ভুট্টার অসাধারণ ৩০টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

476

সম্ভব ডটকম:

রাস্তাঘাটে বের হলেই চোখে পড়ে ঠেলাগাড়িতে পোড়ানো ভুট্টার বেচাকেনা। ভুট্টা কেবল খেতেই মজা নয়, রয়েছে নানান পুষ্টিগুণ। ভুট্টা শুধুমাত্র বিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালোরিই সরবরাহ করেনা বরং ভিটামিন এ, বি, ই এবং অনেক প্রকার খনিজ ও সরবরাহ করে। উচ্চমাত্রার ফাইবারের উপস্থিতির জন্য ভুট্টা পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা যেমন- কোষ্ঠকাঠিন্য, অর্শরোগ ও কোলোরেক্টাল ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ভুট্টার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অ্যান্টিকারসিনোজেনিক এজেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং আলঝেইমার্স রোগ প্রতিরোধ করে। মানসম্মত পুষ্টিকর উপাদানের উপস্থিতির জন্য ভুট্টার স্বাস্থ্য উপকারিতা অনেক। খাবারের স্বাদ বৃদ্ধির পাশাপাশি ভুট্টা ফাইটোকেমিক্যালে সমৃদ্ধ। ভুট্টার গবেষণালব্ধ ও সুদূরপ্রসারী স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো সম্পর্কে জেনে নেই-

« এক নজরে দেখুন এই প্রতিবেদনে কি কি রয়েছে »

ভুট্টার পুষ্টি গুণ

প্রতি ১০০ গ্রাম মিষ্টি ভুট্টায় ১৯ গ্রাম কার্বোহাইড্রেইট, ২ গ্রাম আঁশ, ৩ গ্রাম প্রোটিন, ১.৫ এর কম চর্বি এবং ৮৬ ক্যালরি থাকে।

অন্যদিকে ১০০ গ্রাম পপকর্ণে ৯২ ক্যালরি, ২.৯ গ্রাম প্রোটিন, ১৮.৭ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ১ গ্রাম চর্বি থাকে।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে

ভুট্টা ভিটামিন সি, ক্যারোটিনয়েড ও বায়োফ্লাভোনয়েডস এ সমৃদ্ধ যা রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। জার্নাল অফ নিউট্রিশনাল বায়োক্যামিস্ট্রির মতে, ভুট্টার তুষের তেল গ্রহণ করলে প্লাজমার এলডিএল কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমে শরীরে কোলেস্টেরলের শোষণ কমায়।

অ্যানেমিয়া প্রতিরোধ

ভুট্টা লৌহ সমৃদ্ধ যা রক্তের লোহিত কণার প্রয়োজনীয় খনিজের চাহিদা পূরণ করে। এভাবেই এটা অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি কমায়। বেবি কর্ণে ভালো পরিমাণে আয়রন থাকে। তাই ভুট্টা খেলে আয়রনের ঘাটতি পূরণ হয় এবং রক্তস্বল্পতা বা অ্যানেমিয়া প্রতিরোধ করে।

রক্ত চাপ কমায়

ভুট্টায় থাকা ফাইটোকেমিকেল শরীরে ইন্সুলিনের শোষণ ও নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।  এতে পাওয়া যায় ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস যা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায়।

শক্তি বর্ধক

মিষ্টি ভুট্টা বা ‘সুইট কর্ন’ আঁশ জাতীয় শস্য যাতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেটের যৌগ। এটা দেরিতে হজম হয় এবং কাজের শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।

দৃষ্টি শক্তি বাড়ায়

হলুদ ভুট্টা খাওয়া এক টন বিটা ক্যরোটিন সরবারহ করে। যা চোখ ও ত্বকের জন্য খুবই ভালো।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

  • ‘ইনজেস্টিবল প্রোটিন’ থাকায় এটা অনেক সময় অ্যালার্জির কারণ হতে পারে।
  • পরিমাণে বেশি খাওয়া হলে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • কাঁচা ভুট্টা খেলে ডায়রিয়া হতে পারে।
  • ভুট্টা খাওয়ার কারণে ঘুম ঘুম ও নিস্তেজভাব দেখা দিতে পারে।
  • অতিরিক্ত ভুট্টা খাওয়া ওজন বাড়ার কারণ।

