১০৬টি বিস্ময়কর তথ্য যা আপনাকে অবাক করতে বাধ্য করবেই! 😱

0
207
বিস্ময়কর তথ্য

বিস্ময়কর তথ্য বলতে আমরা কি বুঝি! সারাবিশ্বে এবং মহাকাশে সব মিলিয়ে আমরা অনেক কিছুর সাথে অজানা এবং এমন কিছু বিস্ময়কর তথ্য যা আপনি শুনলে অবাক হবেন। আমরা এমন কিছু বিস্ময়কর তথ্য নিয়ে আলোচনা করেছি তার মধ্যে রয়েছে জানা-অজানা বিস্ময়কর তথ্য, মহাকাশ নিয়ে কিছু অজানা তথ্য, এবং বিস্ময়কর পৃথিবী। আমরা সাধারণত মনে করি আমরা আমাদের এই পৃথিবী সংক্রান্ত প্রায় সবরকমের তথ্যই জানি। কিন্তু কথায় আছে, “জানার কোন শেষ নাই”। পৃথিবী তে এমন কিছু বিস্ময়কর তথ্য ও অবাক করা জিনিস রয়েছে যা আমাদের অজানা। বিজ্ঞানীরাও একমত এই কথাটির সাথে। যদিও তারা অনেক কিছুই আবিষ্কার করেছেন এখন পর্যন্ত কিন্তু তবুও তারা মনে করেন যে “এখনও বহদূর…” সবকিছু জানার।

আমরা আপনাদের জন্য সংগ্রহ করেছি নতুন এমনই কিছু বিস্ময়কর তথ্য। চলুন জেনে নিই সেসব। অজানা পৃথিবী নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা বিস্ময়কর তথ্য দিয়েছেন গবেষকরা। এই পৃথিবী এবং মহাবিশ্বের এমন অনেক বিস্ময়কর তথ্য আছে যা আমাদের অনেকের কাছেই অজানা। এর কোনটি শুনলে হয়তোবা আপনি অবাক হবেন, আবার কোন কোনটি শুনে নিজের অজান্তেই এই বিস্ময়কর তথ্য গুলো পড়ে হেঁসে উঠবেন।

আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরছি এমনই কিছু বিস্ময়কর তথ্য

পৃথিবীর অজানা ৯২টি বিস্ময়কর তথ্য

বিস্ময়কর পৃথিবীর বিস্ময়কর তথ্য

⚠️ একটি জাম্বো জেটে যে পরিমাণ জ্বালানী থাকে, তা দিয়ে একটি সাধারণ গাড়ি চারবার পৃথিবী ঘুরে আসতে পারবে।

⚠️ একজন ব্যক্তি গড়ে প্রতিদিন এক গ্যালনের এক চতুর্থাংশ শ্লেষ্মা গিলে ফেলে।

⚠️ মহাশূন্যে এমন এক পানির আধার ভাসমান অবস্থায় আছে যা সূর্যের তুলনায় ১ লাখ গুন বড় এবং সেখানে আছে পৃথিবীর সব মহাসাগরে থাকা পানির তুলনায় ১৪০ ট্রিলিয়ন গুন বেশি পানি।

⚠️ মশা দূর করার ওষুধ আসলে মশা দূর করে না। এটি মশার সেন্সর অকার্যকর করে দেয়। ফলে আপনার অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয় মশা।

⚠️ মানুষের নিপল থাকে কেন? কারণ Y ক্রোমোজোম প্রবেশ করার আগ পর্যন্ত সবাই নারী থাকে ( X ক্রোমোজোম)।

⚠️ মানুষের আঙ্গুলের ছাপ যেমন অনন্য, তেমনি কুকুরের নাকও। নাক দিয়ে কুকুর শনাক্ত করা সম্ভব।

⚠️ প্রশান্ত মহাসাগরে এমন একটি আবর্জনার স্তুপ ঘূর্ণায়মান আছে যার আকার টেক্সাসের সমান।

⚠️ ইউরেনাস এবং নেপচুনে ডায়মন্ড বৃষ্টি হয়।

⚠️ একজন পুরুষের কণ্ঠস্বর অন্য পুরুষের মস্তিষ্কের সেই অংশ দিয়েই প্রসেস করা হয় যেখানে মূলত বিভিন্ন শব্দ যেমন, গাড়ির হর্ন, যন্ত্রের শব্দ প্রসেস করা হয়। কিন্তু নারীর কণ্ঠস্বর প্রসেস করা হয় মস্তিষ্কের অন্য অংশ দিয়ে যা সাধারণত গান বা সুরেলা শব্দ নিয়ে কাজ করে।

⚠️ মানুষের মস্তিষ্ক যদি কম্পিউটার হত, তাহলে এটি প্রতি সেকেন্ডে ৩৮ হাজার ট্রিলিয়ন কমান্ডের সমাধান দিতে পারতো। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালি সুপারকম্পিউটার ব্লুজিন এর মাত্র ০.০০২ শতাংশ কাজ করতে পারে।

⚠️ প্রতি ৭ বছরে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশ একবার করে প্রতিস্থাপিত হয়। অর্থাৎ ৭ বছর আগে আপনি যা ছিলেন, ৭ বছর পর আপনি আর সেরকম নেই।

⚠️ মানুষের দেহ গঠন করা পরমানুতে থাকা খালি জায়গা যদি অপসারণ করা হয়, তাহলে পৃথিবীর সব মানুষকে একটি আপেলের মধ্যে রাখা যাবে।

⚠️ চাঁদের বুকে ওয়াইফাই ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে নাসা। এর গতি আমাদের বাসার ইন্টারনেট গতি থেকেও বেশি, ১৯ এমবি/সেকেন্ড।

বিস্ময়কর অজানা তথ্য

⚠️ রাশিয়ার আকাশ প্লুটোর থেকেও বড়।

⚠️ একজন মানুষের জীবনে ৪০ পাউন্ড চামড়া ঝরে যায়। অর্থাৎ সে হিসেবে প্রতি মাসে একবার দেহের চামড়া পরিবর্তিত হয়।

⚠️ আপনি যে পানি পান করছেন, তার একটি অংশ এর আগে কেউ পান করেছিল। হয়তোবা কয়েকবারও!

