বেগুনের এমন ৪০টি উপকারিতা, যা আপনি কখনো শুনেন নেই !

401

সম্ভব ডটকম: বেগুনের কোনও গুণ নেই, এ কথা যারা বলেন তারা এই সবজিটির অনেক গুণের সম্পর্কেই হয়তো জানেন না। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যার মতো একাধিক শারীরিক সমস্যার সমাধানে বেগুন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তবে অনেকেই হয়তো জানেন না যে  এই সবজির রয়েছে বহুমাত্রিক গুণাগুণ।  এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে উপকারি খাদ্য উপাদান। যেমন প্রতি ১০০ গ্রাম বেগুনে রয়েছে –
খাদ্যশক্তি- ২৫ কিলোক্যালরি, শর্করা- ৫.৮৮ গ্রাম, চিনি- ৩.৫৩ গ্রাম, খাদ্যআঁশ- ৩ গ্রাম, চর্বি- ০.১৮ গ্রাম, আমিষ- ০.৯৮ গ্রাম, থায়ামিন- ০.০৩৯ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লেভিন- ০.০৩৭ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন- ০.৬৪৯ মিলিগ্রাম, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড- ০.২৮১ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি৬- ০.০৮৪ মিলিগ্রাম, ফোলেট- ২২ আইইউ, ভিটামিন সি- ২.২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ই- ০.৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন কে- ৩.৫ আইইউ, ক্যালসিয়াম- ৯ মিলিগ্রাম, আয়রন- ০.২৩ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম- ১৪ মিলিগ্রাম, ম্যাংগানিজ- ০.২৩২ মিলিগ্রাম
, ফসফরাস- ২৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম- ২২৯ মিলিগ্রাম এবং জিংক- ০.১৬ মিলিগ্রাম খাদ্যগুণে ভরপুর বেগুন বিভিন্নভাবে আমাদের শরীরের উপকার করে।

১. কোলন ক্যান্সার

বেগুনে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরের টক্সিক উপাদানের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। বেগুনে থাকা ফাইবার কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। বেগুনে থাকা ফাইবার যে কোনও পেটের রোগের প্রকোপ কমতে সাহায্য করে।

২.ডায়াবেটিস রক্ষা

বেগুনে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা শরীরে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের খাদ্যতালিকায় বেগুণ রাখতে পারলে উপকার পাওয়া যায়।

৩. কোলেস্টরল হ্রাস

বেগুনে থাকে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন বি-৬ আর ফ্লেবোনয়েড কোলেস্টরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এরই সঙ্গে হার্টের কার্যক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আরো পড়ুন: ছেলেদের যে ৭টি কারণে মেয়েরা কাঁদে!

৪. গর্ভবতীদের সুস্থ্য

বেগুনে থাকা ফলিক অ্যাসিড গর্ভবতী মহিলাদের শরীর সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৫. ভারসাম্য রক্ষা

বেগুনে রয়েছে পটাশিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন বি-৬, পটাশিয়াম-সহ একাধিক উপকারী উপাদান যা শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৬. ক্যান্সার প্রতিরোধক

যারা বেশি পরিমান শাক-সবজি খায়, তাদের ক্যান্সারের আশঙ্কা কম থাকে। বেগুনে রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধক উপাদান। বেগুন পাকস্থলী, কোলন, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদ্রান্ত্রের ক্যানসারকে প্রতিরোধ করে।

৭. ক্ষতিকর কোলেস্টেরল দূর করে

কোলেস্টেরল হলো একধরণের চর্বি, যা রক্তে জমে। বেগুনে কোন কোলেস্টেরল নেই। যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমান বেশি, তাদের জন্য বেগুন আদর্শ খাদ্য। কারণ, বেগুন ক্ষতিকর কোলেস্টেরল দূর করতে সহায়তা করে।

৮. রক্তশূন্যতা দূর করে

বেগুনে আছে প্রচুর পরিমাণ আয়রন। আয়রন শরীরে রক্ত বাড়াতে সহায়তা করে। তাই রক্ত শূন্যতার রোগীরা খেতে পারেন এই সবজি। উপকারে আসবে।

৯. মুখের ঘা প্রতিরোধ করে

বেগুনে আছে রিবোফ্ল্যাভিন। রিবোফ্ল্যাভিন মুখ ও ঠোঁটের কোণের ঘা, জিহ্বার ঘা প্রতিরোধ করে। জ্বর হওয়ার পর মুখের বিস্বাদও দূর করে বেগুন। তাই জ্বরের পর বেগুনের তরকারি খেলে মুখের স্বাদ ফিরে পাওয়া যেতে পারে।

১০. ক্ষতস্থান শুকাতে সাহায্য করে

বেগুন ক্ষত স্থান দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। বেগুনে আছে প্রচুর পরিমান ভিটামিন ‘ই’ এবং ‘কে’। এরা শরীরের ভেতর রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। ফলে রক্ত চলাচল কার্যক্রমকে সচল রাখে।

১১. চোখের রোগে বেগুন

বেগুন ভিটামিন এ সমৃদ্ধ সবজি। বেগুনের ভিটামিন ‘এ’ চোখের জন্য খুব উপকারী। এটি চোখের যাবতীয় রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

আরো পড়ুন: ড্রাগন ফল খেলে কি হয়? দেখুন ড্রাগন ফলের সেরা পুষ্টিগুণ সমূহ!

