কাঁঠাল এর উপকারিতা কি? কাঁচা কাঁঠাল নাকি পাকা কাঁঠাল খাবেন?

337
কাঁঠাল এর উপকারিতা

কাঁঠাল এর উপকারিতা কি? কাঁঠাল খেলে কি হয়? কাঁচা কাঁঠাল নাকি পাকা কাঁঠাল খাবেন? আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আজকের প্রতিবেদন। কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল, এর ইংরেজী নাম হচ্ছে (Jackfruit) । পাকা কাঁঠালের সুঘ্রাণ আর স্বাদের কথা অনেকেরই জানা। কাঁঠাল এর উপকারিতা নিয়ে অনেকের অনেক প্রশ্ন কাঁচা হোক বা পাকা, দুই ভাবেই কাঁঠাল খাওয়া যায়। এই গরমে আর ক’টা দিন পরই বাজারে কাঁঠালের দেখা মিলবে। কাঁঠাল এর উপকারিতা কি আছে? কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, আয়রন, থায়ামিন, রাইবোফ্লোবিন, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম। আসুন কাঁঠালের কয়েকটি আশ্চর্য স্বাস্থ্যগুণ ও কাঁঠাল এর উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক…

এই গরমে আর ক’টা দিন পরই বাজারে কাঁঠালের দেখা মিলবে। কাঁঠাল এর উপকারিতা কি আছে? কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, আয়রন, থায়ামিন, রাইবোফ্লোবিন, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম। আসুন কাঁঠালের কয়েকটি আশ্চর্য স্বাস্থ্যগুণ ও কাঁঠাল এর উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক…

কাঁঠাল এর উপকারিতাপুষ্টিগুণ

 কাঁঠাল এর উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ

কাঁঠালে সামান্য পরিমাণ প্রোটিন পাওয়া যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা কাঁঠালে ১.৮ গ্রাম, কাঁচা কাঁঠালে ২০৬ গ্রাম ও কাঁঠালের বীজে ৬.৬ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। এই প্রোটিন দেহের গঠনে সাহায্য করে। কাঁঠালে রয়েছে শ্বেতসার। পাকা কাঁঠালে ০.১ গ্রাম, কাঁচা কাঁঠালে ০.৩ ও কাঁঠালের বীজে ০.৪ গ্রাম শ্বেতসার পাওয়া যায়।

কাঁঠালে ভিটামিন ‘এ’ পাওয়া যায়। ‘এ’ ভিটামিন দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। কাঁঠালের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান চোখের রেটিনার ক্ষতি প্রতিরোধ করে। কাঁঠালে ভিটামিন বি-১ ও বি-২ পাওয়া যায়। পাকা কাঁঠালে ০.১১ মি.গ্রা, কাঁচা কাঁঠালে ০.৩ মি.গ্রা ও কাঁঠালের বীচিতে ১.২ মি.গ্রা বি-১ পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন: জেনে নিন; কানের ক্ষতি না করেই হেডফোন ব্যবহার করার কৌশল!

পাকা কাঁঠালে ০.১৫ মি.গ্রা, কাঁচা কাঁঠালে ০.৯ মি.গ্রা এবং কাঁঠালের বীচিতে ০.১১ মি.গ্রা বি-২ পাওয়া যায়। কাঁঠালে রয়েছে ভিটামিন ‘সি’ । পাকা কাঁঠালে ২১ মি.গ্রা, কাঁচা কাঁঠালে ১৪ মি.গ্রা এবং কাঁঠালের বীজে ১১ মি.গ্রা ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়।

কাঁঠাল সাধারণতা দুই ধরণের খাওয়া যায়। কাঁচা কাঁঠাল এবং পাকা অবস্থায়। এখন প্রশ্ন হলো কাঁচা কাঁঠাল খাবো নাকি পাকা কাঁঠাল খাবেন? চলুন দেখা যাক কাঁচা কাঁঠাল এবং পাকা কাঁঠালের উপকারিতা সমূহ:

কাঁচা কাঁঠাল এর উপকারিতা

কাঁচা কাঁঠাল এর উপকারিতা

কাঁচা কাঁঠাল রোগব্যাধি উপশমে যেমন কার্যকর, অন্যদিকে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে দেয় অনেক গুণ। এমনকি কাঁঠালের বিচিতেও আছে শর্করা। এটি চাইলে খেতে পারবেন তরকারি, হালুয়া বা ভর্তা হিসেবে। তবে এতে থাকে আঁশ, তাই বেশি খেলে হজমে গোলযোগ হতে পারে। যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাঁদের কাঁঠাল খাওয়ায় খানিকটা বিধিনিষেধ আছে। এছাড়া কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁদের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি, তাদের কাঁঠাল না খাওয়াই ভালো।

