More

    This Website Under Constraction

    তুলসী পাতার গুনাগুন উপকারিতা ও ৬১ টি স্বাস্থ্য টিপস

    তুলসী পাতার গুণাগুণ

    তুলসী গাছ একটি ঔষধিগাছ। তুলসী অর্থ যার তুলনা নেই। তুলসী পাতার উপকারিতা আমরা অনেকে জানিনা! যা জানি সামান্য কিছুগুনাবলী সম্পর্তু জানি। তাই আজকের প্রতিবেদনে তুলসি পাতার ৬১টি স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তুলসী পাতার সুগন্ধিযুক্ত, কটু তিক্তরস, রুচিকর। এটি সর্দি, কাশি, কৃমি ও বায়ুনাশক এবং মুত্রকর, হজমকারক ও এন্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

    তবে বিশেষ করে কফের প্রাধান্যে যে সব রোগ সৃষ্টি হয় সে ক্ষেত্রে তুলসী পাতার উপকারিতা রয়েছে। মানুষ যত আধুনিক হচ্ছে, এসবকে পরিত্যাগ করছে। তবে চীন এবং ভারতে এই ভেষজ চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক গবেষণা হচ্ছে।

    ব্রিটিশরা যখন ভারতে পা রাখে তখন মশার অত্যাচার থেকে বাঁচতে তুলসীর শরণাপন্ন হয়। তারা বাংলোর চারদিকে তুলসী ও নিমের গাছ লাগিয়ে নিল। ব্রিটিশদের বিস্ময়ে পরিণত হয় তুলসী গাছ। তা রা একে বলত ‘মসকিউটো প্লান্ট’

    তুলসীতে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাংগাল উপাদান রয়েছে। এগুলো রক্ত পরিশুদ্ধ করে। এমনকি দেহে ইনসুলিন উৎপাদনের মাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে রক্তে চিনির পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

    তুলসী পাতার উপকারিত

    পরিবেশগত কারণ

    পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে তুলসীগাছ একমাত্র উদ্ভিদ যা দিন রাত চব্বিশ ঘণ্টা অক্সিজেন সরবরাহ করে বায়ু বিশুদ্ধ রাখে যেখানে অন্য যেকোন গাছ রাত্রিতে কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করে তাই রাতের বেলাতে তুলসীতলায় শয়ন করাও একজন ব্যক্তির জন্য তুলসি পাতা বেশ উপকারী।

    এছাড়া তুলসীগাছ ভুমি ক্ষয়রোধক এবং তুলসী গাছ লাগালে তা মশা কীটপতঙ্গ ও সাপ থেকে দূরে রাখে।

    তুলসী পাতার স্বাস্থ্য উপকারিতা

    তুলসী পাতার স্বাস্থ্য উপকারিতা

    নিরাময় ক্ষমতা

    তুলসী পাতার অনেক ঔষধি গুনাগুণ আছে। তুলসি পাতা নার্ভ টনিক ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি কারী। এটা শ্বাস নালী থেকে সর্দি–কাশী দূর করে। তুলসীর ক্ষত সারানোর ক্ষমতা আছে। তুলসী পাকস্থলীর শক্তি বৃদ্ধি করে ও অনেক বেশি ঘাম নিঃসৃত হতে সাহায্য করে।

    কিডনির পাথর

    তুলসি পতায় রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে সেখানে পাথর হওয়ার আশঙ্কা কমায়।

    শুধু তাই নয়, প্রতিদিন যদি মধু দিয়ে তৈরি চুলসি পাতার রস খাওয়া যায়, তাহলে কিডনির পাথর গলে তো যায়ই, সেই সঙ্গে শরীর থেকে তা বেরিয়েও যায়।

    প্রসঙ্গত, তুলসি পাতায় যে ডিটক্সিফাইং এজেন্ট রয়েছে তা শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে দেয় না। ফেল কিডনিতে পাথর হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়।

