উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণে রাখুন এই ১৩টি উপায়ে

350
উচ্চ রক্তচাপ

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন খুব সাধারণ সমস্যা হলেও কখনও কখনও তা প্রাণ সংশয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যে সব উত্তর খোজে উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণসমূহ উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ঘরোয়া টোটকা উচ্চ রক্তচাপের ভেষজ চিকিৎসা তাৎক্ষনিক উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায় খুঁজেন, অনিয়মিত ডায়েট, অতিরিক্ত ওজন, মানসিক চাপ,
গুরুতর উদ্বেগ, নাল দিয়ে রক্ত পড়া, গুরুতর মাথাব্যাথা, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা এবং শরীরচর্চার অভাব— এ সবই উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের অন্যতম কারণ।

উচ্চ রক্তচাপ খুব সাধারণ সমস্যা হলেও জীবনের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক অবস্থা নিয়ে আসতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে থাকে মাথা ঘোরা এবং পেট ব্যথা।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অনুসারে, উচ্চ রক্তচাপের সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে
অনিয়মিত ডায়েট, অতিরিক্ত ওজন, মানসিক চাপ, গুরুতর উদ্বেগ, নাল দিয়ে রক্ত পড়া, গুরুতর মাথাব্যাথা, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা এবং শরীরচর্চার অভাব অন্তর্ভুক্ত। উচ্চ রক্তচাপ বা রক্তচাপের মাত্রা হঠাৎ বৃদ্ধি পায় এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন।

আরো পড়ুন: উচ্চ রক্তচাপের বা হাই প্রেসারের ৪০টি কারণ জেনে নিন!

সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, প্রতি বছর ভারতে প্রায় ২ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় উচ্চরক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের কারণে। এই সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের মোট প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের এক তৃতীয়াংশই উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছেন।

চিকিত্‍সকদের মতে, জীবনযাত্রায় এবং খাদ্যতালিকায় সামান্য কয়েকটি পরিবর্তন আনতে পারলে ওষুধ ছাড়াই উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের মতো সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। কিন্তু কী ভাবে?

আসুন জেনে নেওয়া যাক

কম চাপ নিন

উচ্চ রক্তচাপ

চাপ উচ্চ রক্তচাপ মাত্রা বাড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ। স্ট্রেস বা মানসিক চাপের প্রতি আপনার মনোভাব পরিবর্তন করে কম চাপ নিন। যোগ এবং ধ্যানও চাপ হ্রাস করার ভাল উপায়।

আরো পড়ুন: আপনার শারীরিক দুর্বলতার মূল কারণগুলো জানেন কি?

লবন খাওয়া কমাতে হবে

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের মতো সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমেই লবন খাওয়া কমাতে হবে। কারণ, অতিরিক্ত লবন রক্তে মিশে শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট করে। ফলে রক্তচাপ অস্বাভাবিক ভাবে বাড়তে থাকে।

শুধু তাই নয়, শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে বাড়তে পারে কিডনির সমস্যাও। তাই রান্নায় ছাড়া, খাবার পাতে কাঁচা লবন যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। সম্ভব হলে, রান্নাতেও কম লবন দিন।

ধূমপান বন্ধ করুন

ধূমপান শেষ করার পরেও বেশ কিছু মিনিট ধূমপান আপনার রক্তচাপ বাড়ায়। আপনার শরীরের রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রা পুনরুদ্ধার করতে ধূমপান ছাড়ুন।

ক্যাফিন ছাড়ুন

ক্যাফিন আপনার রক্তচাপ মাত্রা বাড়তে পারে। আপনার রক্তচাপ মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপনার ক্যাফিন জাতীয় খাবার খাওয়া সীমিত করুন।

আরো পড়ুন: যে কারণে অল্প বয়সে যৌন ক্ষমতা হারিয়ে যায়! যৌনতা বৃদ্ধিতে ২০টি স্মাট উপায়

