ডায়াবেটিস চিকিৎসা নিয়ে সব সমাধান একসাথে (২০১৯)

521
diabetic

ডায়াবেটিস একটি বিপাকজনিত রোগ। আমাদের শরীরে ইনস্যুলিন নামের হরমোনের সম্পূর্ণ বা আপেক্ষিক ঘাটতির কারণে বিপাকজনিত গোলযোগ সৃষ্টি হয়ে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং এক সময় তা প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস (ইংরেজি: Diabetes mellitus) একটি হরমোন সংশ্লিষ্ট রোগ। ডায়াবেটিস চিকিৎসা কি ডায়াবেটিস এর সকল নাড়িভুড়ি নিয়ে আজকের প্রতিবেদন।

এমন কোনো পরিবার খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে কোনো ডায়াবেটিসের রোগী নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ডায়াবেটিস এখন একটি মহামারি রোগ। এই রোগের অত্যধিক বিস্তারের কারণেই সম্প্রতি এমন ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্রশ্ন আসতেই পারে,
ডায়াবেটিস চিকিৎসা কি? আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, ডায়াবেটিস এমনই একটি রোগ, যা কখনো সারে না। কিন্তু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখবে যে ১০টি খাবার। এই সামগ্রিক অবস্থাকে ডায়াবেটিস বলে।

« এক নজরে দেখুন এই প্রতিবেদনে কি কি রয়েছে »

ডায়াবেটিস চিকিৎসা

অন্যথায়,
শরীরে ইনসুলিন নামের হরমোনের অভাব ঘটলে, ইনসুলিনের কাজের ক্ষমতা কমে গেলে অথবা উভয়ের মিলিত প্রভাবে রক্তে যদি শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায় তখন তাকে ডায়াবেটিস বলে।

এই রোগে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ দীর্ঘস্থায়ীভাবে বেড়ে যায়। সুস্থ লোকের রক্তে প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ অভুক্ত অবস্থায় ৫.৬ মিলি মোলের কম এবং খাবার দুই ঘণ্টা পরে ৭.৮ মিলি মোলের কম থাকে। অভুক্ত অবস্থায় রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ ৭.১ মিলি মোলের বেশি হলে অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার দুই ঘণ্টা পরে রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ ১১.১ মিলি মোলের বেশি হলে ডায়াবেটিস হয়েছে বলে গণ্য করা হয়।

ডায়াবেটিসের প্রকারভেদ

টাইপ-১
টাইপ-২
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস

অন্যান্য কারণ ভিত্তিক ডায়াবেটিস

টাইপ-১

এই ধরনের রোগীদের শরীরে ইনসুলিন একেবারেই তৈরি হয় না। সাধারণত ৩০ বছরের কম বয়সে এ ধরনের ডায়াবেটিস দেখা যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য এসব রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতেই হয়। অন্যথায় রক্তের শর্করা অতি দ্রুত বেড়ে গিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই রক্তে অম্লজাতীয় বিষক্রিয়ায় অজ্ঞান হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হয়।

টাইপ-২

টাইপ-২ রোগীদের শরীরে কিছু ইনসুলিন তৈরী হয় তবে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ঠ নয় অথবা রোগীরা শরীরে যে ইনসুলিন উৎপন্ন হয়, তাকে ব্যবহার করতে পারে না। টাইপ-২ বহুমূত্র রোগের পেছনে থাকে মূলত ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’

এই শ্রেণীর রোগীর বয়স অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ত্রিশ বছরের ওপরে হয়ে থাকে। সাধারনত এই ধরনের রোগীরা ইনসুলিন নির্ভর নন। এই ধরনের রোগীরা সাধারনত স্থূলকায় হন। খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ও নিয়মিত ব্যায়ামের সাহায্যে একে প্রথমে মোকাবিলা করা হয়। তবে অনেক সময় প্রয়োজন হয় মুখে খাওয়ার ওষুধ, এমনকি ইনসুলিন ইনজেকশন। মিষ্টি ও মিষ্টিজাতীয় পানীয় টাইপ-২ এর ঝুঁকি বাড়ায়। 

শারীরিক পরিশ্রম না করাও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের অন্যতম একটা কারণ। খাবারে চর্বির ধরণও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স-ফ্যাট ঝুঁকি বাড়ায় পক্ষান্তরে পলি-আনস্যাচুরেটেড ও মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট ঝুঁকি কমায়। অত্যধিক পরিমাণ সাদা ভাত খাওয়াও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

টাইপ-১ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মধ্যে তুলনা

জাতিসংঘের ঘোষণা অনুসারে, ২০০৬ খ্রিস্টাব্দের ২০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এর ৬১/২২৫ নম্বর ঘোষণায় ডায়াবেটিসকে দীর্ঘমেয়াদি, অবক্ষয়ী ও ব্যয়বহুল ব্যাধি হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে যা মানবদেহে মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।

বিষয়টাইপ-১টাইপ-২
আক্রান্ত হবার সময়কাল দ্রুতধীর
আক্রান্ত হবার বয়স বেশীরভাগ ক্ষেত্রে শিশু অবস্থায় বেশীরভাগ ক্ষেত্রে পরিণত বয়সে
দেহের আকৃতি স্বাভাবিক বা, ক্ষীণকায়স্থূলকায়
কিটোএসিডোসিস সহজপ্রাপ্যবিরল
অটোঅ্যান্টিবডি সাধারণত উপস্থিতঅনুপস্থিত
এন্ডোজেনাস ইনসুলিন কম অথবা, অনুপস্থিতস্বাভাবিক, কমে যাওয়া, বা বৃদ্ধি পাওয়া
যমজদের মধ্যে সাধারণভাবে আক্রান্ত হওয়ার হার ৫০%৯০%
Prevalence ~১০%~৯০%

Source: Wikipedia

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস

অনেক সময় গর্ভবতী অবস্থায় প্রসূতিদের ডায়াবেটিস ধরা পড়ে কিন্তু প্রসবের পর ডায়াবেটিস আর থাকে না। এই প্রকার জটিলতাকেই গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বলা হয়। গর্ভবতী মহিলাদের ডায়াবেটিস গর্ভবতী নারী, প্রসূতি কিংবা সদ্য প্রসূত শিশু সকলের জন্যই বিপজ্জনক হতে পারে। বিপদ এড়ানোর জন্য গর্ভকালীন অবস্থায় রোগীকে প্রয়োজনে ইনসুলিনের মাধ্যমে বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার হতে পারে।

গর্ভবতী অবস্থায় মায়ের শরীরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণে ইনসুলিন প্রয়োজন হয়, রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিক রাখার জন্য। যদি এই ইনসুলিন তৈরিতে শরীর অক্ষম হয় তাহলে ওই গর্ভবতী মায়ের গর্ভাবস্থায় রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়, অর্থাৎ মাতৃত্বকালীন বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হয়। মাতৃত্বকালীন ডায়াবেটিসের জন্য প্লাসেন্টাল হরমোনও দায়ী।

