মন ভালো রাখুন ও আত্মবিশ্বাসী হোন ৩০টি বৈজ্ঞানিক নিয়মে!

441
মন ভালো রাখার উপায়

মন ভালো রাখার উপায় কি? সবসময় মন খারাপ থাকে? মানুষের মন সবসময় ভালো না থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে যখন তখন মন খারাপ থাকবে তা তো হতে পারে না! তাই মন ভালো রাখার উপায় খোঁজা লাগবে না। আপনার সমান্য পরিবর্তনে মন ভালো হবে। আজ মন ভালো রাখার সহজ উপায় গুলো নিয়ে আলোচনা করব। জীবনে আপনি যা-ই অর্জন করতে চান না কেন, নিজের উপর আস্থা রাখাটা খুবই জরুরী। অনেক প্রবল আত্মবিশ্বাসী মানুষও সব সময়ে নিজের ওপর আস্থা রাখতে পারেন না। বিভিন্ন ঘটনা ও পরিস্থিতির কারণে নিজেকে নিয়ে, নিজের ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ জাগে। এটাই আসলে নিজের উপর আস্থা কমিয়ে দেয়।

মন ভালো রাখার উপায়

অন্যের বিরূপ মন্তব্য, সাময়িক ব্যর্থতা, কিছু শিখতে গিয়ে কঠিন মনে হওয়া, কাজে ভালোমত পারফর্ম করতে না পারা – ইত্যাদি কারণে নিজের উপর থেকে আস্থা কমে যায়। আমাদের প্রায় সবাই মন খারাপ নামক রোগে ভুগি। মন ভালো রাখার উপায় কি? এ রোগে আক্রান্ত নয় এমন কোন ব্যাক্তি খুজে পাওয়া মুশকিল। কেননা এই যুগ প্রতিযোগিতার যুগ। আমরা বেড়ে উঠছি নানান প্রতিযোগিতারর মাঝে। যেটা আমাদের স্বাভাবিক সুন্দর জীবনযাপন কেড়ে নিচ্ছে। সকালে চোখ খোলা থেকে শুতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের একটাই চিন্তা, ক্লাসে ফার্স্ট হব কী করে, অফিসে সেরার সেরা হওয়ার অন্য কোনও উপায় আছে কী! ব্যবসায় আরো উন্নতি করবো কি করে? ইত্যাদি। এই সব নানান চিন্তা চলছে আমাদের ছোট্ট মাথায়। ফলে কোনও কোনও সময় মনের ক্লান্ত হয়ে পড়াটা মোটেও অবাক করার মতো ঘটনা নয়।

ডেল কার্নেগী

নানা কারণে অবসাদের শিকার হতে পারে কেউ। যেমন- জীবনযাত্রা, কাজের চাপ, অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস, জেনেটিক কারণ এবং মস্তিষ্কে কেমিকেল ইমব্যালেন্স। এই লেখায় আলোচিত পদ্ধতিগুলি এইসব কারনগুলির প্রভাবকে কমিয়ে মনকে পুনরায় চাঙ্গা করে চুলতে দারুন কাজে আসবে। তাই তো মন খারাপ নামক সেই বিষাক্ত সাপটি আপনাদের দোরগোড়ায় আসার আগেই এই লেখাটি পড়ে নিজেকে প্রস্তুত করে নিন। কে বলতে পারে কখন কী পরিস্থিতি এসে যায়!

আরো পড়ুন: মাছের স্বাস্থ্য উপকারিতা; জেনে নিন কোন মাছের কি গুণাগুণ রয়েছে

মন ভালো রাখার দোয়া

মন ভালো রাখার দোয়া

দু‘আ মু’মিনের সেরা অস্ত্র। হ্যারি পটারের জাদুর কাঠির আসর শুধু সিনেমার পর্দাতেই। বাস্তবে এসবের কোনো ভিত্তি নেই। অথচ এগুলো নিয়েই আজকাল মাতামাতি।