পরিপাকের উন্নতি ঘটায়

উচ্চমাত্রার ফাইবার থাকে বলে ভুট্টা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। ডায়েটিশিয়ান ডা. আস্থা শর্মা বলেন, একটি গবেষণায় কোলন ক্যান্সারের রোগীদের ভুট্টা খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

হাইপারটেনশন কমায়

ফেনলের উপস্থিতির জন্য ভুট্টা খেলে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

পুষ্টিগুণে ভরা

ভুট্টা আঁশে ভরা। এতে পরিপাকতন্ত্র সুস্থ থাকে। এতে বায়োফ্লাভোনয়েডস ও ক্যারোটিনয়েডসের মতো প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরকে সুস্থ রাখে।

বর্ষাকালীন রোগবালাই দূর

বর্ষাকালে শরীরে নানা রকম রোগবালাই দেখা দিতে পারে। বর্ষাকালে ভুট্টা পাওয়া যায়। মৌসুমি শস্য হিসেবে ভুট্টা খেতে পারেন। ভিটামিন এ, সি ও লাইকোপিন ত্বককে উজ্জ্বল করে এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূরে রাখে। গরম-গরম ভুট্টা খেলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। বর্ষার সময় যেসব রোগ ছড়ায়, তা থেকে শরীরকে সুস্থ রাখতে ভুট্টা দারুণ কার্যকর।

হজমে সহায়ক

ভুট্টায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং হজমে সহায়তা করে।

রক্তাল্পতা দূর হয়

ভুট্টায় প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ভিটামিন বি১২ রয়েছে, যা নতুন রক্তকোষ তৈরি করতে সাহায্য করে। এতে রক্তাল্পতা দূর হয়।

খনিজের শক্তিশালী উৎস

ভুট্টা আমাদের একটি পরিচিত এবং পছন্দের খাদ্য। আর আমাদের দেহে খনিজের প্রয়োজন খুবই বেশি। এই খনিজের শক্তিশালী একটি উৎস বেবি কর্ণ, ছোট্ট হলুদ ভুট্টার শাঁসে এত বেশি খনিজ থাকে যা আপনি চিন্তাও করতে পারবেন না। এতে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন ও কপার থাকে এবং সবচেয়ে  গুরুত্বপূর্ণ ফসফরাস থাকে যা স্বাস্থ্যকর হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয়। এই  খনিজ উপাদানটি শুধুমাত্র হাড়ের ফাটল রোধ করেনা বরং কিডনির স্বাভাবিক কাজ বৃদ্ধি করে।

গর্ভাবস্থার জন্য উপকারি

ফলিক এসিডের চমৎকার উৎস বেবিকর্ণ এবং শিশুর ওজন বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। এই সময় কোষ্ঠকাঠিন্য হলে মহিলাদের অনেক কষ্ট হয়।

ফলিক এসিডের চমৎকার উৎস বেবিকর্ণ এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অনেক সাহায্য করে, এবং শিশুর ওজন বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় খুবই সাধারণ একটি অভিযোগ হচ্ছে কোষ্ঠকাঠিন্য। তাই গর্ভবতী মহিলাদের খাদ্যতালিকায় বেবিকর্ণ যুক্ত করাটা জরুরী।

পরিপাকের উন্নতি ঘটায়

পরিপাকের উন্নতিতে ভুট্টার তুলনা বলে শেষ করা যাবে না। উচ্চমাত্রার ফাইবার থাকে বলে ভুট্টা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। ডায়েটিশিয়ান ডা. আস্থা শর্মা বলেন, একটি গবেষণায় কোলন ক্যান্সারের রোগীদের ভুট্টা খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

ভুট্টা খেলে হাইপারটেনশন কমে। কারন ভুট্টার মধ্যে ফেনল উপস্থিত থাকে। ফলে ফেনলের উপস্থিতির জন্য ভুট্টা খেলে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

