বিশ্বের সেরা ২০টি রহস্যময় বিমান নিখোঁজ ও বিমান ‍দূর্ঘটনা

172

বিমান পথে চলাচল মানুষের গন্তব্যস্থলে পৌঁছাকে করেছে সহজ ও দ্রুততর।অনেকে আকাশ পথে ভ্রমণকে সবচেয়ে আনন্দময় ভ্রমণ হিসেবেও মনে করে থাকেন। তবে মাঝে মাঝে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এ আনন্দ ভ্রমণেই নেমে আসে বিষাদের ছায়া। কারণ বিধ্বস্ত হওয়া বিমান থেকে বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। এতটাই ক্ষীণ যে, বেঁচে যাওয়ার কাহিনী নিয়ে হলিউডে-বলিউডে সিনেমাও নির্মিত হয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক ইতিহাসের ট্রাজিক বিমান দুর্ঘটনা ও রহস্যময় প্লেন-নিখোঁজের ঘটনা সম্পর্কে-

« এক নজরে দেখুন এই প্রতিবেদনে কি কি রয়েছে »

ম্যাকডনেল ডগলাস ডিসি-১০

১৯৭৪ সালের ৩ মার্চ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ‘ম্যাকডনেল ডগলাস ডিসি-১০’ বিমানটি। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই এরমেওনভিলে একটি পার্কে আছড়ে পড়লে ৩৩৫ জন যাত্রী ও ১১ জন ক্রুর সবাই নিহত হন।

স্পেনের নর্থ এয়ারপোর্ট ট্রাজেডি

১৯৭৭ সালের ২৭ মার্চ স্পেনের টেনেরিফে নর্থ এয়ারপোর্টে কেএলএম রয়েল ডাচ এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং-৭৪৭ বিমান উড্ডয়ন শুরু করার ঠিক পরপরই ‘প্যান আমেরিকান ওয়ার্ল্ড এয়ারওয়েজ’-এর অপর একটি বোয়িং-৭৪৭ বিমানের ওপর বিধ্বস্ত হয়। এতে দুই বিমানের মোট ৫৭৪ জনই নিহত হন।

ইঞ্জিন খুলে পড়ে মার্কিন বিমানের

১৯৭৯ সালের ২৫ মে আমেরিকার মাটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ঘটে। শিকাগোর ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ডিসি-১০ বিমান উড্ডয়ন শুরু করলে রক্ষণাবেক্ষণের ত্রুটির কারণে বাম পাশের ইঞ্জিনটি খুলে পড়ে। এতে নিহত হন ২৭৩ জন।

অ্যান্টার্কটিকায় বিধ্বস্ত ডিসি-১০

১৯৭৯ সালের ২৮ নভেম্বর নিউজিল্যান্ডের ডিসি-১০ বিমান অ্যান্টার্কটিকায় বিধ্বস্ত হলে ২৫৭ জন যাত্রী এবং ক্রুর সবাই নিহত হন।

বেঁচে যান চার যাত্রী

১৯৮৫ সালের ১২ আগস্ট একক বাণিজ্যিক বিমানে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে জাপানে । জাপান এয়ারলাইন্সের বিমানটি টোকিও থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই দেশটির পাহাড়ি অঞ্চলে বিধ্বস্ত হলে ৫২০ জন নিহত হন। বিস্ময়করভাবে প্রাণে বেঁচে যান চার যাত্রী।

আকাশেই বিকল হয়ে যায় বোয়িং

১৯৯১সালের ২৬ মে ‘লডা এয়ার’র একটি বোয়িং-০১৭৬৭ বিমান উড্ডয়নের ১২ মিনিটের মাথায় আকাশেই বিকল হয়ে যায়। ব্যাংককের উত্তর-পশ্চিমে এটি বিধ্বস্ত হলে ২২৩ জন যাত্রী এবং ক্রুর সবাই নিহত হন।