    জ্বর ভালো করে

    তুলসীর জীবাণু নাশক, ছত্রাক নাশক ও ব্যাক্টেরিয়া নাশক ক্ষমতা আছে। তাই এটা জ্বর ভালো করতে পারে। সাধারণ জ্বর থেকে ম্যালেরিয়ার জ্বর পর্যন্ত ভালো করতে পারে তুলসী পাতা।

    • –      আধা লিটার পানিতে কিছু তুলসী পাতা ও এলাচ গুঁড়া  দিয়ে ফুটিয়ে নিন
    • –      এক্ষেত্রে তুলসী ও এলাচ গুঁড়ার অনুপাত হবে ১:০.৩
    • –      জ্বাল দিতে দিতে মিশ্রণটিকে অর্ধেক করে ফেলুন
    • –      মিশ্রণটির সাথে চিনি ও দুধ মিশিয়ে ২-৩ ঘণ্টা পর পর পান করুন
    • –      এই মিশ্রণটি শিশুদের জন্য অনেক কার্যকরী।

    বিভিন্ন প্রকার জ্বরে তুলসীপাতার রসের ব্যবহার অনেকটা শাস্ত্রীয় বিষয় হিসেবে পরিচিত। বিশেষত ঋতু পরিবর্তন হেতু যে জ্বর, ম্যালেরিয়া জ্বর এবং ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসায় এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে সমাজে।

    এর জন্য কচি তুলসীপাতা চায়ের সাথে সেদ্ধ করে পান করলে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধ হয়ে থাকে।

    একিউট জ্বরে তুলসীপাতার সেদ্ধ রসের সাথে এলাচিগুঁড়া এবং চিনি ও দুধ মিশিয়ে পান করলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। গলক্ষতের জন্য তুলসীপাতা সেদ্ধ পানি পান করলে এবং গারগল করলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

    তুলসী পাতার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে ফুসফুসীয় সমস্যায়। ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, কাশি এবং ঠাণ্ডাজনিত রোগে তুলসী পাতার রস, মধু ও আদা মিশিয়ে পান করলে উপশম পাওয়া যায়।

    ইনফ্লুয়েঞ্জা হলে তুলসী পাতার রস, লবণ ও লবঙ্গ মিশিয়ে পান করলে ফল পাওয়া যায়। এ ধরনের রোগের ব্যবহারের জন্য তুলসী পাতা আধা লিটার পানিতে সেদ্ধ করতে হয় ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষন তা অর্ধেকে পরিণত হয়।

    দাঁতের সমস্যা দূর করে

    অধিকাংশ মানুষ দাঁতের সমস্যায় ভোগেন। দাঁত ঠিকমতো পরিষ্কার না থাকার ফলে ব্যাকটেরিয়া জমা হয়। ফলে নানা সমস্যা দেখা যায়। মুখের ভেতর ব্যাকটেরিয়াকে নির্মূল করতে তুলসী পাতার গুণাগুণ প্রবল।

    এছাড়া তুলসী দাঁত হলুদ হয়ে যাবার থেকে বাঁচায়। মুখে দুর্গন্ধ হতে দেয় তো না সঙ্গে মাড়িকেও ভালো রাখে। সকল সমস্যার মুশকিল আসান করতে রোজ তুলসী দিয়ে চা খান।

    ডায়াবেটিস নিরাময় করে

    তুলসী পাতায় প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও এসেনশিয়াল অয়েল আছে যা ইউজেনল, মিথাইল ইউজেনল ও ক্যারিওফাইলিন উৎপন্ন করে।

    এই উপাদান গুলো অগ্নাশয়ের বিটা সেলকে কাজ করতে সাহায্য করে( বিটা সেল ইনসুলিন জমা রাখে ও নিঃসৃত করে)। যার ফলে ইনসুলিন এর সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। এতে ব্লাড সুগার কমে এবং ডায়াবেটিস ভালো হয়।