⚠️ ৮৮% মানুষই ডানহাতি হয়ে থাকে 

⚠️ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দিন অপেক্ষা রাতেই শিশু জন্মহার বেশী ।

⚠️ বই এর ইংরেজি শব্দ বুক এসেছে ল্যাটিন শব্দ লিবার থেকে ।

যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে আরো পড়ুন

⚠️ আকার অনুযায়ী গুবরে পোকা (বিটল) হল পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী পোকা। একটা রাইনোসোরাস গুবরে পোকা তার নিজের ওজনের চেয়ে প্রায় ৮৫০ গুন বেশী ওজন বইতে পারে ।

⚠️ আমরা যেসকল পোকাকে আলোর প্রতি আকৃষ্ট বলে মনে করি, প্রকৃতপক্ষে  ব্যাপারটি তা নয়, এসব পোকা আসলে বাল্বের অন্ধকারতম জায়গাটির খোঁজ করতে থাকে ।

⚠️ উটপাখির চোখ তার মসিতস্কের চাইতে বড় ।

⚠️ উটের চোখের তিনটি পাতা থাকে ।

⚠️ এক কাপ কফিতে ১০০০ এরও বেশী রাসায়নিক পদার্থ থাকতে পারে । 

⚠️ একটা কম্পিউটারের অন্তত দশ লক্ষাধিক শক্তিশালী হ্ওয়া লাগবে মানব মস্তিস্কের সমান কাজ করতে হলে । 

⚠️ একটা নয়া মডেলের শক্তিশালী কম্পিউটার একটা ০.১ গ্রাম ওজনের গোল্ডফিসের মস্তিস্কের সমানও কাজ করতে সক্ষম নয় । 

⚠️ একটা পেন্সিল দিয়ে গড়ে ৩৫ মাইল লম্বা দাগ টানা যায় ।

⚠️ একটা বজ্রপাত ভূপৃষ্ঠে ১০০০০০০০০ (১০ মিলিয়ন) ভোল্ট শক্তিতে আসতে পারে ।

⚠️ একটা রাই গাছের শিকড় মাটির নীচে ৪০০ মাইল বিস্তার লাভ করতে পারে । 

⚠️ একটি কুকুরের গন্ধ শোকার ক্ষমতা মানুষের চাইতেও ১০০০ গুন বেশী ।

⚠️ একমাত্র ভেনাস বা শুক্রগ্রহই আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলোর উল্টো দিকে ঘোরে ।

⚠️ একমাত্র হামিংবার্ড পেছন দিকে উড়তে পারে।

ডিমের উপকারিতা

⚠️ একসময় চাইনিজরা কাগজ বানাতে রেশমি সুতা ব্যবহার করত ।

⚠️ এ্যান্টার্কটিকার ভষ্টককে পৃথিবীর সবচাইতে শীতল সহান বলা হয়, এখানে -১২৯ ডিগ্রি ফারেনহাইটের (-৮৯ সেল) রেকর্ড আছে (১৯৮৩, ২১ জুলাই)।

⚠️ এ্যালকোহোল পুরুষের শরীরের টেস্টোস্টেরন যৌন হরমোনকে কমিয়ে দিলেও নারী শরীরে তা বাড়িয়ে দেয় । 

⚠️ গোল্ডফিশের স্মৃতি ৩ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী থাকে ।

⚠️ চিংড়ির হ্রৎপিন্ড মাথায় থাকে ।

⚠️ চিঠিতে জিপ কোডের ব্যবহার আমেরিকার ডাকবিভাগের দ্বারা শুরু হয় ১৯৬৩ সালে ।

⚠️ চিতাবাঘ কিন্তু সিংহের মতো গর্জন দেয় না, অনেকটা বিড়ালের মতোই ডাকে ।

⚠️ চেইন বা জিপারের আসল আবিস্কর্তা ছিলেন এলিয়াস হাওয়ে।

⚠️ জন্মের পর জিরাফের বাচ্চা প্রায় ৬ ফুট উচু হতে মাটিতে পড়ে, কোনোপ্রকার আঘাত ছাড়াই ।

⚠️ জিরাফ তার ২১ ইঞ্চি লম্বা জিহ্বা দিয়ে নিজের কান পরিস্কার করতে পারে ।

⚠️ দাবা খেলাটি ভারতে আবিস্কৃত হয় ।

দুবাইয়ের ১০টি অবিশ্বাস্য ও বিলাসবহুল দর্শনীয় স্থান!

