বিশ্বের চোখ ধাঁধানো ৩০টি মনোমুগ্ধকর লেক

422
মনোমুগ্ধকর

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, মনোমুগ্ধকর ও রহস্যে ঘেরা এই পৃথিবীর বৈচিত্রপূর্ণ স্থান সম্পর্কে মানুষের কৌতুহলের অন্ত নেই। কৌতুহলী মানুষ আবিষ্কারের নেশায়, নতুন কিছু দেখার আশায় চষে বেড়াচ্ছে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। আর প্রকৃতি একের পর এক উন্মুক্ত করছে তার বৈচিত্রময় সৌন্দর্য্যের আবরণ। প্রকৃতির বৈচিত্রময় রুপে মোহিত হবার আনন্দ পেতে সেইসব দর্শনীয় স্থানগুলো বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ প্রিয় মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মনোমুগ্ধকর লেক ও স্থানগুলো। এই পৃথিবীতে এমন অনেক মনোমুগ্ধকর স্থান আছে যার মধ্যে সেরা ৩০টি মনোমুগ্ধকর স্থান বা লেক নিয়ে প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো।

ডাল লেক, শ্রীনগর

কাশ্মীরের আদিম সৌন্দর্যকে এর সম্পূর্ণ গৌরব দিয়ে বুঝতে গেলে, আপনার ভ্রমণে ডাল লেক অবশ্যই থাকা দরকার। যদিও দর্শনার্থীদের ভিড়ে কাশ্মীর কি কলির সময় থেকেই পূর্ণ। ডাল লেক গ্রীষ্ম এবং শীতে আলাদা আলাদা ল্যান্ডস্কেপের মনোরম দৃশ্যের সাথে এক দমবন্ধ করা সৌন্দর্য প্রদান করে। 15 কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই লেকে রাজার যুগ থেকে বহু হাউসবোটে ভর্তি। এছাড়াও শিকারা যা লেকের সব জায়গায় ঘুরে বেড়ায়, ভ্রমনার্থীদের নিয়ে পারাপার করে প্রশস্ত থেকে হাউসবোটে বা বোটে চাপিয়ে। শিকারা বিক্রেতা হিসাবেও ব্যবহার হয় যেখানে পাওয়া যায় কাশ্মীরি হস্তশিল্পের নিদর্শন এবং উপহার সামগ্রী, ফল, ফুল এবং সব্জি।

আরো পড়ুন: বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ১০টি দেশ (ছবিসহ)

কাস্পিয়ান সাগর

আয়তন: ৩৭১০০০ বর্গকিলোমিটার

কাস্পিয়ান সাগর নাম সাগর হলেও এটি আসলে একটি লেক বা হৃদ। যদিও এটি এতই বিশাল যে ভুল করে সাগর বলা যেতেই পারে! এটির  আয়তন প্রায় ৩৭১০০০ বর্গকিলোমিটার যা রাশিয়া, কাজাখিস্তান, তুর্কেমিনিস্তান, আজারবাইজান এবং ইরানের কিছু অংশ জুরে অবস্থান করছে এই বিশাল আকারের হৃদটি। আর এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০৩০ বর্গকিলোমিটার এবং প্রস্থ  ৪৩৫ বর্গকিলোমিটার ৩৭১০০০ বর্গকিলোমিটারের সাগর রুপি বিশাল এই হৃদের পানির পরিমাণ প্রায় ৭৮২০০ কিলো-ঘনমিটার। গভীরতার দিক দিয়েও এই কম নয় যার গড় গভীরতা ২১১ মিটার বা ৬৯০ ফুট এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ১০২৫ মিটার বা ৩৩৬০ ফুট। আর এই কাস্পিয়ান সাগর হৃদটি গভীরতার দিক থেকে পৃথিবীর ৩য় অবস্থানে রয়েছে।

লেক সুপিরিয়র

আয়তন: ৮২১০০ বর্গকিলোমিটার

লেক সুপিরিয়র হচ্ছে বিশ্বের সব চেয়ে বড় পরিষ্কার বা স্বচ্ছ পানির লেক এবং আয়তনের দিক দিয়ে বিশ্বের ২য় বড় লেক। এমনকি দক্ষিণ আমেরিকার সব চেয়ে বড় লেক হচ্ছে এই লেক সুপিরিয়র। লেকটির দৈর্ঘ্য ৫৬৩ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ২৫৭ কিলোমিটার। এর সর্বোচ্চ গভীরতা ৪০৬ মিটার। লেক সুপিরিয়রের মোট আয়তন ৮২১০০ বর্গকিলোমিটার। এই লেকটির বিশেষত্ব হচ্ছে স্বচ্ছ পানি আর সুন্দর পরিবেশ।

আরো পড়ুন: চোখ ধাঁধানো বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ২৫টি সেতু !