    ক্যানসার রোগকে হারিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে

    প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-কার্সিনোজেনিক প্রপাটিজ এবং অ্যান্টি-অ্যাক্সিডেন্ট থাকায় তুলসি পাতা খেলে ক্যানসার রোগও দূরে পালায়। একাধিক গবেষণা অনুসারে, রোজ যদি তুলসি পাতা চিবিয়ে খাওয়া যায়, তাহলে ব্রেস্ট এবং ওরাল ক্যানসার কমতে শুরু করে।

    প্রসঙ্গত, প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস করে তুলসি পাতার রস খেলে পরিবেশে উপস্থিত নানা ক্ষতিকর উপাদান আমাদের শরীরকে নষ্ট করতে পারে না। ফলে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।

    নানা রকমের স্টমাক সম্পর্কিত রোগ কমায়

    গত কয়েক বছরে আমাদের দেশ সহ সারা বিশ্বে গ্যাস্ট্রিক প্রবলেম, আলসার, ব্লটিং প্রভৃতি রোগের প্রকোপ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। আর তুলসি পাতা এইসব রোগ সারাতে দারুণ কাজে আসে। প্রতিদিন এক চামচ তুলসির জুসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে নানা রকমের পেটের রোগ একেবারে দূরে পালায়।

    কিডনি পাথর দূর করে

    রক্তের ইউরিক এসিড-এর লেভেলকে কমতে সাহায্য করে কিডনিকে পরিষ্কার করে তুলসী পাতা। তুলসীর অ্যাসেটিক এসিড এবং  এসেনশিয়াল অয়েল এর উপাদান গুলো কিডনির পাথর ভাঙতে সাহায্য করে ও ব্যাথা কমায়। কিডনির পাথর দূর করার জন্য প্রতিদিন তুলসী পাতার রসের সাথে মধু মিশিয়ে খেতে হবে। এভাবে নিয়মিত ৬ মাস খেলে কিডনি পাথর দূর হবে।

    ক্যান্সার নিরাময় করে

    তুলসীর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি কারসেনোজেনিক উপাদান ব্রেস্ট ক্যান্সার ও ওরাল ক্যান্সার এর বৃদ্ধিকে বন্ধ করতে পারে। কারণ এর উপাদানগুলো টিউমারের মধ্যে রক্ত চলাচল বন্ধ করে দেয়। উপকার পেতে প্রতিদিন তুলসীর রস খান।

    শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ উপকারি

    তুলসীপাতার রস শিশুদের জন্য বেশ উপকারী। বিশেষত শিশুদের ঠাণ্ডা লাগা, জ্বর হওয়া, কাশি লাগা, ডায়রিয়া ও বমির জন্য তুলসীপাতার রস ভালো কাজ করে। জলবসন্তের পুঁজ শুকাতেও তুলসীপাতা ব্যবহৃত হয়।

    মানসিক চাপ কমায়

    তুলসী পাতা

    মানসিক চাপে অ্যান্টিস্ট্রেস এজেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক অবসাদ প্রশমনে এমনকি প্রতিরোধে তুলসী চমৎকার কাজ করে।

    কোনো সুস্থ ব্যক্তি যদি প্রতিদিন অন্তত ১২টি তুলসীপাতা দিনে দু’বার নিয়মিত চিবাতে পারেন তাহলে সেই ব্যক্তি কখনো মানসিক অবসাদে আক্রান্ত হবেন না বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।

    কর্টিসলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে মানসিক চাপ কমিয়ে আনতে সাহায্য করে তুলসি পাতা। স্নায়ু শিথিল করে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, যা মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী ফ্রি রেডিকলকে নিয়ন্ত্রণ করে।

