দুবাইয়ের ১০টি অবিশ্বাস্য ও বিলাসবহুল দর্শনীয় স্থান!

277

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাতটি প্রদেশের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রধান শহর – দুবাই। বিলাসবহুল জীবনযাপন, চোখ ধাঁধানো রঙিন আলোকরশ্মি, আকাশচুম্বি অট্রালিকা, বিলাসবহুল হোটেল, কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জসহ নানা কারণে দুবাই ভ্রমণপ্রিয়দের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। আজকের এই পোস্টে আপনার জানাবো দুবাইয়ের সেরা ১০টি দর্শনীয় স্থানের গল্প।

বুর্জ আল আরব

দুবাইয়ের সবচেয়ে বড় এবং প্রধান মল এটি। এছাড়াও বুর্জ খলিফা এবং দুবাই একুরিয়ামে যাওয়ার একটি প্রবেশ পথও বটে। আনন্দভ্রমণের জন্য এখানে রয়েছে আইস স্কেটিং রিঙ্ক, গেমিং জোন এবং সিনেমা কমপ্লেক্স। এখানে সর্বক্ষণই শপিং এবং খাওয়া-দাওয়ার দোকানগুলো খোলা থাকে।

আর বলতে গেলে প্রায় সবসময়ই লাইভ মিউজিক বা ফ্যাশন শোয়ের মতো স্পেশাল ইভেন্ট চলতে থাকে এই মলে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির দুবাই শপিং ফেস্টিভাল এবং জুলাই-আগস্টের দুবাই সামার সারপ্রাইজেস।

আরো পড়ুন: এমন ১০টি অদ্ভুদ প্রাণী যা দেখলে আপনি চমকে উঠবেন!

বিশ্বের একমাত্র বিলাসবহুল সাত তারকা হোটেল বুর্জ আল আরব। ৩২১ মিটার লম্বা এই ভবনের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে অনেকটা পাল তোলা জাহাজ বা তিমি মাছের মতো। যা জুমেরিয়া সৈকতে পাশে সমুদ্রের মাঝে একটি কৃত্রিম দ্বীপের উপর তৈরি করা হয়েছে। উচ্চতার দৃষ্টিকোণ থেকে আকাশচুম্বি এই হোটলে বিশ্বের চতুর্থ সুউচ্চ ভবন।বুর্জ আল আরবের অত্যাধুনিক রাজকীয় অন্দরসজ্জ্বা, দৃষ্টিনন্দন অ্যাকুরিয়াম এবং চমৎকার ইন্টেরিয়র ডিজাইন আপনাকে দারুণ এক অনুভূতির শিহরণ দেবে।

হোটেলের প্রতিটি রুমেই রয়েছে ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের আইপ্যাড। যার মাধ্যমে আপনি সহজেই হোটেল এবং রেস্তোরার নানা তথ্য জানতে পারবেন। ব্যয়বহুল এই হোটেলে প্রতি রাত থাকার জন্য খরচ হবে ৪,৫০০ দিরহাম। এতো টাকা খরচ না করেও পাশে থাকা জুমেইরা সৈকতে গিয়ে নিজেকে ফ্রেমবন্দি করে নিতে পারেন আপনি।

বুর্জ খলিফা



বিশ্বের সবচেয়ে সুউচ্চ আকাশচুম্বি ভবন – বুর্জ খলিফা। যা একইসাথে একটি সাত তারকা হোটেল, মসজিদ, বিনোদন কেন্দ্র, নাইট ক্লাব, অ্যাপার্টমেন্ট, অফিস এবং বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যবেক্ষণ ডেক হিসেবে বিখ্যাত। ভবনটি জুমেইরা সৈকত থেকে ২৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বুর্জ খলিফা ‘দুবাই টাওয়ার’ নামেও পরিচিত। ১৬০ তলাবিশিষ্ট ‘বুর্জ খলিফা’র মোট উচ্চতা ২,৭১৭ ফুট। যার অবকাঠামো করা হয়েছে রকেটের মতো। এই ভবনে ঘণ্টায় ৪০ মাইল গতি বেগে চলে এমন মোট ৫৪টি এলিভেটর আছে।

আরো পড়ুন: বিশ্ববিস্মিত সেরা ২০টি উদ্ভট ও অবাক করা রেষ্টুরেন্ট!

পর্যটকদের কাছে এটি নিঃসন্দেহে আরব আমিরাতের সবচেয়ে দর্শনীয় এবং আকর্ষণীয় স্থান। এই ভবনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা হলো ১২৪ তলার উপরে প্রকৃতি দর্শনের জন্য পর্যবেক্ষণ ডেকটি। যেখান থেকে শুধু দুবাই নয়, আরবের একটি বৃহৎ অংশ পর্যবেক্ষণ করা যায়।

ভূমি ছেড়ে এই ভবনটি এতোটাই উপরে উঠেছে যে, একই বিল্ডিংয়ে থাকা সত্ত্বেও এখানকার মানুষজন ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সূর্যদয় এবং সূর্যাস্ত দেখতে পান। শুধু উচ্চতাই নয়, বুর্জ খলিফার আভিজাত্য এবং চোখ ধাঁধানো নির্মাণশৈলী এক মুহূর্তেই আপনাকে বিমোহিত করে তুলবে। তবে বুর্জ খলিফা ভ্রমণের ক্ষেত্রে সূর্যোদয়ের সময়টি বেছে নিতে ভুলবেন না যেন।

দি ফাউন্টেন


রঙিন পানির নৃত্য দেখতে যেতে পারেন দি ফাউন্টেনে। এখানকার বিশাল কৃত্রিম ওয়াটার ডান্স প্রায় সাড়ে ছয় হাজার সঙ্গীতের সুরের সাথে তাল মিলিয়ে ৩ থেকে ৬ মিনিটব্যাপি নৃত্য পরিবেশন করে।

আরো পড়ুন: বিশ্বের সবছেয়ে বড় জাহাজ; টাইটানিক থেকে ১০গুণ বড়!