মধু সেবন করুন

প্রাচীন ভারতীয় আয়ুর্বেদ মতে, হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণে রাখতে মধু অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান। ১ কাপ উষ্ণ জলে ১ চামচ মধুর সঙ্গে ৮-১০ ফোঁটা অ্যাপেল সিডার ভিনিগার মিশিয়ে প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে খেতে পারলে রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের মতো সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

কলা খান

কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম যা রক্তচাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দিনের যে কোনও সময়, সারাদিনে অন্তত একটা কলা খাবার চেষ্টা করুন।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন

আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৫০ মিনিটের ব্যায়াম অবশ্যই প্রয়োজন। হাঁটা, জগিং, সাইক্লিং, সাঁতার ও নাচের মতো অ্যারোবিক ব্যায়ামগুলি আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুন: ব্যায়ামের উপকারিতা পদ্ধতি ও বিশেষ কৌশল!

সুস্থ খাদ্য খান

আপনার খাদ্যে প্রচুর তাজা ফল এবং সবজি যোগ করুন। পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন কারণ এটি রক্তচাপের উপর সোডিয়ামের প্রভাবকে হ্রাস করতে সহায়তা করে। পটাসিয়ামে সমৃদ্ধ খাবারগুলি হল কলা, অ্যাভোকাডো, পালং শাক, মাশরুম, শশা, ব্রোকলি, কমলালেবু এবং মিষ্টি আলু।

কমলালেবু এবং ডাব খান

পুষ্টিবিদদের মতে, কমলালেবুর রসের সঙ্গে ডাবের জল মিশিয়ে দিনে ২-৩ বার খেতে পারলে রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের মতো সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

তরমুজ খান

তরমুজে রয়েছে ভিটামিন এ, লাইকোপিন, পটাসিয়াম এবং ফাইবার যা উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের মতো সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। অ্যামিনো অ্যাসিড এল-সিট্রুলিন সমৃদ্ধ তরমুজ শুধু রক্তচাপই নয়, শরীরের নানা সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুন: লম্বা স্বামী আর খাটো স্ত্রীর সংসারই সবচেয়ে মধুর!

ওজন কমান

আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ওজন কমাতেই হবে। নিজের কোমরের মাপ খেয়াল রাখুন। কোমর অঞ্চলের ওজন বেশি হলে তা রক্তচাপ বাড়ায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে ৪০ ইঞ্চির বেশি কোমর হলে আর মহিলাদের ক্ষেত্রে ৩৫ ইঞ্চির বেশি হলে তা উচ্চ রক্তচাপ বাড়ায়।

ওটস খান

ওজন কমাতে আর একই সঙ্গে শরীরের শক্তি বাড়াতে ওটসের কোনও বিকল্প নেই! পুষ্টিবিদদের অনেকে তাই সকালে ওটস খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ওটসে খুব কম মাত্রায় সোডিয়াম থাকে। তা ছাড়াও এতে রয়েছে উচ্চমাত্রায় ফাইবার যা রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের মতো সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুন: কনডম ক্রয়ের আগে যে জিনিসগুলো জানা খুবই জরুরী!

তেল ও মসলাযুক্ত খাবার

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের মতো সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত তেল আর মশলাদার খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। মশলাদার খাবারের বদলে পাতে বেশি করে সবুজ শাক-সবজি রাখতে পারেন।

সিদ্ধ বা সামান্য তেলে রান্না করা সবজি শরীরে ক্যালোরির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফাইবার সমৃদ্ধ সবুজ সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফোলেট যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

সব সময় হাসি খুশি ও মন ভালো রাখার বৈজ্ঞানিক ২০টি মূলমন্ত্র!

সুতরাং, মেনে চলুন এই কয়েকটি সাধারণ নিয়ম, কিছুটা বদলে ফেলুন জীবনযাত্রার ধরন আর সুস্থ থাকুন ওষুধের সাহায্য ছাড়াই

প্রিয় পাঠক, আপনিও সম্ভব ডটকমের অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল বিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ ইনবক্স করুন- আমাদের ফেসবুকে প্রতিদিনের স্বাস্থ্য টিপস লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

Posted by: Tanjin alifa Rima