পিরিয়ড বা মাসিক নিয়ে আপনার প্রশ্নের ১০১টি সমাধান ✅

280
পিরিয়ড বা মাসিক

মাসিক সংক্রান্ত বিবিধ বিষয় মাসিক বা পিরিয়ড নারীর জীবনের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। নারীদের প্রজনন প্রক্রিয়ায় প্রভাবকারী একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হচ্ছে মাসিক।

পিরিয়ড/ মাসিক/ মিনস/ ঋতুস্রাব/ মেন্সট্রুয়াল সাইকেল সৃষ্টিকর্তা কতৃক নির্ধারিত, নারী চরিত্রের প্রকৃতিপ্রদত্ত একটি নিয়ম। এই স্বাভাবিক বিষয়টিকে সমাজে ট্যাবু করে রাখা হয় যার ফলে তৈরি হয় নানান ভুল ধারণা। এর জন্য অন্যতম কারণ ‘অজ্ঞতা’।

এই অজ্ঞতার কারণে একজন নারীকে অনেক লজ্জাজনক এবং অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। খুব দুঃখের বিষয়  হলেও সত্যি যে, অধিকাংশ মেয়েরাই এর খুঁটিনাটি জানেন না। এ সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা দিতেই আজকের এই লেখা।

আজকে আলোচনার বিষয় সমূহ:
মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ,মেয়েদের মাসিক বন্ধ হলে করণীয়,মেয়েদের মাসিকের ছবি,মাসিক হওয়ার দোয়া,মেয়েদের প্রথম মাসিক,মাসিক পূর্ববর্তী লক্ষণ,মাসিক না হলে কি বাচ্চা হয়,মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম,পিরিয়ড কি,পিরিয়ড সমস্যা,পিরিয়ড হলে করণীয়,পিরিয়ড সাইকেল,পিরিয়ড কেন হয়,পিরিয়ড হওয়ার লক্ষণ,পিরিয়ড কম হওয়ার কারণ,পিরিয়ড কাকে বলে,পিরিয়ড হলে করণীয়,পিরিয়ড কিভাবে হয়,
পিরিয়ড কেন হয়,পিরিয়ড সমস্যা,মাসিক কত দিন হয়,মেয়েদের মাসিকের ছবি,মাসিক কিভাবে হয় ভিডিও,ঋতুস্রাব কিভাবে হয় সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো।

« এক নজরে দেখুন এই প্রতিবেদনে কি কি রয়েছে »

পিরিয়ড বা মাসিক কি?

পিরিয়ড কি?

একজন নারীর দেহে কিছু টিস্যু যখন আর প্রয়োজন হয় না,তখন সেসব টিস্যু বিশেষ প্রক্রিয়ায় বের হয়ে যাওয়াই মাসিক বা পিরিয়ড নামে পরিচিত। এই টিস্যুগুলো আসে নারীর জরায়ু থেকে,যেখানে বাচ্চা (ভ্রুণ) মাতৃগর্ভে বড় হয়। প্রতি মাসেই নির্দিষ্ট এক সময়ে জরায়ু লাইন এগ ফার্টিলাইজ করার প্রস্তুতি হিসাবে পাতলা হতে থাকে।

বিস্ময়কর: মৃত প্রিয়জনের সঙ্গে বাস করাই তাদের রীতিনীতি!

কিন্তু এই এগ যখন ফার্টিল হতে পারে না, তখন ওই লাইনিং রক্তের সাথে নারীর জরায়ু থেকে বের হয়ে যায়। প্রতি মাসে নারীদেহের এই বিশেষ প্রক্রিয়াকে মাসিক বা পিরিয়ড বলে।আরো সহজে বললে প্রতি মাসে মেয়েদের জরায়ু যে পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যায় এবং প্রতিমাসে হরমোনের প্রভাবে মেয়েদের যোনিপথ দিয়ে যে রক্ত ও জরায়ু নিঃসৃত তরল পদার্থ বের হয়ে আসে, মাসিক বা ঋতুস্রাব বলে।

তাই যখন কোন নারীর মাসিক হয় তখন তিনি কেবলমাত্র কিছু রক্ত আর এমন কিছু টিস্যু যা তার আর প্রয়োজন নেই,সেসব দেহ থেকে বের করে দেন প্রাকৃতিক নিয়মেই। যখন কোন মেয়ে পূর্নবয়স্ক হয়ে ওঠেন,হয়ে ওঠেন প্রাকৃতিক ভাবে ম্যাচিউরড- তখন থেকেই এই শারিরীক প্রক্রিয়া প্রাকৃতিকভাবেই নিয়মিত হয়ে ওঠে তার জন্য।

পিরিয়ড নিয়ে সামাজিক কিছু ভুল ধারণা

পিরিয়ড নিয়ে সামাজিক কিছু ভুল ধারণা

শারিরীক অস্বস্তির পাশাপাশি নানান রকম কুসংস্কারের কারনে প্রাচীনকাল থেকেই পিরিয়ড মেয়েদের জন্য গোপন ও লজ্জাজনক।

মাসিক হলে ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে না, শরীরে পানি লাগানো যাবে না, চুল ধোয়া যাবে না, বিছানায় শোয়া যাবে না…

এছাড়াও আরো কত কী!! কিন্তু এ সবই ভুল ধারণা। এই সময় ঘরের কোনায় না থেকে বাইরের আলো বাতাসের সংস্পর্শে থাকা উচিত। নিয়মিত গোসল করা ও পরিষ্কার কাপড় পরা উচিত।

এছাড়াও পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে মেয়েরা রান্নাঘরে ঢুকতে পারবে না, আচারে হাত দিতে পারবে না এরকম কিছু ভ্রান্ত ধারণাও প্রচলিত আছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

মাসিক কাকে বলে?

মাসিক কাকে বলে?

প্রতি মাসে একজন মেয়ের শরীর, বিশেষ করে জরায়ু গর্ভধারনের জন্য তৈরি হয়। জরায়ুতে কিছু আবরন তৈরি হয় যা পরবর্তীতে ভ্রুনের জন্য প্রয়োজন।

কিন্তু ওইমাসে যদি গর্ভধারণ না হয় তাহলে জরায়ুর এই আবরন এবং তার সাথে রক্ত বের হয়ে আসে । একেই মাসিক বলে।

ডিম্বাশয়, ডিম্বাশয় হতে বহির্গত হবার নালী (Fallopian tube), জরায়ু, এন্ডোমেট্রিয়াম (Endometrium) এবং যোনির সমন্বয়ে তৈরী প্রজনন অঙ্গ তলপেটে অবস্থিত। মাসিক চক্রের সময় শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোনে আছে এসট্রোজেন এবং প্রজেসটেরোন যা শরীরকে গর্ভবস্থার জন্য তৈরি ও নিয়ন্ত্রণ করে।

সাধারণত, প্রতি ২৮ দিন পরপর ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু নি:সৃত হয়, যা জরায়ুর দুই পাশের নালী (Fallopian tube) দিয়ে জরায়ুর মধ্যে প্রবেশ করে। গর্ভধারণ না করলে, অনিষিক্ত ডিম্বাণু এবং জরায়ুর আবরণ (এন্ডোমেট্রিয়াম) একত্রে প্রত্যেক চক্রে শরীর থেকে ঝরে যায়। একেই মাসিক তৈরী হওয়া বা রজ:স্রাব (Menstruation) বলা হয়।

মাসিক বা পিরিয়ড কেন হয়?

মাসিক বা পিরিয়ড কেন হয়?

যখন একটি মেয়ে ১০-১২ বছর বয়সে পৌঁছে, তখন তার শারীরিক পরিবর্তন শুরু হয়। যেমন- উচ্চতা বাড়ে, মাসিক শুরু হয়, স্তন বড় হয়, বগলে ও যৌনাঙ্গে লোম গজায়। কোমর সরু হয়, উরু ও নিত্মদ ভারি হয়, জরায়ু ও ডিম্বাশয় বড় হয়। এই পরিবর্তন গুলোই হচ্ছে মেয়েদের বড় হওয়ার লক্ষণ।

মাসিক একটি মেয়ের শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা সাধারণত ১০-১৩ বছর বয়সে শুরু হয় এবং স্বাভাবিক নিয়মে ৪৫-৪৯ বছর বয়স পর্যন্ত চলে। তবে কারও ৯ বছর বয়স থেকেও মাসিক স্রাব শুরু হতে পারে । মাসিক স্রাব শুরু হওয়ার প্রথম বছর গুলোতে কিছুটা অনিয়ম হতে পারে এবং তলপেটে ব্যথা হতে পারে ।

যদিও এ বয়স থেকেই মেয়েরা গর্ভবতী হতে পারে, তবুও ২০ বছর বয়সের আগে শরীরের বৃদ্ধি পুরোপুরি না হওয়ার কারণে কম বয়সে গর্ভধারণ একটি মেয়ের ও তার গর্ভের শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।ঋতুস্রাব বা মাসিক কেন হয়

মেয়েদের মাসিক কিভাবে হয়?