আগুন ধরে যায় নাইজেরিয়ান এয়ারওয়েজে

 ১৯৯১ সালের ১১ জুলাই সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই আগুন ধরে যায় নাইজেরিয়ান এয়ারওয়েজের ‘ডিসি-৮’ বিমানটিতে। ২৬১ জন যাত্রী ও ক্রুর সবাই নিহত হন।

জ্বালানি ট্যাংকে বিস্ফোরণ

 ১৭ জুলাই, ১৯৯৬ নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি এয়ারপোর্ট থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই ট্রান্স ওয়ার্ল্ড এয়ারলাইন্সের একটি বিমানের জ্বালানি ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটে। বিমানটি আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়। এতে ২১২ জন যাত্রী এবং ১৮ জন ক্রুর সবাই নিহত হন।

দুই বিমানের সংঘর্ষ

 ভারতের নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর সৌদি এবং কাজাখস্তান এয়ারলাইন্সের দুটি বিমানের সংঘর্ষ হয়। এতে নিহত হন দুই বিমানের ৩৪৯ জন।

লকারবি শহরে ভেঙে পড়ে বোয়িং

২১ ডিসেম্বর, ১৯৯৮ সন্ধ্যার কিছু পর দক্ষিণ স্কটল্যান্ডের লকারবি শহরে ভেঙে পড়েছিল প্যান-এম ফ্লাইট ১০৩-এর বোয়িং ৭৪৭-১২১ বিমানটি। লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে নিউইয়র্কের কেনেডি বিমানবন্দরগামী বিমানটির ২৫৪ জন যাত্রী এবং ১১ ক্রু নিহত হন।

এছাড়াও ২৫ মে, ২০০২ তাইওয়ান থেকে হংকংগামী এক বিমান ফ্লাইট ৬১১ মাঝ আকাশে বিকল হয়ে পড়লে বিধ্বস্ত হয়। এতে ২২৫ জনের সবাই নিহত হন। এবং ১০ এপ্রিল, ২০১০ পোল্যান্ডের বিমান বাহিনীর একটি বিমান দুর্ঘটনায় পড়লে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্টসহ ৯৬ জন যাত্রীর সবাই নিহত হন। সরকারি তদন্তে দুর্ঘটনার জন্য পাইলটকে দায়ী করা হয়।

বিশ্বের ১০টি রহস্যময় প্লেন-নিখোঁজের ঘটনা

ফ্লাইট নম্বর ৩৭০, মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স

রহস্যজনক ভাবে ২০১৪ সালের ৮ মার্চ স্থানীয় সময় ১২ টা ৪১ মিনিটে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে চিনের বেজিং যাওয়ার পথে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭ এর এমএইচ ৩৭০ বিমানটি  নিখোঁজ হয়।  এই বিমানে প্রায় ২২৭ জন যাত্রী  এবং ১২ জন ক্রু ছিলেন। প্রায় ঘন্টাখানেক সময়ের মধ্যে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে নিয়ন্ত্রণকক্ষ। তারপর থেকে বিমানটির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। কোথায় গেল ২৩৯ জন আরোহী নিয়ে বিমানটি? তা আজো রহস্য। প্লেনটি অস্ট্রেলিয়ার কাছে ভারত মহাসাগরে  ভেঙে পড়েছে বলে বিশ্বাস অনেকের। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে- এমন মিথও প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু, এর পক্ষে জোরদার কোনও প্রমাণ মেলেনি।

মিশরের এয়ার ফ্লাইট-৯৯০

অনেকের ধারণা মিশরের এয়ার ফ্লাইট-৯৯০ এর বিমানটি ইচ্ছা করেই পাইলট ধ্বংস করে । দুই পাইলটের রেষারেষিতে জীবন দিতে হয় ২১৭ জন যাত্রীর সবাইকে। সময়টা ১৯৯৯ সালের ৩১ অক্টোবর। যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি বিমান বন্দর থেকে মিশরের রাজধানী কায়রোর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে বিমানটি। কিন্তু আটলান্টিক মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয় প্লেনটি। সলিল সমাধি হয় সকল যাত্রীদের প্রাণ। বিমানটির সহকারী পাইলট জামিল আল বতুতী, যৌন অশোভন আচরনের দায়ে পাইলট  প্রধান হাতেম রুশদী কর্তৃক কঠোরভাবে তিরস্কৃত হন। মনে করা হয় চাকুরি হারানোর ভয়ে এবং প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে জামিল বিমানটিকে ঢুকিয়ে দেয় আটলান্টিকের অথৈ জলরাশির ভিতর। একজন পাইলটের জিঘাংসার শিকার হয় বিমানটি । ফলশ্রুতিতে কেড়ে নেয় ২১৭ জন যাত্রীর প্রাণ।