১২. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

বেগুনে আছে প্রচুর পরিমান ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশ। যা খাবার হজমে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

১৩. দাঁত ও হাড়ের যত্নে

বেগুনে আছে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। এই দুই উপাদান দাঁত, হাড় ও নখের জন্য খুব উপকারী। ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম দাঁতকে করে মজবুত, মাড়িকে করে শক্তিশালী। নখের ভঙ্গুরতা রোধ করে।

১৪. জিঙ্কের ঘাটতি দূর করে

ডায়রিয়া হলে শরীরে প্রচুর জিঙ্কের ঘাটতি দেখা দেয়। বেগুন জিঙ্কের ঘাটতি দূর করে। তবে ডায়রিয়া চলাকালিন সময়ে বেগুন খাওয়া ঠিক না। ডায়রিয়া ভালো হলে বেগুন খাওয়া উচিত।

১৫. বেগুনের আয়ুর্বেদিক ব্যবহার

যুগ যুগ ধরে বেগুনের রয়েছে নানা রকম আয়ুর্বেদিক ব্যবহার। নানা রোগে বেগুন ঔষধ হিসাবে কাজ করে।

১। রোজ সকালে খালি পেটে কচি বেগুন পুড়িয়ে গুড় মিশিয়ে খেলে ম্যালেরিয়ার ফলে লিভারের যে ক্ষতি হয় সেটা ভালো হয়।
২। বেগুন অনিদ্রা রোগ দূর করে। বেগুন খেলে ভালো ঘুম হয়। এর জন্য বেগুনের আর নাম হল নিদ্রালু। যাদের ঘুমের সমস্যা আছে তারা সন্ধ্যায় সামান্য বেগুন পুড়িয়ে মধু মিশিয়ে খেলে রাতে ভালো ঘুমাতে পারবেন।
৩। নিয়মিত বেগুন খেলে প্রসাবের জ্বালাপোড়া কমে। প্রস্রাব পরিষ্কার করে প্রারম্ভিক অবস্থার কিডনির পাথরও নাকি গলিয়ে দিতে পারে বেগুন।
৪। বেগুন একেবারে পুড়িয়ে ছাই করে সেই ছাই বা ভস্ম গায়ে মাখলে চুলকানি ও চর্মরোগ সারে।
৫। কচি ও শাসালো বেগুন খেলে জ্বর সারে।
৬। বেগুনের রসে মধু মিশিয়ে খেলে কফজনিত রোগ দূর হয়। ৭। বেগুন বীর্যের পরিমান বাড়ায়।
৮। মহিলাদের ঋতু নিয়মিত করে।
৯। এ্যাসিডিটির সমস্যা থাকলে বেগুনে উপশম হয়। তো ‘প্রিয়’ পাঠক, তাজা বেগুন রাখুন আপনার খাদ্য তালিকায় আর সুস্থ থাকুন।

আরো পড়ুন: পুলিশ আমাকে বেশ আপ্যায়ন করেছে : হিরো আলম

১৬. হৃদপিন্ড ভাল রাখে

বেগুন ফাইবার, ভিটামিন বি ১, বি ৬, বি ৩, সি, কে তে ভরপুর থাকে। এতে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট রয়েছে যা, হৃদপিন্ডের জন্য উপকারী একটি খাবার। হৃদপিন্ডের জন্য অপরিহার্য ফ্ল্যাভোনয়েড যা বেগুনেই বিদ্যমান থাকে। তাই নিয়মিত বেগুন খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায় অনেক ক্ষেত্রে।

১৭. ডায়বেটিস প্রতিরোধ

বেগুনে উচ্চ মাত্রার ফাইবার ও কম দ্রবণীয় কার্বোহাইড্রেট থাকে বলে রক্তের গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের মাত্রার সমস্যা আছে যাদের তাদের জন্য উপকারী খাবার। বেগুনে উচ্চ মাত্রায় আঁশ এবং কম পরিমাণে দ্রবণীয় শর্করা থাকে ফলে ডায়বেটিস প্রতিরোধের কাজেও বেগুন ভূমিকা রাখতে পারে।

১৮. মস্তিষ্কের উন্নতি ঘটায়

বেগুনের ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট জ্ঞানীয় দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে এবং সর্বদা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যই উপকারী। এই উপাদানটি মস্তিষ্ককে রোগ ও টক্সিন থেকে মুক্ত থাকতেও সহায়ক এবং মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

