ঘাড় ও পিঠ ব্যাথা থেকে মুক্তির বিশেষ ১৫টি উপায়

470

সম্ভব ডটকম: অনবরত কোথাও বসে থাকলে বা দাঁড়িয়ে থাকলে অথবা ঘুমের অসাবধানতার কারণে বিভিন্ন ধরনের পেশী ব্যথা হতেই পারে। প্রাই নিত্যদিনই অসহ্য এই যন্ত্রণায় ভুগে থাকি আমরা কমবেশি। এই ধরনের পেশী ব্যথাগুলো শরীর আড়ষ্ট করে ফেলে, দৈনন্দিন জীবন যাপনকেও করে তোলে ভীষণ কষ্টের। কোনো ধরনের সাধারণ কাজও ঠিকভাবে করতে পারি না।

কব্জি এবং আঙুলে ব্যথা
গলা এবং চোখ ব্যথা
পিঠে ব্যথা
উরু এবং পায়ের পাতা ব্যথা
ঘাড়ে ব্যথা

ঘাড় ব্যথা খুব সাধারণ একটি সমস্যা। এটি কোন বড় কোন রোগের লক্ষণ নাও হতে পারে, তবে এটি বেশ অস্বস্তিকর। পেশি টান, একটানা একভাবে বসে কাজ করা, ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানো, পুষ্টির অভাব, অতিরিক্ত ব্যায়াম, একটানা মাথা নিচু রাখা ইত্যাদি কারণে ঘাড় ব্যথা হতে পারে। এই অস্বস্তিকর ব্যথা দূর করা সম্ভব ঘরোয়া কিছু উপায়ে। আসুন জেনে নেওয়া যাক কার্যকরী ঘরোয়া উপায়গুলো।

কী কী কারণে ব্যথা হয়

বেশ কয়েকটি কারণে এই ব্যথা হতে পারে। সেগুলি নীচে বলা হল

১. বসা বা শোয়ার ধরন ভুল হলে।

২. ভারী কিছু তুলতে গেলে।

৩. অনেক ক্ষণ ধরে কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করলে।

৪. ব্যায়াম করতে গিয়ে কোনও ভাবে ব্যথা লাগতে পারে।


এগুলো তো সরাসরি কাঁধের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু শরীরের অন্য সমস্যা থেকেও এই ব্যথা হতে পারে। যেমন –

ক. ফুসফুসে কোনও সমস্যা হলে, কোনও কিছু জমাট বাঁধলে বা ক্যানসার দেখা দিলে সেখান থেকে কাঁধে ব্যথা হতে পারে।

খ. হার্টের সমস্যা থাকলে বা হার্ট অ্যাটাক হলে সেখান থেকেও এই ব্যথা হয়। এটি মেয়েদের ক্ষেত্রে বেশি হয়।

গ. গলব্লাডারের সমস্যা থাকলে।

ঘ. লিভারের কোনও সমস্যা হলে তার থেকেও এই ব্যথা হয়।

ঙ. হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা থাকলে বা অস্টিয়োপরোসিস, আর্থারাইটিস, স্কোলিওসিস থাকলে।

চ. কোনও গুরুতর অপারেশন হলে তার থেকেও এই কাঁধে ব্যথা হয়।

আইস প্যাক

ইনফ্লামেশনের কারণে ঘাড়ের পেশিতে যে ব্যথা হয়ে থাকে, তা দূর করতে আইস প্যাক বেশ কার্যকর। একটি ব্যাগে কয়েক টুকরো বরফ ঢুকিয়ে ঘাড়ে দিয়ে রাখুন। ১৫ মিনিট রাখুন। এটি ২ থেকে ৩ ঘন্টা পর পর ব্যবহার করুন। ঘাড়ের ব্যথা কমিয়ে দিবে নিমেষে।

আপেল সাইডার ভিনেগার

আপেল সিডার ভিনেগারে একটি টাওয়েল ভিজিয়ে নিন। এবার এটি ঘাড়ে ব্যথার স্থানে লাগিয়ে রাখুন। এভাবে কয়েক ঘন্টা রাখুন। এটি দিনে দুইবার করুন। এছাড়া দুই কাপ আপেল সাইডার ভিনেগার কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে নিন। ১৫ মিনিট পর এটি দিয়ে গোসল করে ফেলুন।

স্ট্রেচিং

আপনি নিশ্চয়ই ‘ওয়ার্ম আপ’ কথাটার সঙ্গে পরিচিত। কোনও ব্যায়াম করার আগে এটি করা হয়। এক্ষেত্রে আপনি যদি স্ট্রেচিং বেছে নেন তাহলে তা ব্যায়ামের পরের ব্যথা থেকে আপনাকে বাঁচাবে। এটি না করলে কিন্তু অনেক সময়ে ব্যথা হতে পারে। আপনার ট্রেনারকে বলুন যেন উনি আপনাকে এই বিষয়ে সাহায্য করেন।

ম্যাসাজ থেরাপি

ম্যাসাজ থেরাপিও কিন্তু খুব সহজেই এই কাঁধের ব্যথা কম করতে পারে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল এটি খুব তাড়াতাড়ি আরাম দেয়। কিন্তু এটি অবশ্যই দেখে নেবেন যেন এই ম্যাসাজ কোনও প্রফেশনাল মানুষই করে থাকেন, নইলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

আরো পড়ুন: ভুট্টার অসাধারণ ৩০টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

