পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগতির ১৫টি বুলেট ট্রেন (ছবিসহ)

0
272
পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগতির ১৫টি বুলেট ট্রেন (ছবিসহ)

এখন দুনিয়ার মন মস্তিষ্ক পড়ে রয়েছে হাইপারলুপের দিকে। হাজার হাজার কিলোমিটার কয়েক মিনিটে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছে মানুষ। বিমান যাত্রাই এর আগে পর্যন্ত সব থেকে দ্রুত যাত্রা ছিল। সেখানেও গতির হের ফের আছে। বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের বিভিন্ন গতি। দূরত্ব অনুযায়ী এবং উচ্চতা অনুযায়ী দ্রুত গতির বিমান আর কম গতির বিমানে তফাত আছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের যাতায়াতের প্রধান সফরসঙ্গী এখনও পর্যন্ত ট্রেনই।

বর্তমানে বাস-প্রাইভেট কার থেকেও স্থলপথে সহজে ও নিরাপদে যাতায়াতের জন্য ট্রেনের বিকল্প নেই। যদিও আমাদের দেশে ট্রেন বলতে আমরা যা বুঝি তার সাথে বাইরের দেশের তুলনা চলে না। সেখানে ট্রেন মানে সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু। কম খরচে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছার জন্য সেখানে ট্রেনের বিকল্প নেই। এসব গতিদানব গুলো অনায়াসেই পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নত দেশের সাধারণ জনগণের মন জয় করে নিয়েছে। চলুন তাহলে পৃথিবীর এমনই কিছু গতিদানব সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

Talgo 350, 217.4 mph or 350 kmph, Spain

Talgo 350, 217.4 mph or 350 kmph, Spain

তালগো হাই স্পিড যাত্রী ট্রেনের স্প্যানিশ প্রস্তুতকারক। তালগো ৩৫০ বা টি ৩৫০ একটি স্প্যানিশ কোম্পানি, পেটেন্টস তালগো (ট্রেন আর্টিকুলডো লিগারো গোইকোচিয়া ওরিওল) দ্বারা নির্মিত একটি খুব উচ্চ গতির ট্রেন। এটি প্যাটেন্টস তালগো এবং বোমারার্ডিয়ার পরিবহন সংস্থার কনসোর্টিয়াম দ্বারা নির্মিত হয়।

আরো পড়ুন: বিশ্বের অবাক করা ২০টি স্থাপত্য ও দর্শনীয় স্থানসমূহ!

ট্রেনটি স্পেনের মাদ্রিদ-বার্সেলোনা এবং মাদ্রিদ-ভ্যালাডোলিড লাইনগুলিতে রেনফি AVE ক্লাস ১০২ উচ্চ গতির ট্রেনের নাম দিয়ে পরিষেবাটিতে প্রবেশ করেছে। এটি প্যাটো নামেও পরিচিত, যার অর্থ স্প্যানিশ ভাষায় ডাক, ট্রেনের সামনে একটি হাঁসের চাকাটির মতো। ট্রেনটিতে ২ টি ড্রাইভিং কেবিন এবং ১২ যাত্রী কোচ রয়েছে এবং আসন প্রিমিয়াম, ব্যবসা, প্রথম শ্রেণীর ইত্যাদি শ্রেণীতে বিভক্ত।

Shanghai Maglev : 267 mph

Shanghai Maglev : 267 mph

পৃথিবীর সর্বোচ্চ গতিসম্পন্ন ট্রেনটি কিন্তু একদম আধুনিকতম নয়। বরং তুলনামূলকভাবে এর ডিজাইন কিছুটা পুরনোই বলা যায়। হিসাবমতে এর টিকেটের দামও অত্যন্ত ব্যয়বহুল। প্রতি রাইডে পার পার্সন প্রায় ৮ ইউএস ডলার করে খরচ পড়ে। আর তারপর এত টাকা ব্যয় করে আপনি পাড়ি দিবেন মাত্র ১৯ মাইল।

আরো পড়ুন: বিশ্বের অবাক করা ২০টি স্থাপত্য ও দর্শনীয় স্থানসমূহ!

হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। এই ট্রেন সাংহাই পুডং ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে লং-ইয়াং মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত যাতায়াতের সুবিধা প্রদান করে থাকে। আর এই দূরত্ব অতিক্রম করতে এটির লাগে মাত্র ৭ মিনিট। এটি ম্যাগনেটিক ল্যাভিয়েশনকে কাজে লাগিয়ে গতি সঞ্চার করে। যার কারণে এর নাম হয়েছে ম্যাগলেভ।

Fuxing Hao CR400 AF/BF: 249 mph

Fuxing Hao CR400 AF/BF: 249 mph

অবাক হওয়ার কিছু নেই। বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গতিসম্পন্ন ট্রেনটিও চায়নার দখলে। এটি বিশ্বের দ্রুততম নন-ম্যাগলেভ ট্রেন, যা কিনা ম্যাগনেটিক ল্যাভিয়েশনকে কাজে না লাগিয়েই এমন তুমুল গতি সঞ্চার করতে সক্ষম। এই ট্রেনটির চাইনিজ নাম হলো, ‘ফুক্সিং হাও’। যেটির অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, ‘নবজীবন’।

আরো পড়ুন: দুবাইয়ের ১০টি অবিশ্বাস্য ও বিলাসবহুল দর্শনীয় স্থান!

এই ট্রেনটির দুইটি ভার্সন আছে। একটির কোডনেম হলো CR400AF এবং ডাকনাম হলো ‘ডলফিন ব্লু’ এবং অপরটির কোডনেম হলো CR400BF এবং ডাকনাম হলো ‘গোল্ডেন ফিনিক্স’। CR দ্বারা এখানে চায়না রেলওয়ে বুঝানো হয়েছে। প্রতিটি ট্রেন ৫৫৬ জন যাত্রী বহন করতে সক্ষম এবং বেইজিং সাউথ থেকে সাংহাই হং কিয়াও স্টেশন পর্যন্ত যাতায়াত করে।

Harmony CRH 380A, 236 mph, China

Harmony CRH 380A, 236 mph or 380 kmph, China

প্রতিটি THSR 700T ট্রেনে ৬৬ টি আসন এবং ১১ টি স্ট্যান্ডার্ড ক্লাস গাড়ি রয়েছে যা ৯২৩ যাত্রীকে বসতে পারে। এই ট্রেনগুলি জাপানে তিনটি প্রধান সংস্থার কনসোর্টিয়াম দ্বারা নির্মিত হয়; কাওয়াসাকি ভারী শিল্প, নিপন শ্যারিও ও হিটাকি।

এটি সাংহাই থেকে নানজিং রুটে অক্টোবর ২০১০ সালে নিয়মিত পরিষেবা যোগ করা হয়েছিল। এটি এখন সাংহাই থেকে হংকং এবং উহান থেকে গুয়াংঝু পর্যন্ত অন্যান্য অনেক রুটের জন্য চীনের অনেক আঞ্চলিক রেলওয়ে দ্বারা ব্যবহৃত হয়। এটি সিআরআরসি কিংডা সিফাঙ্গ কোং লিমিটেড দ্বারা নির্মিত হয় যা পূর্বে সিএসআর কিংডা সিফ্যাং লোকোমোটিক হিসাবে পরিচিত ছিল। রোলিং স্টক কো। লি। (কিছু ওয়েবসাইট এখনও কোম্পানির পুরানো নাম ব্যবহার করছে)।

আরো পড়ুন:বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দৈত্য আকৃতি ৫টি বিমান

ওজন কমাতে কোচ অ্যালুমিনিয়াম খাদ তৈরি করা হয় এবং উচ্চ প্রযুক্তির অনেকগুলি এটি আরামদায়ক, শব্দ এবং কম্পন কমানোর জন্য এবং এটি আরও নিরাপদ করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এটিতে ৪৯৪ জন যাত্রী বহন করতে পারেন। প্রিমিয়ার, বিজনেস, ফার্স্ট এবং সেকেন্ড ক্লাসের মত বিভিন্ন ক্লাস রয়েছে। এটি ট্রেনে বিলাসিতা সুবিধা আছে।