⚠️ দ্রুত গতির দৌড়বিদরা ঘন্টায় প্রায় ৩০ কি.মি (১৮ মাইল) বেগে দৌড়াতে পারে । কিন্তু একটা চিতাবাঘ ঘন্টায় ৭৬ কি.মি বা ৪৬ মাইল বেগে দৌড়াতে পারে ।

⚠️ দ্রুত গতির সাতারুরা ঘন্টায় প্রায় ৬ মাইল বেগে সাতার কাটতে পারে ।

⚠️ নীল তিমি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী । এর জিহ্বা একটা হাতির মতো লম্বা এবং এর হৃদযন্ত্র একটা গাড়ির সমান ।

⚠️ পানি ছাড়া ইদুর উটের তুলনায় বেশিক্ষন টিকতে সক্ষম ।

⚠️ পুটোর গড় তাপমাত্রা প্রায় -৩৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট ।

⚠️ পৃথিবীর ৩% পানি বিশুদ্ধ, তারমধ্যে ২% পানি জমাট বরফরুপে আছে, বাকি ১% পানি আমরা ব্যবহার করে থাকি ।

⚠️ পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলের তাপমাত্রা ধরা হয় ৫৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

⚠️ পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের আকার হলো ৫,২৫,০০,০০০ বর্গ মাইল ।

⚠️ পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১১% (প্রায়) খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহার হয় ।

⚠️ পৃথিবীর সবচাইতে ছোট পাখি হলো হামিংবার্ড।

⚠️ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি হলো সাহারার মরুভুমি। এটির আয়তন প্রায় ৩,৫০০,০০০ বর্গ মাইল ।

আরো পড়ুন: পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগতির ১৫টি বুলেট ট্রেন (ছবিসহ)

⚠️ পেন্সিলে রবার যোগ করার ধারণা আসে প্রথম জোসেফ রিচেনডর্ফার এর কাছ থেকে ।

⚠️ প্রজাপতির ইংরেজি আসল নাম ছিলো ফ্লুটারবাই, বাটারফ্লাই নয় ।

⚠️ প্রতি ঘন্টায় বিশ্বজগৎ চারদিকে শতকোটি মাইল বিস্তৃত হচ্ছে ।

⚠️ প্রতি বছর আমেরিকাতে প্রায় ৭০০ এর মতো ঘূর্নিঝড় হয় ।

⚠️ প্রতিদিন মহিলারা গড়ে ৭০০০ বাক্য বলে থাকে, আর পুরুষরা বলে থাকে ২০০০ বাক্য ।

⚠️ প্রথম এ্যালার্ম ঘড়ি আবিস্কার হয় ৩,৫০০ বছর আগে এক মিশরীয়র দ্বারা । 

⚠️ প্রথম চাকা তৈরি করে সুমেরীয়রা, ৩৪৫০ বি.সি ।

⚠️ প্রথম বাইসাইকেল তৈরী হয় ১৮১৭ সালে ।

⚠️ প্রথম লেখার ও আবিস্কার করে সুমেরীয়রা ।

⚠️ প্রায় শত বছর আগে চিনারা রকেট তৈরি করে , যা দেখতে তীরের মতো ।

⚠️ বরফ এলাকার ভালুকেরা এক বসায় প্রায় ৮৬ টির মতো পেঙ্গুইন খেয়ে ফেলতে পারে।

⚠️ বাঁশের এমন কিছু প্রজাতি আছে যেগুলো দিনে প্রায় ৩ ফুট পর্যন্ত বাড়ে।

⚠️ বাদুর প্রায় ৯০০ ধরনের হয়ে থাকে, তাদের মধ্যে রক্তচোষা বাদুরের দাত সবচেয়ে কম ।

⚠️ বাদুররা আসতানা ছেড়ে সবসময় বাম দিকে উড়াল দেয় ।

⚠️ বিশ্বে প্রায় ৯৫০০ প্রজাতির ঘাস আছে

⚠️ ব্যাঙের সবচেয়ে বড় জাতটির নাম গোলিয়া ।

⚠️ মঙ্গলগ্রহ বা মারস এর নামকরন রোমান যুদ্ধদেবতার নামে করা হয়, মার্চ মাসের নামও তার নামানুসারে করা ।

⚠️ মরুভূমি পৃথীবির প্রায় একসপ্তমাংশ জুড়ে আছে । 

⚠️ মরুভূমির তাপমাত্রা প্রায় ৭৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে উঠতে পারে । 

⚠️ মাছেরা কিন্তু কথা বলে । কিছু কিছু মাছ দাঁতে দাঁত ঘসে শব্দ সৃষ্টির মাধ্যমে যোগাযোগ করে ।

⚠️ মাথা ছাড়াও তেলাপোকা ৯ দিন বেচে থাকতে পারে ।

আরো পড়ুন: বিশ্বের চোখ ধাঁধানো ১২টি মনোমুগ্ধকর লেক

⚠️ মাধ্যাকর্ষন শক্তি থেকে বের হতে একটি রকেটকে সেকেন্ডে ৭ মাইল গতিতে চলতে হয় ।

⚠️ মানব হৃৎপিন্ড দিনে প্রায় ১০০,০০০ বার স্পন্দিত হয় ।

⚠️ মিশরের আসওয়ান সবচেয়ে শুস্ক এলাকা এবং সেখানে বছরে মাত্র .০২ ইঞ্চি বৃষ্টি হয় ।

⚠️ যদি আলোর গতিতেও যাত্রা শুরু করা হয়, তাহলেও নিকটস্থ ছায়াপথ এন্ড্রোমিডাতে যেতে বিশ লক্ষ বছর লাগবে ।