মেয়েদের মাসিক কিভাবে হয়?

যে জিনিসটা মেয়েদের প্রতি মাসেই হয় সেটা সম্পর্কে জানাটা জরুরী। আসলে মাসিক বা ঋতুস্রাব মেয়েদের দেহের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে ওঠার লক্ষণ।

সাধারণত ০৯-১৩ বছর বয়সে যে কোন সময় মাসিক শুরু হয় এবং ৪৫-৪৯ বছর বয়সে স্বাভাবিক নিয়মেই মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি মাসেই মাসিক হয়ে থাকে এবং তা ৩ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হয়। মেয়েদের প্রতি ২৪ থেকে ৩২ দিন অর্থাত্‍ গড়ে ২৮ দিন পর পর মাসিক হয়। একে মাসিকচক্র বলে।

কারো কারো ক্ষেত্রে এ ২৮ দিনের চক্রটি কম বা বেশি হতে পারে। মাসিক শুরু হওয়ার দিন থেকেই মাসিকচক্র শুরু হয়।মেয়েরা যখন বড় হয় তখন প্রতি মাসে ডিম্বাশয় থেকে একটি ডিম্বাণু বের হয়ে ডিম্ববাহী নালীতে আসে।

একই সময় জরায়ুতে রক্তে ভরা নরম পর্দা তৈরি হয়। যদি এ সময় যৌনমিলন হয় তাহলে শুক্রাণুর সাথে ডিম্বাণু মিলিত হয়ে ভ্রুণ তৈরি হয়। এই ভ্রুণ রক্তে ভরা নরম পর্দায় গিয়ে বসে ও ধীরে ধীরে বড় হয়ে শিশুতে পরিণত হয়।

যদি শুক্রাণুর সাথে ডিম্বাণুর মিলন না হয়, তাহলে এই পর্দার আর প্রয়োজন হয় না। তখন এই রক্তে ভরা পর্দা ডিম্বাণুসহ মাসিক হিসেবে যোনিপথ দিয়ে বেরিয়ে আসে। কোনো আঘাত বা অসুখের কারণে এই রক্ত পড়ে না।

এ বয়সে একটি মেয়ে যে স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠছে এবং সন্তান ধারণের ক্ষমতা লাভ করেছে, মাসিক তারই প্রমাণ ।

ঋতুচক্রের তিনটি অংশ, প্রথমটি চারদিন স্থায়ী হয় (৪-৭ দিন) এবং একে মিনস্ট্রাল ফেজ, দ্বিতীয়টি ১০ দিন (৮-১০ দিন) একে প্রলিফারেটিভ ফেজ এবং তৃতীয়টি ১৪ দিন (১০-১৪ দিন) স্থায়ী হয় একে সেক্রেটরি ফেজ বলা হয়।

▪মিনস্ট্রাল ফেজ ৪-৭ দিন স্থায়ী হয়। এবং এই রক্তপাতে ভেঙ্গে যাওয়া রক্তকনিকা ছাড়াও এর সাথে শ্বেত কনিকা, জরায়ুমুখের মিউকাস, জরায়ুর নিঃসৃত আবরনি, ব্যাকটেরিয়া, প্লাজমিন, প্রস্টাগ্লানডিন এবং অনিষিক্ত ডিম্বানু থেকে থাকে। ইস্ট্রোজেন এবং প্রজেস্টেরন হরমোনের যৌথ ক্রিয়ার এই পর্বটি ঘটে।

▪প্রলিফারেটিভ ফেজ ৮-১০ দিন স্থায়ী হতে পারে। শুধু ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে এটি হয়। এই সময় জরায়ু নিষিক্ত ডিম্বানুকে গ্রহন করার জন্য প্রস্ততি নেয়।

▪সেক্রেটরি ফেজ টা সবচেয়ে দীর্ঘ, প্রায় ১০ থেকে ১৪ দিন। একে প্রজেস্টেরন বা লুটিয়াল ফেজ ও বলা হয়। এটিও ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন উভয় হরমোনের যৌথ কারনে হয়।

এই সময় নিষিক্ত ডিম্বানুর বৃদ্ধির জন্য জরায়ু সর্বোচ্চ প্রস্ততি নিয়ে থাকে। ডিম্বাশয়ের কোনো ডিম্বানু শুক্রানু দ্বারা নিষিক্ত না হলে জরায়ু আবার মিনস্ট্রাল ফেজে চলে যায়। এভাবেই পূর্ন বয়স্ক মেয়েদের ঋতুচক্র চলতে থাকে।

মাসিকের প্রথম দিন থেকেই ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু তৈরি হতে শুরু করে। মাসিক হওয়ার পরে মেয়েরা প্রজননক্ষম অর্থাত্‍ সন্তান ধারণের ক্ষমতা লাভ করে। মাসিক নিয়ে ভয় বা লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। মেয়েদের মাসিক কেন হয় এই বিষয়ে জানা থাকলে যেকোন মেয়ের মনে মাসিক বিষয়ে অযাচিত ভয় দূর হবে।

মাসিক কখন শুরু এবং শেষ হয়

নারীদের প্রজনন প্রক্রিয়ার কার্যক্রম শুরু হয় সাধারণত: ১০-১৬ বছরের মাঝামাঝি বয়সেকোন কোন মেয়েদের ৯ বছর বয়সে, আবার কারো কারো ১৬ বা তার অধিক বয়সে প্রথম মাসিক হয় বেশির ভাগ মেয়েদেরই ১২ বছর বয়সে মাসিক শুরু হয় যখন রজ:নিবৃত্তি বা মেনোপজ হয় তখন মহিলাদের এই মাসিক স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণত ৫০ বছর বা তার অধিক বয়সে মাসিক বন্ধ হয়ে যায়।

পিরিয়ড হওয়ার লক্ষণ

ছবি: সংগ্রহ ধতু

মাসিকের সময় স্বাভাবিক লক্ষণ

  • ক্ষুধা লাগবে
  • মেজাজখিটখিটে থাকবে
  • হালকা হালকা মাথাব্যথা থাকবে
  • মুখে ব্রণ হওয়ার সম্ভবনা থাকে
  • ঘুমের সমস্যা হতে পারে
  • মাঝে মাঝে বমি ভাব হতে পারে
  • তলপেটে ব্যথা

মাসিকের সময় অস্বাভাবিক লক্ষণ: 

  • মাত্রাতিরিক্ত রক্তপাত
  • ৭ থেকে ১০ দিনের বেশি সময় ধরে রক্তপাত
  • মাসে একাধিকবার মাসিক হওয়া
  • তলপেটে অত্যধিক ব্যথা
  • মাসিক চলাকালীন সময় জ্বর

প্যাড ব্যবহার করার নিয়ম পদ্ধতি (ভিডিও)

প্যাড ব্যবহার করার নিয়ম পদ্ধতি (ভিডিও)

প্যাড ব্যবহারের নিয়ম, কোন প্যাড ভালো?, প্যাডের দাম, স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবসা, স্যানিটারি ন্যাপকিন কোনটা ভাল, প্যাড কিভাবে পরতে হয়, সেনোরা প্যাড এর দাম, স্যানেটারি প্যাড

বাজারে এখন বিভিন্ন ব্র্যান্ড-এর, বিভিন্ন ধরনের স্যানিটারি ন্যাপকিন বা প্যাড পাওয়া যায়। যে ধরনেরই হোক না কেন তা কোনভাবেই দীর্ঘক্ষণ পরা উচিত নয়।

পিরিয়ড-এর প্রথম দুই-তিন দিন একটু বেশী রক্তক্ষরণ হয়, তাই দুই ঘন্টা পরপর প্যাড পরীক্ষা করে দেখা উচিত। যদি প্যাড শুকনো না থাকে অর্থাৎ উপরের অংশে রক্ত ভেসে আসতে দেখা যায় তবে সাথে সাথে তা চেঞ্জ করা উচিত এবং কোনভাবেই চার ঘণ্টার বেশি একটি প্যাড পরা উচিত নয়।

কিন্তু চতুর্থ বা পঞ্চম দিন থেকে রক্তস্রাবের পরিমাণ কিছুটা কমে আসে। এসময় অনেকেই আছেন যারা একটি স্যানিটারি ন্যাপকিন কম ব্লিডিং হয়েছে ভেবে দীর্ঘসময় ধরে ব্যবহার করেন।

এতে করে সেই রক্ত দ্রুত শুকিয়ে সেখানে জীবানুর আক্রমণ হয় যা যোনিপথের সংস্পর্শে এসে চুলকানি, ফোঁড়া, যৌনাঙ্গের নানান রকম অসুখ ও ফাঙ্গাল ইনফেকশন ইত্যাদি সৃষ্টি করে। লোভনীয় বিজ্ঞাপনে প্রভাবিত হয়ে মেয়েরা চব্বিশ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে স্যানিটারি ন্যাপকিন পরে থাকে।

কিন্তু এ ধরনের প্যাড দীর্ঘসময় শুকনো রাখার জন্য ‘সেলুলোজ জেল’ নামক উপাদান ব্যবহার করা হয় যা জরায়ুমুখের ক্যান্সার-এর জন্য দায়ী। তাই এ বিষয়ে নিজ দায়িত্বে সচেতন হতে হবে।

মাসিক দেরিতে হওয়ার কারণ

 মাসিক দেরিতে হওয়ার কারণ

মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ কি কি, অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ, মাসিক হওয়ার দোয়া, মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম, মাসিক না হলে কি বাচ্চা হয়, মাসিক বন্ধ হলে কি করতে হবে,

এক মাসে দুইবার মাসিক হওয়ার কারণ, মাসিক দেরিতে হওয়ার কারণ কি, মাসিক দেরিতে হওয়ার উপায়, পিরিয়ড দেরিতে হলে করনীয়, আই পিল খেলে কি মাসিক দেরিতে হয়, অনিয়মিত মাসিকের ঔষধ, বিয়ের পর অনিয়মিত মাসিক, মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম, তাড়াতাড়ি মাসিক হওয়ার ঘরোয়া উপায়

সাধারণত প্রতি ২৮ থেকে ৩৫ দিন পর পর একজন নারীর পিরিয়ড বা মাসিক হয়ে থাকে। ১২ বছর থেকে ৫৫ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে এমনটিই হয়ে থাকে।

প্রাপ্তবয়স্ক একজন নারীর নিয়মিত ও সময়মতো মাসিক হওয়াটা সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ। তা যদি অনিয়মিত হয়ে পড়ে, তার মানে হয়তো শারীরিক কোনো সমস্যা আছে।

এ ক্ষেত্রে কোনো অসুস্থতা শরীরে ভর করেছে কিনা বা জীবনচর্চায় কোনো ক্ষতিকর অভ্যাস যুক্ত হয়েছে কিনা, তার দিকে নজর দেয়া উচিত। পিরিয়ড দেরি হওয়ার পেছনে সাধারণত যে বিষয়গুলো দায়ী তা জেনে রাখুন-

মাসিক কতটা দেরি হলে তাকে ‘লেট’ বলা যায়?

বেশিরভাগ নারীর মাসিকের চক্র একই থাকে। তবে এক সপ্তাহ দেরি হওয়াটা স্বাভাবিক বলেই ধরা যায়। যেমন একজন নারীর মাসিক হয় ২৫ দিন পর পর। কোনো এক মাসে ৩০ দিন বা ৩১ দিন পর তার মাসিক হতেই পারে। আট দিন বা তার বেশিদিন দেরি হলে তাকে ‘লেট’ বলে গণ্য করতে পারেন।

এক মাসে দুইবার মাসিক হওয়ার কারণ; অনিয়মিত মাসিক বা পিরিয়ডের কারণ সমূহ

এক মাসে দুইবার মাসিক হওয়ার কারণ;  অনিয়মিত মাসিক বা পিরিয়ডের কারণ সমূহ

বেশ কিছু কারণে পিরিয়ড সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে বা দেরি হতে পারে। যেমন-

  • শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের তারতম্যের কারণে এই সমস্যা হয়।
  • বিবাহিত নারীরা হঠাৎ জন্মনিয়ন্ত্রক ওষুধ বন্ধ করে দিলে হতে পারে।
  • বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপের ফলে হতে পারে।
  • শরীরের রক্ত কমে গেলে অর্থাৎ এনিমিয়া হলে অনিয়মিত মাসিক হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
  • অনেকের ক্ষেত্রে ওজন বেড়ে গেলে এই সমস্যা হয়।
  • জরায়ুর বিভিন্ন জটিলতার কারণে হতে পারে।
  • শরীরে টিউমার ও ক্যানসার ইত্যাদি অসুখে হতে পারে।
  • প্রি মেনোপজের সময় হয়ে থাকে।
  • যেসব নারী শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ান সেসব নারীর অনিয়মিত ঋতুস্রাব হতে পারে।

গর্ভাবস্থা: পিরিয়ড দেরি হলে প্রথমেই নিশ্চিত হোন আপনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন কিনা।

বয়স: টিনেজ বয়সী ও মধ্যবয়সী নারীদের মধ্যে অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর পেছনের কারণটি হল হরমোন।

স্ট্রেস: লম্বা সময় স্ট্রেসে থাকলে অনেকেরই মাসিক দেরিতে হতে পারে।

আর্লি প্রেগন্যান্সি লস: একজন নারী গর্ভবতী হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু তা জানতেন না। এর পর নিজে থেকেই তার মিসক্যারিজ বা গর্ভপাত হয়ে যেতে পারে। এ ঘটনায় সাধারণ পিরিয়ডের তুলনায় কিছু দিন পর ভারী রক্তপাত হতে পারে, যাকে অনেকেই দেরিতে মাসিক হওয়া বলে ধরে নেন।

কম ওজন: ওজন কম হলে সময়মতো পিরিয়ড নাও হতে পারে। এমনকি কিছু দিন বন্ধও থাকতে পারে।

ফাইব্রয়েডস: জরায়ুতে টিউমার ধরনের এক ধরনের বৃদ্ধি হল ফাইব্রয়েডস। এগুলো পিরিয়ডের স্বাভাবিক চক্রকে বাধা দিতে পারে।

হরমনাল বার্থ কন্ট্রোল: জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা। যেমন- পিল, প্যাচ, ইনজেকশন, আইইউডি। এগুলো ব্যবহার করলে পিরিয়ড লেট হওয়া বা পরিবর্তন হওয়াটা স্বাভাবিক।

স্বাস্থ্য সমস্যা: মনোনিউক্লিওসিস, ঠাণ্ডা, সর্দি, গলার ইনফেকশন- এ ধরনের সমস্যায় পিরিয়ড লেট হতে পারে। তবে বড় কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন থাইরয়েডের সমস্যা বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের কারণেও পিরিয়ড লেট হতে দেখা যায়।

সুত্র: যুগান্তর

অনিয়মিত পিরিয়ড বা মাসিক নিয়মিত করার দোয়া ও উপায়

অনিয়মিত পিরিয়ড বা মাসিক নিয়মিত করার দোয়া ও উপায়

প্রাপ্তবয়স্ক একজন কিশোরী কিংবা তরুণীর নিয়মিত ও সময়মতো পিরিয়ড বা মাসিক হওয়াটা স্বাভাবিক। তা না হয়ে মাসিক যদি অনিয়মিত হয়ে পড়ে, তখন বুঝতে হবে আপনার শারীরিক কোনো সমস্যা আছে।

এ ক্ষেত্রে কোনো অসুস্থতা শরীরে ভর করেছে কিনা বা জীবনচর্চায় কোনো ক্ষতিকর অভ্যাস যুক্ত হয়েছে কিনা, তার দিকে নজর দেয়া উচিত।

অতিরিক্ত কাজের চাপ, ওজন হ্রাস, থাইয়রেড সমস্যা, মানসিক চাপ, ওভারির সমস্যা, অতিরিক্ত ব্যায়াম, হরমোন ভারসাম্যহীনতা ইত্যাদি কারণে সাধারণত মাসিক অনিয়মিত হতে পারে।

মাসিক অনিয়মিত হলে নারীরা দুশ্চিন্তা শুরু করেন। এটি আরও ক্ষতি করে থাকে।

হঠাৎ আপনার মাসিক অনিয়মিত হয়ে পড়লে সেটিকে নিয়মিত করার উপায়ও আছে। চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করে আপনি মাসিক নিয়মিত করতে পারে। আসুন উপায়গুলো জেনে নিই-

ব্যায়াম

যেসব নারী নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের মাসিকের সমস্যা থাকে না। নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম আছে, সেগুলো করলে অনেক সময় মাসিক হয়ে যায়।

ব্যায়ামের কারণে পেশি বাঁধা পেয়ে থাকে, যার কারণে পেশি সংকোচন শুরু করে, শরীরে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দিয়ে থাকে। ঋতুস্রাব শেষ হওয়ার পর ব্যায়াম করলে পরবর্তী সময়ে সঠিক সময়ে মাসিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

টকজাতীয় ফল

টকজাতীয় ফল যেমন- তেঁতুল, মাল্টা, জলপাই মাসিক নিয়মিত করতে সাহায্য করে থাকে। চিনি মেশানো পানিতে তেঁতুল এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এর পর এর সঙ্গে লবণ, চিনি ও জিরা গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এটি দিনে দুবার পান করুন। এটি আপনার অনিয়মিত মাসিককে নিয়মিত করে দেবে।

আদা

মাসিকের চক্রকে নিয়মিত করতে আদা বেশ কার্যকর। ১ কাপ পানিতে ১/২ চা চামচ আদা কুচি দিয়ে ৫-৭ মিনিট সিদ্ধ করে পানিতে মিশিয়ে নিন। খাবার খাওয়ার পর তিনবেলা এটি পান করুন। নিয়মিত এক মাস এটি পান করুন।

তিল

তিল একটি উপকারী উপাদান। এটি আপনার অনিয়মিত মাসিককে নিয়মিত করতে সাহায্য করবে। তিলের উপাদান হরমোন উৎপাদন করে থাকে। অল্প পরিমাণের তিল ভেজে গুঁড়ো করে নিন। এর সঙ্গে এক চামচ গুড় মিশিয়ে নিন। এটি রোজ খালি পেটে এক চা চামচ করে খান। দেখবেন উপকার পাচ্ছেন।

আপেল সাইডার ভিনেগার

খাবার খাওয়ার আগে ২ টেবিল চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার পানিতে মিশিয়ে পান করুন। এটি রক্তের ইনসুলিন ও ব্লাড সুগার কমিয়ে দিয়ে থাকে, যা মাসিক নিয়মিত করে থাকে।

স্বাস্থ্যকর জীবন

যেসব নারীর মেনোপজের বয়স হয়ে এসেছে, তাদের জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন আরও বেশি জরুরি। কারণ মেনোপজের পর পরই অনেক রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে।

মনে রাখবেন একবার মাসিক দেরিতে হলে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তবে পিরিয়ডের দিকে খেয়াল রাখুন। তিন মাস টানা পিরিয়ড না হলে, বছরে ৯ বারের কম পিরিয়ড হলে বা প্রতিবার পিরিয়ড হওয়ার মাঝে ৩৫ দিনের বেশি বিরতি থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

মা ও স্বামীকে নিয়ে ধূমপান করে সমালোচনার মুখে প্রিয়াঙ্কা

কি করে বুঝবেন মাসিক সংক্রান্ত সমস্যা হয়েছে

পিরিয়ড দেরিতে হলে করনীয়

মাসিক সংক্রান্ত সমস্যা হলে সাধারণত: যে উপসর্গগুলো দেখা দেয় :

বিলম্বিত/দেরিতে মাসিক শুরু হওয়া

স্তনের বিকাশ শুরু হবার ৩ বছরের মধ্যেও মাসিক শুরু না হলে১৩ বছর বয়সেও মাসিক না হলে এবং স্তন বিকাশ ও অন্যান্য শারীরিক পরিবর্তন না হলে১৪ বছর বয়সেও মাসিক না হলে এবং নিচের সমস্যাগুলো দেখা দিলে :যোনির অস্বাভাবিক থুতনি, মুখমন্ডল, ঠোঁটের উপরের অংশে, বুক, স্তনের বোটার চারপাশে এবং তলপেটে বেশি চুল গজালে১৫-১৬ বছর বয়সেও মাসিক আরম্ভ না হলে

অনিয়মিত মাসিকের উপসর্গ

প্রতি ১ অথবা ২ ঘন্টায় কাপড় বা স্যানিটারি ন্যাপকিন একাধিক বার বদলালেআগে নিয়মিত হলেও এখন লক্ষ্যনীয়ভাবে অনিয়মিত হলেখুব তাড়াতাড়ি যেমন ২১ দিনের মধ্যেই মাসিক হলে অথবা খুব দেরিতে যেমন ৪৫ দিনে একবার মাসিক হলে অথবা খুব বেশি যেমন ৪৫ দিনের মধ্যে হলে৭ দিনের বেশি মাসিক স্থায়ী হলে

ব্যথাযুক্ত মাসিকের উপসর্গ

একে ডিসমেনোরিয়া (Dysmenorrhea) বলে। এক্ষেত্রে মাসিকের সময় তলপেট তীব্র ব্যথা হয়।

বিয়ের আগেই গর্ভবতী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া! (ভিডিও সহ)

মাসিকের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়

মাসিকের সময়, মাসিকের আগে অথবা মাসিকের পরে নিচের সম্ভাব্য অবস্থাগুলো দেখা যেতে পারে :

  • .মাসিক পূর্ব সিনড্রম (Premenstrual Syndrome) : এর ফলে মাসিকের পূর্বে মহিলাদের নিম্নলিখিত মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তনগুলো দেখা যায়।

    মাথা ব্যথামাথা ঝিমঝিম করাখিদে না পাওয়াবমি বমি ভাবস্তন ফুলে যাওয়াঅল্পতেই অবসাদ অনুভব করাঘুমের সমস্যাকোন কোন মহিলার ক্ষেত্রে মেজাজের পরিবর্তন হওয়া ও খিটখিটে হয়ে যাওয়া
  • ২. টক্সিক শক সিনড্রোম (Toxic shock syndrome ): সাধারণত:এই সমস্যা খুব কম হতে দেখা যায়। মাসিকের সময় রক্ত শুষে নেয়ার জন্য যে তুলা ব্যবহার করা হয় তা থেকে এই সমস্যা হয়।

    দীর্ঘ সময় ধরে একটি তুলার প্যাড ব্যবহার করা অথবা তুলার রক্ত বা ক্লোরিন অথবা রেয়ন জাতীয় তুলা থেকে এলার্জি জনিত কারণে এই সমস্যা দেখা যায়।

মাসিকের সময় নিজের যত্ন

ক্যালেন্ডার অথবা ডায়েরীতে মাসিক শুরু বা শেষ হবার তারিখ এবং মাসিক পূর্ব সিনড্রম-এর উপসর্গগুলো লিখে রাখতে হবেস্যানিটারি ন্যাপকিন/ প্যাড, কাপড় ব্যবহারের সময় নিচের বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে :সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য প্যাড বা কাপড় পরিবর্তনের আগে ও পরে ভালোমত হাত পরিষ্কার করতে হবে প্রতি তিন বা চার ঘন্টা পর প্যাড পরিবর্তন করতে হবে প্যাডটি অথবা কাপড়টি ভালো করে মুড়ে আবর্জনার মধ্যে ফেলতে হবে। টয়লেটের মধ্যে ফেললে সুয়ারেজ লাইন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ

মাসিকের সময় সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করতে হবে যেমন :

শর্করা সম্বলিত-শস্য, ডাল, শাকসবজি, দই, আলু খেতে হবেআমিষ জাতীয় খাদ্য যেমন : দুধ, ডিম, বাদাম, মাছ ও মাংস খেতে হবে আয়রণ বা লৌহ জাতীয় খাদ্য যেমন-ডিম, সিম, পালংশাক, আলু, কলা, আপেল, গুড়, খেজুর, কালোজাম ইত্যাদি খেতে খেতে হবে।

ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাদ্য যেমন-বাদাম, সয়াবিন, গাঢ় সবুজ শাক সবজি খেতে হবেক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার-দুগ্ধজাত খাবার, দুধ, ডিম, বাদাম (Almond), এবং সয়াবিন খেতে হবেকম লবণযুক্ত খাবার খেতে হবে তাজা ফলের রস পান করতে হবে এবং অতিরিক্ত চা-কফি পান থেকে বিরত থাকতে হবেপ্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করতে হবে।

বিয়ের আগেই গর্ভবতী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া! (ভিডিও সহ)

ত্বকের যত্নে করণীয়

ত্বকের মরা কোষ, ঘাম ও ক্ষতিকর জীবাণু থেকে রক্ষার জন্য দিনে অন্তত দুইবার ভালো সাবান দিয়ে মুখ ধুতে হবে

তলপেট ব্যথা হলে করণীয়

তলপেটে এবং পিঠে গরম পানির বোতল ধরে রাখাতলপেটে হালকা মেসেজ করলে ব্যথা কমে যাবেহালকা ব্যায়াম করাডাক্তারের পরামর্শ মতো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ব্যথার কারণ নির্ণয় ও সেই অনুযায়ী চিকিৎসা করা

মাসিক পূর্ব সিনড্রম কি (Premenstrual syndrome)

সাধারণত ২০ বছরের শেষে এবং ৩০ বছরের শুরুতে মাসিক পূর্ব সিনড্রম দেখা যায়। কোনো মাসে মাসিক পূর্ব সিনড্রম এর ফলে ঘটিত শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনগুলো খুব বেশী ভাবে দেখা যায় এবং কখনও কম দেখা যায়।

হার্ট অ্যাটাক (Heart Attack) এর লক্ষণ ও মুক্তির ৩০টি সমাধান

লক্ষণ ও উপসর্গ

মাসিক পূর্ব সিনড্রম-এর ফলে সাধারণত নিচের লক্ষণ ও উপসর্গগুলো দেখা যায় :

মানসিক ও আচরণগত উপসর্গ

দুশ্চিন্তা ও উদ্বিগ্নতাবিষন্নতাহঠাৎ কেঁদে ফেলামেজাজ উঠা-নামা করা এবং ক্রোধান্বিত হওয়াখাবারে রুচির পরিবর্তন হওয়া (Appetite Changes and food cravings) নিদ্রাহীনতা বা ঘুমের সমস্যা হওয়াসামাজিক কর্মকান্ড থেকে দূরে থাকা (Social withdrawn) অসচেতনতা

শারীরিক লক্ষণ ও উপসর্গ

অস্থিসন্ধি অথবা মাংসপেশীতে ব্যথামাথা ব্যথাঅবসাদশরীরে রস জমে ওজন বৃদ্ধি পাওয়াপেট ফুলে যাওয়া (Abdominal bloating) স্তনে ব্যথামুখে ব্রণ বা একনি বেড়ে যাওয়াকোষ্ঠকাঠিন্য অথবা ডায়রিয়া

কখন ডাক্তার দেখাবেন

উপরোক্ত উপসর্গগুলো মারাত্মক আকারে দেখা দিলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

কি ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে

এক্ষেত্রে তেমন কোন শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন নেই। মাসিক পূর্ব সিনড্রম-এর উপসর্গগুলো জানার মাধ্যমেই ডাক্তার রোগ নির্ণয় করতে পারে।

কি ধরণের চিকিৎসা আছে

সমস্যার ধরণ, মাত্রা এবং রুগীর বয়সের উপর চিকিৎসা নির্ভর করে। চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে:

ডাক্তারে পরামর্ম অনুযায়ী বিষন্নতা রোধী (Antidepressants), ব্যথা নাশক (Nonstcroidal anti-inflammatory) ঔধষ সেবনজন্মরিরতি করণ ঔধষ বা পিল সেবনইনজেকশন গ্রহণ (Medroxy progesterone acetate )

জীবন-যাপন পদ্ধতি

বারে বারে অল্প করে খাবার খেতে হবেখাবারে কম লবণ ব্যবহার করতে হবেশর্করা সমৃদ্ধ খাবার যেমন: ফলমূল, শাকসবজি বেশী করে খেতে হবেআয়রন বা লোহা সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবেক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খেতে হবে।

যদি খাবারে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম না থাকে তাহলে ক্যালসিয়াম ঔষধ সেবন করতে হবেপ্রতিদিন মাল্টিভিটামিন ঔষধ খেতে হবেচা, কফি এবং মাদকদ্রব্য সেবন থেকে বিরত থাকতে হবেপ্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করতে হবে যেমন হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার ইত্যাদি

মানসিক চাপমুক্ত থাকার জন্য করণীয়

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবেপেশী শিথিল করা এবং গভীর শ্বাস গ্রহণের ব্যায়াম করতে হবেযোগব্যায়াম বা ম্যাসাজ করাতে হবেউপসর্গগুলির ধরণ ও সময় লিখে রাখতে হবে যাতে পরবর্তীতে এটি নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া যায়

ই পাসপোর্ট(E-passport): আবেদন প্রক্রিয়া, ফি ও সকল সুযোগ-সুবিধা‬ সমূহ

মেনোরেজিয়া (Menorrhagia) কি

মেনোরেজিয়ার ক্ষেত্রে মাসিকের সময় প্রচুর রক্তপাত হয় এবং পেটে ব্যথা হয়।

লক্ষণ ও উপসর্গ

মেনোরেজিয়া হলে সাধারণত: যেসব লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয়:

মাসিকের প্রথম দিন গুলোতে প্রতি ঘন্টায় কাপড় বদল করতে হয়রক্তপাত শোষণের জন্য দুইটি স্যানিটারি প্যাড বা কাপড় ব্যবহার করতে হয়রাতের বেলা স্যানিটারি প্যাড বা কাপড় পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে।

মাসিকের সময় ৭ দিনের অধিক স্থায়ী হলেমাসিকের রক্তের সাথে রক্তের বড় চাকা গেলেঅতিরিক্ত রক্তপাতের কারণে দৈনন্দিন জীবন যাত্রায় ব্যাঘাত ঘটাক্লান্ত, অবসাদ অনুভব অথবা শ্বাসকষ্ট হয়।

কখন ডাক্তার দেখাবেন

উপরোক্ত লক্ষণ গুলো দেখা দেয়ার সাথে সাথে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

কি ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে

রোগের ইতিহাস এবং মাসিক চক্র জানারক্তের পরীক্ষাআল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান (Ultrasound scan) এন্ডোমিটরিয়াল বায়োপসি (Endometrial biopsy) পেপ টেস্ট এছাড়া চিকিৎসক প্রয়োজনবোধে অন্যান্য পরীক্ষা যেমন ডি এন্ড সি করতে পারেন।

কি ধরণের চিকিৎসা আছে

মেনোরেজিয়ার চিকিৎসা কতগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে যেমন:

স্বাস্থ্য এবং রোগের ইতিহাসঅবস্থার কারণ এবং ধরণভবিষ্যৎ সন্তান গ্রহণের পরিকল্পনাজীবন যাপন পদ্ধতির উপর প্রতিক্রিয়ারুগীর ব্যক্তিগত মতামত

উপরোক্ত বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে মেনোরেজিয়ার যেসব চিকিৎসা রয়েছে সেগুলো হলো:

ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রণ ঔষধ, ননস্টেরয়ডাল প্রদাহ প্রতিরোধক (Nonsteroidal anti-inflammatory) ঔষধ সেবনজন্ম নিয়ন্ত্রণ ঔষধ সেবনহরমোন ট্যাবলেট সেবনজরায়ুর ভেতরে হরমোন নি:সরক ডিভাইস (IUD) রাখাঔষধে না সারলে শল্য চিকিৎসা বা অপারেশন।

যৌন মিলন বা দীর্ঘ সময় মিলন করার ৩০টি পদ্ধতি

জীবন-যাপন পদ্ধতি

অতিরিক্ত রক্তপাত হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম করতে হবেদিনে কতবার প্যাড বা কাপড় পরিবর্তন করতে হয় তার লিখে রাখতে হবেএসপিরিন ঔষধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে

ডিজমেনোরিয়া (Dysmenorrhea) কি

মাসিকের সময় তলপেটে অনেকেরই ব্যথা করে। একে ডিজমেনোরিয়া বলে। অধিকাংশ মহিলাদের মাসিকের পূর্বে এবং মাসিক চলাকালীন সময়ে ব্যথা করে। কারো কারো ক্ষেত্রে এই সমস্যা এন্ডোমেট্রিওসিস (Endometriosis) অথবা জরায়ুরে টিউমারের (Uterine fibroids) কারণে হয়।

ছোট বেলায় হলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই সমস্যা লোপ পায় এবং বাচ্চা হবার পর এটি চলে যায়। আবার কারো কারো পরিণত বয়সেও ব্যথা শুরু হয়।

লক্ষণ ও উপসর্গ

ডিসমেনোরিয়া হলে সাধারণত: যেসব লক্ষণ ও উপসর্গ গুলো দেখা দেয়:

তলপেটে হালকা ব্যথা, ধড়ফড়ানি এবং মাংসপেশীতে যন্ত্রণাপিঠের নিচের দিকে এবং উরুতে ব্যথা

অন্যান্য উপসর্গ

বমি বমি ভাব এবং বমি করাপাতলা পায়খানাঘাম হওয়ামাথা ঝিমঝিম করা।

কখন ডাক্তার দেখাবেন

মাসিকের সময় উপরোক্ত লক্ষণ ও উপসর্গগুলো দেখা দেয়ার সাথে সাথে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

সানি লিওন এর ইতিহাস: সানি লিয়নের ৪০ অজানা তথ্য! ✔️

কি ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে

আল্ট্রাসাউন্ড (Ultrasound)কম্পিউটারাইজড টমোগ্রাফী (Computerized tomography)ম্যাগনেটিক রিজোন্যান্স ইমেজিং (Magnetic resonance imaging )হিস্টেরোস্কোপি (Hysteroscopy)ল্যাপেরোস্কোপি (Laparoscopy)

কি ধরণের চিকিৎসা আছে

ননস্টেরেয়ডাল প্রদাহ প্রতিরোধক (Nonsteroidal anti-inflammatory) ঔষধ সেবনজন্মনিয়ন্ত্রক হরমোন ঔষধ সেবনএন্ডোমেট্রিওসিস (Endometriosis) অথবা টিউমার (Fibroids) এর মত সমস্যা হলে শল্য চিকিৎসা করা

কোথায় চিকিৎসা করাবেন

মাসিক সংক্রান্ত যে কোন সমস্যা হলে নিম্নের চিকিৎসাকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে:

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সমা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র জেলা হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বেসরকারী হাসপাতাল।

গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল খাওয়া কেন নিরাপদ নয়!

মাসিক বা পিরিয়ড নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসা

অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ

প্রশ্ন.১. মাসিক কতদিন স্থায়ী হয় এবং কি পরিমাণ রক্ত ক্ষয় হয়?

✅ মাসিক চক্র কমপক্ষে ২১ দিন এবং বেশী হলে ৪৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়। প্রথম মাসিক হবার ২-৩ বছর পর্যন্ত তা অনিয়মিত হতে পারে। মাসিক সাধারণত: ২-৭ দিন স্থায়ী হয় এবং হাল্কা, মাঝারি থেকে খুব বেশী পরিমাণে রক্ত নির্গত হয়। সাধারণত: ২০ -৬০ মিলিমিটার রক্ত ক্ষয় হয়। এটি একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয় এবং একই মহিলার ক্ষেত্রে এটি ভিন্নরকম হতে পারে।

প্রশ্ন.২. অনিয়মিত মাসিক হবার কারণ গুলো কি কি?

✅ সাধারণত: গর্ভবতী মহিলাদের মাসিক হয় না । এছাড়া যেসব মা বাচ্চাদের বুকের দুধ পান করান তাদের সাধারণত: বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ না করা পর্যন্ত মাসিক হয় না। এছাড়া অনিয়মিত মাসিক হবার কারণ গুলো হলো:

জন্ম থেকেই কোন কোন মহিলার যোনিতে ত্রুটি থাকে । এর ফলে মাসিক অনিয়মিত হয়।হরমোণের পরিবর্তনের ফলে ডিম্বস্ফোটনে (Ovulation) সমস্যা হতে পারে । এটি প্রধানত: দুটি কারনে হয় যথা:

  • ১.এন্ডোক্রাইন কন্ডিশন (Endocrine Conditions): অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস মেলিটাস, কুশিং সিনড্রোম (Cushing’s Syndrome), থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে সাধারণত ডিম্বস্ফোটনে সমস্যা থাকে ও মাসিক অনিয়মিত হয়।
  • ২.পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (Polycystic Ovarian Syndrome): এই সমস্যার কারণে ডিম্বাশয় স্ত্রী হরমোণ থেকে পুং হরমোণ বেশী তৈরী করে ও মাসিক অনিয়মিত হয়।

মূত্রগ্রন্থি, পিটুইটারী গ্রন্থি এবং ডিম্বাশয়ে টিউমার হলে মাসিক অনিয়মিত হতে পারে।

সুখী হতে কি টাকা লাগে? এই ৪০টি সিম্পল উপায় দেখুন!

অন্যান্য কারণ

খাওয়া-দাওয়ার অনিয়ম এবং ওজন খুব বেশী হলে অথবা ওজন অনেক বেশী কমে গেলেখুব বেশী কাজ বা ব্যায়াম করলেপেটে অথবা শ্রোণীতে কোন অপারেশন যেমন: জরায়ু ফেলে দেয়ার অপারেশন করে থাকলেমানসিক চাপ অথবা বিষন্নতা

আপনার শারীরিক দুর্বলতার মূল কারণগুলো জানেন কি?

প্রশ্ন.৩. মাসিক পূর্ব সিনড্রোম হবার কারণ গুলো কি কি?

✅ মাসিক পূর্ব সিনড্রোম হবার সঠিক কারণ সেভাবে না জানা গেলেও নিচের কারণ গুলো এর জন্য দায়ী বলে ধরে নেয়া হয়:

হরমোণের চক্রাকারে পরিবর্তনমস্তিষ্কের সেরোটোনিন (Serotonin) নামক রাসায়নিক বস্তু অপর্যাপ্ত থাকলে বা কম বেশী হলেবিষন্নতামানসিক চাপখাবার-দাবারে অনীহা যেমন: ভিটামিন ও খনিজ জাতীয় খাবার কম খেলে, লবণাক্ত খাবারে বেশী খেলে এবং ক্যাফেইন জাতীয় খাবার বেশী খেলে ও মাদক গ্রহণ করলে।

প্রশ্ন.৪. মেনোরেজিয়া হওয়ার কারণ গুলো কি কি?

✅ মেনোরেজিয়া হওয়ার কারণ গুলো হলো:

হরমোণের অসামঞ্জস্যতা বা ভারসাম্যহীণতা ভ্রুণ কোষের অকার্যকারিতা জরায়ুর টিউমার হলে জরায়ুতে পলিপ হলে এডেনোমায়োসিস (Adenomyosis) জরায়ুতে কপারটি (IUD) ধারণ করলে গর্ভকালীন জটিলতা জরায়ু, ডিম্বাশয় অথবা জরায়ু মুখে ক্যান্সার হলে বংশগত ভাবে রক্তের রোগের ইতিহাস থাকলে কিছু কিছু ঔষধ যেমন: এসপিরিন (Aspirin) সেবন করলেএছাড়া অন্যান্য সমস্যা থাকলে যেমন- শ্রোণীর প্রদাহ, থাইরয়েডের সমস্যা, Endometriosis এবং যকৃত ও কিডনির অসুখ হলে।

প্রশ্ন.৫. কাদের মেনোরেজিয়া হওয়ার ঝুঁকি বেশী রয়েছে?

✅ যাদের মেনোরেজিয়া হওয়ার ঝুঁকি বেশী রয়েছে তারা হলেন:

কিশোরী মেয়েরা যাদের সবে মাত্র মাসিক শুরু হয়েছে৪০-৫০ বছর বয়সী মহিলারা যাদের মেনোপজ / মাসিক বন্ধ হওয়ার সময় হয়েছে।

আপনি ঘুমের মধ্যে বকবক করেন? জেনে নিন; আসল কারণ ও সেরা সমাধান

প্রশ্ন.৬. মেনোরেজিয়ার কারণে কি কি জটিলতা দেখা দিতে পারে?

✅ মেনোরেজিয়ার কারণে নিচের জটিলতা দেখা দিতে পারে:

আয়রণের অভাবজনিত রক্তশূণ্যতাতলপেটে মারাত্মক ব্যথা

প্রশ্ন.৭. ডিজমেনোরিয়ার কারণগুলো কি কি?

✅ ডিজমেনোরিয়া হলে কোন কারণ ছাড়াই মাসিকের সময় ব্যথা হতে পারে। এছাড়াও ডিজমেনোরিয়ার কারণগুলো হলো:

এন্ডোমেট্রিওসিস (Endometriosis )জরায়ুর টিউমারএডেনোমায়োসিস (Adenomyosis)শ্রোণীর প্রদাহজনিত রোগ (PDI)জরায়ু মুখ সংকুচিত হওয়া (Cervical stenonis)

প্রশ্ন.৮. কাদের ডিজমেনোরিয়া হওয়ার ঝুঁকি বেশী রয়েছে?

যাদের ডিজমেনোরিয়া হওয়ার ঝুঁকি বেশী রয়েছে তারা হলেন:

২০ বছরের কম বয়সীদের১১ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সীদেরমাসিকের সময় যাদের অতিরিক্ত রক্তপাত হয়যারা কোন সন্তানের জন্ম দেননি।

প্রশ্ন.৯ পিরিয়ডের সময়ে টয়লেট হ্যাবিট পরিবর্তিত হয় কেন?

✅ এ সময়ে শরীরে প্রোস্টাগ্লান্ডিস নামের হরমোন জাতীয় এক ধরণের রাসায়নিক জিনিসে পরিবর্তন আসে। পিরিয়ডের শুরুর দিকে এর কারণে মেয়েদের ইউটেরাস সংকুচিত হতে থাকে এবং এর ফলেই ব্যাথা হতে পারে।

প্রোস্টাগ্লান্ডিস আমাদের হজমতন্ত্রেও পরিবর্তন আনে। এর কারণে আমাদের ঘন ঘন টয়লেটে ছুটতে হতে পারে। আবার এটা কম হলে আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্ও হতে পারে। তবে পিরিয়ডের সময়ে যদি আপনার মল পিচ্ছিল মনে হয় তাহলে অবশ্য আপনার ডাক্তারের কাছে যাওয়াই ভালো কারণ এটা অন্য কোনো সমস্যার নির্ধারক।

এইবার ২.৫ কোটি টাকার কনডমের বিজ্ঞাপনে কাজল আগারওয়াল

প্রশ্ন.১০ টক্সিক শক সিনড্রোম নিয়ে কি চিন্তিত হওয়া দরকার?

✅ অনেকেই জানেন, যে পিরিয়ডের সময়ে প্যাড বা ট্যাম্পন সময়মত পরিবর্তন না করলে টক্সিক শক সিনড্রোমের কারণে হাসপাতালে ছুটতে হতে পারে। এর উপসর্গ হতে পারে বেশ জ্বর, লো ব্লাড প্রেশার, বিভ্রান্তি এবং এনার্জির কমতি।

এ থেকে খুব দ্রুতই কোমা, অর্গান ফেইলিওরের মত ভয়ংকর সব সমস্যা দেখা দিতে পারে। আপনি যদি মনে করেন আপনার এমন কোনো সমস্যা হতে পারে, তাহলে খুব দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত।

প্রশ্ন.১১ পিরিয়ডের সময়ে যৌনাকাঙ্ক্ষা বেশি হয় কেন?

✅ এই প্রশ্নের আসলে একটা নয়, বেশ কিছু উত্তর আছে। পিরিয়ডের সময়ে কারও কারও যৌনাকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু কারও কারও ক্ষেত্রে এটা একেবারেই দেখা যায় না। এটা এস্ট্রাডিওল নামের একটা প্রাইমারি সেক্স হরমোনের কারণে হতে পারে। প্রোজেস্টেরনেরও কিছু ভূমিকা থাকতে পারে এর পেছনে।

পিরিয়ডের সময়ে একজন নারীর শরীরে ইস্ট্রোজেন লেভেল অনেক কম থাকে, কিন্তু টেস্টোস্টেরোনের লেভেল থাকে বেশি। টেস্টোস্টেরোন নারীর যৌনাকাঙ্ক্ষার সাথে সম্পর্কিত। এ কারণে ইস্ট্রোজেন কমে টেস্টোস্টেরোন বেড়ে গেলে তাদের যৌনাকাঙ্ক্ষা বেড়ে যেতে পারে।

প্রশ্ন.১২ পিরিয়ডের সময়ে আমাদের মেজাজ এত ওঠানামা করে কেন?

✅ PMS বা প্রি মেন্সট্রুয়াল সিনড্রোম আসলে অনেকগুলো, এর মাঝে একটি হলো মেজাজের ওঠানামা। হঠাৎ করেই দুঃখ, বিষণ্ণতা, রাগ আপনাকে ছেঁকে ধরতে পারে। আবার আবেগ বেশি হতে পারে, এক মেজাজ থেকে আরেক মেজাজে চলে যেতে পারেন দ্রুতই।

এর পাশাপাশি দেখা যায় শরীর ফুলে যাওয়া এবং মাথাব্যাথার মত সমস্যাগুলো। কারণ পিরিয়ডের সময়ে শরীরে থাকা হরমোনগুলো মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারকে প্রভাবিত করে। এসব সমস্যা কম রাখতে আপনার খাদ্যভ্যাস রাখা উচিৎ স্বাস্থ্যকর।

মা ও স্বামীকে নিয়ে ধূমপান করে সমালোচনার মুখে প্রিয়াঙ্কা

প্রশ্ন.১৩ প্যাড এবং ট্যাম্পন ছাড়া আর কী কী উপায় আছে?

✅ বাংলাদেশে অনেক নারীই এখন স্বাস্থ্যকর স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেন। ট্যাম্পনও অনেকে ব্যবহার করেন। পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে বারবার ব্যবহার করা যায় এমন মেন্সট্রুয়াল কাপ পাওয়া যায়।

প্রশ্ন.১৪ হেভি ব্লিডিং মানে আসলে কতো বেশি?

✅ পিরিয়ডের সময়ে সাধারণ একজন নারী ৮-১৪ চা চামচ রক্ত হারান। এতে প্রতিদিন আড়াই টেবিল চামচের মত রক্তক্ষরণ হয়। তবে প্রতি নারীর জন্যই এটা আলাদা হয়। কিন্তু আপনার যদি হেভি ব্লিডিং হয় তবে ভেতরে কোনো সমস্যা থাকতে পারে।

হেভি ব্লিডিং এর পাশাপাশি যদি মাথা ঘোরানো, ক্লান্তি বা অতিরিক্ত পেট ব্যাথা থাকে তবে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিৎ। রক্তক্ষরণের পেছনে অবশ্য মেনোপজ বা প্রেগনেন্সিরও ভূমিকা থাকতে পারে।  

প্রশ্ন.১৫ পিরিয়ড সাইকেলে সমস্যা দেখা দিচ্ছে, কী করা উচিৎ?

✅ আপনার স্বাভাবিক পিরিয়ডের সময়ে যদি কোনো সমস্যা দেখা যায়, পিরিয়ড যদি মিস করেন, অথবা খুব বেশি সময় ধরে পিরিয়ড চলে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিৎ।

আপনার বয়স যদি কম হয়ে থাকে এবং এখনো আপনি জানেন না পিরিয়ডের ক্ষেত্রে কোন ব্যাপারটা স্বাভাবিক এবং কোনটা অস্বাভাবিক, তাহলে ডাক্তার না হলেও এ ব্যাপারে জানে এমন কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।

আর আপনি যদি যথেষ্ট জানেন নিজের পিরিয়ডের ব্যাপারে, তাহলে অস্বাভাবিক কিছু দেখলে তা ডাক্তারের কাছে চেক করে নেয়াই ভালো। আপনার শরীর নিয়ে আপনার লজ্জিত হবার কিছু নেই, লুকানোরও কিছু নেই। ঈশ্বরপ্রদত্ত এই শরীরকে সুস্থ রাখা আপনারই কর্তব্য।

প্রশ্ন ১৬: পিরিয়ড কী এবং এটা প্রতিটা মেয়েদের জীবনে কেন আসে ?

✅ সাধারণভাবে বলতে গেলে; মেয়েদের শরীর এমন কিছু টুস্যু বের করে দেয় যেটা শরীরের আর কোন প্রয়োজন নেই।

এটি শরীরের যে জায়গা হতে নির্গত হয় সেটির নাম ইউটেরাস (Uterus), যেখানে মুলত শিশু ধীরে ধীরে বেড়ে উঠে। এবার আসি এটা কেন নির্গত হয় সে ব্যপারে; এই ইউটেরাস স্বাস্থ্যকর ডিম্বানু বা fertilized egg নিয়ে প্রেগন্যান্সির জন্য রেডি হয়ে থাকে এবং তার ভেতরে থাকা টিস্যু গুলিকে ঘন করতে থাকে।

যেহেতু পুরুশ সুক্রানু ব্যাতীত কোন মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হতে পারে না, তাই প্রতি মাসেই বা কারো কারো ক্ষেত্রে আরো কম সময়ের ব্যবধানে এই Uterus তার ভেতরে থাকা টিস্যু গুলিকে রক্তের মাদ্ধ্যমে বের করে দেয়। আর এই চক্রের নামই Period  বা Menstruation.

প্রশ্ন ১৭: পিরিয়ড কী খুবই অসস্থিকর?

✅ আসলে এটা যখন হতে থাকে তখন তেমন কিছুই মনে হয় না। এমনকি কিছু কিছু সময় একেবারেই কিছু বোঝা যায় না। আর এটা খুবই জরুরী যে, প্রতিটা মেয়ে তার সঠিক সময়টি মাথায় রাখবে, তা-না হলে হটাৎ বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হতে পারে।

কারণ, যেহেতু এটা রক্তের সংমিশ্রনে টিস্যুগুলি বের হয়ে আসে, সেহেতু পরনের কাপড়ে খুব সহজেই এটার ছাপ অন্যের চোখে পড়তে পারে।

প্রশ্ন ১৮: পিরিয়ড কী দুর্গন্ধযুক্ত হয়?

✅ রেজীতে এটাকে Period Fluid বলা হয়। এটা সাধারণত দুর্গন্ধযুক্ত নয়, তবে লজ্জাস্থানে শুখিয়ে গেলে কিংবা সরাসরি বাতাসের স্পর্শে আসলে কিছুটা দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে। সেজন্য যতটুকু সম্ভব নিজেকে পরিষ্কার এবং প্যাড পরিবর্তনের ব্যাপারে সতর্কতা আবশ্যক।

প্রশ্ন ১৯: পিরিয়ড কী শারীরিক ভাবে খুবই আঘাত করে?

✅ Menstruation  -এ আসলে আঘাতের বা ব্যাথার কিছু নেই, তবে কিছু মেয়েরা Period এর সময় বেশ ব্যাথা অনুভব করে। এটা আসলে হরমোনের জন্য হয়ে থাকে, যেটা পিরিয়ডের সময় নির্গত হয় এবং একেক মেয়েকে একেক ভাবে আঘাত করে।

যার কারণে অনেকে পেটে হালকা ব্যাথা অনুভূব করে, কারোর ক্ষেত্রে মাথা ব্যাথা এমনকি অন্য ধরনের ছোট খাট শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। তবে চিন্তার কিছু নেই, এগুলি সবই সাময়িক অস্বস্থি মাত্র।

প্রশ্ন ২০: আপনি লাজুক প্রকৃতির? কাউকে বলতে পারছেন না?

✅ বেশীরভাগ মেয়েরাই এমনটি হয় বিশেষ করে আপনি যদি বাঙ্গালী মেয়ে হন, পিরিয়ডের কথা কাউকে বলতে পারে না এমনকি নিজের মা ও বান্ধবীদের সাথেও না। কিন্তু তিতা হলেও চরম সত্য হল “এ ব্যপারে নিজের মা দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় শিক্ষক”

 So, নিজের ঘরেই যখন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষর তখন আর দেরী কেন? আজই নিজের সমস্যার কথা নিজের মা’কে খুলে বলুন। মনে রাখবেন নিজের শুধু মা’ই নয় বরং সেও একজন মেয়ে এবং এ সময়ের সবচেয়ে কাছের বন্ধু।

অতঃপর কোন সংকোচ না করে নিজের ভালোর জন্য হলেও নিজের মায়ের সাথে পরামর্শ করাটাই এ জগতের প্রথম পদক্ষেপ। তবে আপনার মা যদি অপারগ হন (যেমন; প্রতিবন্ধী, বেঁচে নেই অথবা অন্য কোন কারণে) তাহলে আন্টি বা বান্ধবীর মায়ের সাথেও পরামর্শ করা যেতে পারে।

প্রশ্ন ২১: এটা চলাকালীন সময়ে পরিষ্কার থাকাটা কতটা জরুরী?

✅ অবশ্যই জরুরী। Period Fluid চলাকালীন সময়ে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ দেখা দিতে পারে, আর তা ছাড়া বন্ধু-বান্ধবীদের কাছে বা পরিবেশের মাঝে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য যতদূর সম্ভব নিজেকে পরিপাটী করে রাখবেন।

যদিও এখনকার বাজারে অনেক ধরনের প্রোটেকশন পাওয়া যায়, সেগুলো ব্যবহারের মাদ্ধ্যমে নিজেকে ফুরফুরে রাখতে পারেন। So, no tention baby!

প্রশ্ন ২২: Period চলাকালীন সময়ে সামাজিক কোন বাধ্যবাধকতা আছে কী?

✅ সত্য বলতে; তেমন কিছু নেই। So আপনি আগের মতই স্কুলে যেতে পারবেন, মায়ের কাজে হেল্প করতে পারবেন, বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে পারবেন। এক কথায় বলতে গেলে আপনার ডেইলি রুটিন মেনে চলতে পারেন যদি শারীরিক অন্য কোন সমস্যা দেখা না দেয়।

প্রশ্ন ২৩: বাহ্যিক দিক থেকে কেউ কী বুঝতে পারে আমার অবস্থান?

✅ একেবারেই বোঝার কথা না। তবে শরীর দুর্বল বা অন্য কোন প্রবলেম এর কারণে হয়ত পরিবারের লোকজন কিছুটা আন্দাজ করতে পারবে, তবে সেটা ভয় বা লজ্জার কিছু নয় কারণ বেশীরভাগ সময়ে কেউ আঁচ করতে পারে না যতক্ষন না আপনি তাদেরকে জানাবেন। আর এই জানানোর ব্যপারটি সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

প্রশ্ন ২৪: পিরিয়ডের সময় কতটা রক্তক্ষরণ হতে পারে?

✅ বেশিরভাগ মেয়েদের শরীর থেকে পিরিয়ডের প্রথম কয়েকদিনের মদ্ধ্যে ১/৪ কাপ (এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ) মেন্স ফ্লুয়িড নির্গত হয়। তবে এটাতে ভয়ের কিছু নেই। অল্প কিছুদিনের মদ্ধ্যেই শরীর নিজেই এটার ঘাটতি পূরণ করে নেয়।

প্রশ্ন ২৫: মেয়দের জীবনে এটির পরিসমাপ্তি ঘটে কখন?

✅ এটি মেয়েদের জীবনের একটি অংশ এবং এটির পরিসমাপ্তি ঘটবে মেনোপজ (Menopause) এর পূর্ব পর্যন্ত। মেনোপজ বলা হয় সেই অবস্থানকে, যখন মেয়েটি এমন একটি বয়সে উপনীত হয় যে সে প্রেগন্যান্ট হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

যেটা অধিকাংশ মহিলাদের ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণ করা হয় ৪০ বছরের শেষের দিকে অথবা ৫০ বছর বয়সের প্রথম দিকে। এই বয়সের অধিকাংশ মহিলারা অন্তঃস্বত্বা হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে যার ফলশ্রুতিতে পিরিয়ডও বন্ধ হয়ে যায়।

তবে কিছু কিছু মহিলাদের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে যে, তাদের এই অক্ষমতা ৩৫ বছর বয়সেই দেখা দেয়, যেটা ফ্যামিলিগত বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের কারণে হতে পারে।

আশাকরি, এই লেখাটি থেকে Period বা Menstruation সম্পর্কে সুস্পষ্ট এবং পজিটিভ ধারনা পেয়েছেন। অতঃপর এটা কখনো ভাবা ঠিক হবে না যে, পিরিয়ড একটি মেয়েলি রোগ বা girl disease বরং ভেবে নিবেন এটা সামসাময়িক শারীরিক অসুবিধা মাত্র।

তাহলেই দেখবেন এটার ব্যপারে নেগেটিভ ধারণাগুলি দূর হয়ে যাবে এবং এটাকে সঠিক পন্থায় নিয়ন্ত্রণ করার মনমানসিকতা তৈরি হবে।

লিখেছেন
কে এন দেয়া
অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর, প্রিয় লাইফ

পিরিয়ড-এর সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা খুবই জরুরী। প্রত্যেকবার স্যানিটারি ন্যাপকিন বদলের সময় নিজেকে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। স্কুল, কলেজ বা অফিসে সম্ভব না হলেও বাড়িতে থাকাকালীন সময়ে হালকা গরম পানির সাথে জীবাণুনাশক সাবান বা বডি ওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে নিজেকে পরিষ্কার করুন।

স্যানিটারি ন্যাপকিন পরিবর্তনের সময় পরনের প্যান্টি-ও বদলে ফেলবেন। এটা জরুরী। নাহলে এত কষ্ট করে পরিষ্কার হবার কোন মানে নেই। ব্যবহৃত প্যান্টি ধোয়ার সময় স্যাভলন বা জীবাণুনাশক লিকুইড দিয়ে ধুয়ে নেয়া ভালো।

পিরিয়ড নিয়ে কিছু টিপস

পিরিয়ড নিয়ে কিছু টিপস
  • থাকুন হাসিখুশি। পছন্দের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন, চাপমুক্ত থাকুন।
  • পিরিয়ড-এর সময় চুপচাপ শুয়ে বসে না থেকে হালকা কিছু ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করুন। রক্ত প্রবাহ নিয়মিত করতে ও ব্যথা কমাতে এটি খুবি উপকারী।
  • এ সময় তলপেটে হালকা ব্যথা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। এই ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে শুরুতেই পেইনকিলার খাওয়া উচিত নয়। হট ওয়াটার ব্যাগ-এ গরম পানি নিয়ে তলপেটে হালকা সেঁক দিলে ব্যথা অনেকটাই কমে যায়।
  • ভারী কাজ বা ব্যায়াম থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • প্রচুর পরিমাণে পানি, ফলের জুস ও শরবত জাতীয় খাবার-এ সময় শরীরকে ফ্রেশ রাখতে সাহায্য করে।
  • শরীরে আয়রন-এর ঘাটতি পূরণ করতে এ সময় খাদ্যতালিকায় বাড়তি সবুজ শাকসবজি, মাছ, মাংস, কলিজা ইত্যাদি রাখতে হবে।
  • বিভিন্ন রকম ফলমূল যেমন: কলা, পেয়ারা, আমড়া, লেবু, জলপাই, পেপে, আনারস ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি সরবরাহ করে, যা আয়রন-এর শোষণ ও কার্যক্ষমতা বাড়ায়।

প্রতি মাসে নিয়ম করে এই নির্দিষ্ট কয়েকটি দিন প্রতিটি মেয়ের জীবনেই পার করতে হয়। প্রকৃতির নিয়ম মেনেই এই চক্র চলে।

এটি নারীর শরীরবৃত্তীয় অধিকার, সুস্থতার একটি অংশ। তাই পিরিয়ড নিয়ে এখন আর কোন অজ্ঞতা, লজ্জা বা দ্বিধা মনে পুষে রাখা চলবে না। বয়ঃসন্ধির আগেই পরিবারের মেয়ে শিশুটির পাশাপাশি ছেলে শিশুটিকেও পিরিয়ড সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে হবে।

এভাবেই আস্তে আস্তে সমাজ থেকে পিরিয়ড নিয়ে সকল ভুল ধারণা ও ট্যাবু দূর করা সম্ভব।

লিখেছেন- ডাঃ মারুফা আক্তার

প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল বিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, বিস্ময়কর পৃথিবী, সচেতনমূলক লেখা, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে  SOMVOB.COM লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।