সন্ধ্যায় এই ফাউন্টেনে যুক্ত হয় ৬,৬০০টি সুপার লাইট এবং ২৫টি রঙের প্রজেক্টর। যা পানির ধারাকে বহুরূপে প্রকাশ করে। এমনকি রঙিন আলোকরশ্মির ঝলমল সেই আলো ২০ মাইলেরও বেশি দূর থেকে দেখা যায়। প্রত্যেক ১৫-২০ মিনিট পরপর এই ওয়াটার ডান্স দেখা যায়।

আটলান্টিস, দি পাম


আটলান্টিস, দি পাম হচ্ছে একটি রিসোর্ট। যা দুবাইয়ের পাম জুমাইরাতে অবস্থিত। কৃত্রিম দ্বীপের উপর তৈরি এটিই বিশ্বের প্রথম রিসোর্ট। দি পামে প্রবেশ করার ঠিক পর মুহূর্ত থেকেই এর বিলাসিতা ও চোখ ধাঁধানো জৌলস্য আপনার মন কেঁড়ে নেবে।

কয়েকদিনের অবসরে ছুটি কাটানোর জন্য এই রিসোর্ট খুবই জনপ্রিয়। হলিউডের অনেক তারকাই এখানে আসেন তাদের অবসর সময় কাটাতে। খুব কাছ থেকে সে সব তারকাদের মুখোমুখি হতে পারেন আপনিও।

পাম আইল্যান্ড



দুবাইয়ের পাম আইল্যান্ডটি বিশ্বব্যাপি জনপ্রিয় একটি জায়গা। যা মানুষের তৈরি কৃত্রিম দ্বীপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টিকারী। পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে সাগরের বুকে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম তিনটি দ্বীপ ।

আরো পড়ুন:চোখ ধাঁধানো বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ২৫টি সেতু !

সমুদ্রের উপর বালি দিয়ে তৈরি তিনটি দ্বীপ এমনভাবে বসানো হয়েছে যা উপর থেকে দেখতে একটি পাম গাছের মতো লাগে। এখানে রয়েছে সারি সারি বিলাসবহুল সব হোটেল আর রিসোর্ট। আরো রয়েছে নিজস্ব আবাসিক সৈকত, অ্যাপার্টমেন্ট, সুইমিং পুল, থিম পার্ক, রেস্তোরাঁ, শপিংমল, হাসপাতাল এবং খেলাধুলার সুবিধা।

স্কি দুবাই

Ski Dubai



দুবাই ভ্রমণের পথে মরুভূমির বুকে ধু ধু করে বালি উড়া কিংবা মরিচিকার দেখা পাওয়া স্বাভাবিক মনে হলেও বরফের মাঝে স্কি করাটা অবশ্যই অসম্ভব। কিন্তু আশ্চর্য হলেও মরুভূমিতে তপ্ত ঝলসানো রোদ থাকলেও দুবাইয়েই কেবল মরুভূমির বুকে স্কি করা সম্ভব। তাও আবার বরফ ঘেরা মাঠে। যা ২২,৫০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত।


স্কি দুবাই মূলত একটি ইনডোর স্কি লাউঞ্জ। যেখানে পাওয়া যাবে পৃথিবীর সর্বপ্রথম ৪০০ মিটার দীর্ঘ ব্ল্যাক রান। লাউঞ্জের ভেতরে প্রবেশ করলে কিছু সময়ের জন্য হলেও আপনি পেতে পারেন এন্টার্কটিকা ভ্রমণের অনুভূতি। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য স্কি দুবাইয়ের অভিজ্ঞতা উত্তেজনাপূর্ণ ও আনন্দময় মুহূর্তের সৃষ্টি করে। স্কি দুবাইয়ের প্রধান আকর্ষণ জেনেটু পেঙ্গুইন, কিং পেঙ্গুইন।

মন জুড়ানো বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ১৫টি মসজিদ

এখানে পেঙ্গুইনদের সাথে সাঁতার কাটাসহ কাচের বিশাল প্রাচীরের মাধ্যমে পেঙ্গুইনের মুখোমুখি হওয়া সত্যি অতুলনীয়। শূণ্যের নিচে মাইনাস ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় বসেও আপনি মজা করে আইসক্রিম বা মগ ভর্তি গরম কফি খেতে পারেন। সে জন্য আপনাকে অবশ্যই বিশেষ এক ধরনের পোশাক পরতে হবে।

দুবাই মারিনা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আরেক সুউচ্চ ভবন – দুবাই মারিনা। যেখানে রয়েছে বিশাল বিশাল সব আকাশছোঁয়া ভবন, বিলাসবহুল সৌন্দর্যে আবেশিত প্যাঁচানো ‘ক্যানন টাওয়ার’, সমুদ্র সৈকত। যা টুরিস্টদের মন কেঁড়ে নেয় এক নিমিষেই। সুন্দর আবহাওয়ার একটি দিন বেছে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন দুবাই মারিনা থেকে। এখানে পানি ট্যাক্সি নিয়ে ঘুরতে পারেন মারিনার অন্যতম ক্রুজে। কিংবা প্রিয়জনদের সাথে সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে অসাধারণ একটি ডিনারও করে নিতে পারেন।

আরো পড়ুন: দুই হাতের উপর দাঁড়িয়ে আছে ভিয়েতনামের এই গোল্ডেন ব্রিজ


[ প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকেপ্রতিদিনের স্বাস্থ্য টিপসলেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। ]