টমেটোর উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ

0
350
টমেটোর উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ
Somvob.com

টমেটো একটি দৃষ্টিনন্দন শীতের সবজি হলেও এখন প্রায় পুরো বছরজুড়ে টমাটো সর্বত্র পাওয়া যায়। চলুন দেখা যাক টমেটোর উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ সমূহ। টমাটো শুধুমাত্র একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি নয় এতে এমন সব ঔসুধি গুণ রয়েছে, যা আপনি কখনো শুনেন নেই! সবজি হিসেবে টমেটোর জুড়ি অনেক।

এটি যেমন কাঁচা খাওয়া যায়, ঠিক একইভাবে রান্না করে বা রান্না সুস্বাদু করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। টমেটোর উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ বলতে গেলে কাঁচা ও পাকা এই দুই অবস্থাতে টমেটো খাওয়া যায়। এবং এতে রয়েছে পুষ্টিগুণ ও ত্বক ও বিভিন্ন ঔসুধি গুণও। রান্না না করলে টমেটোর যে পুষ্টিগুণ থাকে, রান্না করলে সেই পুষ্টি কিছুটা কমে যায়। শরীরকে সুস্থ-সবল রাখতে টমেটোর ভূমিকার কথা নতুন নয়। সর্বাধিক উপকার পেতে টমেটো কাঁচা খাওয়ার পরামর্শই দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তো চলুন, দেখে নেয়া যাক টমাটোর বেশকিছু  উপকারিতা।

দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, টমেটোয় উপস্থিত ভিটামিন এ, ফ্লেবোনয়েড, থিয়ামিন, ফোলেট এবং নিয়াসিন শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে একাধিক চোখের রোগকে দূরে রাখতেও এই উপদানগুলো বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

প্রসঙ্গত, যেমনটা আগে আলোচনা করা হয়েছে যে শীতকালে একাধিক ক্ষতিকর জীবাণুর প্রকোপ বেড়ে যায়। আর এই সব ব্যাকটেরিয়াগুলোর কারণে যাতে চোখের কোনও ক্ষতি না হয়, তা সুনিশ্চিত করতে রোজের ডায়েটে টমেটোর আন্তর্ভুক্তি মাস্ট!

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে

টমেটোয় উপস্থিত মিনারেল এবং ভিটামিন শরীরে প্রবেশ করার পর শিরা-ধমনীর উপর রক্তের প্রেসার কমতে শুরু করে। ফলে ব্লাড প্রসোর নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে সময় লাগে না। তাই এই মারণ রোগ থেকে যদি দূরে থাকতে চান, তাহলে নিয়মিত ২-৩ টি করে টমেটো খেতে ভুলবেন না যেন!

ক্যানসারের মতো মারণ রোগ দূরে থাকে

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, টমেটোয় উপস্থিত লাইকোপেন প্রস্টেট, কলোরেকটাল এবং স্টমাক ক্যানসার রোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে লাইকোপেন হল একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা কোষের বিভাজন ঠিক মতো হতে সাহায্য করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্যানসার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা কমে।

আর যদি একবার ক্যানসার কোষ জন্ম নিয়েও নেয়, তাহলেও যাতে তার বৃদ্ধি দ্রুত গতিতে না হয়, সে দিকে টমেটো খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই মারণ রোগ শরীরকে ক্ষয় করার সুযোগ পায় না।

আরো পড়ুন: বিশ্বের সবছেয়ে সেরা ডায়নামিক ১০টি কার

স্কিন টোনের উন্নতি ঘটে

টমেটোয় উপস্থিত লাইকোপেন নামে একটি উপাদান ত্বকের সৌন্দর্যতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এ ক্ষেত্রে আরেকভাবেও এই সবজিটিকে কাজে লাগাতে পারেন। কীভাবে? ১০-১২ টা টমেটো নিয়ে ভেতরটা পরিষ্কার করে নিন। তারপর টমেটোর স্কিনটা ভুল করে সারা মুখে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখুন। ১০ মিনিট পরে ভাল করে মুখটা ধুয়ে নিন। সপ্তাহে কয়েকবার এমনভাবে ত্বকের পরিচর্যা করলে দেখবেন বলিরেখা কমতে শুর করবে। সেই সঙ্গে স্কিনের ঔজ্জ্বল্যও বৃদ্ধি পাবে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে

নিয়মিত ১-২ করে টমেটো খাওয়া শুরু করলে শরীরে ভিটামিন সি-এর মাত্রা বাড়তে শুরু করে। এই ভিটামিনটি দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার উন্নতিতে সাহায্য করে। ফল সি ভিটামিনের পরিমাণ শরীরে যত বাড়ে, তত রোগ ভোগের আশঙ্কা হ্রাস পেতে শুরু করে। এবার বুঝেছেন নিশ্চয় যে রোজের ডায়েটে এই সবজিটি রাখলে কতই না উপকার মেলে।

হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, টমেটোর শরীরে উপস্থিত নানাবিধ উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর পাকস্থলির কর্মক্ষমতা এতটা বাড়িয়ে দেয় যে হজম সংক্রান্ত যে কোনও ধরনের সমস্যা কমতে একেবারেই সময় লাগে না। সেই সঙ্গে কনস্টিপেশনের মতো রোগের প্রকোপও হ্রাস পায়। প্রসঙ্গত, লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও এই সবজিটি নানাভাবে সাহায্য করে থাকে।

হার্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়

টমেটোয় উপস্থিত ভিটামিন বি এবং পটাশিয়াম, শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। সেই সঙ্গে রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়। প্রসঙ্গত, যাদের পরিবারে হাই কোলেস্টেরল এবং ব্লাড প্রেসার রোগের ইতিহাস রয়েছে তারা আজ থেকেই কাঁচা টমেটো খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন আয়ু বাড়বেই বাড়বে।

আরো পড়ুন: নিজে খাইতে পারো না! বিয়ে করে বউকে কী খাওয়াবা?

ভিটামিন এবং মিনারেলের ঘাটতি দূর হয়

যেমনটা আগেও অলোচনা করা হয়েছে যে রক্তিম বর্ণের গোলগাল এই সবজিটির ভিতরে শরীরের প্রয়োজনীয় প্রায় প্রতিটি ভিটামিনের সন্ধান পাওয়া যায়, যেমন ধরুন ভিটামিন এ, কে, বি১, বি৩, বি৫, বি৭ এবং সি। সেই সঙ্গে টমেটোর শরীরে প্রচুর মাত্রায় মজুত থাকে ফলেট, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্রোমিয়াম, জিঙ্ক এবং ফসফরাসের মতো খনিজও। তাই নিয়মিত টমেটো খেলে শরীরের যে নানাবিধ উপকার হয়, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

ত্বকের বয়স কমে

আপনার বয়স কি ৩০ পেরিয়েছে? তাহলে প্রতিদিন টমেটোর রস লাগানো শুরু করুন মুখে। কারণ এই বয়সের পর থেকেই নানা কারণে ত্বক বুড়িয়ে যেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে বলিরেখা প্রকাশ পাওয়ার কারণে সৌন্দর্য কমে চোখে পরার মতো। কিন্তু যদি টমেটোকে উদ্ধার কাজে লাগান, তাহলে ত্বকের এমন খারাপ অবস্থা হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে।

কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটির ভিতরে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান ত্বকের ভিতরে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে স্কিনের ভিতরে পুষ্টির ঘাটতি দূর হওয়ার কারণে ত্বক টানটান হয়ে ওঠে। ফলে বলিরেখা গায়েব হতে সময় লাগে না।

ক্ষতিকারক উপদান হ্রাস

কখনও খাবারের সঙ্গে তো কখনও অন্যভাবে আমাদের শরীরে টক্সিক উপাদানের প্রবেশ ঘটে। এই ক্ষতিকারক উপাদানগুলো যাতে শরীরের কোনও ক্ষতি করতে না পারে সে দিকে খেয়াল রাখে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। সেই সঙ্গে একাধিক রোগের হাত থেকেও রক্ষা করে। টমেটো যেহেতু অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, তাই তো শরীরকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত কাঁচা টমেটো খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

ত্বকের ময়লা

এ কথা নিশ্চয় জানা আছে, পরিবেশে উপস্থিত ডাস্ট পার্টিকালরা প্রতিনিয়ত ত্বকের ভিতরে প্রবেশ করে স্কিনের মারাত্মক ক্ষতি করে চলেছে। তাই তো দিনের শেষে সবাইকেই ভাল করে মুখ ধুয়ে শুতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু সমস্যাটা হল বাজার চলতি বেশিরভাগ ফেসওয়াশ জেলই এই কাজটি ঠিক মতো করে উঠতে পারে না। ফলে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হয়।

এমন অবস্থায় ত্বককে বাঁচাতে যদি অ্যাভোকাডোর সঙ্গে টমেটোর রস মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারেন, তাহলে কিন্তু দারুন উপকার পাওয়া মেলে। আসলে এই দুই প্রকৃতিক উপাদান একদিকে যেমন ত্বকের ভিতরে জমে থাকা টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। সেই সঙ্গে ত্বককে উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত করে তোলে। ফলে সৌন্দর্য বাড়ে চোখে পরার মতো।

