More

    This Website Under Constraction

    ৪০টি ভিটামিন “এ” যুক্ত খাবারের তালিকা ✅

    মানব দেহের জন্য অন্যান্য নিউট্রিয়েন্ট এর পাশাপাশি ভিটামিন এ যুক্ত খাবার এর চাহিদাও অনেক। এজন্য প্রতিদিনের চাহিদা অনুযায়ী শরীরের জন্য যতটুকু পরিমান ভিটামিন এ যুক্ত খাবার চাহিদা রয়েছে সেই চাহিদা পূ্রণ করা উচিত। 

    প্রখ্যাত পুষ্টিবিদ শামীমা আখতার জলি বলেন, “একজন নবজাতক থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সকলেরই ভিটামিন প্রতিদিন গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।… আবার অতিরিক্ত ভিটামিন এ গ্রহণ করলে বিষক্রিয়া দেখা দিতে পারে, চুল পড়ে যেতে পারে, ত্বক ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।”

    « এক নজরে দেখুন এই প্রতিবেদনে কি কি রয়েছে »

    সবার আগে জেনে নিন: ভিটামিন এ অভাবে কি রোগ হয়

    সবার আগে জেনে নিন: ভিটামিন এ অভাবে কি রোগ হয়
    Vitamin A
    • চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যায়।
    • অল্প আলোতে দেখতে কষ্ট হয় সেই সাথে রাতকানা রোগ দেখা দেয়।
    • চোখে শুষ্কতা দেখা দিয়ে থাকে।
    • অনেক সময় চোখের কর্নিয়াতে ইনফেকশন হয়ে থাকে। ফলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়।
    • চোখের কোণায় বিটট্স স্পট পরে অর্থাৎ চোখে দাগ পরে যায়। এছাড়া ত্বকেও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা যেমন: চামরায় গুটি উঠা, জীবানু আক্রমণ করা, চুলকানী ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয় এই ভিটামিন এর অভাবে।

    এসব রোগ প্রতিরোধ করার জন্য প্রতিদিনের চাহিদা অনুযায়ী ভিটামিন ‘এ’ যুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। গর্ভাবস্থায় ও স্তনদানের সময় মাকে পরিমান মতো ভিটামিন ‘এ’ যুক্ত খাবার গ্রহণ করতে গ্রহণ করতে হবে ।

    যাতে গর্ভের শিশুটির ভিটামিন এর ঘাটতি না হয়। সেই সাথে শিশুর বাড়ন্ত বয়সে ও প্রাপ্ত বয়সে প্রয়োজন অনুযায়ী এ ভিটামিন জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে।

    যেসব খাবারে রয়েছে প্রচুর পরিমান ভিটামিন ‘এ’: ডিম, দুধ , পনীর, বাটার, রঙ্গিন শাক সবজি ও ফলমূল যেমন: মিষ্টি কুমড়ো , পাকা পেপে, গাজর, সবুজ শাক-সবজি , লাল শাক, কমলা, আম, মিষ্টি আলু ইত্যাদি নিয়ে ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবারের তালিকা নিচে প্রকাশ করা হলো।

    আরো পড়ুন: কোন খাবারে কোন ভিটামিন রয়েছে

    ভিটামিনের অভাব বোঝার লক্ষণ

    ভিটামিনের অভাব বোঝার লক্ষণ
    Vitamin

    সারাদিন যে পরিমাণে পরিশ্রম হচ্ছে সে পরিমাণে খাবার না খাওয়ায় শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। যার কারণে শারীরিকভাবে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়।

    শরীরে ভিটামিনের অভাব হলে শারীরিকভাবে কিছু অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা যায়। শরীরে ভিটামিনের অভাব বোঝার লক্ষণ দেওয়া হলো-

