বিমানবন্দরে যেসব কাজ করতে নেই জেনে নিন ৩০টি টিপস!

কোনো দেশের যোগাযোগব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হলো বিমানবন্দর। যাত্রী ওঠানামা থেকে শুরু করে আকাশপথে যোগাযোগের পুরো ব্যবস্থাই নিয়ন্ত্রিত হয় বিমানবন্দর থেকে। এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। আর জঙ্গিবাদের উত্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১১ ঘটনার পর থেকে বিশ্বের প্রায় সব দেশের বিমানবন্দরেই নিরাপত্তা আরো কঠোর হয়েছে। শুধু এ কারণেই নয়, নিরাপদ বিমানযাত্রা ও যাত্রীর নিজের নিরাপত্তার স্বার্থেই বিমানবন্দরে যাত্রীদের কিছু নিয়মকানুন কঠোরভাবে মানতে হয়। বিমানবন্দরের এসব নিয়মকানুন না মানা হলে নির্দিষ্ট ব্যক্তি যেমন অন্যের কাছে বিরক্তি ও ঝামেলার পাত্র হন, তেমনটি নিজের দেশ ও জাতীয়তাকেও লজ্জার মুখে ফেলেন।

বাণিজ্যের প্রসার ও বিদেশে বিশাল শ্রমবাজার সৃষ্টি হওয়ায় বর্তমানে প্রতিদিনই হাজার হাজার বাংলাদেশি দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর হয়ে বিদেশে যান এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর হয়ে দেশে ফেরেন। অনেক ক্ষেত্রেই বিমানবন্দরের নিয়ম না জানার কারণে তাঁরা নিজেরা যেমন নাজেহাল হন, তেমনটি নিজের অজান্তেই বাংলাদেশিদের সম্পর্কে বিদেশিদের কাছে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি করেন। বিমানবন্দরে ও বিমানে চলাচলের ক্ষেত্রে নিয়মকানুনসহ মেনে চলার বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।

এয়ার হোস্টেস

« এক নজরে দেখুন এই প্রতিবেদনে কি কি রয়েছে »

বুকিংয়ে সঠিক নাম ও পাসপোর্ট নাম্বার ব্যবহার করুন

বিমানের টিকেট বুকিং দেওয়ার সময় আপনার পুরো নাম ও সঠিক পাসপোর্ট নাম্বার ব্যবহার করুন।বোর্ডিং কার্ড দেওয়ার সময় এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ টিকেটের সাথে আপনার পাসপোর্ট মিলিয়ে নেবে। এছাড়া ইমিগ্রেশন বা বহির্গমন বিভাগও দুটি বিষয় মিলিয়ে দেখে আপনাকে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেবে।

সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছান

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিমানবন্দরে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাউন্টারে রিপোর্ট করতে হয়। তাই যানজট ও অনাকাঙ্খিত যে কোনো পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে হাতে যথেষ্ট সময় নিয়ে বিমানবন্দর রওনা হওয়া উচিত।সাধারণত আন্তর্জাতিক রুটে বিমান ছাড়ার ২ ঘন্টা আগে এবং অভ্যন্তরীন রুটে ১ ঘন্টা আগে রিপোর্ট করতে বলা হয়।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সিট নাম্বার আগে থেকে নির্দিষ্ট করা থাকে না।যাত্রার দিনে এয়ারলাইনসের কাউন্টারে রিপোর্ট করার পর বোর্ডিং কার্ড দেওয়া হয়।তাতেই উল্লেখ থাকে সিট নাম্বার।তাই দেরিতে রিপোর্ট করলে পছন্দমাফিক সিট পাওয়া কঠিন।

চেকলিস্ট মিলিয়ে নিন

বিমানবন্দর যাত্রার আগে চেকলিস্ট মিলিয়ে দেখে নিন সব কিছু নেওয়া হয়েছে কি-না। বিশেষ করে দেশের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে পাসপোর্ট, টিকেট, ডলার, ক্রেডিট কার্ড (থেকে থাকলে) নিতে ভুলবেন না।

চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশ যাওয়া হলে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং স্থানীয় ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাথে নিন।

আন্তর্জাতিক সেমিনার, কনফারেন্স হলে ইনভাইটেশন লেটার, অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড সাথে নিন।

ভ্রমণের ক্ষেত্রে ক্যামেরা, বাইনোকুলার ফেলে গেলে আফসোসের শেষ থাকবে না।

লাগেজ বেশি ভারি না করাই ভালো

অপ্রয়োজনীয় জিনিস ঠেসে ভরে লাগেজ বেশি ভারি করবেন না।সব বিমানেই লাগেজের সর্বোচ্চ ওজন দেওয়া থাকে। এরচেয়ে বেশি ওজন হলে বাড়তি মালের জন্য উচ্চ হারে ভাড়া দিতে হয়। এটা আপনার জন্য বিড়ম্বনার কারণ হতে পারে।

আরো পড়ুন: বেগুনের এমন ৪০টি উপকারিতা, যা আপনি কখনো শুনেন নেই !

হ্যান্ড ব্যাগে লিকুইড রাখবেন না

আপনার লাগেজ কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে বহন করবে। তবে আপনি চাইলে ছোটো দু’তিনটি হ্যান্ডব্যাগ সাথে রাখতে পারেন।এগুলো মাথার উপর লাগেজ ক্যারিয়ারে কিংবা সিটের নিচে রাখা যায়।কিন্তু হ্যান্ড লাগেজে পণ্য বহনে কিছু বিধিনিষেধ আছে। এতে কোনোভাবেই পানির বোতল, ড্রিংকস, শ্যাম্পু, বডি স্প্রে, পারফিউম বা অন্য কোনো তরল রাখা যাবে না। সে ক্ষেত্রে বিমানে ওঠার আগেই নিরাপত্তা কর্মীরা এগুলো রেখে দেবে।এছাড়া ধাতব অনেক কিছুই বহন করা যাবে না।স্ক্রু ড্রাইভার, স্লাইড রেঞ্জ, ম্যাচ, ইলেকট্রনিক ডিভাইস-এসব তো নয়ই। বিদেশ থেকে ফেরার সময় এ জাতীয় কোনো পণ্য আনতে চাইলে তা অন্য লাগেজে রাখতে হবে।

নিরাপত্তার স্বার্থে বিধি মেনে চলুন

বিমানবন্দরে প্রবেশের সাথে সাথে নানা ধরণের চেকিংয়ের মুখোমুখী হতে হয়। এ সময় সংশ্লিষ্টদেরকে পূর্ণ সহযোগিতা করুন। স্ক্যানিং মেশিনে চেকের সময় ধাতব আসবাব বের করে নিন। মনে রাখবেন, আপনার নিরাপত্তার জন্যও এ ধরনের চেকিং খুব জরুরী।

নির্ধারিত সিটেই বসতে হবে

বোর্ডিং কার্ডে যে সিট নাম্বার উল্লেখ থাকবে সেটিতেই বসতে হবে। সাধারণত সিটের উপরে লাগেজ ক্যারিয়ারে সিট নাম্বার উল্লেখ থাকে। বোর্ডিং কার্ডের সাথে মিলিয়ে আপনার সিটটি খুঁজে নিন। প্রয়োজনে এয়ারহোস্টেজ, ফ্লাইট এটেন্ডেন্ট বা স্টুয়ার্ডসের সহায়তা নিন।

বিমানে কাউকে সিট বদলের অনুরোধ করা খুবই অশোভন।

এয়ার হোস্টেস

বিমান কর্মীদের সাথে ভালো আচরণ করুন

এয়ারহোস্টেজদের সাথে শোভন আচরণ করুন। তাদের প্রতি আন্তরিক হোন, ধন্যবাদ দিন। অভিযোগ থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানান।

সিট হেঁলানোর আগে সতর্ক থাকুন

আপনার পেছনের যাত্রীকে আগে জানান। ভদ্রভাবে তাকে জিজ্ঞাস করুন। অসুবিধা হলে আলোচনা করুন।

আরো পড়ুন: যৌন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের গুরুত্বপূর্ণ ১০১টি প্রশ্ন উত্তর!

