বিটরুট কি? বিটরুটের উপকারিতা

0
341
বিটরুট

পুষ্টিবিজ্ঞানের তথ্যানুসারে এই কন্দবিশিষ্ট সবজি নিয়ে প্রকাশিত খাদ্য ও ‍পুষ্টিবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে জানানো হয় শরীরে পানির চাহিদা পূরণ করতে ও পুষ্টি যোগান দিতে বিটরুট আদর্শ ভূমিকা পালন করে। আর দাম ও তুলনামূলক কম থাকায় সবারই হাতের নাগালে। এটি প্রতিকেজির মুল্য ১৫০/২০০ টাকার মধ্যে। তবে এলাকা ভেদে দামের তারতম্য হতে পারে। বিটরুটের উপকারিতা অনেক। তাই বিটরুট কি বিটরুটের উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হলো।

সালাদ খেতে অনেকেই ভালো বাসেন। কিন্তু সালাদের শসা-গাজরের সাথে বিট অনেক ক্ষেত্রে উপকারী। নানাবিধ উপকারি উপাদানে পরিপূর্ণ হল বিট। তাই তো নিয়মিত এই রক্তিম সবজিটি খেলে কোনও ক্ষতি তো হয়ই না, বরং নানা উপকার মেলে।

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট দূর করে

বিটরুটের উপকারিতা। বিটরুট খেলে কি হয় দেখুন!

বিটরুট শরীরকে ফ্রি রেডিক্যাল এর ক্ষতিকারক হাত থেকে বাঁচায়। শরীরে ফ্রি রেডিক্যাল বিভিন্ন কারণে তৈরি হতে পারে যেমন লাইফস্টাইল‚ স্ট্রেস। এছাড়াও বিভিন্ন ক্ষতিকারক কেমিক্যালের সংস্পর্শে এলে ফ্রি রেডিক্যাল তৈরি হয়। নিয়মিত ধূম পানের থেকেও এটা হতে পারে। এর ফলে ক্যান্সার‚ আর্থারাইটিস এবং অ্যালঝাইমারস ডিজিজ হতে পারে। বিটে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকায় ফ্রি রেডিক্যাল এর ক্ষতিকারক দিক থেকে শরীরকে বাঁচায়। ফলে এই সবজি নিয়মিত খেলে বিভিন্ন রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যায়।

হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে

বিটের অন্দরে থাকা ফাইবার, শরীরে উপকারি কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করার মধ্যে দিয়ে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা যেমন কমায়, তেমনি টাইগ্লিসারাইডকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চলে আসে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। প্রসঙ্গত, বিটে উপস্থিত বিটাইন নামক এক ধরনের পুষ্টিকর উপাদান ধমনীর কর্মক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অ্যাথেরোস্কেলেরোসিসের আশঙ্কাও কমায়।

ডিপ্রেশন দূর করে

শীতে বিট জুসই হতে পারে সেরা প্রাকৃতিক ওষুধ। ডিপ্রেশন দূর করতে বিটের মত উপকারি উপাদান খুব কমই আছে। মন ভালো না থাকলে খান বিটের শরবত। এতে থাকা বিটেইন ও ট্রিপটোফোন নামক উপাদান মন ভালো রাখতে সাহায্য করে।

প্রেগনেন্সির সময় খাওয়া প্রয়োজন

বিটরুটের উপকারিতা। বিটরুট খেলে কি হয় দেখুন!

ভিটামিন বি এবং ফলেটে পরিপূর্ণ এই সবজিটি যদি ভাবী মায়েরা প্রতিদিন খান, তাহলে বাচ্চার স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটতে শুরু করে। ফলে জন্মানোর আগে বা পরে নবজাতকের কোনও ধরনের শারীরিক সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা কমে। প্রসঙ্গত , গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে ফলেটের ঘাটতি দেখা দিলে বাচ্চার নানাবিধ নিউরাল প্রবলেম হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই তো এই বিষয়টি নজরে রাখা একান্ত প্রয়োজন।