    অতিরিক্ত চুল পড়া ও পেকে যাওয়া  

    অতিরিক্ত চুল পড়া ও তাড়াতাড়ি চুল পেকে যাওয়ার কারণ হচ্ছে যত্নের অভাব বা কসমেটিকের জন্য, এটি অনেকেই মনে করেন। কিন্তু এই ধারণাটি ভুল, এটি কোনো ধরণের কেমিক্যালের প্রভাব নয় বা যত্নের অভাব নয়। এটি ভিটামিন বি৭ (বায়োটিন), ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে এর অভাবজনিত সমস্যার লক্ষণ।

    এই ভিটামিনের অভাব পূরণ করার উপায় : মাছ, ডিম, মাশরুম, ফুলকপি, বাদাম, তিলের বীজ ও কলা প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন ভিটামিন জাতীয় খাবার।  

    হাতে ও পায়ে ঝি ঝি ধরা 

    হাতে ও পায়ে ঝি ঝি ধরা, পায়ের পাতা, তালু এবং পায়ের পেছনের অংশে ব্যথা অনুভব করার সমস্যায় পড়েন কমবেশি অনেকেই। আমরা ধরেই নেই এ সকল সমস্যার কারণ একটানা বসে থাকা ও নার্ভে চাপ পড়া। কিন্তু এই সমস্যাগুলোর মূলে রয়েছে ওয়াটার স্যলুবল বি ভিটামিন, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামের অভাব।

    ভিটামিনের অভাব পূরণ : সবুজ শাক, কাঠবাদাম, তাল, কমলা, কলা, চিনাবাদাম, ডাবের পানি, কিশমিশ, কাজু বাদাম ইত্যাদি রাখুন খাদ্য তালিকায়।

    ঠোঁটের কিনার ও পায়ের গোড়ালি ফেটে যাওয়া   

    ঠোঁটের কিনার ফাটা ও পায়ের গোড়ালি ফেটে যাওয়ার কারণ হচ্ছে ভিটামিনের অভাব। আমরা অনেকেই মনে করি, ঠোঁট ফাটা বা ঠোঁটের কিনার ফাটা শীতকালের সমস্যা অথবা একটু পানিশূন্যতার লক্ষণ। কিন্তু এটি ভিটামিন বি৩, বি২ ও বি১২ এবং আয়রন, জিংক ও দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গঠনকারী গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের অভাবের লক্ষণ।

    ভিটামিনের অভাব পূরণ : ডিম, টমেটো, চিনাবাদাম, ডাল, দই, পনির, ঘি এবং ভিটামিন সি জাতীয় খাবার রাখুন খাদ্য তালিকায়।

    ভিটামিন এর অভাবে দেহের নানা অংশ অবশ হয়ে যাওয়া

    দেহের নানা অংশে অবশবোধ হওয়া খুবই সাধারণ একটি লক্ষণ। অনেক সময় আমরা ভাবি একটানা একভাবে বসে থাকা কিংবা নার্ভের ওপর চাপ পড়ার কারণে এটি ঘটে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে ভিটামিন বি৯, বি৬ এবং বি১২ এর অভাব দেহে হলে এই লক্ষণটি দেখা দেয়।

    এছাড়াও ভিটামিনের অভাবের কারণে বিষণ্ণতা, রক্তস্বল্পতা, দুর্বলতা এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার মতো লক্ষণও দেখা যায়।  

    ভিটামিনের অভাব পূরণ : সামুদ্রিক মাছ, লাল চালের ভাত, বাদাম, ডিম, মুরগির মাংস, কলা, ব্রকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি এবং সবুজ শাক রাখুন খাদ্য তালিকায়।

    ভিটামিন এ অভাবে পেশিতে টান ধরা

    মাঝে মাঝে পায়ের হাঁটুর পিছনের পেশিতে টান ধরলে বুঝতে হবে, ভিটামিন বি ও তার সঙ্গে ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়ামের কমতি রয়েছে শরীরে।