কিন্তু দু‘আ নামক অস্ত্র দিয়ে কত মুসলিম যে কত অসম্ভব সাধন করছে, তার খবর কজন রাখে। দু‘আ মু’মিনের মিরাকল অস্ত্র। আমাদের একটা ধাত আছে দু‘আকে শেষ ভরসা হিসেবে ব্যবহার করার। ঐ যে রোগীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছে। ডাক্তাররা সব আশা ছেড়ে দিয়েছেন। এখন বলছেন, আল্লাহকে ডাকুন। একমাত্র আল্লাহই এখন ভালো করতে পারবেন। আচ্ছা, ডাক্তাররা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভালো করলে সেটা কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইচ্ছায় হয়? সবকিছু বিফলে যাওয়ার পর কি আল্লাহ ময়দানে হাজির হয়ে ভোজবাজির মতো সব পাল্টে দেন? আল্লাহকে নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনাগুলো এমন ফ্যান্টাসিময় কেন!

যাহোক, আমরা যেন হতাশ না হই, নিরাশ না হই, সেজন্য আমাদের ‎নবিজি ‎ﷺ একটি চমৎকার দু‘আ শিখিয়ে দিয়ে গেছেন। বলেছেন শোনামাত্রই যেন মুখস্থ করে নিই।

মুখস্থ করা নিয়ে আমাদের আরেকটা সমস্যা আছে। এত বড় দু‘আ (আসলে কিন্তু মাত্র কয়েক লাইন) কি আমি মুখস্থ করতে পারব? এই বয়সে কি আর এসব মুখস্থ হয়? কী আর বলব। আমরা নিজেরাই যদি নিজেদের নিয়ে এমন বাজে ধারণা রাখি, তাহলে আর কী বলার আছে। যাদের মনের মধ্যে এরকম ধারণা তাদেরকে যদি বলি ৬০/৭০ বছরেও মানুষ পুরো কুর’আন মুখস্থ করে ফেলেছে, তাহলে কি তারা কিছুটা অনুপ্রেরণা পাবেন?

আরো পড়ুন: নিজে খাইতে পারো না! বিয়ে করে বউকে কী খাওয়াবা?

যাহোক, দু‘আ মুখস্থ করার বেলায় আমার ক্ষেত্রে যেটা কাজ করে তা হলো, দু‘আর অর্থ জানা। অর্থ জানলে সেই দু‘আটা মুখস্থ করার ব্যাপারে আগ্রহ জাগে। দু‘আ শুধু দুর্বোধ্য “মন্ত্রের” মধ্যে আটকে থাকে না।

আচ্ছা দু‘আর মানে কী বলেন তো? মিনতি। আকুতি। আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়া। কী চাচ্ছেন সেটা যদি না-ই বোঝেন, তাহলে সেটা মন্ত্র ছাড়া আর কী! তোতাপাখিও তো বুঝেই মুখস্থ কথা বলে, না?

ِِদুয়াটি:

اَللَّهُمَّ إِنِي عَبْدُكَ

আল্লাহ, আমি আপনার দাস।

اِبْنُ عَبْدِكَ اِبْنُ أَمَتِكَ

আপনার দাস-দাসীর ছেলে।

نَاصِيَتِي بِيَدِكَ

আমার কপালের সামনের চুলের গুচ্ছ আপনার হাতে।

مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ

আমার ব্যাপারে আপনার হুকুমের কোনো নড়চড় হবে না।

عَدْلٌ فِيَّ قَضَاؤُكَ

আর আপনার বিচার ন্যায্য বিচার।

أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اْسْمٍ هُوَ لَكَ سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ

আমি আপনার কাছে চাইছি, আপনি নিজে আপনাকে যেসব নাম দিয়েছেন

أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ

বা আপনার বই (কুর’আন)-এ উল্লেখ করেছেন

أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ

অথবা আপনার সৃষ্টির কাউকে শিখিয়েছেন

أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ

কিংবা অদৃশ্যের জ্ঞানে একান্ত নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন

أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ رَبِيعَ قَلْبِي

কুর’আনকে বানিয়ে দিন আমার মনের হিল্লোল

وَنُورَ صَدْرِي

আমার অন্তরের আলো

وَجَلاءَ حُزْنِي وَذَهَابَ هَمِّي

আমার কষ্টের বিনাশকারী, দুঃশ্চিন্তার উপশম

(মুসনাদ আহমাদ, ৩৭০৪)

দু‘আটার শেষে আল্লাহর ‎রাসূল ‎ﷺ চমৎকার একটা কথা বলেছেন। “আল্লাহ তার দুঃখ তো দূর করবেনই, তার কষ্টটাকে আনন্দ দিয়ে বদলে দেবেন!”