⚠️ যদিও রেইনফরেস্ট পৃথীবির ভূপৃষ্ঠের মাত্র ৭% জুড়ে আছে, কিন্তু পৃথীবির অন্তত ৪০% প্রানী ও গাছপালা এর উপর নির্ভরশীল থাকে । 

⚠️ লাল ও সবুজ গ্যাসের ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি প্রথম শুরু হয় লন্ডনে ১৮৬৮ সালে । কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেগুলো বিস্ফোরিত হয় এবং একজন পুলিশ নিহত হয়, প্রথম সফল সিগন্যাল বাতি স্থাপন হয় ১৯১৪ সালে ক্লিভল্যান্ড, ওহিওতে ।

⚠️ শিকারের কারনে বিলুপ্ত হবার প্রায় ১০০ বছর পর ১৫০৭ সালে ডোডো আবিস্কার হয় । 

⚠️ শোয়ার ৫ মিনিটের মধ্যেই ঘুমানোর অর্থ হলো আপনার ঘুমের ঘাটতি আছে । ১০-১৫ মিনিট হলে অবশ্য তা ঠিক আছে ।

⚠️ সংস্কৃত হলো ইউরোপীয় ভাষার জননী ।

⚠️ সবচাইতে বড় ফুল হলো রাফ্লেশিয়া আর্নল্ড, যা ৩ ফুটের মতো ও ১৫ পাউন্ড ওজনের হয়। দুর্লভ প্রজাতির এই ফুল ইন্দোনেশিয়াতে পাওয়া যায়।

⚠️ স্তন্যপায়ী প্রানীদের মধ্যে ব্যতিক্রম হলো পাটিপাস এবং একিডনা, যারা ডিম পাড়ে এবং স্তন্যপান করায়বুধ গ্রহের (মার্কারী) তাপমাত্রা দিনে ৪০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডেরও বেশী হয়ে থাকে, কিন্তু রাত্রে – ২০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডের নীচে নেমে যায় ।

আরো পড়ুন: মন জুড়ানো বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ১৫টি মসজিদ

⚠️ স্থলচরদের মধ্যে মানুষ ছাড়া আর যে প্রানীটি কাঁদতে পারে সেটি হল হাতি ।

⚠️ হাঙরের চামড়াকে একসময় সিরিশ কাগজ হিসেবে ব্যবহার করা হতো ।

⚠️ হীরাকে এ্যাসিড দিয়েও গলানো সম্ভভব নয়, কেবল মাত্র তীব্র তাপের মাধ্যমেই একে গলানো সম্ভভব ।

⚠️ মানব মস্তিস্ক শরীরের আয়তনের মাত্র ২% হলেও এর শক্তি চাহিদা অনেক । মোট শক্তির ২০% । 

⚠️ ১৯৬১ সালে ব্যাংক অব স্টকহোম প্রথম ব্যাংকনোট ছাড়ে । 

⚠️ ১৯৭৯ সালে জাপানের সনি প্রথম ওয়াকম্যান বাজারে ছাড়ে।

⚠️ ৪,৮০০ বছর আগে মিশরীয়রা ৩৬৫ দিনের বছর সম্পর্কে জানতো ।

পৃথিবী নিয়ে অজানা তথ্য

এই পৃথিবী এবং মহাবিশ্বের এমন অনেক বিস্ময়কর তথ্য আছে যা আমাদের অনেকের কাছেই অজানা। এর কোনটি শুনলে হয়তোবা আপনি অবাক হবেন, আবার কোন কোনটি শুনে নিজের অজান্তেই হেঁসে উঠবেন। আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরছি এমনই কিছু বিস্ময়কর তথ্য:

পৃথিবী নিয়ে তথ্য

মাউন্ট এভারেস্ট পৃথিবীর সর্ব্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ নয় 

মাওনা কিয়া পর্বত

কী, অবাক হলেন তো? সেই ছোটবেলা হতে পড়ে আসছেন পৃথিবীর সর্ব্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম মাউন্ট এভারেস্ট। কিন্তু হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মাওনা কিয়া পর্বতটি আপনার এই জানার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে যার উচ্চতা ৪,২০৫ মিটার। এটি মূলত একটি বিশাল আগ্নেয়াগিরি যার সিংহভাগই সমুদ্রে নিমজ্জিত। যদি সমুদ্র ভূতলে এর পাদদেশ হতে শীর্ষ পর্যন্ত দৈর্ঘ্য মাপা হয় তাহলে মাওনা কিয়ার উচ্চতা হবে ১০,২০৩ মিটার, যার ফলে পর্বতটি মাউন্ট এভারেস্ট হতে আরো ১,৩৫৫ মিটার বেশি উচ্চতা বিশিষ্ট হয়। দেখা যাক, কেউ এটিকেও জয় করতে পারে কিনা ।  

বায়ুমণ্ডলের সীমানা

কারমাইন লাইন

ভাবছেন এটি নিয়ে লেখার কী আছে? সেই তো ট্রপোমণ্ডল, স্ট্র্যাটোমণ্ডলের নাম আওড়ানো। কিন্তু জেনে অবাক হবেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সীমানা হলো সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে ১০০ মিটার উঁচুতে কারমাইন লাইন। যা ওয়ার্ল্ড এয়ার স্পোর্টস ফেডারেশন কর্তৃক এটি চিহ্নিত হয়েছে। 

