ড্রাগন ফল খেলে কি হয়? দেখুন ড্রাগন ফলের সেরা পুষ্টিগুণ সমূহ!

0
429

সম্ভব ডটকম

ড্রাগন ফ্রুট বাংলাদেশে তেমন প্রচলিত নয়। এটি মূলত ক্যাকটাস গোত্রের। আমেরিকার এই ফল তবে প্রায় সব দেশেই সামদৃত। কিন্তু ভিয়েতনামে এর সর্বাধিক বাণিজ্যিক চাষ হয়। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের নাটোর, রংপুর, রাঙামাটি, রাজবাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে। ঢাকার কিছু অভিজাত হোটেলে প্রতি কেজি ড্রাগন ফল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এই ফল দেখতে খুব আকর্ষনীয় কিন্তু এর কার্যকারিতা ও সুফলতা অনেক বেশি। এ ফলকে পিটাইয়া, টিহায়া ইত্যাদিও নামে ডাকা হয়। ড্র্রগন ফল গাছ শুধুমাত্র রাতে ফুল দেয়। এশিয়ার মানুষের কাছে এ ফল অনেক জনপ্রিয়, হালকা মিষ্টি-মিষ্টি। ড্রাগন ফল দেখতেও অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর। ফ্রেশ ফ্রুটের চেয়ে শুষ্ক ফ্রুট অনেক ভালো।

ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ

প্রতি ১০০ গ্রাম ড্রাগন ফলের প্রায় ৫৫ গ্রামই খাওয়ার যোগ্য।
প্রতি ১০০ গ্রাম ড্রাগন ফলে পুষ্টিগুণ সমূহ:


পানি–৮০-৯০ গ্রাম
প্রোটিন-০.১৫–০.৫ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট–৯–১৪ গ্রাম
চর্বি–০.১–০.৬ গ্রাম
আঁশ–০.৩–০.৯ গ্রাম
ক্যালসিয়াম–৬-১০ মিলিগ্রাম
আয়রন–০.৩–০.৭ গ্রাম
ফসফরাস–১৬-৩৬ মিলিগ্রাম
নায়াসিন–০.২–০.৪৫ মিলিগ্রাম
ভিটামিন সি–৪-২৫ মিলিগ্রাম

ড্রাগন ফলের উপকারিতা

ক্যালোরি খুব কম। তাই ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীরা খেতে পারবেন।

ড্রাগন ফলে ভিটামিন সি বেশি থাকার ফলে এই ফল খেলে আমাদের শরীরের ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ হয়। লাল শাঁসের ড্রাগন ফল থেকে বেশি পরিমানে ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

আয়রন থাকার কারনে এই ফল খেলে রক্ত শূন্যতা দূর হয়।

ড্রাগন ফলে ক্যালোরি খুব কম থাকার কারনে এই ফল ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীরা অনায়াসেই খেতে পারেন।

ড্রাগন ফলে ভিটামিন সি বেশি থাকার ফলে এই ফল খেলে আমাদের শরীরের ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ হয়। লাল শাঁসের ড্রাগন ফল থেকে বেশি পরিমানে ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

আয়রন থাকার কারনে এই ফল খেলে রক্ত শূন্যতা দূর হয়।

নিয়মিত ড্রাগন ফল খেলে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই এই ফল ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উত্তম।

ড্রাগন ফলের শাঁস পিচ্ছিল হওয়ায় এই ফল খেলে কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর হয়।

ড্রাগন ফলে প্রচুর পরিমানে পানি থাকার কারনে এই ফল খেলে শরীরের পানি শূন্যতা সহজেই দূর হয় ।

ড্রাগন ফলে প্রচুর ফাইবার থাকে সরবারহ করে যা পেটের পীড়া এবং লিভার এর জন্য উত্তম।

নিয়মিত ড্রাগন ফল খেলে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই এই ফল ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উত্তম।

ড্রাগন ফলের শাঁস পিচ্ছিল হওয়ায় এই ফল খেলে কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর হয়।

ড্রাগন ফলে প্রচুর পরিমানে পানি থাকার কারনে এই ফল জুস আকারে খেলে শরীরের পানি শূন্যতা সহজেই দূর হয়।

