বর্ডার ক্রস বাইক কেনার আগে মোটরসাইকেল সকল টিপস পড়ুন

312
বর্ডার ক্রস বাইক

অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে, যে বর্ডার ক্রস বাইক কেনা কি ঠিক হবে ? অনেকেই লোভের কারনে বা অন্যের প্ররোচনায় কিনে ফেলেন বর্ডার ক্রস বা চোরাই বাইক, এবং তারপরেই শুরু হয় তাদের জীবনের এক নতুন দুঃস্বপ্নের অধ্যায় ।

বর্তমানে বাংলাদেশ এর তরুণ এবং মধ্য বয়সী লোকেদের পছন্দের যাতায়াত ব্যবস্থার আকর্শনীয় ব্যাবস্থা হচ্ছে মোটর সাইকেল। বাংলাদেশের তরুন সমাজে এটি ব্যপক ভাবে জনপ্রিয়। এবার আসা যাক মূল কথায়।বাংলাদেশ সচারাচর তার পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে বাইক এনে থাকে। বাংলাদেশ সরকার (BRTA) এর অনুমোদন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫০ সিসি পর্যন্ত বাইক চলাচল এর অনুমোদন দিয়ে থাকে।

কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ীক ও জনগণ অবৈধ ভাবে বেশি ১৫০সিসি এর মোটরসাইকেল অথবা ১৫০সিসি এর মদ্ধেই কিছু বাইক যেগুলো এর জন্য ট্যাক্স দেওয়া হয় নি এবং বাংলাদেশ সরকার এর খাতায় এসব বাইক এর কোন হিসেব নেই।বর্তমানে বাংলাদেশে যে সব বর্ডার ক্রস বাইক দেখতে পাওয়া যাই Pulsar 180.pulsar 200NS.Pulsar 220F,Yamaha Fazer,Yamaha YZF R15 V.2 এবং এর চেয়ে বেশি সিসি বাইক ও সাধারণত চোখে পড়ে কিন্তু বর্ডার ক্রস এর মদ্ধে এগুলোই জনপ্রিয়।

বর্ডার ক্রস বাইক নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতা ও কিছু সতর্কবাণী

আমার প্রথম বাইক Yamaha Fazer 2011 কেনা, রেজিস্ট্রেশন,এবং বিভিন্ন জিনিস সহ খরচ প্রাই ৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার কাছা কাছি।তখন আমার ই একজন পরিচিত Yamaha YZF R15 কালো বাইক টি চালাত এবং আমি জানতাম সেটা অবৈধ ছিল মানে বর্ডার ক্রস।আমি তার কাছে একদিন জানতে চাইলাম আপনার এই বর্ডার ক্রস চালানোর কারন আর বর্ডার ক্রস নিয়ে কোন সমস্য হয় না? তিনি আমাকে সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে দিলেন।

দেখো তোমার Fazer কত দিয়ে কিনেছ? আমি বললাম ২ লক্ষ ৫০? সে বলল আমার R15 ১ লক্ষ ২০ দিয়ে কিনেছি আমি বলালাম পুলিশ অথবা ডিবি আপনার বাইক ধরবেনা? সে বলল না।আরও বলল কেন অযাথা আমি সরকার কে এত টাকা ট্যাক্স দিয়ে ৫ লক্ষ টাকা দিব যেখানে আমি মাত্র ১ লক্ষ টাকায় সেই জিনিস টাই পাচ্ছি।

আমি তার এই কথায় একটু উচ্ছাসিত হয়ে তার কাছ থেকেই একটা Pulsar 220F কিনি মাত্র ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে।অনেক দিন চালিয়েছি কোন ঝামেলা ছাড়াই কিন্তু আমি যার কাছ থেকে এই বাইক টি কিনেছিলাম সে এক্সিডেন্ট করেছিল এবং পুলিশে এসে তার বাইক টি যব্দ করার পর প্রমাণিত হয় এটি ছিল অবৈধ বাইক।

তার কাছ থেকে পুলিশ সব তথ্য বের করেছিল।এবং তার বিক্রিত সকল অবৈধ বাইক যব্দ করা শুরু হয়েছিল এই ঘটনার পর থেকে আমার মদ্ধে সবসময় একটি ভয় কাজ করত ও বড় মানসিক চাপ এ ছিলাম যে আমি যখনই বাইরে বের হব আমার বাইক সহ আমাকেও ধরা হবে।তারপর আমাকে Fazer যেটা আমার বৈধ বাইক ছিল সেটাতেই ফিরে যেতে হয় Pulsar টা গ্যারেজেই পড়ে থাকত এবং প্রতিনিয়ত ভাবতাম কি লাভ হল।