THSR 700T, 186.4 mph or 300 kmph, Taiwan

THSR 700T, 186.4 mph or 300 kmph, Taiwan

টিএইচএসআর ৭০০টি/THSR 700T উচ্চ গতির একাধিক ইউনিট ট্রেন তাইওয়ান হাই স্পিড রেল দ্বারা পরিচালিত।এই ট্রেন ১৮৬.৪ মাইল গতিতে চালানো হয়।এটি ৫ ই জানুয়ারী ২০০৭ তে তাইপেই সিটি এবং কয়সুংয়ের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে, ভ্রমণের সময় কাটাতে সাড়ে চার ঘন্টা থেকে মাত্র ৯০ মিনিট পর্যন্ত।এতে ১২ টি কোচ রয়েছে এবং একটি মাল্টি-ইঞ্জিন সিস্টেম রয়েছে যার মধ্যে ১২ টির মধ্যে ৯ টি ট্রেন বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।

আরো পড়ুন: মন জুড়ানো বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ১৫টি মসজিদ

প্রতিটি THSR 700T ট্রেনে ৬৬ টি আসন এবং ১১ টি স্ট্যান্ডার্ড ক্লাস গাড়ি রয়েছে যা ৯২৩ যাত্রীকে বসতে পারে। এই ট্রেনগুলি জাপানে তিনটি প্রধান সংস্থার কনসোর্টিয়াম দ্বারা নির্মিত হয়; কাওয়াসাকি ভারী শিল্প, নিপন শ্যারিও ও হিটাকি।

Shinkansen H5 and E5: 224

Shinkansen H5 and E5: 224

জাপান এই বছর হাই স্পীড ট্রেন ট্রাভেলের ৫৪ বছর পূর্তি উৎযাপন করছে। ১৯৬৪ সালে হিকারি হাই স্পীড ট্রেন চালু করার মাধ্যমে টোকিও এবং ওসাকার মধ্যেকার ট্রাভেলিং টাইম অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।

H5 এবং E5 শিংকানসেন (Shinkansen) সিরিজের দুইটি দ্রুতগামী নতুন বুলেট ট্রেন। যেগুলোর নাম যথাক্রমে তোহোকু এবং হোক্কাইদো।

The Italo and Frecciarossa: 220 mph

The Italo and Frecciarossa

ইতালির দুই ট্রেন অপারেটর কোম্পানি ‘NTV’ এবং ‘Trenitalia’ এই ট্রেনটির ডিজাইন করে। যেটি ইউরোপের সর্বোচ্চ গতিশীল ট্রেন হিসেবে বিবেচিত।

এই ট্রেন মিলান থেকে ফ্লোরেন্স এবং রোম পর্যন্ত যাতায়াতের সময় অনেক কমিয়ে ফেলেছে। The Frecciarossa অথবা ‘রেড এরো’ সর্বপ্রথম ২০১৫ সালে মিলানের এক এক্সিবিশনে প্রদর্শিত হয়।

Renfe AVE: 217 mph

Renfe AVE: 217 mph

এই ট্রেনটি স্পেনের সর্বোচ্চ গতিশীল ট্রেন। এটি দূর-পাল্লার পথ অতিক্রমের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

সাধারণত বার্সেলোনা থেকে প্যারিস পর্যন্ত যাতায়াত করতে এটি ব্যবহৃত হয়। যাতে সময় লাগে মাত্র ৬ ঘণ্টা।

Haramain Western Railway: 217 mph

Haramain Western Railway: 217 mph

মক্কা-মদিনা হাই-স্পীড ট্রেন লাইন ২৮১ মাইল জুড়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন পবিত্র শহরে বিস্তৃত। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের দিকে এই ট্রেন চালু হয় এবং এবছরের গ্রীষ্মকালে পুরোদমে এর সার্ভিস প্রদান করা শুরু করে।

আরো পড়ুন: বিশ্বের সবছেয়ে বড় জাহাজ; টাইটানিক থেকে ১০গুণ বড়!