    অতিরিক্ত অবসাদ এবং মানসিক চাপ অনুভূত হলে ১০ থেকে ১২টি তুলসী পাতা চিবিয়ে খেয়ে নিন, উপকৃত হবেন।তুলসীর স্ট্রেস কমানোর ক্ষমতা আছে। সুস্থ মানুষও প্রতিদিন ১২ টি তুলসী পাতা চিবালে স্ট্রেস মুক্ত থাকতে পারবেন।

    হার্টের অসুখ

    তুলসী পাতায় আছে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদানগুলো হার্টকে বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্ত রাখতে সহায়তা করে। তুলসী পাতা হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ায় ও এর স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

    মুখের ঘা দূর করতে

    তুলসী পাতা মুখের আলসার ভালো করতে পারে। মুখের ঘা শুকাতেও তুলসীপাতা ভালো কাজ করে। মুখের ইনফেকশন দূর করতে তুলসীপাতা অতুলনীয়। প্রতিদিন কিছু পাতা (দিনে দুবার) নিয়মিত চিবালে মুখের সংক্রমণ রোধ করা যেতে পারে।

    চর্মরোগে তুলসীপাতার রস উপকারী। দাউদ এবং অন্যান্য চুলকানিতে তুলসীপাতার রস মালিশ করলে ফল পাওয়া যায়। ন্যাচার অ্যাথিতে শ্বেতীরোগের চিকিৎসায় তুলসীপাতার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

    মাথা যন্ত্রণা কমায়

    একটা বড় পাত্রে জল নিয়ে তাতে কয়েকটা তুলসি পাতা ফেলে দিন। তরপর সেই জলটা ফুটিয়ে নিন। এবার মাথা টাওয়ালে ঢেকে সেই জলের ভাব নিলে দেখবেন মাথা যন্ত্রণা কমে যাবে। আসলে তুলসি পাতায় এমন কিছু উপাদান রয়েছে য নিমেষে মাথা যন্ত্রণা কমিয়ে ফেলতে কার্যকরি ভূমিকা নেয়।

    তুলসী পাতার অন্যান্য উপকারিতা

    Holy Basil
    Holy Basil
    • মাথা ব্যথা ভালো করতে পারে। এর জন্য চন্দনের পেস্ট এর সাথে তুলসী পাতা বাটা মিশিয়ে কপালে লাগালে মাথাব্যথা ভালো হবে।
    • তুলসী পাতা রক্ত পরিষ্কার করে, কোলেস্টেরল কমায় ।
    • পোকায় কামড় দিলে তুলসীর রস ব্যবহার করলে ব্যথা দূর হয়।
    • ডায়রিয়া হলে ১০ থেকে বারোটি পাতা পিষে রস খেয়ে ফেলুন।

    আরো পড়ুন: রসুনে ৪০টির ও বেশি উপকারিতা

    • তুলসীর বীজ গায়ের চামড়াকে মসৃণ রাখে। বীজ সেবনে প্রস্রাবের মাত্রা বেড়ে থাকে।
    • চোখের ক্ষতে এবং রাতকানা রোগে নিয়মিত তুলসীপাতার রস ড্রপ হিসেবে ব্যবহারে ফল পাওয়া যায়। দাঁতের সুরক্ষায় তুলসীপাতা শুকিয়ে গুঁড়া করে দাঁত মাজলে দাঁত ভালো থাকে।