আপনার সন্তান এবং আসবাবে নজর রাখুন

নিজের জিনিস সব সময় সাথে রাখুন। সিট ছেড়ে উঠতে হলে সহযাত্রীকে নজর রাখতে আন্তরিকভাবে অনুরোধ করুন।

বেশি পান করবেন না

পানি বা যে কোন পানীয় প্রয়োজন মতো গ্রহণ করুন। মনে রাখবেন, বিমানে খাবার-পানীয় পর্যাপ্ত মজুদ থাকে, এসব ফুরিয়ে যাবে না।

আরো পড়ুন: পরকীয়াতে মহিলারাই বেশি উপভোগ করেন, দাবি সমীক্ষায়!

হাতল নিয়ে বিবাদে জড়াবেন না

হাত রাখা নিয়ে তর্কে না জড়িয়ে আলোচনা করুন। তবে সাধারণত, মাঝখানের সিটের যাত্রী এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকায় পায়।

জোর করে পরিচিত বা আলোচনা করবেন না

একা ভ্রমণে অস্বস্তি লাগলেও জোর করে অন্যের সাথে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা না করাই ভালো। কেউ আগ্রহী না হলে আলোচনা ওখানেই শেষ করে দিন।

হাঁটাচলায় সতর্ক থাকুন

এয়ারহোস্টেজরা নানা প্রয়োজনে আসা-যাওয়া করেন। সিটের দুই সারির মাঝে জায়গা থাকে খুবই সামান্য। হাতলে রাখা আপনার হাত তাদের গায়ে লাগতে পারে। টয়লেটে যাওয়া-আসার সময় সতর্ক থাকুন, যাতে অন্য যাত্রী বা এয়ারহোস্টেজের সাথে ধাক্কা না লাগে।

ওয়াশরুম ব্যবহারে যত্নবান হোন

অযথা টয়লেটে (Lavatory) বেশি সময় ব্যয় করবেন না। কারণ অন্য যাত্রীর হয়তো জরুরী প্রয়োজন থাকতে পারে। কমোডে কিছু ফেলবেন না। টয়লেট ব্যবহারের পর অবশ্যই ফ্লাশ করুন। কমোডের পেছনে ব্যবহারবিধি চিহ্নসহ লেখা থাকে।

ভুলেও টয়লেটে ধুমপান করবেন না। বিমানের টয়লেট এয়ারটাইট। তাই সিগারেটের দুর্গন্ধ অন্যদের জন্য অস্বস্তির কারণ হবে।

আরো পড়ুন: কিভাবে চিনবেন অধিক চাহিদার যৌন আবেদনময়ী মেয়ে?

ট্রানজিটে সময়মতো রিপোর্ট করুন

আপনি হয়তো কোনো দূরদেশে যাচ্ছেন। মাঝখানে কোনো বিমানবন্দরে বিমান বদলাতে (ট্রানজিট) হবে। এ ক্ষেত্রে বিমান থেকে নামার পর দেখে নিনি পর্যাপ্ত সময় আছে কিনা। তা না হলে এদিক সেদিক না ঘুরে দ্রুত পরবর্তী বিমানের জন্য কাউন্টারে রিপোর্ট করুন। কানেক্টিং ফ্লাইটের জন্য আপনাকে নতুন করে বোর্ডিং কার্ড নিতে হবে।

‘বোম আছে’, ‘উড়িয়ে দেব’ এমন কৌতুক কখনোই নয়

‘বোম আছে’, ‘উড়িয়ে দেব’ এমন কৌতুক কখনোই নয়

বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে নিরাপত্তা নিয়ে কৌতুক করতে যাবেন না। ‘বোমা আছে’ বা ‘উড়িয়ে দেব’ এমন কৌতুক কখনোই নয়। এর পরিণামে বিমানযাত্রা বাতিল তো হবেই, এমনকি কারাভোগও করতে হতে পারে। সম্প্রতি সঙ্গে বোমা আছে এমন কৌতুক করে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন নাগরিক দেশটিতে কারাভোগ করছে। একটি বিষয় মনে রাখা বিশেষ প্রয়োজন, বিমানবন্দরে আপনি হয়তো কৌতুক করার মুডে আছেন কিন্তু নির্দিষ্ট নিরাপত্তাকর্মী তাঁর কাজ নিয়ে উদ্বিগ্ন। আর ওই কাজের অন্যতম একটি হলো কোনো অবস্থাতেই বিমানে বিস্ফোরক কোনো বস্তু ওঠাতে না দেওয়া। 