ডায়াবেটিস চিকিৎসা

অন্যান্য কারণ ভিত্তিক ডায়াবেটিস

  • জেনেটিক বা বংশগত কারনে ইনসুলিন তৈরী কম হলে।
  • জেনেটিক বা বংশগত কারনে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমে গেলে।
  • নানান ধরনের সংক্রামক ব্যধির কারনে।
  • অগ্ন্যাশয়ের বিভিন্ন রোগের কারনে।
  • ঔষধ ও রাসায়নিক দ্রব্যের সংস্পর্শে আসলে।
  • অন্যান্য হরমোনের পরিমান বৃদ্ধি পেলে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে।

ডায়াবেটিসের লক্ষণসমূহ

ডায়াবেটিসের লক্ষণসমূহ

আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখলে সহজেই চিহ্নিত করা যায় ডায়াবেটিস। আর যত আগে ডায়াবেটিস চিহ্নিত করা যাবে, তখনই নিতে হবে নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ। ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো হলো:

  1. ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
  2. পানি পিপাসা বেশি বেশি লাগবে
  3. শরীরে ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভূত হবে
  4. বেশি বেশি ক্ষুধা পাবে
  5. স্বাভাবিকভাবে খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমতে থাকবে
  6. যেকোনো ধরনের ক্ষত শুকাতে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক দেরী হবে
  7. নানান রকম চর্মরোগ যেমন খোশ পাঁচড়া, ফোঁড়া ইত্যাদি দেখা দিতে পারে
  8. চোখে কম দেখা, দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে।

ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়ার কারণসমূহ

ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়ার কারণসমূহ

যে কেউ যে কোনো বয়সে যেকোনো সময় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে নিম্নোক্ত শ্রেণীর ব্যক্তিদের মধ্যে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে :

  1. যাদের বংশে বিশেষ করে বাবা-মা বা রক্ত সম্পর্কিত নিকটাত্মীয়ের ডায়াবেটিস আছে।
  2. যাদের ওজন অনেক বেশি ও যারা ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের কোনো কাজ করেন না।
  3. যারা বহুদিন ধরে কর্টিসোল জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করেন।
  4. যেসব মহিলার গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস ছিল আবার যেসব মহিলা ৯ পাউন্ডের বেশি ওজনের বাচ্চা প্রসব করেছেন।
  5. যাদের রক্তচাপ আছে এবং রক্তে কোলেস্টেরল বেশি থাকে।

ডায়াবেটিস আক্রান্ত হলে কী সমস্যা হতে পারে?

পক্ষাঘাত স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা, হৃদরোগ, পায়ে পচনশীল ক্ষত, চক্ষুরোগ, প্রস্রাবে আমিষ বের হওয়া ও পরবর্তীতে কিডনির কার্যক্ষমতা লোপ পাওয়া। পাতলা পায়খানা, যক্ষ্মা, মাড়ির প্রদাহ, চুলকানি, ফোঁড়া, পাঁচড়া ইত্যাদি। তাছাড়া রোগের কারণে যৌনক্ষমতা কমে যায়। মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশি ওজনের শিশু জন্ম, মৃত শিশুর জন্ম, অকালে সন্তান প্রসব, জন্মের পরেই শিশুর মৃত্যু এবং নানা ধরনের জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয় উপায়

রক্তের গ্লুকোজের মাত্রার ১% পরিমাপ করে ডায়াবেটিস শনাক্ত করতে হয়। সুস্থ ব্যক্তির রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ অভুক্ত অবস্থায় ৬.১ মিলি মোলের কম এবং খাবার ২ ঘণ্টা পরে ৭.৮ মিলি মোলের কম অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ ১১.১ মিলিমোলের কম থাকে। কোনো ব্যক্তির রক্তের প্লাজমায় অভুক্ত অবস্থায় গ্লুকোজের পরিমাণ ৭.০ মিলি মোল বা তার বেশি হলে এবং খাবার খাওয়ার অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ ১১.১ মিলি মোল বা তার বেশি হলে অথবা রক্তের ঐনঅ১প ৬.৫%-এর বেশি হলে তাকে ডায়াবেটিস রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

ডায়াবেটিস মাপা সম্পর্কে বিস্তারিত

খালি পেটে বা খাবারের আগে রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা (Fasting Blood Glucose) :
এ পরীক্ষাটি সকালে নাস্তার আগে খালি পেটে করতে হয়। এ পরীক্ষাটির স্বাভাবিক মাত্রা ৬.১ মিলি মোল/লিটার বা তার কম হলে আপনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নন।

খাবারের ২ ঘণ্টা পর রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা (2 Hour After Breakfast) : এ পরীক্ষাটি নাস্তা খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর করতে হয়। এর স্বাভাবিক মাত্রা ১০ মিলি মোল/লিটার বা তার কম হলে আপনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নন।

যে কোনো সময় রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা (Random) : এ পরীক্ষাটি দিনের যে কোনো সময় করা যেতে পারে। ওই পরীক্ষাটির স্বাভাবিক মাত্রা ৫.৫ থেকে ১১.১ মিলি মোল/লিটার পর্যন্ত ধরা হয়।

ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট (OGTT) : যাদের খালি পেটে FBG ৬.১ এর বেশি কিন্তু ৭.০ মিলি মোল/লিটারের কম কিংবা দিনের যে কোনো সময় ৫.৫ এর বেশি কিন্তু ১১.১ মিলি মোল/লিটারের কম, তাদের এ পরীক্ষাটি করা খুবই জরুরি। কারণ এ পরীক্ষাটির মাধ্যমে কারও ডায়াবেটিস আছে কি নেই সে ব্যাপারে নিশ্চত হওয়া যাবে। এ পরীক্ষাটির জন্য রোগীকে প্রথমে খালি পেটে রক্ত দিতে হবে।

এরপর ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ পানিতে মিশিয়ে খেতে হবে এবং ঠিক দুই ঘণ্টা পর রোগীকে আবার রক্ত দিতে হবে। এই দুই ঘণ্টা রোগী অন্য কোনো খাবার খেতে পারবেন না এবং কোনো ধরনের শারীরিক পরিশ্রমের কাজও করতে পারবেন না। ধূমপান করা যাবে না। এ পরীক্ষায় যে রোগীর খালি পেটে ৭.০ মিলি মোল/লিটারের চেয়ে বেশি এবং দুই ঘণ্টা পর ১১.১ মিলি মোল/লিটারের চেয়ে বেশি হলে তাকে নিশ্চিত ডায়াবেটিসের রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে।