গরম পানির সেঁক

গোসলের সময় ঘাড় ব্যথার স্থানে তিন থেকে চারবার গরম পানি দিন। এরপর ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড ঠান্ডা পানি ঢালুন। এই কাজটি কয়েকবার করুন। গরম পানি পেশিতে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে দিবে আর ঠান্ডা পানি পেশি ইনফ্লামেশন রোধ করবে।

আদা

দুই কাপ পানি মাঝারি আঁচে জ্বাল দিয়ে দিন। এরপর এতে আদা কুচি, দিয়ে ১০ মিনিট সিদ্ধ করুন। এর সাথে মধু মিশিয়ে নিন। ঘাড় ব্যথার সময় এটি পান করুন। আদার অ্যান্টি-ইনফ্লামেনটরী উপাদান রক্ত চলাচল সচল রেখে ঘাড় ব্যথা কমিয়ে দেয়। এছাড়া একটি সুতির কাপড়ে আদা কুচি পেঁচিয়ে সেটি গরম পানিতে ৩০ সেকেন্ড ভিজিয়ে নিন। এবার এটি ঘাড়ে ব্যথার স্থানে লাগিয়ে নিন। এটিও আপনার ঘাড় ব্যথা কমিয়ে দিবে দ্রুত।

হলুদ

এক গ্লাস গরম দুধে এক চা চামচ হলুদ গুঁড়ো দিয়ে অল্প আঁচে ৫ মিনিট জ্বাল দিন। এর সাথে মধু মিশিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেলে পান করুন। এটি দিনে দুইবার পান করুন। ব্যথা না কমা পর্যন্ত এটি পান করতে থাকুন।

আরো পড়ুন: স্ত্রী ব্রা খুললেই স্বামী হওয়া যায় না!

রোজ ব্যায়াম করুন

একটা কথা বলা হয়, শরীরকে খাটালে তা আরও ভালো থাকে। তাই রোজ ব্যায়াম করুন। দেখবেন এতে কাঁধের পেশির উপর চাপ পড়বে। এতে সঙ্কোচন আর প্রসারণ ক্ষমতা বাড়বে। স্থিতিস্থাপকতা ক্ষমতা বাড়বে কাঁধের। তাই নিয়ম করে হাল্কা করে ব্যায়াম করুন, যখনই সময় পাবেন।

ভারী জিনিস তুলবেন না

আপনার কাঁধে ব্যথা হলে এটি একদমই করা যাবে না। এর ফলে ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। ব্লেডের উপর চাপ পড়তে পারে। তাই ভারী জিনিস একদমই তুলবেন না।

হেলদি ডায়েট করুন

কাঁধের ভালো যত্ন নিতে হলে তাকে মজবুত করা দরকার। আর তার জন্য আপনাকে খুব ভালো করে খেতে হবে। আপনার ডায়েটে রাখতে হবে সুষম খাদ্য। তার মধ্যে অবশ্যই রাখতে হবে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার। কারণ ক্যালসিয়াম হাড়ের জোর বাড়ায়। তাই হেলদি ডায়েট মেনে চলুন।

পীঠ ব্যাথা নিরাময়ে সাত উপায়

(১) ব্যাথা প্রতিকারে বরফ সবচেয়ে বেশি কাজ করে। আপনি দিনে দুই থেকে তিনবার বরফ লাগিয়ে ব্যাথা এবং ফোলা উভয়ই কমাতে পারবেন। আর ব্যথা থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি পাওয়ার জন্য তোয়ালেতে বরফ মুড়িয়ে ব্যাথার স্থানে ব্যবহার করা যেতে পারে।

(২) যেহেতু আমরা বেশিরভাগ মানুষই দীর্ঘসময় ধরে বসে কাজ করি, তাই সঠিক ভঙ্গিতে বসাটাও অত্যন্ত জরুরি। সঠিকভাবে বসা পিঠের ব্যথা অনেকাংশেই দূর করতে সাহায্য করে। বসার সঠিক ধরণটা হল সকল হাড় সোজা রেখে ,পা মাটির সমতলে বসা।

আরো পড়ুন:যৌন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের গুরুত্বপূর্ণ ১০১টি প্রশ্ন উত্তর!

(৩) নিয়মিত মালিশ শুধু যে পিঠে ব্যাথা কমায় তা নয় বরং সে সাথে অবসাদ নিরাময়েও কাজ করে।

(৪) সকালে খালি পেটে দুই তিন খণ্ড রসুন খেতে পারেন। রসুনের তেল মালিশ করেও ভালো সুফল পাওয়া যায়।

(৫) পিঠ ব্যথায় সবচেয়ে উপকারী হল নিয়মিত ব্যায়াম করা। এজন্য পেট ও পিঠের নিয়মিত ব্যায়ামের প্রয়োজন।

(৬) কুসুম গরম পানিতে ইপসাম লবন মিশিয়ে গোসল করলে পিঠ ব্যাথা কমে যায়। তবে এক্ষেত্রে পানির তাপমাত্রার ব্যপারে সতর্ক থাকতে হবে।

(৭) ব্যাথা নিরাময়ে হলুদ এবং মধু মিশানো দুধ পান একটি পুরনো পদ্ধতি। এটি শরীরের যেকোন ধরনের ব্যথাতেও বেশ কার্যকরী। তবে দীর্ঘদিন ধরে পিঠে ব্যাথা থাকলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল বিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে প্রতিদিনের স্বাস্থ্য টিপস লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

Posted by: tanjin alora shishir