সবচেয়ে শুষ্কতম স্থান

আতাকামা মরুভূমি

এটি যে কেউই সহজে বিশ্বাস করবে, যদি বলি পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্কতম স্থান চিলির আতাকামা মরুভূমি যা হাজার বছর ধরে বৃষ্টিহীন কিন্তু আপনি কি জানতেন বরফের মহাদেশ এন্টার্কটিকার ম্যাকমুর্ডো ড্রাই ভ্যালি বিগত দুই মিলিয়ন বছরও বৃষ্টির মুখ দেখেনি। অবশ্য যেখানে বাতাস ঘন্টায় ৩২০ কি.মি. বেগে ছুটে, সেখানে বৃষ্টির দর্শন কীভাবেই বা সম্ভব । 

পৃথিবীতে খাবার পানির পরিমাণ মাত্র ৩%

বিশুদ্ধ খাবার পানির শতাংশ ৩%

যদিও পৃথিবীর মোট পানির শতকরা ৯৭ ভাগই সমুদ্র ও মহাসাগরগুলোর দখলে কিন্তু লবণাক্ততার কারণে তা পান করা যিয় না। বাকি ৩% হলো পান যোগ্য পানি যার ৭০% আসে পর্বতশৃঙ্গে জমা হিমবাহ হতে আর ২০% আছে বৈকাল হ্রদে। 

আরো পড়ুন: এমন ১০টি অদ্ভুদ প্রাণী যা দেখলে আপনি চমকে উঠবেন!

পুরনো মন্দির

সবচেয়ে পুরোনো মন্দির

যদিও ঈশ্বরের ধারণা অনেক প্রাচীন কিন্তু সবথেকে প্রাচীন ঈশ্বরের উপাসনলয় বলতে গবেষকরা গোবেকলি মন্দিরের নাম নেন যা দক্ষিণ তুরস্কে অবস্থিত। মন্দিরের স্তম্ভে খোদাইকৃত নকশা প্রায় এগার হাজার বছর আগের এক ধূমকেতুর সাথে সংঘর্ষের ফলে পৃথিবীর পরিবেশে তাপমাত্রার যে পরিবর্তন হয়েছিল তা নির্দেশ করে। 

পানেগা আল্টিমা 

পানেগা আল্টিমা 

৩৩৫-১৭৫ মিলিয়ন বছর আগেকার পানেগা নামক সুপার মহাদেশের কথা তো আমরা সববাই কমবেশি জানি। পানেগা ভেঙে লোরেশিয়া এবং গন্ডানা নামে দুটো মহাদেশের সৃষ্টি হয়। এই দুটি হতেই মূলত আজকের সাতটি মহাদেশের সৃষ্টি। মজার বিষয় হলো বিজ্ঞানীরা মনে করছেন যে আগামী আড়াইশো- তিনশো মিলিয়ন বছরের মধ্যে ভূতাত্ত্বিক কিছু পরিবর্তনের ফলে সাতটি মহাদেশ আবার একত্র হয়ে যাবে এবং সেই ভূখণ্ডের নাম হবে পানেগা আল্টিমা। 

সময়ের তারতম্য 

সময়ের তারতম্য 

যদিও কিরিটিমাটি লাইন দ্বীপপুঞ্জ আমেরিকান সামোয়া হতে মাত্র ২০০০ কি.মি. দূরে কিন্তু এদের সময়ের পার্থক্য ২৫ ঘন্টা! ধরুন আপনি রবিবার সকালেই আমেরিকান সামোয়া হতে যাত্রা শুরু করলেন লাইন দ্বীপপুঞ্জের উদ্দেশ্যে, আপনি সেখানে যখনই পৌছবেন, দেখবেন সোমবার অতিবাহিত হচ্ছে।

আরো পড়ুন: কচুর শাক খেলে কি হয়? দেখুন ২০টি স্বাস্থ্য উপকারিতা!

মহাবিশ্বে পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ যেখানে প্রাণ রয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আমাদের পৃথিবীতে প্রায় ৩ লাখ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৬ লাখ প্রজাতির ফাঞ্জাই এবং প্রায় ১০ মিলিয়ন প্রজাতির প্রাণী রয়েছে।

পৃথিবীর একটি সুপারপাওয়ার রয়েছে, সেটা হচ্ছে পৃথিবীর চারপাশে রয়েছে গ্যাসের তৈরি একটি অদৃশ্য আবরণ। প্লাজমাস্ফিয়ার নামক এই আবরণ মহাকাশের উচ্চগতিসম্পন্ন ইলেকট্রনকে পৃথিবীতে ঢুকতে বাধা দেয় ফলে আমাদের গ্রহ অনেক ক্ষতি থেকে বেঁচে যায়।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, আমাদের পৃথিবী প্রতিনিয়ত রিসাইকেল হচ্ছে। পৃথিবীর অভ্যন্তরে থাকে উত্তপ্ত ম্যাগমা। ধীরে ধীরে এটি পৃথবীর উপরের দিকে উঠে আসে এবং ক্রমাগত ঠান্ডা হয়ে কঠিন পাথরে রূপ নেয়। বাতাসে এইসব পাথর ক্ষয়ে যায়, ছোট ছোট কণায় পরিণত হয় এবং মাটিতে ফিরে গিয়ে আবার ম্যাগমায় রূপলাভ করে। তারপর আবার একই প্রক্রিয়া শুরু হয়।

