ঠান্ডা পানি খেলে কি হয় আপনার শরীরে? তাহলে দেখুন!

342
ঠান্ডা পানি খেলে কি হয়

 ঠান্ডা পানি খেলে কি হয় নিশ্চই আপনি জানেন না! ঠান্ডা পানি পানের উপকারিতা অতি সামান্য। তবে স্বাভাবিক পানির সাথে কিছুটা ঠান্ডা পানি মিলিয়ে পান করলে সেই পানি দেহে শীতলতা এবং প্রশান্তি আনে। কিন্তু ঠান্ডা পানি খেলে কি হয় আপনার শরীরে?

বৈশাখের রোদের তাপে অতিষ্ঠ জীবন। জ্যৈষ্ঠ মাসও প্রায় চলে এসেছে। অসহনীয় গরম থেকে খানিক রেহাই পেতে এবং শরীরের ঘাম হয়ে বেরিয়ে যাওয়া পানির ঘাটতি পূরণ করতে পানি পান করার বিকল্প নেই। আবার স্বস্তি পাওয়ার অজুহাতে অনেকে ফ্রিজের ঠান্ডা পানিও পান করেন হরহামেশাই। কিন্তু এ রকম ঠান্ডা পানি যখন-তখন পান করা কি উচিত? 

SOMVOB
SOMVOB

ঠান্ডা পানি পান করলে এটির তাপমাত্রা এবং শরীরের তাপমাত্রায় অনেক পার্থক্য থাকায় পানির তাপমাত্রাকে স্বাভাবিক করতে শরীরকে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করতে হয়। এই অতিরিক্ত শক্তি ব্যয়ের ফলে শরীর হতে সামান্য পরিমাণে মেদ হ্রাস হয়। 

ঠান্ডা পানির অপকারিতা

গরমের চোটে ঘরের বাইরে বেরনোই মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কাজের প্রয়োজনে বেশির ভাগ মানুষকেই বাইরে বেরতেই হয়। আর বাইরে থেকে গরমে ঘেমে নেয়ে বিদ্ধস্ত হয়ে বাড়ি ফিরেই ফ্রিজ খুলে ঠান্ডা জল বের করে ঢক ঢক করে জল খাওয়ার পর তবেই কিছুটা স্বস্তি মেলে! তবে জানেন কি, প্রচণ্ড গরমে বাইরে থেকে বিদ্ধস্ত হয়ে ঘরে ঢুকেই এই ভাবে ঠান্ডা জল খাওয়ার অভ্যাস মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে? এর ফলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে শরীরের! আসুন এ বিষয়ে সবিস্তারে জেনে নেওয়া যাক…

8. খাওয়ার পর ঠান্ডা পানি

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাওয়ার পরে ঠান্ডা জল খাওয়ার অভ্যাস অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। কারণ, এর ফলে শ্বাসনালীতে অতিরিক্ত পরিমাণে শ্লেষ্মার আস্তরণ তৈরি হয়, যা থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।

7. মাত্রাতিরিক্ত ঠান্ডা পানি

মাত্রাতিরিক্ত ঠান্ডা পানি খাওয়ার ফলে রক্তনালী সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত ঠান্ডা জল খাওয়ার ফলে আমাদের স্বাভাবিক পরিপাক ক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে হজমের মারাত্মক সমস্যা হতে পারে।

6. শরীরচর্চার সময়

শরীরচর্চা বা ওয়ার্কআউটের পর ঠান্ডা জল একেবারেই খাবেন না। কারণ, ঘণ্টা খানেক ওয়ার্কআউটের পর শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে যায়। এই সময় ঠান্ডা জলে খেলে শরীরের তাপমাত্রার সঙ্গে বাইরের পরিবেশের তাপমাত্রার সামঞ্জস্য বিঘ্নিত হয়। ফলে হজমের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়ার্কআউটের পর যদি ঠান্ডা জলের পরিবর্তে তেষ্টা মেটাতে উষ্ণ জল খাওয়া যায়, তবে উপকার পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন: কিভাবে চিনবেন অধিক চাহিদার যৌন আবেদনময়ী মেয়ে?