১৯. ত্বক ও চুল ভাল রাখে

বেগুন ভিটামিন এ, সি, ই এবং কে সমৃদ্ধ সবজি। ভিটামিন এ চোখের পুষ্টি জোগায়, চোখের যাবতীয় রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। আর ভিটামিন সি ত্বক, চুল, নখকে করে মজবুত। দেহে রক্ত জমাট বাঁধার বিরুদ্ধে কাজ করে ভিটামিন ই ও কে। এই ভিটামিন চারটি শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকে করে বহুগুণে কার্যকর।

২০. রক্ত বাড়াতে সাহায্য করে

বেগুনে আয়রনও রয়েছে অনেক মাত্রায়, যা রক্ত বাড়াতে সাহায্য করে। তাই রক্তশূন্যতার রোগীরাও খেতে পারে এই সবজি। এতে চিনির পরিমাণ খুবই সামান্য। তাই ডায়াবেটিসের রোগী, হৃদরোগী ও অধিক ওজন সম্পন্ন ব্যক্তিরা নিশ্চিন্তে খেতে পারে বেগুনের তরকারি।

সুস্থ থাকার জন্য বেগুন জরুরি কেন?

বেগুনে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট দেহের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

বেগুনের খোসায় এমন এক ধরনের উপাদান থাকে যা মস্তিষ্কের কোষের জন্য প্রয়োজনীয়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতি কমে যাওয়ার সমস্যা দূর করতেও নিয়মিত খেতে পারেন বেগুন।

পেটে মেদ জমতে দেয় না উপকারী এই সবজি। তাই ডায়েট চার্টে নিশ্চিন্তে রাখতে পারেন বেগুন। বেগুনে থাকা প্রাকৃতিক ফাইবার খাবার দ্রুত হজম করতে সাহায্য করে।

নিয়মিত বেগুন খেলে শরীরের কোষ অকালে বুড়িয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়। সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর ত্বকের জন্য তাই বেগুন খাওয়া জরুরি।

বেগুনে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন ও বিভিন্ন দরকারি পুষ্টি উপাদান। এগুলো হাড় সুস্থ রাখে ও জয়েন্টের ব্যথা দূর করে।

বেগুনে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত ও কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করে। যেকোনো ক্ষতস্থান দ্রুত শুকাতেও বেগুন সাহায্য করে।

এতে চিনি এবং চর্বির পরিমাণ খুবই কম। তাই ডায়াবেটিকস, হৃদরোগ ও অধিক ওজন রয়েছে যাঁদের, তাঁরা নিশ্চিন্তে বেগুন খেতে পারেন।

বেগুনে উপস্থিত রিবোফ্লেভিন মুখ, ঠোঁট ও জিহ্বার ঘা দূর করে, জ্বর জ্বর ভাব কমায়। এর ভিটামিন এ চোখের রোগ প্রতিরোধ করে, ভিটামিন সি ত্বক, নখ ও চুলে পুষ্টি জোগায় এবং ভিটামিন ই ও কে রক্তজমাট বাঁধার বিরুদ্ধে কাজ করে।

বেগুনে রয়েছে খাদ্যআঁশ যা খাদ্য হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

বেগুনে রয়েছে নাসুনিন নামে একটি উপাদান, যা মস্তিষ্কের শিরা-উপশিরার দেয়ালে চর্বি জমা হতে বাধা দেয়। ফলে ব্রেইন স্ট্রোক ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত রোগের ঝুঁকি কমে যায়। মস্তিষ্কে অক্সিজেনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে কর্মোদ্দীপনা বৃদ্ধি পায়।

বেগুন রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। বেগুনের ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম দাঁত, হাড় ও নখ মজবুত করে। মৌসুমি সর্দি, কাশি, কফ দূর করতে বেগুন সাহায্য করে।

বেগুনের কিছু ভেষজগুণ

১. আগের দিন সন্ধ্যাবেলা বেগুন সেদ্ধ করে পরদিন এর শাঁস মধু মিশিয়ে খেলে অনিদ্রা দূর হয়

২. বেগুন পোড়ানো ছাই গায়ে মাখলে চুলকানি ও চর্মরোগ সেরে যায়।

৩. বেগুন সেদ্ধ করে এর পুলটিস দিলে বিষফোঁড়া তাড়াতাড়ি পেকে যায়।

৪. কাঁচা বেগুনের রস খেলে ধুতুরার রস নেমে যায়।

৫. রোজ সকালে খালি পেটে বেগুন পুড়িয়ে এর সাথে গুড় মিশিয়ে খেলে ম্যালেরিয়ার কারণে লিভার বড় হয়ে যাবার ঝুঁকি কমে।

আরো পড়ুন: দুই হাতের উপর দাঁড়িয়ে আছে ভিয়েতনামের এই গোল্ডেন ব্রিজ


[ প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকেপ্রতিদিনের স্বাস্থ্য টিপসলেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। ]