পৃথিবী একেবারে ঠিক যায়গায় রয়েছে। এ অবস্থান থেকে একটু কাত হয়ে একটি অক্ষকে কেন্দ্র করে সূর্যের চারিদিকে প্রদক্ষিণ করছে। যদি এই অবস্থানের একটু হেরফের হলেই পৃথিবীতে ঘটে যেতে পারে অনেক বিপত্তি। আর সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্বের দিক থেকেও অবস্থান একদম সঠিক। একটু কাছে বা দূরে হলেই পৃথিবীর তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে পরিবর্তিত হয়ে যেত। এর ফলে পৃথিবীতে প্রাণ টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারতো।

পৃথিবীর ৭০ ভাগ জুড়ে রয়েছে সমুদ্র যে সমুদ্রের ৯৫ শতাংশ এখনও আমাদের জ্ঞানের বাইরে রয়ে গিয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, অনাবিষ্কৃত এই সমুদ্রে প্রায় ১ মিলিয়ন প্রাণের বসবাস থাকতে পারে। শুধু সমুদ্রই নয়, নিউ গিনিতে কিছু রেইনফরেস্টের মত স্থলভাগও এখনও মানুষের অজানা। এর মানে হচ্ছে পৃথিবীতে এখনও এমন অনেক কিছুই রয়ে গিয়েছে যা আমাদের জানার বাকি রয়েছে।

বিস্ময়কর মহাবিশ্বের ৭ টি অজানা তথ্য

বিস্ময়কর মহাবিশ্বের ৭ টি অজানা তথ্য

মহাশূন্যের গন্ধটা কেমন?

কখনো কি মাথায় প্রশ্ন জেগেছে, এই যে মহাশূন্য, তার ঘ্রাণ কেমন? কতিপয় কৌতুহলী মানুষের মনে কিন্তু ঠিকই এই প্রশ্ন জেগেছে! আর তারা বিভিন্ন মহাকাশচারীদের অভিজ্ঞতা শোনার পর এর উত্তর বের করেছেন।

আমরা প্রায় সবাই ওয়েল্ডিঙের কাজের সাথে পরিচিত, তাই না? জ্বী, হ্যাঁ। ওয়েল্ডিঙের কাজের সময় এর আশেপাশে থাকলে যে ঘ্রাণ পাওয়া যায়, মহাশূন্য বা স্পেসের গন্ধটা ঠিক অমন।

উত্তপ্ত বরফ

পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৩ আলোকবর্ষ দূরে একটা গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা যার পুরো পৃষ্ঠটাই নাকি “Burning Ice” এ আবৃত! খটকা লাগছে? আসল ঘটনাটা হচ্ছে, এই গ্রহের পৃষ্ঠে প্রচণ্ড চাপেরকারণে পানি কঠিন অবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে, আর গ্রহ পৃষ্ঠে তাপমাত্রা অনেক বেশি বলে এই জমাট বরফ থেকে বাষ্প নির্গত হয়। তাই বিজ্ঞানীরা একে বলছেন “Burning Ice”।

মহাকাশে পানি ফোটানো

সচরাচর পানি ফুটানোর সময় আমরা কী দেখি? বুদবুদ আকারে অনেকগুলো পানির ফোঁটা পাত্রের উপরের দিকে উঠে এসেছে। কিন্তু কেউ যদি মহাকাশে যেয়ে কোনোভাবে পানি ফোটানোর চেষ্টা করে, তাহলে কিন্তু এ ঘটনা ঘটবে না। অনেকগুলোর পরিবর্তে একটামাত্র দানবাকৃতির বুদবুদ উঠে আসবে।

পৃথিবীও হতে পারে ব্ল্যাকহোল

আমরা যে সুন্দর পৃথিবীতে বাস করছি, তাও কিন্তু একটা ব্ল্যাকহোলে পরিণত হতে পারে। তবে এর আগে পৃথিবীকে বেশ শক্ত কিছু নিয়ম মানতে হবে। তারই মধ্যে একটি হলো পৃথিবীর নিজেকে কোনোভাবে মিনিমাইজ করে একটা মার্বেলের আকারে পরিণত করতে হবে।

ঘুরে আসুন:  কিভাবে চিনবেন অধিক চাহিদার যৌন আবেদনময়ী মেয়ে?

যদি কোনোভাবে এটা হয়ে যায়, তবে পৃথিবীও সর্বগ্রাসী ছোটখাট একটা ব্ল্যাকহোলে পরিণত হতে পারে।

মৃত নক্ষত্র

রাতের পরিষ্কার আকাশে আমরা যে অসংখ্য নক্ষত্র দেখি, তাদের অনেকেই হয়তো মৃত। আলো বিকিরণ করতে করতে, ধীরে ধীরে তারা নিঃশেষ হয়ে গেছে। কিন্তু যদি তারা মৃতই হয়, রাতের আকাশে তাদের দেখি কীভাবে আমরা?

কেউ কখনোই মহাবিশ্বের একদম শেষ প্রান্তে চলে যেতে পারবে না

কারণ এসব নক্ষত্রের বেশিরভাগই আমাদের থেকে শতকোটি আলোকবর্ষ দূরে। সেখান থেকে আলো এসে পৌঁছাতে তো সময় লাগবে, তাই না? হ্যাঁ, বিলিয়ন বিলিয়ন বছর পূর্বে তাদের নিঃসৃত আলো আমরা এখন রাতের আকাশে দেখছি, এই এতদিন পরে!

