ফুসফুস শক্তিশালী বা পরিস্কার করতে যে খাবার ও ব্যায়াম খুব জরুরী

580

শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে আমরা বাতাস থেকে অক্সিজেন নিই। পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাব হলে ফুসফুসের সমস্যা, হৃদরোগ হতে পারে। তবে নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের মাধ্যমে ফুসফুসকে ভালো রাখা যায়।

লিইক কুটিনহোর পরামর্শ, প্রাতঃরাশ সারার এক বা দুই ঘণ্টার মধ্যে ফুসফুস পরিষ্কার করার প্রয়োজন। ব্রিদিং এক্সারসাইজ করার জন্য পদ্মাসনে বসুন। মেরুদণ্ড সোজা করে বসে নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ছাড়ুন।

শ্বাস গোনার ব্যায়াম

এই ব্যায়ামে ক্রমান্বয়ে প্রশ্বাসের সময় ধীর করে আনতে হয়। মেরুদণ্ড সোজা করে বসুন। চোখ বন্ধ করে পর পর কয়েকবার গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিন। ধীরে ধীরে এর গতি কমে আসবে। প্রথমে প্রশ্বাস ছাড়ার সময় এক গুনবেন, তার পরের বার দুই, এভাবে পাঁচ পর্যন্ত। তারপর আবার নতুন করে এক দিয়ে শুরু করুন। এই ব্যায়ামটি দিনে ১০ মিনিট করবেন। এটি এক ধরনের মেডিটেশন বা ধ্যান। এটি মস্তিষ্ককে সজাগ করে ও মনঃসংযোগ বাড়ায়। মানসিক চাপ কমায়।

শ্বাস প্রশ্বাস ব্যায়ামের উপকারিতা

মুখ বন্ধ করে চটপট নাক দিয়ে ঘন ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার ব্যায়াম এটি। প্রতি সেকেন্ডে তিনবার শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার চেষ্টা করুন। শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার সময়টি সমান থাকবে। এতে বুকের ও বক্ষচ্ছদার মাংসপেশির দ্রুত ব্যায়াম হবে। তারপর কিছুক্ষণ স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিন। ১৫ সেকেন্ডের বেশি নয়। এটি যোগব্যায়ামের একটি কৌশল। এতে ক্লান্তি ঝরে যায় এবং কর্মস্পৃহা ও উদ্যম বাড়ে।

ফুসফুস ভালো রাখা বা শক্তিশালী করার উপায়

okfn8ea

একটি শান্ত নিরিবিলি পরিবেশে বসুন।

চোখ বন্ধ করুন এবং নাক দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস নিন।

শ্বাস নেওয়ার সময় এক থেকে পাঁচ পর্যন্ত গুনুন।

এবার কয়েক সেকেন্ডের জন্য দম আটকে রাখুন।

এবার ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন।

সম্পূর্ণ পদ্ধতিটি অন্তত ছয় থেকে আট বার অনুসরণ করুন।

মানসিক চাপ কমাতে এবং ফুসফুস ভালো রাখতে প্রতিদিন নিয়ম করে এই ব্যায়াম করুন।

কি খেলে ফুসফুস পরিষ্কার হয়

আপেল 

আপেল খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। যুক্তরাজ্যের এক গবেষণায় বলা হয়, সপ্তাহে যারা দুটি থেকে পাঁচটি আপেল খায়, তাদের অ্যাজমা হওয়ার ঝুঁকি ৩২ ভাগ কমে যায়। আপেলের মধ্যে রয়েছে ফ্লাবোনয়েড। এটি শ্বাস নেওয়ার পথকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে, ফুসফুসকে ভালো রাখে।  

গাজর

গাজর বেটা ক্যারোটিন এবং অন্যান্য অ্যান্টি অক্সিডেন্টের জন্য প্রসিদ্ধ। গবেষণায় বলা হয়, বেটা ক্যারোটিন শরীরে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ তে রূপান্তরিত হয়। ফুসফুস ভালো রাখতে গাজর একটি চমৎকার খাবার।

কফি

কতটুকু পরিমাণ কফি পান শরীরের জন্য ভালো- এ নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। তবে কফি কিন্তু ফুসফুস ভালো রাখতে সাহায্য করে, বিশেষ করে ব্ল্যাক কফি। কফি পানের চার ঘণ্টা পর শ্বাসতন্ত্রের কার্যক্রম আরো ভালো হয়। তাই ফুসফুস সুরক্ষিত রাখতে এই কফি পান করতে পারেন।  