ফ্লাইট নম্বর এন এইট ৪৪ এএ

২০০৩ সালের ২৫ মে অ্যাঙ্গোলার লুমান্ডার কোয়ার্টো ডে ফেভেরেইরো বিমানবন্দর থেকে বিমানটি চুরি হয়। একটি ৭২৭-২২৩ বোয়িং বিমান ছিল। এই বিমানের খোঁজে সারা বিশ্বজুড়ে অনুসন্ধান চালায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ও সিআইএ। অনুসন্ধানে জানা যায় যে, বিমানটি ছাড়ার অনেক আগে থেকেই দুই জন ব্যক্তি যাদের একজন ছিলেন আমেরিকান পাইলট ও ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার এবং অপরজন মেকানিক, ওই বিমানে অবস্থান করছিলেন।  কিন্তু, বিমান নিয়ে দু’জনে কোথায় উড়ে গিয়েছিল তা আজও জানা যায়নি। সে দুই ব্যক্তিরও কোন সন্ধান কেউ দিতে পারে নি।

ফ্লাইং টাইগার লাইন ফ্লাইট ৭৩৯

১৬ মার্চ, ১৯৬২।

৯৩ জন মার্কিন সেনা এবং ভিয়েতনামের তিনজন নাগরিক নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ভিয়েতনামের সাইগনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল বিমানটি। প্রশান্ত মহাসাগরের উপরে উধাও হয় বিমানটি। ধারনা করা হয়, ওই বিমানে বিস্ফোরণ হয়েছিল। কিন্তু বিমানের কোনও অবশিষ্টাংশ না মেলায় তা নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আন্তোনভ ৩২, ভারতীয় বায়ু সেনা

আন্তোনভ ৩২ ভারতীয় বায়ু সেনার একটি যুদ্ধ বিমান। সোভিয়েত ইউনিয়নের থেকে এই যুদ্ধবিমানটি কিনেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। ঘটনাটি ঘটে ২৫ মার্চ, ১৯৮৬। ঐ দিন গুজরাতের জামনগরের কাছে ভারত মহাসাগরের উপরে বিমানটি নিখোঁজ হয়ে যায়। বিমানে থাকা ৩ জন ক্রু এবং ৪ যাত্রীদের কারোই কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এয়ার ফ্রেন্স ফ্লাইট-৪৪৭

সময় ২০০৯ সাল।  ২৮৮ জন আরোহী নিয়ে ব্রাজিলের রিওডি জেনিরিও থেকে ফ্রান্সের প্যারিসের উদ্দেশে যাত্রা করে এয়ার ফ্রেন্স ফ্লাইট-৪৪৭। পথে আটলান্টিকের বুকে হারিয়ে যায় বিমানটি। পরবর্তীতে আটলান্টিক মহাসাগর থেকে ৫০ জন যাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।  ২০১১ সালে বিমানের ব্ল্যাক বক্স রেকর্ডারটির সন্ধান পাওয়া যায়। সঙ্গে ১০৪টি মৃতদেহও। বাকি ৭৪টি মৃতদেহের সন্ধান মেলেনি আজও ।