লেক ভিক্টোরিয়া

আয়তন: ৬৮৮৭০ বর্গকিলোমিটার

এই লেকটির আয়তন ৬৮৮৭০ বর্গকিলোমিটার। এত বিশাল আয়তনের কারণে যায়গা করে নিয়েছে বিশ্বের ৩য় অবস্থান। এছাড়াও এই লেকটি সমগ্র আফ্রিকার সবচেয়ে বড়। আর এর নাম করন করা হয় বিখ্যাত রানী ভিক্টোরিয়ার নামে। লেক ভিক্টোরিয়ার পানিও সুপিরিয়রের মত খুব স্বচ্ছ আর এই কারণে লেক সুপিরিয়র এর পরেই অর্থাৎ ২য় সর্বোচ্চ প্রাকৃতিক স্বচ্ছ পানির লেক হিসেবে গণ্য করা হয়। লেক ভিক্টোরিয়ার অবস্থান সমগ্র আফ্রিকার বড় অংশ জুরে যা উগান্ডা ৪৫ শতাংশ, কেনিয়া ৬ শতাংশ, তাঞ্জানিয়ার ৪৯ শতাংশ অবস্থান রয়েছে। লেক ভিক্টোরিয়ার দৈর্ঘ্য  ৩৩৭ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ২৫০ কিলোমিটার। গড় গভীরতা ৪০ মিটার হলেও এর সর্বোচ্চ গভীরতা মাপা হয় ৮৩ মিটার।

লেক হিউরন

আয়তন: ৫৯৬০০ বর্গকিলোমিটার

লেক হিউরন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম অঞ্চল এবং কানাডার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত যার আয়তন ৫৯৬০০ বর্গকিলোমিটার যা সমগ্র পৃথিবীর চতুর্থ এবং ৩য় সর্বোচ্চ স্বচ্ছ পানির লেক। এই লেকটি হচ্ছে উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বিখ্যাত লেক। লেক হিউরনের দৈর্ঘ্য ৩৩১ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ২৯৫ কিলোমিটার। এটির সর্বোচ্চ গভীরতা ২২৯ মিটার ও গড় গভীরতা ৫৯ মিটার।

লেক মিশিগান

আয়তন: ৫৮০০০ বর্গ কিলোমিটার

লেক মিশিগান হচ্ছে একটি দেশে অবস্থানকারী লেকের মাঝে পৃথিবীর সব চেয়ে বড়। লেকটির আয়তন ৫৮০০০ ব বর্গকিলোমিটার যা পৃথিবীর মাঝে ৫ম অবস্থান ধরে রেখেছে। এটি পানি ধারণ ক্ষমতার দিক দিয়ে পৃথিবীর ২য় অবস্থানে রয়েছে। এর দৈর্ঘ্য ৪৯৪ কিলোমিটার এবং ১৯০ কিলোমিটার প্রস্থ। গড় গভীরতা ৮৫ মিটার এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ২৮২ মিটার।

আরো পড়ুন: ব্রেস্ট ক্যান্সারে কারন, লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

লেক টাংগানিকা

আয়তন: ৩২৬০০ বর্গ

আফ্রিকার বিখ্যাত লেকের মাঝে লেক টাংগানিকাও একটি। আর এই লেকটি হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ স্বচ্ছ পানির লেক। এটির আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ তাঞ্জানিয়া, বুরুন্দি, জাম্বিয়ার কিছু অংশ জুড়ে এর অবস্থান । লেক টাংগানিকা গভীরতার দিক থেকে ২য় এবং স্বচ্ছ পানির লেকের মাঝে ১ম ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এর সর্বোচ্চ গভীরতা  ১৪৭০ মিটার এবং গড় গভীরতা ৫৭০ মিটার। এর দৈর্ঘ্য ৬৭৭ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৫০ কিলোমিটার। এর আয়তন ৩২৬০০ বর্গকিলোমিটার। আর এই আয়তনের কারণে জায়গা করে নিয়েছে পৃথিবীর ৬ষ্ঠ অবস্থান।