রসুন

রসুনের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লামেটোরি উপাদান। দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন ভাইরাসজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধে রসুন ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রসুন অ্যাজমা প্রতিরোধ করে, প্রতিরোধ করে ফুসফুসের ক্যানসারও।  

অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডোর মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এর নাম গ্লুট্যাথাইওয়ান। এর মধ্যে রোগ নিরাময়কারী গুণ রয়েছে। এটি ফ্রি রেডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখে। ফুসফুসকে ভালো রাখতে বেশ উপকারী খাবার অ্যাভোকাডো।

ফুসফুস ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ

পা ফোলা ও ব্যথা আছে বা স্পর্শ করলে ব্যথা হয়

প্রথমত আপনার মনে হতে পারে এটি আপনার ফুসফুসের কোনো ক্ষতি করবে না অথবা ফুসফুসের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। লেহি হসপিটাল অ্যান্ড মেডিক্যাল সেন্টারের রেডিয়েশন অনকোলজির চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রিয়া মেকি বলেন, ‘কিন্তু এটি পায়ের রক্ত জমাটবদ্ধতা ডিপ ভেইন থ্রম্বসিসের লক্ষণ হতে পারে।’ তিনি লাং অ্যাসোসিয়েশন’স লাং ক্যানসার এক্সপার্ট মেডিক্যাল অ্যাডভাইজারি প্যানেলেও চাকরি করেন এবং এটির লাং ফোর্স ইনিশিয়েটিভে কাজ করেন নারীদের ফুসফুস ক্যানসার সম্পর্কে সচেতন করতে ও শিক্ষা দিতে।

এখানকার ঝুঁকি হচ্ছে, এই রক্ত জমাটবদ্ধতা বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে এবং ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে- এ অবস্থাকে বলা হয় পালমোনারি এম্বলিজম। ফুসফুসে রক্তের জমাটবদ্ধতা রক্তপ্রবাহে বাধা দিতে পারে এবং মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

অন্যান্য লক্ষণগুলো হচ্ছে শ্বাসকষ্ট, শ্বাস নিতে সমস্যা এবং বুকব্যথা। অনেকক্ষেত্রে আপনার ফুসফুসের উপসর্গ নাও থাকতে পারে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মেডিক্যাল সেবা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ: যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হার্ট, লাং অ্যান্ড ব্লাড ইনস্টিটিউটের রিপোর্ট অনুসারে, পালমোনারি এম্বলিজমে আক্রান্ত ৩০ শতাংশ রোগী মারা যায়।

শ্বাসকষ্ট হয়

আপনার মধ্যে কিছু সমস্যার কারণ হতে পারে কোল্ড বা ফ্লু। ডা. মেকি বলেন, ‘যদি আপনার ফুসফুস সমস্যা থাকে অথবা যদি আপনি প্রচুর মানসিক চাপে থাকেন কিংবা যদি আপনি জীবনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট মোকাবেলা করেন, তাহলে কোল্ডের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আপনার ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকবে।’ সংকটাপন্ন বা দুর্বল ফুসফুস কার্যক্রমের কারণে ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়া অথবা ব্রংকাইটিস হতে পারে। সমস্যা নির্ণয় করতে মেডিক্যাল পরীক্ষা এবং রিকভার করতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হবে।

সিঁড়ির পরিবর্তে লিফট ব্যবহার করা

যদি আপনার স্বাভাবিক কার্যক্রমের সময় শ্বাস নিতে সমস্যা বা শ্বাসকষ্ট হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী কাশি থাকে (ঠান্ডা লাগা ছাড়া), আপনার ডাক্তার সিওপিডি বা ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজের জন্য টেস্ট করতে পারেন। আমেরিকান লাং অ্যাসোসিয়েশনের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ। যুক্তরাষ্ট্রে ১১ মিলিয়ন লোকের মধ্যে এটি নির্ণীত হলেও অনেকেরই এটি সম্পর্কে ধারণা নেই, বিশেষ করে নারীদের। এছাড়া অনেক লোক মনে করে যে বয়স্কতার কারণে হাঁটার ফলে শ্বাসকষ্ট হয়, কিন্তু এটি বয়স্ক হওয়ার স্বাভাবিক সংকেত নয়।

শ্বাসকার্যের সময় বুকে শব্দ হয়

ডা. মেকি বলেন, ‘আমরা রোগীদের বলি যে যদি আপনি গভীর শ্বাস নিতে না পারেন, আপনার ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন হবে।’ ডাক্তাররা সম্ভাব্য রোগ যেমন- সিওপিডি বা রক্তস্বল্পতা নির্ণয় করতে টেস্ট নিতে পারে (সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণীত হতে পারে)।