একদিন ডিবি পুলিশ রাতে বাসায় এসে বাইক সহ আমাকেও নিয়ে যাই।এইবার সন্মান এর উপরেও দাগ পড়ল।মানসিকতা টাও খারাপই হয়ে গেল অবশেষে।বাইক টা পরে নিয়ে আনা সম্ভব হয় নি।তবে এটা থেকে একটাই শিক্ষা পেয়েছিলাম বৈধতা মানে গর্ব সাহস ও সন্মান।আর অপরদিকে অবৈধতা হচ্ছে ভয় ভীতি মানসিক চাপ ও সন্মান হানী।

এজন্য বাংলাদেশের প্রতিটি বাইক চালক এর প্রতি আমার অনুরোধ আপনারা আপনাদের কষ্টে উপার্জিত টাকা এই মিথ্যা আশার পেছনে খরচ করবেন না।আমি একসময় যে খারাপ পরিস্থিতি এর শিকার হয়েছি আপনাদের যেন তা না হয়।বৈধতা সবসময় সন্মানীয় ও গৌরবিত তার পরিমান যতই ছোট হোক না কেন। Note: বাইক চালানোর সময় সবসময় হেলমেট ব্যবহার করবেন।কারন আপনার জীবনের মূল্য আপনার চেয়ে তার কাছে বেশি মূল্যবান যে আপনার উপর নির্ভরশীল। Be legal,Be Smart…

বাংলাদেশের বাইক ও বাইকিং নিয়ে আমার স্বল্প অভিজ্ঞতা থেকে আপনাদের কিছু জানাতে চাই এই বর্ডার ক্রস বাইক /অবৈধ বাইক/ চোরাই বাইক নিয়ে।

কেন এই বর্ডার ক্রস/ অবৈধ বাইক/ চোরাই বাইক কিনবেন না ??

বর্ডার ক্রস

১। হ্যা,  বর্ডার ক্রস/চোরাই বাইক আপনারা বাজার মূল্য থেকে অনেক কম দামে কিনতে পারবেন। ৫,০০,০০০ টাকার জিনিস ২,০০,০০০ টাকায় কিনতে পারবেন, কিন্তু কেনার পর থেকে শুরু হবে আইনের হাত থেকে বাচার লড়াই। পুলিশ ধরবে, ডিবি ধরবে, দেখা যাবে যে চোরাই বাইক চালাচ্ছেন সেই বাইক/বাইকের নাম্বার আগে চুরি, ছিনতাই, খুন করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। ৩,০০,০০০ টাকা সেভ করতে গিয়ে ১৫,০০,০০০ টাকা খরচ করলে ও নিস্তার পাবেন না তখন।

২। বাসায় যখন পুলিশ আসবে, পাড়া প্রতিবেশীদের চোখে আপনার মা বাবার সম্মান বাড়বে নাকি কমবে ??

৩। যারা বলে বিআরটি এ থেকে অরিজিনাল কাগজ করে দিতে পারবে, তারা ১০০% মিথ্যা কথা বলছেন আপনার সাথে। কারণ তারা কাগজটা হয়তো নকল করে হুবুহ অরিজিনাল কাগজ এর মতো দেখতে কাগজ আপনার হাতে দিবে যেখানে জড়িত থাকতে পারে খোদ বিআরটিএ এর কিছু ঘুষখোর কর্মকর্তা। কাগজ অরিজিনাল এর মতো দিলে ও বিআরটিএ এর ভলিউম বুকে (যেখানে রেজিস্ট্রেশন এর সব ডাটা থাকে) আপনার বাইকের বিস্তারিত কোন তথ্য থাকবে না। আর কাগজ হাতে দেয়ার পর আপনি কাগজ হাতে দেয়া সেই ব্যক্তি এর কোন হদিসও পাবেন না।