আল্লাহ, তুমি সত্যিই মহান!

একমাত্র আল্লাহই আছেন, যিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। কাজেই এসব দুঃখকষ্ট ঠিক করা তাঁর কাছে কোনো ব্যাপার না। যারা তাঁর কাছে চায়, তিনি তাদের ঠিকই সাহায্য করেন। আল্লাহর উপর ভরসা করার মতো ভরসা করুন। তার পরিকল্পনায় আস্থা রাখুন। দেখবেন মনের উপর থেকে ভীষণ একটা চাপ নেমে যাবে। নির্ভার লাগবে। স্বস্তির নিঃশ্বাস বের হবে। স্নিগ্ধ প্রশান্তিতে মনটা ভরে উঠবে। আপনার জীবন ও এর আশেপাশের সবকিছু যে আপনার হাতে না, সেরা পরিকল্পক আল্লাহর হাতে — এই কথাটাই মনটাকে ভালো করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

আরো পড়ুন: সব উপদেশ শুধুমাত্র স্ত্রীর প্রতি কেনো?

এইবার আসুন কিছু বৈজ্ঞানিক ও ডাক্তারি ভাবে মন ভালো রাখার সহজ উপায় গুলো নিয়ে আলোচনা করা যাক

হাসিখুশি থাকুন

ব্যায়াম

দিনের শুরুটা হওয়া উচিত এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম দিয়ে। হেভি ওয়র্কআউটের দরকার নেই সকলের। হালকা ফ্রিহ্যান্ড, একটু জগিং বা মর্নিং ওয়াক। কোনও কিছু না পারলে, সকালে উঠে, বারান্দায় বা খোলা আকাশের নীচে অন্তত আধঘণ্টা সময় কাটান। মনটা ফ্রেশ হতে বাধ্য। আর দিন শুরু করার জন্য এই ফ্রেশ মুডটা খুব দরকার। 

সম্ভব ডটকম

খাবার

মানুষের শরীরের সবচেয়ে মৌলিক প্রয়োজন হল খাবার। অপরিকল্পিত ডায়েটে শরীর খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা যেমন বেশি, তেমনই তা ডিপ্রেশনেরও কারণ। প্রথমত, সকালে উঠে এমন কিছু খাওয়া উচিত যা শরীরের পক্ষে ভাল। দিনের অন্যান্য খাবারগুলির মধ্যে অন্তত একটা কমফর্ট ফুড রাখা প্রয়োজন। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দূরে থাকুন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দূরে থাকুন

বর্তমানে মানুষের জীবন অনেকটাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভিত্তিক হয়ে উঠেছে। আমরা ঘন্টার পর ঘন্টা না খেয়ে থাকতে পাড়লেও ১ ঘন্টা ফেইসবুক, ইউটিউবে না গিয়ে পারি না। এইটা ক্রমেই আমাদের গ্রাস করে ফেলেছে। সারাদিন কার কি করা হয়েছে বা কী চলছে সবই যেন সবাইকে জানানো চাই। এক্ষেত্রে অনেক সময় অন্যের জীবনযাপন দেখেও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে অনেকেই।

মন ভালো রাখার সহজ উপায়

মনে মনে ভাবতে থাকে ওর জীবন আমার জীবনের থেকে অনেক উন্নত, ও আমার থেকে কত বড়লোক, ও কত যায়গায় ঘুরতে যায়, কত ভালো ভালো রেস্টুরেন্টে খাবার খায় ইত্যাদি ইত্যাদি ভেবে আমাদের মন খারাপ হয়ে যায়। জীবনের প্রতি অনিহা চলে আসে। তাই মন খারাপ থাকলে মন ভালো রাখার জন্য কিছু সময় এ ধরনের যোগাযোগ মাধ্যম থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।