    তুলসী পাতার আরো উপকারিতা সমূহ

    • এ ছাড়া সরিষার তেলের সাথে তুলসীপাতার গুঁড়া মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে দাঁত মাজলেও দাঁত শক্ত থাকে। মুখের দুর্গন্ধ রোধে তুলসীপাতার মাজন ভালো ফল দিয়ে থাকে।
    • তুলসীর বীজ পানিতে ভিজালে পিচ্ছিল হয়। এই পানিতে চিনি মিশিয়ে শরবতের মত করে খেলে প্রস্রাবজনিত জ্বালা যন্ত্রনায় বিশেষ উপকার হয়। এছাড়াও তুলসী পাতার রস ২৫০ গ্রাম দুধ এবং ১৫০ গ্রাম জলের মধ্যে মিশিয়ে পান করুন ।
    • মুখে বসন্তের কাল দাগে তুলসীর রস মাখলে ঐ দাগ মিলিয়ে যায়। হামের পর যে সব শিশুর শরীরে কালো দাগ হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে তুলসী পাতার রস মাখলে গায়ে স্বাভাবিক রং ফিরে আসে।
    • মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে দিনে ৪-৫ বার তুলসী পাতা চেবান ৷
    • ত্বকের চমক বাড়ানোর জন্য, এছাড়াও ত্বকের বলীরেখা এবং ব্রোন দূর করার জন্য তুলসী পাতা পিষে মুখে লাগান ৷
    • কোন কারনে রক্ত দূষিত হলে কাল তুলসিপাতার রস কিছুদিন খেলে উপকার পাওয়া যায়। শ্লেষ্মার জন্য নাক বন্ধ হয়ে কোনো গন্ধ পাওয়া না গেলে সে সময় শুষ্ক পাতা চূর্ণের নস্যি নিলে সেরে যায়।

      পাতাচূর্ণ দুই আঙ্গুলের চিমটি দিয়ে ধরে নাক দিয়ে টানতে হয়, সেটাই নস্যি।
    • তুলসি পাতার রসে লবন মিশিয়ে দাদে লাগালে উপশম হয়।

    আরো পড়ুন: গুগল এ্যাডসেন্স থেকে আয় নিয়ে সকল প্রশ্ন ও উত্তর

    • যদি কখনও বমি কিংবা মাথা ঘোরা শুরু করে, তাহলে তুলসী রসের মধ্যে গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।
    • সকালবেলা খালি পেটে তুলসী পাতা চিবিয়ে রস পান করলে খাবার রুচী বাড়ে।
    • ঘা যদি দ্রুত কমাতে চান তাহলে তুলসী পাতা এবং ফিটকিরি একসঙ্গে পিষে ঘা এর স্থানে লাগান, কমে যাবে ৷
    • তুলসী মূল শুক্র গাঢ় কারক। তুলসী পাতার ক্বাথ, এলাচ গুঁড়া এবং এক তোলা পরিমাণ মিছরী পান করলে ধাতুপুষ্টি সাধিত হয় যতদিন সম্ভব খাওয়া যায়।

      এটি অত্যন্ত ইন্দ্রিয় উত্তেজক। প্রতিদিন এক ইঞ্চি পরিমাণ তুলসী গাছের শিকড় পানের সাথে খেলে যৌনদূর্বলতা রোগ সেরে যায়।
    • চোখের সমস্যা দূর করতে রাতে কয়েকটি তুলসী পাতা পানিতে ভিজিয়ে রেখে ওই পানি দিয়ে সকালে চোখ ধুয়ে ফেলুন।
    • শরীরের কোন অংশ যদি পুড়ে যায় তাহলে তুলসীর রস এবং নারকেলের তেল ফেটিয়ে লাগান, এতে জ্বালাপোড়া কমে যাবে। পোড়া জায়গাটা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে এবং পোড়া দাগ ওঠে যাবে।
    • চর্মরোগে তুলসী পাতা দূর্বাঘাসের ডগার সংগে বেটে মাখলে ভালো হয়ে যায়।
    • পেট খারাপ হলে তুলসীর ১০ টা পাতা সামান্য জিরের সঙ্গে পিষে ৩-৪ বার খান ৷ হাগু একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে!!! মানে পায়খানার ওই সমস্যাটা আর কি!
    • মানবদেহের যেকোনো ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধে তুলসীর পাতা অনন্য। এতে রয়েছে জীবাণুনাশক ও সংক্রমণ শক
    • পানিতে তুলসী পাতার সঙ্গে এলাচ ফুটিয়ে পান করলে নিমিষেই জ্বর চলে যায়।
    • মানবদেহের যেকোনো ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধে তুলসীর পাতা অনন্য। এতে রয়েছে জীবাণুনাশক ও সংক্রমণ শক্তিনাশক উপাদান।
    • ব্রংকাইটিস, অ্যাজমা, ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং ঠাণ্ডা-সর্দিতে তুলসী পাতার সঙ্গে মধু ও আদার মিশ্রণ দারুণ কাজ করে।
    • খালি পেটে তুলসীর পাতা খেলে কিডনির পাথর দূর হয়। বহুকাল ধরে কিডনির পাথর দূরীকরণে এ চিকিৎসা নেওয়া হয়।
    • তুলসীর পাতায় তৈরি হালকা গরম জুস পাকস্থলীর প্রদাহ নিরাময় করে।
    • মুখের দুর্গন্ধ, দাঁতের ক্ষয়সহ অন্যান্য দন্ত চিকিৎসায় তুলসী অতুলনীয়। পুঁজযুক্ত স্রাবের চিকিৎসায়ও তুলসী ব্যবহৃত হয়।