আরো পড়ুন: রসুনে ৪০টির ও বেশি উপকারিতা

লাগেজে তরল পদার্থ বহনে নিয়ম মানুন 

বিমানে চলাচলের ক্ষেত্রে লাগেজের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি শ্যাম্পু, সুগন্ধিসহ তরল পানীয় বা অন্য কোনো পদার্থ বহন করা যায় না। কোনো লাগেজ বেল্টে ওঠানোর পরও এর মধ্যে তরল থাকলে তা ধরা পড়ে। তখন বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা ওই লাগেজ খুলে সব মালপত্র বের করে তরল পদার্থের বোতলটি পরীক্ষা করবেন। পরিমাণে বেশি মনে হলে এটি ফেলেও দিতে পারেন তাঁরা। এই প্রক্রিয়ায় সময় নষ্ট হওয়ায় লাইনে থাকা অপর যাত্রীদের মধ্যে আপনার প্রতি বিরক্তি দেখা যেতে পারে। তাই এমন ক্ষেত্রে লাগেজ বা হাতব্যাগে রাখা তরলের পাত্র ওপরের দিকে রাখতে হবে যেন সহজেই তা বের করে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে দেওয়া যায়। বিমানে তরল ওষুধ বা দুগ্ধপোষ্য শিশুর জন্য কোনো পাত্রে নেওয়া মায়ের দুধের ক্ষেত্রে তরল পদার্থ বহনের নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হয়।

বিমান বন্দরে ঘুমিয়ে পড়বেন না

সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করা হয় না

অনেকেই বিমানবন্দরে নিরাপত্তাকর্মীদের বাধা পার হওয়ার সময় নিজের সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বের করেন এবং সবগুলোই এক্সরে মেশিনে দেন। বিমানবন্দরে সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির পরীক্ষা করা হয় না। ল্যাপটপ বা কম্পিউটার এবং প্লে-স্টেশন, এক্সবক্স বা নিনডোর মতো ক্যাসেট ব্যবহৃত যন্ত্র এক্সরে করার প্রয়োজন হয়। মোবাইল, স্মাটফোন, ট্যাব বা ইরিডারের মতো যন্ত্র এক্সরে করার প্রয়োজন নেই, শুধু নিরাপত্তাকর্মীদের বাধা পার হওয়ার সময় পকেট থেকে বের করে দেখালেই হলো।

আরো পড়ুন: ভূমিকম্পের আগে পরে করণীয় ও ১২টি বিস্ময়কর তথ্য

টিকিট দেখুন

বিমানের টিকিটটি খেয়াল করুন। আপনি কোন লাইনে দাঁড়াবেন, কাউন্টার নম্বর কত, কত নম্বর টার্মিনালে যেতে হবে, আপনার সিট নম্বর সবই কিন্তু উল্লেখ করা আছে। ভালোভাবে দেখে নির্দিষ্ট স্থানগুলোতেই যান। না হলে ভোগান্তিতে পড়বেন।

নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে ঝামেলায় গিয়ে লাভ নেই

কোনো মালপত্র নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে ঝামেলায় গিয়ে লাভ নেই। আগেরবার বিমানযাত্রায় কেউ ‘না’ করেনি এবার কেন নিষিদ্ধ করা হলো—এমন কোনো ঝামেলায় গিয়ে শুধু সময়ই নষ্ট হবে। কারণ আপনার বিমান ধরার তাড়া, আর নির্দিষ্ট কর্মীদের হাতেই ওই সময় সব ক্ষমতা। যতটা সম্ভব আপসে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলুন এবং নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দেশমতো কাজ করুন।