লেক বৈকাল

আয়তন: ৩১৫০০ বর্গ কিলোমিটার

লেক বৈকাল এর অবস্থান উত্তর মঙ্গলীয় সীমান্তে এবং রাশিয়ার দক্ষিণ সাইবেরিয়া অঞ্চলে। এই লেকটির আরও একটি নাম রয়েছে আর সেটা হল ‘ন্যাচারস’ বা প্রকৃতি। এটি তার আয়তনের কারণে জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বের ৭ম অবস্থান। এর আয়তন ৩১৫০০ বর্গকিলোমিটার। এর দৈর্ঘ্য ৬৩৬ কিলোমিটার। এর সর্বোচ্চ গভীরতা ১৬৪২ মিটার এবং গড় গভীরতা ৭৪৪ মিটার। লেক বৈকালের আনুমানিক বয়স প্রায় ২৫ মিলিয়ন বছর বা তারও বেশি। পৃথিবীর প্রায় ২০ শতাংশ স্বচ্ছ পানি এই লেকটিতে রয়েছে যা প্রায়  ২৩৬০০ কিলো-ঘন মিটার।

গ্রেট বেয়ার লেক

আয়তন: আয়তন ৩১০০০ বর্গকিলোমিটার

গ্রেট বেয়ার লেক হচ্ছে উত্তর আমেরিকার চতুর্থ বড় লেক। এই লেকের আয়তন ৩১০০০ বর্গকিলোমিটার। এর দৈর্ঘ্য ৩২০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৭৫ কিলোমিটার। এর সর্বোচ্চ গভীরতা ৪৪৬ মিটার এবং গড় গভীরতা ৭১ মিটার। আর এই গ্রেট বেয়ার লেকটির মাঝে রয়েছে ২৬টি দ্বীপ আর এই দ্বীপ গুলো একত্রে আয়তন ৭৫৯ বর্গকিলোমিটার। এই লেকটি সমুদ্র লেভেল থেকে ১৮৬ মিটার উপরে অবস্থিত। আর এই লেকটিতে শীতের সময়ে প্রচণ্ড ভাবে তাপমাত্রা হ্রাস পায়।

আরো পড়ুন: ব্রণ, ত্বক, চুল ও আরো বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারী অ্যালোভেরায়!

লেক মালাবি

আয়তনঃ আয়তন ২৯৫০০ বর্গকিলোমিটার

এই লেকটি অবস্থান করছে মালাবি, তাঞ্জানিয়া এবং মোজাম্বিকের কিছু অঞ্চলে। এটির আয়তন ২৯৫০০ বর্গকিলোমিটার যা পৃথিবীর নবম সর্বোচ্চ। আর এই মালাবি লেকটি সমগ্র আফ্রিকার মাঝে ৩য় সর্বোচ্চ এবং ২য় সর্বোচ্চ গভীরতার দিক থেকে। এটির দৈর্ঘ্য ৫৭৯ কিলোমিটার। এর সর্বোচ্চ গভীরতা ৭০৬ মিটার এবং গড় গভীরতা ২৯২ মিটার। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই মালাবি লেক।  এই লেকটিতে অনেক প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। আর এই কারণে পৃথিবীর মাঝে ব্যাপক পরিচিত। এই লেকটিতে পায় ১০০ মাছ পাওয়া যায়।

গ্রেট স্লেভ লেক

আয়তন: ২৭০০০ বর্গকিলোমিটার

গ্রেট স্লেভ লেকটি আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীর ১০ম অবস্থানে রয়েছে। আর এটি উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে গভীর তম লেক। এই লেকটির অবস্থান কানাডার উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে। যার সর্বোচ্চ গভীরতা ৬১১ মিটার। এই লেকটির দৈর্ঘ্য ৪৮০ কিলোমিটার এবং এর প্রস্থ ১০৯ কিলোমিটার। এই গ্রেট স্লেভ লেকটির আয়তন ২৭০০০ বর্গকিলোমিটার। এটির পানির প্রবাহ শুরু হয় হ্যায় নদী থেকে এবং প্রবাহ গিয়ে পরে ম্যাকেঞ্জি নদীতে। আর গত কয়েক বছর ধরে এই লেকের নিচে বরফের স্তর জমা হয়ে থাকে।

আরো পড়ুন: সব সময় হাসি খুশি ও মন ভালো রাখার বৈজ্ঞানিক ২০টি মূলমন্ত্র!