অন্যদের সাথে তুলনা করা বাদ দিন

প্রতিটি মানুষ তার নিজের জায়গায় ইউনিক বা অনন্য। আপনার এমন কিছু গুণ আছে, যা পৃথিবীর আর কোনও মানুষের নেই। কাজেই, অন্যদের সাথে সব সময়ে নিজের তুলনা করতে যাওয়া বোকামী। আপনার এক বন্ধু হয়তো ভালো গান গায় – এবং এই কারণে কিছু মানুষ তাকে অনেক পছন্দ করে। এই গুণটি সবার থাকে না।

আরো পড়ুন: ড্রাইভারকে ৫০ লক্ষ টাকা কেন দিলেন আলিয়া ভাট্ট?

আপনারও হয়তো নেই, কিন্তু এই কারণে যদি আপনি নিজের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন – তাহলে সেটাও বোকার মত কাজ হবে। আপনার বন্ধুর গানের কারণে তাকে যারা পছন্দ করে, আপনি যদি চান তারা আপনাকেও পছন্দ করুক – তাহলে সংগীত শিল্পী হওয়ার চেষ্টা করার বদলে চিন্তা করুন – আপনার মধ্যে এমন কি গুণ আছে যার যত্ন নিলে আপনি তাদের কাছে পছন্দনীয় হতে পারবেন।

অন্যদের সাথে তুলনা করা বাদ দিন

অন্যের অর্জনের ওপর ফোকাস করার বদলে, নিজের কোন গুণটিকে আপনি আরও বিকশিত করতে পারেন, সেই দিকে নজর দিন। আপনি হয়তো জানেনও না যে আপনার মাঝে এমন গুণ আছে – যার কারণে আপনার সেই বন্ধু আপনার মত হতে চায়।

যে মানব সন্তান ক্ষুদ্র কামনা জয় করতে পারে সে বৃহৎ কামনাও জয় করতে পারে

পরিপাটি থাকুন

বাড়িতে থাকুন বা বাইরে বেরোন, যেমন পোশাকে, যেমন সাজে নিজেকে দেখতে ভাল লাগে, তেমনটা সেজে ফেলুন। তা যদি হয় মেকআপ এবং জাঙ্ক জুয়েলারি, তবে তাই। আবার তা যদি হয় ফ্রেশ টি-শার্ট আর শর্টস, তবে তাই-ই। বাসি কাপড় ছেড়ে ফ্রেশ জামাকাপড় পরার নিয়মটা শুধুই সংস্কার বা আচার-বিচার নয়। এর একটা ভাল দিকও রয়েছে। নিজেকে যত্ন করার ওটা একটা ধাপ। 

পরিপাটি থাকুন

নতুন কিছু শিখুন

আপনার জ্ঞান ও দক্ষতা আপনাকে নিজের উপর যতটা আস্থা দেবে – তা আর কোনওকিছুই দেবে না। আপনি যে ক্ষেত্রে কাজ বা পড়াশুনা করছেন – সেই বিষয়ে যত বেশি সম্ভব জানার চেষ্টা করুন। পাঠ্যক্রমের বাইরেও বই পড়ুন, এবং সেইসাথে ইন্টারনেট থেকেও শেখার চেষ্টা করুন। এর বাইরে সিনিয়রদের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করুন। আপনার জ্ঞান ও দক্ষতা যত বাড়বে নিজের প্রতি আস্থাও তত বাড়বে।

নিজের বিষয়ের বাইরেও অন্যান্য জিনিস শেখার চেষ্টা করুন। সময় থাকলে নতুন কোনও কোর্সে ভর্তি হয়ে নিজের জ্ঞান ও দক্ষতাকে বাড়িয়ে নিন।

মন ভালো রাখার সহজ উপায়

শারীরিক শক্তি বা ফিটনেট কম হলে জিমে ভর্তি হোন, অথবা মার্শাল আর্ট শিখুন। অংক কম বুঝলে বাড়তি টিউশন নিন। এভাবে যেখানেই কমতি মনে হয়, সেটাই শেখার চেষ্টা করুন।