৪। ডিজিটাল ব্লু বুক/ রেজিস্ট্রেশন কার্ড হওয়ার পর তো নকল কাগজ এর প্রশ্নই আসে না।

৫। পুলিশকে আপনারা যতোই গালমন্দ করুন না কেন আপনি মানতে বাধ্য পুলিশ এখন আগের তুলনায় অনেক একটিভ। তাদের ফাকি দেয়ার কথা যদি ভাবেন, তাহলে আমি বলবো আপনার জ্ঞান এর অভাব।

৬। বৈধ/ জমানো কষ্টের টাকা দিয়ে অবৈধ বাইক কিনে রাস্তায় যদি পুলিশের ভয়ে ভয়ে বাইক চালাতে হয়, দুরু দুরু বুকে খালি চোখ খোঁজে সামনে পুলিশের চেক পোস্ট আছে কিনা? সেই বাইক চালানোর চেয়ে না চালানো কি উচিত নয় ??

৭। ভাই আমি গ্রামে থাকি এখানে তো নাম্বার ই লাগে না… বৈধ হলে ও কি অবৈধ হলে ও কি ?? তাদের জন্য >> খবর নিয়ে দেখুন গ্রামে গঞ্জে ও এখন নম্বর বিহীন অবৈধ বাইক চালানো মুশকিল… সেই দিন কি আর আছে ভাই?

৮। ভাই আমি অবৈধ বাইক চালাবো কাক-পক্ষিও টের পাবে না… আপনি ভুল… আপনার অতি ঘনিষ্ট বন্ধুরাই আপনাকে ধরা খাওয়াবে… আর যার থেকে এই অবৈধ বাইক কিনবেন সেই তো আছে আপনাকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য…

৯। ভাই একদম বর্ডার ক্রস প্যাকেট/ নতুন বাইক দিবো। >> আরে ভাই চুরির বাইক এনে বংশাল থেকে যদি কিছু বডি পার্টস চেঞ্জ করে, ভালো মতো সার্ভিসিং করে, মিটার ০ করে আপনার সামনে এনে দেয়। আপনি কি বুঝতে পারবেন? পারবেন না কারণ আপনি চোরের মতো তারাতারি বাইক নিয়ে বাসায় যেতে পারলেই হাফ ছেড়ে বাঁচেন।

১০। আপনি আজ একটা অবৈধ বাইক কিনতেছেন যা হয়তো বা আরেক জন থেকে চুরি করা। একবার সেই বাইকার এর মনের অবস্থা টুকু ভেবে দেখেন তো। কি, কোন ফিল হচ্ছে না তো ?? হবেও না… যতদিন আপনার নিজের বাইক চুরি হবে না…

১১। আপনি একটি বৈধ বাইক ভ্যাট, ট্যাক্স দিয়ে কিনছেন। সেই ভ্যাট, ট্যাক্স কিন্তু ঘুরে ফিরে দেশের কাজেই আসছে। হা অনেকেই বলবেন এতো উচ্চ হারে ভ্যাট, ট্যাক্স দেই যা উচিত না বা সব টাকা দুর্নীতি তে ব্যবহার হয়। আরে ভাই ১০০ টাকার ৯০ টাকা না হয় দুর্নীতি হয়, লুটপাট হয়, ১০ টাকার তো উন্নতি হয়। আমি খুব আশাবাদী মানুষ তাই এই ১০ টাকার উন্নয়ন নিয়ে ও খুশি। এই ১০ টাকার উন্নয়নেই না হয় বৈধ বাইক কিনে অংশগ্রহন করুন।

( জানি অনেকেই এই পয়েন্ট নিয়ে আপত্তি জানাবেন, তারপরও লিখলাম।  আমি নিজে ও বাইকের উপর উচ্চ কর, ভ্যাট এর বিপক্ষে কারণ পুরো পৃথিবী জুড়ে ১৫০ সিসি এর নিচের বাইক গুলোকে নিত্য প্রয়োজনীয় যাতায়ত বাহন হিসেবে শুল্কায়ন হয় সেখানে বাংলাদেশে ১৫০ সিসি এর নিচের বাইক গুলোকে বিলাসি পন্য হিসেবে শুল্কায়ন হয়… বড়ই আজব নীতি!!! তাও ভালো, সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হচ্ছে,  “মোটর সাইকেল বানানো, বিক্রি নিয়ে নীতিমালা” তৈরি হচ্ছে যার ফলাফল কমদামে বাইক আগামি ২ বছর এর মধ্যে আমরা পেতে শুরু করবো )

১২। টাকা নিয়ে বর্ডার ক্রস/ অবৈধ বাইক/ চোরাই বাইক কিনতে গিয়ে অনেকেই ছিনতাই এর শিকার হয়েছেন। কেন ?? আরে ভাই সর্ষের মধ্যেই ভূত!! তো আবার “কেন” খুজেন কেন?