ডাল লেক

আয়তন: ১৫ বর্গকিলোমিটার

কাশ্মীরের আদিম সৌন্দর্যকে এর সম্পূর্ণ গৌরব দিয়ে বুঝতে গেলে, আপনার ভ্রমণে ডাল লেক অবশ্যই থাকা দরকার। যদিও দর্শনার্থীদের ভিড়ে কাশ্মীর কি কলির সময় থেকেই পূর্ণ। ডাল লেক গ্রীষ্ম এবং শীতে আলাদা আলাদা ল্যান্ডস্কেপের মনোরম দৃশ্যের সাথে এক দমবন্ধ করা সৌন্দর্য প্রদান করে। ১৫ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই লেকে রাজার যুগ থেকে বহু হাউসবোটে ভর্তি।

এছাড়াও শিকারা যা লেকের সব জায়গায় ঘুরে বেড়ায়, ভ্রমনার্থীদের নিয়ে পারাপার করে প্রশস্ত থেকে হাউসবোটে বা বোটে চাপিয়ে। শিকারা বিক্রেতা হিসাবেও ব্যবহার হয় যেখানে পাওয়া যায় কাশ্মীরি হস্তশিল্পের নিদর্শন এবং উপহার সামগ্রী, ফল, ফুল এবং সব্জি।

এন্টিলোপ ক্যানিয়ন, আরিজোনা

যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনায় অবস্থিত এন্টিলোপ ক্যানিয়নের অনন্য বৈশিষ্ট্য একে বিশ্বের সৌন্দর্য্য প্রিয় মানুষের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। মিলিয়ন বছর আগে পানির প্রবাহের কারণে সৃষ্টি হওয়া এই গভীর গিরিখাতের দেয়ালে সূর্য্যের আলো পৌঁছে অদ্ভুত আলোছায়া ও রঙের বৈচিত্র তৈরী করে পর্যটকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে।

প্যাংগং লেক, লাদাখ

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪ হাজার ফুট উপরে পাহাড় ও মরুভূমি বেষ্টিত ভারত-চীন সীমান্তবর্তী লাদাখে অনন্য রুপের আধার প্যাংগং লেক অবস্থিত। ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে সুনীল এই লেকের ভিন্ন ভিন্ন রুপের দেখা মেলে। ভূ-নিস্বর্গের জন্য বিখ্যাত প্যাংগং লেকে যাওয়ার পথ বছরের বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ থাকে তাই প্যাংগং লেক ভ্রমণ করার জন্য জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

সালার দে ইয়ুনি, বলিভিয়া

বলিভিয়ার বৃহত্তম লবণভূমি সালার দে ইয়ুনি বর্ষাকালে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আয়নায় রুপান্তরিত হয়। সালার দে ইয়ুনি প্রায় ১০ হাজার ৫৮২ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। লবণের মরুভূমি কিংবা প্রাকৃতিক আয়নার অপরুপ সৌন্দর্য্য অবলোকন করতে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক ও ফটোগ্রাফা বলিভিয়ায় ছুটে আসে।

বারোস আইল্যান্ড, মালদ্বীপ

পর্যটকদের কাছে মালদ্বীপ অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। প্রায় আড়াইহাজার ছোট-বড় দ্বীপ নিয়ে গঠিত মালদ্বীপে অসংখ্য নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমণ্ডিত স্থান রয়েছে। বারোস আইল্যান্ড তেমনি এক প্রাকৃতিক নিস্বর্গ। পর্যটকদের অবকাশ যাপনের জন্য এখানে রয়েছে প্রয়োজনীয় সমস্ত আয়োজন। সুনীল সাগর, আকাশ আর প্রকৃতির অপূর্ব মায়া বারোস আইল্যান্ডকে করেছে মোহনীয়।