    আরো পড়ুন: সুখী হতে কি টাকা লাগে? এই ৪০টি সিম্পল উপায় দেখুন!

    • রাতকানা রোগ সারাতে প্রাচীনকাল থেকে তুলসীর ব্যবহার প্রচলিত।
    • দেহ থেকে বিষাক্ত উপাদান দূর করে তুলসী। বহু বিশেষজ্ঞের দাবি, ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও তুলসী ভালো ফল দিতে পারে।

    দৈনন্দিন জীবনে তুলসীর প্রয়োগ

    Tulisi patar upokarita
    Holy Basil

    সর্দি ও দীর্ঘদিনের খুসখুসে কাশিতে কিছু তুলসি পাতা গরম পানিতে জ্বাল দিয়ে নির্যাস বের করে নিয়ে সামান্য আদা ও মধু দিয়ে খেলে সর্দি-কাশি ও জ্বর ভালো হয়। তুলসির এই নির্যাস খেতে হবে পাঁচ থেকে সাত দিন তিন বেলা করে।

    শিশু সর্দি কাশিতে চার থেকে দশ ফোঁটা তুলসি পাতার রসের সঙ্গে তিন থেকে পাঁঁচ ফোটা মধু মিশিয়ে তিন বেলা খাওয়ালে সর্দি কাশি দুই তিন দিনের মধ্যে ভালো হয়। 

    ব্রংকাইটিস ও ডাইরিয়াতে ভালো ফল দেয় তুলসি। গরমে কেউ না ঘামলে ঘাম ঝরাতে ভূমিকা রাখে তুলসি।

    এসব ক্ষেত্রে তুলসির পাতা প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচটি খেতে হবে কয়েক সপ্তাহ ধরে। তুলসির কাঁচা পাতার রস বা বিচির থেতলানের পর রস কিছুটা গরম করে চুলকানি সহ বিভিন্ন চর্ম রোগে লাগালে ভালো হয়। 

    কী করে তৈরি করবেন তুলসি চা?

    তুলসি চা তৈরি করা খুবই সহজ। গরম পানিতে ২-৩টি তুলসি পাতা দিয়ে ফুটিয়ে নিন। পানির রং ও সুবাস পরিবর্তন হয়ে এলে আঁচ বন্ধ করে রাখুন তিন মিনিট। এরপর চা ছেঁকে নিন। এতে অল্প করে মধু ও লেবুর রস দিয়ে পান করতে পারেন। এছাড়া অল্প করে দারুচিনি গুঁড়ো এবং আদা দিতেও পারেন।