কাঁচা কাঁঠাল এর উপকারিতা

ভিটামিন এ, সি ও বি৬

কাঁঠালে যেসব ভিটামিন থাকে, তাতে একে বহুগুণসম্পন্ন বলা চলে। কাঁঠালে থাকা ভিটামিন এ-র কল্যাণে মাথার চুল ভালো থাকে, দৃষ্টিশক্তি বাড়ে ও চোখের সমস্যা কমে। এতে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, অ্যাজমা, কাশি, সর্দি ও ক্যানসারের মতো রোগ দূর করে। এর ভিটামিন বি৬ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায়।

আরো পড়ুন: বিটরুট কি? বিটরুটের উপকারিতা

কাঁঠালের বিচির প্রোটিন

কাঁঠালের বিচি ফেলনা নয়। এটি চাইলে খেতে পারবেন হালকা নাশতায়, সালাদ, তরকারি, হালুয়া বা ভর্তা হিসেবে। এতে যে প্রোটিন আছে, তা মাংসপেশি গঠনে ভূমিকা রাখে। কাঁঠালের বিচি গুঁড়ো করে সকালের জুসেও খেতে পারেন

কোলস্টেরলবিহীন ভালো শর্করা

কাঁঠালকে বলা চলে শূন্য কোলস্টেরলের ফল, যা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। যেকোনো বয়সের মানুষ এটা খেতে পারেন। এটি শক্তির ভালো উৎস। এতে আছে ভালো শর্করা। নাশতা হিসেবে বা খাবারের বিকল্প হিসেবে কাঁঠাল খেতে পারেন।

হজমশক্তি বাড়ায়

পেটের নানা রকম পীড়া থেকে মুক্তি দিতে পারে কাঁঠাল। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং অন্ত্রের নড়াচড়া বাড়াতে সাহায্য করে এটি। এতে যে আঁশ থাকে, তা কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করে। পেটের অম্লতা ও আলসার ঠেকাতেও কাঁঠাল খেতে পারেন।

আরো পড়ুন: ফুসফুস শক্তিশালী বা পরিস্কার করতে যে খাবার ও ব্যায়াম খুব জরুরী

বয়সের ছাপ দূর করে

কাঁঠাল আপনার বয়স ধরে রাখবে। মুখে বলিরেখা পড়তে বাধা দেয়। এটি ত্বকের জন্য ভালো। এর মধ্যকার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ সৃষ্টিকারী মুক্ত উপাদানের (ফ্রি র‍্যাডিক্যালস) বিরুদ্ধে লড়াই করে। প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম থাকায় হাড়ের ক্ষয় ঠেকাতে পারে কাঁঠাল।

পাকা কাঁঠাল এর উপকারিতা

পাকা কাঁঠাল এর উপকারিতা

হজমের সমস্যা দূর করার ক্ষেত্রে কাঁঠাল খুবই উপকারি। কাঁঠালে রয়েছে এমন সব উপাদান যা পাকস্থলির আলসার প্রতিরোধ করতে সক্ষম। এ ছাড়া কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যা দূর করার ক্ষেত্রে কাঁঠাল অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান।

কাঁঠাল শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি কাঁঠালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বাস্থ্যগুণ। থাকা ভিটামিন সি শরীরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া কাঁঠাল রক্তের শ্বেতকনিকার কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে।

কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম যা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রেখে হার্ট অ্যাটাক আর স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। কাঁঠাল হাঁপানির সমস্যায় অব্যর্থ ওষুধের কাজ করে! আয়ুর্বেদিক চিকিত্সায় বলা হয়, যদি কাঁঠালের শিকড় জলে ফুটিয়ে সেই জলটা খাওয়া যায় তাহলে হাঁপানির সমস্যা সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ (বিশেষ করে তামা) যা থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে যে কোনও কড়া ওষুধ খাওয়ার আগে কাঁঠাল পথ্য হিসাবে খেয়ে দেখতে পারেন। কাঁঠাল রক্তশূন্যতার সমস্যা প্রতিরোধ করে এবং শরীরের সর্বত্র রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করে।

আরও পড়ুন: শিশুর খাবার তালিকা ও বাচ্ছাদের জন্য ৩০টি স্মাট টিপস!