নিয়ম হলো একজন সুস্থ-সবল মানুষ প্রতি বছর একবার করে তার রক্তের গ্লুকোজের মাত্রাটি জেনে নেবেন। এতে তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কিনা তা জানতে পারবেন। অনেকে রয়েছেন, তারা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন; কিন্তু জানেনই না তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। আর এ রকমটি হলে এটি যে কোনো সময় আপনার জীবনের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই আজই যে কোনো ডায়াবেটিস সেন্টারে গিয়ে আপনার রক্তের গ্লুকোজের সঠিক মাত্রাটি জেনে নিন ও সুস্থ দেহে নিরাপদ থাকুন।

ডায়াবেটিক রোগীর যে খাবার ক্ষতিকর

ডায়াবেটিক রোগীর যে খাবার ক্ষতিকর

ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য চিকিৎসকেরা খাবার নির্ধারণ করে দিয়ে থাকেন, কিন্তু তারপরেও অনেক ডায়াবেটিক রোগী তা মেনে চলেন না। নিজের যা ইচ্ছা হয় তাই খেয়ে থাকেন। তবে যে যাই খেয়ে থাকুক না কেন কিছু নির্দিষ্ট খাবার আছে যা একেবারেই খাওয়া উচিৎ নয়। জেনে রাখুন খাবারগুলো সম্পর্কে

ক্যান্ডি

শুধুমাত্র চিনিতে ভরপুর ক্যান্ডিই নয় ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য চিনির তৈরি কুকিস, সিরাপ বা যেকোন ধরণের পানীয় খুব ক্ষতিকর। এগুলো খেলে রক্তের সুগার অনেক বৃদ্ধি পায় এবং স্বাভাবিক ভাবেই ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রনে থাকেনা। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের এই খাবার গুলো এড়িয়ে চলা উচিৎ।

ফলের জুস

ফলের জুস থেকে আস্ত ফল খাওয়াটাই অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর কারণ বলে থাকে ফাইবার এবং কার্বোহাইড্রেট। কিন্তু সুপারশপ থেকে কেনা যেকোন ফলের জুস কিনে খাওয়াটা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। কারণ এতে থাকে প্রচুর পরিমাণে চিনি ও নানা ধরণের কেমিক্যাল যা ডায়াবেটিক রোগীদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। ফলের জুস খেতে চাইলে বাড়িতেই চিনি ব্যবহার ছাড়া জুস বানিয়ে খেতে পারেন।

কিশমিশ

কিশমিশ খাওয়া খুব স্বাস্থ্যকর হলেও ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য কিশমিশ ভাল নয়। তবে অন্য যে কোন স্ন্যাক্স জাতীয় খাবার থেকে কিশমিশের মত ড্রাইফ্রুট খাওয়া ভাল। তবে যেকোন ফল যখন ড্রাই করা হয় তখন তাতে চিনির পরিমান দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়। তাই তখন তা দেহের জন্য অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায়।

ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস

ডুবো তেলে ভাজা ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস ডায়াবেটিক রোগীদের স্বাস্থ্যকর নয়। কারণ এই খাবার দেহের ওজন বৃদ্ধি করে এবং রক্তে প্রয়োজনীয় সুগারের মাত্রা নষ্ট করে দেয়। ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস, আলুর চিপস, ডোনাটস এই খাবার গুলো একজন ডায়াবেটিক রোগীর রক্তের গ্লুকোজের পরিমান কমিয়ে দেয়। তাছাড়া অতিরিক্ত ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস খেলে তা দেহে কোলেস্টোরল এর মাত্রা বেড়ে যায় ও হার্ট এর সমস্যা হয়ে থাকে।

সাদা ব্রেড

শুধু সাদা ব্রেডই নয় সাদা ভাত, সাদা পাস্তা যেকোন জিনিস যা সাদা ময়দা দিয়ে তৈরি এগুলো সহজে হজম হলেও এই খাবার গুলোতে যেই মাত্রায় সুগার থাকে তা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ভাল নয়। এই খাবার গুলো দেহের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রনে বাধা দিয়ে থাকে তাই ডায়াবেটিক রোগীদের এই সাদা ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার না খাওয়াই ভাল।

ঘন দুধের তৈরি কোন খাবার

দুধ খাওয়া ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ভাল। কিন্তু কোন খাবার যাতে দুধের পরিমাণ খুব বেশি যেমন – দই, দুধের তৈরি ক্রিম, চিজ এই খাবার গুলো ডায়াবেটিক রোগীদের না খাওয়াই উত্তম।

ডায়াবেটিস থেকে বাঁচাবে যে খাবার

ডায়াবেটিস থেকে বাঁচাবে যে খাবার

বাদাম

বাদাম অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার। এটি নিয়মত খেলে বিভিন্ন রোগের মৃত্যুর ঝুঁকি কমে যায়। বাদামে প্রচুর আঁশ, পুষ্টিকর উপাদান ও হৃৎপিণ্ডের জন্য উপকারি উপাদান আছে। বাদামে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি। দৈনিক ১০ গ্রাম বাদাম গ্রহণ করলে মারণব্যাধি রোগের ঝুঁকি থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে বলে দাবি গবেষকদের।

বীজ

বাদামের মত বীজ জাতীয় খাদ্য শস্যও আমাদের দেহের জন্য উপকারী। যেমন এতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ আছে। ডায়াবেটিস রোগীর জন্য সূর্যমুখীর বীজ ও কুমড়ার বীজ অনেক উপকারী। বীজ খেলে দেহে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে।

মাছ

মাছে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন থাকে। একটি সুস্থ জীবনধারার জন্য প্রোটিন অতিব গুরুত্বপূর্ণ, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী। মাছে ওমেগা-৩ আছে এবং যা স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমায়। মাছ বেশি করে ভেজে খাওয়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।

বেরি অর্থাৎ স্ট্রবেরিব্লুবেরিজাম জাতীয় ফল

বেরি জাতীয় এই ফলগুলো বিশ্বের অধিক পুষ্টিকর খাদ্যের মধ্যে অন্যতম। এসব ফলে অ্যানথোসায়োনেনস নামের উপাদান রয়েছে যা মানবদেহের রক্তের ইনসুলিন ভারসাম্য ঠিক রাখে ও রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাস করে। ডায়াবেটিস দুই টাইপের হয়, যেমন টাইপ-১ ও টাইপ- ২ । টাইপ- ১ রোগীদের জন্য বেরি ইনসুলিন উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় ও টাইপ-২ রোগীদের জন্য রক্তে শর্করার পরিমাণ বারিয়ে তুলে। তারা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার সমৃদ্ধ।

মটরশুঁটিব্রোকলি

ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার ডায়াবেটিস রোগীর জন্য অনেক উপকারী। মটরশুঁটিতে আছে ভরপুর ফাইবার। মটরশুঁটি রক্তের গ্লুকোজের মাত্রাকে সাধারণ মাত্রায় রাখে। সবজি জিনিসটা সকল মানুষের জন্য উপকারী। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অতিব জরুরি একটি খাবার হল সবজি। ব্রোকলি একটি ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ এমন একটি বিশেষ যৌগ আছে যা ডায়াবেটিস এর সাথে যুদ্ধ করে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। ব্রোকলি হৃদরোগের বিরুদ্ধেও বেশ কার্যকর।