চাইলে মানুষ শিখতে পারে না – এমন কিছু নেই। আর এই ধারাবাহিক শিখতে থাকাই আপনার নিজের প্রতি আস্থাকে প্রতিদিন বাড়াতে থাকবে। প্রতিদিন ছোট ছোট করে নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতে থাকলে দেখবেন নিজের প্রতি আস্থা কমার কোনও সুযোগই পাচ্ছে না।

কাজে ব্যাস্ত থাকুন

কাজে ব্যস্ত থাকুন

কাজে ব্যাস্ত থাকলে মন খারাপ আপনাকে স্পর্শ করতে পারবে না। কেননা আমরা মন খারাপ তখনই করি যখন আমাদের কোন কাজ থাকে না আর সেই অবসর সময়য়ে আমরা ভাবনার সাগরে ডুব দেই। আর এই ভাবনার থেকেই বেড়িয়ে আসে নানান অপ্রাপ্তির তিক্ততার গল্প। আর তখনই আমরা মন খারাপ করে বসে থাকি।

কিন্তু আমরা যদি এ সময়কে কোন কাজে নিজেকে নিয়জিত রাখি তাহলে এসব ভাবনা আমাদের মনে আসবে না, আসার সুযোগ নেই। কেননা তখন আমাদের চিন্তার সমস্ত কেন্দ্রবিন্দু থাকবে সেই কাজ। যার ফলে খারাপ চিন্তা ভাবনা মাথায় ঘুরে বেড়াবে না। এবং আমাদের মন খারাপের আশঙ্কা হ্রাস পাবে।

মনোসংযোগ বাড়ান

মনোসংযোগ বাড়ান

দিনে একবার মেডিটেশন করাটা খুব জরুরি। প্রথম প্রথম মনোঃসংযোগ করাটা শক্ত। একটু একটু করে সময় বাড়ান। নিতান্তই ধৈর্যে না কুলোলে, একটু চুপ করে কিছুক্ষণ বসে থাকুন, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করুন। 

আরো পড়ুন: যৌন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের গুরুত্বপূর্ণ ১০১টি প্রশ্ন উত্তর!

অন্যরা আপনাকে নিয়ে কি ভাবছে – তা নিয়ে ভাববেন না

বর্তমানে যে কয়জন উদ্যোক্তা ও মোটিভেটর সবচেয়ে বেশি মানুষকে প্রভাবিত করছেন, গ্যারি ভেইনারচাক (গ্যারি-ভি নামে বিখ্যাত) তাঁদের অন্যতম। একটি কনফারেন্সে তিনি একবার বলেছিলেন,

বিল গেটস

“সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার কোনও লেখা বা ছবি দেখে কেউ যদি বাজে মন্তব্য করে – তাহলে সেই মন্তব্য বা কমেন্টের গুরুত্ব দেয়া অনেক বড় বোকামী। কারণ, ভেবে দেখুন সেই মানুষটির জীবন কতটা অর্থহীন যে, সে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার নিন্মমানেরকনটেন্ট দেখে সেটা নিয়ে চিন্তা করেছে, যাতে তার কয়েক মিনিট সময় লেগেছে – এবং তারপর আরও সময় নষ্ট করে সে একটা নেতিবাচক কমেন্ট করেছে। এর থেকেই বোঝা যায় সেই মানুষটির জীবন কতটা অর্থহীন। তার যদি কাজের কাজ থাকতো, এবং তার সময়ের যদি সত্যিকার দাম থাকতো, তবে সে তার চোখে একটি নিন্মমানের কনটেন্ট এর জন্য এতগুলো মিনিট ব্যয় করতো না। কাজেই এটা নিয়ে মন খারাপ করা মানে আপনি বোকামী করছেন।”