    অভাব পূরণ : ছোট মুরগীর মাংস বেশি করে খেতে হবে তার সঙ্গে ডিম ও দুধ রাখা প্রয়োজন। 

    দেহের বিভিন্ন অংশে লাল ও সাদা রংয়ের ফোস্কা ওঠা

    মুখ, বাহু, উরু এবং দেহের পিঠের নিচে ও পেছনের অংশে লাল বা সাদাটে রংয়ের ফোস্কা উঠে, সেটা আমরা সাধারণ সমস্যা মনে করি। কিন্তু আসলে দেহের এই সকল স্থানে লালচে ও সাদাটে রংয়ের ফোস্কা ভিটামিন এ ও ডি এবং এসেনশিয়াল ফ্যাটি এসিডের অভাবের লক্ষণ।

    ভিটামিনের অভাব পূরণ : একটানা অনেকক্ষণ এসি ঘরে থাকবেন না, সূর্যের আলোতে বের হন, প্রচুর পরিমাণে মাছ, শাকসবজি ও ডিম রাখুন খাদ্য তালিকায়।

     

    দেহে ভিটামিন এ যুক্ত খাবারের প্রয়োজনীয়তা

    দেহে ভিটামিন এ যুক্ত খাবারের প্রয়োজনীয়তা
    • ১. দৃষ্টি শক্তি স্বাভাবিক রাখতে ভিটামিন ‘এ’ বিরাট ভুমিকা পালন করে।
    • ২. ত্বক ও শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ভিটামিন ‘এ’ প্রয়োজন।
    • ৩. দেহ বৃদ্ধি,  বিশেষ করে দেহের অস্থি কাঠামোর বৃদ্ধি প্রক্রিয়ার সাথে ভিটামিন ‘এ’ এর সংযোগ রয়েছে।
    • ৪. ভিটামিন ‘এ’ জীবাণু সংক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে।
    • ৫. দেহ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ভিটামিন ‘এ’ এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

    আরো পড়ুন: ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবজনিত সমস্যা

    ভিটামিন এ যুক্ত খাবার তালিকা

    ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার
    ভিটামিন এ

    ভিটামিন এ জাতীয় খাবারের মধ্যে ভিটামিন এ চোখ, চুল এবং ত্বকের জন্য খুবই ভালো। কোন কোন খাবারে আছে দুধ, গাজর, মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়া, আম, লালশাক, সব রকমের সবুজ শাকসবজি, কড লিভার অয়েল, যকৃত, পালংশাক, রঙিন শাকসবজি, চিজ, অ্যাপ্রিকট, ডিম, পেঁপে, মটরশুঁটি।

    দৈনন্দিন খাবার থেকে আমরা যদি যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন ‘এ’ পাই, তবে এটি আমাদের বিভিন্ন ধরণের চর্ম রোগ, চোখের শুস্কতা, অকাল অন্ধত্ব, এমনকি চুল পড়া প্রতিরোধে দারুণ ভূমিকা পালন করে।

    জেনে নিন, সকল ভিটামিন এ এর খাদ্য তালিকা ।

    গাজর

    এক কাপ কাটা গাজর আপনার শরীরের ৩৩৪ শতাংশ ভিটামিন ‘এ’-এর চাহিদা পূরণ করে। অনেকে গাজর রান্না করে খেতে পছন্দ করেন। তবে এর চেয়ে ভালো কাঁচা খাওয়া, সালাদ করে বা এর জুস খাওয়া।

    আরো পড়ুন: হার্ট অ্যাটাক (HEART ATTACK) এর লক্ষণ ও মুক্তির ৩০টি সমাধান

    মিষ্টি আলু

    এই মৌসুমে মিষ্টি আলু বেশি পাওয়া যায়। এতে অধিক মাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ আছে। এটি রান্না করে না খেয়ে সালাদ অথবা স্যুপ বানিয়েও খেতে পারেন।

    সবুজ শাক–সবজি

    এই মৌসুমে শাক-সবজি বেশি পাওয়া যায়। আর তারুণ্য ধরে রাখতে সবুজ শাক-সবজি খুবই উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি, ই, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, বিটা-ক্যারোটিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সহ নানা উপাদান আছে। তাই এই শীতে বেশি বেশি শাক-সবজি খান।