আরো পড়ুন: কেন মেয়েরা ছেলেদের সাথে প্রতারণা করে! জেনে নিন ১৮টি কারণ

হাড় শক্তপোক্ত হয়ে ওঠে

ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন-কে সমৃদ্ধি হওয়ার কারণে হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে টমেটোর কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই তো বুড়ো বয়সে অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগের হাত থেকে বাঁচতে এখন থেকেই টমেটো খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার পাবেন।

মুখের সৌন্দর্য ধরে রাখতে এবং বয়সের ছাপ দুর করতে

টাটকা টমেটো কেটে টুকরো টুকরো করার পর সেগুলো থেকে রস করে নেন। তারপর এই রসের সাথে খানিকটা চিনি মেশান। এই চিনিমিশ্রিত রস প্রতিদিন মুখে মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। এতে মুখের ত্বক মসৃণ ও কোমল হবে। বয়স বাড়তে থাকলে মানুষের মুখে যে বয়সের ছাপ পড়ে, এই টমেটো দেওয়ার ফলে সেই ছাপ লুকিয়ে যেতেও টমেটা সাহায্য করবে।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে

উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা যে কোন রোগীর জন্য অনেক কঠিন একটা সমস্যা। তাই এখন থেকে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে একটি বা দুটি টমেটো খাবেন। সাথে কিছু চিনিও মিশিয়ে নিতে পারেন। এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অনেক ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সাহায্য করবে।

রক্ত স্বল্পতা দূরীকরণে

যারা রক্ত স্বল্পতা বা এনিমিয়ায় ভুগছেন, তাদের জন্য টমেটো বেশ উপকারী একটি সবজি বা ফল। একটি আপেল, একটি টমেটো এবং ১৫ গ্রাম তিল একসাথে খাবেন। প্রতিদিন এক বা দুইবার খেতে পারেন। এতে রক্ত স্বল্পতার সমস্যা অনেকটাই দূর হতে পারে।

সম্ভব ডটকম ফেজবুক পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সঙ্গে থাকুন

প্রতিদিনের স্বাস্থ্য টিপস

ক্ষত রোগ নিরাময়ে

আমাদের অনেকের মুখগহ্বরে মাঝে মাঝে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। এই সমস্যা অনেকের হয়ে থাকে। আমি মনে করি এখন থেকে আর চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। টমেটো রস আমাদের সাহায্য করতে পারে। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় একবার করে টমেটোর রস খান। দেখবেন, দিন কয়েকের মধ্যে মাথার ক্ষত দূর হয়ে যাবে।

হেপাটাইটিসের নিরাময়ে

টমেটোর এই গুণের কথা বলার মাঝে আমি আপনাদের একটি মজাদার খাবার রান্না শিখিয়ে দেব। এ খাবারের নাম ‘সবজি চাল স্যুপ’। এমন নাম শুনছেন, এই ডিশের প্রধান উপাদান হচ্ছে, টমেটো, সেলারি, গাজর এবং চাল। এ ছাড়া, পরিমাণমতো লবণ দিতে পারেন। এই ডিশ হেপাটাইটিসের নিরাময়ে খুব কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

সর্দি-কাশি প্রতিরোধে

সর্দি-কাশি গ্রীষ্মকালে বেশি দেখা যায়। গ্রীষ্মকালে সর্দি-কাশি লাগাটা স্বাভাবিক। টমেটো আপনাকে এ থেকে রক্ষা করতে পারে। এক বা দুটি টমেটো নিয়ে স্লাইস করে অল্প চিনি বা অল্প লবণ দিয়ে পাত্রে গরম করে স্যুপ তৈরি করুন। তারপর গরম গরম খেয়ে নিন। সর্দি-কাশিতে উপকার পাবেন।

জ্বরের নিরাময়ে সহায়ক

গায়ের তাপমাত্রা নানান কারণে বাড়তে পারে। কিন্তু কারণ যা-ই হোক, তাপমাত্রা বাড়লেই আমরা বলি ‘জ্বর হয়েছে’। শরীরে ইনফেকশন হলে গায়ের তাপমাত্রা বাড়তে পারে। তখন অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হতে পারে। কিন্তু সামান্য জ্বর হলে অনেক সময় স্রেফ টমেটো খেলেই আরাম পেতে পারেন। এক্ষেত্রে টমেটোর রসের সাথে তরমুজের রস মিশিয়ে খাবেন। ঘন্টায় ঘন্টায় একটু একটু করে খেতে থাকুন। উপকার পাবেন জ্বর থেকে।

আরো পড়ুন: বেগুনের এমন ৪০টি উপকারিতা, যা আপনি কখনো শুনেন নেই !