কুকুর

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কুকুর থেকে সাবধান

পোষা প্রাণী পছন্দ করেন। কুকুর, বিড়াল বা এমন গৃহপালিত প্রাণী দেখলেই আদর করেন। তবে বিমানবন্দরের কাজে ব্যবহৃত কুকুরের বিষয়ে এমন মনোভাব দেখাবেন না। এই কুকুরগুলো বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তাই আপনার আদর বোঝার চেয়ে আপনাকে সন্দেহ করে বসতে পারে। সে ক্ষেত্রে মাদকের সন্ধানে নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে নাজেহাল হওয়ার আশঙ্কা আছে।

নিরাপত্তাকর্মীদের পার হওয়ার সময় অস্বাভাবিক আচরণ নয়

নিরাপত্তাকর্মীদের সামনে দিয়ে পার হচ্ছেন। কর্মীরা ধাতব শনাক্তকরণ যন্ত্র দিয়ে শরীর খুঁজে দেখছে। এমন সময় জ্যাকেট বা প্যান্টের পকেটে হাত দেওয়া ঠিক নয়। নিরাপত্তাকর্মীরা অস্ত্র বা অন্যকিছু আছে বলে ভেবে বসতে পারেন। এমন ক্ষেত্রে হাত দুটি ওপরের দিকে তুলে রাখা বাঞ্ছনীয়। আর অন্যান্য স্থানের চেয়ে বিমানবন্দরে ব্যক্তির কাপড়চোপড়ে ধাতব কোনো বস্তুর অস্তিত্ব খোঁজায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আরো পড়ুন: সন্তান জন্মে আর পুরুষের দরকার নেই!

বিমানবন্দরে বা বিমানে সানগ্লাস পরবেন না

বিমানবন্দরে প্রবেশ ও বিমানে ওঠার পর সানগ্লাস না পরাটাই ভালো। অনেক ক্ষেত্রে কোনো স্থান থেকে পালানো বা চেহারা লুকোনোর ক্ষেত্রে সানগ্লাস ব্যবহৃত হয়। বিমানবন্দরে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে শীর্ষ সন্ত্রাসী বা রাষ্ট্রীয় নির্দেশে আটকের জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকা ও ছবি থাকে। বিমানবন্দরে থাকা যাত্রীদের সঙ্গে এসব চেহারা মেলানোর চেষ্টা করেন নিরাপত্তাকর্মীরা। তাই সানগ্লাসে চেহারা ঢেকে রাখলে নিরাপত্তাকর্মীদের সন্দেহ হতে পারে।

লাইনে দাড়ান

লাইন ভাঙবেন না

নিরাপত্তাকর্মীদের বাধায় নির্দিষ্ট লাইন থাকে। ওই লাইন ধরে সেখানে আগাতে হবে। মনে রাখবেন লাইনে দাঁড়ানো সবারই তাড়া আছে। তাই, এই লাইন ভেঙে ভিন্নপথে সামনে আগানোর চেষ্টা করে অনেকেরই বিরক্তির কারণ হতে পারেন।

উচ্চ শব্দে ভিডিও দেখা বা গেম খেলা নয়

ফ্লাইট ছাড়ার আগে কিছু সময় পেয়েছেন। এই সময় কাটানোর জন্য গান, ভিডিওগান বা গেম ছাড়লেন। তবে অবশ্যই এর শব্দ কমিয়ে রাখবেন যেন অন্য কেউ এর দ্বারা বিরক্ত না হয়। আর এসব ক্ষেত্রে ইয়ারফোন ব্যবহার করবেন না, কারণ এতে বিমানবন্দরে ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এড়িয়ে যেতে পারে।

আরো পড়ুন: সুখী হতে কি টাকা লাগে? এই ৪০টি সিম্পল উপায় দেখুন!