অ্যানেমিয়া প্রতিরোধ

বেবি কর্ণে ভালো পরিমাণে আয়রন থাকে। তাই ভুট্টা খেলে আয়রনের ঘাটতি পূরণ হয় এবং রক্তস্বল্পতা বা অ্যানেমিয়া প্রতিরোধ করে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস

ভুট্টা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। তাই ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ফ্রি র‍্যাডিকেল এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে

ভুট্টা ভিটামিন সি, ক্যারোটিনয়েড ও বায়োফ্লাভোনয়েডস এ সমৃদ্ধ যা রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। জার্নাল  অফ নিউট্রিশনাল বায়োক্যামিস্ট্রির মতে, ভুট্টার তুষের তেল গ্রহণ করলে প্লাজমার এলডিএল কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমে শরীরে কোলেস্টেরলের শোষণ কমানোর মাধ্যমে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ

ডায়াবেটিস আমাদের জন্য একটি মারাক্ত রোগ। যা নিয়ন্ত্রণ না করলে মানুষের অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। বেবি কর্ণের গ্লিসামিক ইনডেক্স কম বলে ডায়াবেটিস মেলাইটিসের জন্য উপকারি। সুতরাং চিকিৎসাকরা বেবি কর্ণ  খাওয়ার কথা বলে থাকে। আর এই বেবি কর্ণের ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে রাখা সমভাব। বেবি কর্ণের গ্লিসামিক ইনডেক্স কম বলে ডায়াবেটিস মেলাইটিসের জন্য উপকারি।

ত্বকের যত্নে

ভুট্টা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় ত্বককে দীর্ঘদিন যাবৎ সতেজ থাকতে সাহায্য করে। ভুট্টা খাওয়ার পাশাপাশি ভুট্টার তেল ব্যবহার ও উপকারি কারণ এতে লিনোলেইক এসিড থাকে। ভুট্টার মাড় ত্বকের চুলকানি ও র‍্যাশ প্রশমিত হতে সাহায্য করে।

১০০ গ্রাম বেবিকর্ণে আছে :  ১৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ২৬ ক্যালোরি, ১ গ্রাম ফ্যাট, ২ গ্রাম প্রোটিন, ১.৬ গ্রাম ফাইবার। বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি থেকে মুক্ত হতে এবং স্বাস্থ্যবান থাকার জন্য আপনার খাদ্যতালিকায় ভুট্টা রাখুন।

প্রচুর শক্তি সঞ্চালন

প্রচুর শর্করা থাকে বলে দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদে শরীরে শক্তি জোগাতে পারে। মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক কার্যক্রমের সহায়ক। এক কাপ ভুট্টায় ২৯ গ্রাম শর্করা থাকে। অ্যাথলেটদের জন্য ভুট্টা উপকারী। ব্যায়াম শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ভুট্টা খাওয়া উচিত।

কোলস্টেরল নিয়ন্ত্রন

এলডিএল নামে শরীরে যে বাজে কোলস্টেরল থাকে, ভুট্টা তা দূর করতে সাহায্য করে।

দৃষ্টিশক্তি

ভুট্টার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে। ভুট্টার হলুদ দানাগুলোয় ক্যারোটিনয়েডস থাকে। ভুট্টার ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি প্রখর করতেও সাহায্য করে। ভিটামিন এ এর ভালো উৎস হওয়ায় ভুট্টা দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে সাহায্য করে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস

ভুট্টা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। তাই ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ফ্রি র‍্যাডিকেল এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

খনিজের উৎস

ছোট্ট হলুদ ভুট্টার শাঁসে এত বেশি খনিজ থাকে যা আপনি চিন্তাও করতে পারবেন না! এতে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন ও কপার থাকে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফসফরাস থাকে যা স্বাস্থ্যকর হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয়। এই খনিজ উপাদানটি শুধুমাত্র হাড়ের ফাটল রোধ করেনা বরং কিডনির স্বাভাবিক কাজ বৃদ্ধি করে।