ঘন ঘন স্বপ্নদোষ হলে করণীয় কি: ২০টি সমাধান!

0
28
ঘন ঘন স্বপ্নদোষ

যদিও স্বপ্নদোষ হওয়াটা স্বাভাবিক ঘটনা কিন্তু এটি যখন ঘন ঘন স্বপ্নদোষ পরিমানে হতে থাকে তখন কিন্তু রোগেরই পূর্বাবাস দেয়। আর সেই সময় স্বপ্নদোষের কারনে পুরুষের নানা প্রকার শারীরিক এবং মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। ঘন ঘন স্বপ্নদোষ হলে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় হস্তমৈথুন এবং স্বপ্নদোষ আনুপাতিক হারে বিপরীতমুখী। ঘন ঘন স্বপ্নদোষ হলে করণীয় কি ২০টি সমাধান!

অর্থাৎ হস্তমৈথুন করলে কিছু কিছু পুরুষের স্বপ্নদোষ হ্রাস পায়। কিন্তু এটা করা আরো ক্ষতিকর। একসময় হস্তমৈথুন করার অভ্যাসটাই একজন পুরুষের যৌন জীবন বিপর্যস্থ করে তুলে। অতিরিক্ত হ্স্তমৈথুনের ফলেও কিছু শারীরিক, মানসিক এবং হরমোনজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়ে থাকে যা এই ধরনের স্বপ্নদোষকে পুরুষের স্থায়ী পুরুষত্বহীনতা এবং লিঙ্গত্থানহীনতার মত মারাত্মক জটিল রোগের সৃষ্টি করতে পারে।

পুরুষের শরীরে বীর্য প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্টি হয় যা পরবর্তীতে শারীরিক মিলন বা হস্তমৈথুনের সময় চরম তৃপ্তির পর্যায়ে পুরুষের শরীর থেকে নির্গত হয়ে থাকে। কিন্তু অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের ফলে পুরুষের টেষ্টষ্টোরেন হরমোন অধিক পরিমান অর্থাৎ প্রয়োজনের অতিরিক্ত বীর্য তৈরি করে এবং একই সাথে স্পিংটার পেশী এবং স্নায়ু দুর্বল করে দেয় যার ফলে বীর্য যৌনতন্ত্রে আটকে যায়।

স্বপ্নদোষ কী

পরবর্তীতে আটকে থাকা বীর্য প্রস্রাবের সাথে কিংবা কোন রকম খারাপ স্বপ্ন ছাড়া ঘুমের মাঝে শুধুমাত্র বিছানার ঘর্ষনের ফলে নিজ থেকে বেরিয়ে যায়। বীর্য আটকে থাকার কারনে এবং তা থেকে স্বপ্নদেষের সৃষ্টির কারনে ক্রমশ বেশ কিছু সম্যসার জন্ম দেয়। যেমন :- শারীরিক দুর্বলতা বৃদ্ধি লিঙ্গত্থান সমস্যা বীর্যের পরিমান হ্রাস শুক্রানুর পরিমান কমে যাওয়া হাটু, মাজা এবং শরীরের অন্যান্য জোড়ার ব্যাথা অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব অনুভুতি ইত্যাদি।

আরো পড়ুন: শুধু পর্ন তারকা নয় সানি লিওন একজন সফল ব্যবসায়ীও

মানব সন্তান বিশেষত ছেলেরা, বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছালে তাদের বীর্যথলিতে বীর্য এবং অন্ডকোষে শুক্রাণু তৈরি হয়। সময়ের সাথে সাথে বীর্য ক্রমাগত বীর্যথলিতে জমা হতে থাকে। বীর্যথলির ধারণক্ষমতা পূর্ণ হওয়ার পর নিদ্রারত অবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপথে বীর্যপাত ঘটে দেহে বীর্যের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রিত হয়, একেই স্বপ্নদোষ বলা হয়।

স্বপ্নদোষের সময় অনেকে স্বপ্নে অবচেতনভাবে যৌন কর্মকাণ্ডের প্রতিচ্ছবি অবলোকন করেন, তবে উক্ত অনুভূতি ছাড়াও স্বপ্নদোষ সঙ্ঘটিত হয়। ব্যক্তিবিশেষের ক্ষেত্রে স্বপ্নদোষে বীর্যপাতের পরিমাণ কম বা বেশী হতে পারে। স্বপ্নদোষ নারীদের ক্ষেত্রেও হতে পার, তবে তাঁর মাত্রা পুরুষদের তুলনায় অনেক কম। এছাড়া মেয়েদের স্বপ্নদোষের ফলে সাধারণত বীর্য নির্গত হয় না, ফলে তা স্বপ্নদোষ কিনা সেটি সহজে চিহ্নিত বা নির্ণয় করা যায় না।

আরো পড়ুন: মা ও স্বামীকে নিয়ে ধূমপান করে সমালোচনার মুখে প্রিয়াঙ্কা

ঘন ঘন স্বপ্নদোষ হলে ইসলাম কি বলে?