    তুলসী পাতা ব্যবহার ও প্রয়োগ

    তুলসী পাতা ব্যবহার ও প্রযোগ
    তুলসী পাতা
    • বছরের প্রতিদিন খেলে কোন প্রকারের-রোগ হবে না 
    • গোসল করার আগে তুলসীর কিছু পাতা পানিতে দিয়ে সেই পানি দ্বারা গোসল করলে কোন প্রকার চর্মরোগ হয় না 
    • তুলসী পাতা চিবালে দাঁতে পোকা লাগে না। দাঁত মজবুত ও উজ্জ্বল হয় ও দাঁতের আয়ু বৃদ্ধি পায়। 
    • সাবান, তেল, ক্রিম প্রভৃতির স্থলে তুলসীর রস ব্যবহার  করলে নানা প্রকার দৈহিক সুস্থ্যতা লাভ হয়। 
    • চোখ উঠা একটি সংক্রামক রোগ । ঠান্ডা ও গরমে ঘোরাফেরার ফলে  এ রোগ হয়ে থাকে। এ অবস্থায় তুলসী পাতার রস চোখে কাজলের মতো করে লাগালে বা তুলসী পাতার রসের সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে চোখে দিলে চোখ উঠা রোগ বা পানি পড়া রোগের আরোগ্য লাভ হয়।
    • কুষ্ঠ রোগ হলে তুলসী পাতার রস সেবন করলে আরোগ্য লাভ হয়। শ্বেত রোগে কিছু পরিমাণ তুলসী পাতা সকাল, দুপুর ও বিকেলে চিবিয়ে খেলে এ রোগ থেকে আরোগ্য লাভ হয়। তুলসী গাছের মূলের রস দাগের উপর প্রলোপ দিলে দাগ সেরে যায় ।

    আরো পড়ুন:

    •  গর্ভরক্ষা: গর্ভাশয়ের সমস্যায় গর্ভপাত হলে তুলসীর বীজ ২৫ গ্রাম পেষন করে খেলে উপকার হয়। 
    • জন্ডিস একটি পরিচিত রোগের নাম। এ রোগে তুলসীর রস ১০ গ্রাম এবং ৫০ গ্রাম তুলসী গাছের মূলের রস একত্রে মিশিয়ে খেলে আরোগ্য লাভ হয়। একমাস পর্যন্ত সেবন করতে হবে। দিনে ৩ বার । এতে দেহে রক্তস্বল্পতা ও হলদে বর্ণ দূর হয়। 
    • অন্ডকোষ টনটন করলে চার তোলা পরিমান তুলসি পাতার রসের সাথে একই পরিমান মিছরির গুড়ো মিশিয়ে খেলে যন্ত্রণা কমে।
    • ঘনঘন প্রস্রাব হলে আধা ইঞ্চি লম্বা তুলসির শিকড় কেটে পানের সাথে খেলে ক’দিনেই সুফল পাওয়া যায়।
    • শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে কিংবা পোড়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে তুলসি পাতার রস দিয়ে লেপে দিলে সাথে সাথে জ্বালা যন্ত্রণা কমে। 

    প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল বিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, বিস্ময়কর পৃথিবী, সচেতনমূলক লেখা, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে  SOMVOB.COM লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

    Recent Articles

    Hands on: Beats PowerBeats Pro review

    In May, Uber launched a new experiment: selling train and bus tickets through its app for its customers in Denver, Colorado. Today, the company...

    New standalone app for macOS to be Like iTunes

    In May, Uber launched a new experiment: selling train and bus tickets through its app for its customers in Denver, Colorado. Today, the company...

    NASA spacecraft to collide a small moonlet in 2022

    In May, Uber launched a new experiment: selling train and bus tickets through its app for its customers in Denver, Colorado. Today, the company...

    The Google Nest Hub Max soups up the smart display

    In May, Uber launched a new experiment: selling train and bus tickets through its app for its customers in Denver, Colorado. Today, the company...

    Foldable iPhone 2020 release date rumours & patents

    In May, Uber launched a new experiment: selling train and bus tickets through its app for its customers in Denver, Colorado. Today, the company...

    Related Stories

    Leave A Reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    Stay on op - Ge the daily news in your inbox