    পালং শাক এ ভিটামিন এ

    পালং শাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ ছাড়াও রয়েছে ভিটামিন সি, আয়রন ও ভিটা ক্যারোটিন। এমনকি রয়েছে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম যা হাই ব্লাড প্রেশার রোগীদের জন্যে আর্শীবাদস্বরূপ।

    পালং শাকে থাকা ভিটামিন এ রক্তের শ্বেত কণিকা বা লিম্পোসাইটকে সর্বদা সুস্থ্য থাকতে সাহায্য করে। এমনকি, আপনার ত্বকের বাইরের আদ্রতা বজায় রাখে পালং শাকের ভিটামিন এ

    এছাড়াও, পালং শাকে রয়েছে নানা রকমের ফ্ল্যাভোনয়েড যা মানুষের শরীরে লুকিয়ে থাকা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কার্য্যকর ভূমিকা পালন করে। এতে থাকা উচ্চ মাত্রার ভিটা ক্যারোটিন আমাদেরকে নানা রকম চোখের রোগ থেকে রক্ষা করে, বিশেষ করে চোখের ছানি পড়া প্রতিরোধ করে।

    এক কাপ পরিমাণ পালং শাকে ভিটামিন এ এর পরিমাণ ২৮১৩ আইইউ।

    কড লিভার অয়েল

    কড মাছের যকৃত থেকে তৈরি এই তেল মূলত ওষুধ হিসেবেই গণ্য করা হয়। ভিটামিন এ ক্যাপসুলে অথবা তেল হিসেবে পাওয়া যায় কড লিভার অয়েল। প্রতি ১০০ গ্রাম কড লিভার অয়েলে রয়েছে ৩০০০০ আইইউ ভিটামিন এ।

    মিষ্টি আলু

    সকল ভিটামিন এর খাদ্য তালিকা মধ্যে একটি মাঝারি সাইজের মিষ্টি আলুতে ভিটামিন এ এর পরিমাণ ২১৪% ডিভি। শুধু ভিটামিন ‘এ’ ই নয়, মিষ্টি আলুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং বিটা-ক্যারোটিন যা শরীরের বলিরেখা দূর করে এবং শরীরের রক্ত পরিশোধন করে।

    মিষ্টি আলুতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকায় এটি হার্টের রোগীদের জন্যে সাহায্যকারী হিসেবে বিবেচিত। এছাড়াও, এটি শরীরের ইমিউন সিস্টেমের জন্যে উপকারি, যে কোন ধরণের প্রদাহ প্রতিরোধে কার্য্যকর, অ্যাজমা নিরাময়েও ভূমিকা রাখে।

    মিষ্টি কুমড়া

    বাইরের দেশের মানুষ মিষ্টি কুমড়াকে সাধারণ সালাদের সঙ্গে খেয়ে থাকলেও, আমাদের দেশের মানুষ এটিকে তরকারি হিসেবে খেতেই বেশি পছন্দ করে থাকে।

    বিটা ক্যারোটিনযুক্ত মিষ্টি কুমড়ায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ যা প্রায় সব ধরণের চোখের রোগের জন্যে মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে বয়সের ভারে যে-সব চক্ষু রোগ হয়, সে সব রোগের জন্যে মিষ্টি কুমড়া দারুণ উপকারি।

    মানুষের শরীরের প্রায় ১৭০ ভাগ ভিটামিন “এ” এর অভাব অনায়াসে পূরণ হয়ে যায় মাত্র ১০০ গ্রাম মিষ্টি কুমড়া খাওয়ার মাধ্যমে। ভিটামিন এ এর পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়াতে রয়েছে শক্তিশালি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম।

    মাখন

    সকালের নাস্তায় রুটির সাথে অথবা বিভিন্ন খাবার তৈরিতে মাখনের ব্যবহার করা হয়। প্রতি ১০০ গ্রাম মাখনে রয়েছে ৬৮৪ আইইউ ভিটামিন এ।