হারিয়ে যাওয়া মহাবিশ্ব

এই যে মহাবিশ্বের বিশালতা নিয়ে আমরা কথা বলছি, মহাবিশ্ব কিন্তু তার চেয়েও বিশাল! বিজ্ঞানীদের মতে মহাবিশ্বের প্রায় শতকরা ৭৫ ভাগই ডার্ক ম্যাটার এবং ডার্ক এনার্জি রূপে আছে। আমাদের এই মহাবিশ্ব কিন্তু সম্প্রসারণশীল।

ঘুরে আসুন : মেদ ও ভুঁড়ি কমানোর (৪০) টি বৈজ্ঞানিক উপায়

এই প্রসারণশীল মহাবিশ্বের মাঝে আঠার মত কাজ করছে ডার্ক ম্যাটার। কিন্তু এই ডার্ক ম্যাটার এবং ডার্ক এনার্জি হয়তো কোনোদিনই পরিমাপ করা সম্ভব হবে না। যদিও বিজ্ঞানীরা এখনই হাল ছাড়তে নারাজ।

যেখানে শুরু সেখানেই শেষ

কেউ কখনোই মহাবিশ্বের একদম শেষ প্রান্তে চলে যেতে পারবে না। তাই কারো মনে যদি শখ জাগে যে মহাবিশ্বের শেষ মাথায় কী আছে তা দেখার, তার সে আশায় গুঁড়ে বালি। যদি কখনো কেউ এই মহাবিশ্বের একটা নির্দিষ্ট স্থান থেকে সরলরেখা বরাবর হাঁটতে থাকে, তবে অনন্তকাল হাঁটার পর সে আবার তার শুরুর জায়গাতেই ফেরত আসবে।

মহাবিশ্বের বিশালতার মাঝে কত ক্ষুদ্র আমাদের এ পৃথিবী। অথচ এই পৃথিবীর কত রহস্যই এখনো আমাদের অজানা। হয়তো একদিন পৃথিবীর সব রহস্যই সমাধান হবে। এর পাশাপাশি মহাবিশ্বের অসংখ্য অজানা আর অমীমাংসিত রহস্যের জটও খুলতে আরম্ভ করবে।

সুখী হতে কি টাকা লাগে? এই ৪০টি সিম্পল উপায় দেখুন!

মানব সভ্যতার বিজয় নিশান পুরো মহাবিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়বে। কে বলতে পারে, তোমরা যারা এ লেখাটি পড়ছ, তোমাদের কেউ একজনই হয়তো একদিন মহাবিশ্বের এমন অজানা কোনো রহস্য সমাধান করে বসলে!

বিশ্বের ৭টি নতুন স্বীকৃত বিস্ময়কর বস্তু

বিস্ময়কর বস্তু

প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ বিস্ময়কর বস্তুর তালিকা তৈরি করে চলেছে। যে হেতু এ বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই, তাই কোনগুলিকে বিষ্ময়কর বস্তু বলা উচিত সে বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনও ঐকমত্য নেই।

গ্রিকরা মনে করত, ৭ সংখ্যাটি ‘নিখুঁত’ ও ‘বহু’র পরিচায়ক। সেই থেকেই ৭টি বিস্ময়কর বস্তু নিয়ে এই উন্মাদনার শুরু। ‘এটা’ হবে নাকি ‘ওটা’ সেই নিয়ে আলোচনাও শুরু সেই থেকেই। যাই হোক গোটা পৃথিবী জুড়ে সম্প্রতি একটি সমীক্ষা হয়েছে। তাতে ৭টি বিস্ময়কর বস্তুর নতুন তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

চিচেন ইৎজার পিরামিড (৮০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে) য়ুকাতান উপদ্বীপ, মেক্সিকো

বিস্ময়কর পিরামিড

চিচেন ইত্জ়া হল মায়া সভ্যতার সবচেয়ে বিখ্যাত মন্দির-শহর। এই শহরটি মায়া সভ্যতার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপের কেন্দ্র ছিল। এর বিভিন্ন স্থাপত্যগুলি – কুকুলকান পিরামিড, চাক মুলের মন্দির, হাজার স্তম্ভ বিশিষ্ট সভাগৃহ এবং কয়েদিদের খেলার মাঠ – এই সব জিনিস আজও দেখা যাবে, যা স্থাপত্যবিদ্যার এবং নির্মাণশৈলীর এক অসামান্য কীর্তির পরিচয় বহন করে। এই পিরামিডটি মায়া মন্দিরগুলির মধ্যে সর্বশেষ এবং অনেকের মতে সর্বশ্রেষ্ঠ।

ত্রাণকর্তা প্রভু যিশু (১৯৩১) রিও ডি জেনেইরো, ব্রাজিল

ত্রাণকর্তা প্রভু যিশু

যিশুর এই মূর্তিটি প্রায় ৩৮ মিটার উঁচু এবং রিও ডি জেনেইরোর সামনে করকোভাদো পাহাড়ের মাথায় স্থাপিত হয়েছে। হাইটর দ্য সিলভা কোস্টা নামের এক ব্রাজ়িলীয়ের করা নকশা অনু্যায়ী ফরাসি শিল্পী পল ল্যান্ডোওস্কি এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন, যা বিশ্বের সেরা স্মৃতিসৌধগুলির অন্যতম। এই মূর্তিটি তৈরি করতে পাঁচ বছর সময় লেগেছিল। এটি উদ্বোধন করা হয় ১৯৩১ সালের ১২ অক্টোবর। অতিথিদের সর্বদা দু’হাত বাড়িয়ে আপন করে নিতে প্রস্তুত ব্রাজ়িলীয়দের এবং এই শহরের প্রতীক হয়ে উঠেছে মূর্তিটি।

