ব্যায়ামের উপকারিতা পদ্ধতি ও বিশেষ কৌশল!

444

সম্ভব ডকটম:

সুস্থ জীবনের চাবী হলো ব্যায়াম। অনেকে মনে করেন শুধুমাত্র মেদ ঝরানোর জন্য  ব্যায়াম করা হয়। কিন্তু তা ঠিক না। শুধু ওজন কমানোর জন্য নয়, সুস্থ থাকার ক্ষেত্রেও ব্যায়ামের বিকল্প নেই। ব্যায়াম শুরু করে অনেকেই মাঝ পথে তা ছেড়ে দেন। যার কারণে ব্যায়ামের সঠিক ফল পাওয়া সম্ভব হয়ে উঠে না। ব্যায়ামের অভ্যাস ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন ইচ্ছা শক্তি আর একটুখানি চেষ্টা। কিছু কৌশলে ব্যায়ামের অভ্যাস ধরে রাখতে পারবেন। এমন কিছু কৌশল জেনে নিন আজকের ফিচার থেকে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে

হাঁটা শরীরে সুগারের মাত্রাকে ঠিকঠাক রাখতে সাহায্য করে। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়, নিয়মিত ১৫ মিনিট হাঁটা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে।

উচ্চ রক্তচাপ কমায়

আপনি যদি উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন, তাহলে হাঁটার মতো ভালো ব্যায়াম আর হয় না। কেবল ১৫ মিনিটের হাঁটা রক্তের চাপ কমাতে সাহায্য করে।

 হাঁটা হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে

প্রতিদিন হাঁটা হৃদস্পন্দনকে ভালো রাখে। এটি রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, শরীরের বাজে কোলেস্টেরল দূর করে এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায়। এতে হৃৎপিণ্ড ভালো থাকে।

বিপাক বাড়ায়

হাঁটা আমাদের হজমের পদ্ধতিকে উদ্দীপ্ত করে এবং পাকস্থলীর থেকে হজম রস বের করতে কাজ করে। এতে খাবার ভালোভাবে হজম হয়, বিপাক হার বাড়ে। এ ছাড়া হাঁটা ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ করে

প্রতিদিন হাঁটা হাড় ক্ষয় কমায় এবং হাড় শক্ত করে। নিয়মিত হাঁটা জয়েন্টের শুষ্কতা প্রতিরোধে সাহায্য করে। এতে আরথ্রাইটিসও প্রতিরোধ হয়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

হাঁটা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। শ্বেত কণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। নিয়মিত হাঁটলে ঠান্ডা, ফ্লু প্রতিরোধ করা যায়।

সুখী করে

পার্কের মধ্যে পছন্দের কোনো মিউজিক শুনতে শুনতে হাঁটা মানসিক চাপ কমাতে কাজ করে; মন ভালো রাখে। এটি বিষণ্ণতা কমাতে সাহায্য করে এবং প্রাণশক্তি বৃদ্ধি পায় ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

পেশী সচল

যাদের সারাদিনের বড় একটা সময় বসে কাজ করতে হয় বা শারীরিক পরিশ্রম কম হয়ে থাকে তাদের জন্য দৌড়ানো অত্যন্ত উপকারী। দৌড়ালে শরীরের প্রতিটি পেশি সচল থাকে। বসে কাজ করার ফলে হাত, পা, হাঁটু ইত্যাদি সন্ধিস্থলে ব্যথা উপশমেও দৌড়ানো বেশ উপকারী।

ঘুম ভালো হয়

দিনের শুরুতে দৌড়ানোর ফলে সারাদিন কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দিন শেষে শরীরের বিশ্রামের প্রয়োজনও বৃদ্ধি পাবে। তাই দৌড়ানোর ফলে ঘুম ভালো হবে।

মানসিক চাপ কমে

মস্তিষ্কে সেরোটনিনের পরিমাণ বেড়ে গেলে মানসিক চাপ এবং হতাশা বেড়ে যেতে পারে। নিয়মিত ব্যয়ামের ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং হতাশার পরিমাণ কমে।

কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি

নিয়মিত দৌড়ানো এটি শুনতে বেশ কষ্টকর মনে হতে পারে। তবে এই অভ্যাস শরীর সুস্থ রাখবে এবং কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি অসুখ বিসুখ থেকেও মৃক্তি পাওয়া যাবে।

দৌড়ানোর ফলে খাবার খাওয়ার সময় ক্যালোরির পরিমাণ নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন হবে না। তাছাড়া এই ধরনের ব্যায়ামের পর মন ভরে খাবার খেতেও তেমন কোন বাঁধা থাকবে না। ফলে মনও ভালো থাকবে।

একঘেঁয়েমি হ্রাস

একঘেঁয়েমি কাটাতে বেশ উপকারী অভ্যাস দৌড়ানো। এ ব্যায়ামের জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থানের দরকার নেই। অর্থাৎ নিজের মন মতো জায়গা বেছে নেওয়া যেতে পারে দৌড়ানোর জন্য। তাই প্রতিদিনের একঘেঁয়েমি কাটানো যায় সহজেই। তাছাড়া হজম প্রক্রিয়া সচল রাখতে সাহয্য করে দৌড়ানো।

আয়ু বৃদ্ধি

দীর্ঘায়ু হতে চান! তবে সব থেকে উপকারী অভ্যাস দৌড়ানো। দৌড়ালে শরীর কর্মক্ষম এবং সুস্থ থাকে, ফলে দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারবেন।

ওজন হ্রাস

ব্যয়ামের মূল উদ্দেশ্য বাড়তি ওজন ঝেড়ে ফেলা। প্রতিদিন এক ঘণ্টা দৌড়ালে প্রায় আটশ ক্যালোরি ঝরে পড়বে শরীর থেকে।

সোন্দর্য বৃদ্ধি

ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করবে দৌড়ানো অভ্যাস। শুনতে অবাক লাগলেও এটি সত্যি। দৌড়ানোর ফলে প্রচুর পরিমাণে ঘাম হয়, যা লোমকূপ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। লোমকূপ পরিষ্কার হওয়ার ফলে ত্বকের স্বাভবিক তেল নিঃসৃত হতে পারে ভালোভাবে। তবে দৌড়ানোর পরে ভালোভাবে ঘাম মুছে পরিষ্কার হতে হবে।

সম্ভব ডটকম, বিথী সর্মা, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ।