অল্প বয়সে চুল পাকা? জেনে নিন ৩০টি সমাধান

289

বৃদ্ধ হলে তবেই চুল পাকবে এমন ধারণা ভুল। চুল পাকার জন্য বয়সের দরকার পড়ে না। চুলের অকালপক্বতার মূল কারণ জিনগত। পরিবারের কারও অল্প বয়সেই চুল পাকতে শুরু করলে পরবর্তী প্রজন্মেও সেই ধারা থাকতে পারে। আবার আধুনিক জীবনযাপনে অপুষ্টিকর খাবার, মানসিক অস্থিরতা, পরিবেশ দূষণ ইত্যাদিও হতে পারে অকালে চুল পেকে যাওয়ার কারণ।

চুল পাকা

চুল একবার পাকতে শুরু করলে তা আর স্বাভাবিকভাবে কালো হবে না। তাছাড়া একবার চুল পাকতে শুরু করলে খুব দ্রুত মাথার বাকি অংশও সাদা হতে থাকে। তাই মাথায় সাদা চুল দেখা গেলেই সতর্ক হোন। বেছে নিন ঘরোয়া উপায় যাতে চুল ভালো এবং কালো দুটিই হয়। চলুন জেনে নেয়া যাক-

« এক নজরে দেখুন এই প্রতিবেদনে কি কি রয়েছে »

মেহেদি

মেহেদি

প্রাকৃতিক ভাবে চুল রাঙাতে এবং চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে হেনার জুড়ি নেই। যেদিন মেহেদি করবেন, তার আগের দিন মেহেদির গুঁড়া ভিজিয়ে রাখুন। শুধুমাত্র বড় ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত হেনাই ব্যবহার করবেন। চুলে লালচেভাব আনতে হলে হেনা ভেজাবেন লোহার পাত্রে। আর শুধু কন্ডিশনিং করতে হলে যেকোনো পাত্রেই ভেজাতে পারেন। পরেরদিন চায়ের লিকার বানান। কিছুক্ষণ চা পাতা ভিজতে দিন পানিতে। তবে বেশিক্ষণ ভিজিয়ে রাখবেন না। ঠান্ডা লিকারে মেশান ভেজানো মেহেদি। মাথায় খুশকির সমস্যা থাকলে এতে মেশান লেবুর রস।

আমলা ও হেনার প্যাক

আমলা ও হেনার প্যাক

এই হেয়ার মাস্কটি বানাতে প্রয়োজন পরবে এক কাপ হেনার পেস্ট, তিন চামচ আমলার পাউডার এবং এক চামচ কফি পাউডারের। সবকটি উপাদান একসঙ্গে মেশানোর পর ভাল করে চুলে লাগিয়ে কম করে এক ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে।

সময় হয়ে গেলে সালফার ফ্রি শ্যাম্পু দিয়ে ভাল করে চুলটা ধুয়ে নেবেন। এইভাবে মাসে একবার চুলের পরিচর্যা করলে চুল কুচকুচে কালো হয়ে তো যাবেই, সেই সঙ্গে চুলের গোড়ায় পুষ্টির ঘাটতি দূর হবে। হওয়ার কারণে হেয়ার ফলও কমতে শুরু করবে। লাল চা: সাদা চুলকে কালো করতে লাল চায়ের কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে এই পানীয়টিতে উপস্থিত বেশ কিছু উপকারি উপাদান চুলের অন্দরে প্রবেশ করে চুলের রং বদলে দেয়। শুধু তাই নয়, নিমেষে চুলকে যদি উজ্জ্বল বানাতে হয়, তাহলেও কাজে লাগাতে পারেন লাল চাকে।

আরো পড়ুন: কিভাবে চিনবেন অধিক চাহিদার যৌন আবেদনময়ী মেয়ে?

এখন প্রশ্ন হল চুলকে কালো করতে কীভাবে কাজে লাগাতে হবে লাল চাকে? এক্ষেত্রে এক কাপ জলে ২ চামচ চায়ের পাতা ফেলে পানিটা ফোটাতে হবে। যখন দেখবেন পানি ফুটতে শুরু করেছে, তখন আঁচটা বন্ধ করে পানি ঠান্ডা করে নিতে হবে। এরপর মিশ্রনটি ভাল করে চুলে লাগিয়ে কম করে ১ ঘন্টা অপেক্ষা করে হার্বাল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফলতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২ সপ্তাহে ১ বার এই ঘরোয়া টোটকাটিকে কাজে লাগালে উপকার পাবেন একেবারে হাতেনাতে।

লেবুর রস মিশ্রণ

লেবুর রস মিশ্রণ

আমলকি ও লেবু দুটোই আমাদের দেশে জন্মে এবং সহজলভ্য। এই দুটো ফলের পুষ্টি গুণ অত্যন্ত বেশি। শরীরের মেদ কমানো, হৃদপিন্ডের সমস্যা ইত্যাদি আভ্যন্তরীণ সমস্যার পাশাপাশি চামড়ার ইনফেকশন এবং মাথার চামড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন যোগান দেয়ার ক্ষেত্রে এই দুটো ফলের জুড়ি নেই। তাই অকালে চুল পাকা রোধের জন্য বাজার থেকে আমলকির গুঁড়া কিনে এনে তা লেবুর রসের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন ১ ঘণ্টা করে মাথার চামড়ায় ম্যাসাজ করুন, তারপর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেললেই হবে।

আরো পড়ুন: স্ত্রী ব্রা খুললেই স্বামী হওয়া যায় না!

মেহেদি মিশ্রণ

এবার মেহেদির পেস্ট তৈরির পালা। সব একসাথে মিশিয়ে ব্রাশ দিয়ে মাথায় ভালো করে লাগিয়ে ফেলুন। স্ক্যাল্পে যেন মেহেদি না লাগে, খেয়াল রাখবেন। অন্তত এক ঘণ্টা প্যাকটি লাগিয়ে রাখুন। তারপর হালকা গরম পানিতে শ্যাম্পু করে নিন। প্রতিমাসে একবার করে মেহেদি ব্যবহার করুন। কয়েক মাসে পরে নিজেই দেখবেন চুলের পরিবর্তন।

কারিপাতা

কারিপাতা

 চুলের জন্য খুবই উপকারী। ‘ভিটামিন এ’, ‘ভিটামিন ই’, ক্যালসিয়াম, কপার, তামায় সমৃদ্ধ কারিপাতা অকালপক্বতা রোধ করে। চুল মোলায়েমও বানায়। নারিকেল তেলে কারিপাতা মিশিয়ে ফোটান। হালকা কালচে আভা দেখা দিলে বুঝবেন আর গরম করার দরকার নেই। এবার ওই মিশ্রণ ঠান্ডা করে ভালো করে চুলের আগাগোড়া লাগিয়ে নিন। এরপর হাল্কা শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন এই মিশ্রণ ব্যবহার করুন।

আরো পড়ুন: গল্পঃ অন্তহীন ভালোবাসা

নারিকেল তেল এবং লেবুর রস

নারিকেল তেল এবং লেবুর রস

চুলের যত্নে নারিকেল তেলের কোন জুড়ি নেই। আর লেবুর গুণাগুন তো আগেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পাকা চুলের হাত থেকে রেহাই পেতে হলে প্রতিদিন ৪ চা চামচ নারিকেল তেল এর সাথে আড়াই চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে উক্ত মিশ্রণ চুলের গোড়ায় এবং মাথার চামড়ায় লাগান। দুই সপ্তাহের মধ্যেই পাকা চুল কালো হয়ে উঠবে। তার পাশাপাশি আপনার মাথার চামড়া সুস্থ থাকবে, খুশকি হবে না এবং চুলও হবে উজ্জ্বল।

আরো পড়ুন: সন্তান জন্মে আর পুরুষের দরকার নেই!

কালো কফি

কালো কফি

গরম পানিতে কফি দিয়ে ক্বাথ বানান। মিশ্রণ ঠান্ডা হলে ওই ক্বাথ চুলে ভালো করে মাখিয়ে নিন। অন্তত বিশ মিনিট এভাবে চুল রেখে দিন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে শ্যাম্পু করুন। সপ্তাহে নিয়মিতভাবে দুই থেকে তিনদিন এটা করতে থাকুন। চুলে বাদামি আভাস চলে আসবে।

তিলের বীজ এবং বাদাম তেল

তিলের বীজ এবং বাদাম তেল

তিলের বীজ এবং বাদাম তেল এই দুইটি বাজারে বেশ সহজলভ্য। স্কিন ডাক্তাররা চুলের যত্নে মাঝে মধ্যে এই চিকিৎসাটি প্রেসক্রাইব করে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চিকিৎসায় সবচাইতে বেশি উপকার পাওয়া সম্ভব। প্রথম তিল বীজ গুঁড়ো করে নিন। এরপর তা বাদাম তেলের সাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরী করুন। এই পেস্টটি চুলে ও মাথার চামড়ায় লাগিয়ে ২০-৩০ মিনিট রেখে দিয়ে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

আরো পড়ুন: সুখী হতে কি টাকা লাগে? এই ৪০টি সিম্পল উপায় দেখুন!

চা পাতা

চা পাতা

চা পাতা সাদা চুল কালো করে খুব সহজেই। ২-৩ বড় চামচ চা পাতা জলে ফুটিয়ে নিন। এবার ছাকনি দিয়ে চা পাতা ও চায়ের জল আলাদা করে নিন। ঠান্ডা হলে চা পাতা ফোটানো জল চুলে ভালো করে লাগিয়ে নিন। ২ ঘন্টা পর ঠান্ডা জল দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন। শ্যাম্পু না করাই ভালো। এটি আপনি সপ্তাহে দু থেকে তিন বার চুলে লাগাতে পারেন ভালো ফল পাওয়ার জন্য।

আমলকি

আমলকি

আমলকি চুলের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে আদিকাল থেকে। নারিকেল তেলের সঙ্গে আমলাগুঁড়ো মিশিয়ে গরম করতে হবে। তারপর সেটা ছেঁকে চুলের গোড়া থেকে ডগা অবধি লাগিয়ে নিন। রাতভর মাথায় রাখুন। তারপর সকালে হালকা গরম পানিতে চুল ধুয়ে নিন।

মেথি ও নারকেল তেল

মেথি ও নারকেল তেল

মেথিতে বর্তমান অ্যামিনো অ্যাসিড, ও লিকিথিন আমাদের চুল সাদা হওয়াকে কমিয়ে দিতে সক্ষম। এছাড়া নারকেল তেলে ভিটামিন, মিনারেলস আমাদের চুলের সদা হওয়াকে আটকাতে সক্ষম। নারকেল তেল গরম করে তাতে মেথি দানা দিয়ে ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এবার উষ্ণ গরম অবস্থায় মেথি ছেঁকে নিয়ে স্কাল্প ও চুলের গোঁড়ায় ভালো করে মালিশ করুন। রাতে ঘুমানোর আগে মালিশ করে পরদিন সকালে উঠে শ্যাম্পু করে নিলে সব থেকে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

গাজরের রস

গাজরের রস

গাজর একটি পুষ্টিকর সবজি উপাদান। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারাল এর একটা সিংহভাগ গাজর একাই পূরণ করার ক্ষমতা রাখে। চুলের যত্নেও গাজর বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। তাই বাজার থেকে গাজর কিনে এনে সেটিকে ব্লেন্ডারে পানি, চিনি মিশিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। গাজরের যে জুস পাওয়া যাবে, সেটি নিয়মিত পান করুন।

আরো পড়ুন: এন্টার্কটিকা সম্পর্কে ১৫ টি চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রতিদিন অন্তত একগ্লাস করে গাজরের রস পান করলেই আপনার পাকা চুলের প্রতিকার পাওয়া শুরু করবেন। শুধু চুল নয়, সেইসাথে আপনার শরীরকে সুস্থ রাখতেও এই গাজরের জুস সাহায্য করবে।