ড্রাগন ফলে প্রচুর ফাইবার থাকে সরবারহ করে যা পেটের পীড়া এবং লিভার এর জন্য উত্তম।


বয়সের ছাপ দূর করা

ত্বককে দৃঢ় রাখতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দরকার হয় শরীরের। এগুলো ক্যান্সারের সঙ্গেও লড়াই করে। ভিটামিন-সি এর উপস্থিতির কারণে ড্রাগন ফলকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের বড় উৎস মনে করা হয়।

ক্যান্সার প্রতিরোধ

২০১১ সালে এশিয়া প্যাসিফিক জার্নাল অব ক্যান্সার প্রিভেনশনে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ‘লাইকোপেনে’ নামক পুষ্টি উপাদান গ্রহণ না করলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়াও ড্রাগনে রয়েছে ক্যারোটিন। যা শরীরে থাকা টিউমার ধ্বংস করতে পারে।

সুস্থ হৃদপিণ্ড

খারাপ কোলেস্ট্রোরল কমানোর মাধ্যমে হৃদযন্ত্র ভাল রাখে ড্রাগন। ভাল কোলেস্ট্রেরলও বাড়ায় এ ফল। ২০১০ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে ড্রাগন খেলে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।

ডায়াবেটিস

বেশি পরিমাণে আঁশ থাকায় ড্রাগন খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্থিতিশীল থাকে। গবেষকরা বলছেন, খাদ্য তালিকায় নিয়মিত ড্রাগন থাকলে ডায়াবেটিস সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব।

হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখে

খাদ্যে আঁশের পরিমাণ বেশি থাকলে পরিপাক প্রক্রিয়া ঠিক ভাবে কাজ করে। উচ্চ আঁশের ড্রাগন ফল তাই কোষ্ঠকাঠিন্য এবং বদহজম প্রতিরোধেও কার্যকর।

রোগ প্রতিরোধে

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সব উপাদানই রয়েছে ড্রাগনে। বিশেষত এর প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি কার্যকর রাখে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে। এছাড়া এ ফলে মিনারেলস, পাইটোঅ্যালবুমিনও রয়েছে উচ্চ পরিমাণে। নিয়মিত খেলে এই বিদেশি ফলটি আপনার স্বাস্থ্য ভাল করবেই। কারণ উল্লিখিত পুষ্টি উপাদান ছাড়াও ড্রাগনে রয়েছে ভিটামিন বি-১, বি-২ ও বি-৩; ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, প্রোটিন এবং নিয়াসিন।

১০০ গ্রাম ড্রাগন ফলে যে পরিমাণ ভিটামিন সি পাওয়া যায় তা একটি কমলার সমান বা তিনটি গাজরের চেয়ে বেশি ভিটামিন সি সরবারহ করতে সক্ষম।

ভিটামিন সি’র মাত্রা বেশি থাকায় এই ফল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, মানসিক অবসাদ দূর করে এবং ত্বক সুন্দর রাখতে সাহায্য করে।

প্রতি ১০০ গ্রাম ড্রাগন ফলে ৩ গ্রাম আঁশ থাকে যা দৈনিক চাহিদার ১২ শতাংশ। ড্রাগন ফলের আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিকারক হিসেবে কাজ করে।

এই ফলের কালো বীজে থাকে ল্যাক্সেটিভ ও পলিআনস্যাচুরেইটেড ফ্যাটি অ্যাসিড যা হজমে সাহায্য করে ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধের সহায়ক।

প্রতি ১০০ গ্রাম ড্রাগন ফলে জলীয় শতাংশ থাকে ৮৭ গ্রাম, প্রোটিন ১.১ গ্রাম, ফ্যাট ০.৪ গ্রাম (বলতে গেলে ফ্যাট নাই) এবং কার্বোহাইড্রেট ১১.০ গ্রাম।

এছাড়াও এতে বেশ কিছু ভিটামিন ও খনিজ উপদান থাকে যা মানবদেহের সুস্থতার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।

প্রতি ১০০ গ্রাম ড্রাগন ফলে ০.০৪ মি.গ্রা. ভিটামিন বি ১, ০.০৫ মি.গ্রা. ভিটামিন বি ২, ০.০১৬ মি.গ্রা ভিটামিন বি ৩ এবং ২০.০৫ মি.গ্রা. ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

ড্রাগন ফল আয়রনের ভালো উৎস। ১০০ গ্রাম ড্রাগন ফলে ১.৯ মি.গ্রা. আয়রন থাকে। এছাড়াও এতে ক্যালসিয়াম থাকে ৮.৫ মি.গ্রা. এবং ফসফরাস থাকে ২২.৫ মি.গ্রা.।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here