    জাম্বুরায় ভিটামিন ‘এ’ আছে

    জাম্বুরা নামক সিজনাল এই ফলটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ যা নানা রকম রোগ থেকে মানুষের দেহকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে। তবে, জাম্বরায় ভিটামিন এ এর চেয়ে ভিটামিন সি থাকে বেশি। একটি গোলাপী কিংবা লাল রঙের জাম্বুরাতে ভিটামিন “এ” এর পরিমাণ ২৮৩০ আইইউ আর ভিটামিন সি এর পরিমাণ ৩১.২ মিলিগ্রাম।

    এছাড়াও একটি মাঝারি সাইজের জাম্বুরাতে রয়েছে১৩৫ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ১১ মিলিগ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১.৬ গ্রাম ডায়েট্রারি ফাইবার, ৫% ভিটামিন বি-৬ এবং ২% ম্যাগনেশিয়াম।

    ১০০ গ্রাম কলিজায় ৬৫০০ আইইউ

    কলিজাতে (সেটা যে প্রাণীর কলিজাই হোক) অনেক বেশি পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে। প্রায় ৬৫০০ আইইউ ভিটামিন এ পাওয়া যায় ১০০ গ্রাম গরুর কলিজায়। অন্যদিকে প্রতি ১০০ গ্রাম ছাগলের কলিজায় ভিটামিন এ রয়েছে ৫৭০০ আইইউ। আর ১০০ গ্রাম মুরগির কলিজায় ভিটামিন এ এর পরিমাণ আরো বেশি।

    আরো পড়ুন: শিশু না খাওয়ার ১০টি কারণ ও ২০টি সমাধান 👌

    সুতরাং, পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন “এ” পাওয়ার জন্যে খেতে পারেন ভিবিন্ন ধরণের প্রাণীর কলিজা। কলিজায় শুধু ভিটামিন এ’ই নয়, রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রণ।

    মিষ্টি কুমড়া

    প্রতি ১০০ গ্রাম মিষ্টি কুমড়া আপনার শরীরের ১৭০ শতাংশ ভিটামিন ‘এ’-এর অভাব পূরণ করে। এটি আপনি স্যুপ বানিয়ে অথবা বিভিন্ন সবজি মিলিয়ে যাকে বলে ল্যাবরা বানিয়ে খেতে পারেন।

    কলিজা

    আপনি মুরগির ও ছাগলের কলিজা পছন্দ করুন আর না করুন অন্তত ভিটামিন ‘এ’-এর জন্য এগুলো খেতে পারেন। এটা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। এটি ভুনা করে খেতে পারেন।

    দুধ

    প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এটা শুধুমাত্র ক্যালসিয়ামেরই উৎস নয়, এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘এ’ সহ অন্যান্য ভিটামিন আছে।

    দুধজাতীয় খাবারএক কাপ দুধ দৈনন্দিন ১০-১৪ শতাংশ পর্যন্ত ভিটামিন এ সরবরাহ করতে পারে। আর এক্ষেত্রে পনির ১ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত সরবরাহ করে।

    ডিম

    মুরগি, হাঁস, কোয়েল পাখিসহ অন্যান্য অনেক পাখির ডিম আমরা খেয়ে থাকি। ডিমকে ভিটামিনের আধার বললেও ভুল বলা হবে না। প্রতি ১০০ গ্রাম সেদ্ধ ডিমে রয়েছে ১৪৯ আইইউ ভিটামিন এ।

    আম

    আমকে বলা হয় ফলের রাজা। স্বাদে ও গুণে সমৃদ্ধ এই ফলটির প্রতি ১০০ গ্রামে রয়েছে ৫৪ আইইউ ভিটামিন এ।

    পেঁপে

    পেঁপে আমাদের দেশে অত্যন্ত সহজলভ্য একটি ফল। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা পেঁপেতে রয়েছে ৪৭ আইইউ ভিটামিন এ।