ইউরোপিয়ান রেসপিরেটরি রিভিউর গবেষণা অনুসারে, শ্বাসকার্যের সময় বুকে হুইসেল দেওয়ার মতো বা সাঁইসাঁই শব্দ হওয়ার আরেকটি সম্ভাব্য কারণ হচ্ছে বার্ধক্যজনিত অ্যাজমা, যা শৈশবে ডেভেলপ হওয়া অ্যাজমার চেয়ে বেশি তীব্র। প্রকৃতপক্ষে, ৬৫ উর্ধ্ব ১০ শতাংশ লোকের এটি হতে পারে এবং ক্রনিক সাইনাসাইটিস বা দীর্ঘস্থায়ী সাইনাস প্রদাহের মতো অবস্থার কারণে এর তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে।

কোনো উপসর্গ নেই

ফুসফুস ক্যানসার হচ্ছে এমন একটি রোগ যা আপনি কখনো কামনা করবেন না। ডা. মেকি বলেন, ‘কিন্তু ভীতিকর খবর হচ্ছে, প্রথম পর্যায়ে ফুসফুস ক্যানসারের উপসর্গ বিরল বা উপসর্গ দেখা দেয় না বললেই চলে। আমরা সাধারণত হঠাৎ করে প্রথম পর্যায়ের ফুসফুস ক্যানসার খুঁজে পাই।’ যখন একজন রোগীর অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে বুক বা মেরুদণ্ডের এক্স-রে প্রয়োজন হয়, তখন এ ক্যানসার ধরা পড়ে।

সময়ের বিবর্তনে কখনো কখনো হঠাৎ করে অন্যান্য উপসর্গ যেমন- পিঠ ব্যথা, মাথাব্যথা কিংবা অত্যধিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে- প্রায়ক্ষেত্রে এসব শরীরের অন্যস্থানে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার লক্ষণ হতে পারে। এ কারণে যদি আপনি ফুসফুস ক্যানসারের উচ্চ ঝুঁকিতে (আপনার বয়স ৫৫ উর্ধ্ব হলে এবং ধূমপানের ৩০ বছরের ইতিহাস থাকলে), আপনার লো-ডোজ সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে স্ক্রিনিং করানো প্রয়োজন।

কাশির সঙ্গে রক্ত আসে

এই ভীতিপ্রদ লক্ষণটি আপনাকে অবিলম্বে সোজা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে। রক্ত উজ্জ্বল লাল বা অধিক বাদামী এবং মিউকাসযুক্ত হতে পারে। ডা. মেকি বলেন, ‘এটি ফুসফুস ক্যানসারের লক্ষণ হলেও এর মানে এটা নয় যে আপনার ফুসফুস ক্যানসার আছে।

মায়ো ক্লিনিক অনুসারে, ‘অন্য অনেক কারণে কাশির সঙ্গে রক্ত আসতে পারে যেমন- উদরের পেশিতে টান পড়া, দীর্ঘস্থায়ী ব্রংকাইটিস অথবা এমফিসেমা।’ যে কারণেই কাশির সঙ্গে রক্ত আসুক না কেন, একে অবহেলা করা উচিত নয় এবং ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

ফুসফুস পরিষ্কার করার উপায়

রাতে ঘুমানোর আগে আপনি ১ কাপ হার্বাল চা পান করুন। এই চা পানের মাধ্যমে আপনার দেহ থেকে সমস্ত টক্সিন বের হয়ে যাবে যা দেহের জন্য ক্ষতিকর। এই পদ্ধতি মেনে চলার সময় এমন কোন কাজ করা যাবেনা যা ফুসফুসের ওপরে চাপ প্রয়োগ করে।

সকালে নাস্তা করার আগে ৩০০ মিলিলিটার পানির সাথে ২ টি লেবুর রস চিপে পানির সাথে মিশিয়ে পান করুন।

আঙুর বা আনারসের জুস বানিয়ে পান করুন, কারণ এই দুটি ফলের জুসে রয়েছে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমদের দেহের শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার পদ্ধতিকে উন্নত করে।

সকালের নাস্তায় ও দুপুরে খাওয়ার সময়ে খাদ্য তালিকায় রাখুন গাজরের জুস। গাজরের জুস দেহের রক্তে ক্ষারের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।

দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় কলার জুস, নারকেলের শ্বাস, পালংশাক খেতে পারেন কারণ এই খাবারগুলোর মধ্যে আছে পটাশিয়াম যা দেহের বিষাক্ত টক্সিন পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

প্রতিদিনের সকল আপডেট সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গেই থাকুন: প্রতিদিনের স্বাস্থ্য টিপস

সম্ভব ডটকম।