পাতাকপি বাঁধাকপি

শীতকালীন সবজি পাতাকপি বা বাঁধাকপি। আমাদের দেশে পাতাকপি ভাজি একটি জনপ্রিয় খাবার। বিশেষ করে মাংসের সাথে পাতাকপির ঝোল বেশ উপাদেয় খাবার। সালাদে শশা, গাজর, টমেটোর সাথে পাতাকপি মেশালে অনেক মজা হয়। পাতাকপি অনেক কম কার্ব যুক্ত । এই সবজি টি টাইপ-২  রোগীদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাস করে এবং টাইপ-১ রোগীদের রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রনে রাখে।

আ্যভোকাডো

আ্যভোকাডো

মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার ফল আ্যভোকাডো। তবে চাষ করলে আমাদের মাটিতেও ফলান যায় এই ফল। ভেষজ চিকিৎসায় অ্যাভোকাডো যেন সর্ব রোগের মহা ওষুধ। আ্যভোকাডো শরীরের রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে। এমনকি এটি হৃদরোগের বিরুদ্ধেও লড়াই করে।

চা

চা এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ একটি পানীয়। গ্রিন-টি বা সবুজ চা কিংবা রং চা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য উপকারী। তবে, চায়ে চিনি মেশানো যাবে না।

আপেল

কথায় আছে ‘এন আপেল এভরিডে, কিপস দ্যা ডক্টর অ্যাওয়ে’ অর্থাৎ- প্রতিদিন একটি আপেল খান, আপনাকে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না। আপেল রোগ প্রতিরোধক ও পুষ্টিকর একটি ফল। আপেলে শর্করা প্রায় ৫০ শতাংশ। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় ও রক্তে কোলেস্টরল এর মাত্রা স্থির রাখে।

রসুন

রসুন

রসুনের উপকারিতা অনেক। রান্নার পাশাপাশি রসুন স্বাস্থ্য ভালো রাখার ওষুধ হিসেবেও কাজ করে। রসুন কোলেস্টরল এর মাত্রা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

পালং শাক

পালং শাক অনেক পুষ্টিকর। এতে আছে প্রচুর এন্টিঅক্সিডেন্ট। তাজা এবং অল্প সেদ্ধ করে খেলে বেশি এন্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। পালং শাক ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অনেক উপকারী। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সবচেয়ে সুপরিচিত খাবার এর মধ্যে রয়েছে পালং শাক।

ডার্ক চকলেট

আপনারা ভাবছেন চকলেট তাও আবার ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য? হ্যাঁ ডার্ক চকলেট ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী। কেননা এতে মিষ্টির পরিমাণ অনেক কম থাকে। এটি শুধুমাত্র এন্টিঅক্সিডেন্ট পূর্ণ নয়। এটি শরীরে ইনসুলিন এর মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করে।

দারুচিনি

দারুচিনিতে সামান্য পরিমাণ প্রোটিন থাকে তাছাড়া এতে আছে প্রচুর মিনারেল ও ভিটামিন। এটি রক্তে কোলেস্টরল এর পরিমাণ ১০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। এটি হৃদয় সুস্থ রাখে। এটি রক্তে শর্করার পরিমাণ ও নিয়ন্ত্রণে রাখে।

মিষ্টি আলু

আলু আমরা সবাই কম বেশি খেতে পছন্দ করি। যেমন আলুর দম, আলু ভাজি, আলুর চিপস। আলু দিয়ে তৈরি যেকোনো খাবার খেতেই দারুণ মজা লাগে। সাধারণত সাদা আলু দিয়ে এসব তৈরি করা হয়ে থাকে। কিন্তু মিষ্টি আলু নামক একটি আলু আছে যার অনেক গুণাবলি আছে।যেমন এটি ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে ইনসুলিন এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে, এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ডায়াবেটিস রোগীর খাবার চার্ট

ডায়াবেটিস রোগীর খাবার চার্ট

এক জন স্বাভাবিক দৈহিক ওজনের জটিলতাবিহীন ডায়াবেটিস রোগীর একদিনের খাদ্য তালিকার নমুনা নিচে দেয়া হল।

সকাল (৮ টা – ৮.৩০ মিনিট)

আটার রম্নটি – ৪ টি, ছোট, পাতলা (প্রতিটি ৩০ গ্রাম বা মোট ১২০ গ্রাম) ডিম – ১ টি শাক সবজি- ইচ্ছেমত খাওয়া যাবে (পালং শাক, লাল শাক, পুঁই শাক, কলমি শাক, ডাঁটা শাক, কচু শাক, লাউ শাক, কুমড়ো শাক, পাট শাক, হেলেঞ্চা শাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, ওলকপি, টমেটো, কাঁচা পেঁপেঁ, শশা, খিরা, উচ্ছে, করলা, ঝিঙা, ধুন্ধল, চাল কুমড়া, ডাঁটা, লাউ, সজনে, বেগুন, মরিচ, কলার মোচা ইত্যাদি)।

ফল্ত ইচ্ছেমত খাওয়া যাবে (কালো জাম, লেবু, আমড়া, বাতাবি লেবু, কামরাঙ্গা, বাঙ্গি, জামরুল, দেশী পেয়ারা, দেশী কুল, আমলকি ইত্যাদি) ১১ টা বিস্কিট / মুড়ি – ৩০ গ্রাম ফল – ১টি ছোট আমের অর্ধেক / ১টি বড় পাকা পেয়ারা / ৩টি মাঝারি আকারের কাঁঠালের কোয়া / ১টি মাঝারি আকারের আপেল / ১টি মাঝারি আকারের কমলা / পাকা পেঁপেঁ ৬০ গ্রাম ।

দুপুর (২ টা – ২.৩০ মিনটি)

ভাত- ৪ কাপ (৩৬০ গ্রাম) মাছ / মাংস- ২ টুকরা (৬০ গ্রাম) ডাল – দেড় কাপ, মাঝারি ঘন (২৫ গ্রাম) শাক সবজি – ইচ্ছেমত খাওয়া যাবে (পালং শাক, লাল শাক, পুঁই শাক, কলমি শাক, ডাঁটা শাক, কচু শাক, লাউ শাক, কুমড়ো শাক, পাট শাক, হেলেঞ্চা শাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, ওলকপি, টমেটো, কাঁচা পেঁপেঁ, শশা, খিরা, উচ্ছে, করলা, ঝিঙা, ধুন্ধল, চাল কুমড়া, ডাঁটা, লাউ, সজনে, বেগুন, মরিচ, কলার মোচা ইত্যাদি)।

আরো পড়ুন: শসা কেন খাবেন? শসার উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ কি?