তো ভাই কষ্টের টাকায় অন্তত ভাঙ্গাচোড়া, ৫০ সিসি বাইক চালান… মনে অনেক শান্তি পাবেন ঐ সব বর্ডার ক্রস অবৈধ বাইকের মালিক হওয়ার চেয়ে। সর্বদা সাবধানে বাইক রাইড করুন ও হেলমেট পড়ে বাইক চালান।

সেকেন্ডহ্যান্ড বাইক কেনার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখা জরুরী

অনেক কারনেই আমরা সেকেন্ড হ্যান্ড মোটরসাইকেল কিনে থাকি । এই বিষয়টি সচরাচর ঘটে থাকে আমাদের দেশে । যেই কারনই হোক না কেনো সেকেন্ড হ্যান্ড মোটরসাইকেল কেনার আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখা উচিত । সেই বিষয়টি লক্ষ্য রেখে আজকে আমরা আপনাদের সেকেন্ডহ্যান্ড মোটরসাইকেল – কেনার আগে ৫ টি বিষয় লক্ষ্য রাখা উচিত – সে বিষয়ে আলোচনা করব । সেই বিষয়টি লক্ষ্য রেখে আমরা এই বিষয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ন পয়েন্ট আপনাদের সামনে তুলে ধরছি ।

সেকেন্ডহ্যান্ড মোটরসাইকেল – মোটরসাইকেল কন্ডিশন

যখন আপনি সেকেন্ডহ্যান্ড মোটরসাইকেল কিনতে উদ্যোগ নেবেন সর্বপ্রথম যে বিষয়টি লক্ষ্য রাখবেন তা হল মোটরসাইকেলের কন্ডিশন কেমন আছে ? এক্সটার্নাল এবং ইন্টারনাল মেকানিক্যাল কন্ডিশন এর উপর নির্ভর করে মোটরসাইকেলের ব্যবহারের সময়, কতদিন চলবে এবং এর কন্ডিশন এখন কেমন ? এই বিষয়গুলোর মাধ্যমে মোটরসাইকেলের দাম নির্ধারিত করা যায় ।

মোটরসাইকেলেরে কন্ডিশন এবং বাইকটির অবস্থা কেমন তা বোঝার জন্য সব থেকে ভাল আপনি বাইকটির টেস্ট রাইড করে দেখুন । তাই সেকেন্ডহ্যান্ড মোটরসাইকেল কেনার আগে সব সময় বাইকটির টেস্ট রাইড করে দেখুন । নিরাপত্তার জন্য টেস্ট রাইড করার আগে বাইকের মালিককে পিলিয়ন সিটে বসার জন্য বলবেন যাতে করে মালিক কোন বিভ্রান্তির শিকার না হয় ।

এছাড়াও একজন দক্ষ এসিস্টেন্স এবং অবজারভেশনও খুব জরুরী । এর মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন যে বাইকের এক্সটার্নাল বা ইন্টার্নাল কোন সমস্যা আছে কি না । এছাড়া একজন দক্ষ কেউ থাকলে বাইক কেনার সময় আপনাকে অনেক বিষয় সাহায্য করতে পারবে ।

সেকেন্ডহ্যান্ড মোটরসাইকেল – রেস্টোরেশন বা রিপেয়ার কস্ট

প্রতিটি সেকেন্ডহ্যান্ড মোটরসাইকেল বা ইউজড মোটরসাইকেলে কিছুটা হলেও রিপেয়ার খরচ বা রেস্টোরেশন এর কাজ লাগে । অনেক সময় মোটরসাইকেল মডিফিকেশন এর জন্য অনেক খরচ পড়ে যায় । কিন্তু আসলে ইউজড এবং পুরাতন মেশিন হওয়ার কারনে কিছুটা হলেও খরচ করা লাগে ।

তাই টেস্ট রাইড বা ইন্সপেকশন করার সময় এই বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত । ইন্সপেকশন এর সময় দেখে নেবেন কোন পার্টস রিপেয়ার বা রেস্টোরেশন করা লাগবে ।