ভালো রাখার সহজ উপায়

কিন্তু আমরা বর্তমানে এটাই সবচেয়ে বেশি পরিমানে করছি, যা আমাদের আত্মবিশ্বাস ও নিজের ওপর আস্থা নষ্ট করছে। সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরেও আমরা এই কাজ করছি। পাশের বাসার আজগর সাহেব – যিনি পেশায় একজন সরকারী কেরানী, তার কাছে ছোট হব না বলে আমরা নিজের পছন্দের কাজ বাদ দিয়ে অন্য কাজ করছি।

আরো পড়ুন: খেজুরেরে গুড় ও মিঠার ১৫টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

গ্যারি-ভি বলেন, “আমরা আজকাল ইঁদুর দৌড়ে মেতেছি। বেশিরভাগ আমরা এমন মানুষের মতামতের গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি,যাদের আমরা সত্যিকার অর্থে ঘৃণা করি।”

বাবা-মা এর কাছে নিজেকে ভালো করা এক কথা, তাঁদের গর্বিত করতে পারলে আমরা নিজেরাও গর্বিত হই। কিন্তু পাশের বাড়ির লোকটি, বা অন্য কোনও লোক যখন আপনাকে নিয়ে তার আশার কথা বলবে – তার গুরুত্ব না দেয়াই ভালো। এসব মানুষ আসলে আপনার জীবনকে কোনও গুরুত্বই দেয় না। 

somvob.com

নিজেদের জীবনের যন্ত্রণার ঝাল তারা আপনার ওপর ঝাড়ে আপনার নিজের প্রতি নিজের আস্থা নষ্ট করে। সত্যি বলতে আপনি কি করলেন না করলেন, তাতে তাদের কিছুই আসে যায় না। শুধু আপনাকে একটু খারাপ বোধ করিয়ে তারা একটা অসুস্থ আনন্দ বোধ করে। কাজেই পাশের বাসার আসগর সাহেব, অথবা মোমিনা বেগম আপনার চাকরি, রেজাল্ট, চেহারা নিয়ে কি বলল – অথবা ফেসবুকের “রকার বয় হৃদয়” বা “নীল পরী সুমি” আপনার লেখা বা ছবিতে কি কমেন্ট করল – এসবের কোনও গুরুত্ব দেবেন না। এসবের গুরুত্ব যত কম দেবেন, নিজের ওপর আস্থা কমার সম্ভাবনা ততই কমে যাবে।

মন ভালো

প্রিয় মানুষদের সঙ্গে কথা বলুন

মন খারাপের কারন নিজের মনের মধ্যে চেপে রাখলে ব্যাপারটা আরো কষ্টদায়ক হয়ে উঠে। মনে হয় হয় বুকে একটি পাথর চাপ দিয়ে রয়েছে। ক্রমেই সেই যন্ত্রনাটা বৃদ্ধি পেতে থাকে। যার ফলশ্রুতি আমরা কষ্টটা পরিমানগত বেশি পেয়ে থাকি। অপর দিকে আমরা সবাই জানি যে মন খারাপের বিষয় অপরকে বললে নিজেকে হালকা লাগে। ভিতরে একটি প্রশান্তির হাওয়া বয়ে যায়।

তাই পরিবার অথবা প্রিয় বন্ধুদের সাথে নিজের সমস্যা এবং মন খারাপের কারন খুলে বলুন। মানসিক চাপের বিষয়গুলো নিয়ে প্রিয় মানুষদের সঙ্গে কথা বললে নিজেকে হালকা মনে হবে। তাছাড়া কথা বলার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধানও বেরিয়ে আসে। যার ফলে মন ভালো হয়ে যাবে।

আরো পড়ুন: ড্রাগন ফল খেলে কি হয়? দেখুন ড্রাগন ফলের সেরা পুষ্টিগুণ সমূহ!