ফল্ত ইচ্ছেমত খাওয়া যাবে (কালো জাম, লেবু, আমড়া, বাতাবি লেবু, কামরাঙ্গা, বাঙ্গি, জামরুল, দেশী পেয়ারা, দেশী কুল, আমলকি ইত্যাদি) বিকাল (৬ টা) দুধ – ১কাপ (১২০ মিলিলিটার) / ডাল বা চিনে বাদাম (৩০ গ্রাম)

রাত্রি (১০ টা ১০.৩০ মিনিট)

আটার রম্নটি – ৪ টি, ছোট, পাতলা (১২০ গ্রাম) মাছ / মাংস ্ত ১ টুকরা (৩০ গ্রাম) ডাল – দেড় কাপ, মাঝারি ঘন (২৫ গ্রাম) শাক সবজি – ইচ্ছেমত খাওয়া যাবে (পালং শাক, লাল শাক, পুঁই শাক, কলমি শাক, ডাঁটা শাক, কচু শাক, লাউ শাক, কুমড়ো শাক, পাট শাক, হেলেঞ্চা শাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, ওলকপি, টমেটো, কাঁচা পেঁপেঁ, শশা, খিরা, উচ্ছে, করলা, ঝিঙা, ধুন্ধল, চাল কুমড়া, ডাঁটা, লাউ, সজনে, বেগুন, মরিচ, কলার মোচা ইত্যাদি)। রান্নার জন্যে তেল – ৩০ মিলিলিটার সারা দিনের ক্যালরি – ১৮০০ -১৯০০ শর্করা – ২৭০ গ্রাম আমিষ – ৭০ গ্রাম স্নেহ বা চর্বি – ৫০ গ্রাম।

ডায়াবেটিক রোগীর ব্যায়াম

ডায়াবেটিক রোগীর ব্যায়াম

ব্যায়ামে শক্তি খরচ হয় ফলে শরীরের ওজন কম থাকে ও শরীরে চর্বি কমে
ব্যায়ামের মাধ্যমে প্যানক্রিয়াসের বেটা সেল থেকে ইনসুলিন তৈরি বৃদ্ধি পায়
ব্যায়াম ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়ায় ফলে শরীরে অল্প যা ইনসুলিন তৈরি হয় তাতেই রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে ফলে বাড়তি ওষুধের দরকার নাও পড়তে পারে।
ব্যায়ামের ফলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।
ডায়াবেটিসের জটিলতা কমান সম্ভব হয়।
ব্যায়াম রক্তের ভালো কোলস্টেরল (HDL) বাড়ায় এবং খারাপ কোলস্টেরল (LDL) কমায়।

আরো পড়ুন: কেন লেবু খাবেন? জেনে নিন ৪০টি উপকারিতা

উচ্চরক্তচাপ কমায়। ব্যায়াম দুশ্চিন্তা দূর করে মনকে সতেজ প্রফুল্ল রাখে।
ঘুম ভালো হয়। হাড় ও হৃৎপিণ্ডকে শক্তিশালী করে। জয়েন্ট সচল রাখে।
বৃদ্ধ বয়সে হাড়ভাঙার প্রধান কারণ অস্টিওপোরসিস বা হাড় ক্ষয় হয়ে যাওয়া বিশেষ করে মহিলাদের হিপ ফ্রাকচার এ কারণে হয়। ব্যায়াম অস্টিওপোরসিস কমায়।
ব্যায়াম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাদের একই বয়সের লোকদের থেকে কম বয়স্ক দেখায়।
নিয়মিত ব্যায়াম যৌন ক্ষমতা অটুট রাখে।
ব্যায়াম ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধেও উপকারী। নিয়মিত ব্যায়াম করলে ডায়াবেটিস দেরিতে হবে অথবা নাও হতে পারে।

ডায়বেটিস আক্রান্ত রোগীরা কী ধরনের ব্যায়াম করবেন

ডায়বেটিস আক্রান্ত রোগীরা কী ধরনের ব্যায়াম করবেন

* এরোবিক ব্যায়াম
* স্ট্রেংথেনিং ব্যায়াম
* স্ট্রেচিং ব্যায়াম
* ব্যালান্সিং ব্যায়াম

এরোবিক ব্যায়ামসাধারণভাবে ব্যায়াম বলতে যেগুলোকে বোঝায় তা হল এরোবিক বায়াম। যেমন- হাঁটা, দৌড়ানো, জগিং, বাই সাইকেল চালান,সাঁতার কাটা ইত্যাদি। এই ব্যায়ামে শরীরের অনেক মাংশপেশি অনেকক্ষণ ধরে কাজ করে ফলে শক্তি ক্ষয় হয়। এ ব্যায়ামে নাড়ির গতি, শ্বাস-প্রশ্বাস বাড়বে। স্ট্রেংথেনিং ব্যায়ামস্ট্রেংথ মানে শক্তি। মাংশপেশির শক্তি বাড়ানোর জন্য এ ধরনের ব্যায়াম। এ ব্যায়ামে কাজ করতে হয় বেশি যেমন ওজন তোলা বা স্প্রিং টানা ইত্যাদি।স্ট্রেচিং ব্যায়ামমাংশপেশি এবং গিটের জড়তা কাটিয়ে সচল করাই হল এ ব্যায়ামের উদ্দেশ্য।

এরোবিক ব্যায়াম শুরু করার আগে স্ট্রেচিং করা উচিত। ব্যালান্সিং ব্যায়ামভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এ ব্যায়াম। যেমন এক পায়ের ওপর দাঁড়ানো। এ ব্যায়াম চলাচল করতে সাহায্য করে এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়া থেকে রক্ষা করে।সপ্তাহে কয়দিন ও কতক্ষণ ব্যায়াম করবেনসপ্তাহের অধিকাংশ দিন (কমপক্ষে ৫ দিন) এবং দিনে ৩০ মিনিট এরোবিক ব্যায়াম অধিকাংশ সুফল বয়ে আনে।

আরো পড়ুন: সব সময় হাসি খুশি ও মন ভালো রাখার বৈজ্ঞানিক ২০টি মূলমন্ত্র!