এসময়ের মধ্যে আপনার হিসাব করা উচিত যে রিপেয়ার, রেস্টোরেশন, মেইনটেন্স কস্ট এবং কাস্টমাইজেশন কস্ট মিলে কত খরচ পড়বে । এই চিন্তার মাধ্যেম আপনার বাজেট সর্ম্পকে আপনি হিসাব রাখতে পারবেন । অতএব এই সব বিষয়গুলো মাথায় রেখে আপনি মোটরসাইকেলের দামাদামি করতে পারবেন ।

সেকেন্ডহ্যান্ড মোটরসাইকেল – মোটরসাইকেল ডকুমেন্ট স্ট্যাটাস

মোটরসাইকেলের মেকানিক্যাল কন্ডিশন এবং রেস্টোরিং কস্ট এর পরে আপনার যে বিষয়টি খোজ নিতে হবে তা হল মোটরসাইকেলের ডকুমেন্ট । সর্বপ্রথম যে বিষয়টি হল মোটরসাইকেলটি রেজিষ্টার করা কি করা না । যদি রেজিষ্টার করা থাকে তাহলে ঠিকভাবে করা হয়েছে কিনা তা পর্যবেক্ষন করা । আর একটি বিষয় শিউর হতে হবে যে আপনার গভমেন্ট ফি এবং চার্জ দেওয়া হয়েছে কিনা এবং কাগজপত্র ঠিক আছে কিনা ।

যদি মোটরসাইকেলটি রেজিষ্টার করা না থাকে তাহলে কতদূর করা হয়েছে এই বিষয় পর্যবেক্ষন করা । যদি বাইকটি রেজিষ্ট্রেশন করার মত ব্যবস্থা না থাকে তাহলে বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ন ব্যপার । সেই ক্ষেত্রে বাইকের বিষয় সব ধরনের রেজিষ্ট্রেশনের ডকুমেন্টস কাগজপত্র দেখা এবং এটি করা উচিত কোন দক্ষ কারোর মাধ্যেম ।

সেই ক্ষেত্রে এই বিষয়টি বেশ বিপদজনক কারন মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়েছে কিন্তু রেজিষ্ট্রেশন করা হয় নি । যার কারনে রেজিষ্ট্রেশন করতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় এবং কাজটি এত সহজও না ।

রেজিষ্ট্রার বা রেজিষ্ট্রার না করা বাইক বিষয় সর্বশেষ কথা হল বাইকের সব ধরনের ডকুমেন্ট ঠিক আছে কিনা তা লক্ষ্য রাখা । এছাড়াও বাইকের ইঞ্জিন এবং চেসিস নাম্বার ঠিক আছে কিনা তা লক্ষ্য রাখা । মনে রাখবেন যদি বাইকের রেজিষ্ট্রেশন না করা থাকে বা বাইকের নাম ট্রান্সফার করা সম্ভব না হয় তাহলে বাইকটি না কেনায় শ্রেয় ।

সেকেন্ডহ্যান্ড মোটরসাইকেল – রিসেল ভ্যালু

যখন আপনি ১০০% শিউর যে মোটরসাইকেলটির ওউনারশিপ, রেজিষ্ট্রেশন এবং মোটরসাইকেল বিষয়ক অন্যান্য ডকুমেন্টসগুলো সবগুলো ঠিক আছে তখন আপনার আর একটি বিষয় খেয়াল রাখা উচিত হল মোটরসাইকেলটির দাম কেমন ।

এছাড়াও যখন আপনি সেকেন্ডহ্যান্ড বাইক কিনবেন তখন আর একটি বিষয় খেয়াল রাখবেন যে সেই মডেলের বাইকের রিসেল ভ্যালু কেমন । এটি আপনাকে বাইকটির বর্তমান মূল্য কেমন তার সর্ম্পকে ধারনা দেবে ।

সেকেন্ডহ্যান্ড মোটরসাইকেল – প্রাইস

অতএব পাঠকেরা সবশেষে যে বিষয়টি হল বাইকটির দাম । অবশ্যই স্পেসিফিক মডেল এবং ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের দাম বর্তমানের মোটরসাইকেলের বাজারে যে দাম আছে তেমন হবে । এছাড়া যখন বায়ার সেকেন্ডহ্যান্ড মোটরসাইকেল কেনার সময় যখন বাইকটির কন্ডিশন, রিপেয়ার কস্ট এবং ডকুমেন্ট স্ট্যাটাস সর্ম্পকে বুঝবে তখন দামাদামি করা সহজ হবে ।