কিউকেনহফ, ন্যাদারল্যান্ড

পৃথিবীর বৃহত্তম ফুল বাগানের জন্য ন্যাদারল্যান্ডের কিউকেনহফ শহর বিখ্যাত। পনেরশ শতকে যাত্রা শুরু করা বাগানের বর্তমান জমির পরিমাণ প্রায় ৮০ একর এবং যা থেকে বছরে ৭০ লাখেরও বেশি টিউলিপ ফুল উৎপাদন করা হয়। বিভিন্ন প্রজাতির টিউলিপ ফুল ছাড়াও ‘কিচেন গার্ডেন’ এবং ‘গার্ডেন অব ইউরোপ’ খ্যাত বাগানে প্রায় ৩০ ধরনের ফুল রয়েছে। প্রতিবছর মধ্য মার্চ থেকে মধ্য মে মাস পর্যন্ত বাগানটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে।

হা লং বে, ভিয়েতনাম

ভিয়েতনামের কুয়াংনি প্রদেশে অবস্থিত ১৫৫৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের হা লং বে-র নীল স্বচ্ছ পানি ও চুনাপাথরের পাহাড় এর সৌন্দর্য্য বহুগুন বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রায় ২ হাজার ক্ষুদ্র চুনাপাথরের দ্বীপের এই হা লং বে-তে রয়েছে কয়েকটি ভাসমান গ্রাম ও কৃত্রিম গুহা। ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে হা লং বে কে স্বীকৃতি প্রদান করে।

নর্দান লাইটস বা অরোরা, আইসল্যান্ড

আকাশে রঙের ছড়াছড়ি অর্থাৎ নর্দান লাইটস বা অরোরা (Aurora) প্রকৃতির এক অপূর্ব সৌন্দর্য্য নিদর্শন। নরওয়ে, সুইডেন, কানাডা, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, আইসল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও গ্রীনল্যান্ড থেকে সন্ধ্যা এবং রাতের বেলায় অরোরা দেখা যায়। তবে আইসল্যান্ডে অবস্থিত পিংভেলার ন্যাশনাল পার্ক নর্দান লাইটস বা অরোরা দেখার জন্য জনপ্রিয় স্থান হিসাবে সুপরিচিত। ইউনেস্কো কতৃক বিশ্বের দর্শনীয় স্থান হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই স্থানে প্রতি বছর হাজার হাজার ভ্রমণ পিপাসু পর্যটক ছুটে আসে।

উইস্টেরিয়া টানেল, জাপান

জাপানের কাওয়াচি ফুজি গার্ডেনে অবস্থিত উইস্টেরিয়া টানেল যেন এক প্রশান্তির জায়গা। পৃথিবীতে স্বর্গীয় অনুভুতি নিয়ে আসা উইস্টেরিয়া টানেলের সৌন্দর্য্য দেখতে হলে আপনাকে অবশ্যই এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে কাওয়াচি ফুজি গার্ডেনে যেতে হবে। ব্যক্তি মালিকানাধীন এই বাগান শুধুমাত্র উইস্টেরিয়া ফুলের মৌসুমে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

ফি-ফি দ্বীপপুঞ্জ, থাইল্যান্ড

ফি-ফি দ্বীপপুঞ্জ নান্দনিক সৌন্দর্য্যের জন্য অত্যন্ত সুপরিচিত তাই প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটকদের এই দ্বীপ ভ্রমণে আসেন। ভ্রমণকারীদের জন্য এই দ্বীপে রয়েছে ক্রুজ, ক্লিফ ডাইভিং, রক ক্ল্যাইম্বিং এবং মাছ ধরার ব্যবস্থা। এছাড়াও ফি ফি আইল্যান্ডের মায়া উপসাগর এখানকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যপূর্ণ স্থান হিসাবে প্রসিদ্ধ।

আরো পড়ুন:

ঝাংজিয়াজি ন্যাশনাল পার্ক, চীন

চীনের হুনান প্রদেশের তিয়ানমেন পর্বতে অবস্থিত ঝাংজিয়াজি ন্যাশনাল ফরেস্ট পার্ক চীনে ভ্রমণকারী মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য এখানে বিভিন্ন স্থাপনার পাশাপাশি রয়েছে ১৪১০ ফিট উঁচুতে নির্মিত কাচের তৈরী সেতু, তিয়ানমেন পর্বত এবং ঝাংজিয়াজি ন্যাশনাল পার্কের বুনো সৌন্দর্য্য।

আরো পড়ুন: বিটরুট কি? বিটরুটের উপকারিতা


[ প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে প্রতিদিনের স্বাস্থ্য টিপস লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।