কাঁঠালে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোলনের বিষাক্ত অংশ (টক্সিক উপাদান) পরিষ্কার করে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। তাছাড়া কাঁঠালে থাকা উচ্চ মাত্রার আঁশ জাতীয় উপাদান কোষ্ঠ্যকাঠিন্য প্রতিরোধ করে পাইলসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

ছয় মাস বয়সের পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে কাঁঠালের রস খাওয়ালে শিশুর ক্ষুধা নিবারণ হয়। অন্যদিকে তার প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাব পূরণ হয়। চিকিৎসা শাস্ত্র মতে প্রতিদিন ২০০ গ্রাম তাজা পাকা কাঁঠাল খেলে গর্ভবতী মহিলা ও তার গর্ভধারণকৃত শিশুর সব ধরনের পুষ্টির অভাব দূর হয়।

গর্ভবতী মহিলারা কাঁঠাল খেলে তার স্বাস্থ্য স্বাভাবিক থাকে এবং গর্ভস্থসন্তানের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়। দুগ্ধদানকারী মা তাজা পাকা কাঁঠাল খেলে দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এই ফল আঁশালো বিধায় কোষ্ঠকাঠিণ্য দূর করে। কাঁঠালে রয়েছে খনিজ উপাদান আয়রন যা দেহের রক্তাল্পতা দূর করে।

আরো পড়ুন: শিশুকে চতুর ও বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধির বিশেষ ১০টি কৌশল

কাঁঠাল গাছের শেকড় হাঁপানী উপশম করে। শেকড় সেদ্ধ করলে যে উৎকৃষ্ট পুষ্টি উপাদান নিষ্কাশিত হয় তা হাঁপানীর প্রকোম নিয়ন্ত্রণে সক্ষম। চর্মরোগের সমস্যা সমাধানেও কাঁঠালের শেকড় কার্যকরী। জ্বর এবং ডায়রিয়া নিরাময় করে কাঁঠালের শেকড়।

পাকা কাঁঠাল সংরক্ষণের পদ্ধতি

পাকা কাঁঠাল সংরক্ষণের পদ্ধতি

আকারে বড় হওয়ায় একসাথে পুরো কাঁঠাল মাঝে মধ্যে খাওয়া সম্ভব হয়ে উঠে না। তাইতো কখনো পাকা কাঁঠাল সংরক্ষণের প্রয়োজন দেখা দেয়। এই মৌসুমে পাকা কাঁঠাল চলে এসেছে বাজারে। সারা বছর দেখা মিলে না এই ফলের। সারা বছর রেখে খেতে চাইলে এখনই সংরক্ষণ করুন ফ্রিজে। 

একদম নরম হয়ে যাওয়া কাঁঠাল নয়, একটু শক্ত ধরনের কাঁঠাল সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত।

কাঁঠাল যেভাবে সংরক্ষণ করবেন

প্রথম পদ্ধতি

  • একদম নরম কাঁঠাল নয়, সংরক্ষণের জন্য একটু শক্ত ধরনের কাঁঠাল নিন। 
    • একটি বাটিতে পেপার টাওয়েল বিছিয়ে একটি একটি করে কাঁঠালের কোয়া রাখুন।
    • বাটি পূর্ণ হয়ে গেলে আরেকটি পেপার টাওয়েল দিয়ে ঢেকে বাটির ঢাকনা লাগিয়ে দিন। 
    • নরমাল ফ্রিজে রেখে দিন বাটি। অবশ্যই বাটি থেকে কাঁঠাল বের করার সময় চামচ দিয়ে বের করবেন। 

আরো পড়ুন: ঢেঁড়স খেলে ৩৮টি রোগের উপকারিতা!

দ্বিতীয় পদ্ধতি

  • বছর জুড়ে কাঁঠাল খেতে আইলে ডিপ ফ্রিজে রাখুন। 
  • এজন্য কাঁঠালের বিচি ছাড়িয়ে একটি বাটিতে নিন।
  • পাতলা পলিথিনে বিচি ছাড়ানো কাঁঠাল রাখুন। লাইন করে রাখবেন কাঁঠাল। একটির উপর আরেকটি রাখবেন না।
  • পলিথিনের মুখ বন্ধ করে দিন টেপ অথবা পিন দিয়ে। ব্যাগ রেখে দিন ডিপ ফ্রিজে। যখন তখন ইচ্ছে মতো বের করে খান পাকা কাঁঠাল। 

প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল বিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে প্রতিদিনের স্বাস্থ্য টিপস লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

Posted by: Tanjin alifa Rima