আরো পড়ুন: জাম্বুরার পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখে

বেশ কিছু স্টাডির পর একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে স্কিন, লাং এবং কোলোন ক্যান্সারকে দূরে রাখতে বিট বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে বিটের শরীরে থাকা বিটাসায়ানিনস নামে একটি উপাদান, মানব দেহে ক্যান্সার সেলকে জন্ম নিতে দেয় না। সেই সঙ্গে ম্যালিগনেন্ট টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমায়।

লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়ায়

মাঝে মধ্যেই কি মদ্যপান করার অভ্যাস আছে? উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে তো রোজের ডায়েটে বিট থাকা মাস্ট! কারণ এই সবজিটিতে বিটেইনস নামক একটি উপাদান থাকে, যা কিডনি ফাংশনের উন্নতি ঘটাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ায়

বিটরুটের উপকারিতা। বিটরুট খেলে কি হয় দেখুন!

বিটের অন্দরে থাকা ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট একদিকে যেমন শরীর থেকে সব টক্সিক উপাদানদের বের করে দিয়ে নানা জটিল রোগকে দূরে রাখে, তেমনি ফুসফুসের শক্তি এতটাই বাড়িয়ে দেয় যে বায়ু দূষণের মাঝে থেকেও লাং-এর কোনও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। সেই সঙ্গে অ্যাস্থেমার মতো রোগও দূরে পালায়। 

আরো পড়ুন: স্ত্রী ব্রা খুললেই স্বামী হওয়া যায় না!

দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়

সারা দিন কি বন্ধু কম্পিউটারের সামনে থাকতে হয়? তাহলে তো রোজের ডায়েটে বিট থাকা মাস্ট! কারণ এর মধ্যে থাকা বিটা-ক্যারোটিন এবং ভিটামিন এ, ম্যাকুলার ডিজেনারেশন তো আটকাই, সেই সঙ্গে রেটিনার ক্ষমতা বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। এখানেই শেষ নয়, ছানির মতো রোগকে দূরে রাখতে বিটের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

এনার্জির ঘাটতি দূর করে

আমাদের শরীরে এনার্জির ঘাটতি মেটাতে কার্বোহাইড্রেটের প্রয়োজন পরে। আর এই উপাদানটি প্রচুর মাত্রায় রয়েছে বিটে। তাই তো সবজি খাওয়া মাত্রা শরীর চাঙ্গা হয়ে ওঠে। প্রসঙ্গত, একটি স্টাডিতে দেখা গেছে নিয়মিত বিটের রস খেলে অক্সিজেন গ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরের প্রতিটি অঙ্গের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্য়ে দিয়ে সার্বিকভাবে শরীরের সচলতা বৃদ্ধি পায়।

স্ট্রোকের আশঙ্কা কমায়

একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়েছে যে শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি হলে স্ট্রোকের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই তো শরীরে যাতে এই খনিজটির ঘাটতি কখনও না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর এ কাজে সাহায্য করতে পারে বিট। কারণ এই সবজিটি পটাশিয়াম সমৃদ্ধ।

তাই তো প্রতিদিন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বিটরুটের নানা পদ খাওয়ার প্রয়োজন। শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে স্বাভাবিকভাবেই সোডিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিক লেবেলে চলে আসে। ফলে ররক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেই সঙ্গে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারি শিরা-ধমনীতে ব্লাড ক্লট হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্ট্রোকের আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

আরো পড়ুন: এমন ২০টি খাবার, যা আপনার যৌনশক্তিকে দ্বিগুণ করবে!

কর্মক্ষমতা বাড়ায়

শরীরকে সুন্দর এবং ফিট রাখার জন্য রোজ জিম করেন। এখন থেকে তার সঙ্গে খান বিট। এটি পেশীর শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও খুব তাড়াতাড়ি এনার্জি আনতে খেতে পারেন বিটের রস। জিমের পর খুব ক্লান্ত লাগলে খেয়ে নিন একগ্লাস বিটের রস। মুহূর্তে এনার্জি আসবে।

প্রতিদিনের আপডেট সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গেই থাকুন: প্রতিদিনের স্বাস্থ্য টিপস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here