মেজাজ হারানো যাবে না

বিমানবন্দরে রাগান্বিত হওয়ার মতো অনেক ঘটনাই ঘটতে পারে তবে মেজাজ হারানো যাবে না। বিমান দেরি হওয়ার কারণ নিয়ে বিমানবন্দরের কর্মীদের সঙ্গে রাগারাগি করে কোনো লাভ নেই।

বিমানবন্দরের নারী কর্মীর সঙ্গে খাতির জমানো নয়

বিমানবন্দরের কোনো নারী কর্মী হাসিমুখে কিছু বললেন এর মানে এই নয় যে আপনি তাঁর সঙ্গে খাতির জমাতে পারেন। হাসিমুখে কিছু বলা তাঁর কাজেরই অংশ এবং তিনি প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সঙ্গেই হাসিমুখে কথা বলেন। তাই বাড়তি কথা বলতে গিয়ে বিরক্তির কারণ হতে পারেন।

আরো পড়ুন: গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে কী করবেন? জেনে নিন

অপেক্ষা করতে গিয়ে ঘুমানো যাবে না

প্রচণ্ড ক্লান্ত। বিমান ছাড়তে এখনো ঘণ্টাখানেক বাকি। একটু ঘুমিয়ে নেওয়া যাক- বিমানবন্দরে ঢোকার পর এমন চিন্তা কখনোই করবেন না। একটু ঘুমাতে গিয়ে ফ্লাইট মিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর নির্দিষ্ট ফ্লাইট মিস হওয়া মানে পুরো বিমানযাত্রা প্রক্রিয়া পুনরায় করতে হবে।

মদ্য পান থেকে বিরত থাকুন

মাতাল হওয়া যাবে না

অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মদের তেমন কোনো কড়াকড়ি নেই এবং সেখানে এটি সহজলভ্যও। তবে বিমানবন্দর ও বিমানের মধ্যে কোনোভাবেই মাতাল হওয়া যাবে না। এর ফলে নিজের যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ করার পাশাপাশি অন্যের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারেন।

আরো পড়ুন:

হাতেই রাখুন বোডিং পাস ও পরিচয়পত্র

নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে যাওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়ই বোডিং পাস ও পরিচয়পত্র হাতে নিতে হবে। এতে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে যাওয়ার পর আনুষঙ্গিক কাজ দ্রুত হবে এবং লাইনে থাকা সবাই এতে উপকৃত হবেন।

বেল্ট, ঘড়ি, জ্যাকেট ও জুতা খোলার জন্য তৈরি থাকুন

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে শুধু ১২ বছরের নিচে ও ৭৫-ঊর্ধ্ব বয়সের ব্যক্তি জুতা ও হালকা জ্যাকেট পরেই নিরাপত্তাকর্মীদের বাধা পার হতে পারবেন। অন্য সবার ক্ষেত্রেই জুতা, ঘড়ি, জ্যাকেট ও বেল্ট খুলতে হবে। তাই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়ই এসব খোলার প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। নিরাপত্তাকর্মীদের কাছাকাছি এলে এগুলো খুলে ফেলুন। এতে আপনার কাজও দ্রুত শেষ হবে এবং লাইনও দ্রুত এগোবে।  

আরো পড়ুন: নিজে খাইতে পারো না! বিয়ে করে বউকে কী খাওয়াবা?

সঠিক লাইন খুঁজে নিন

অধিকাংশ বিমানবন্দরে অনেকগুলো লাইন থাকে। কিছু লাইন থাকে নিয়মিত বা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ যাত্রীদের জন্য। আবার বড় পরিবারের জন্যও বিশেষ লাইন থাকে। সঠিক লাইন খুঁজে বের করে দাঁড়ান। ভুল লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহার করে দ্রুত এগোচ্ছে এমন লাইন খুঁজে নিতে পারেন।

নিয়মকানুন

বিমানবন্দরের নিয়মকানুন বারবার পড়ুন

নির্দিষ্ট বিমানবন্দরে নিয়মকানুন বারবার পড়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন। কোন টার্মিনালে যেতে হবে, কোন কোন জিনিস হাতে রাখতে হবে, কী কী কাগজপত্র দেখাতে হবে এই বিষয়গুলো নিয়ে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিন। এতে বিমানবন্দরের কাজ নির্বিঘ্নে শেষ করা যাবে।

