনুযায়ী সহবাসের নিয়ম; স্বামী স্ত্রীর মিলনের গুরুত্বপুর্ণ হাদিস

ঘুমান

ঘুম শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে উঠার একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করুন। নিয়মিত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

সঠিকভাবে খান

মানসিক চাপে থাকলে খাওয়ার প্রতি অনেকেরই অনীহা হতে পারে। মনে রাখবেন, না খেয়ে থাকা চাপকে বা সমস্যাগুলোকে কমিয়ে দেবে না বরং খাবার আপনার শরীরকে কর্মক্ষম রাখবে এবং চাপ দূর করার পদক্ষেপগুলো নিতে সাহায্য করবে। এ সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন। ক্যাফেইন গ্রহণ কমিয়ে দিন।

সকালের নাস্তা ভালোভাবে করুন। দিনে অন্তত ছোটবড় মিলিয়ে ছয় বেলা খাবার খান। গমে রুটি, পাস্তা ইত্যাদি খান। ভিটামিন এ এবং ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান। পাশাপাশি গ্রিন টি এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খান।

শিথিল থাকতে শিখুন

মানসিক চাপের সময় দেহ ও মনকে শিথিল রাখা জরুরি। মানসিক চাপের কারণ সহজেই চলে যাবে না। এটা দূর হতে সময় লাগবে। তাই এসময় নিজেকে শান্ত রাখা জরুরি। মনকে শিথিল রাখতে হালকা ধাঁচের গান শুনুন। আর শরীরকে শিথিল রাখতে স্নান করতে পারেন। পার্লারে বা স্যালুনে গিয়ে মানসিক চাপ কমাতে পারে এ রকম ম্যাসেজ করান।

আরো পড়ুন: যে ২৫টি উপায়ে নিজেকে আকর্ষণীয় ও স্টাইলিষ্ট করে তুলতে পারেন!

ডায়রি লিখুন

ডায়রি লিখুন

আপনি হয়তো কখনোই ডায়রি লেখেননি। তবুও এ সময়টায়  নোট প্যাড বা ডায়রিতে কিছু লেখার চেষ্টা করুন। যে বিষয়টি আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে, মানসিক চাপের কারণ হচ্ছে সেটি ডায়রিতে লিখুন। পাশাপাশি আপনি কী চান বা কী করলে আপনার ভালো লাগত সেই বিষয়টিও লিখুন। ডায়রি লেখার এই অভ্যাসটি মানসিক চাপ কমাতে অনেকটা সাহায্য করবে আপনাকে।

যোগ ব্যায়াম ও ধ্যান করুন

মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান করতে পারেন। ধ্যানের সময় গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম শরীরকে শিথিল করে। ধ্যান আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি চাপ কমাতে যোগব্যায়ামও করতে পারেন।

পছন্দের কাজগুলো করুন

হয়তো ছোটো বেলায় গান শিখতেন বা ছবি আঁকতেন আপনি। বড় হওয়ার পর কাজের চাপে বা সংসারের বিভিন্ন ঝক্কি-ঝামেলায় এগুলো করা হয়ে উঠে না আর। মানসিক চাপের সময় এই পছন্দের কাজগুলো আবার শুরু করুন এবং কাজগুলোর মাধ্যমে নিজেকে সময় দিন।

নেতিবাচক চিন্তা এড়িয়ে চলুন

খারাপ চিন্তা হয়তো সবসময় এড়িয়ে যাওয়া যায় না। তবে চেষ্টা করুন ইতিবাচক চিন্তা করতে। ভাবুন যা চাইছেন তা ইতিবাচকভাবেই পাবেন। এটা আপনাকে মানসিক চাপ দূর করতে সাহায্য করবে।

আরো পড়ুন: এক প্যাকেট কনডমের দাম ৬৪,০০০ টাকা!

নিজেকে গুছান

জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং সেই অনুযায়ী নিজেকে গুছান। জীবনযাপনকে একটি রুটিনের ভেতরে নিয়ে আসুন। খাওয়া, ঘুমানো, কাজ এবং নিজের পছন্দের কাজ-সবকিছুর জন্য একটি সময় নির্ধারণ করুন।

সব পরিবর্তন হয় না

হয়তো খুব কাছের কারো মৃত্যু আপনাকে ভঙ্গুর করে দিয়েছে বা কোনো ঘটনা আপনাকে এতটা আহত করেছে যে এর চাপ বহন করা কষ্টের হয়ে যাচ্ছে। ভাবুন অতীত কি ফিরিয়ে আনা সম্ভব বা ঠিক করা সম্ভব?  যদি উত্তর ‘না’ হয়, তবে এটি নিয়ে ভাবনা বন্ধ করে দিন। কেননা সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। আর সবকিছু আমাদের হাতেও থাকে না।

আরো পড়ুন: কিভাবে চিনবেন অধিক চাহিদার যৌন আবেদনময়ী মেয়ে?

কাছের বন্ধুর সাথে কথা বলুন

মানসিক চাপের কারণ নিয়ে কাছের বন্ধুর সাথে কথা বলুন। বন্ধুকে বলুন, আপনাকে সাহায্য করতে। তবে এমন বন্ধুকে বলবেন না, যে আপনাকে বুঝবে না অথবা একপর্যায়ে আপনাকে উপহাস করবে। 

নিজের সাথে কথা বলুন

সর্বোপরি নিজের সাথে কথা বলুন। কোন বিষয়গুলো আপনাকে মানসিক চাপে ফেলছে? কী করলে চাপ কম হতো? বর্তমানে কী অবস্থা? এর পরিপ্রেক্ষিতে আপনি কী করতে পারনে- এগুলো ভাবুন।

চাপ দূর করতে কী করা প্রয়োজন, এর জন্য একটি তালিকা তৈরি করুন। আপনার চাহিদা অনুসারে তালিকাটি সাজান এবং সেই তালিকা অনুসারে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। এই পদক্ষেপগুলোর চর্চা মানসিক চাপ দূর করতে সাহায্য করবে।

আরো পড়ুন:

প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে SOMVOB.COM লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।