মাড়ি থেকে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে

আপনার মাড়ি থেকে যদি রক্তপাত হয়, তবে আপনার ভিটামিন সি-এর অভাব আছে। যাদের মাড়ি দিয়ে রক্তপাত হয়, তাদের অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে, প্রতিদিন একটি করে টমেটো খেলে দিন পনের পর দেখবেন রক্তপাত আপনা-আপনি বন্ধ হয়ে গেছে।

স্ট্রোক প্রতিরোধে

টমেটার গুন অনেক। এই টমেটোর পুষ্টিগুণ মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়ায়, যা স্ট্রোক প্রতিরোধ করে। যখন মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়, তখন স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যদি বংশে এই ধরনের রোগের প্রবণতা থাকে, তবে নিয়মিত টমেটো খাওয়া উচিত।

জনপ্রিয় লেখাসমূহ:

ত্বক সুস্থ রাখতে

নিয়মিত টমেটো খেলে ত্বক সুস্থ রাখতে আপনার চিন্তা করতে হবে না। আর ত্বক হয়ে উঠবে প্রাণবন্ত। টমেটোর বেটা ক্যারোটিন সূর্যের ক্ষতি থেকে ত্বককে রক্ষা করতেও সাহায্য করে। আর এতে থাকা লাইকোপিন অতিবেগুনী রশ্মির ক্ষতি কমাতে ভূমিকা পালন করে। ফলে ত্বকে বলিরেখা পড়ার পরিমাণ কমে যায়।

অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে

আমরা তো জানি টমেটার কত গুন। আর এই টমেটোর মধ্যে রয়েছে লাইকোপেন এবং ভিটামিন-এ, যা অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এই রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাই নিয়মিত টমেটো খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। সুতরাং অ্যাজমা নিয়ন্তনে টমেটার গুরুত্ব অপরিসীম।

হাড় শক্ত করতে

অনেকে বিশ্বাস নাও করতে পারেন, কিন্তু এটা সত্য যে টমেটোর মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম যা হাড়ের জন্য অনেক উপকার এবং অস্টিওপরোসিস রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে থাকে। আপনার যদি হাড় দুর্বল থাকে, তবে অবশ্যই টমেটো খান। আর এর মধ্যে থাকা লাইকোপিন যা হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতেও সাহায্য করে।

আরো পড়ুন: মেদ ও ভুঁড়ি কমানোর (৪০) টি বৈজ্ঞানিক উপায়

ক্যানসার রোধ করতে

টমেটোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যেমন- লাইকোপিন। তাই এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট দেহের ফ্রি রেডিকেলস দূর করে এবং ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। আর ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। টমেটোর কারণে ডিএনএ সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

স্বাস্থ্যকর চোখ ও ত্বক

ত্বক এবং চোখের জন্য টমেটো বেশ উপকারী। টমেটোর মধ্যে থাকা ভিটামিন এ- চোখ, ত্বক এবং হাড়কে সুস্থ রাখে। আপনি যদি কুচি করে কাটা এক কাপ কাঁচা টমেটো প্রতিদিন খান তাহলে দেহে ভিটামিন এ-র অর্ধেক চাহিদা পূরণ করা সম্ভাব।

ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য টমেটা খুবই উপকারি। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে টমেটো দেহের শর্করার মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। সুতরাং ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিদিন টমেটা খেতে দেওয়া উচিত।

আরো পড়ুন: কনডম ক্রয়ের আগে যে জিনিসগুলো জানা খুবই জরুরী!

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে

টমেটোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ ভিটামিন সি। যেটা শরীরের রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে রোগ প্রতিরোধে টমেটা অনেক উপকারি। তাই অসুস্থ দেহ থেকে আরোগ্য পেতে টমেটো খেতে পারেন, এটা রোগ নিরাময়ে সাহায্য করবে।

ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের যত্নে

টমেটায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি থাকে। ভিটামিন সি ত্বকে কলাজেন তৈরিতে কাজ করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ত্বক রক্ষায়ও সাহায্য করে। যার ফলে ত্বকের বিভিন্ন ক্ষত দূর করতে টমেটার ভূমিকা অনেক।

আরো পড়ুন: পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগতির ১৫টি বুলেট ট্রেন (ছবিসহ)

রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধে

রক্ত জমাট বাঁধা মৃত্যু ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এ ধরনের সমস্যায় রক্তের সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়, যা হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের কারণও হতে পারে। টমেটো এই ক্লোট বা রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করতে

টমেটা ব্লাড সুগার নিয়ন্তনে অনেক বড় ভূমিকা রাখে। টমেটার মধ্যে নানান ধরনের পুষ্টিগুণ বিদ্যমান থাকে। আর এই গুনাগুনের ফলে প্রতিদিন নিয়ম করে টমেটা খাওয়া উচিত। তাহলে দেহের ব্লাড সুগার নিয়ন্তনে থাকবে।

প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল বিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে প্রতিদিনের স্বাস্থ্য টিপস লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

Posted by: Tanjin alifa Rima

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here