    মাখন

    আমরা জানি, দুধের ক্রিম থেকে মাখন তৈরি হয় আর এটি ভিবিন্ন খাবারে মাখা হয় খাবারকে সুস্বাধু করতে। অনেক সময় নানা রকম খাবারে এটি মাখা হয় সুঘ্রাণের জন্যে। আপনি হয়তো নিজের অজান্তেই বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে নিয়মিত মাখন খেয়ে চলেছেন যা আপনার শরীরকে দিচ্ছে পর্যাপ্ত ভিটামিন এ।

    মাখন সাধারণত খাবারের সঙ্গে মেখে খাওয়া হলেও সবচেয়ে ভাল হয় সকালের নাস্তায়। হতে পারে রুটির সঙ্গে মেখে কিংবা অন্য যে কোন সুবিধাজনক উপায়ে।

    মাছ

    অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, মাছ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ মাছ রাতকানা, হাড়ের সমস্যা ও অন্যান্য রোগ থেকে দূরে রাখে।

    টমেটো

    অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস ও ভিটামিনের চমৎকার উৎস হচ্ছে টমেটো। গবেষণায় দেখা গেছে, এর লাইকোপিয়া ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রোধ করে। বিশেষ করে পাকস্থলি ও কলোরেক্টাল ক্যান্সার।

    এর মধ্যে থাকা মিনারেল যাকে ক্রোমিয়াম বলে, এটি রক্তে সুগার লেভেল ঠিক রাখে। এ ছাড়া এই সবজি ভিটামিন ‘এ’-এর অভাব পূরণে ভূমিকা রাখে।

    রেড বেল পিপার

    এতে ক্যারটিনয়েড ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে। রেড বেল পিপার সালাদে ব্যবহার করা হয়। ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ এই খাবারটি ত্বকের জন্য বেশ উপকারী।

    লাল মরিচ

    লাল মরিচে ভিটামিন এ-তো থাকেই, পাশাপাশি এতে থাকে কারোটেনয়েডস ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। খাদ্য তালিকায় রাখলে এটি আপনার দৈনন্দিন ‘ভিটামিন এ’ চাহিদার ৪২ শতাংশ পূরণ করবে।

    সবুজ শাক-সবজি

    সবুজ শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে। এছাড়াও এতে ম্যাঙ্গানীজ, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন সি এবং কে থাকে।

    মাছ:- মাছ ও মাছের তেল ভিটামিন এ- এর চমত্‍কার উত্‍স।

    সুতরাং আপনার নিজের চাহিদা অনুযায়ী ভিটামিন ‘এ’ যুক্ত খাদ্য গ্রহণ করুন। কারণ শরীর সুস্হ রাখতে ভিটামিন এর কার্যকারীতা অনেক এটি দেহের টিস্যু গঠণে সহায়তা করে। সেই সাথে পরিপাকতন্ত্ররে ঠিক রাখে পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

    পুষ্টিবিদ, তাসনিম আশিক
    নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

      প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে  SOMVOB.COM লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

      Recent Articles

      Hands on: Beats PowerBeats Pro review

      In May, Uber launched a new experiment: selling train and bus tickets through its app for its customers in Denver, Colorado. Today, the company...

      New standalone app for macOS to be Like iTunes

      In May, Uber launched a new experiment: selling train and bus tickets through its app for its customers in Denver, Colorado. Today, the company...

      NASA spacecraft to collide a small moonlet in 2022

      In May, Uber launched a new experiment: selling train and bus tickets through its app for its customers in Denver, Colorado. Today, the company...

      The Google Nest Hub Max soups up the smart display

      In May, Uber launched a new experiment: selling train and bus tickets through its app for its customers in Denver, Colorado. Today, the company...

      Foldable iPhone 2020 release date rumours & patents

      In May, Uber launched a new experiment: selling train and bus tickets through its app for its customers in Denver, Colorado. Today, the company...

      Related Stories

      Leave A Reply

      Please enter your comment!
      Please enter your name here

      Stay on op - Ge the daily news in your inbox