ফ্লাইটের জন্য সদা প্রস্তুত

ফ্লাইটের জন্য নির্দিষ্ট গেটে যাওয়ার ঘোষণার ব্যাপারে কান পেতে থাকতে হবে। এমন ঘোষণা শোনার সঙ্গে সঙ্গে নিজের গেট খুঁজে নিতে হবে। আধুনিক এই যুগে সিট নির্দিষ্ট করা থাকলেও বিমানে ওঠার জন্য এই দ্রুততার কারণ সিটের ওপরের কেবিনেটে খালি পাওয়া। কয়েক মিনিটের দেরিতেই দীর্ঘ লাইনের শেষে পড়তে হতে পারে। আর সিটে এসে দেখবেন ওপরের সব ক্যাবিনেট সহযাত্রীদের মালপত্রে বোঝাই।

আরো পড়ুন: শিশুকে মায়ের দুধ পানের বিশেষ কিছু কৌশল ও পরামর্শ

হাসিঠাট্টার মাত্রা বজায় রাখুন

বিমানবন্দরে হাসিঠাট্টার মাত্রা বজায় রাখুন। এখানে অধিকাংশ মানুষই ব্যস্ত। এমন ব্যস্ততার মধ্যে অনেকেই ঠাট্টাকে ভালোভাবে নেবে না। আর নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে ঠাট্টা করতে যাওয়ায় হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

বিমান দেরি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন

বিমানবন্দরে পৌঁছার পর নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখুন, যে কোনো কারণে বিমানের দেরি হতে পারে। বিমানের অপেক্ষায় থেকে খেতে বসেছেন ওই সময় ঘোষণা হলো বিমান ছাড়ার সময় হয়েছে। খুব তাড়াহুড়ো করতে যাবে না। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় গেটের কাছে এসে দীর্ঘ লাইন বা ফ্লাইট ছাড়তে আরো কিছুক্ষণ দেরি হবে।

প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল বিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, বিস্ময়কর পৃথিবী, সচেতনমূলক লেখা, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে  SOMVOB.COM লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

Leave A Reply

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ

অ্যানড্রয়েড ১০: কিভবে ইন্সটল করবেন ও সকল ফিচার সমূহ!

অ্যানড্রয়েড ১০ নিয়ে লিখেছেন, কাজী মাহফুজ » দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সামনে এলো অ্যানড্রয়েড ১০-এর আপডেট। প্রাথমিক পর্যায়ে গুগলের একাধিক পিক্সেল মডেলের ফোনে পৌঁছে...

বিশ্বের সবছেয়ে সেরা ডায়নামিক ১০টি কার

প্রতিবছরই বাজারে আসে নতুন গাড়ি। রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জায়গা নিয়ে লড়াইয়ে নামে বিশ্বের নামিদামি গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিগুলো। আসুন জেনে নিই ২০১৪-১৫...

সানি লিওন এর ইতিহাস: সানি লিয়নের ৪০ অজানা তথ্য! ✔️

সানি লিয়ন নামটি শুনলে কেউ নাক সিটকান, আবার কেউ আগ্রহ ভরে তাকান। তবে যত তর্ক-বিতর্কই এই তারকাকে নিয়ে হোক না...

যে ৫টি জঘন্যতম পাপের শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতেই দিয়ে থাকেন

ইচ্ছায় অনিচ্ছায় মুমিনের পাপ হয়ে থাকে। ফলে কেউ নিষ্পাপ নয়। একমাত্র নবী-রাসুলরাই গুনাহ থেকে মুক্ত। পাপ করা থেকে বড় অপরাধ হলো পাপ...

ডাকাতি বিতর্কে; পুলিশের নজরদারিতে প্রিয়াঙ্কা-ফারহান!

‘স্কাই ইজ পিঙ্ক’ সিনেমার প্রিয়াঙ্কা চোপড়া সদ্য প্রকাশিত ট্রেলারের একটি সংলাপের কারণে মহারাষ্ট্র পুলিশের নজরে পড়েছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও ফারহান আখতার!

Related Stories