রোমের কলোসিয়াম (৭০-৮২ খ্রিস্টাব্দ) রোম, ইতালি

রোম, ইতালি

রোমের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বিশাল অ্যাম্ফিথিয়েটারটি নির্মিত হয়েছিল বিজয়ী রোমান সৈন্যদের পুরস্কৃত করার জন্য এবং রোম সাম্রাজ্যের গৌরবগাথা তুলে ধরার জন্য। এর পরিকল্পনা ও নকশা আজও একই রকম প্রাসঙ্গিক এবং আজ ২০০০ বছর পরেও ওই কলোসিয়ামের অতুলনীয় নকশার অমোঘ ছাপ আধুনিক যুগের প্রায় প্রতিটি ক্রীড়াঙ্গনেই খুঁজে পাওয়া যাবে। সেইসময়ের দর্শকদের আনন্দ দেওয়ার জন্য ওই কলোসিয়ামের আঙিনায় ঘটে যাওয়া নৃশংস মারামারি এবং খেলাধুলো সম্পর্কে আজকাল ছায়াছবি এবং ইতিহাসের বইপত্রের মাধ্যমে আমরা অনেক বেশি ওয়াকিবহাল, যা তখনকার দর্শকদের আনন্দ দিত।

তাজমহল (১৬৩০ খ্রিস্টাব্দ) আগ্রা, ভারত

তাজমহল

পঞ্চম মোঘল সম্রাট শাহজাহানের আদেশে, তাঁর প্রিয়তমা বেগমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এই বিশাল স্মৃতিসোধটি নির্মিত হয়েছিল। সুবিন্যস্ত, প্রাচীর ঘেরা বাগানে শ্বেতমর্মরে প্রস্তুত এই তাজমহল ভারতে মুসলমানি শিল্পের সর্বাপেক্ষা অনুপম রত্ন বলে স্বীকৃতি লাভ করেছে। সম্রাটকে পরবর্তীকালে বন্দি হতে হয়েছিল এবং কথিত আছে যে, তখন তিনি তাঁর ছোট্ট কুঠুরির একটি জানালা দিয়েই কেবলমাত্র তাজমহলকে দেখতে পেতেন।

চিনের প্রাচীর (খ্রিস্টপূর্ব ২২০ এবং ১৩৬৮-১৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ) চিন

চিন

চিনের মহাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছিল বর্তমান সুরক্ষা উপকরণগুলিকে সংযুক্ত করে একক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে আনা এবং মোঙ্গল উপজাতিগুলির আক্রমণ ঠেকিয়ে তাদের চিন থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যে। মানব নির্মিত পুরাতাত্বিক নিদর্শনগুলির মধ্যে এটিই বৃহত্তম। এবং একটি বিতর্কিত মত হল যে, এটি পৃথিবীর একমাত্র বস্তু, যা মহাকাশ থেকে দেখা যায়। এই অতিকায় কীর্তিটি গড়তে নিশ্চিত ভাবেই হাজার হাজার মানুষ জীবন বলিদান দিয়েছেন।

মাচু পিছু (১৪৬০-১৪৭০) পেরু

পেরু

পঞ্চদশ শতকে ইনকা সম্রাট পাকাশুটেক পাহাড়ে মেঘের মধ্যে এক শহর নির্মাণ করেন, যা মাচু পিছু (“পুরনো পাহাড়”) নামে পরিচিত। এই অসাধারণ বসতিটি আন্দিস মালভূমিতে ওঠার পথে মাঝ রাস্তায়, আমাজ়নের গভীর জঙ্গলে এবং উরুবম্বা নদীর ওপরে অবস্থিত। সম্ভবত গুটিবসন্ত রোগ ছড়িয়ে পড়ায় ইনকারা এই জায়গা পরিত্যাগ করে এবং স্পেনীয়রা ইনকা সাম্রাজ্যকে পরাজিত করার পর প্রায় তিনটি শতক এই শহরটি “হারিয়ে” যায়। হিরম বিংহ্যাম ১৯১১ সালে একে পুনরায় খুঁজে বার করেন।

পেত্রা (খ্রিস্টপূর্ব ৯- ৪০ খ্রিস্টাব্দ) জর্ডন

জর্ডন

আরব মরুভূমির ধারে, নবাটায়েন সাম্রাজ্যের রাজা চতুর্থ আরেটাসের (খ্রিস্টপূর্ব ৯ – ৪০ খ্রিস্টাব্দ) উজ্জ্বল রাজধানী ছিল পেত্রা। জল বহন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তিতে পারদর্শী নবাটাইনরা তাদের শহরে বড় বড় সুড়ঙ্গ ও জলধারক কুঠুরি নির্মাণ করেছিল।

গ্রীকো-রোমান শৈলির অনুকরণে নির্মিত একটি নাট্যশালায় ৪০০০ দর্শকের বসার ব্যবস্থা ছিল। এল-ডেয়ার আশ্রমের উপরে অবস্থিত ৪২ মিটার উঁচু হেলেনীয় মন্দিরদ্বার সহ পেত্রার প্রাসাদোপম সমাধিগুলি আজ মধ্য-পূর্ব এশিয়ার সংস্কৃতির উৎকৃষ্ট নিদর্শন।

প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে  SOMVOB.COM লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here