এক নাগাড়ে ৩০ মিনিট ব্যায়াম না করতে পারলে ১০ মিনিট করে দিনে ৩ বার ব্যায়াম করলেও হবে। প্রতিদিন ৩ বার খাওয়ার আগে ১০ মিনিট করে ব্যায়াম একটা সুবিধাজনক ব্যায়াম।ব্যায়াম করার কোনো নিয়মাবলী আছে কিব্যায়াম শুরু করতে কোনো সমস্যা নেই তবে ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে কোনো জটিলতা আছে কিনা তার জন্য ডাক্তার দেখিয়ে নেয়া ভালো।

অল্প ব্যায়াম দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে বাড়াবেন। প্রতিদিন ৫ মিনিট করে বাড়িয়ে সপ্তাহে ১৫০ থেকে ২০০ মিনিট করে ব্যায়াম করা আপনার লক্ষ্য থাকবে। ব্যায়াম শুরুতে কিছুক্ষণ অল্প ব্যায়াম করে নেবেন যেটা হল ‘ওয়ার্ম আপ’ সঙ্গে কিছু স্ট্রেচিং ব্যায়াম এবং শেষ করার সময় ও হঠাৎ করে থেমে যবেন না শেষ ৫ মিনিট আস্তে আস্তে কমিয়ে ব্যায়াম করা থামাবেন যেটা হল ‘কুল ডাউন’।

যত বেশি ব্যায়াম করবেন তত বেশি শক্তি ক্ষয় হবে এবং গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখা তত সহজ হবে। এরোবিক ব্যায়ামের পাশাপাশি স্ট্রেংথেনিং ব্যায়াম করতে হবে সপ্তাহে ২-৩ দিন। এটা হতে পারে ওজন ওঠা-নামানো বা স্প্রিং টানা।

ব্যায়াম শুরুর আগে কি কি বিষয় ঠিক করে নেওয়া উচিত

হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ

⚠️ কী ব্যায়াম করবেন?
⚠️ ডায়াবেটিস চিকিৎসা কি?
⚠️ কতক্ষণ করবেন?
⚠️ কতবার করবেন?
⚠️ কখন করবেন?
⚠️ কী ধরনের পোশাক, জুতা পরবেন?
⚠️ ব্যায়াম না করতে পারলে অন্য কী ব্যায়াম করতে পারেন!
⚠️ কীভাবে ব্যায়াম বাড়াবেন?
⚠️ কতদূর যাবেন।

কখন ব্যায়াম করবেন না এটা নির্ভর করবে আপনার দৈনন্দিন কাজ, খাবারের সময়, ডায়াবেটিসের জন্য কখন কি ওষুধ খাচ্ছেন, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ইত্যাদির ওপর।

❎ খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ৩০০ মিগ্রা বা খালি পেটে ২৫০ মিগ্রা এর ওপর থাকলে ব্যায়াম করবেন না।

❎ খাওয়ার পরপর ব্যায়াম করবেন না।

❎ আমাদের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে তাপমাত্রাও মাথায় রাখার বিষয়। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে ব্যায়াম করবেন না কারণ অতিরিক্ত তাপমাত্রাতে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। সেই জন্য ভোর বা সন্ধ্যাতে ব্যায়াম করাই উত্তম।ব্যায়াম করার সময় কিছু বিষয় লক্ষ্য করা উচিতজোরে জোরে হাঁটা উৎকৃষ্ট ব্যায়াম। তবে ডায়াবেটিস চিকিৎসা পারিপার্শ্বিকতা মাথায় রাখা ভালো।

❎ যেমন হাঁটুতে যদি অস্টিওআর্থ্রাইটিস (এই বয়সে সাধারণত থাকে) থাকে, বা নার্ভের ক্ষতির কারণে পায়ে অনুভূতি কম থাকে তখন হাঁটলে হাঁটুর ব্যথা বাড়তে পারে বা পায়ে ফোসকা পড়ে ঘা হতে পারে।

আরো পড়ুন: হাদিস অনুযায়ী সহবাসের নিয়ম; স্বামী স্ত্রীর মিলনের গুরুত্বপুর্ণ হাদিস

❎ হাঁটার সময় মাপসই আরামদায়ক জুতা তুলার মোজা ব্যবহার করবেন।

❎ হাঁটার পর সব সময় পা পরীক্ষা করে দেখবেন যখনই পায়ে ফোসকা, কাটা, ব্যথা বা পা লাল হওয়া দেখবেন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। ডায়াবেটিস চিকিৎসা কারণে কি ব্লাড সুগার কমে যেতে পারেআপনি যদি ইনসুলিন নেন, সালফোনিউরিয়া বা মেগ্লিটিনাইড ডায়াবেটিসের ওষুধ খান তবে ব্যায়ামের ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে। একে বলা হয় হাইপোগ্লাইসেমিয়া।

হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ

হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ

* মাথা ঘোরা
* নাড়ির গতি বেড়ে যাওয়া
* ক্ষুধা লাগা
* দুর্বল লাগা বা ক্লান্তি অনুভব করা
* ঘাম হওয়া, মাথা ধরা ইত্যাদিখুব বেশি কমে গেলে অজ্ঞান হয়ে ফিট হয়ে যেতে পারেন। যাদের একবার হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয় তারা এর লক্ষণ আরম্ভ হলেই বুঝতে পারেন।

হাইপোগ্লাইসেমিয়া পরিহারের উপায়

ব্যায়াম শুরু করার আগে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দেখে নেবেন। ১০০ মি.গ্রাম নিচে হলে অল্প কিছু খেয়ে নেবেন।

যদি ইনসুলিন নেন তবে ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। ব্যায়াম করার সময় পকেটে অল্প কিছু গ্লুকোজ, চিনি বা মিস্টি ফলের রস রাখবেন। খারাপ লাগা শুরু হলেই খেয়ে নেবেন। যদি অনেকক্ষণ ব্যায়াম করতে হয় তবে ব্যায়াম শেষ করার আগেও কিছু খেয়ে নিতে পারেন।

ব্যায়ামের শেষে আবার রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করুন। তা থেকে কি পরিমাণ ব্যায়াম কতটুকু গ্লুকোজ কমায় সে ব্যাপারে ধারণা পাবেন। একটু বেশি পানি খাবেন, ব্যায়াম শুরুর আগে, ব্যায়াম করার সময় বা পরে।

রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষার যন্ত্র কিনতে পারেন যার মাধ্যমে প্রতিদিন রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করে নিতে পারেন।কায়িক পরিশ্রম বেশি হয় এমন কাজ নির্ধারণ করুন

আরো পড়ুন: বেগুনের এমন ৪০টি উপকারিতা, যা আপনি কখনো শুনেন নেই !

বাসার কাজ নিজে করবেন, ঘর নিজেই পরিষ্কার করবেন। সময় থাকলে বাগান বা সবজি চাষ করবেন। হাট-বাজার নিজেই করবেন । লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে উঠবেন। অল্প দূরত্বে যানবাহন ব্যবহার না করে হাঁটবেন। অল্প দূরের কাজ টেলিফোনে না সেরে নিজে যাবেন।

কাজের ফাঁকে ফাঁকে যেমন অফিস টিফিনের সময় গল্প-গুজবে, খাওয়াতে ব্যয় না করে একটু ঘুরে বেড়াবেন । বাচ্চাদের সঙ্গে খেলা করবেনউপদেশ। ব্যায়াম করার জন্য বন্ধু খুঁজে নেন। একা একা ব্যায়ামে গাফিলতি হলেও বন্ধুদের সঙ্গে ব্যায়াম করতে খারাপ লাগবে না।