আপনি যখন বাইকটি কিনবেন তখন কোন উইটনেস রাখবেন এবং সেখানে গর্ভমেন্ট ফর্মালিটিগুলো পূরন করে নেবেন ।

অতএব পাঠকেরা এই ছিল সেকেন্ডহ্যান্ড বাইক কেনার আগে পাচটি গুরুত্বপূর্ন বিষয় । যখন আপনি একটার পর একটা তথ্য জোগাড় করবেন বাইকটির বিষয় তখন সহজ হবে আপনার জন্য বাইকটি কেনার জন্য  ।

মোটরসাইকেলের ৬টি সাধারন সমস্যা ও এর প্রতিকার – যা আপনার জানা উচিত

মোটরসাইকেলের সমস্যা ও সমাধান

অনেকেই ভাবেন মোটরসাইকেলের সমস্যা গুলো জটিল । আসলে এমন নয় । আপনি খুব সহজে এই সমস্যা গুলোর সমাধান করতে পারবেন । মোটরসাইকেলের সমস্যা গুলো যা সব ক্ষেত্রে কমন সেগুলো হলঃ

১. ইঞ্জিন হল্টিং

সবাই হয়ত জানেন একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি বাইক না চালানো হয় তাহলে ইঞ্জিন সহজে চালু হতে চায় না । এর পিছনে অনেক কারন রয়েছে । সবথেকে বড় কারন হল ইঞ্জিন পরিমিত পরিমানে ফুয়েল পায় না চালু হওয়ার সময় ।

সিম্পল চোক আপনাকে স্টার্ট করতে সহায়তা করবে । তারপরেও যদি একই ধরনের সমস্যা দেখা দেয় তাহলে আপনার ফুয়েল লাইন চেক করে দেখুন । আর একটি কারন হল খারাপ কোয়ালিটির ফুয়েল যেটি প্রায় সব বাইকার এই সমস্যাটিতে পরেছেন । যদি সেখানেও কোন সমস্যা না থাকে তাহলে স্পার্ক প্লাগ চেক করুন দেখুন স্পার্ক প্লাগ এর অবস্থা কেমন এবং ইঞ্জিন চালু হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমানে স্পার্ক পাচ্ছে কি না । যদি তাও চালু না হয় তাহলে দুঃখের বিষয় হল যে আপনার বাইকের কয়েলে বা ইঞ্জিনে কোন সমস্যা আছে যেটি শুধু মেকানিকের মাধ্যমে ঠিক করা যাবে ।

যদি বাইক রাইডিং এর সময় ইঞ্জিন হল্ট হয় তাহলে বাইকটি নিয়ে আপনি রাস্তার এক পাশে নিরাপদভাবে সাইড করে নেন । তারপর লক্ষ্য করুন যে আপনার ফুয়েল লাইন ঠিক আছে কি না । ফুয়েল এর কোয়ালিটিও এখানে একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয় । যদি আপনি কম সিসি এর বাইক হাই স্পিডে রাইডিং করেন তাহলে আপনার উচিত বাইকটি এর ইঞ্জিনকে কিছুক্ষন এর জন্য ঠান্ডা হওয়ার জন্য  । যদি বাইকটি পয়েন্ট সিস্টেম এর হয় তাহলে প্লাগ এবং যদি বাইকটি সিডিআই ইগনিশেন এর হয় তাহলে লক্ষ্য করুন যে পর্যাপ্ত পরিমানে কারেন্ট পাচ্ছে কি না ।

২. ভাল থ্রোটল রেস্পপন্স না পাওয়া

যদি আপনি থ্রোটল রেস্পপন্স ভাল ভাবে না পান তাহলে কিছু জিনিস চেক করতে পারেন । তখনি আপনার সবার আগে যে কাজটি করতে হবে তা হল বাইকের কার্বুরেটর টিউনিং এবং ইঞ্জিন টিউনিং ঠিক আছে কি না । এছাড়া এয়ার ফিল্টার, ফুয়েল ফিল্টার এবং স্পার্ক প্লাগ চেক করুন । যদি তারপরেও একই ধরনের সমস্যা হয় তাহলে ফুয়েলের কোয়ালিটি কেমন সেটি চেক করুন । এইগুলো সবার আগে চেক করবেন ।