অভ্যাস পরিবর্তন করুন

মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকুন দিনের মধ্যে কিছু ঘণ্টা, বিশেষ করে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এটা খুবই প্রয়োজন। এই সময়টা হয় বই পড়ুন, নয়তো গান শুনুন বা সিনেমা দেখুন। 

ভুল ও ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিন

সাধারণ মানুষ ভুল করলে বা সাময়িক ভাবে ব্যর্থ হলে অনেক সময়েই হতাশ হয়। কিন্তু সফল মানুষরা – যাঁরা বড় বড় লক্ষ্য অর্জন করেন – তাঁরা প্রতিটি ভুল ও ব্যর্থতাকে নতুন কিছু শেখার ও নিজের শক্তি বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখেন।

কোনও ব্যর্থতায় পড়লে বা ভুল করলে – আপনি যখন সেই ভুল বা ব্যর্থতার কারণ খুঁজে বের করে, তা ঠিক করবেন – তখন আপনাকে নতুন কিছু শিখতে হবে। এই শিক্ষা আপনাকে মানুষ হিসেবে আরও দক্ষ ও উন্নত করবে।

ভুল ও ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিন

ভুল ও ব্যর্থতা বড় লক্ষ্য অর্জনের পথে অন্যতম উপাদান। এগুলো কাটিয়ে উঠতে উঠতেই আপনি আসলে সেই বড় লক্ষ্য অর্জনের যোগ্য হবেন। – ভুল ও ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে আরও শক্তিশালী করার মনোভাব বা ‘মাইন্ডসেট’ আপনার নিজের উপর আস্থা ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

Read more: মানুষ চাইলে সবই পারে; মনজিলা শাহরিয়ার এলোরা

কোনও কিছু চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যর্থ হলে খারাপ লাগবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা যেন দীর্ঘস্থায়ী না হয়। আপনার পজিটিভ চিন্তা করার ক্ষমতা নিজের উপর আস্থা ধরে রাখার সবচেয়ে বড় একটি উপায়।

শখের কাজ করুন

শখের কাজ করুন

মন খারাপ থাকা অবস্থায় আমাদের কাজ করার ইচ্ছেটা হারিয়ে যায় শুধু নিজের শখের কাজটা ছাড়া। এবং নিজের শখের বা পছন্দের কাজটি করলে মন খারাপ ভাবটা চলে যায়। এক্ষেত্রে ছবি আঁকা, গান গাওয়া, পছন্দের বাদ্যযন্ত্র বাজানো, বাগান করা ইত্যাদি আপনার যেকোনো পছন্দের কাজ বেছে নিতে পারেন শখ হিসেবে।

তাছাড়া নতুন কোন খাবার তৈরী করতে পারেন পরিবারের জন্য। এধরনের কাজ একাধারে আপনাকে ব্যাস্ত রাখবে আবার আপনার মন খারাপও বিদায় হয়ে যাবে। তাই নিজের মন খারাপ হলে নিজের শখের কাজগুলো খুঁজে বের করে সেই কাজে লেগে পরুন। এর কারনে আপনার মানসিক অবসাদ দূর হয়ে যাবে।

Read More: এক প্যাকেট কনডমের দাম ৬৪,০০০ টাকা!

শান্ত থাকুন

প্রতিদিনই আমাদের কিছু না কিছু অপ্রীতিকর বিষয়ের সঙ্গে যুঝতে হয়। সেটা হতে পারে অন্য সম্পর্কের টানাপোড়েন, আর্থিক সমস্যা অথবা পেশাগত টেনশন। যখনই তেমন কোনও কিছু ঘটে, অনুভূতিপ্রবণ মানুষেরা অত্যন্ত বিপর্যস্ত হয়ে যান। সব সময় সব সমস্যার সুরাহা হয়ও না। কিন্তু নিজের মনকে যত্ন না করলে তেমন পরিস্থিতি থেকে বেরনোও কঠিন হয়। এই সময়গুলোয় একান্তে নিজেই নিজের কাউন্সেলিং করুন, গান শুনুন বা হেঁটে আসুন এক পাক। 

শান্ত থাকুন

যত জ্ঞানের পরিধি বাড়বে, ততই বাড়বে আত্মবিশ্বাস। তাই নিজেকে যত্ন করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, বই, ম্যাগাজিন, গুগল সার্চে প্রতিদিনই কিছু না কিছু নতুন শেখা।

প্রতিদিন পজিটিভ কিছু শুনুন/দেখুন, বা পড়ুন

আপনি এই লেখাটি পড়ছেন, মানে আপনার একটি কম্পিউটার/স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ আছে। এগুলো কাজে লাগিয়ে আপনি নিজেকে সব সময়ে পজিটিভ রাখতে পারেন। পজিটিভ বই, আর্টিকেল, ভিডিও, অডিও – এগুলোর সংস্পর্শে থাকলে আপনি সব সময়ে মোটিভেটেড থাকতে পারবেন। 

Read More: কাঁঠাল এর উপকারিতা কি? কাঁচা কাঁঠাল নাকি পাকা কাঁঠাল খাবেন?