কতটুকু ব্যায়াম করলেন বা কতটুকু এগোলেন তার রেকর্ড রাখুন। ব্যায়ামের লক্ষ্যে পৌঁছলে নিজের জন্য পুরস্কার ঠিক করে রাখুন, যেমন নির্দিষ্ট লক্ষে পৌঁছলে বেড়িয়ে এলেন বা নিজের জন্য কিছু একটা কিনলেন। গুরুত্বপূর্ণ কথা হল ব্যায়াম চালিয়ে যাবেন। কখনই ছেড়ে দেবেন না। ব্যায়ামের সুফল পেতে হলে থামা চলবে না। অল্প কয়েক দিনে এর সুফল পাবেন না।

আপডেট

ডায়াবেটিস চিকিৎসায় নতুন উপায়

diabetic

ট্যাবলেট (খাওয়ার ওষুধ) : বেশিরভাগ রোগীই ডায়াবেটিসের চিকিৎসা র জন্য সংগত কারণে ট্যাবলেট খায় এবং খেতে চায়। ১৯২১ সালে ইনসুলিন আবিষ্কার হওয়ার অনেক পরে ট্যাবলেটের প্রচলন হয়। বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট পাওয়া যায়। ডায়াবেটিসের কারণকে লক্ষ্য রেখেই এগুলোর আবিষ্কার হয়েছে এবং উৎপাদন ও সরবরাহে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে এবং হচ্ছে।

সেনসিটাইজার গ্রুপ সংবেদনশীলতা বাড়ায়। এরা হাইপগ্লাইসেমিয়া কম করে।

মেটফরমিন

আদি ড্রাগ এবং পরিবেশনার জন্য মলিকুলের পরিবর্তন ছাড়া এর কোনো শ্রেণীগত পরের জেনারেশন নেই। আমাদের রক্তে গ্লুকোজ দু’ভাবে বাড়ে।

১. খাদ্যদ্রব্য থেকে এবং ২. অভুক্ত অবস্থায় লিভার থেকে।

ইনসুলিন দুটোকেই নিয়ন্ত্রণ করে। ডায়াবেটিসে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায় বলে রক্তে গ্লুকোজ বাড়ে। মেটফরমিন ক্ষুধা হ্রাস করে, ওজন ঠিক রাখে, গ্লুকোজ ঠিক রাখে। লিভার থেকে গ্লুকোজ বেরুনো প্রতিরোধ করে, মাংসপেশী ও অন্য জায়গায় গ্লুকোজের ব্যবহার বাড়ায়। মেটফরমিন খরচ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও যৌথ ব্যবহার বিবেচনায় সবচেয়ে উপযোগী ও গ্রহণযোগ্য। মেটফরমিন অনেকদিন ব্যবহার করলে ভিটামিন বি১২ ও ক্যালসিয়াম কমে তাই প্রতিরোধক হিসেবে এগুলো নিয়মিত ব্যবহার করা উচিত।

গ্লিটাজোন

হার্টের ওপর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়, অস্টিওপরোসিস, মূত্রাশয়ের ক্যান্সার করে বিধায় কম মাত্রায়, স্বল্প দিনের জন্য সীমিত আকারে ব্যবহৃত হয়। গরু, খাসির মতো মানুষের লিভারে চর্বি থাকে। ইনসুলিনের অকার্যকারিতার জন্য ডায়াবেটিসে লিভারের চর্বি সরতে চায় না। এ চর্বি লিভারে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিক্রিয়া হিসেবে ফাইব্রোসিস, সিরোসিস ও ক্যানসার করতে পারে। স্বল্পমাত্রার পায়োগ্লিটাজন এ চর্বি কমানোর কার্যকরী ওষুধ।

সিক্রেটগগ

diabetic

এ গ্রুপের ওষুধগুলো প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিনের নিঃসরণ বাড়ায়। প্যানক্রিয়াসের নিঃসরণ ৫০% কমে গেলে ডায়াবেটিস হয় অর্থাৎ যাদের ডায়াবেটিস হয়েছে তাদের প্যানক্রিয়াসের ইনসুলিন ৫০% কমে গেছে। তাই সিক্রেটগগগুলো ক্রমাগত প্যানক্রিয়াসকে স্টিমুলেট করতে থাকলে এক সময় প্যানক্রিয়াস তার নিঃসরণ ক্ষমতা সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলে আর ইনসুলিন নিঃসরণ হয় না এবং ট্যাবলেট অকার্যকর হয়ে পরে একে বলে সেকেন্ডারি ফেইলর। অধিকাংশ সিক্রেটগগ ২৪ ঘণ্টা কাজ করে বিধায় দিনে একবার খেলে হয়।

গ্লাইবেনক্লামাইড সবচেয়ে পুরনো, সবচেয়ে সস্তা ও সবচেয়ে ক্ষমতাধর। গ্লিমিপেরাইড বাজারে পরে এসেছে, তুলনামূলক ভাবে দাম বেশি। সবগুলোর বড়দোষ হাইপগ্লাইসেমিয়া করে। মেটিগ্লনাইড, রিপাগ্লিনাইড স্বল্পমেয়াদি। যাদের খাওয়ার ওয়াক্ত নিয়মিত নয়, খাওয়ার বেশ পরে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয় এবং সালফোনিলুরিয়া এলার্জি হয় তাদের জন্য এগুলো ভালো।

আরো পড়ুন: ঢেঁড়স খেলে ৩৮টি রোগের উপকারিতা!

ইনক্রেটিন গ্রুপ

জিএলপি-১ এনালগ-(লিরাগ্লুটাই, এক্সিনাটাইড) রক্তে ইনসুলিনের পরিমাণ বাড়ায়। খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যনালি থেকে জিএলপি-১ নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। জিএলপি-১

১. প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিনের নিঃসরণ বাড়ায়,
২. পাকস্থলি থেকে বেরুতে দেরি করিয়ে দেয়,
৩. প্যানক্রিয়াস থেকে গ্লুকোজ নিঃসরণ কমায় -গ্লুকোজ ইনসুলিনের বিপরীতে কাজ করে অর্থাৎ রক্তে গ্লুকোজ বাড়ায়; সমন্বিতভাবে কাজ করে জিএলপি১ রক্তে গ্লুকোজ কমায়। এছাড়াও নতুনতর এ ওষুধগুলো ব্রেইনের ওপর কাজ করে ক্ষুধা কমায় তাতে সুগার কমে এবং ওজন কমে।

প্যানক্রিয়াসের কোষ নষ্ট হওয়া প্রতিরোধ করে ও নতুন কোষ বানায় বলে অনেকে দাবি করে এরা ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে। ইনজেকশনে দেয়া এ ওষুধগুলো দিনে বা সপ্তাহে একবার দেয়া যায়; ক্ষেত্র ভেদে ওজন কমানোর জন্য এবং ডায়াবেটিস কন্ট্রোলের জন্য এটা কার্যকরী ওষুধ; হার্ট, রক্তনালি, কিডনির অসুখের রোগীদের জন্য গ্লুকোজ কমানো ছাড়াও এগুলোর বিশেষ কার্যকারিতা আছে। সমস্যা একটাই সেটি হল খরচ বেশি। প্রাথমিক পর্যায়ে খাদ্যনালির ওপর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, শুধু ইনজেকশন (ট্যাবলেট নেই) বিধায় অনেকেই নিতে আপত্তি করে। গলগন্ড রোগ ও লিভারে অসুখ থাকলে এগুলো দেয়া যায় না।