আরো বেশি অব্জারভেশন এর জন্য আপনি স্পার্ক বা সিডিআই বা কয়েল চেক করে দেখবেন যে এগুলো সঠিক পরিমানে স্পার্ক দিচ্ছে কি না । আপনি আপনার বাইকের এক্সিলেরশন ক্যাবল চেক করে দেখতে পারেন । আমরা প্রায় এটি ভুলে যায় কিন্তু বাইরের বাতাস এবং আদ্রতার জন্য ক্যাবল এর ভিতরে জং ধরতে পারে । এছাড়া আপনি বাইকের ক্লাচ প্লেট ঠিক আছে কি না সেটিও চেক করে দেখতে পারেন ।

৩. মোটরসাইকেল ব্রেকিং সমস্যা

আমার মতে বাইকের জন্য এই ব্রেক বিষয়টি সব থেকে বেশি গুরত্বপূর্ন জিনিস । আমার মনে আছে যখন আমি প্রথম কার চালাতে শিখতে গেছিলাম তখন আমার এক আংকেল বলেছিলেন যে তুমি কত স্পিডে কার চালাচ্ছো সেটা বিষয় না বরং কত সুন্দরভাবে তুমি ব্রেক ধরতে পারবা সেটি হল বিষয় । আমাদের দেশে দুই ধরনের ব্রেক রয়েছে বাইকের জন্য । একটি হল ড্রাম ব্রেক এবং আর একটি হল ডিস্ক ব্রেক যেটি হাইড্রোলিক ফুয়েল এর মাধ্যমে কন্ট্রোল করা হয় । প্রথমে ড্রাম ব্রেক নিয়ে কথা বলি । যদি আপনি ব্রেকিং সিস্টেম এ কোন ধরনের সমস্যা ফেস করেন তাহলে ব্রেকের ক্যাবলটি লক্ষ্য করুন ।

যদি ক্যাবলটি পুরাতন হয় তাহলে চেঞ্জ করে ফেলুন । হয়ত ক্যাবলের ভিতরে জং ধরে গেছে  যার কারনে ভাল ভাবে ব্রেক কাজ করছে না । যদি আপনি ড্রাম ব্রেক ব্যবহারকৃত বাইক ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আমার মতে যতটা পারেন কম এগ্রেসিভভাবে বাইক রাইডিং করবেন । অতিরিক্ত ব্রেকিং এর ফলে প্যাড গরম হবে বেশি এবং প্রশস্ত হবে যার ফলে ব্রেক দূর্বল হয়ে পড়বে ।

ডিস্ক ব্রেকে সবার আগে আপনি যে জিনিসটি চেক করবেন তা হল হাইড্রোলিক ফুয়েল যে এটি ভালভাবে ড্রামে পৌছাচ্ছে কি না । শুধুমাত্র সেই ফুয়েল ব্যবহার করুন যেটি বাইক কোম্পানি থেকে বলে দেওয়া হয়েছে । লিভারস এর মধ্যে যে বাকেট আছে সেটিও চেক করে দেখুন । ব্রেক শু প্রতিদিন চেক করে দেখুন ।

৪. ইলেক্ট্রিক্যাল সমস্যা

বর্তমানে এটি কমন সমস্যা বাইকের জন্য । খোলা থাকার ফলে ধুলাবালি এবং বৃষ্টি পড়ে এতে বেশি । ইলেক্ট্রিক্যাল সমস্যা বাইকের জন্য বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করে । ইন্ডিকেটর লাইট থেকে ইঞ্জিন এর হল্টিং সব সমস্যা প্রধানত এই কারনে হয়ে থাকে । এই সমস্যা দূর করার জন্য হয়ত আপনাকে যে কোন ইলেক্ট্রিক ওয়ার কাটতে হতে পারে কিন্তু ওয়ার কাটার সময় খেয়াল রাখবেন যে আপনি সঠিক তার কাটছেন কারন ভুল কানেকশন এর তার কাটলে আপনার বাইক আগুনে লেগে যেতে পারে ।