পেঁয়াজ

পেঁয়াজ

অকালে চুল পাকা রোধে পেঁয়াজও খুব কার্যকরী। পেঁয়াজের রস চুলের গোড়ায় লাগিয়ে অপেক্ষা করুন আধঘণ্টা। তারপর হালকা গরম পানিতে চুল ধুয়ে ফেলুন।

পাকা চুলের জন্য কার্যকরী হেনা

পাকা চুলের জন্য কার্যকরী হেনা

ঘরোয়া উপায়ে সাদা চুল কালো করার সবথেকে ভালো উপায় হলো হেনা। হেনার সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক রং। এতে চুলের কোনরকম ক্ষতির সম্ভাবনা থাকেনা। এটি খুব সহজেই পাকা চুলকে আড়াল করে। হেনা পাউডার আগের দিন রাতে অল্প কফির সাথে গরম জলে ভিজিয়ে পেস্ট মত বানিয়ে রাখুন। সকালে এর সাথে দই, ১ চামচ ভিনিগার ও ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে ভালো করে চুলে লাগিয়ে ১-২ ঘন্টা পর ভালো করে মাথা ধুয়ে ফেলুন। এরপর মাথায় অল্প তেল মেখে পরের দিন শ্যাম্পু করে নিন। চুলের রং দীর্ঘস্থায়ী হবে।

সাদা চুল প্রাকৃতিকভাবে কালো করার উপায়গুলো জেনে নিই

সাদা চুল প্রাকৃতিকভাবে কালো করার উপায়গুলো জেনে নিই

* আমলকির রস, বাদামের তেল ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে সপ্তাহে কমপক্ষে দুই দিন চুলে লাগালে চুল পাকা কমে যায়।

* হরতকি ও মেহেদি পাতার সঙ্গে নারিকেল তেল দিয়ে ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে চুলে লাগিয়ে ২ ঘণ্টা পরে ধুয়ে ফেলতে হবে।

* নারিকেল তেল গরম করে মাথার তালুতে ভালো করে ম্যাসেজ করলে চুলের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে এবং চুল পাকা কমে যাবে।

* চুল সাদা হওয়ার শুরুতে হেনা, ডিমের কুসুম ও টক দই একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে চুলে লাগালে চুল সাদা হওয়া কমে যাবে।

আরো পড়ুন: যৌনমিলন কোন বয়সে হওয়া খুব বেশি জরুরী?

* চুলে যেন সরাসরি রোদ না লাগে সেজন্য বাইরে বের হলে ছাতা, ক্যাপ অথবা ওড়না দিয়ে চুল ঢেকে রাখা জরুরি।

* চুলের ধরণ অনুযায়ী নিয়মিত ভালো ব্রান্ডের শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। চুলের ক্রিম, জেল, কালার, শ্যাম্পু, কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

* চুলে খুশুকি হলে শুরুতেই সাবধান হতে হবে। অতিরিক্ত খুশকির কারণে চুল সাদা দেখায়।

* ধুমপান পরিহার করে নিয়মিত পানি, ফলমূল, রঙিন শাকসবজি ও পুষ্টিকর খাবার খেলে চুল সাদা হবে না।

আরো পড়ুন:

উপরের পদ্ধতিগুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে সহজে ঘরে বসেই অকালে চুল পাকা রোধ করা সম্ভব। তবে যে কথাটি আমার লেখায় বার বার বলি, সেটা হচ্ছে প্রতিকারের চাইতে প্রতিরোধ উত্তম। সাধারণত পুষ্টিহীনতা, টেনশন, অবসাদ, ঘুম কম হওয়া এগুলোর কারণে অল্প বয়সে চুল পাকতে পারে। তাই এই সমস্যা প্রতিরোধের জন্য প্রচুর পুষ্টিকর শাকসবজি খাবেন, পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করবেন এবং অবশ্যই প্রচুর পরিমাণে পানি পান করবেন।

প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল বিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, বিস্ময়কর পৃথিবী, সচেতনমূলক লেখা, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে  SOMVOB.COM লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।