জিজ্ঞাসা– ১৩৯ : স্বপ্নদোষ হলে শুধুমাত্র নাভি থেকে নিচের দিকে ধুয়ে ফেললেই পবিত্রতা হাসিল হবে কিনা? নাকি পরিপূর্ণ গোসল করতে হবে?—Altaf Hosain

জবাব:  না, হবে না; বরং পরিপূর্ণ গোসল করতে হবে।

উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালামা রাযি. বলেন, আবু তালহা রাযি.-এর স্ত্রী উম্মে সুলাইম রাযি. রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট এসে আরজ করলেন,

إِنَّ اللَّهَ لا يَسْتَحْيِي مِنْ الْحَقِّ ، هَلْ عَلَى الْمَرْأَةِ مِنْ غُسْلٍ إِذَا هِيَ احْتَلَمَتْ ؟

ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ তাআলা সত্যের বিষয়ে নিঃসঙ্কোচ। (তো আমার জিজ্ঞাসা এই যে,) কোনো নারীর স্বপ্নদোষ হলে কি তার উপর গোসল ফরয হয়?

উত্তরে আল্লাহর রাসূল ﷺ বললেন, نَعَمْ ، إِذَا رَأَتْ الْمَاءَ হ্যাঁ। যদি সে পানি (ভেজা) দেখতে পায়। (সহীহ বুখারী ১/৪২)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়- ১. ছেলেদের মত মেয়েদেরও স্বপ্নদোষ হয়। ২. স্বপ্নদোষ হলে ছেলে-মেয়ে উভয়ের গোসল করা ফরজ হয়।

সুত্র: http://quranerjyoti.com

ঘন ঘন স্বপ্নদোষ হলে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা

স্বপ্নদোষ যখন সপ্তাহে ১ বারের বেশি এবং মাসে ৫ বারের বেশি হতে থাকে তখন এটাকে অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ বলা হয়ে থাকে। তখন এটার পেছনে কোনো না কোন কারণ থাকে অর্থাৎ সেই সময় এটা রোগের পর্যায়ে পড়ে যায়।

আরো পড়ুন: মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার কিছু উপায়

স্বপ্নদোষ যদিও ভয়াবহ কোনো বিষয় নয় কিন্তু এ অবস্থা চলতে থাকলে একসময় এটা নানা প্রকার শারীরিক, মানসিক সমস্যার জন্ম দিয়ে থাকে। তাই যখনই বুঝবেন স্বপ্নদোষ অতিরিক্ত পরিমানে হচ্ছে কাল বিলম্ব না করে আপনার হোমিওপ্যাথের সাথে যোগাযোগ করুন এবং চিকিত্সা নিন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেরে উঠবেন ইনশাল্লাহ।

ঘন ঘন স্বপ্নদোষ হলে করণীয় কি

সাধারণত নরমাল স্বপ্নদোষ একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, এটি কোন শারীরিক সমস্যা নয়। এটি প্রজননক্ষম জীব হিসেবে মানব প্রজাতির স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার একটি অংশ। বয়ঃসন্ধিকালে দেহের যৌন বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ধনের ফলাফলস্বরূপ এটি ঘটে থাকে। স্বপ্নদোষ সঙ্ঘটনের ধারাবাহিকতার ক্ষেত্রে স্থান ও বয়সভেদে ব্যাপক বিভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।

তবে ঘন ঘন স্বপ্নদোষ একটি অস্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা পুরুষের স্বাভাবিক দেহ-প্রকরণ গতিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে। এর মাধ্যমে পুরুষ ও নারীর দেহ ক্রমে ক্রমে নিঃস্তেজ ও স্বাস্থ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। কাজে কর্মে উৎসাহ থাকে না। নেগেটিভ চিন্তা-চেতনা মাথায় সার্বক্ষণিক ভর করে থাকে।