গ্লিপ্টিন (ডিপিপি ৪ ইনহিবিটর)

অপেক্ষাকৃত ব্যয়বহুল এ ওষুধগুলো জিএলপি-১ কে ভাঙতে দেয় না তাই জিএলপি-১ এর মাধ্যমে শরীরে ইনসুলিনের সরবরাহ বাড়ায়। লিনাগ্লিপটিন লিভারের অসুখ থাকলেও দেয়া যায়, সেক্সাগ্লিপটিন হার্ট ফ্রেন্ডলি নয়। কিডনির অসুখ থাকলে বিশেষ করে ক্রিয়াটিনিন ক্লিয়ারেন্স ৩০ এর কম হলে এগুলো ব্যবহার করা যাবে না। এগুলো ওজন বাড়ায় না।

এসজিএল২ ইনহিবিটর, একারবোজ জাতীয় ওষুধগুলোর কার্যকারিতা ইনসুলিন নির্ভর নয়।

এসজিএল২ ইনহিবিটর (গ্লিফ্লাজন)

এসজিএল২ ইনহিবিটর (গ্লিফ্লাজন)

নতুনতর ওষুধগুলো খুবই কার্যক্ষম এবং ব্যয়বহুল। আমাদের রক্তের গ্লুকোজের একটা নিয়ন্ত্রক হল কিডনি। একটা নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি হলে কিডনি আর ধরে রাখে না বের করে দেয়। প্রয়োজনীয়টা ধরে রাখে। এ ধরে রাখার বিরোধিতা করে কাজ করে এ ওষুধগুলো। ডায়াবেটিস রোগীর প্রস্রাব দিয়ে বেশি করে গ্লুকোজ বের করে দেয়। গ্লুকোজ যাওয়ার জন্য এই নালিতে ইনফেকশন হয়। ব্যাক্টেরিয়াল, ফাংগাল সব ধরনের ইনফেকশন হয়।

প্রস্রাবের রাস্তার বাইরে চুলকায়। এরা অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ কমায়, ওজন কমায়। সবচেয়ে বড় উপকার হার্টের ক্ষেত্রে। হার্টের অসুখের রোগীর পরবর্তী জটিলতা কমায়, মৃত্যুর সংখ্যা কমায়। যাদের হার্টের অসুখ নেই কিন্তু ঝুঁকি আছে তাদের হার্টের অসুখ ঠেকায়। ডিহাইড্রেশন করে বিধায় সুগার স্বাভাবিক থাকলেও কিটোএসিডসিস করতে পারে।

আরো পড়ুন: রসুনে ৪০টির ও বেশি উপকারিতা

চিকিৎসা কীভাবে শুরু এবং সম্পন্ন : ডায়াগনোসিসের সঙ্গে সঙ্গে কোনো সতর্কতা না থাকলে মেটফরমিন দিয়েই শুরু করতে হবে লাইফ স্টাইল বদলানোর সঙ্গে। তিনমাস এবং সর্বোচ্চ ডোজ (৩০০০ মি.গ্রাম) ব্যবহার করে এ১সি ৭ এর নিচে না এলে আরেকটা ট্যাবলেট যোগ করতে হবে।

ওপরে বর্ণিত যে কোনো একটি ওষুধই দ্বিতীয় ওষুধ হিসেবে সংযুক্ত ও সমন্বয় করা যাবে। কার জন্য কোনো ওষুধটা ব্যবহার করা হবে তা ঠিক করা হয় ওষুধের কার্যক্ষমতা, হাইপোগ্লাইসেমিয়া ও অন্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, হার্ট, রক্তনালি, কিডনির ওপর সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া, ওজন বাড়ানো বা কমানো, খরচ ও রোগীর পছন্দ বিবেচনায় নিয়ে।

খাবার ওষুধ ছাড়া বেসাল ইনসুলিন ও দ্বিতীয় ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। ২০০৮ সালের পর থেকেই হার্ট সেফটি প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত এফডিএ (আমেরিকান ফুড ও ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) ওষুধ বাজারজাতকরণের অনুমতি দেয় না। তাই কারও হার্টের অসুখ থাকলে বা হার্টের অসুখ হওয়ার ঝুঁকি থাকলে নতুনতর ওষুধ যেমন গ্লিফ্লাজন, লিরাগ্লুটাইট মেটফরমিনের সঙ্গে যোগ করা বিজ্ঞানসম্মত।

আরো পড়ুন: বিটরুট কি? বিটরুটের উপকারিতা

এ১সি ৯ পর্যন্ত একটা ওষুধ দিয়ে, ৯ এর বেশি হলে দুটি ওষুধ এবং ১০ এবং রক্তের গ্লুকোজ ৩০০ মি.গ্রাম (১৬.৭ মিমোল) এর বেশি হলে ইনসুলিন দিয়ে শুরু করতে হবে। নতুন রোগীর ক্ষেত্রে এটার ব্যতিক্রম হতে পারে।

তবে কারো যদি হাইপারগ্লাইসেমিয়ার বিশেষ উপসর্গ যেমন দ্রুত ওজন কমা, ভীষণ তৃষ্ণা বা ক্ষুধা, দুর্বল লাগা, ইনফেকশন থাকলে ইনসুলিন দিয়েই শুরু করতে হবে। যে কোনো অবস্থাতেই প্রয়োজনে ইনসুলিন অতিশীঘ্রই শুরু করতে হবে। দেই, দিচ্ছি, দেখির স্থবিরতা বাদ দিতে হবে। রোগীকে বোঝাতে দেরি করে কিডনি দুর্বল করে ইনসুলিন দেয়ার চেয়ে আগে ইনসুলিন দিয়ে সুগার নিয়ন্ত্রণে এনে পরবর্তিতে ট্যাবলেটে যাওয়াই উত্তম।

এই প্রতিবেদনটি সম্পুর্ণ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বাংলাদেশ ও বিশ্বের জনপ্রিয় স্বাস্থ্য ব্লগ থেকে নিয়ে সাজানো। তাই এসব কিছু তো অবশ্যই অনুসরণ করবেন। পাশাপাশি আপনার নিকস্থ ডায়াবেটিস স্পেশালিষ্ট থেকে পরামর্শ নিবেন। তাহলে, আপনার সমস্যা অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হবে।

লেখক : মেডিসিন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ, বারডেম, ঢাকা , সুত্র: যুগান্তর, উইকিপিডিয়া, বিবিসি, গুগল, ইউটিউব, হেলথলাইন, বোল্ডস্কাই, হেলথ, মেডিকেল নিউজ টুডে, বেটার হেলথ


[ প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে  SOMVOB.COM লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।