প্রতিদিন পজিটিভ কিছু শুনুন/দেখুন, বা পড়ুন

এছাড়া সফল মানুষদের জীবনী পড়লেও অনেক কিছু জানার পাশাপাশি অনুপ্রেরণা পাবেন। অনুপ্রেরণা আসলে মনের খাবারের মত। মনকে অনুপ্রাণিত রাখতে হলে আপনাকে প্রতিদিন নিজেকে অনুপ্রাণিত করতে হবে। অনুপ্রেরণামূলক বই, ওয়েবসাইট প্রতিদিন চেক করুন, অডিও শুনুন। তাহলে দেখবেন কোনও পরিস্থিতিতেই নিজের উপর আস্থা হারাচ্ছেন না। অথবা ইউটিউবে বাংলা ইংরেজিহিন্দি সব ধরণের প্রেরণামূলক ভিডিও রয়েছে তা দেখতে পারেন।

সবচেয়ে কম বয়সে বিলিওনেয়ার হওয়া ভারতীয় বিজয় শেখর শর্মা দারুন মেধাবী হওয়ার কারণে কম বয়সে কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু হিন্দী মিডিয়াম থেকে ইংলিশ মিডিয়াম কলেজে গিয়ে পড়াশুনা ধরতে পারতেন না। শিক্ষক ও সহপাঠীরা তাকে খুবই লজ্জা দিত। এক পর্যায়ে তিনি ক্লাসে যাওয়া বাদ দিয়ে লাইব্রেরীতে বসে ইংরেজী চর্চা করতেন এবং সফল মানুষদের জীবনী পড়তেন। এক সময়ে তিনি নিজের ওপর আস্থা ফিরে পান। এবং সেই কলেজের ইতিহাসে তাঁর মত সাফল্য আর কোনও ছাত্র পাননি।

হতাশ ও নেগেটিভ লোকদের এড়িয়ে চলুন

এটা প্রায় সব সেলফ ডেভেলপমেন্ট ও সাফল্য বিষয়ক টপিকের কমন টিপস। কমন টিপস হওয়া কারণও আছে। এটা প্রমাণিত সত্য যে, আপনি যে ধরনের মানুষের সাথে বেশি চলবেন – তাদের আচরণের প্রভাব আপনার ওপর পড়বে। যেসব মানুষ সবকিছুর ভেতরেই একটা না একটা সমস্যা খুঁজে পায়, এবং বেশিরভাগ সময়েই হতাশ থাকে – তাদের সাথে থাকা আপনার জন্য ক্ষতিকর।

হতাশ ও নেগেটিভ লোকদের এড়িয়ে চলুন

যত পারেন এই ধরনের মানুষদের এড়িয়ে চলুন। যারা সফল হতে চায়, এবং সব পরিস্থিতিতেই আশাবাদী থাকে – এমন মানুষদের সাথে চলুন। এরা আপনার খারাপ পরিস্থিতিতে আপনাকে উ‌ৎসাহ দেবে আশা নিয়ে কথা বলবে। অন্যদিকে হতাশ মানুষরা আপনাকে আরও হতাশ করে দেবে। এদের সাথে সময় কাটাতে কাটাতে আপনি নিজেও নিজের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলবেন। কাজেই, নিজের উপর সব সময়ে আস্থা ধরে রাখতে চাইলে হতাশ ও নেতিবাচক মানুষদের কাছে যতটা সম্ভব কম যান। আশাবাদী ও পজিটিভ মানুষদের দিয়ে নিজের সার্কেল গড়ে তুলুন।

প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে  SOMVOB.COM লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।