উরুগুয়ে ফ্লাইট ৫৭১

১৯৯৩ সালে উররুগুয়ের ফ্লাইট ৫৭১ বিমানটি বিধ্বস্ত হয় আন্দিজ পর্বতমালায় । ৪৫ জন আরোহীর মধ্যে ঘটনাস্থলেই মারা যায় ১২ জন। পরদিন মারা যায় আরো ৬ জন। এরপর মারা যায় আরো ৮ জন। কিন্তু বেঁচে যায় ১৬ জন। ৭২ দিন ধরে তাদের থাকতে হয়েছে ওই পর্বতে। কিন্তু কিভাবে বেঁচে ছিল তারা? কি খেয়ে  নিজেদের সুস্থ রেখেছিল তারা? অদ্ভুত হলেও সত্য, খেয়েছে তাদের মৃত বন্ধুদের লাশ। এদের ২ জন দশ মাইল দূর্গম পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে এক চিলিয়ান ভদ্রলোকের সাক্ষাত পায়। সে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অবশেষে তাদের উদ্ধার করা হয়। গা শিউরে ওঠা ১৯৯৩ সালের কাহিনী যেন আজও জীবন্ত। ইতিহাসের সাক্ষী।

ফ্লাইট নম্বর ৪০৪, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স

২৫ অগাস্ট,১৯৮৯। পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনন্সের ৪০৪ নম্বর বিমানটি গিলগিট থেকে ইসলামাবাদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু, বিমানটি ইসলামাবাদে পৌঁছায়নি। প্লেনটি যাত্রাপথের কোথায় নিখোঁজ হয় তা জানা যায়নি। তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালানোর পরেও বিমানটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।  আজ রহস্যময় অন্তর্ধানের ইতিহাসে নাম তুলে রেখেছে ফ্লাইট নম্বর ৪০৪। বিমানটি নিখোঁজের সময়ে তাতে ৫৪ জন যাত্রী ছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ফ্লাইট-১৯১

১৯৭৯ সাল। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ঘটে এসময়। শিকাগোর এক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সবেমাত্র বিমানটি উড়েছে ফ্লাইট-১৯১। কয়েক মিনিটের মাথায় বিমানবন্দরেই বিধ্বস্ত হয় বিমানটি। মৃত্যুবরণ করেন ২৫৮ জন যাত্রী ও ১৩ জন ক্রুর সবাই।

গারুডা ইন্দোনেশিয়া ফ্লাইট ৫৪২

৩ ফেব্রুয়ারি,১৯৬১।

গারুডা ইন্দোনেশিয়া ফ্লাইট ৫৪২ ইন্দোনেশিয়ার মাদুরা আইল্যান্ড থেকে বিমানটি উড়েছিল। কিন্তু এই যাত্রীবাহী বিমানটি আকাশে ওড়ার পর তার আর খোঁজ মেলেনি। বিমানের ৫ ক্রু  এবং ২১ জন যাত্রীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ইরানের এয়ার ফ্লাইট-৬৫৫

১৯৮৮ সালে ঘটনা এটি। ইরানের এয়ার ফ্লাইট-৬৫৫ ২৯০ আরোহী নিয়ে তেহরান থেকে দুবাই যাচ্ছিল। ধারনা করা হয় বিমানটি সোভিয়েত ইউনিয়নের যুদ্ধবিমান ভেবে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয় এবং বিমানের আরোহীদের সবাই নিহত হয়।

স্টার এড়িয়াল, ব্রিটিশ সাউথ আমেরিকান এয়ারওয়েজ (বিএসএএ) 

ব্রিটিশ সাউথ আমেরিকান এয়ারওয়েজ (বিএসএএ) এর একটি বিমান হল স্টার এড়িয়াল । ১৯৪৯ সালের ১৭ জানুয়ারি বিমানটি রহস্যপুরী বার্মুডা ট্রায়াঙ্গালে হারিয়ে যায়। আবহাওয়া ছিল পরিস্কার। বিমানটিতে যান্ত্রিক কোন ত্রুটিও ছিল না। তারপরও ডুবে গেল প্লেনটি। এর পূর্বেও পরপর তিনটি বিমান একই জায়গায় বিধ্বস্ত হয়। শুরু হল তদন্ত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তদন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হল। “দূর্ঘটনার কারণ” অজানা।