পুরো রুট অতিক্রম করতে এই ট্রেনের লাগে প্রায় আড়াই ঘণ্টা, যেখানে গাড়িতে গেলে লাগে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। আশা করা যাচ্ছে যে এই ট্রেনটি বছরে হজ-যাত্রী সহ প্রায় ত্রিশ লক্ষ যাত্রী পরিবহণ করতে সক্ষম হবে।

Deutsche Bahn ICE: 205 mph

Deutsche Bahn ICE: 205 mph

ICE শব্দটির পূর্ণরূপ হচ্ছে, ইন্টার সিটি এক্সপ্রেস। এই ট্রেনটি বার্লিন এবং মিউনিখ এর মাঝে একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ রুটের উপর চলাচল করে। স্পেনের Renfe AVE ট্রেনের মত, জার্মানির সর্বোচ্চ গতিসম্পন্ন এই ট্রেনটিও Siemens এর দ্বারা ডিজাইন করা।

এই ট্রেনটির ডিজাইন এমনভাবে করা হয়েছে যেন অনায়াসেই এটি চ্যানেল টানেলের ভিতর দিয়ে চলাচল করতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে এই ধরণের ট্রেন ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে লন্ডন পর্যন্ত অপারেট করা সম্ভব হবে।

Korail KTX: 205 mph

Korail KTX: 205 mph

যদিও সাউথ-কোরিয়ার হাই-স্পীড রেল নেটওয়ার্ক এতটাও নতুন নয়, কিন্তু তবুও এটি বিশ্বের দ্রুতগতিসম্পন্ন ট্রেনের মাঝে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের শীতকালীন অলিম্পিকের সময় তৈরি হওয়া রুটটি ইঞ্চেওন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের সাথে সংযুক্ত।

আরো পড়ুন: এমন ১০টি অদ্ভুদ প্রাণী যা দেখলে আপনি চমকে উঠবেন!

এই ট্রেনের কল্যাণে ‘স্কি স্লোপস অফ পিওংচাং’ তে পৌঁছাতে ছয় ঘণ্টার পরিবর্তে কেবল মাত্র দুই ঘণ্টা খরচ হয়।

Eurostar e320 and TGV: 200 mph

Eurostar e320 and TGV: 200 mph

গতির দিক দিয়ে এই দুইটি ট্রেন একদম এক। ইউরোস্টার কোম্পানির ২২ বছরের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে যে, e320 সিরিজ হলো এই কোম্পানির সর্বপ্রথম টিপ টু টেইল রিডিজাইন মডেল। এই নতুন ডিজাইনের ট্রেন আগের ডিজাইন e300 থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার বেশি দ্রুতগামী। এর দ্রুতগামীতা এবং দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যের জন্য এই ট্রেন গ্রাহকদের মনে অন্যরকম জায়গা করে নিয়েছে।

আরো পড়ুন: চোখ ধাঁধানো বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ২৫টি সেতু !

Thalys: 186 mph

Thalys: 186 mph

আমস্টারডাম, ব্রাসেলস এবং প্যারিস কে একসাথে সংযুক্ত করার জন্য এই ট্রেন লাইনটি ব্যবসা এবং ট্যুরিজমের ক্ষেত্রে ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ট্রেনলাইন হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০১৫ সালে জার্মানির রুটটি ডরমুন্ড পর্যন্ত প্রসারিত করা হয়।

গতির দিক থেকে অন্যান্য ট্রেনের কাছে পিছিয়ে থাকলেও উন্নতমানের রুটের সহায়তা নিয়ে এই ট্রেনটি যাত্রীদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। যার ফলে, গ্রাহকের সময় যেমন বাঁচে তেমনি যাতায়াতও আরামপ্রদ হয়।

প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে প্রতিদিনের স্বাস্থ্য টিপস লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here