5. দাঁতের সমস্যা

দন্ত চিকিত্সক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ঠান্ডা জল খেলে তার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে দাঁতের ভেগাস স্নায়ুর উপর। এই ভেগাস স্নায়ু আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। অতিরিক্ত ঠান্ডা জল খেলে ভেগাস স্নায়ু উদ্দীপিত হয়ে ওঠে। ফলে আমাদের হৃদযন্ত্রের গতি অনেকটাই কমে যেতে পারে।

ঠান্ডা পানি পানের উপকারিতার তুলনায় অপকারিতা এত বেশি যে উপকারিতার অস্তিত্ব না দেখাটাই উত্তম। এতে অনেক প্রকার সমস্যা হতে পারে। 

খাবার পর বা মাঝে ঠান্ডা পানি পান করলে এটি শরীরের চর্বিকে কঠিন করে দেয় যার ফলে পরিপাকের সময় সে চর্বিটুকু বাদ পড়ে যায়। পরবর্তীতে সেই চর্বির কারণে দৈহিক বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। 

4. হজমের সমস্যা

শরীরচর্চা বা ওয়ার্কআউটের পর ঠান্ডা পানি একেবারেই খাওয়া উচিত নয়। কারণ, ওয়ার্কআউটের পর দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে যায়। এই সময় ঠান্ডা পানি খেলে তা দেহের তাপমাত্রার সঙ্গে বাইরের পরিবেশের তাপমাত্রার সামঞ্জস্য রাখতে পারে না। ফলে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়ার্কআউটের পর যদি সামান্য উষ্ণ পানি খাওয়া যায়, তবে উপকার পেতে পারেন।

3. রক্তনালী সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে

অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি খেলে তার প্রভাবে রক্তনালী সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, হজমের সময় যে সমস্ত পুষ্টিগুণ আমাদের দেহে মিশতে থাকে, তাও বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে হজমের মারাত্মক সমস্যা হতে পারে।

2. শ্বাসনালীতে সংক্রমণের সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাওয়ার পরে ঠান্ডা পানি খাওয়া একেবারেই এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ, এর ফলে শ্বাসনালীতে শ্লেষ্মার অতিরিক্ত আস্তরণ তৈরি হয়, যা থেকে সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।

1. দাঁতের ক্ষতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি খেলে তার মারাত্মক প্রভাব পড়ে দাঁতের ভেগাস নার্ভের উপর। এই ভেগাস স্নায়ু হল আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। বেশি ঠান্ডা পানি খেলে ভেগাস স্নায়ু উদ্দীপিত হয়ে ওঠে। যার ফলে হৃদগতি অনেকটাই কমে যেতে পারে।

আরো পড়ুন: জাম্বুরার পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

ঠান্ডা পানি পানে আমাদের রক্তে অতিরিক্ত চাপ পড়ে কারণ ঠান্ডা পানির তাপমাত্রাকে ঠিক করতে বেশ পরিশ্রম করতে হয়। এতে হার্টের সমস্যা হতে পারে। 

আর ঘাম অবস্থায় ঠান্ডা পানি পান করলে গলা বসে যাওয়া, সর্দি-কাশির মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে দাঁতের ক্ষতি হয় এবং শরীরের পর্যাপ্ত পানির চাহিদা ঠান্ডা পানি পূরণ করতে পারে না। 

সুতরাং, আপনারও যদি এ ভাবে ঠান্ডা জল খাওয়ার অভ্যাস থাকে, তাহলে তা আজই বদলে ফেলুন। না হলে আপনার শরীরে একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা বাসা বাঁধতে পারে। তাই সতর্ক থাকুন, সুস্থ থাকুন।

প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল বিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে প্রতিদিনের স্বাস্থ্য টিপস লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

Posted by: tanjin alora shishir