কিছু পুরুষ তারা যে সময়কালটিতে সঙ্গম অথবা স্বমেহন কোনভাবেই যৌনকর্মে সক্রিয় হন না, কেবল তখনই এটি ঘটে থাকে। কিছু পুরুষ তাঁদের টিন এজার বয়সে বা উঠতি কৈশোরে বহুসংখ্যকবার স্বপ্নদোষের সম্মুখীন হয়েছেন, আর বাকি পুরুষদের জীবনে একবারও এটি ঘটেনি। যুক্তরাষ্ট্রে, ৮৩% পুরুষ জীবনে কোন না কোন সময়ে স্বপ্নদোষের অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন।

আরো পড়ুন: হস্তমৈথুন বাদ দিলে ঘন ঘন স্বপ্নদোষ হয়?

বয়ঃসন্ধিকালে যারা নতুনভাবে স্বপ্নদোষের অভিজ্ঞতা লাভ করেন তারা অনেকেই প্রথমদিকে একে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারেন না এবং আতঙ্ক ও হীনম্মন্যতা বোধ করেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্বপ্নদোষের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে। এছাড়াও স্বপ্নদোষ হতে নানা কারণে পারে, যেমনঃ

ঘন ঘন স্বপ্নদোষ হওয়ার মুখ্য কারণ

বয়ঃসন্ধিকালে যৌন হরমোনের আধিক্যের জন্য

গৌণ বা অনিশ্চিত কারণ

  • ধর্মীয় বই পড়া: যেমন, মুসলিমদের জন্য কোরআন শরীফ ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা, হিন্দুদের জন্য গীতা পাঠ এবং ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে চলা।
  • স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত যৌন বিষয়ক চিন্তা করা
  • পর্ণগ্রাফি বা নীল ছবিতে আসক্ত হওয়া
  • যৌন উদ্দীপক বই পড়া
  • শয়নকালের পূর্বে যৌন বিষয়ক চিন্তা করা বা দেখা
  • সবসময় টেনশন
  • ধুমপান ও দুশ্চিন্তামুক্ত এবং পর্যাপ্ত ঘুমাবেন।
  • ঘুমানোর আগে প্রসাব ও রাত্রে উঠে প্রসাব করবেন।
  • প্রতিদিন সকালে ২চা চামচ মধু পান করলে সুফল পাবেন।
  • দৈনিক বেশি পরিমাণে জল পান করবেন।
  • ইসবগুলের ভূসির শরবত অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ রোধ করে।
  • সব ধরনের উত্তেজক খাদ্য ও মেডিসিন গ্রহন থেকে বিরত থাকবেন।

  • অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ হলে যৌন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

বয়ঃসন্ধিকালে কারো কারো স্বপ্নদোষ নাও হতে পারে , এতে এটা প্রমাণ করে না যে তার সমস্যা আছে। আবার নিয়মিত হস্থমৈথুনের প্রভাবে স্বপ্নদোষের পরিমাণ হ্রাস পায়। স্বপ্নদোষের সাথে সবসময় স্বপ্ন দেখার সম্পর্ক নাও থাকতে পারে।

আরো পড়ুন: পুরুষের শুক্রাণু বৃদ্ধির ৪০টি উপায়; এবং শুক্রাণু বৃদ্ধির ২০টি খাবার

স্বাভাবিক নিয়মিত স্বপ্নদোষ কোন সমস্যা নয় বলে মনে করা হলেও অস্বাভাবিক স্বপ্নদোষের কারণে নারী ও পুরুষের দেহের নানা সমস্যা সংঘটিত হয়ে থাকে। তাই অস্বাভাবিক স্বপ্নদোষ হলে অবশ্যই চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হয়ে সব খুলে বলে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ হলে জেনে রাখা ভালো

রাতে অতিরিক্ত ভুজন বা গুরুপাক দ্রবাদি ভুজন অথবা তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে অনেকেরই কিছু দিন অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ হতে পারে।

এটা কোনো রোগের পর্যায়ে পড়ে না। রাতে শোবার ২/৩ ঘন্টা আগে হালকা খাবার গ্রহণ এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে সেটা প্রতিরোধ করলেই ঐ সময়কার অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ ঠিক হয়ে যাবে। এর জন্য কোনো প্রকার চিকিত্সার প্রয়োজন নেই।

প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল বিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, বিস্ময়কর পৃথিবী, সচেতনমূলক লেখা, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে  SOMVOB.COM লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here