অবশ্যই চেক করবেন যে তারটি কাটার পর ভালভাবে টেপ করা হয়েছে । আপনার ব্যাটারি প্রতিদিন চেক করে দেখুন । বাইকের কয়েল ঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা চেক করতে ভুলবেন না । কারন এটি আপনার বাইকের পার্ফমেন্স, থ্রোটল রেস্পন্স এবং মাইলেজ এর বিষয় বিরাট বড় ভূমিকা পালন করে । আর একটি কথা অবশ্যই যে আপনি যদি মেকানিকস এর কাছে তারের সমস্যা নিয়ে যান তাহলে অবশ্যই রাতে যাবেন না । দিনের বেলায় কাজ করাবেন যাতে মেকানিক বুঝতে পারে সঠিক তারে কাজ করছে কি না অবশ্য এটি আমার পার্সোনাল মতামত ।

৫. অতিরিক্ত স্পিডে জার্কিং এবং ভাইব্রেশন হওয়া

প্রায় সব বাইকে কিছুটা হলেও ভাইব্রেশন আছে আশা করি আপনারা এটি জানেন । যদি আপনার বাইকে বেশি পরিমান ভাইব্রেশন হয় তাহলে অবশ্যই আপনি কিছু জিনিস লক্ষ্য করে দেখতে পারেন কারন অতিরিক্ত ভাইব্রেশন এর কারনে রাইডিং ক্যাপাবিলিটিতে সমস্যা দেখা দেয় । সর্বপ্রথম আপনি যে জিনিসটি খেয়াল করবেন তা হল যে আপনার বাইকের বডি পার্টস গুলো ভালভাবে জয়েন আছে কি না যদি এটি চায়নিজ ফুল ফেয়ারড বাইক হয় ।

একটি বিষয় অবশ্যই লক্ষ করে রাখবেন যে আপনি যখন সিটে বসবেন তখন দেখে নেবেন যে সিট এর নাটগুলো ভাল লাগানো আছে কি না । সচারচর আমরা এটি চেক করি না কিন্তু এটি আমাদের ভালভাবে রাইডের জন্য গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে । এছাড়াও আপনার উচিত বাইকের সাস্পেনশন এবং শক এব্জার্বার ঠিক আছে কি না । এছাড়াও আর একটি কারন হতে পারে হল চেইন এর কোন সমস্যা । আমার পার্সোনাল মতামত যে যদি আপনি চেইন চেঞ্জ করতে চান তাহলে সর্ম্পূন চেইন সেট চেঞ্জ করুন কারন এর ফলে আপনার চেইন অনেক দিন টিকে থাকবে ।

৬. বেশি ফুয়েল খরচ হওয়া

এখন ফুয়েল বেশি খরচ হওয়াটা বাইকারদের জন্য সব থেকে বড় বিষয় কারন ফুয়েল এর যা দাম । সর্বপ্রথম হল আপনি কেমনভাবে বাইক রাইড করেন । সঠিক সময় গিয়ার শিফটিং এবং রাইডিং একটি নির্দিষ্ট স্পিডে রাইডিং এর ফলে মাইলেজ বেশি পাবেন । সঠিক সময় ইঞ্জিন অয়েল চেঞ্জ করলে ভাল মাইলেজ পাওয়া যায় । কার্বুরেটর এর টিউনিংও বেশ গুরুত্বপূর্ন বিষয় ।

এছাড়া আপনার ক্লাচ প্লেটও চেক করে দেখা উচিত । রেডিয়াস এখানে সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে ফুয়েল কম খরচ হওয়ার বিষয়ে । রেডিয়াসে কম এয়ার প্রেশার ফুয়েল খরচ আরো বাড়িয়ে দেবে । চেইন স্প্রোকেটস, ব্রেক শু সমস্যা, ড্রাম সমস্যা, বিয়ারিং ও এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে ।

আশা করি সেকেন্ডহ্যান্ড মোটরসাইকেল কেনার আগে যে বিষয়গুলো গুরুত্ব রাখতে হবে সে বিষয়গুলো আপনারা পরিষ্কারভাবে বুঝেছেন । ধন্যবাদ আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং শুভকামনা রইল । অতএব সাবধানে রাইড করুন এবং নিরাপদ থাকুন । আবারো ধন্যবাদ সবাইকে ।

Source: bikebd.com

প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল বিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, বিস্ময়কর পৃথিবী, সচেতনমূলক লেখা, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে  SOMVOB.COM লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।